যশোর
যশোরে বাঁশবাগান থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
যশোরের ঝিকরগাছার কীর্তিপুরে আবু হুরাইরা মিম (৩৫) নামে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ওই যুবকের মাথার পেছনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের গভীর ক্ষত চিহ্ন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) ভোরে বাড়ি থেকে একটু দূরে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশে একটি বাঁশবাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত যুবক ঝিকরগাছার কীর্তিপুর মোড় এলাকার মশিয়ার রহমানের ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল (বুধবার) বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সারা রাত নিখোঁজ ছিলেন মিম। আজ (বৃহস্পতিবার) ভোরে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশের একটি বাঁশবাগান থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। এ সময় তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের স্ত্রী নিলা খাতুন জানান, তিনি একই গ্রামে তার বাপের বাড়িতে ছিলেন। গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। রাতে শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার কথা থাকলেও মিম আর সেখানে যাননি। এরপর একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
তার দাবি, মিমের সঙ্গে তার কয়েকজন বন্ধুর বিরোধ ছিল। আর এই বিরোধের জের ধরেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া হাসান জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে কীর্তিপুরে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশ থেকে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মাথার পেছনে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
৮ দিন আগে
শার্শায় ৪২ বছরেও ভবন পায়নি পাঁচভুলাট মাদরাসা: বৃষ্টি এলেই বাজে ছুটির ঘণ্টা
যশোরের সীমান্তবর্তী শার্শা উপজেলার গোগা ইউনিয়নের পাঁচভুলাট গ্রামে অবস্থিত ‘পাঁচভুলাট দাখিল মাদরাসা’। খুলনা বিভাগে দাখিল পরীক্ষায় ফলাফলের দিক থেকে ঈর্ষণীয় সাফল্য ধরে রাখলেও দীর্ঘ ৪২ বছরেও মাদরাসাটির ভাগ্যে জোটেনি কোনো সরকারি ভবন। অবকাঠামোগত চরম সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।
জরাজীর্ণ টিনশেডেই ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাদরাসার টিনশেড ঘর দুটির জরাজীর্ণ দশা। টিনের চালে শত শত ছিদ্র, নেই দরজা-জানালাও।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃষ্টি হলেই টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষ সয়লাব হয়ে যায়। ফলে বৃষ্টি নামলেই শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ও পোশাক ভিজে যাওয়ার ভয়ে দপ্তরি ছুটির ঘণ্টা বাজিয়ে দিতে বাধ্য হন।
অন্যদিকে, গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে টিনশেড ঘরে অবস্থান করা অসম্ভব হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের ভোরেই ক্লাস নিতে হয়। এভাবেই দীর্ঘ বছর ধরে ঝুঁকি ও কষ্ট সহ্য করে লেখাপড়া করছে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী।
সাফল্যে শীর্ষে, সুযোগ-সুবিধায় শূন্য
১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদরাসাটি তিন যুগ আগে এমপিওভুক্ত হয়। মাদরাসাটিতে ২৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৯ জন। ইতোমধ্যে এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের আবেদন করা হয়েছে।
শ্রেণিকক্ষ সংকটের পাশাপাশি শিক্ষকদের বসার জায়গাটুকুও নেই। এলাকাবাসীর চাঁদায় নির্মিত একটি ছোট্ট হলুদ ঘরে শুধু জরুরি নথিপত্র রাখা হয়। অধিকাংশ শিক্ষক বারান্দায় বিছানা পেতে বসেন।
বর্তমানে এবতেদায়ী থেকে দাখিল পর্যন্ত এখানে মোট ৫৯২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে এবতেদায়ীতে ১৬২ জন এবং দাখিলে ৩৫০ জন।
প্রতি বছর এই মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করে। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছেন এবং অনেকেই কর্মজীবনে সফলতার পরিচয় দিচ্ছেন। অথচ এই সাফল্যও প্রতিষ্ঠানটির ভাগ্যে একটি পাকা ভবন এনে দিতে পারেনি।
শিক্ষার্থীদের আকুতি
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসলিমা খাতুন জানায়, গরমের সময় মাদরাসার পুরাতন টিনশেডে ক্লাস করা যায় না। আমাদের অনেক বান্ধবী গরমে জ্ঞান হারিয়ে ফেলার মতো ঘটনা অনেকবার ঘটেছে।
আলিম ও দাখিলের শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন ও হাসনাইন বলেন, ঘরগুলোর দরজা-জানালা নেই। টিনের চাল ফুটো হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি হলে পানি পড়ে। কখন ঘরগুলো বাতাসে ভেঙে পড়ে, তা নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়। এমন কষ্ট নিয়ে বছরের পর বছর পড়াশোনা করছি আমরা।
দুর্ভোগের কথা জানিয়ে সপ্তম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী হোসনে আরা ও ফাতেমা আক্তার আক্ষেপ করে বলে, শ্রেণিকক্ষের একেবারে বেহাল অবস্থা। টিনের চালগুলো জরাজীর্ণ। ঘরের বেড়া নেই। বৃষ্টি হলে বই-খাতা ভিজে যায়; তখন শ্রেণিকক্ষে থাকা যায় না। আমাদের পড়ালেখায় সমস্যা হয়। তবু আশপাশে বড় মাদরাসা না থাকায় এখানে পড়াশোনা করতে হচ্ছে।
মাদরাসায় একটি পাকা ভবনের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ জানায় শিক্ষার্থীরা।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য
মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট আইয়ুব আলী বলেন, আমাদের কোনো ভবন নেই, শিক্ষকদের বসার জায়গা নেই। একটি ছোট রুমে ১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে কষ্ট করে বসতে হয়। অনেক শিক্ষক বারান্দায় বিছানা পেতে বসেন।
তিনি বলেন, বর্ষাকালে প্রবল আতঙ্কে থাকতে হয়। আকাশে মেঘ দেখলেই ঝড়বৃষ্টির ভয়ে মাদরাসা ছুটি দিতে হয় বাধ্য হয়ে। অভিভাবকরা এখন আর সন্তানদের এই অবস্থায় এখানে পাঠাতে চান না। নতুন ভবনের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে বারবার আবেদন করেও কোনো ফল পাননি বলে অভিযোগ করেন এই শিক্ষক।
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার নূরুজ্জামান বলেন, উপজেলার প্রতিটি মাদরাসায় পর্যায়ক্রমে পাকা ভবন হবে। বর্তমানে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে নতুন ভবন নির্মাণের কোন ঘোষণা আসেনি। ওই মাদরাসা ভবনের জন্য আবেদন করা থাকলে নতুন পাকা একটি ভবন সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে পাস হবে। তখন ভবন নির্মাণ করে দেওয়া হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদও পরিস্থিতির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মাদরাসাটির টিনশেড ঘরটি বর্তমানে ব্যবহার অনুপযোগী। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।
১৮ দিন আগে
যশোরে ট্রেনের ধাক্কায় ট্রাকচালকের মৃত্যু
যশোরের অভয়নগরে ট্রেনের ধাক্কায় কয়লাবাহী একটি ট্রাক দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে ট্রাকচালক মনোয়ার হোসেন (৩৪) নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় ট্রাকের সহকারী (হেলপার) গুরুতর আহত হয়েছেন।
রবিবার (১০ মে) দুপুরে উপজেলার ভাঙ্গাগেট মশরহাটী গ্রামে আকিজ রিসোর্সের কয়লার ডিপোর সামনে যশোর-খুলনা রেললাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ট্রাকচালক মনোয়ার হোসেন ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার রায়গ্রাম ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। আহত হেলপার রায়হান (২৮) একই ইউনিয়নের হাজিপুর মুন্দিয়া গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে।
অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আহত হেলপার রায়হান বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আমরা ট্রাক নিয়ে আকিজ রিসোর্সের কয়লার ডিপোর সামনে পৌঁছাই। রেললাইন পার হওয়ার সময় যশোরগামী ট্রেনের ধাক্কায় ট্রাকটি উল্টে যায়। এরপর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনের ধাক্কায় ট্রাকের ভেতর থেকে চালক ছিটকে রেললাইনে আছড়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। পরে ট্রাকের ভেতর থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় হেলপারকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ দুর্ঘটনার পর প্রায় এক ঘণ্টা রেল চলাচল বন্ধ ছিল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই রেলক্রসিংটি দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। সেখানে কোনো গেটম্যান বা সংকেত ব্যবস্থা না থাকায় চালক ট্রেনের উপস্থিতি বুঝতে পারেননি।
তারা আরও জানান, আকিজ রিসোর্সের কয়লার ডিপো থেকে কয়লা লোড করতে হলে যশোর-খুলনা রেললাইন পার হতে হয়। কিন্তু সেই ক্রসিংয়ের স্থানটি অরক্ষিত, যে কারণে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
নওয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ইয়াসির আরাফাত বলেন, দুর্ঘটনার পর এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে রেল চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ওই রুটে কিছু সময় ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
১৯ দিন আগে
যশোরে উচ্ছেদ অভিযানে ভাঙা পড়ল আ.লীগ কার্যালয়সহ শতাধিক স্থাপনা
যশোরে সরকারি খাস জমি উদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। অভিযান আওয়ামী লীগের দুটি আঞ্চলিক কার্যালয়সহ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১০ মে) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয়। একইভাবে আগামীকাল (সোমবার) দ্বিতীয় দফায় এ অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উচ্ছেদকারী দল আজ (রবিবার) সকালে প্রথমে শহরের বাবলাতলা এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। সেখানে সরকারি খাস জমির ওপর নির্মিত একটি বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়। পরে দলটি গাবতলা মোড়ে গিয়ে রাস্তার পাশের একাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে। এরপর তারা শহরের উপশহর নিউমার্কেটের বি-ব্লক বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে রাস্তার পাশে অবস্থিত আওয়ামী লীগের একটি আঞ্চলিক কার্যালয় ভেঙে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সি-ব্লক এলাকায় গিয়ে সরকারি জমিতে নির্মিত দুটি বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
অভিযানের একপর্যায়ে উপশহর পার্কের সামনে অবস্থিত আওয়ামী লীগের আরও একটি আঞ্চলিক কার্যালয় এবং পাশের একটি মুদি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। পরে পার্ক-সংলগ্ন আমতলা বস্তিতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা প্রায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বস্তির ভেতরে স্থাপিত দুটি ভিক্সল কারখানাও ভেঙে ফেলা হয়।
অভিযান চলাকালে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল।
এ সময় স্থানীয়দের অনেকেই অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীরা সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করে আসছিলেন। তবে বর্তমানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি জমি উদ্ধারে এ অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের খুলনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান। তিনি জানান, প্রতিনিয়ত মাইকিং করেও অবৈধ দখলদারদের সরানো সম্ভব হয়নি। এর আগে তাদের নিজ উদ্যোগে সরে যেতে বললেও নানা ধরনের তালবাহানা করেন তারা। শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ‘দুই দিনব্যাপী এ অভিযানে প্রায় ৫ একর সরকারি খাস জমি উদ্ধার করা হবে। উদ্ধার হওয়া জমির বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৫০ কোটি টাকা।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ যশোরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইমাদুল ইসলাম তুহিন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আশিক আহম্মেদ সাকিব ও উপসহকারী প্রকৌশলী রাসেল মিয়া।
জিয়াউর রহমান আরও বলেন, ‘সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। কোনো প্রভাবশালী মহলকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
এদিকে, অভিযানের সময় অনেকেই অভিযোগ করেন, তাদের কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ করা হয়েছে। কয়েকজন অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের আমলে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কিছু কর্মকর্তা টাকা নিয়ে তাদের সেখানে বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এখন হঠাৎ করে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করায় শতাধিক পরিবার মানবেতর অবস্থায় পড়েছে।
১৯ দিন আগে
যশোরে অনুমোদনহীন রঙ ব্যবহার করে শিশুখাদ্য বিক্রি, ব্যবসায়ীকে লাখ টাকা জরিমানা
যশোরের শার্শায় মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন রঙ ব্যবহার করে তৈরি শিশুখাদ্য বিক্রির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুখাদ্য জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে উপজেলার নাভারণ বাজারের ব্যবসায়ী বিসমিল্লাহ স্টোরের মালিক বিল্লাল হোসেনকে এ জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, নাভারণ বাজারের ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন ঠিকানাবিহীন একটি কারখানায় তৈরি এসব খাদ্যপণ্য বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করছিলেন। পণ্যের মোড়কে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ না থাকায় এবং অনুমোদনহীন কেমিক্যাল ও রঙ ব্যবহারের অভিযোগে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এসব খাদ্য শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। দীর্ঘদিন এ ধরনের খাদ্য গ্রহণে শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি কিডনি জটিলতাসহ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারে।
বিসমিল্লাহ স্টোরের মালিক বিল্লাল হোসেনকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে জরিমানা করা হয়। এ সময় ভোক্তা অধিকার আইনে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয় তাকে। একইসঙ্গে জব্দ করা খাদ্যপণ্য নষ্ট করা হয়।
অভিযানে ভোক্তা অধিকার যশোর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান খান ও পুলিশ উপস্থিত ছিলেন। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন মো. সেলিমুজ্জামান খান।
২২ দিন আগে
যশোরে ঘর ভাড়া না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা
যশোরে ঘর ভাড়া না দেওয়ায় আনিছুর রহমান (৬৬) নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
বুধবার (৭ মে) রাতে অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ায় নিজ বাড়ির সামনে হামলার শিকার হন তিনি।
নিহত আনিছুর রহমান নওয়াপাড়ার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জয়েন্ট ট্রেডিংয়ের মালিক। তিনি নওয়াপাড়া পৌরসভার গুয়াখোলা এলাকার মৃত মজিদ সরদারের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, ব্যবসায়ী আনিছুর রহমানের নওয়াপাড়া বাজারে আনিস প্লাজা নামে একটি বহুতল মার্কেট রয়েছে। নওয়াপাড়ার পীর বাড়ি এলাকার শাহ জোনায়েদের ছেলে শাহ মাহামুদ আনিস প্লাজায় একটি দোকান ঘর ভাড়া নিতে চান। কিন্তু আনিছুর রহমান তাকে ঘর ভাড়া দিতে রাজি হননি। এর জের ধরে শাহ মাহামুদ গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যা ৭টার দিকে আনিছুর রহমানকে তার বাড়ির সামনে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে খুমেক হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে রাত আড়াইটার দিকে আনিছুর রহমান মৃত্যুবরণ করেন।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে নওয়াপাড়ার তার মরদেহ বাড়িতে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে নওয়াপাড়া নৌবন্দরের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি,তদন্ত) মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাড়িতে যায় এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শাহ মাহামুদ পলাতক রয়েছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের অভিযান চালানো হচ্ছে।
২২ দিন আগে
রান্নার কষ্ট লাঘবে নারীদের ‘এলপিজি কার্ড’ দেওয়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
রান্নার কষ্ট লাঘব করতে সরকার ‘এলপিজি কার্ড’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সারা দেশের মা-বোনদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের রান্নার কষ্ট দূর করতে এলপিজি কার্ডও দেওয়া হবে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী খাল পুনর্খনন কার্যক্রমের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। দুপুর ১২টার দিকে শার্শায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনর্খনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
পরে সমাবেশে তিনি বলেন, মা-বোনদের একটি কারণে খুব কষ্ট হয়, রান্নাবাড়ির ব্যাপারে কষ্ট হয়, সেটি গ্রামের মা-বোনই হোক, সেটি শহরের মা-বোনই হোক। আমরা যেমন সারা দেশের মায়েদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিচ্ছি, সেরকম আরেকটি কাজ দিতে চাই; সেটি হবে এলপিজি কার্ড। এর মাধ্যমে মা-বোনদের কাছে এলপি গ্যাস পৌঁছে দেবো। যাতে করে মা-বোনদের রান্নাবান্নার জন্য কষ্ট করতে না হয়।
তারেক রহমান বলেন, ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে অলস বসিয়ে রাখলে চলবে না। এই বিশাল জনশক্তিকে দেশ গড়ার কাজে লাগাতে হবে। বিএনপির রাজনীতি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি। আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তিলে তিলে রক্ত দিয়ে হলেও তা পালন করা হবে।
তিনি বলেন, গত ৫০ বছর ধরে এই খাল ভরাট ও দখল হয়ে পড়ে ছিল। এতে কৃষকের কোনো উপকার হয়নি। আমরা এই চার কিলোমিটার খাল পুনর্খনন করছি। এর ফলে ২০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবে, ১ হাজর ৪০০ টন বাড়তি খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে এবং প্রায় ৭২ হাজার মানুষ সরাসরি সুফল পাবে। খালের দুই পাড়ে ৩ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালে পানি থাকলে মা-বোনেরা হাঁস পালন করে বাড়তি আয় করতে পারবেন। আগামী ৫ বছরে আমরা সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার ‘জিয়া খাল’ খনন করতে চাই যাতে করে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হয়।
নারী শিক্ষার প্রসারের ব্যাপারে তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মেয়েদের শিক্ষা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত ফ্রি করেছিলেন। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মেয়েদের শিক্ষা ডিগ্রি (উচ্চতর) পর্যন্ত ইনশাআল্লাহ ফ্রি করা হবে। পাশাপাশি মেধাবীদের জন্য থাকবে বিশেষ উপবৃত্তি।
তারেক রহমান বলেন, আমরা ওয়াদা করেছিলাম ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করব। সরকার গঠনের ১০০ দিনের মধ্যেই আমরা সেই কাজ শুরু করেছি। এছাড়া বন্ধ কলকারখানাগুলো চালুর প্রক্রিয়া চলছে যাতে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান হয়। মসজিদের ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সরকারি সম্মানি ভাতার কাজও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে সরকারপ্রধান বলেন, স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে, এখন দেশ গড়ার পালা। আমরা জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সব দল মিলে ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করেছি। সেই সনদের প্রতিটি শব্দ আমরা বাস্তবায়ন করব।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ষড়যন্ত্রের আভাস দিয়ে তিনি বলেন, কিছু ব্যক্তি ও দল গণঅভ্যুত্থানের রায়কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে জনগণের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে চায়। ১৭৩ দিন হরতাল করে যারা অর্থনীতি ধ্বংস করেছিল, সেই ভূত এখন আবার অন্য কারো কাঁধে আছর করেছে। এদের বিরুদ্ধে জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
৩২ দিন আগে
যশোরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে যশোর ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে শহরের চাচড়া এলাকার হরিণার বিলে হাসপাতালের এই ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দ্রুত মানুষের কাছে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়া। আমাদের সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে অসুস্থ হওয়া থেকে দূরে রাখা এবং মানুষকে সচেতন করে গড়ে তোলা।
তিনি বলেন, আমাদের সবাইকে এটা মনে রাখতে হবে, আমরা যদি সামনে বাড়তে চাই, আমরা যদি দেশকে সামনে নিতে চাই, জাতিকে সামনে নিতে চাই, তাহলে অবশ্যই একটি সুস্থ জাতির প্রয়োজন। জাতি সুস্থসবল না থাকলে আমরা পিছিয়ে যাব।
জনগণের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, আপনারা সরকারকে সহযোগিতা করলে আমাদের জন্য পুরো বিষয়টি সহজ হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো, এই কাজগুলোকে এমনভাবে সামনে নিয়ে যাওয়া যাতে আমরা বাংলাদেশের মানুষকে সহজেই তাদের ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে পারি। এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা, আমাদের আগামী দিনের পরিকল্পনা।
২০০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার যশোরে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অনুমোদন দেয়। এ লক্ষ্যে শহরের দক্ষিণে হরিণার বিলে ৭৫ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে হাসপাতাল নির্মাণকাজ স্থবির হয়ে পড়ে।
পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করে এবং অস্থায়ীভাবে জেনারেল হাসপাতাল ভবনে মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম চালু করা হয়। এরপর ২০১৬ সালে নিজস্ব ক্যাম্পাসে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হলেও হাসপাতাল নির্মাণ আর এগোয়নি।
দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের পর ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পায়। ২০২৫ সালের জুনে ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পে গতি আসে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নির্মাণকাজে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, তৃতীয় বর্ষ থেকে ক্লিনিক্যাল ক্লাস শুরু হওয়ায় তাদের নিয়মিত হাসপাতালে যাতায়াত করতে হয়। বিশেষ করে শেষ বর্ষে সান্ধ্যকালীন ক্লাস থাকায় এ যাতায়াত আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে।
তাদের মতে, কলেজের সঙ্গে হাসপাতাল স্থাপিত হলে শিক্ষার মান বাড়ার পাশাপাশি যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও নড়াইলের প্রায় ৮০ লাখ মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে।
গণপূর্ত অধিদপ্তর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, ৬৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এর আওতায় ১০ তলাবিশিষ্ট ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবন, শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের জন্য পৃথক হোস্টেল, নার্সিং কলেজ ও হোস্টেল, স্টাফ নার্স ডরমেটরি, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের আবাসন, ৫০০ আসনের মিলনায়তন, মসজিদ এবং বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
২০২৮ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান প্রয়াত তরিকুল ইসলামের সহধর্মিণী অধ্যাপক নার্গিস বেগম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৩২ দিন আগে
গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টার ব্যাপারে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী
গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) যশোরের শার্শা উপজেলায় ঐতিহাসিক উলশী খালের পুনর্খনন কাজ উদ্বোধনের পর খালের পাড়ে এক সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এ সতর্কবাণী দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই সনদের অর্থ ভিন্নভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রিয় ভাই-বোনেরা, আপনাদের সজাগ থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। যারা গণভোটের রায়কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চায়, যারা জুলাই সনদের অর্থ ভিন্নভাবে তাদের নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য উপস্থাপন করতে চায়, এরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়।’
তারেক রহমান বলেন, ‘এই বিশৃঙ্খলা যদি সৃষ্টি করতে পারে তারা, তাহলে জনগণের যে কর্মসূচি— ফ্যামিলি কার্ডের যে কর্মসূচি, মা-বোনদের যে কর্মসূচি, কৃষকদের কৃষি কার্ডের যে কর্মসূচি, খাল খননের যে কর্মসূচি, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য মিল-কারখানা চালু করার যে কর্মসূচি, স্বাস্থ্যসেবা গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার যে কর্মসূচি— সকল কর্মসূচি ব্যাহত হবে, এই বিশৃঙ্খলা যদি প্রশ্রয় পায়।’
তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণকেই নিশ্চিত করতে হবে যেন কেউ জাতির অগ্রগতিকে নস্যাৎ করার সুযোগ না পায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ তার সরকার পর্যায়ক্রমে এবং অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণ বাস্তবায়ন করবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ এবং সতর্ক থাকি, তবে কেউ বাংলাদেশের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারবে না।’
৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করার চেষ্টার বিরুদ্ধে তারা কেমন জবাব দিতে পারে, তা সেদিন মানুষ দেখিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট মানুষ যেভাবে উপযুক্ত জবাব দিয়েছিল, ভবিষ্যতে কেউ যদি তাদের ভাগ্য নিয়ে খেলার চেষ্টা করে, তবে তারা আবারও একইভাবে জবাব দেবে।
৩২ দিন আগে
উলশী খাল পুনর্খনন কাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
যশোরের শার্শা উপজেলায় ঐতিহাসিক উলশী খাল পুনর্খনন কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কাজের সূচনা করেন তিনি। এ সময় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত এবং দেশের কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মাটি কেটে খাল পুনর্খনন কাজের সূচনা শেষে উদ্বোধন ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। ফলকটিতে লেখা আছে, ‘যশোর জেলার শার্শা উপজেলাধীন উলসী খাল (জিয়া খাল) পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন তারেক রহমান এমপি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬।’
উলশী থেকে যদুনাথপুর পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি মূলত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে খনন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এটি ‘জিয়া খাল’ নামে ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করে। এখন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে খালটি পুনর্খনন করা হচ্ছে।
এর আগে, গত ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরের সাহাপাড়া খাল পুনর্খননের মাধ্যমে তারেক রহমান দেশের ৫৪টি জেলায় একযোগে দেশব্যাপী খাল খনন ও পুনর্খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন।
আজ (সোমবার) সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রী একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে যশোর বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি বাসে করে শার্শা উপজেলার উলশীতে যান এবং খাল পুনর্খনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
খালের পাড়ে একটি নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। পরবর্তীতে, যশোর সার্কিট হাউসে জোহরের নামাজ আদায় ও মধ্যাহ্নভোজের পর তিনি যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন এবং যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করবেন।
বিকেলে জেলা বিএনপি আয়োজিত যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে এক জনসভায় ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। কর্মসূচিগুলো শেষ করে সন্ধ্যায় আকাশপথে ঢাকা ফেরার কথা রয়েছে তার।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর যশোরে এটিই তার প্রথম সফর। এর আগে, গত ২ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ এই জেলা সফর করেছিলেন তিনি। সেখানে বিএনপি চেয়ারম্যান হিসেবে যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে এক নির্বাচনি জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন তিনি।
৩৩ দিন আগে