মহাসড়ক
খুলনায় টানা তৃতীয় দিন মহাসড়ক অবরোধ
শর্তহীনভাবে কাঁচা পাট রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং রপ্তানি বন্ধ থাকায় কাজ হারানো শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন দৌলতপুর জুটপ্রেস অ্যান্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের শ্রমিকরা।
আন্দোলনের সমর্থনে আজ বিপুলসংখ্যক নারীও রাজপথে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১০টা থেকে খুলনা-যশোর মহাসড়কের রেলিগেট থেকে দৌলতপুর পর্যন্ত অবরোধ করে রাখেন শ্রমিকরা। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাদের অবরোধ কর্মসূচি শেষ হয়।
এ সময় সড়কে কাঠের গুঁড়ি ও বাঁশ ফেলে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে সড়কের দুই পাশে যানবাহন আটকে পড়ে এবং চালক ও পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা বলেন, গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। এরপর থেকে বিদেশে পাট রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে খুলনা ও নারায়ণগঞ্জের লক্ষাধিক প্রেস ও বেলিং শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।
তারা বলেন, কাজ বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অর্থসংকটে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
শ্রমিকদের দাবি, খুলনার দৌলতপুর পাট রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং এ এলাকায় বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের বসবাস। পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় ১৭ মে জারি করা প্রজ্ঞাপনে কাঁচা পাট বিদেশে রপ্তানি সম্ভব নয় বলে জানায়। এর প্রতিবাদে দৌলতপুর জুটপ্রেস অ্যান্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের শ্রমিকরা আন্দোলনে নেমেছেন।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
৪ দিন আগে
কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ
অনতিবিলম্বে কাঁচাপাট রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মত বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।
বুধবার (২০ মে) সকল সোয়া ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। আন্দোলনরত শ্রমিকরা নগরীর রেলিগেট থেকে দৌলতপুর মুহসিন মোড় পর্যন্ত সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখে।
একই দাবিতে গতকাল (মঙ্গলবার) দৌলতপুর বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশন (বিজেএ) ভবনের সামনে খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ করে দৌলতপুর জুট প্রেস এন্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের (১১৫৫)'র শ্রমিকেরা।
রেলিগেটে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তৃতা করেন শ্রমিক নেতা মো. উজ্জল, সুজ্জল, ডালিম কাজী, মো. জামাল উদ্দিন, আনোয়ার হাওলাদার, জাহাঙ্গীর হাওলাদার, কালাম হাওলাদার, দেলোয়ার মাস্টার, কালাম সরদার, আলমগীর মোল্লা, বাবুল সিকদার, মো. বাবুল হোসেন, আব্দুল আজিজসহ দেলোয়ার হোসেন প্রমূখ।
গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে কাঁচা পাটকে শর্তযুক্ত রপ্তানি পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে দেশের ৪০ টি জুটপ্রেস হাউজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে খুলনাঞ্চলের জুট প্রেসের ২০ হাজারের বেশি শ্রমিক বেকার হয়ে যায়। ৯ মাস কোনো কাজ না পেয়ে তারা অর্ধাহারে, অনাহারে মানবেতার জীবনযাপন করছেন।
৫ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে অটোচালকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে চাঁদা না দেওয়ায় মারধরের শিকার এক অটোচালক তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও স্বজনরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।
বুধবার (২০ মে) সকালে সোনারগাঁ উপজেলার দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিচারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
নিহত মো. মমিন, সোনারগাঁ উপজেলার নাজিরপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হাকিমের ছেলে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, গত রবিবার বিকেলে দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ডে লাইনম্যান শাহিন অটোচালক মমিনের কাছ থেকে ১০ টাকা চাঁদা নেন। এর কিছুক্ষণ পর আবারও টাকা দাবি করেন শাহি । এ নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে শাহিন তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে মমিনের মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মমিন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ (বুধবার) সকালে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শাহিন পলাতক রয়েছে।
এদিকে অটোচালকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সকালে স্থানীয় এলাকাবাসী ও স্বজনরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান তারা। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জড়িত আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
৫ দিন আগে
নির্বাচন উপলক্ষে মহাসড়কে ঘরে ফেরা মানুষের ভিড়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঘরে ফেরা মানুষের ঢল নেমেছে। দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গগামী দূরপাল্লার বাসে চড়ে ভোট দিতে গন্তব্যে যাওয়া মানুষের ভিড় চোখে পড়ার মতো। যাত্রীরা জানান, সাধারণত ঈদের সময় ব্যতীত এমন ভিড় মহাসড়কে দেখা যায় না।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে সাভার বাসস্ট্যান্ডের পাকিজা পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, ষাটোর্ধ্ব সুলতান মিয়া তার দুই মেয়েকে নিয়ে দিনাজপুরের উদ্দেশে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন।
আলাপকালে তিনি জানান, তার মেয়েরা সাভারে পোশাক কারখানায় কর্মরত। ভোট দিতে তারা ঘোড়াঘাট উপজেলায় গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। এ উপলক্ষে গতকাল (সোমবার) গ্রাম থেকে তিনি মেয়েদের নিতে এসেছিলেন। দুই ঘণ্টা ধরে তারা বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন, কিন্তু ব্যাগ-ব্যাগেজ একটু বেশি হওয়ায় কোনো বাস তাদের নিতে চাচ্ছে না। এই বৃদ্ধের অভিযোগ, বাস কর্তৃপক্ষ জনপ্রতি দুই শত টাকা বাড়তি ভাড়া চাচ্ছে।
একই স্থানে কথা হয় আরেক যুবক তানজিল ও তার স্ত্রী কুলসুম আকতারের সঙ্গে। তারা দুজনেই সাভার বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন একটি ডায়িং কারখানায় কর্মরত। তানজিল জানান, তারা রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বাসিন্দা। ভোট দিতে তারা গ্রামে যাচ্ছেন, কিন্তু বাস সংকটের কারণে এক ঘণ্টার বেশি তারা বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন।
রংপুরগামী একটি বাসচালক আয়নাল হক জানান, দূরপাল্লার বাস মালিক ও চালকরা নির্বাচন উপলক্ষে এত ভিড় হবে তা আগে থেকে বুঝতে পারেননি।
সাভার বাসস্ট্যান্ডের হানিফ কাউন্টারের মালিক রমিজ উদ্দিন জানান, সোমবার ও মঙ্গলবার দুই দিনই যাত্রীদের বেশ চাপ ছিল। সাভার বাসস্ট্যান্ড, রেডিও কলোনি, হেমায়েতপুর, বাইপাইল, ডিইপিজেড, শ্রীপুর, জিরানিসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় থেমে থেমে চলছে যানবাহন।
স্থানীয়রা জানান, সাভারে প্রায় ১৫টি বাসস্ট্যান্ডে মঙ্গলবার সকাল থেকে এ দৃশ্য দেখা গেছে।
ঢাকা জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) রুহুল আমিন সোহেল জানান, সড়কে সোমবার থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত যানবাহনের অত্যন্ত চাপ ছিল, যা সাধারণত রোজার ঈদ বা কুরবানির ঈদে দেখা যায়। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা মহাসড়কে যানবাহন সুন্দরভাবে চলাচলের জন্য কাজ করছেন বলে জানান তিনি।
১০৪ দিন আগে
ইটভাটা ভাঙার প্রতিবাদে সাভারে মহাসড়ক অবরোধ
উচ্চ আদালতের নির্দেশে সাভারে ইটভাটা ভাঙার প্রতিবাদে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ইটভাটা মালিক-শ্রমিকরা। বিক্ষোভের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে করে যানজটে আটকে পড়েন অসংখ্য সাধারণ যাত্রীরা।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) দুপুর দেড়টা থেকে বলিয়ারপুরে ভাঙ্গা ব্রিজ এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিকাল ৩টা পর্যন্ত অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
অবরোধকারীরা জানান, সম্প্রতি হাইকোর্টের নির্দেশে সাভারে বেশ কয়েকটি ইটভাটা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ইটভাটা মালিক সমিতির মালিক ও শত শত শ্রমিক একজোট হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। তারা প্রশাসনকে নতুন করে ইটভাটা ভাঙা বন্ধ করার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আলেম-ওলামাদের মহাসড়ক অবরোধ
পরে বিকাল ৩টার দিকে বিপুল সংখ্যক সেনাসদস্য সেখানে উপস্থিত হয়ে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেন।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু বকর সরকার বলেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশে অবৈধ চিহ্নিত ইটভাটাগুলো ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১৭ মার্চের মধ্যে আরও কিছু অবৈধ ইটভাটা ভেঙে দেওয়ার তালিকা রয়েছে আমাদের কাছে।’
৪৪৭ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আলেম-ওলামাদের মহাসড়ক অবরোধ
হেফাজতে ইসলামের আলেম-ওলামা ও তৌহিদী জনতাদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের কাউতলী মোড় এলাকা অবরোধ করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে শুরু করে দুপুর ১টা পর্যন্ত আলেম ওলামা ও সর্বস্তরের তৌহিদী জনতার ব্যানারে এই অবরোধ কমসূচি পালন করা হয়।
আরও পড়ুন: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে জাবি শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ
এ সময় বক্তরা বলেন, ২০১৬, ২০২০ ও ২০২১ সালে হেফাজতের আলেম-ওলামাসহ বিভিন্ন মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। ইতোমধ্যে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের পর বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীরা মুক্তি পেলেও আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হয়নি। যদি প্রশাসন থেকে মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত না দেওয়া হয়, তাহলে কঠোর আন্দোলনের যাওয়া হবে।
এ সময় ৩ ঘণ্টা অবরোধ চলাকালে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পরায় মহাসড়কের দুপাশে যানজট তৈরি হয়। যান চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় যাত্রীদের।
৪৫৩ দিন আগে
মন্ত্রণালয়ে আটকে সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের চার লেন প্রকল্পের কাজ
২০ বছর আগে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের ৬৫ কিলোমিটার পথ বাসে যেতে লাগত সোয়া ঘণ্টা। অথচ এত বছর ধরে দেশে এত উন্নয়নের পরও এখন লাগে পৌনে দুই ঘণ্টা। সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ায়, এই প্রতিনিয়ত যন্ত্রণা সহ্য করতে হচ্ছে সুনামগঞ্জবাসীর।
কথাগুলো বলছিলেন এই মহাসড়কে নিয়মিত যাতায়াতকারী তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক সমিতির সভাপতি খসরুল আলম।
অপ্রশস্থতার কারণে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে প্রতিনিয়ত যানজট থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি একটি নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও প্রায় এক বছর ধরে তা মন্ত্রণালয়ে আটকে রয়েছে।
সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগ বলছে, এ মহাসড়কের দুটি স্থান মিলে পাঁচ দশমিক আট কিলোমিটার সড়ক চার লেন করাতে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এরপর সিলেট তত্ত্বাবধায়ক অফিস থেকে দরপত্র গ্রহণ শেষে তা সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঠানো হয়। যাচাই-বাছাই শেষে সেটি সরকারি ক্রয় কমিটিতে যাবার কথা, অথচ এখনও সরকারি ক্রয় কমিটিতে যায়নি এই প্রকল্প।
সড়ক বিভাগ জানিয়েছে, ২৫ লাখ মানুষের জেলা সুনামগঞ্জ থেকে দূরপাল্লার বাস-মিনিবাস, কোচ, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও ট্রাক মিলিয়ে অন্তত ১২শ গাড়ি প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। পাশাপাশি পাঁচ হাজারের বেশি সিএনজিচালিত তিন চাকার যানসহ অসংখ্য ছোটবড় গাড়ি চলে এই সড়কে। অথচ সড়কটির কেবল জেলা শহরের তিন দশমিক আট কিলোমিটার ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরের দুই কিলোমিটার চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের একজন প্রকৌশলী জানান, সুনামগঞ্জ শহরের আলফাত স্কয়ার থেকে ওয়েজখালী পাড় হয়ে পৌর কলেজ পর্যন্ত এবং উজানীগাঁও থেকে শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদর পাড় হয়ে সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট পর্যন্ত চার লেন সড়ক করার উদ্যোগ নিয়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় সাড়ে তিনশ কোটি টাকা।
ওই প্রকৌশলী জানান, এই দুইটি স্থান চার লেনে উন্নীত করতে দরপত্র আহ্বান করার পর তা গ্রহণও করা হয়েছে। পরে এগুলো অনুমোদনের জন্য সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেখান থেকে সরকারি ক্রয় কমিটিতে যাওয়ার কথা, কিন্তু তা এখনও হয়নি।
তিনি জানান, সরকারি ক্রয় কমিটি থেকে অনুমোদনের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় কাজ। তবে ক্রয় কমিটিতেই দরপত্র এখনও পৌঁছেনি, ফলে প্রক্রিয়াটি থেমে আছে।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের দেওয়া তথ্যমতে, সুনামগঞ্জের পাঁচটি পরিবহন মালিক সমিতির প্রায় পাঁচশ গাড়ি প্রতিদিন সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে চলাচল করে। এছাড়া সুনামগঞ্জ থেকে প্রতিদিনঅন্তত ৮০টি আন্তঃজেলা বাস আসা-যাওয়া করে। ছাতক ও দিরাই থেকেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই পথ দিয়েই যাওয়া আসা করে বাসগুলো। সব মিলিয়ে আন্তঃজেলা বাসের সংখ্যা দেড়শ ছাড়িয়ে যাবে।
এছাড়া জেলাজুড়ে প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস আছে আরও প্রায় পাঁচশ, ট্রাক আছে একশর মতো। এসব যানবাহনের যাতায়াতও এই পথ হয়েই।
এর পাশাপাশি সম্প্রতি ছোট যানবাহনের চলাচলও বেড়েছে। জেলায় বৈধ সিএনজিচালিত অটোরিকশাই আছে পাঁচ হাজার তিনশর মতো। অবৈধ মিলিয়ে এই সংখ্যা আট হাজার ছাড়িয়ে যাবে। এগুলোর বেশিরভাগেরই যাতায়াতের প্রধান পথ সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়ক। এ ছাড়াও জেলায় লেগুনা আছে প্রায় দুইশ। ২৪ ফুট প্রশস্ত এই সড়ক এত যানবাহনের চাপ নিতে পারে না বলে দাবি পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের।
আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির সদস্য, জেলা বাস-মিনিবাস-মাইক্রোবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মিয়া বলেন, ‘সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ককে দ্রুত চার লেনে উন্নীত করতে হবে। সেই সঙ্গে সুনামগঞ্জ-পাগলা-আউশকান্দি সড়কটিও স্থানে স্থানে চার লেনে উন্নীত করা প্রয়োজন।’
সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ বলেন, ‘সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের দুটি স্থান মিলে পাঁচ দশমিক আট কিলোমিটার সড়ক চার লেন করার দরপত্র ২০২৪ সালের জুলাই মাসেই হয়েছিল। দরপত্র গ্রহণ শেষে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঠানো হয়। যাচাই-বাছাই শেষে সরকারি ক্রয় কমিটিতে যাবার কথা। তবে এখনও সেটি সরকারি ক্রয় কমিটিতে যায়নি বলে জেনেছি আমরা।’
কবে নাগাদ ক্রয় কমিটি হয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু হতে পারে—জানতে চাইলে ‘ধারণা নেই’ বলে জানান এ কর্মকর্তা।
৪৭৩ দিন আগে
পাঁচ ঘণ্টা পর ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের অবরোধ প্রত্যাহার
মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া এলাকায় পুরোনো একটি সড়ক পুনরুদ্ধারের দাবিতে পাঁচ ঘণ্টা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখার পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবশেষে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন স্থানীয়রা।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গোলড়া গ্রামের শত শত মানুষ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তারা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মহাসড়ক থেকে সরে যান অবরোধকারীরা।
অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গোলড়া গ্রামের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের পুরনো একটি সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে তারাসিমা অ্যাপারেলস ও পেয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামের দুটি কোম্পানি। প্রায় শত বছরের পুরোনো সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের চলাচলে বেশ সমস্যা হচ্ছে।
এর জেরে সড়ক পুনরুদ্ধারের দাবিতে ধানকোড়া ইউনিয়নে তারাসীমা অ্যাপারেলস লিমিটেড ও পেয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের গেট-সংলগ্ন মহাসড়কে অবস্থান নেয় গ্রামবাসী। এর মধ্যে দুই কোম্পানির প্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন ও অবরোধকারীদের প্রতিনিধিদের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনাও হয়েছে। তবে সুরাহা না হওয়ায় অবরোধ তুলে না নেওয়ার পক্ষে অনড় ছিলেন তারা।
আরও পড়ুন: ‘দুই কোম্পানির সুবিধার্থে’ সড়কে দেওয়াল, ক্ষোভে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ
অবরোধকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের টাকা দিয়ে সড়কে রাতারাতি পাকা দেওয়াল তুলে দেয় কোম্পানিদুটির লোকজন। আজ (বুধবার) অবরোধ করলে কোম্পানির প্রতিনিধিরা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে আশ্বাস দিয়ে মহাসড়ক থেকে কয়েক দফায় তাদের সরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু যতক্ষণ না সড়ক খুলে দেওয়া হবে, ততক্ষণ তারা মহাসড়ক ছাড়বেন না বলে জানান। তবে প্রশাসনের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়ে এবং জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে অবেশেষে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তারা মহাসড়ক ছেড়ে দেন।
গোলড়া গ্রামের কয়েকশ বাসিন্দা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার জুড়ে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিকেল সাড়ে ৪টায় অবরোধ তুলে নিলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ বিষয়ে সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম বলেন, বেলা সোয়া ১১টা থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে গোলড়া গ্রামের মানুষ মহাসড়কে অবস্থান নিলে দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে।
৪৮১ দিন আগে
‘দুই কোম্পানির সুবিধার্থে’ সড়কে দেওয়াল, ক্ষোভে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ
মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া এলাকার পুরোনো একটি সড়ক পুনরুদ্ধারের দাবিতে পাঁচ ঘণ্টা ধরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন গোলড়া গ্রামের কয়েক শ’ বাসিন্দা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গোলড়া গ্রামের শত শত মানুষ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তারা মহাসড়ক অবরোধ করেন।
অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গোলড়া গ্রামের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের পুরনো একটি সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে তারাসিমা অ্যাপারেলস ও পেয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামের দুটি কোম্পানি। প্রায় শত বছরের পুরোনো সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের চলাচলে বেশ সমস্যা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কাওরানবাজারে সড়ক অবরোধ করে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, যানজট
এর জেরে সড়ক পুনরুদ্ধারের দাবিতে ধানকোড়া ইউনিয়নে তারাসীমা অ্যাপারেলস লিমিটেড ও পেয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের গেট-সংলগ্ন মহাসড়কে অবস্থান নেয় গ্রামবাসী। এর মধ্যে দুই কোম্পানির প্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন ও অবরোধকারীদের প্রতিনিধিদের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনাও হয়েছে। তবে সুরাহা না হওয়ায় অবরোধ তুলে নিচ্ছেন না তারা।
অবরোধকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের টাকা দিয়ে সড়কে রাতারাতি পাকা দেওয়াল তুলে দেয় কোম্পানিদুটির লোকজন। আজ (বুধবার) অবরোধ করলে কোম্পানির প্রতিনিধিরা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে আশ্বাস দিয়ে মহাসড়ক থেকে তাদের সরানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু যতক্ষণ না সড়ক খুলে দেওয়া হবে, ততক্ষণ তারা মহাসড়ক ছাড়বেন না।
সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম বলেন, বেলা সোয়া ১১টা থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে গোলড়া গ্রামের মানুষ মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছে। এতে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। দুপক্ষের সঙ্গেই আলোচনা চলছে। আশা করি বিষয়টি দ্রুত সমাধান হবে।
৪৮১ দিন আগে
গাজীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ
গাজীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।
বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) সকালে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় মাহমুদ জিন্স লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা এই অবরোধ করেন।
শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে গত মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা চন্দ্রা ফ্লাইওভারের সংযোগ সড়কের উভয়পাশে অবরোধ করেন।
আরও পড়ুন: বাগেরহাটে ৪ দফা দাবিতে ম্যাটস শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ
এতে ওই সড়কে যানজট লেগে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন।
নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রইছ উদ্দিন জানান, ওই এলাকায় কারখানার শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করলে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। শ্রমিকদের সড়ক থেকে বুঝিয়ে সরানোর চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুন: বকেয়া বেতনের দাবিতে গাজীপুরে বেক্সিমকোর শ্রমিকদের ফের মহাসড়ক অবরোধ
৫৪৩ দিন আগে