যশোর
যশোর কারাগারে ৬০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির মৃত্যু
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আখতারুজ্জামান বাবুল ওরফে কুবরা বাবুল (৫৪) নামে ৬০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক কয়েদির মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৭এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় কারাগার থেকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত আখতারুজ্জামান বাবুল নড়াইল সদর উপজেলার ভুয়াখালি গ্রামের লাল মিয়া বিশ্বাসের ছেলে।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহম্মেদ জানান, বাবুল পৃথক দুটি অস্ত্র মামলায় ৩০ বছর করে ৬০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। গত বছরের ২৫ নভেম্বর তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায় আদালত। গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যায় তার বুকে যন্ত্রণা শুরু হয়। এ সময় তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জেলার আরও জানান, বাবুলের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা ছাড়াও আরও ৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জুবাইদা আক্তার বলেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই বাবুলের মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হার্টঅ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতলের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
১ দিন আগে
যশোরে স্কুলছাত্রকে অপহরণ করে ‘দোকানে আটকে নির্যাতন’
যশোরের শার্শায় স্কুল থেকে ফেরার পথে সজিব হোসেন (১৭) নামে এক স্কুলছাত্রকে জোর করে তুলে নিয়ে দোকানঘরে আটকে রেখে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করার পর ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) উপজেলার বাসাবাড়ি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শুধু নির্যাতনই নয়, ওই স্কুলছাত্রের প্যান্ট খুলে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে।
সজিব হোসেন বসন্তপুর গ্রামের ফরিদা খাতুনের ছেলে। সে কেরালখালী পাড়িয়া ঘোপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।
এ ঘটনায় রবিবার (১২ এপ্রিল) রাতে ভুক্তভোগীর মা ফরিদা খাতুন সাকিব, রিপন, রাজু, সিয়ামসহ ৫-৭ জনের বিরুদ্ধে শার্শা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্তরা সবাই স্থানীয় বাসাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল সজিব হোসেন স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল। দুপুর ১টার দিকে বাসাবাড়ি বাজার এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একদল যুবক তাকে জোর করে টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যায় অভিযুক্ত সাকিবের দোকানের ভেতরে। সেখানে দোকানের শাটার বন্ধ করে কাঠের বাটাম ও কুড়ালের আঘাতে তাকে বেধড়ক মারধর ও নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে সজিবের পরিহিত প্যান্ট খুলে তার গায়ে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
পরে সজিবের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। মারধর ও নির্যাতনের ফলে সজিবের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। ঘটনার সময় অভিযুক্তরা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ফরিদা খাতুন জানান, থানায় অভিযোগের পর বিভিন্ন ফোন নম্বর থেকে তাকে ও তার ছেলেকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে অভিযুক্তরা।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে আমি ও আমার ছেলে সজিব চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি এই বর্বরোচিত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৬ দিন আগে
যশোরে চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে জখম, প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাট
যশোরের শার্শায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে কামাল হোসেন (২৭) নামে এক রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে জখম করেছে ‘সন্ত্রাসীরা’। এ ছাড়াও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) উপজেলার গোগা বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত ব্যবসায়ী কামাল হোসেন শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের পর থেকে গোগা বাজার ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন কথিত বিএনপি নেতা ও আমেরিকা প্রবাসী হযরত আলী। স্থানীয়দের অভিযোগ, হযরত আলীর নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে উঠেছে। তিনি ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাপটে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।
ভুক্তভোগী কামাল হোসেন জানান, ঘটনার দিন সকালে হযরত আলী তাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ৪০০ মণ রড ও ৩ হাজার বস্তা সিমেন্ট বাকি দিতে বলেন। এতে তিনি অস্বীকৃতি জানিয়ে চলে আসেন। এরপর বিকেলে হযরত আলীর সহযোগীরা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে প্রকাশ্যে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং ব্যবসা করতে হলে ওই টাকা দিতে হবে বলে হুমকি দেন।
তিনি আরও বলেন, ‘ওই দিন সন্ধ্যায় হযরত আলী তার ২০-২৫ জন সন্ত্রাসীর দল নিয়ে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। এ সময় ক্যাশ টেবিল, গ্লাস, চেয়ারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং ড্রয়ারে থাকা প্রায় ৩ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায় তারা। প্রাণনাশের ভয়ে আমি থানায় মামলা করতে পারছি না।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হযরত আলী বলেন, কামাল হোসেন অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করতে সহযোগিতা করেছেন। ওই মামলায় আমার প্রায় ২৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। সেই টাকা চাইতে গিয়ে সামান্য হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২১ দিন আগে
যশোরের চরমপন্থি নেতা গোফরান ও তার সহযোগী গ্রেপ্তার
যশোরের অভয়নগরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের আরেক নাম হয়ে ওঠা চরমপন্থি নেতা নাসির শেখ গোফরান ও তার সহযোগী সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
শনিবার (১৪ মার্চ) খুলনার রূপসা উপজেলা থেকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার মো. নাসির শেখ গোফরান (৪০) বাগেরহাটের রামপাল থানার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। মো. সোহেল রানা (২৮) বাগেরহাটের রূপসা থানার আলাইপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানিয়েছে, গোফরান ‘বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি’র নেতা পরিচয়ে একটি সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলে যশোর, খুলনা ও নড়াইলজুড়ে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলবাজির রাজত্ব চালিয়ে আসছিল। তার বিরুদ্ধে রয়েছে অস্ত্র, হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ ২০টিরও বেশি মামলা রয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে যশোর জেলা পুলিশের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) আবুল বাশার জানান, গত ১ মার্চ গভীর রাতে অভয়নগরের গোপিনাথপুর গ্রামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে গোফরান বাহিনী। সে সময় তারা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গোফরান বাহিনী নগদ ২০ হাজার টাকা, মোটরসাইকেল, ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।
এই ঘটনার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে চক্রটি। তাদের ধরতে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়। ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযান চালিয়ে গত শনিবার খুলনার রূপসা উপজেলার জাবুসা গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করেন।
৩৪ দিন আগে
যশোরে কোটি টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত সেই ব্যবসায়ী উদ্ধার
যশোরে এক কোটি টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত হওয়া ওষুধ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমকে (৪৫) অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে র্যাব-৬-এর সদস্যরা। নিখোঁজের ৯ দিন পর তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) দিবাগত রাতে চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের খলশি গ্রামে এক অভিযানে একটি নির্জন ইটভাটা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন র্যাব সদস্যরা। রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এই অভিযান চলে ।
জাহাঙ্গীর আলম ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপার সাতগাছি গ্রামের প্রয়াত শিক্ষক লুৎফর রহমানের ছেলে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে জাহাঙ্গীরকে আনা হয় যশোর র্যাব কাম্পে। পরে তাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন র্যাব-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ টি এম ফজলে রাব্বী প্রিন্স।
র্যাব সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২ মার্চ রাতে। শহরের শংকরপুর এলাকায় জাহাঙ্গীর আলমের আর আর মেডিকেল ও জে আর এগ্রোভেট নামে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিনের মতো ওই দিন রাত ৯টার দিকে তিনি দোকান বন্ধ করে মোটরসাইকেলে করে ধর্মতলা সুজলপুর এলাকায় বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে জোরপূর্বক তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। অপহরণের পর রাত ১০টার দিকে অপহরণকারীদের পক্ষ থেকে জাহাঙ্গীরের মোবাইল থেকে তার মা ও স্ত্রীর কাছে ফোন করা হয়। এ সময় তাকে জীবিত ফেরত পেতে হলে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং বিষয়টি পুলিশকে না জানাতে হুমকি দেওয়া হয়।
অপহরণের পর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ফলাফল না পেয়ে গত ৪ মার্চ (বুধবার) বিকেলে যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন জাহাঙ্গীরের স্ত্রী রেশমা খাতুন। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, আমার স্বামীই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তিন মেয়েকে নিয়ে আমরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। জাহাঙ্গীরের সঙ্গে কারো কোনো শত্রুতা ছিল না। তিনি তার স্বামীকে জীবিত ফিরে পেতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনের পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৬-এর সিপিসি-৩ যশোর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ টি এম ফজলে রাব্বী প্রিন্সের নেতৃত্বে এক বিশেষ অভিযান চালানো হয়। গতকাল (বুধবার) গভীর রাতে হাত-পা বাঁধা ও বিধ্বস্ত অবস্থায় জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে র্যাব হেফাজতে নেওয়া হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মেজর এ টি এম ফজলে রাব্বী প্রিন্স জানান, তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। অপহরণের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
৩৮ দিন আগে
যশোরে সাত বছরের শিশু ‘ধর্ষণ’, অভিযুক্ত নানা পলাতক
যশোরে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৭ বছরের এক শিশুকে ভাড়া বাসায় নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২ মার্চ) রাত ৯টার দিকে যশোর মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে শিশুটি যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। শিশুটি যশোর শহরের নাজির শংকরপুর ৩৯ নম্বর হাজারী গেট এলাকায় তার নানি বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করত। সোমবার রাত ৯টার দিকে শিশুটির নানির আপন ভাই হাফিজুল (৪০) বেড়ানোর কথা বলে শিশুটিকে যশোর মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন আফজালের ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় বলে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন।
আজ মঙ্গলবার সকালে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা তাকে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাক্তার হাবিবা সুলতানা ফোয়ারা জানান, শিশুটির ভ্যাজাইনাল ইনজুরি লক্ষ্য করা গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে শারীরিক আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং মেডিকেল প্রতিবেদন হাতে পেলে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।
অভিযুক্ত হাফিজুল সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে যশোর মেডিকেল কলেজ এলাকায় ভাড়া থাকেন। ঘটনার পর থেকেই হাফিজুল পলাতক রয়েছেন।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ জানান, পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। মেডিকেল প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাফিজুলকে আটকের চেষ্ট চলছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
৪৭ দিন আগে
যশোরে নামাজ পড়ে ফেরার পথে পল্লিচিকিৎসককে কুপিয়ে হত্যা
যশোরের শার্শা উপজেলায় নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে এক পল্লিচিকিৎসক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বারিপোতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আল আমিন শার্শা নাভারন এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি ওই এলাকায় পল্লিচিকিৎসক হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে নামাজ আদায় শেষে বাড়ি ফিরছিলেন আল আমিন। পথে একদল লোক তার ওপর হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যান। স্থানীয়রা তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে দ্রুত শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আলামত সংগ্রহ শুরু করে।
শার্শা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ আলম বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।
৫৮ দিন আগে
যশোরে পার্কিং করা বাসে আগুন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ
যশোর শহরের বাহাদুরপুরের নিমতলা এলাকায় পার্কিং করা একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানা যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, আগুনে বাসটি পুড়ে গেছে এবং ভেতরে থাকা অধিকাংশ মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সেটির পাশের আরেকটি বাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন বাসটির মালিক আবু বক্কর সিদ্দিকি বেলাল।
বেলাল জানান, আমি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ভোটের সময় বাসটি দলীয় বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল। রাতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখি বাসটির ভেতরের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা রুহুল হোসেনসহ অন্য নেতা-কর্মীরা দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ও জামায়াত সমর্থকরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ অগ্নিসংযোগ করেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কেউ পরিকল্পিতভাবে আগুন দিয়েছে, নাকি সিগারেট বা মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত নই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
৬৪ দিন আগে
যশোরে কর্মকর্তাদের গাফিলতিতে এক মোজাম্মেলের ভোট দিলেন আরেক মোজাম্মেল
যশোর সদর উপজেলার ৪ নম্বর নোয়াপাড়া ইউনিয়নের বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলাকালে একজনের ভোট অন্যজন দিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নাম ও বাবার নাম এক হওয়ায় এমনটি ঘটেছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে ঘটনাটি ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের মোশারেফ হোসেনের ছেলে মোজাম্মেল হোসেন প্রান্ত নির্ধারিত কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তাকে জানান, তার ভোট ইতোমধ্যেই দেওয়া হয়ে গেছে। বিষয়টি শুনে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে সাংবাদিকরা বিষয়টি যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা পান। এ বিষয়ে দায়িত্বরত পোলিং কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনিও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান জানান, এটি একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একই নাম ও বাবার নাম হওয়া ছাড়াও চেহারায় মিল থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এসব কারণেই ভুলবশত এ ঘটনা ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, আপত্তিকৃত ভোট গ্রহণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে একই কেন্দ্রে এ ধরনের আরও একটি ভুলের ঘটনা ঘটেছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে এ ধরনের ভুল রোধে আরও সতর্কতা ও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
৬৬ দিন আগে
১২০ বছর বয়সে ভোটকেন্দ্রে মণিরামপুরের সরণা বেগম
বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়েছে, দৃষ্টিও ঝাপসা হয়ে এসেছে অনেকটা। কিন্তু গণতান্ত্রিক অধিকার আর নাগরিক দায়িত্ববোধের কাছে হার মেনেছে বার্ধক্য।
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ভোজগাতী ইউনিয়নের জামজামি গ্রামের বাসিন্দা সরণা বেগম ১২০ বছর বয়সেও ভোট দিতে কেন্দ্রে হাজির হয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে স্বজনদের সহযোগিতায় এবং লাঠিতে ভর দিয়ে তিনি স্থানীয় ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন। শতবর্ষী এই বৃদ্ধাকে ভোটকেন্দ্রে দেখে উপস্থিত অন্য ভোটার ও নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিস্মিত ও অনুপ্রাণিত হন।
সরণা বেগমের পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিকভাবে দুর্বল, কিন্তু ভোট দেওয়ার বিষয়ে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সংকল্পবদ্ধ। তার মতে, ‘ভোট দেওয়া কেবল অধিকার নয়, এটি একটি পবিত্র আমানত।’
সরণা বেগমের এই অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে, দেশ ও গণতন্ত্রের প্রতি ভালোবাসা থাকলে বয়স কোনো বাধা হতে পারে না। তার এই উদ্দীপনা নতুন প্রজন্মের ভোটারদের জন্য এক বড় ধরনের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মনে অভিমত স্থানীয় সচেতন মহলের।
৬৬ দিন আগে