সৌদি আরব
সৌদিপ্রবাসী কর্মীদের নিয়ে উদ্বিগ্ন এসএবিসিসিআই, সংঘাত সমাধানের আহ্বান
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ এবং আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত শান্তিপূর্ণ সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব–বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এসএবিসিসিআই)।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে সৌদি আরবে বাংলাদেশিসহ সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সংঘাতে হতাহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে এসব কথা বলে এসএবিসিসিআই।
এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান, রেমিট্যান্স, আমদানি ও রপ্তানি এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
এসএবিসিসিআই নিবিড়ভাবে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের অস্থিতিশীলতা শুধু সামাজিক ও মানবিক ক্ষেত্রেই নয়, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা এবং দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক স্বার্থ বিবেচনায় পরিস্থিতির দ্রুত স্বাভাবিকীকরণের ওপর জোর দিয়েছে তারা।
গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এসএবিসিসিআই জানায়, গত কয়েক দিনে ৮২টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সৌদি আরবগামী ১৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মীর কর্মস্থলে যোগদান ব্যাহত হয়েছে।
এসএবিসিসিআই বলছে, এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে কর্মীদের নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগদান, চাকরির নিশ্চয়তা এবং তাদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও সামগ্রিক অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানায় তারা।
এ অবস্থায় সৌদি আরবগামী কর্মীদের কর্মস্থলে যোগদানের অনিশ্চয়তা দূর করতে বাংলাদেশ সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, জনশক্তি ও কর্মসংস্থান-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
প্রয়োজনে ভিসার মেয়াদ বাড়ানো, নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয়, কর্মস্থলে যোগদানের বিকল্প ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের প্রশাসনিক ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে তারা।
সংগঠনটি মনে করে, পারস্পরিক সহযোগিতা, কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সংলাপের মাধ্যমে এ পরিস্থিতির দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব।
সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, বাণিজ্যিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
১ দিন আগে
মঙ্গলবারের ঢাকা-দাম্মাম ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমান
নিরাপত্তাজনিত কারণে মঙ্গলবারের ঢাকা-দাম্মাম ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
সোমবার (১২ অক্টোবর) এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা থেকে সৌদি আরবের দাম্মামগামী মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা ১০ মিনিটের বিজি-৩৪৯ ফ্লাইটটি স্থগিত করা হয়েছে।
ফ্লাইটটির সংশোধিত সময়সূচি বুধবার দুপুরের মধ্যে জানানো হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফ্লাইট স্থগিতের কারণে যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে বিমান। একই সঙ্গে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সহযোগিতা কামনা করেছে সংস্থাটি।
৩ দিন আগে
রিয়াদে নিহত বগুড়ার সাহেদের পরিবারে শোকের মাতম
সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় বগুড়ার শাজাহানপুরের প্রবাসী বাংলাদেশি সাহেদ আহমেদ আশিক (৩৫) নিহত হওয়ায় দুই শিশুকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্ত্রী কাকলী বেগম।
রবিবার (১১ অক্টোবর) রাতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে সাহেদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তাইফুর রহমান।
নিহত সাহেদ আহমেদ বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম ওরফে মিঠুর ছেলে। তিনি স্ত্রী, ৯ ও ৪ বছর বয়সী দুই সন্তান ও মা-বাবাকে রেখে গেছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সাহেদ তিন বছর ধরে সৌদি আরবে কাজ করছিলেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর দুই মাসের ছুটিতে দেশে আসেন তিনি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সংঘাতের কারণে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় এক মাস ছুটি কাটিয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা দেন। রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় তার কর্মস্থলে যাওয়ার কথা ছিল।
সাহেদের ভাই মাসুম রানা জানান, স্থানীয় সময় শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে স্ত্রী কাকলী বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে সর্বশেষ কথা বলেন সাহেদ। সে সময় রিয়াদে পৌঁছানোর কথা জানিয়ে জেদ্দায় গিয়ে আবার ফোন করবেন বলে জানান তিনি। তার পর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ইউএনও তাইফুর রহমান জানান, গত শনিবার বিকেল আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় হুতির ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে অন্যান্য যাত্রীর সঙ্গে বগুড়ার সাহেদ আহমেদও নিহত হন।
তিনি আরও জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহত প্রবাসীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সরকারি খরচে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সাহেদের মৃত্যুতে পরিবারে গভীর শোক নেমে এসেছে। তার বাবা রফিকুল ইসলামও সৌদি আরবে থাকেন। মা শাহেরা বেগমও ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীকে ছাড়া কাকলি এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সম্মুখীন।
৩ দিন আগে
রিয়াদে হামলার পর বিমানের ১০ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ৩,৪৩১ যাত্রী
সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হামলার কারণে বন্ধ থাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১০টি ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। এতে নির্ধারিত গন্তব্যে যেতে পারেননি তিন হাজার ৪৩১ জন যাত্রী।
যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে সৌদি আরবের দাম্মাম ও মদিনা বিমানবন্দর হয়ে বিকল্প ফ্লাইটে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিমান। আসন খালি থাকা সাপেক্ষে অন্য ফ্লাইটে বিনা খরচে যাত্রীদের সমন্বয় করা হবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা-সংক্রান্ত সভার শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাইজার সোহেল আহমেদ।
রিয়াদ বিমানবন্দর কবে চালু হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘রিয়াদে শুধু বাংলাদেশ নয়, সব আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যাত্রী ভোগান্তি শুধু আমাদের নয়, সারা বিশ্বে সবার হচ্ছে। রিয়াদ বিমানবন্দরে এখন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধু বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বন্ধ হয়েছে, তা কিন্তু নয়। যতগুলো এয়ারলাইনস সেখানে নামে বা ট্রানজিট করে, সব বন্ধ করা হয়েছে।’
বিকল্প ব্যবস্থায় যাত্রীদের সৌদি আরবে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে বিমানের এমডি কাইজার সোহেল আহমেদ বলেন, ‘দাম্মাম ও মদিনা, এই দুটি বিমানবন্দরে যেহেতু কার্যক্রম চলছে, আমরা বলেছি বিনা খরচে তাদের (যাত্রী) সমন্বয় করে দেব। তারা যদি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তাহলে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে আমরা ব্যবস্থা করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘সৌদি আরব আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। সেখানে অনেক বাংলাদেশি বসবাস করেন। তাই আমরা ওইভাবে সমন্বয় করছি।’
বিমানবন্দর বন্ধ থাকার সময়সীমা বারবার বাড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে লাইজার সোহেল বলেন, ‘এভাবে আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাত্রীবাহী পরিবহনের পরিকল্পনা করা যায় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘যতটুকু সম্ভব, আমরা অন্যান্য গন্তব্যের মাধ্যমে তাদের সৌদি আরবে (যাত্রীদের) পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব। অনেকের হয়তো ওয়ার্ক পারমিটের সমস্যা থাকতে পারে, পারিবারিক সমস্যা থাকতে পারে, সেসব বিবেচনায় নিয়ে অন্যান্য গন্তব্যের মাধ্যমে তাদের সহায়তা করার চেষ্টা করব।’
রিয়াদে কত দিন ধরে ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে, জানতে চাইলে বিমানের এমডি বলেন, চার দিন ধরে সেখানে ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা ও বন্ধের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হচ্ছে। টেলিভিশনের স্ক্রল, বিমানের ওয়েবসাইট, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও কল সেন্টারের মাধ্যমে যাত্রীদের তথ্য দেওয়া হচ্ছে।
অন্য গন্তব্যের মাধ্যমে যাত্রীদের পাঠানোর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ১০টি ফ্লাইট আমরা পাঠাতে পারিনি। আজ রাত ৩টা পর্যন্ত তিন হাজার ৪৩১ জন যাত্রী যেতে পারেননি। তাদের ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছি। যাত্রীদের যাতে আগে জানিয়ে দেওয়া হয় এবং যারা বিমানবন্দরে এসেছেন, তাদের ভোগান্তি যতটুকু সম্ভব কমানো যায়, সে জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
সৌদি আরবের অন্য গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘মদিনা ও দাম্মামে আমাদের যে ফ্লাইটগুলো আছে, সেগুলো পরিচালনা করছি।’
এ সময় বিমানের এমডি জানান, দাম্মাম ও মদিনাগামী ফ্লাইটে যাত্রীদের সমন্বয় করার চেষ্টা চলছে। যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাদের বিকল্প ফ্লাইটে মদিনা অথবা দাম্মামে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে তারা সেখান থেকে কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেন এবং ভিসার মেয়াদ নষ্ট না হয়।
যাত্রীদের সহায়তায় বিমানের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটি বৈশ্বিক সংকট। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ফ্লাইট বন্ধ করা হয়নি। রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় সেখানে ফ্লাইট পরিচালনা করা যাচ্ছে না।
ফ্লাইট কবে চালু হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা বলা যায় না। যদি ক্রমাগত বোমা হামলা চলতে থাকে এবং রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকে, যত দিন বন্ধ থাকবে, তত দিন আমরা প্লেন পাঠাতে পারব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপত্তার কারণেই এটি বন্ধ রাখা হয়েছে। এটা আমাদের পক্ষ থেকে বন্ধ করা হয়নি। রিয়াদ তথা সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে। তারা বন্ধ করে দিলে আমরা তো ফ্লাইট পাঠাতে পারব না।’
৩ দিন আগে
রিয়াদে হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, আইসিইউতে চারজন: শামা ওবায়েদ
সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন এবং আরও চারজন আইসিইউতে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
রবিবার (১১ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নিহতদের পরিচয় শনাক্ত, তাদের নিজ নিজ জেলার তথ্য সংগ্রহ এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের জন্য সরকার কাজ করছে বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, হতাহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে বাংলাদেশ মিশন সৌদি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। সংঘাত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, কিং খালিদ হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন চার বাংলাদেশির পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে এবং এ প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগছে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিয়াদ ও জেদ্দায় বাংলাদেশের মিশনগুলো সৌদি কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে। পাশাপাশি সৌদি আরবে থাকা অন্য বাংলাদেশিদের সঙ্গেও মিশনগুলো যোগাযোগ রাখছে, তাদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নির্দেশনা দিচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
বাংলাদেশিদের প্রাণহানিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পরিবারের সবাইকে ছেড়ে জীবিকার সন্ধানে বিদেশে যাওয়া মানুষদের এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর। যুদ্ধ ও হামলা বন্ধ হবে এবং আর কোনো প্রাণহানির খবর আসবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের কারণে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মোট ১৪ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানান শামা ওবায়েদ। তিনি নিহতদের প্রতি গভীর শোক ও তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে।
নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ দেশে ফেরানোর বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, বিদেশে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হলে সাধারণত তার মরদেহ দেশে ফেরানোর ব্যয় সরকার বহন করে। এ ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘটনার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রিয়াদগামী ও রিয়াদ থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। তবে হামলায় বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট বিমান সংস্থা বা ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিংবা সরাসরি আক্রান্ত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য সরকার পায়নি বলে জানান তিনি।
এর আগে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবার হুতির চালানো হামলার তীব্র ও দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানায় বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত ও সম্পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করে এবং বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে চালানো হামলা অগ্রহণযোগ্য এবং তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
সৌদি আরবের সরকার ও দেশটির ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতিও দৃঢ় সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ।
এছাড়া আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে বাংলাদেশ অবিলম্বে সংঘাত বন্ধ, বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
৪ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বাণিজ্য-বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেবে ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গভীর করা এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
শনিবার (১০ অক্টোবর) ‘জনশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারত্ব: বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের পুনর্বিন্যাস’ শীর্ষক এক সেমিনারে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী, বিনিয়োগ সম্পর্কও শক্তিশালী। জাপান সফরে প্রধান অগ্রাধিকার হবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গভীর করা ও বিনিয়োগ বাড়ানো।
চার দিনের সফরে আগামী ২৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে সরকারি সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানায় জাপান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে টোকিওর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
হুমায়ুন কবির বলেন, অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ সফরে বিভিন্ন খাতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন অংশীদারত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট সহযোগিতার ক্ষেত্র নির্ধারণ করে বাংলাদেশ পারস্পরিক বিনিয়োগের অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায় বলেও জানান তিনি।
জাপানকে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশটির বিনিয়োগে বাস্তবায়িত কয়েকটি মেগা প্রকল্প দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে সহায়তা করেছে।
৫ দিন আগে
সৌদি আরবে নিহত দুই প্রবাসীর দাফন সিলেটে সম্পন্ন
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের দুই প্রবাসী আবদুল করিম ও খালিদ আহমদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ি আকুনি মাদরাসায় জানাজা শেষে নিজ গ্রামে তাদের দাফন করা হয়। দুজনেরই বাড়ি কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের লামার তালুক গ্রামে।
এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-২৩৬ ফ্লাইটে তাদের মরদেহ সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় বলে জানান স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন।
তাদের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর স্বজনদের আহাজারিতে বিমানবন্দরের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। স্বজনরা জানান, দীর্ঘ তিন বছর পর দেশে ফেরার কথা ছিল তাদের। অবশেষে তারা ফিরলেন, তবে নিথর দেহে ।
গত ৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের তায়েফ থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে আল-খুরমা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন এই দুই প্রতিবেশী।
৭ দিন আগে
জাপান, তুরস্ক ও সৌদি আরবে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর নিয়ে আলোচনা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ’ নিউইয়র্ক সফরের পর আগামী অক্টোবর ও নভেম্বরে তার তুরস্ক, জাপান ও সৌদি আরব সফরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জাপান ও সৌদি আরবের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া পৃথক দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ বিবেচনায় নিয়ে ঢাকায় এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় কপ-৩১ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে গৃহীত জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (ইউএনএফসিসিসি) সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা হলো কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (কপ)।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে কপ-৩১ নিয়ে মতবিনিময় হয়, যার মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিষয়টিও ছিল।
এদিকে ঢাকার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে জাপান পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে প্রধানমন্ত্রীকে সরকারি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
প্রাথমিক আলোচনা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে জাপানে সরকারি সফরে যেতে পারেন বলে ইউএনবিকে জানিয়েছেন একটি কূটনৈতিক সূত্র। তবে এখনও কিছু চূড়ান্ত হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে এপ্রিলে এশিয়া অঞ্চলে জ্বালানি বিষয়গুলো কার্যকরভাবে মোকাবিলায় জাপানের নেতৃত্বাধীন একটি উদ্যোগকে বাংলাদেশ স্বাগত জানিয়েছিল। সে সময় বাংলাদেশ বলেছিল, কোনো দেশ এককভাবে এ সমস্যা সমাধান করতে না পারায় সব দেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওই অনলাইন বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
গত মাসে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের সময় সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ তার কাছে আমন্ত্রণপত্রটি হস্তান্তর করেন।
চিঠিতে সৌদি যুবরাজ দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সৌদি আরব ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে তার দেশের আগ্রহের কথা জানান, যার লক্ষ্য দুই দেশ ও তাদের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা। উভয় পক্ষ পারস্পরিক সুবিধাজনক তারিখ চূড়ান্ত করতে পারলে নভেম্বরে তারেক রহমান সৌদি আরব সফর করতে পারেন।
ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি বছরের নভেম্বরে অথবা ডিসেম্বরের শুরুতে ভারত সফর করতে পারেন। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় ভারত সফরের ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির দিকেও নজর রাখছে ঢাকা।
শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক ও যোগাযোগের মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব বলে আশাবাদ পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী গত মাসে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর ‘খুব শিগগিরই হওয়া উচিত’ এবং এ বিষয়ে তিনি আশাবাদী।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি স্বর্ণালি অধ্যায় দেখতে চান উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘বৈঠকের মাধ্যমেই সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব, আর আমি খুবই আশাবাদী।’
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নিউইয়র্কে চার কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক, ইরান, পাকিস্তানসহ সাতটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এর মধ্যে রয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচ, হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিলস-এমে, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল।
১৮ দিন আগে
দেশে ফেরার পথে সৌদির সড়কে প্রাণ গেল সিলেটের ২ প্রবাসীর
সৌদি আরবে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুজনের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায়।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে তায়েফ শহরের আল-খুরমা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। দেশে ফেরার স্বপ্ন নিয়ে জেদ্দা বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার সময় তাদের গাড়িটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে গাড়ির চালকসহ চারজনই প্রাণ হারান।
সিলেটের নিহত দুই প্রবাসী হলেন আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদ। তাদের বাড়ি কানাইঘাট উপজেলার ৭ নম্বর দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ী এলাকার লামার তালুক গ্রামে।
স্বজনদের কাছ থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটানোর পর দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তারা। প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা করার স্বপ্ন নিয়ে তারা লাগেজ গুছিয়ে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনাও দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে ওঠে তাদের জীবনের শেষযাত্রা।
এদিকে দুই প্রবাসীর মৃত্যুতে তাদের নিজ এলাকায় স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রিয়জনদের দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয় কান্নায়। পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় হৃদয়বিদারক পরিবেশ।
দুই প্রবাসীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। পাওয়ার পর তিনি পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে তাদের বাড়িতে যান। এ ঘটনায় পরিবার দুটির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে চলতি বছরের জুন মাসে কাতারে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ প্রবাসী নিহত হন। সেই শোক কাটতে না কাটতেই জুলাই মাসে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় আরও এক কানাইঘাট প্রবাসীর মৃত্যু হয়। এরই মধ্যে আবারও সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় কানাইঘাটের দুই প্রবাসীর মৃত্যুতে উপজেলাজুড়ে নতুন করে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।
৩৭ দিন আগে
সৌদি আরবে আগুনে পুড়ে নওগাঁর নিহত ৭ জনের জানাজা সম্পন্ন
সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে পুড়ে নিহত নওগাঁর ৭ জনের মরদেহ দেশে আসার পর জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল সোয়া ১০ টায় নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে একসঙ্গে সাত জনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৪টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের অগ্নিকাণ্ডে পরিচয় সনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ দেশে আসে। এদের মধ্যে সাত জনের বাড়িই নওগাঁর আত্রাই উপজেলাতে। মরদেহগুলো বিমানবন্দর থেকে প্রশাসনের সহায়তায় রাত দেড়টার দিকে আত্রাই উপজেলাতে আসে। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত মরদেহবাহী ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সগুলো আত্রাই থানা চত্বরে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়।
জানাজা নামাজে নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.মনিরুজ্জামান, আত্রাই থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং স্থানীয়রা অংশগ্রহণ করেন৷
জানাজা নামাজ শেষে মরদেহগুলো নিহতদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে স্বজনরা মরদেহগুলো নিয়ে নিজ নিজ গ্রামের উদ্দেশে রওনা করেন।
নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, নিহতদের পরিবারগুলোকে ওয়েজ অর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। তাদের ভবিষ্যতেও সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। বাকি মরদেহগুলো দেশে আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, সৌদি দূতাবাস থেকে পাঠানো তালিকায় সনাক্ত হওয়া নওগাঁর সাতজন হলেন আত্রাই উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো: ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামানিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং উপজেলার পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আত্রাই উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডোগোলী গ্রামের ৪ জন, বিষা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের একজন, সাহাগোলা ইউনিয়নের উদনপৈ গ্রামের একজন, পারকাসুন্দা গ্রামের একজনকে বিকেলে গ্রামে গ্রামে জানালা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
৪৮ দিন আগে