যশোর
যশোরে প্রবাসীর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ৩ যুবক গ্রেপ্তার
যশোরের শার্শা উপজেলার ছোট বসন্তপুর গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ৩ যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
সোমবার (১৫ জুন) ভোরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন—নিজামপুর ইউনিয়নের চান্দুড়িয়া ঘোপ গ্রামের হাসিব আল হাসান (১৯) এবং ছোট বসন্তপুর গ্রামের আব্দুর রহমান ইমন (২০) ও মেহেদী হাসান তুতুল (২১)।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৩ জুন রাতে এ ঘটনা ঘটে। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বাইরে বের হন ওই নারী। এ সময় একদল যুবক তাকে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। সে সময় ঘটনা কাউকে জানালে ভুক্তভোগীকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
পরে ভুক্তভোগী তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। ভুক্তভোগীর পরিবার এ ব্যাপারে শার্শা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ আজ (সোমবার) ভোরে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় জড়িত অপর দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, ‘ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি নির্জন মাঠে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিন আসামিকে সোমবার বিকেলে যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।’
৪ দিন আগে
যশোরে নাতনিকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় নানাকে কুপিয়ে হত্যা
যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় নাতনিকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় ইমামুল হোসেন (৫৫) নামে এক রাজমিস্ত্রিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৮ জুন) রাত ৯টার দিকে উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের শরমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইমামুল হোসেন ঝিকরগাছা উপজেলার ফারাসতপুর গ্রামের মৃত রহিম সরদারের ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন।
স্বজনদের অভিযোগ, কিছুদিন আগে ইমামুল হোসেনের নাতনিকে স্থানীয় কয়েকজন যুবক ইভটিজিং করে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় অভিযুক্তদের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই জেরে গতকাল (সোমবার) রাতে সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে ইমামুল হোসেনকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর জখম করে। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাহুল দেব ঘোষ জানান, ইমামুল হোসেনের পিঠের ডান পাশে গুরুতর আঘাত ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, রবিউল, হোসাইন, রাকিব, মেহেদী ও রাব্বির নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাইদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
১০ দিন আগে
যশোরে আওয়ামী লীগ নেতা টিংকু গ্রেপ্তার
যশোরের শার্শায় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকুকে (৫২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে উপজেলার চালিতাবাড়ী গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি উপজেলার কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং একই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি।
তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন।
তিনি জানান, ফিরোজ আহম্মেদ টিংকুর বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ ৪টি মামলা রয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। দীর্ঘদিন পর এলাকায় ফিরে এসে তিনি নাশকতার পরিকল্পনা করছেন, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে যশোর আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে।
১১ দিন আগে
যশোরে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা, নিহত ২
যশোরের মণিরামপুরে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুই যুবক নিহত হয়েছেন।
রবিবার (৩১ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মণিরামপুর উপজেলার তালতলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— উপজেলার কাশিমনগর ইউনিয়নের নাদরা গ্রামের ইসমাইলের ছেলে রাকিব (২৭) এবং একই গ্রামের কামরুজ্জামানের ছেলে মেহেদী হাসান (২৫)।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, রাতে রাকিব ও মেহেদী হাসান একই মোটরসাইকেলে করে রাজগঞ্জ বাজার থেকে নিজেদের বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। এ সময় তালতলা এলাকায় সামনে থাকা অপর একটি মোটরসাইকেল অতিক্রম করার চেষ্টা করেন তারা। ওই সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের মোটরসাইকেলটি রাস্তার পাশের একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে তারা দুজনেই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে নিলে সেখানে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
যশোর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক বিচিত্র মল্লিক জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় দুই ব্যক্তিকে নিয়ে আসেন স্থানীয়রা। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু সাঈদ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় দুই যুবক নিহত হয়েছেন। তাদের মরদেহ যশোর সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১৮ দিন আগে
যশোরে বাঁশবাগান থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
যশোরের ঝিকরগাছার কীর্তিপুরে আবু হুরাইরা মিম (৩৫) নামে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ওই যুবকের মাথার পেছনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের গভীর ক্ষত চিহ্ন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) ভোরে বাড়ি থেকে একটু দূরে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশে একটি বাঁশবাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত যুবক ঝিকরগাছার কীর্তিপুর মোড় এলাকার মশিয়ার রহমানের ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল (বুধবার) বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সারা রাত নিখোঁজ ছিলেন মিম। আজ (বৃহস্পতিবার) ভোরে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশের একটি বাঁশবাগান থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। এ সময় তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের স্ত্রী নিলা খাতুন জানান, তিনি একই গ্রামে তার বাপের বাড়িতে ছিলেন। গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। রাতে শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার কথা থাকলেও মিম আর সেখানে যাননি। এরপর একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
তার দাবি, মিমের সঙ্গে তার কয়েকজন বন্ধুর বিরোধ ছিল। আর এই বিরোধের জের ধরেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া হাসান জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে কীর্তিপুরে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশ থেকে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মাথার পেছনে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
২৯ দিন আগে
শার্শায় ৪২ বছরেও ভবন পায়নি পাঁচভুলাট মাদরাসা: বৃষ্টি এলেই বাজে ছুটির ঘণ্টা
যশোরের সীমান্তবর্তী শার্শা উপজেলার গোগা ইউনিয়নের পাঁচভুলাট গ্রামে অবস্থিত ‘পাঁচভুলাট দাখিল মাদরাসা’। খুলনা বিভাগে দাখিল পরীক্ষায় ফলাফলের দিক থেকে ঈর্ষণীয় সাফল্য ধরে রাখলেও দীর্ঘ ৪২ বছরেও মাদরাসাটির ভাগ্যে জোটেনি কোনো সরকারি ভবন। অবকাঠামোগত চরম সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।
জরাজীর্ণ টিনশেডেই ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাদরাসার টিনশেড ঘর দুটির জরাজীর্ণ দশা। টিনের চালে শত শত ছিদ্র, নেই দরজা-জানালাও।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃষ্টি হলেই টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষ সয়লাব হয়ে যায়। ফলে বৃষ্টি নামলেই শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ও পোশাক ভিজে যাওয়ার ভয়ে দপ্তরি ছুটির ঘণ্টা বাজিয়ে দিতে বাধ্য হন।
অন্যদিকে, গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে টিনশেড ঘরে অবস্থান করা অসম্ভব হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের ভোরেই ক্লাস নিতে হয়। এভাবেই দীর্ঘ বছর ধরে ঝুঁকি ও কষ্ট সহ্য করে লেখাপড়া করছে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী।
সাফল্যে শীর্ষে, সুযোগ-সুবিধায় শূন্য
১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদরাসাটি তিন যুগ আগে এমপিওভুক্ত হয়। মাদরাসাটিতে ২৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৯ জন। ইতোমধ্যে এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের আবেদন করা হয়েছে।
শ্রেণিকক্ষ সংকটের পাশাপাশি শিক্ষকদের বসার জায়গাটুকুও নেই। এলাকাবাসীর চাঁদায় নির্মিত একটি ছোট্ট হলুদ ঘরে শুধু জরুরি নথিপত্র রাখা হয়। অধিকাংশ শিক্ষক বারান্দায় বিছানা পেতে বসেন।
বর্তমানে এবতেদায়ী থেকে দাখিল পর্যন্ত এখানে মোট ৫৯২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে এবতেদায়ীতে ১৬২ জন এবং দাখিলে ৩৫০ জন।
প্রতি বছর এই মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করে। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছেন এবং অনেকেই কর্মজীবনে সফলতার পরিচয় দিচ্ছেন। অথচ এই সাফল্যও প্রতিষ্ঠানটির ভাগ্যে একটি পাকা ভবন এনে দিতে পারেনি।
শিক্ষার্থীদের আকুতি
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসলিমা খাতুন জানায়, গরমের সময় মাদরাসার পুরাতন টিনশেডে ক্লাস করা যায় না। আমাদের অনেক বান্ধবী গরমে জ্ঞান হারিয়ে ফেলার মতো ঘটনা অনেকবার ঘটেছে।
আলিম ও দাখিলের শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন ও হাসনাইন বলেন, ঘরগুলোর দরজা-জানালা নেই। টিনের চাল ফুটো হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি হলে পানি পড়ে। কখন ঘরগুলো বাতাসে ভেঙে পড়ে, তা নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়। এমন কষ্ট নিয়ে বছরের পর বছর পড়াশোনা করছি আমরা।
দুর্ভোগের কথা জানিয়ে সপ্তম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী হোসনে আরা ও ফাতেমা আক্তার আক্ষেপ করে বলে, শ্রেণিকক্ষের একেবারে বেহাল অবস্থা। টিনের চালগুলো জরাজীর্ণ। ঘরের বেড়া নেই। বৃষ্টি হলে বই-খাতা ভিজে যায়; তখন শ্রেণিকক্ষে থাকা যায় না। আমাদের পড়ালেখায় সমস্যা হয়। তবু আশপাশে বড় মাদরাসা না থাকায় এখানে পড়াশোনা করতে হচ্ছে।
মাদরাসায় একটি পাকা ভবনের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ জানায় শিক্ষার্থীরা।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য
মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট আইয়ুব আলী বলেন, আমাদের কোনো ভবন নেই, শিক্ষকদের বসার জায়গা নেই। একটি ছোট রুমে ১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে কষ্ট করে বসতে হয়। অনেক শিক্ষক বারান্দায় বিছানা পেতে বসেন।
তিনি বলেন, বর্ষাকালে প্রবল আতঙ্কে থাকতে হয়। আকাশে মেঘ দেখলেই ঝড়বৃষ্টির ভয়ে মাদরাসা ছুটি দিতে হয় বাধ্য হয়ে। অভিভাবকরা এখন আর সন্তানদের এই অবস্থায় এখানে পাঠাতে চান না। নতুন ভবনের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে বারবার আবেদন করেও কোনো ফল পাননি বলে অভিযোগ করেন এই শিক্ষক।
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার নূরুজ্জামান বলেন, উপজেলার প্রতিটি মাদরাসায় পর্যায়ক্রমে পাকা ভবন হবে। বর্তমানে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে নতুন ভবন নির্মাণের কোন ঘোষণা আসেনি। ওই মাদরাসা ভবনের জন্য আবেদন করা থাকলে নতুন পাকা একটি ভবন সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে পাস হবে। তখন ভবন নির্মাণ করে দেওয়া হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদও পরিস্থিতির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মাদরাসাটির টিনশেড ঘরটি বর্তমানে ব্যবহার অনুপযোগী। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।
৩৮ দিন আগে
যশোরে ট্রেনের ধাক্কায় ট্রাকচালকের মৃত্যু
যশোরের অভয়নগরে ট্রেনের ধাক্কায় কয়লাবাহী একটি ট্রাক দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে ট্রাকচালক মনোয়ার হোসেন (৩৪) নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় ট্রাকের সহকারী (হেলপার) গুরুতর আহত হয়েছেন।
রবিবার (১০ মে) দুপুরে উপজেলার ভাঙ্গাগেট মশরহাটী গ্রামে আকিজ রিসোর্সের কয়লার ডিপোর সামনে যশোর-খুলনা রেললাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ট্রাকচালক মনোয়ার হোসেন ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার রায়গ্রাম ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। আহত হেলপার রায়হান (২৮) একই ইউনিয়নের হাজিপুর মুন্দিয়া গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে।
অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আহত হেলপার রায়হান বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আমরা ট্রাক নিয়ে আকিজ রিসোর্সের কয়লার ডিপোর সামনে পৌঁছাই। রেললাইন পার হওয়ার সময় যশোরগামী ট্রেনের ধাক্কায় ট্রাকটি উল্টে যায়। এরপর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনের ধাক্কায় ট্রাকের ভেতর থেকে চালক ছিটকে রেললাইনে আছড়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। পরে ট্রাকের ভেতর থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় হেলপারকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ দুর্ঘটনার পর প্রায় এক ঘণ্টা রেল চলাচল বন্ধ ছিল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই রেলক্রসিংটি দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। সেখানে কোনো গেটম্যান বা সংকেত ব্যবস্থা না থাকায় চালক ট্রেনের উপস্থিতি বুঝতে পারেননি।
তারা আরও জানান, আকিজ রিসোর্সের কয়লার ডিপো থেকে কয়লা লোড করতে হলে যশোর-খুলনা রেললাইন পার হতে হয়। কিন্তু সেই ক্রসিংয়ের স্থানটি অরক্ষিত, যে কারণে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
নওয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ইয়াসির আরাফাত বলেন, দুর্ঘটনার পর এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে রেল চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ওই রুটে কিছু সময় ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
৪০ দিন আগে
যশোরে উচ্ছেদ অভিযানে ভাঙা পড়ল আ.লীগ কার্যালয়সহ শতাধিক স্থাপনা
যশোরে সরকারি খাস জমি উদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। অভিযান আওয়ামী লীগের দুটি আঞ্চলিক কার্যালয়সহ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১০ মে) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয়। একইভাবে আগামীকাল (সোমবার) দ্বিতীয় দফায় এ অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উচ্ছেদকারী দল আজ (রবিবার) সকালে প্রথমে শহরের বাবলাতলা এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। সেখানে সরকারি খাস জমির ওপর নির্মিত একটি বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়। পরে দলটি গাবতলা মোড়ে গিয়ে রাস্তার পাশের একাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে। এরপর তারা শহরের উপশহর নিউমার্কেটের বি-ব্লক বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে রাস্তার পাশে অবস্থিত আওয়ামী লীগের একটি আঞ্চলিক কার্যালয় ভেঙে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সি-ব্লক এলাকায় গিয়ে সরকারি জমিতে নির্মিত দুটি বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
অভিযানের একপর্যায়ে উপশহর পার্কের সামনে অবস্থিত আওয়ামী লীগের আরও একটি আঞ্চলিক কার্যালয় এবং পাশের একটি মুদি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। পরে পার্ক-সংলগ্ন আমতলা বস্তিতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা প্রায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বস্তির ভেতরে স্থাপিত দুটি ভিক্সল কারখানাও ভেঙে ফেলা হয়।
অভিযান চলাকালে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল।
এ সময় স্থানীয়দের অনেকেই অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীরা সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করে আসছিলেন। তবে বর্তমানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি জমি উদ্ধারে এ অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের খুলনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান। তিনি জানান, প্রতিনিয়ত মাইকিং করেও অবৈধ দখলদারদের সরানো সম্ভব হয়নি। এর আগে তাদের নিজ উদ্যোগে সরে যেতে বললেও নানা ধরনের তালবাহানা করেন তারা। শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ‘দুই দিনব্যাপী এ অভিযানে প্রায় ৫ একর সরকারি খাস জমি উদ্ধার করা হবে। উদ্ধার হওয়া জমির বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৫০ কোটি টাকা।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ যশোরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইমাদুল ইসলাম তুহিন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আশিক আহম্মেদ সাকিব ও উপসহকারী প্রকৌশলী রাসেল মিয়া।
জিয়াউর রহমান আরও বলেন, ‘সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। কোনো প্রভাবশালী মহলকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
এদিকে, অভিযানের সময় অনেকেই অভিযোগ করেন, তাদের কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ করা হয়েছে। কয়েকজন অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের আমলে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কিছু কর্মকর্তা টাকা নিয়ে তাদের সেখানে বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এখন হঠাৎ করে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করায় শতাধিক পরিবার মানবেতর অবস্থায় পড়েছে।
৪০ দিন আগে
যশোরে অনুমোদনহীন রঙ ব্যবহার করে শিশুখাদ্য বিক্রি, ব্যবসায়ীকে লাখ টাকা জরিমানা
যশোরের শার্শায় মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন রঙ ব্যবহার করে তৈরি শিশুখাদ্য বিক্রির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুখাদ্য জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে উপজেলার নাভারণ বাজারের ব্যবসায়ী বিসমিল্লাহ স্টোরের মালিক বিল্লাল হোসেনকে এ জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, নাভারণ বাজারের ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন ঠিকানাবিহীন একটি কারখানায় তৈরি এসব খাদ্যপণ্য বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করছিলেন। পণ্যের মোড়কে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ না থাকায় এবং অনুমোদনহীন কেমিক্যাল ও রঙ ব্যবহারের অভিযোগে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এসব খাদ্য শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। দীর্ঘদিন এ ধরনের খাদ্য গ্রহণে শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি কিডনি জটিলতাসহ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারে।
বিসমিল্লাহ স্টোরের মালিক বিল্লাল হোসেনকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে জরিমানা করা হয়। এ সময় ভোক্তা অধিকার আইনে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয় তাকে। একইসঙ্গে জব্দ করা খাদ্যপণ্য নষ্ট করা হয়।
অভিযানে ভোক্তা অধিকার যশোর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান খান ও পুলিশ উপস্থিত ছিলেন। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন মো. সেলিমুজ্জামান খান।
৪৩ দিন আগে
যশোরে ঘর ভাড়া না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা
যশোরে ঘর ভাড়া না দেওয়ায় আনিছুর রহমান (৬৬) নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
বুধবার (৭ মে) রাতে অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ায় নিজ বাড়ির সামনে হামলার শিকার হন তিনি।
নিহত আনিছুর রহমান নওয়াপাড়ার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জয়েন্ট ট্রেডিংয়ের মালিক। তিনি নওয়াপাড়া পৌরসভার গুয়াখোলা এলাকার মৃত মজিদ সরদারের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, ব্যবসায়ী আনিছুর রহমানের নওয়াপাড়া বাজারে আনিস প্লাজা নামে একটি বহুতল মার্কেট রয়েছে। নওয়াপাড়ার পীর বাড়ি এলাকার শাহ জোনায়েদের ছেলে শাহ মাহামুদ আনিস প্লাজায় একটি দোকান ঘর ভাড়া নিতে চান। কিন্তু আনিছুর রহমান তাকে ঘর ভাড়া দিতে রাজি হননি। এর জের ধরে শাহ মাহামুদ গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যা ৭টার দিকে আনিছুর রহমানকে তার বাড়ির সামনে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে খুমেক হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে রাত আড়াইটার দিকে আনিছুর রহমান মৃত্যুবরণ করেন।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে নওয়াপাড়ার তার মরদেহ বাড়িতে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে নওয়াপাড়া নৌবন্দরের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি,তদন্ত) মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাড়িতে যায় এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শাহ মাহামুদ পলাতক রয়েছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের অভিযান চালানো হচ্ছে।
৪৩ দিন আগে