যশোর
বেকারদের ভাতা দিলে বেকারত্ব বাড়বে, আমরা কর্মসংস্থান করব: ডা. শফিকুর
বেকারদের বেকারভাতা দিলে দেশে বেকারত্ব বেড়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আমরা নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করে বেকারদের সাবলম্বী করে তুলব।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে যশোরের ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমির এসব কথা বলেন।
জনসভায় শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটা দল সরকারে আসার আগে ১০ টাকা কেজি দরে চাল খাওয়ার কথা বলছে। বলছে কৃষক কার্ড দেবে, দেবে বেকারভাতা। ওই সব ধোঁকা আর বাংলাদেশের জনগণ দেখতে চায় না। বেকারদের বেকারভাতা দিলে বেকারত্ব বেড়ে যাবে। আমরা নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করে বেকারদের সাবলম্বী করে তুলব।’
তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ তাআলা যদি আমাদের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেন, আমরা এই যশোরকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করব, ৫শ’ বেড হাসপাতাল, ভবদহ সমস্যার সমাধান করা হবে। যশোরবাসীর এসব ন্যায্য অধিকার।’
পরে তিনি যশোরের বিভিন্ন আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের হাতে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন।
২ ঘণ্টা আগে
যশোরে নেশার টাকা না পেয়ে বাবা-মাকে কুপিয়ে পালিয়েছে ছেলে
নেশার টাকা না পেয়ে নিজের বাবা-মাকে বটি দিয়ে কুপিয়ে এবং লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে এক যুবক। এরপর থেকে পলাতক রয়েছেন তিনি।
রবিবার (২৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সাতমাইল হৈবতপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— ওই গ্রামের আছির উদ্দিন (৭০) ও তার স্ত্রী রোকেয়া (৬০)। আহত দম্পতি বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও আহতদের কাছ থেকে জানা যায়, গতকাল (রবিবার) গভীর রাতে আছির উদ্দিনের ছোট ছেলে সাদ্দাম তার বাবা-মায়ের কাছে নেশার জন্য টাকা দাবি করেন। তবে তারা টাকা দিতে অস্বীকার করায় ক্ষিপ্ত হয়ে সাদ্দাম প্রথমে তার বাবা-মাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। পরে বটি দিয়ে দুজনেরই বাঁ হাতে আঘাত করেন। এতে তারা আহত ও রক্তাক্ত হন। আহতদের আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এলে সাদ্দাম পালিয়ে যান। এরপর প্রতিবেশীরা আহত আছির উদ্দিন ও তার স্ত্রীকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. বিচিত্র মল্লিক জানান, আহতদের মাথা ও শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া উভয়ের হাতে ধারালো অস্ত্রের ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।
এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে সাদ্দামকে আটক করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
হাসপাতালে কর্তব্যরত যশোর কোতয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, আহতদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে পলাতক সাদ্দামকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
১ দিন আগে
যশোরে বরযাত্রীবাহী বাস খাদে, ১২ জন আহত
যশোরের চৌগাছায় বরযাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার টেঙ্গরপুর মোড় এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা বলেন, ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানাধীন বাথানগাছী গ্রাম থেকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বরযাত্রীবাহী বাসটি অভয়নগরের উদ্দেশে ফিরছিল। পথের মাঝে উপজেলার টেঙ্গরপুর মোড় পার হওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলকে সাইড দিতে গিয়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং রাস্তার পাশে গভীর খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় ১২জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন— অভয়নগরের শংকরপাশা গ্রামের আপন বিশ্বাস, নিমাই রায় (৮০), বিকাশ (৩৮), নয়ন (২৬), সাধন কুমার (৫০), গৌর বিশ্বাস (৪৫), চন্দ্রা (২২), শ্রাবণী (১৮), পারুল হাজরা (৪৮) ও প্রীতি (১৭)। এছাড়া আহত হয়েছেন সদর উপজেলার হামিদপুর গ্রামের সুদীপ্ত সরকার (১৭) এবং মাগুরা সদরের কয়ারী গ্রামের হৃদয় অধিকারী (১৮)।
দুর্ঘটনার পর বাসের অন্য যাত্রী ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, আহতরা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
৩ দিন আগে
পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন যশোর কারাগারের ১২৯ বন্দি
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন ১২৯ জন কারাবন্দি।
প্রথমবারের মতো কারাগারে থাকা বন্দিরা এই ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ১২৯ জন বন্দি ইতোমধ্যে অনলাইনের মাধ্যমে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহম্মেদ।
গত ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হয়ে ৩১ ডিসেম্বর এই নিবন্ধন শেষ হয়।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানায়, প্রথমে বিষয়টি বন্দিদের জানানো হলে অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকা অথবা অন্যান্য কারণে অনলাইনে নিবন্ধন করতে পারেননি অনেকে। আবার কেউ কেউ জামিনে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় আবেদন করতে চাননি।
কারা সূত্র আরও জানায়, পোস্টাল ব্যালট হাতে পাওয়ার পর বন্দিরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। বন্দিদের নিজ নিজ নির্বাচনি আসনে কোন কোন প্রার্থী ও প্রতীকে নির্বাচন করছেন, সে তথ্য বুকলেট আকারে সরবরাহ করা হবে। এতে তারা প্রার্থী ও প্রতীক সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
নিবন্ধিত বন্দিদের জন্য যথাযথভাবে ভোট প্রদানের পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। নির্ধারিত সময়ে নিবন্ধিত ভোটারদের জন্য নির্বাচন কমিশন পৃথকভাবে খাম পাঠাবে। প্রতিটি প্যাকেটে থাকবে ভোট প্রদানের নিয়মাবলি, স্বাক্ষরের জন্য নির্ধারিত স্থান এবং ব্যালট পেপার। বন্দিরা ব্যালট পেপারে ভোট দিয়ে খাম সিল করবেন।
কারাগারের নির্ধারিত স্থানে বসেই তারা ভোট দেবেন। পরে ব্যালট পেপারের খাম ও স্বাক্ষরসহ কপিটি আরেকটি খামে ভরে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবেন। কারা কর্তৃপক্ষ সেগুলো পোস্ট অফিসে পাঠাবে এবং ডাক বিভাগ এক্সপ্রেস ব্যবস্থায় খামগুলো নির্বাচন কমিশনে পাঠাবে। এরপর নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার ভোটের সঙ্গে এগুলো যুক্ত করবে।
কারা সূত্র আরও জানায়, নিবন্ধিত বন্দিদের কেউ জামিনে মুক্তি পেলেও ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য তাকে কারাগারের ভেতরে নির্ধারিত বুথে উপস্থিত হয়ে ভোট দিতে হবে। ভোটপ্রদান শেষে তিনি পুনরায় কারাগার থেকে বের হবেন।
এ বিষয়ে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহম্মেদ বলেন, নিবন্ধিত বন্দিদের ভোট প্রদানের জন্য কারা কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এ বিষয়ে একটি টিমও গঠন করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে বন্দিদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আশেক হাসান বলেন, নির্বিঘ্নে ভোট প্রদানের জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। বন্দিরা যাতে সুষ্ঠুভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
৩ দিন আগে
যশোরে জমির বিরোধে একজনকে কুপিয়ে হত্যা, সংঘবদ্ধ পিটুনিতে নিহত খুনি
যশোরে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম (৪৫) নামের একজনকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এবং আব্দুল আলিম পলাশ (৩৫) নামের অন্যজন সংঘবদ্ধ পিটুনিতে নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চৌগাছা উপজেলার সলুয়া কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) আবুল বাশার।
নিহত রফিকুল যশোর সদরের চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের জগহাটি গ্রামের তবজেল মল্লিকের ছেলে এবং পলাশ একই গ্রামের হজরত আলীর ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, রফিকুল ও পলাশের মধ্যে জমিজমা নিয়ে গত দুই বছর ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সলুয়া কলেজের সামনে রফিকুল ইসলামকে একা পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন পলাশ। এ ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে হামলাকারী পলাশকে ঘিরে ফেলে। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতার বেধড়ক পিটুনিতে পলাশও গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে নেয়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পলাশকে মৃত ঘোষণা করেন, আর উন্নত চিকিৎসার জন্য রফিকুলকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথে রফিকুলেরও মৃত্যু হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার বলেন, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
৬ দিন আগে
যশোরে সন্ত্রাসী গোল্ডেন সাব্বির আটক, অস্ত্র ও ককটেল উদ্ধার
যশোরে আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাব্বির হোসেন ওরফে গোল্ডেন সাব্বিরকে আটক করেছে র্যাব-৬ যশোরের সদস্যরা। অভিযানে তার ব্যবহৃত ফ্ল্যাট থেকে একটি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন ও ১৫টি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের একটি চারতলা ভবনের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় র্যাব। অভিযানে নেতৃত্ব দেন র্যাব-৬ যশোরের কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফজলে রাব্বি।
আটক সাব্বির যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে গোল্ডেন সাব্বির ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন এবং সেখান থেকেই তিনি তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা ও পরিচালনা করতেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে র্যাব সদস্যরা ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে তাকে আটক করেন। এ সময় ফ্ল্যাটের রান্নাঘর কার্নিশের ওপর বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ১৫টি ককটেল উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়াও ঘরের মধ্যে থেকে একটি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, গোল্ডেন সাব্বিরের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক ও বিস্ফোরকসহ মোট ১০টি মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে যশোরের অপরাধ জগতের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। এর আগেও ২০২০ সালে তাকে অস্ত্র, গুলি ও মাদকসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময় তার সঙ্গে আরও দুই সহযোগীকেও আটক করা হয়েছিল।
র্যাবের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, আটক সাব্বিরের বিরুদ্ধে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে। উদ্ধার করা অস্ত্র ও ককটেল ব্যবহার করে যেকোনো সময় গুরুতর সহিংসতা ঘটানোর প্রস্তুতি ছিল তার। তাকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে মামলা দিয়ে যশোর কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
১৩ দিন আগে
আলমগীর হত্যা মামলা: জামাই ও শুটারের স্বীকারোক্তিতে আরও একজন গ্রেপ্তার
যশোরের বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত শাহিন কাজী (২৫) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে শহরের লোন অফিস পাড়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুরে শাহিনকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম তার জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আটক শাহিন যশোর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁচড়া রায়পাড়া (তুলোতলা মোড়) এলাকার কিসলু কাজীর ছেলে। তিনি যশোর শহরের লোন অফিস পাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী (নিহতের জামাই) বাসেদ আলী পরশ ও তার সহযোগী আসাবুল ইসলাম সাগর রিমান্ডে থাকাকালীন শাহিন কাজীর নাম উল্লেখ করেন।
পরবর্তীতে গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার হওয়া শুটার ত্রিদিব চক্রবর্তী মিশুক আদালতে দেওয়া তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতেও শাহিননের নাম প্রকাশ করেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) অলক কুমার দে সোমবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে লোন অফিস পাড়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং আগে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শাহিন কাজী এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। ভাড়াটে খুনী ও পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে সমন্বয় এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার বিষয়ে তার বিরুদ্ধে তথ্য রয়েছে। শাহিন কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাদিসহ তিনটি মামলা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শামীমা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের জামাই পরশ, সহযোগী সাগর, মূল শুটার ত্রিদিব এবং সর্বশেষ শাহিন কাজীসহ মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অলক কুমার দে জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকিদের ধরতে এবং হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১৩ দিন আগে
যশোরে ঘুষগ্রহণ মামলায় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কারাগারে
ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে আটক যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) যশোরের ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ এম এম মোর্শেদ এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে উদ্ধারকৃত ১ লাখ ২০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের কৌঁসুলি (পিপি) সিরাজুল ইসলাম।
গতকাল (বুধবার) বিকেলে অভিযান চালিয়ে নিজ কার্যালয় থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকাসহ আশরাফুল আলমকে আটক করে দুদক।
যশোর জেলা দুদকের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন ও সহকারী পরিচালক মো. আল আমিনের নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথমে ফাঁদ পাতা হয়। সেই ফাঁদে তিনি পা দেন বলে জানায় দুদক।
দুদক জানায়, বসুন্দিয়া খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুন্নবীর প্রয়াত স্ত্রী শিরিনা আক্তারের পেনশন-সংক্রান্ত ফাইল ছাড় করানোর নামে আশরাফুল আলম ৩ মাস ধরে তাকে নানা অজুহাতে ঘোরাতে থাকেন। একপর্যায়ে দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন তিনি। প্রথমে শিরিনার কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। পরে বাকি এক লাখ ২০ হাজার টাকা নেওয়ার সময় তাকে হাতেনাতে আটক করেন দুদকের কর্মকর্তারা।
এদিকে, তার আটকের খবরে গতকাল সন্ধ্যার পর দুদক কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন প্রাথমিক শিক্ষকেরা। তারা দাবি করেন, দুদকের অভিযানের কিছু সময় আগে আশরাফুল আলম বাথরুমে গেলে সেই সুযোগে একটি পক্ষ তার টেবিলে টাকা রেখে যায়। পরবর্তীতে হাতেনাতে আটক দেখিয়ে একটি নাটক সাজানো হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। পরে দুদকের কর্মকর্তারা বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা করেন।
এদিকে, আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১২টার পর যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনেও প্রাথমিক শিক্ষকেরা বিক্ষোভ করেন।
১৯ দিন আগে
যশোরের ৬টি আসনে ১৯ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ১৯ জনের প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ছয়টি আসনে মোট ৭১টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন প্রার্থীরা। এর মধ্যে ৪৬টি মনোনয়নপত্র জমা করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ২৭টি মনোনয়নপত্র বৈধ ও ১৯টি মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়।
আসনভিত্তিক হিসাবে— যশোর-১ (শার্শা) আসনে জমা দেওয়া ৭টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৪টি বৈধ ও ৩টি বাতিল, যশোর-২ (ঝিকরগাছা- চৌগাছা) আসনে ১০টি মনোনয়নপত্র জমাদানের বিপরীতে ৫টি বৈধ ও ৫টি বাতিল, যশোর-৩ (সদর) আসনে জমা হওয়া ৬টির মধ্যে ৫টি বৈধ ও ১টি বাতিল, যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও সদরের বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) আসনে ১০টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৬টি বৈধ ও ৪টি বাতিল, যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে জমাদানকৃত ৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৪টি বৈধ ও ৪টি বাতিল এবং যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে ৫টি মনোনয়নপত্র জমার পর ৩টি বৈধ ও ২টি বাতিল করা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় আরও জানিয়েছে, নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
২২ দিন আগে
যশোরে এবার জুলাই যোদ্ধা এনাম সিদ্দিকিকে ছুরিকাঘাত
জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হওয়া যশোরের এনাম সিদ্দিকিকে এবার ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের এনামের নিজ গ্রাম এনায়েতপুরে এ ঘটনা ঘটে।
আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের মৃত খন্দকার আমিনুল্লাহর ছেলে। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় উত্তরায় পুলিশের গুলিতে মাথায় আঘাত পেয়ে তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন।
এনামের স্বজনেরা জানান, রবিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এনাম সিদ্দিকি হাঁটাহাঁটির উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় এনায়েতপুর পীরবাড়ির সামনে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি তার গতিরোধ করে। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা প্রথমে লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে, পরে ডান বুকে, বাঁ হাতের বাহু ও কাঁধে চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়। এতে তিনি গুরুতর জখম হন। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে আহত অবস্থায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিচিত্র মল্লিক জানান, এনামের শরীরের কয়েকটি স্থানে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে তিনি এখন আশঙ্কামুক্ত।
ঘটনার খবর শুনে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। তার নির্দেশে দলীয় নেতা-কর্মীরা দ্রুত হাসপাতালে ছুটে আসেন এবং এনাম সিদ্দিকির চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচাল করতেই পরিকল্পিতভাবে জুলাই যোদ্ধাদের টার্গেট করা হচ্ছে। দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
২৩ দিন আগে