ইলিশ
চাঁদপুরে ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে, স্বস্তিতে ক্রেতারা
প্রায় চার মাস পর চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে ইলিশের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে গত কয়েকদিনে জেলার বাজারগুলোতে ইলিশের দাম কেজিপ্রতি গড়ে প্রায় ৪০০ টাকা কমেছে। সরবরাহ বাড়ায় মাছঘাট ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যস্ততাও বেড়েছে।
মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, ৩০ এপ্রিল জাটকা ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর গত চার মাস ধরে চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৭০ মণ ইলিশ আসত। তবে গত কয়েকদিনে সরবরাহ বেড়ে প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ মণ ইলিশ আসছে।
চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাট ঘুরে দেখা গেছে, তিন দিন আগেও এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৯০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও সরবরাহ বাড়ায় বর্তমানে তা ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শহরের বিপণীবাগ কাঁচাবাজারে একই ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৬০০ টাকায়।
এছাড়া ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা। ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়; আগে যার দাম ছিল ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা।
ব্যবসায়ীদের দাবি, বর্তমানে বাজারে আসা এসব ইলিশ পদ্মা নদীর টাটকা ইলিশ।
গেল সোমবার চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে দুই কেজি ওজনের একটি বড় বা ‘রাজা ইলিশ’ কেজিপ্রতি সাড়ে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। মোট ৯ হাজার টাকায় মাছটি কিনে নেন এক ইলিশপ্রেমী।
প্রবীণ মাছ বিক্রেতা আবুল হোসেন জানান, বড় ইলিশের স্বাদ তুলনামূলক ভালো হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি।
ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান বলেন, বর্তমানে ইলিশের মূল মৌসুম চলছে। অমাবস্যার প্রভাবে গত ২৮ আগস্ট থেকে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। তিনি আশা করেন, আগামী অক্টোবর পর্যন্ত নদীতে জেলেদের জালে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়বে।
চাঁদপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও প্রবীণ মৎস্য ব্যবসায়ী শবেবরাত সরকার বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ঘাটে ইলিশের আমদানি বেড়েছে। প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ মণ ইলিশ আসছে।
তিনি বলেন, ‘গত রবিবারও প্রায় সাড়ে ৩৫০ মণ ইলিশের আমদানি হয়েছে। এখন ইলিশের মৌসুম। সামনে আরও বেশি ইলিশ পাওয়া গেলে দাম আরও কমতে পারে।’
ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় মাছঘাটের শ্রমিকদের ব্যস্ততাও বেড়েছে। শ্রমিক আল আমিন, মফিজ ও আনোয়ার হোসেন জানান, ইলিশের আমদানি বাড়ায় তাদের কাজও বেড়েছে। মাছ সংরক্ষণ ও প্যাকেটজাত করার জন্য বরফকলগুলোতেও ব্যস্ততা বেড়েছে।
মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, বরফ গুঁড়া করে ইলিশ প্যাকেটজাত করার পর ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।
ফরিদগঞ্জের সন্তোষপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জহিরুল আলম এবং নোয়াখালীর সাইফুর রহমান জীবন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মাছঘাটে ইলিশ কিনতে আসেন। তারা জানান, তুলনামূলক সুবিধাজনক দামে টাটকা ইলিশ কিনতে পেরে তারা সন্তুষ্ট।
এদিকে, মাছঘাটসংলগ্ন একটি কক্ষে অপেক্ষাকৃত নিম্নমানের বা ‘রিজেক্টেড’ ইলিশের পেট থেকে ডিম সংগ্রহ করে তা প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেট করতে দেখা গেছে কয়েকজন শ্রমিককে।
এ কাজে নিয়োজিত ব্যবসায়ীরা জানান, এক কেজি ইলিশের ডিমের প্যাকেট সাড়ে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়। বড় ইলিশ থেকে সংগ্রহ করা ডিমের দাম আরও বেশি—কেজিপ্রতি ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। এসব ডিম চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, তিন থেকে চার বছর আগে ইলিশের ডিম কেজিপ্রতি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে এর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ডিম ছাড়ানোর পর কিছু ইলিশে হালকা কাটার দাগ দিয়ে লবণ মাখিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। পরে হলুদ মিশিয়ে শুকানো এসব ‘কাটা ইলিশ’ কেজিপ্রতি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়। মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনাসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের লবণাক্ত ইলিশের চাহিদা রয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শত বছরের পুরোনো এবং চাঁদপুর জেলার সবচেয়ে বড় এ মাছঘাটে প্রায় দেড়শ ব্যবসায়ী ইলিশসহ বিভিন্ন ধরনের মাছের ব্যবসা করেন। ঘাটে প্রায় সাড়ে তিনশ দিনমজুর কাজ করেন।
৬ দিন আগে
মেঘনার এক রাজা ইলিশ বিক্রি হলো সাড়ে ৮ হাজার টাকায়
ভোলার মনপুরায় মেঘনায় জেলের জালে ধরা পড়েছে দুই কেজি ওজনের এক রাজা ইলিশ। পরে মাছটি নিলামে সাড়ে আট হাজারে বিক্রি করা হয়।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলার রামনেওয়াজ মৎস্য ঘাটে উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাচ্চু চৌধুরীর মৎস্য আড়তে রাজা ইলিশটি বিক্রির জন্য আনেন জেলে কিরন মাঝি।
পরে মাছটি নিলামে সাড়ে আট হাজার টাকায় ক্রয় করেন মৎস্য বেপারি ফিরোজ।
কিরন মাঝি জানান, আজ (সোমবার) মেঘনায় জাল ফেলে মাছ শিকারের সময় অন্যান্য ছোট ইলিশের সঙ্গে এই রাজা ইলিশ মাছটি ধরা পড়ে। পরে অন্যান্য মাছের সঙ্গে রাজা ইলিশটি নিলামে বাচ্চু চৌধুরী মৎস্য আড়তে বিক্রি করেন তিনি।
মৎস্য বেপারী ফিরোজ জানান, তিনিসহ অন্যান্য মৎস্য বেপারিরা নিলামে অংশ নেন। পরে তিনি সাড়ে ৮ হাজার টাকায় রাজা ইলিশ মাছটি কিনে নেন। ঢাকাগামী লঞ্চ করে তিনি রাজা ইলিশ মাছটি বিক্রির জন্য ঢাকার কাওরান বাজারে পাঠাবেন। মাছটি ঢাকায় আরও বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এই ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, এমনিতে মেঘনায় ইলিশের হাহাকার চলছে। এরমধ্যে বড় সাইজের ইলিশ ধরা পড়েছে। সামনে বৃষ্টিপাত হলে আরও বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
১৫ দিন আগে
চাঁদপুরে নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে নামছেন জেলেরা
চাঁদপুরে ইলিশের পোনা জাটকা সংরক্ষণে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে নদীতে নামছেন জেলেরা। মেঘনা পাড়ের জেলেপাড়াগুলো এখন মাছ ধরার প্রস্তুতিতে সরগরম। ইতোমধ্যে তারা ইলিশ ধরার সব প্রস্তুতি শেষ করেছেন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে সদর উপজেলার পুরানবাজার হরিসভা, পশ্চিম শ্রীরামদী, রণগোয়াল, দোকানঘর, হানারচর, বহরিয়া, ইব্রাহীমপুর, হরিণা ঘাট এবং শহরের উত্তরের আনন্দবাজার ও বিষ্ণুপুর এলাকার জেলেপাড়া ঘুরে জেলেদের ইলিশ ধরার প্রস্তুতি দেখা যায়।
জেলেদের কেউ জাল মেরামত, কেউ নৌকা সংস্কার এবং অনেকে মিলে নৌকা নদীতে নামানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন।
এর আগে, চাঁদপুরে ইলিশের পোনা জাটকা সংরক্ষণে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস পদ্মা-মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছিল সরকার।
আনন্দবাজার এলাকার জেলে মো. ইসমাইল খাঁ ও মোহাম্মদ হোসেনসহ কয়েকজন জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চললেও সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। এখন আবার নদীতে নামার জন্য জাল ও নৌকা প্রস্তুত করেছি।
বহরিয়া এলাকার জেলে খোরশেদ আলম এবং লক্ষ্মীপুর এলাকার জেলে আনোয়ার হোসেন গাজী বলেন, নৌকা ও জাল মেরামত করতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিতে হয়েছে। এখন ইলিশ পাওয়া গেলে ঋণ শোধ করা যাবে।
একই এলাকার জেলে ফারুক গাজী বলেন, আমিও ইলিশ পাওয়ার আশায় ঋণ করে নৌকা প্রস্তুত করেছি। আমার নৌকায় ৭ জন কাজ করেন। ইলিশ পেলে আমাদের সংসার চলবে, না হয় কিস্তি নিয়ে বিপাকে পড়তে হবে। কারণ সরকারিভাবে যে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে তাতে সংসার চলে না। নগদ টাকা দিলে কিছুটা উপকার হতো। অন্তত মাস প্রতি জেলেদের বিকাশে ১০ হাজার করে টাকা দিলে কিছুটা পোষাত। আমাদের সরকারের প্রতি আকুল আবেদন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সরকার আগামীতে এটা নিয়ে যেন ভাবেন।
এদিকে, জেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার রুমা বলেন, এ বছর জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন হওয়ায় ইলিশ উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পাবে।
ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান ইউএনবিকে বলেন, আজকের জাটকাই আগামী দিনের বড় ইলিশ। যদি ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জাটকা সংরক্ষণ করা যায়, তাহলে আগামীতে দেশে পৌনে ৬ লাখ টন ইলিশ বেশি উৎপাদন হবে বলে আশা করা যায়।
জেলেদের অবৈধভাবে ইলিশ ধরার ব্যাপারে চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, নিষেধাজ্ঞার দুই মাসে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় আমরা দিন-রাত অভিযান পরিচালনা করেছি। যেসব জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা ধরেছেন এমন প্রায় দুই শতাধিক জেলেকে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে। তবে এই অভিযানের ফলে যেমন জাটকা রক্ষা পেয়েছে, তেমনি জাতীয় মাছ ইলিশ উৎপাদন বেড়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, জাটকা ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের সরকার চার মাসে ৪০ কেজি করে ১৬০ কেজি ভিজিএফ চাল দিয়েছে। পাশাপাশি এ বছরই প্রথম জাটকাপ্রবণ এলাকার জেলেদের চালের পাশাপাশি অন্যান্য বিশেষ খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
ওমর ফারুক বলেন, পদ্মা-মেঘনার জাটকাপ্রবণ এলাকার জেলেদের জন্য এবার বিশেষ খাদ্য সহায়তার বরাদ্দ এসেছে। আগে কখনও এ রকম বরাদ্দ আসেনি। ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থপনা প্রকল্পের আওতায় সাড়ে ৮ হাজার জেলের জন্য চালের পাশাপাশি বিশেষ খাদ্য সহায়তা বরাদ্দ এসেছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এসব খাদ্য সহায়তা জেলেদের হাতে পৌঁছাবে।
বিশেষ এই খাদ্য সহায়তার মধ্যে রয়েছে— জনপ্রতি ৫ লিটার সয়াবিন, ১২ কেজি আটা, ১৬ কেজি আলু, ৪ কেজি চিনি, ৪ কেজি লবণ ও ৮ কেজি মসুর ডাল।
১৩১ দিন আগে
১৫ এপ্রিল থেকে ৫৮ দিন সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা
আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত (৫৮ দিন) বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রজনন মৌসুমে ২২ দিন ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখা হবে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এ ঘোষণা দেন।
মন্ত্রী বলেন, ইলিশ সম্পদ রক্ষা ও টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে সরকার সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ৭ থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দেশব্যাপী ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২৬’ উদযাপিত হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিয়া হায়দার চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগে ইলিশের টেকসই উৎপাদন বৃদ্ধিসহ ইলিশ মাছের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসার জন্য বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ লক্ষ্যে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এর মধ্যে জাটকা ও প্রজননক্ষম ইলিশ সংরক্ষণ, নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা, অভয়াশ্রম স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা এবং মৎস্য সংরক্ষণ আইনের সফল বাস্তবায়ন অন্যতম। এসব কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নের ফলে ইলিশ উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৫ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে।
তিনি বলেন, নদী ভরাট, জলবায়ু পরিবর্তন, নদী দূষণ ও মৎস্যসম্পদের ওপর ক্রমাগত চাপ বৃদ্ধির ফলে ইলিশ মাছ উৎপাদনের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সকলকে সঙ্গে নিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এগিয়ে যাবে।
মন্ত্রী বলেন, ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে এর গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ইলিশ ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। জনসাধারণের পুষ্টি চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জেলেদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ, গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখা এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইলিশ মাছের গুরুত্ব অপরিসীম।
তিনি আরও বলেন, দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান প্রায় ৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ। দেশজ জিডিপিতে ইলিশের অবদান প্রায় ১ শতাংশ। বিশ্বের মোট উৎপাদিত ইলিশের প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি আহরিত হয় এ দেশের নদ-নদী, মোহনা ও সাগর থেকে। ইলিশ আহরণকারী ১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষ স্থানে রয়েছে।
আমিন উর রশিদ বলেন, বাংলাদেশের ইলিশ ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশের প্রায় ৬ লাখ লোক ইলিশ আহরণে সরাসরি নিয়োজিত এবং ২০-২৫ লাখ লোক ইলিশ পরিবহন, বিক্রয়, জাল ও নৌকা তৈরি, বরফ উৎপাদন, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি ইত্যাদি কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। তাই ইলিশ সম্পদের উন্নয়নের মাধ্যমে সারাদেশের মানুষের হাতের নাগালে ইলিশ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচি দেশের ইলিশসমৃদ্ধ ২০টি জেলায় পালিত হবে। এ লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ৭ এপ্রিল চাঁদপুর সদরে সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জাটকা ধরা থামাই যদি, ইলিশে ভরবে সাগর-নদী।
ইলিশ রক্ষায় সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ইলিশ সম্পদের টেকসই উন্নয়নে সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত (৫৮ দিন) বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা, প্রজনন মৌসুমে ২২ দিন ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখা। ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা ধরা, পরিবহন ও বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ৬টি ইলিশ অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা ও নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরা বন্ধ, ৩ হাজার ১৮৮ বর্গকিলোমিটার এলাকায় সামুদ্রিক সংরক্ষিত অঞ্চল ঘোষণা এবং জেলেদের জন্য ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ’ এবং ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন’ প্রকল্প বাস্তবায়নসহ আইন সংশোধন ও কঠোর প্রয়োগ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইলিশের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আমিন উর রশিদ বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি করা। উৎপাদন বাড়লে সরবরাহ বাড়বে এবং সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে স্বাভাবিকভাবেই বাজারে ইলিশের দাম কমে আসবে। তিনি আরও বলেন, ইলিশের উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে আগের চেয়ে আরও উন্নত ও কার্যকর করার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
পাশের দেশে ইলিশ পাচার ও অবৈধ রপ্তানি বন্ধে সরকার কোনো উদ্যোগ নেবে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে আপনি দেখেছেন, আমরা বিভিন্ন আইনশৃখলা বাহিনীর সঙ্গেও আমরা প্রতিনিয়ত মিটিং করি। কালকের পর থেকে সমস্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের সহযোগিতা করবে। একেবারে গভীর সমুদ্র থেকে শুরু করে উপরের বাজার পর্যন্ত আমরা তদারকি করছি। এখানে ঝাটকা বিক্রি করে কি না আরও তদারকি করছি, ঘাট তদারকি করছি। আর মাছ ধরা বন্ধ করার জন্য নদী বা সমুদ্রে তো আমাদের কোস্টগার্ড বা নৌবাহিনী এবং নৌ পুলিশ সবাই আছে।
ইলিশ রপ্তানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইলিশ রপ্তানি বাংলাদেশ সরকার করে না। এটা কিছু কিছু সময় ভারতে যায় যখন পূজা হয়। উনারাও বাঙালি, আপনার যেমন ইলিশের প্রতি একটা দুর্বলতা আছে, একইভাবে তাদেরও একটা দুর্বলতা আছে। ওটা সৌজন্যমূলক সরকার-টু-সরকার। ইলিশের বাণিজ্যিক রপ্তানি না থাকলেও বিশেষ ক্ষেত্রে সৌজন্যমূলকভাবে প্রতিবেশী দেশে সীমিত পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি হয়। যদি পাঠায় এটা সরকারপ্রধান জানেন।
অন্যদিকে, জেলেদের সহায়তায় সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, গত দুই মাসে ৪০ হাজার জেলে পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এই সহায়তার মধ্যে রয়েছে ৮০ কেজি চাল, ১২ কেজি আটা, ১০ কেজি তেল, ৪ কেজি চিনি, ৮ কেজি ডাল এবং ১৬ কেজি আলু, যার মোট মূল্য প্রায় ৬ হাজার টাকা।
তিনি আরও বলেন, অতীতে জেলেরা এত পরিমাণ খাদ্য সহায়তা পায়নি। এরপরও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা জেলেদের সহযোগিতা করে যাবেন। তিনি বলেন, সরকার কোনো অনিয়মকে প্রশ্রয় দেবে না এবং যেখানে অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেখানে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১৫৫ দিন আগে
পদ্মা-মেঘনায় দুই মাস ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা
জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জাটকা সংরক্ষণের লক্ষ্যে মার্চ থেকে এপ্রিল, এ দুই মাস চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। এ সময় এ দুই নদীতে মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহণ ও মজুদ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, নৌ পুলিশ ও মৎস্য অধিদপ্তর।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম জানান, জাটকা সংরক্ষণের জন্য জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে (চাঁদপুর সদর হয়ে) হাইমচর উপজেলার শেষপ্রান্ত চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার নদীকে অভয়াশ্রম এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব এলাকার প্রায় ৪৭ হাজার নিবন্ধিত জেলে নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকবেন।
তবে এই সময়ে বেকার ও কর্মহীন হয়ে পড়া এসব জেলের মধ্যে ৩৯ হাজার ৪০০ জেলেকে ভিজিএফের চাল দেওয়া হচ্ছে। তারা ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত চার মাস মাথাপিছু ৪০ কেজি করে মোট ১৬০ কেজি চাল পাবেন বলে জানান তিনি।
সরেজমিনে গিয়ে সদর উপজেলার যমুনা রোড, কোড়ালিয়া, আনন্দবাজার, দোকানঘর, বহরিয়া, রণাগোয়াল, আখনের হাট ও আশপাশের এলাকার মেঘনা পাড়ের বেশ কয়েকজন জেলের সঙ্গে কথা হয়।
তাদের মধ্যে জেলে জাহাঙ্গীর বলেন, আমরা সরকারি আইন মানি। নিষেধাজ্ঞার সময় আমরা জাল ও নৌকা ডাঙায় উঠিয়ে রাখি। কিন্তু আমাদের যে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়, এটা খুবই অপ্রতুল। এতে আমাদের সংসার চলে না। এর সঙ্গে দুই মাসের জন্য দশ হাজার টাকা করে নিজ নিজ মোবাইল নম্বরে বিকাশে বা নগদে দিলে খুবই উপকার হতো।
একই এলাকার জেলে আলী আক্কাছ মাঝি বলেন, মাছ আহরণ করে আমাদের জীবীকা নির্বাহ করতে হয়। অবসর সময়ে বরাদ্দ খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তাও জরুরি। শুধু চাল দিয়ে কি সংসার চলে? সন্তানদের পড়ালেখা ও ঋণের কিস্তি নিয়ে ফেরত দিতে আমাদের বিপাকে পড়তে হয়।
একই কথা জানান জেলা শহরের শেষ প্রান্তের মেঘনা পাড়ের টিলাবাড়ি এলাকার সামাদ ঢালী (৫৫) ও মোতালেব পাইক (৫০); মেঘনা পাড়ের মাদরাসা রোডের হাছান রাঢ়ী (৫০) ও শাহজাহান বেপারী (৫৫)।
চাঁদপুর সদর উপজেলা জেষ্ঠ্য মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, জাটকা সংরক্ষণে পদ্মা-মেঘনার অভয়াশ্রম এলাকায় সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স। আইন অমান্য করে জাটকা ধরা হলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে।
নৌপুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ মোশফিকুর রহমান বলেন, ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস জাটকা ধরা বন্ধে নৌপুলিশ নদীতে সক্রিয় থাকবে। নৌ-সীমানার মধ্যে যদি কোনো জেলে আইন অমান্য করে নদীতে নেমে জাটকা নিধন করেন, তাদের বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি মো. নাজমুল ইসলাম সরকার জানান, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্বির লক্ষ্যে প্রতি বছর বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়, যার মধ্যে জাটকা সংরক্ষণ অন্যতম। জাতীয় স্বার্থে অংশীজনদের আরও তৎপর হতে হবে। জেলেদের জাটকা ধরা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান তিনি।
বিশিষ্ট ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান বলেন, আজকের জাটকা আগামী দিনের ইলিশ। জাটকা সংরক্ষণে সম্মিলিতভাবে সবার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। জাটকা সংরক্ষণ হলে এর সুফল জেলেসহ আমরা সবাই পাব।
১৯২ দিন আগে
ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা মানছেন না ফরিদপুর ও রাজবাড়ীর জেলেরা
মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ফরিদপুর ও রাজবাড়ীর অনেক জেলে পদ্মায় মাছ শিকার করছেন নিয়মিত। সময়মতো সরকারি সহায়তা না পাওয়া ও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে নদীতে নামতে হচ্ছে বলে দাবি তাদের। তবে মৎস্য বিভাগ বলছে, ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞার সময়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
পদ্মা পাড়ে গিয়ে দেখে বোঝার উপায় নেই যে মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা চলছে। বরং তার উল্টোটাই মনে হবে। এই সময়েও দুই জেলার পদ্মায় অর্ধশতাধিক পয়েন্টে অসংখ্য জেলে ইলিশ শিকার করছেন।
জেলেদের দাবি, সরকারি প্রণোদনা না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই জেল-জরিমানা উপেক্ষা করে নদীতে নামছেন তারা। তাদের অনেকের মৎস্য কার্ড থাকার পরও সরকারের সহায়তা পাননি।
আরও পড়ুন: যশোরে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে শীতকালীন সবজি চারা, পোঁছে যাচ্ছে সারা দেশে
নাম প্রকাশে একাধিক জেলে জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সরকারের দেওয়া ২৫ কেজি চাল দিয়ে পরিবার নিয়ে চলাটা কষ্টকর হয়ে যায়। নৌকা ও জাল মেরামতের জন্য বিভিন্ন আড়ৎ ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন অনেকেই। এ সময় আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় জেলেরা ঋণের চাপে পড়েছেন, তাই বাধ্য হয়ে নদীতে যাচ্ছেন তারা।
৩২৪ দিন আগে
ভরা মৌসুমেও খুলনায় ধরাছোঁয়ার বাইরে ইলিশের দাম
মাছের রাজা ইলিশ, স্বাদে এই মাসের তুলনা মেলা ভার। তবে ভরা মৌসুমেও এবার সেভাবে ইলিশের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না খুলনার বাজারে, যা-ও আসছে তার দাম ক্রেতাদের নাাগলের বাইরে। গত বছরের তুলনায় এবার খুলনার বাজারগুলোতে ইলিশের দাম কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে।
ইলিশ ঘাট বলে পরিচিত ভৈরব নদের পাড়ের ৫ নম্বর ঘাট এবং রুপসা মাছ ঘাটে গত দুদিন সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইলিশের সরবরাহ নেই বললেই চলে। কেবল কিছু জাটকা ইলিশ এ সময় চোখে পড়ে।
ইলিশ মাছের আড়তদার সাঈদ আলী বলেন, আমার বাবা ও দাদা ইলিশ মাছের আড়তদার ছিলেন। প্রায় ৭০/৮০ বছরের ব্যবসা আমাদের। কিন্তু কখনো এ বছরের মতো ইলিশের আকাল পড়েনি। আমরা সাধারণত খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছেই ইলিশ বিক্রি করি, কিন্তু দামের কারণে তারা এখন অন্য মাছের ব্যবসা করছেন।
খুলনার নিউমার্কেটে কাঁচাবাজারের সামনে থেকে রিকশাচালক জালাল বলেন, ‘ইলিশ এখন শুধু বাজারের দোকানেই সাজানো দেখি, কিন্তু কিনে খাওয়া আর হয় না। দুই বছর আগে ছোট মেয়েটা বায়না ধরেছিল, তখন সাড়ে ৫০০ টাকা দিয়ে চারটা জাটকা ইলিশ কিনেছিলাম। এরপর আর কেনা হয়নি। এখন বাজারে যাই, শুধু দূর থেকে দেখি। যখন অন্যরা বাজার করে ফিরে যায়, তখন তাদের কাছে দাম শুনি; কেনা আর হয়ে ওঠে না।’
আরও পড়ুন: কিছুতেই নাগালে আসছে না সবজির দাম
তিনি আরও বলেন, ‘সারা দিন রিকশা চালিয়ে যে কয়টা টাকা হাতে আসে, তা দিয়েই পাঁচজনের সংসার চালাতে হয়। ঘরভাড়া, বাজারঘাট, দুই মেয়ে আর ছেলের খরচ—সব মিলিয়ে মাস পার করতে কষ্ট হয়ে যায়। সেখানে ইলিশ মাছ কিনে খাওয়ার মতো বাড়তি পয়সা কই?’
নগরীর নিউমার্কেট ও ময়লাপোতা বাজার ঘুরে দেখা যায়, ‘এক কেজির উপরে ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৭০০ টাকা দরে, কেজির নিচে ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ টাকা দরে এবং ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৯০০ টাকা আর ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
নিউমার্কেটে বাজার করতে আসা মাসুমা লিমা নামে এক নারী বলেন, ‘ভরা মৌসুমেও সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে ইলিশের দাম। তাই সাধ থাকলেও এখনো মুখে তোলা হয়নি মাছটি। মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য হিসেবে সাধ্যের মধ্যে বাজার সামলানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘নদীর একটু বড় ইলিশ বছরে এক-দুবার খেতে পারি। কিন্তু সেটাও আমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে যায়। সিজনের (মৌসুম) সময়ও যদি এমন দাম থাকে, তাহলে আমরা খাবো কীভাবে? এখন ফেসবুকে ছবি দেখেই স্বাদ মেটাতে হচ্ছে।’
ইলিশের দাম বেশি হওয়ায় বাজারে ক্রেতাদের সাড়া মিলছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
আরও পড়ুন: দাম কমেছে ইলিশের, উর্ধ্বমুখী সবজির বাজার
নিউমার্কেটের মাছ ব্যবসায়ী বাদশা মোড়ল বলেন, ‘এখনকার বাজারে মাছের যে দাম তাতে দোকানে মাছ তোলা আমাদের জন্য ভীষণ কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্রেতারা আগের মতো আর আসেন না। সারা দিন বসে থেকেও হাতেগোনা কয়েকটি মাছ বিক্রি হয়। সেই টাকায় মাছ কেনার খরচ, দোকান পর্যন্ত আনা-নেওয়ার ভাড়া আর কর্মচারীর বেতন মিটিয়ে কিছুই হাতে থাকে না। অথচ আমাদের সংসার চলে মাছ বিক্রি করে। মৌসুমের সময়টাতেও আগের মতো লাভ হয় না, দুই-চারটা মাছ বিক্রি করেও তেমন লাভ থাকে না। এভাবে দিন চালানো কঠিন।’
আরেক মাছ ব্যবসায়ী প্রান্ত বলেন, ‘সারা দিনে পাঁচ-সাত জন ক্রেতা এলেও দুই-একজন দাম শুনে চলে যান। ফলে ইলিশের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। অনেক সময় মাছ দুই থেকে চার দিনের বেশি দোকানে পড়ে থাকে, তখন বাধ্য হয়ে কেনা দামে বা তার চেয়ে কমে বিক্রি করতে হয়। সব মিলিয়ে এখন বাজারে ইলিশের ব্যবসা করা বেশ কষ্টকর।’
৩৭০ দিন আগে
ইলিশের মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদন
চাঁদপুরসহ দেশের অন্যান্য জেলায় ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়লেও এর মূল্য ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরেই থেকে যায় বছরের অধিকাংশ সময়। তাই ইলিশের দাম নির্ধারণ এবং সিন্ডিকেটের কবল থেকে রক্ষা করে ইলিশের বাজারদর নিয়ন্ত্রণে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসকের প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। শুধু তাই নয়, এটিকে আমলে নিয়ে প্রস্তাবটি প্রধান উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করলে তিনি তা অনুমোদন করেছেন।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) রাতে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে ইউএনবিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
জানা গেছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ শাখার স্মারকে গত ২৬জুন এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক চাঁদপুর ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবের একান্ত সচিব বরাবর পাঠান জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মাহমুদ উল্লাহ মারুফ।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিভাগীয় কমিশনারদের কাছ থেকে পাওয়া জুন ২০২৫-এর পাক্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন থেকে এটি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূসের সামনে উপস্থাপিত হয়।
আরও পড়ুন: ইলিশের দাম অস্বাভাবিকভাবে না বাড়াতে মৎস্য উপদেষ্টার নির্দেশ
সেখানে বলা হয়, জাতীয় সম্পদ ও মাছ চাঁদপুরের ইলিশের সুস্বাদের সুযোগ নিয়ে চাঁদপুর ও আশপাশের জেলার কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী ও আড়তদার নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছেন, যা একেবারেই ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার নাগালের বাইরে। চড়া মূল্যের কারণে জনসাধারণের ক্রয়সীমার বাইরে চলে যাচ্ছে ইলিশ।
যেহেতু ইলিশ চাঁদপুরসহ অন্যান্য জেলাতেও ধরা পড়ে, তাই কেবল চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইলিশের মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হলে এর ফলপ্রসু প্রভাব বাজারে পড়বে না। চাঁদপুরের পাশাপাশি বরিশাল, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠিসহ আরও অনেক এলাকার নদী যেগুলো সাগর তীরবর্তী, সেখানে ইলিশ ধরা পড়ে।
চিঠিতে বলা হয়, নদী বা সাগরে ইলিশ উৎপাদনে জেলেদের কোনো উৎপাদন খরচ না থাকলেও ইলিশের মুল্য অসাধু, লোভী ব্যবসায়ী কিংবা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে।
যেহেতু ইলিশের উৎপাদন প্রাকৃতিকভাবে হয়, তাই ইলিশ আহরণ ও অন্যান্য আনুসঙ্গিক ব্যয়ের প্রতি লক্ষ রেখে এর মূল্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন। জাতীয় এই মাছের মূল্য নির্ধারণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা যেতে পারে।
ইলিশ সংক্রান্ত এই প্রস্তাবে প্রধান উপদেষ্টা অনুমোদন দিয়েছেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এটি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে এর অগ্রগতি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়।
এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মহসীন উদ্দিন ইউএনবিকে বলেন, ‘চাঁদপুরসহ দেশের ১০ থেকে ১২ জেলায় ইলিশ ধরা পড়ে এবং ক্রয়-বিক্রয় হয়। আমরা মনে করি, যদি চাঁদপুরে অংশীজনদের নিয়ে ইলিশের দাম নির্ধারণ করে দেই, তখন এই ইলিশ অন্য জেলায় গিয়ে বিক্রি হবে। এ কথা মাথায় রেখেই আমি মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছি, ইলিশের বাজার মূল্য যাতে সিন্ডিকেটের খপ্পরে না পড়ে এবং উচ্চমূল্য না হয়। তা যেন সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার নাগালের মধ্যে থাকে।’
৪৩৩ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় বৈশাখে ইলিশ বিক্রিতে ভাটা, হতাশ ব্যবসায়ীরা
পহেলা বৈশাখ মানেই বাঙালির উৎসব আর পান্তা-ইলিশ। প্রতিবছর নববর্ষ ঘিরে ইলিশের বাজার থাকে জমজমাট। কিন্তু এবার চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারে ছিল একেবারেই ভিন্ন চিত্র।
সোমবার (১৪ এপ্রিল) সকালে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ইলিশ বিক্রিতে নেই কোনো জোয়ার।
ব্যবসায়ীরা মাছ সাজিয়ে বসে থাকলেও ক্রেতা ছিলেন হাতে গোনা। দাম তুলনামূলক কম হলেও ইলিশ বিক্রি হয়নি বললেই চলে— ফলে চরম হতাশায় ভুগছেন বিক্রেতারা।
এদিকে চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারের মাছ বাজারে দেখা যায়, মাত্র চারজন বিক্রেতা ইলিশ বিক্রির চেষ্টা করছেন। তাদের একজন বলেন, ‘অন্যান্য বছর পহেলা বৈশাখের দুই থেকে তিন দিন আগেই ইলিশের ব্যাপক চাহিদা থাকত। হুড়োহুড়ি লেগে যেত। এবার মানুষ আসছেই না, আগ্রহও নেই।’
বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ইলিশের দাম তুলনামূলকভাবে ক। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ১৬০০ টাকার মধ্যে। কিন্তু এরপরও বিক্রিতে একেবারেই মন্দা।
একজন বিক্রেতা জানালেন, গত বছর এই সময়ে দিনে ২০ থেকে ৩০ কেজি বিক্রি হতো। এবার দিনে ৫ কেজিও বিক্রি হচ্ছে না। দাম কমিয়েও লাভ হচ্ছে না।
ইলিশ কিনতে আসা শাহারিয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রতিবছর বৈশাখে পান্তা-ইলিশ খাই। এবার বাজারে এসে দেখি মাছ কম, আর দাম বেশি। মাঝারি সাইজের ইলিশের দাম চাচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা। পরিবারের অন্য খরচ সামলে ইলিশ কেনা কঠিন। তাছাড়া ইলিশের স্বাদ নিয়েও অভিযোগ আছে। আগের মতো সুস্বাদু না। একটিমাত্র মাছ কিনেছি ৬০০ টাকায়, বাচ্চারা খেতে চেয়েছে তাই।’
আরও পড়ুন: ১১ হাজার টন ইলিশ রপ্তানি হবে সৌদি আরব ও আমিরাতে
মাছ ব্যবসায়ী সাহেব আলী বলেন, ‘গত ১০ বছর ধরে ইলিশ বিক্রি করি। এই সময়টায় ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়ে। এবার সেই চিত্র নেই। দাম কমিয়েও লাভ হচ্ছে না। কেউ বলছেন মাছের স্বাদ নেই, কেউ বলছেন দাম বেশি। বৈশাখে ইলিশ বিক্রি না হওয়ায় আমরা খুবই হতাশ।’
চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারের নিচের অংশে বাজার করতে আসা শিউলি আক্তার নামের এক চাকরিজীবী নারী বলেন, ‘ছুটির দিনে বিশেষ রান্না করব বলে বাজারে এসেছি। তবে পান্তা-ইলিশে আমাদের পরিবারের তেমন আগ্রহ নেই। বাচ্চারাও খেতে চায় না, তাই আয়োজন করিনি।’
বিক্রেতারা বলছেন, চুয়াডাঙ্গায় এবারের বৈশাখে ইলিশ বিক্রির বাজার ছিল একেবারেই মলিন।
৫১২ দিন আগে
এখনই ইলিশের কৃত্রিম প্রজননে যেতে চান না মৎস্য উপদেষ্টা
এখনই ইলিশের কৃত্রিম প্রজননে যেতে চান না বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, ‘যে ১১টা দেশে ইলিশ পাওয়া যায়, তারমধ্যে বাংলাদেশ প্রথম।’
শনিবার (১২ এপ্রিল) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ব্যবস্থাপনায় ‘ইলিশ সম্পদ ব্যবস্থাপনায় প্রজনন সাফল্য নিরূপণ, জাটকা সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আরও পড়ুন: পহেলা বৈশাখে ইলিশ না খাওয়ার আহ্বান মৎস্য উপদেষ্টার
উপদেষ্টা বলেন, ইলিশ বিশ্বের মধ্যে এমন একটি সম্পদ, যা বাংলাদেশে আছে। ইলিশের ব্যবস্থাপনা ঠিক মতো করতে পারলে বিশ্বের কাছে তা পরিচয় করিয়ে দেওয়া সম্ভব। তাই ইলিশকে আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরতে হবে।
ফরিদা আখতার বলেন, এখনই আমরা ইলিশের কৃত্রিম প্রজননের যেতে চাই না। কৃত্রিম প্রজনন আমাদের প্রাণিসম্পদের খুব বেশি উপকার করেনি। এটা আমাদের বুঝতে হবে। ইলিশ প্রকৃতি থেকে আসা একটা মাছ, এটা প্রাকৃতিকই রাখা ভালো। একই সঙ্গে জুন মাসের পরে যখন ইলিশ বাজারে আসবে, তখন যেন দামটা ঠিক থাকে তা আমাদের দেখতে হবে।’
‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে লবণাক্ততার প্রভাবতো আছেই, সেইসঙ্গে বৃষ্টি হওয়া, না-হওয়ার সঙ্গে ইলিশের ডিম ছাড়ার একটা সম্পর্ক আছে,’ বলেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা যদি যথেষ্ট সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারি। তাহলে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। আর ৯৫ শতাংশ জেলে যদি বন্ধের সময় ইলিশ না ধরেন, তাহলে বাকি কাজটা আমরা করতে পারবো না। জেলারা যেখানে মাছ ধরতে যান, সেখানে দস্যুরা আক্রমণ করে। তাদের চিহ্নিত করে ধরতে হবে। আমরা যে মানবিক সহায়তা দিয়ে থাকি, তা যেন জেলেরাই পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।’
আরও পড়ুন: তরুণ প্রজন্ম হচ্ছে ‘পোল্ট্রি-ভাতে বাঙালি’: মৎস্য উপদেষ্টা
মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্রের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. তোফাজ্জেল হোসেন। গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান সুরাইয়া আখতার জাহান ও মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ।
এসময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিএফআরআইয়ের গবেষক ও মৎস্যজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
৫১৪ দিন আগে