সৌদি আরব
সৌদি আরবে আগুনে পুড়ে নওগাঁর নিহত ৭ জনের জানাজা সম্পন্ন
সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে পুড়ে নিহত নওগাঁর ৭ জনের মরদেহ দেশে আসার পর জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল সোয়া ১০ টায় নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে একসঙ্গে সাত জনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৪টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের অগ্নিকাণ্ডে পরিচয় সনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ দেশে আসে। এদের মধ্যে সাত জনের বাড়িই নওগাঁর আত্রাই উপজেলাতে। মরদেহগুলো বিমানবন্দর থেকে প্রশাসনের সহায়তায় রাত দেড়টার দিকে আত্রাই উপজেলাতে আসে। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত মরদেহবাহী ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সগুলো আত্রাই থানা চত্বরে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়।
জানাজা নামাজে নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.মনিরুজ্জামান, আত্রাই থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং স্থানীয়রা অংশগ্রহণ করেন৷
জানাজা নামাজ শেষে মরদেহগুলো নিহতদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে স্বজনরা মরদেহগুলো নিয়ে নিজ নিজ গ্রামের উদ্দেশে রওনা করেন।
নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, নিহতদের পরিবারগুলোকে ওয়েজ অর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। তাদের ভবিষ্যতেও সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। বাকি মরদেহগুলো দেশে আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, সৌদি দূতাবাস থেকে পাঠানো তালিকায় সনাক্ত হওয়া নওগাঁর সাতজন হলেন আত্রাই উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো: ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামানিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং উপজেলার পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আত্রাই উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডোগোলী গ্রামের ৪ জন, বিষা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের একজন, সাহাগোলা ইউনিয়নের উদনপৈ গ্রামের একজন, পারকাসুন্দা গ্রামের একজনকে বিকেলে গ্রামে গ্রামে জানালা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
৬ দিন আগে
সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর সাতজনের মরদেহ দেশে আসছে কাল
সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ৭ জনের মরদেহ আগামীকাল বৃহস্পতিবার দেশে আসছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে সৌদি আরবের কাউন্সেলর মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বি সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরবের রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। সৌদি কর্তৃপক্ষ আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করে ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত করেছে। ইতোমধ্যে মরদেহগুলো বাংলাদেশ পাঠানোর যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ৩৪০ নম্বর ফ্লাইটে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৪ টা ৫ মিনিটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
সৌদি দূতাবাস থেকে পাঠানো তালিকায় শনাক্ত হওয়া নওগাঁর ৭ জন হলেন: আত্রাই উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো. ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামাণিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং উপজেলার মার্কাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।
এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমন্বয় করে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হয়েছে যাতে মরদেহগুলো বিনা খরচে আসতে পারে। এখন পর্যন্ত পরিচয় শনাক্ত হওয়া নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাত জনের মরদেহ দেশে আসছে।
৮ দিন আগে
সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৩ বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে
সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানা এলাকার সোফা কারখানার অগ্নিকাণ্ডে নওগাঁর নিহত আরও ৩ জনের পরিচয় মিলেছে। এ নিয়ে ওই সোফা কারখানায় নিহত ১৬ জনের মধ্যে নওগাঁর ১৩ জনের পরিচয় মিলেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গতকাল (রবিাবর) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে তিনি এ ঘটনায় নিহত নওগাঁর ১০ জনের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করেন।
পরিচয় পাওয়া ১৩ জন নিহতের মধ্যে আত্রাই উপজেলার ১২ জন এবং নওগাঁ সদর উপজেলার একজন প্রবাসী রয়েছেন।
নিহতরা হলেন—নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বোয়ালা গ্রামের মিনহাজুল ইসলাম, একই গ্রামের হৃদয় হোসেন ও নওগাঁ সদর উপজেলার পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন রেজিস্ট্রি অফিস এলাকার মজনুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ শাহিন হোসেন, নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পাচুপুর ইউনিয়নের পারকাসু্ন্দা গ্রামের মৃত তমেজ উদ্দিনের ছেলে জালাল উদ্দিন, বিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের বাদল হোসেনের ছেলে সুমন হোসেন, ডুবাই গ্রামের সাগর হোসেন, চঞ্চল হাসানের ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ, মাধবপুর গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে মজিদুল ইসলাম, কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালী গ্রামের গোফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন প্রামাণিক ও সুমন প্রামানিক, জাননার হোসেনের ছেলে রুবেল হোসেন, ফজলু প্রামাণিকের ছেলে কলি উদ্দিন প্রামানিক এবং সাহাগোলা ইউনিয়নের উদনপৈ গ্রামের ময়েন শেখের ছেলে ফরিদ শেখ। নিহতদের বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা প্রশাসন জানায়, নওগাঁর বিভিন্ন গ্রাম থেকে সৌদি আরবে গিয়ে রিয়াদের মানফুয়া এলাকার ওই সোফা তৈরির কারখানায় কাজ করছিলেন তারা। রবিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের খোরদাম শহরের ওই কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই তা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এ অগ্নিদুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হন।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত আত্রাই উপজেলার ১২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহতদের বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন এবং মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।’
নিহতরা সবাই জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়ে ওই সোফা কারখানায় কর্মরত ছিলেন। অনেক পরিবার এখনও তাদের স্বজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। প্রবাসের মাটিতে কাজ করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া এসব মানুষের এমন করুণ মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
২৪ দিন আগে
রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর শোক
সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি নাগরিকের প্রাণহানিতে গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
তারা নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জানিয়েছেন এবং এই অপূরণীয় ক্ষতি ও শোকের সময়ে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
গতকাল (রবিবার) রিয়াদের মুসা সানাইয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় এ মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং মরদেহের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করে কাজ করছে বলে এক বার্তায় জানানো হয়েছে।
বার্তায় বলা হয়, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিতকরণ, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নকরণ এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক সহায়তায় দূতাবাস প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিকভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং তদানুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।
২৪ দিন আগে
দক্ষ জনশক্তি নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব: শামা ওবায়েদ
সৌদি আরব বাংলাদেশের মৎস্য, খাদ্য, জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরশক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি সৌদি সরকার পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রবিষয়ক ভাইস মিনিস্টারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করেছে। দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করাই এ সফরের মূল উদ্দেশ্য।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেই সরকারের ওপর সৌদি সরকারের সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে। অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।’
তিনি জানান, সৌদি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে মৎস্য, খাদ্য, জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরশক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন খাতে তাদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানিয়েছে।
বাংলাদেশি কর্মীদের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব আরও বেশি দক্ষ জনশক্তি নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। একইভাবে বাংলাদেশও সৌদি ক্রাউন প্রিন্সকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরের আগ্রহ রয়েছে। দুই দেশের সুবিধাজনক সময়ে আলোচনার ভিত্তিতে অবশ্যই সেই সফর হবে, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি জানান, খুব শিগগিরই সৌদি আরবে বিনিয়োগবিষয়ক একটি যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেবেন। পাশাপাশি চলতি বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে রাজনৈতিক পরামর্শ সভা এবং যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় সেখানে তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। সৌদি সরকার তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করায় বাংলাদেশ সৌদি সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, সৌদি আরবে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট বা অন্যান্য কনস্যুলার-সংক্রান্ত বিষয় এ বৈঠকের মূল আলোচ্য ছিল না।
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কনস্যুলার ও পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সমস্যা বিভিন্ন দেশেই রয়েছে। জেদ্দা ও রিয়াদে বাংলাদেশের মিশন সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করছে।’
সৌদি আরবে প্রায় ৫৪ হাজার রোহিঙ্গার পাসপোর্টসংক্রান্ত জটিলতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের মিশন কাজ করছে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কারিগরি দল এবং সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারিগরি কর্মকর্তারা বিষয়টি পর্যালোচনা করবেন।
তিনি বলেন, ‘এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। সৌদি আরবে আমাদের মিশন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ সমস্যার সমাধান করবে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সৌদি প্রতিনিধি দল বারবারই জোর দিয়েছে যে তারা শুধু একটি খাতে নয়, বরং বহুমুখী ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চায়। তিনি বলেন, এই সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতার ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
৩০ দিন আগে
কৌশলগত কারণে সৌদি জোটে যোগদান, ইরানকে আঘাতের উদ্দেশ্যে নয়: হুমায়ুন কবির
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যোগদান কোনোভাবেই ইরানকে লক্ষ্য করে নয়; বরং সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং হুথি হুমকি মোকাবিলায় সহযোগিতার অংশ বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
রবিবার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সৌদি আরবের নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ যোগ দিয়েছে হুথিদের হুমকি মোকাবিলার জন্য। অন্যদিকে আমরা ইরানের সঙ্গেও কথাবার্তা বলছি। তাই এটিকে কোনোভাবেই ইরানকে বাদ দেওয়া বা আঘাত করার কিছু হিসেবে দেখার কারণ নেই।
তিনি বলেন, মূল বিষয়টি হলো সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্ক শুধু হজ, ওমরাহ বা তীর্থযাত্রার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটিকে শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ নেই। ঢাকা ও রিয়াদের সম্পর্ক হবে একটি কৌশলগত সম্পর্ক। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি সম্পর্ক হবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরব ইসলাম ধর্মের দুটি পবিত্র মসজিদ—মক্কা ও মদিনার রক্ষক। এ কারণে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। যেকোনো সময় সৌদি আরবের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তারা যদি সহযোগিতা চায়, এই আত্মিক ও নৈতিক সম্পর্কের জায়গা থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সবসময় সহায়তার জন্য সাড়া দেবে।
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল বিশেষ দূত সার্জিও গরের সাম্প্রতিক ঢাকা সফর ছিল একটি পরিচিতিমূলক ও অনুসন্ধানমূলক সফর। এটি ছিল তার বাংলাদেশে প্রথম সফর এবং এর মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করা।
তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সার্জিও গরের বৈঠক অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, ভূরাজনীতি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সহযোগিতাসহ বিস্তৃত বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, সফর শেষে সার্জিও গর প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘সর্বোচ্চ সম্মান’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন, যা দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা ও পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বাংলাদেশকে তারা গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে। তার ভাষায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
চীনা বিনিয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আপত্তি বৈঠকে উত্থাপিত হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে যেমন চীনের বিনিয়োগ রয়েছে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোরও বিনিয়োগ রয়েছে। সরকার কোনো পক্ষের সঙ্গে বিরোধে না গিয়ে সব অংশীদারের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে চায়।
৩২ দিন আগে
সৌদি আরবে আরামকোর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, ১৪ আরোহী নিহত
সৌদি আরবে বিশ্বের বৃহত্তম তেল কোম্পানি আরামকোর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ১৪ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৮) সকাল ৬টার দিকে রাস তানুরা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের সবাই সৌদি নাগরিক বলে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হেলিকপ্টারটি সৌদি আরব সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন তেল কোম্পানি আরামকোর ছিল। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের কারণে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আরামকোকে নতুন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর সৃষ্ট বিঘ্ন এড়াতে তারা কিছু তেল রপ্তানি পাইপলাইনের মাধ্যমে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।
৬৭ দিন আগে
সৌদির সঙ্গে মিল রেখে জেলায় জেলায় ঈদুল আজহা উদযাপন
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন জেলার কয়েক হাজার মুসল্লি আজ বুধবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন।
সাতক্ষীরা, শরীয়তপুর, পটুয়াখালী ও লালমনিরহাটের অন্তত শতাধিক গ্রামের মানুষ ঈদের জামাতে অংশ নিয়েছেন বলে ইউএনবির জেলা প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। ঈদের নামাজের পাশাপাশি কোথাও পশু কোরবানি, কোথাও আবার বিশেষ মোনাজাতের আয়োজনও করা হয়েছে।
জেলায় জেলায় ঈদ
সাতক্ষীরায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে অন্তত ২৫ গ্রামের মানুষ ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভাদড়া বাউকোলা গ্রামের একটি মসজিদে আহলে হাদিসের একাংশের উদ্যোগে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা মাহবুবুর রহমান। একই সময়ে তালা উপজেলার ইসলামকাটি, সাতক্ষীরা সদরের গোয়ালচত্তর, ভাদড়া, ঘোনা, মিরগিডাঙ্গাসহ প্রায় ২৫ গ্রামের মুসল্লিরা ঈদের নামাজে অংশ নেন। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও ঈদের জামাতে শরিক হন।
স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, গত এক যুগ ধরে তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও তারা এক দিন আগে ঈদ উদযাপন করছেন। ঈদের নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করেন এবং পশু কোরবানিতে ব্যস্ত সময় পার করেন।
অন্যদিকে, শরীয়তপুরের বিভিন্ন এলাকায়ও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল আজহা উদযাপন করা হয়েছে। জেলার অন্তত ৩০টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ঈদ উদযাপনে অংশ নিয়েছেন।
আজ সকাল সাড়ে ১০টায় নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর দরবার শরীফে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে পৃথক মাঠে আরও একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন শাহ সুফি সৈয়দ বেলাল নূরী আল সুরেশ্বরী ও মাওলানা মো. জুলহাস উদ্দিন।
জামাত শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। তবে দরবার শরীফের নিয়ম অনুযায়ী সেখানে পশু কোরবানি করা হয় না।
দরবার শরীফ সূত্র জানায়, প্রায় ১৫০ বছর ধরে তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ইদুল ফিতর ও ইদুল আজহা উদযাপন করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও এক দিন আগে ঈদুল আজহা পালন করা হচ্ছে।
এদিকে, পটুয়াখালীর অন্তত ৪০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষও বুধবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন।
জেলার সদর উপজেলার বদরপুর গ্রামের প্রায় দুই হাজার মানুষ সকাল ৮টায় বদরপুর দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেন। জামাতে ইমামতি করেন দরবার শরীফের ইমাম ও খতিব মাওলানা শফিকুল ইসলাম গনি।
দরবার শরীফের খাদেম মো. নাজমুল হোসেন জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে প্রায় একশ বছর আগে থেকে এ অঞ্চলের মানুষ একদিন আগে রোজা শুরু করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় তারা এক দিন আগে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করেন।
জেলায় যেসব এলাকায় ঈদ উদযাপন করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলার সেনের হাওলা, পশুরীবুনিয়া, নিজহাওলা, কানকুনিপাড়া ও মৌডুবি; বাউফলের মদনপুরা, রাজনগর, বগা, ধাউরাভাঙ্গা, সুরদি, চন্দ্রপাড়া, দ্বিপাশা, শাপলাখালী, কনকদিয়া ও আমিরাবাদ; কলাপাড়ার নিশানবাড়িয়া ও ইটবাড়িয়া; এছাড়া শহরের নাঈয়াপট্টি, টিয়াখালী, তেগাছিয়া ও দক্ষিণ দেবপুর।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এসব এলাকার মানুষ হানাফি মাজহাবের কাদেরিয়া তরিকার অনুসারী। তাদের বর্তমান পীর চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার হজরত শাহসুফি মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ মমতাজ আলী।
এছাড়া, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি গ্রামের শতাধিক পরিবারও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন।
বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার মুন্সিপাড়া এলাকায় ঈদুল আজহার নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
এ ছাড়াও উপজেলার উত্তর বালাপাড়া ও লতাবর আহলে হাদিস জামে মসজিদে শতাধিক পরিবারের মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করেন।
স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে এক দিন আগে রোজা পালন ও ঈদ উদযাপন করে থাকেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সাল থেকে এসব এলাকার মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, শবে কদর ও শবে মেরাজসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন।
ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও ঐতিহ্য
আগাম ঈদ উদযাপনকারীরা সাধারণত বৈশ্বিকভাবে চাঁদ দেখার ধারণাকে অনুসরণ করেন। তাদের মতে, পৃথিবীর যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলে সেই অনুযায়ী রোজা ও ঈদ পালন করা যেতে পারে।
অনেক এলাকায় এই প্রথা কয়েক দশক থেকে শুরু করে একশ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে। যেমন: চাঁদপুরে ১৯২৮ সাল থেকে এবং শরীয়তপুর অঞ্চলে প্রায় ১৫০ বছর ধরে এভাবে ঈদ উদযাপনের ধারাবাহিকতা রয়েছে।
দেশে ঈদুল আজহার প্রস্তুতি
কয়েকটি স্থানে কিছু সংখ্যক মুসল্লি ঈদ উযাপন করলেও দেশের অধিকাংশ এলাকায় চাঁদ দেখার ভিত্তিতে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে।
আগাম ঈদ উদযাপনকারীরা সাধারণত পরের দিনও স্থানীয়দের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন, ফলে দুই দিনের উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে অনেক এলাকায়।
৯৯ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যে রপ্তানি বাড়াতে খাতভিত্তিক পরিকল্পনা করতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে খাতভিত্তিক পরিকল্পনা করতে হবে।
রবিবার (২৪ মে) সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির একটি প্রতিনিধিদল বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তার দপ্তরে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে যে নামটি প্রতিনিধিত্ব করা হয়, সেটি হলো বাংলাদেশ। সঙ্গত কারণে দেশের ভাবমূর্তি, রপ্তানি সক্ষমতা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি এখনও তৈরি পোশাক খাতনির্ভর। তবে সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, পাটপণ্য, খাদ্যপণ্য এবং সৌদি ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী তৈরি পোশাক রপ্তানির বড় সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে খাতভিত্তিক পরিকল্পনা নিতে হবে।
প্রবাসী কর্মীদের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, বিদেশে কাজ করতে যাওয়া মানুষ অনেক ত্যাগ স্বীকার করেন। তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে ব্যক্তি, পরিবার ও দেশ—সবাই উপকৃত হবে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ বাংলাদেশের জন্য বড় সম্পদে পরিণত হতে পারে।
উপস্থিত প্রতিনিধিদলের উদ্দেশে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোন খাতে কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, কোথায় নীতিগত সহায়তা দরকার এবং কোথায় আর্থিক বা খাতভিত্তিক সহযোগিতা দরকার—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে হবে। বাস্তবসম্মত প্রস্তাব পেলে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
বৈঠকে সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরী বলেন, সৌদি আরবের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবার জন্য বড় ধরনের রপ্তানি ও বাণিজ্য সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে ২০২৭ সালের মধ্যে সৌদি আরবে বাংলাদেশের রপ্তানি ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব।
প্রতিনিধিদলটি জানায়, সৌদি ভিশন ২০৩০, ওয়ার্ল্ড এক্সপো এবং বিশ্বকাপকে সামনে রেখে শিক্ষা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, গ্রিন টেকনোলজি, পরিবেশ, মরুভূমি বনায়ন, কৃষি ও খাদ্য খাত এবং ক্ষুদ্রঋণভিত্তিক অর্থায়নের মতো খাতে বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও খাতভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
১০২ দিন আগে
বাংলাদেশের প্রথম হজ ফ্লাইট সৌদি আরব পৌঁছেছে
বাংলাদেশের প্রথম হজ ফ্লাইট সৌদি আরবে পৌঁছেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ৩০০১ ফ্লাইটটি সৌদি আরবের স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ২০ মিনিটে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ফ্লাইটটিতে হজযাত্রী ছিল ৪১৯ জন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
বিমানবন্দরে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের অভ্যর্থনা জানান সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দেলওয়ার হোসেন ও কাউন্সিলর (হজ) মো. কামরুল ইসলাম। সেখানে হজযাত্রীদেরকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং তাদের হাতে রিফ্রেশমেন্ট কিট তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনসুলেটের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন, সহকারী মৌসুমি হজ অফিসার মো. রুহুল আমিন, জেদ্দা হজ টার্মিনালের হেড অব অপারেশন ইহাহিয়া রাদি ও হাজিদের অভ্যর্থনায় নিয়োজিত সৌদি প্রতিষ্ঠান নুসুক মারহাবার ম্যানেজার রায়েদ বাকশাউন উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হজ ফ্লাইট-২০২৬ এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
১৩৮ দিন আগে