যশোর
যশোরে পার্কিং করা বাসে আগুন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ
যশোর শহরের বাহাদুরপুরের নিমতলা এলাকায় পার্কিং করা একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানা যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, আগুনে বাসটি পুড়ে গেছে এবং ভেতরে থাকা অধিকাংশ মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সেটির পাশের আরেকটি বাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন বাসটির মালিক আবু বক্কর সিদ্দিকি বেলাল।
বেলাল জানান, আমি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ভোটের সময় বাসটি দলীয় বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল। রাতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখি বাসটির ভেতরের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা রুহুল হোসেনসহ অন্য নেতা-কর্মীরা দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ও জামায়াত সমর্থকরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ অগ্নিসংযোগ করেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কেউ পরিকল্পিতভাবে আগুন দিয়েছে, নাকি সিগারেট বা মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত নই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
২ দিন আগে
যশোরে কর্মকর্তাদের গাফিলতিতে এক মোজাম্মেলের ভোট দিলেন আরেক মোজাম্মেল
যশোর সদর উপজেলার ৪ নম্বর নোয়াপাড়া ইউনিয়নের বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলাকালে একজনের ভোট অন্যজন দিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নাম ও বাবার নাম এক হওয়ায় এমনটি ঘটেছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে ঘটনাটি ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের মোশারেফ হোসেনের ছেলে মোজাম্মেল হোসেন প্রান্ত নির্ধারিত কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তাকে জানান, তার ভোট ইতোমধ্যেই দেওয়া হয়ে গেছে। বিষয়টি শুনে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে সাংবাদিকরা বিষয়টি যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা পান। এ বিষয়ে দায়িত্বরত পোলিং কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনিও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান জানান, এটি একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একই নাম ও বাবার নাম হওয়া ছাড়াও চেহারায় মিল থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এসব কারণেই ভুলবশত এ ঘটনা ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, আপত্তিকৃত ভোট গ্রহণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে একই কেন্দ্রে এ ধরনের আরও একটি ভুলের ঘটনা ঘটেছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে এ ধরনের ভুল রোধে আরও সতর্কতা ও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
৪ দিন আগে
১২০ বছর বয়সে ভোটকেন্দ্রে মণিরামপুরের সরণা বেগম
বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়েছে, দৃষ্টিও ঝাপসা হয়ে এসেছে অনেকটা। কিন্তু গণতান্ত্রিক অধিকার আর নাগরিক দায়িত্ববোধের কাছে হার মেনেছে বার্ধক্য।
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ভোজগাতী ইউনিয়নের জামজামি গ্রামের বাসিন্দা সরণা বেগম ১২০ বছর বয়সেও ভোট দিতে কেন্দ্রে হাজির হয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে স্বজনদের সহযোগিতায় এবং লাঠিতে ভর দিয়ে তিনি স্থানীয় ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন। শতবর্ষী এই বৃদ্ধাকে ভোটকেন্দ্রে দেখে উপস্থিত অন্য ভোটার ও নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিস্মিত ও অনুপ্রাণিত হন।
সরণা বেগমের পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিকভাবে দুর্বল, কিন্তু ভোট দেওয়ার বিষয়ে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সংকল্পবদ্ধ। তার মতে, ‘ভোট দেওয়া কেবল অধিকার নয়, এটি একটি পবিত্র আমানত।’
সরণা বেগমের এই অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে, দেশ ও গণতন্ত্রের প্রতি ভালোবাসা থাকলে বয়স কোনো বাধা হতে পারে না। তার এই উদ্দীপনা নতুন প্রজন্মের ভোটারদের জন্য এক বড় ধরনের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মনে অভিমত স্থানীয় সচেতন মহলের।
৪ দিন আগে
মাটি কাটতে গিয়ে পরিত্যক্ত বোমায় কোদালের আঘাত, বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক আহত
যশোরের শার্শা উপজেলায় মাটি কাটার সময় পরিত্যক্ত বোমা বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের বালুন্ডা দক্ষিণ পাড়ার গনি ঢালির ভিটে নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— বালুন্ডা গ্রামের আব্দুল বারীকের ছেলে জাকির হোসেন (৪৮) এবং একই গ্রামের মৃত নুজ্জাকের ছেলে আব্দুল কাদের (৪৫)। তারা পেশায় মাটি কাটার শ্রমিক।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুরিশ জানায়, সকালে জাকির ও কাদের ওই ভিটায় মাটি কাটছিলেন। একপর্যায়ে মাটির আনুমানিক দেড় হাত গভীরে কোদাল দিয়ে আঘাত করলে সেখানে পুঁতে রাখা একটি বোমা বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জাকিরের শরীরের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বর্তমানে তারা দুজনেই নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। খবর পেয়ে শার্শা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাটির নিচে বোমাগুলো অনেক আগে থেকেই পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। তবে এটি পরিকল্পিত কোনো নাশকতার অংশ কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেইসঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
১২ দিন আগে
যশোরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১০ গ্রেনেডসহ অস্ত্র উদ্ধার
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার মুহূর্তে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১০টি শক্তিশালী গ্রেনেড ও ৩টি বিদেশি পিস্তল।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় ধরনের নাশকতার উদ্দেশ্যেই এসব অস্ত্র মজুত করা হয়েছিল।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা-এনএসআইয়ের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান পরিচালনা করা হয় উপজেলার দলগ্রাম ইউনিয়নের দড়িআগ্রা গ্রামে চুন্নু মোল্লার বাড়িতে।
সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন আকিবের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ওই বাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় ১০টি গ্রেনেড, ৩টি বিদেশি পিস্তল, ১৯ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ১টি চাপাতি, ১টি ছুরি ও ১টি খুর।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অভিযান শুরু হওয়ার আগেই বাড়ির সদস্যরা পালিয়ে যায়। অভিযানে মূল সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে চুন্নু মোল্লার ছেলে রায়হান মোল্লাকে (২৮)। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা এবং তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
যৌথ বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার অস্ত্র ও বিস্ফোরকগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এগুলো দিয়ে বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটানো সম্ভব ছিল। বিশেষ করে সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকায় এসব অস্ত্র জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারত।
বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত রায়হান মোল্লাকে আটকে অভিযান চলছে।
১৫ দিন আগে
বেকারদের ভাতা দিলে বেকারত্ব বাড়বে, আমরা কর্মসংস্থান করব: ডা. শফিকুর
বেকারদের বেকারভাতা দিলে দেশে বেকারত্ব বেড়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আমরা নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করে বেকারদের সাবলম্বী করে তুলব।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে যশোরের ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমির এসব কথা বলেন।
জনসভায় শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটা দল সরকারে আসার আগে ১০ টাকা কেজি দরে চাল খাওয়ার কথা বলছে। বলছে কৃষক কার্ড দেবে, দেবে বেকারভাতা। ওই সব ধোঁকা আর বাংলাদেশের জনগণ দেখতে চায় না। বেকারদের বেকারভাতা দিলে বেকারত্ব বেড়ে যাবে। আমরা নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করে বেকারদের সাবলম্বী করে তুলব।’
তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ তাআলা যদি আমাদের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেন, আমরা এই যশোরকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করব, ৫শ’ বেড হাসপাতাল, ভবদহ সমস্যার সমাধান করা হবে। যশোরবাসীর এসব ন্যায্য অধিকার।’
পরে তিনি যশোরের বিভিন্ন আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের হাতে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন।
২০ দিন আগে
যশোরে নেশার টাকা না পেয়ে বাবা-মাকে কুপিয়ে পালিয়েছে ছেলে
নেশার টাকা না পেয়ে নিজের বাবা-মাকে বটি দিয়ে কুপিয়ে এবং লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে এক যুবক। এরপর থেকে পলাতক রয়েছেন তিনি।
রবিবার (২৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সাতমাইল হৈবতপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— ওই গ্রামের আছির উদ্দিন (৭০) ও তার স্ত্রী রোকেয়া (৬০)। আহত দম্পতি বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও আহতদের কাছ থেকে জানা যায়, গতকাল (রবিবার) গভীর রাতে আছির উদ্দিনের ছোট ছেলে সাদ্দাম তার বাবা-মায়ের কাছে নেশার জন্য টাকা দাবি করেন। তবে তারা টাকা দিতে অস্বীকার করায় ক্ষিপ্ত হয়ে সাদ্দাম প্রথমে তার বাবা-মাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। পরে বটি দিয়ে দুজনেরই বাঁ হাতে আঘাত করেন। এতে তারা আহত ও রক্তাক্ত হন। আহতদের আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এলে সাদ্দাম পালিয়ে যান। এরপর প্রতিবেশীরা আহত আছির উদ্দিন ও তার স্ত্রীকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. বিচিত্র মল্লিক জানান, আহতদের মাথা ও শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া উভয়ের হাতে ধারালো অস্ত্রের ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।
এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে সাদ্দামকে আটক করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
হাসপাতালে কর্তব্যরত যশোর কোতয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, আহতদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে পলাতক সাদ্দামকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
২১ দিন আগে
যশোরে বরযাত্রীবাহী বাস খাদে, ১২ জন আহত
যশোরের চৌগাছায় বরযাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার টেঙ্গরপুর মোড় এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা বলেন, ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানাধীন বাথানগাছী গ্রাম থেকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বরযাত্রীবাহী বাসটি অভয়নগরের উদ্দেশে ফিরছিল। পথের মাঝে উপজেলার টেঙ্গরপুর মোড় পার হওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলকে সাইড দিতে গিয়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং রাস্তার পাশে গভীর খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় ১২জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন— অভয়নগরের শংকরপাশা গ্রামের আপন বিশ্বাস, নিমাই রায় (৮০), বিকাশ (৩৮), নয়ন (২৬), সাধন কুমার (৫০), গৌর বিশ্বাস (৪৫), চন্দ্রা (২২), শ্রাবণী (১৮), পারুল হাজরা (৪৮) ও প্রীতি (১৭)। এছাড়া আহত হয়েছেন সদর উপজেলার হামিদপুর গ্রামের সুদীপ্ত সরকার (১৭) এবং মাগুরা সদরের কয়ারী গ্রামের হৃদয় অধিকারী (১৮)।
দুর্ঘটনার পর বাসের অন্য যাত্রী ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, আহতরা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
২৩ দিন আগে
পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন যশোর কারাগারের ১২৯ বন্দি
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন ১২৯ জন কারাবন্দি।
প্রথমবারের মতো কারাগারে থাকা বন্দিরা এই ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ১২৯ জন বন্দি ইতোমধ্যে অনলাইনের মাধ্যমে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহম্মেদ।
গত ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হয়ে ৩১ ডিসেম্বর এই নিবন্ধন শেষ হয়।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানায়, প্রথমে বিষয়টি বন্দিদের জানানো হলে অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকা অথবা অন্যান্য কারণে অনলাইনে নিবন্ধন করতে পারেননি অনেকে। আবার কেউ কেউ জামিনে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় আবেদন করতে চাননি।
কারা সূত্র আরও জানায়, পোস্টাল ব্যালট হাতে পাওয়ার পর বন্দিরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। বন্দিদের নিজ নিজ নির্বাচনি আসনে কোন কোন প্রার্থী ও প্রতীকে নির্বাচন করছেন, সে তথ্য বুকলেট আকারে সরবরাহ করা হবে। এতে তারা প্রার্থী ও প্রতীক সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
নিবন্ধিত বন্দিদের জন্য যথাযথভাবে ভোট প্রদানের পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। নির্ধারিত সময়ে নিবন্ধিত ভোটারদের জন্য নির্বাচন কমিশন পৃথকভাবে খাম পাঠাবে। প্রতিটি প্যাকেটে থাকবে ভোট প্রদানের নিয়মাবলি, স্বাক্ষরের জন্য নির্ধারিত স্থান এবং ব্যালট পেপার। বন্দিরা ব্যালট পেপারে ভোট দিয়ে খাম সিল করবেন।
কারাগারের নির্ধারিত স্থানে বসেই তারা ভোট দেবেন। পরে ব্যালট পেপারের খাম ও স্বাক্ষরসহ কপিটি আরেকটি খামে ভরে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবেন। কারা কর্তৃপক্ষ সেগুলো পোস্ট অফিসে পাঠাবে এবং ডাক বিভাগ এক্সপ্রেস ব্যবস্থায় খামগুলো নির্বাচন কমিশনে পাঠাবে। এরপর নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার ভোটের সঙ্গে এগুলো যুক্ত করবে।
কারা সূত্র আরও জানায়, নিবন্ধিত বন্দিদের কেউ জামিনে মুক্তি পেলেও ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য তাকে কারাগারের ভেতরে নির্ধারিত বুথে উপস্থিত হয়ে ভোট দিতে হবে। ভোটপ্রদান শেষে তিনি পুনরায় কারাগার থেকে বের হবেন।
এ বিষয়ে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহম্মেদ বলেন, নিবন্ধিত বন্দিদের ভোট প্রদানের জন্য কারা কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এ বিষয়ে একটি টিমও গঠন করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে বন্দিদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আশেক হাসান বলেন, নির্বিঘ্নে ভোট প্রদানের জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। বন্দিরা যাতে সুষ্ঠুভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
২৩ দিন আগে
যশোরে জমির বিরোধে একজনকে কুপিয়ে হত্যা, সংঘবদ্ধ পিটুনিতে নিহত খুনি
যশোরে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম (৪৫) নামের একজনকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এবং আব্দুল আলিম পলাশ (৩৫) নামের অন্যজন সংঘবদ্ধ পিটুনিতে নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চৌগাছা উপজেলার সলুয়া কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) আবুল বাশার।
নিহত রফিকুল যশোর সদরের চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের জগহাটি গ্রামের তবজেল মল্লিকের ছেলে এবং পলাশ একই গ্রামের হজরত আলীর ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, রফিকুল ও পলাশের মধ্যে জমিজমা নিয়ে গত দুই বছর ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সলুয়া কলেজের সামনে রফিকুল ইসলামকে একা পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন পলাশ। এ ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে হামলাকারী পলাশকে ঘিরে ফেলে। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতার বেধড়ক পিটুনিতে পলাশও গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে নেয়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পলাশকে মৃত ঘোষণা করেন, আর উন্নত চিকিৎসার জন্য রফিকুলকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথে রফিকুলেরও মৃত্যু হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার বলেন, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
২৬ দিন আগে