ঠান্ডা
সাত দিন সূর্যের দেখা নেই, লালমনিরহাটে জেঁকে বসেছে শীত
দেশের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটে ঘন কুয়াশা ও তীব্র ঠান্ডায় শীত জেঁকে বসেছে। গত ৭ দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। এতে খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষের জনজীবন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। শীতবস্ত্রের অভাবে সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছে তিস্তা পাড়ের হতদরিদ্র, ছিন্নমূল ও স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লোকজন ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। শীতের দাপটে প্রত্যন্ত গ্রাম ও চরাঞ্চলের মানুষ আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বেলা ১১টা পেরিয়ে গেলেও আজ সূর্যের দেখা মেলেনি।
রাজারহাট আবহাওয়া দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, সামনে শীতের প্রকোপ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ঠান্ডা ও কুয়াশার মাত্রা আরও বাড়তে পারে।
৭ দিন আগে
ঠাকুরগাঁওয়ে হাড় কাঁপানো শীত, বিপর্যস্ত জনজীবন
পৌষ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। গত কয়েকদিন যাবৎ গভীর রাত থেকে ভোররাত পর্যন্ত অনেকটা বৃষ্টির মতো ঝরছে ঘন কুয়াশা। চারদিক ঢেকে যাচ্ছে কুয়াশার চাদরে, ফলে সামান্য দূরের কিছুও দেখা যাচ্ছে না। এতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন।
গতকাল (শনিবার) ও আজ এক মুহূর্তের জন্য সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। সারা দিন সূর্য ঢাকা পড়ে আছে মেঘে ও কুয়াশায়।
ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো আবহাওয়া অফিস নেই। তবে জেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত কয়েকদিন ধরে ভোরে ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে। এ সময়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ওঠেনি।
মেঘে ও কুয়াশায় ঢাকা পড়ে থাকায় সূর্য তাপ ছড়াতো পারছে না। তাছাড়া ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসের কারণে শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে গেছে।
এই শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, ভ্যানচালক, কৃষিশ্রমিক ও খোলা আকাশের নিচে থাকা অসহায়রা। অনেকেই কাজে বের হতে পারছেন না, ফলে তাদের দৈনন্দিন আয় ব্যাহত হচ্ছে।
শীত থেকে রক্ষা পেতে শীতবস্ত্রের দোকান ও ফুটপাতে কম্বল, সোয়েটার ও জ্যাকেট কিনতে মানুষের ভিড় এখন অনেক বেশি।
ঘন কুয়াশার প্রভাব পড়েছে সড়ক-মহাসড়কেও। ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুরসহ বিভিন্ন সড়কে যান চলাচলে দেখা দিয়েছে ধীরগতি। দিনের বেলায়ও চালকদের হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. রকিবুল আলম (চয়ন) জানান, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠাকুরগাঁওয়ের হাসপাতালগুলোতেও বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে প্রতিদিনই রোগীরা হাসপাতালে আসছেন।
তবে পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে শীতজনিত রোগের ঝুঁকি বেশি।
এ অবস্থায় শীতার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনসহ সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা।
৯ দিন আগে
উত্তরের হিমেল হাওয়ায় জবুথবু লালমনিরহাট
শীতের ঠ্যালায় ঘর থাকি বাইরা বের হওয়া যায় না। বাইরা বের হইলে বাতাস গাত ফোরে ফোরে সোন্দায় (বাতাস গায়ের ভেতর ছুঁচের মত ফুঁড়ে যায়)।
কথাগুলো বলছিলেন লালমনিহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের চর ইচলি গ্রামের ৫৫ বছর বয়সী আরিফ নামের এক কৃষক। কথা বলার সময় কাঁপতে থাকা দুই হাত ঘষে শরীরে একটু উষ্ণতা ফেরানোর চেষ্টা করছিলেন তিনি।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় লালমনিরহাটের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে বলে রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র জানিয়েছেন।
উত্তরের হিমেল বাতাসে জবুথবু হয়ে পড়েছে লালমনিরহাটের গ্রাম থেকে শহর সবখানে। এর মধ্যে আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা তিস্তা নদীর চরে শীত আরও নির্দয়। খোলা প্রান্তর, নদীর হাওয়া আর কুয়াশার ভেজা ঠান্ডায় কাবু হয়ে পড়েছে স্থানীয় জনজীবন। টানা তিন দিন সূর্যের দেখা নেই। রাতে কুয়াশা ঝরছে বৃষ্টির মতো।
সূর্যের আলোর বদলে লালমনিরহাটে সকাল হয় ধূসর কুয়াশায় ঢেকে। জানালার ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়া ঠান্ডা হাওয়া ঘুম ভাঙিয়ে দেয় আগেই। উঠোনের ভেজা মাটি আর কনকনে বাতাসে মনে হয় যেন পুরো জনপদ থমকে আছে। এই বৈরী আবহাওয়ার ভেতরই প্রতিদিন নতুন করে বাঁচার জন্য লড়াই করেন লালমনিরহাটের মানুষ। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল আর প্রান্তিক গ্রামগুলোতে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে বহুগুণ।
১১ দিন আগে
পঞ্চগড়ে আবারও শুরু হয়েছে শৈত্যপ্রবাহ
পঞ্চগড়ে রবিবার (২২ ডিসেম্বর) থেকে আবারও শুরু হয়েছে শৈত্যপ্রবাহ। গত দুদিন ধরে এখানে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির উপরে থাকলেও আজ আবারও নিচে নেমে এসেছে।
রবিবার সকালে সূর্যের মুখ দেখা গেলেও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ থাকার কারণে বেশ ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। রোদের কারণে দিনের বেলা তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও বিকাল থেকেই ঠান্ডা লাগতে শুরু করছে। গরম কাপড় পরে লোকজন বের হচ্ছেন। রাতে কুয়াশা পড়ছে কোনো কোনো সময় শীতল বাতাস বয়ে যাচ্ছে। এ কারণে রাতের শীতে এই এলাকার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে শীত, বিপাকে হতদরিদ্ররা
পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, রবিবার সকাল ৬টায় ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আর সকাল ৯টায় কিছুটা তাপমাত্রা কমে রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৪ ভাগ। বাতাসের গতি ছিল ৬ থেকে ৮ কিলোমিটার। মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে বলেও জানান তিনি।
৩৮১ দিন আগে
শীতকাল শুরু, দিন-রাতে বাড়বে আরও ঠান্ডা
বাংলাদেশে শীতের তীব্রতা যত বাড়ছে, ততই সারা দেশের তাপমাত্রা কমে আসার হার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) ঠান্ডা দিন এবং রাতের পূর্বাভাস দিয়েছে। আগামী সপ্তাহগুলোতে তাপমাত্রা আরও কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) রাতে প্রকাশ করা সর্বশেষ ৭২ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, রাতের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে, এবং দিনের তাপমাত্রাও সামান্য কমতে পারে।
গভীর রাত এবং ভোরের দিকে কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশাসহ আবহাওয়া বেশিরভাগ শুষ্ক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে একটি মৌসুমী নিম্নচাপ ব্যবস্থা এবং উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে এর সম্প্রসারণ এই পরিস্থিতিতে অবদান রেখেছে, যা আরও সাধারণ শীতকালীন আবহাওয়ার রূপান্তরকে তুলে ধরে।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে কমছে তাপমাত্রা, বৃদ্ধি পাচ্ছে শীতের তীব্রতা
পাঁচ দিনের বর্ধিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, তাপমাত্রা আরও কমতে পারে, যা দেশজুড়ে শীতকে আরও তীব্র করে তুলবে।
মাঝারি শীতের সময় ডিসেম্বর
ডিসেম্বর বাংলাদেশের জলবায়ুর পরিবর্তন শুরু হয়। এই সময়টিতে শুষ্ক পরিস্থিতি, ঠান্ডা রাত এবং স্নিগ্ধ দিন থাকে।
আন্তর্জাতিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর মতে, বেশিরভাগ অঞ্চলে দিনের গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। এসময় রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে আসে।
ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেটের মতো শহরগুলোতে কম আর্দ্রতার মাত্রা এবং প্রচুর রোদ অনুভূত হয়। এর ফলে বাইরের কাজকর্ম এবং ভ্রমণের জন্য আবহাওয়া অনুকূল হয়।
আরও পড়ুন: শীতকালে গরম পানির গিজার: জনপ্রিয় ব্র্যান্ড, মডেল, ধরন ও দাম
ঢাকা: দিনের তাপমাত্রা সাধারণত ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করে থাকে।
চট্টগ্রাম: উপকূলীয় শহরটিতে হালকা শীতকালীন আবহাওয়া বিরাজ করে। তাপমাত্রা ১৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত থাকে।
সিলেট: পার্বত্য অঞ্চলের জন্য পরিচিত সিলেটে শীতকালীন আবহাওয়া অনুভূত হয়। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে আসে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য
বাংলাদেশে শীতকাল উৎসব ও কৃষিকাজের ঋতু। কৃষকরা এই সময়কে কাজে লাগিয়ে অনুকূল পরিবেশে ধান ও সবজি চাষ করে থাকেন।
শহর এবং গ্রামীণ অঞ্চলগুলো একইভাবে শীতল আবহাওয়াকে বরণ করে নেয়। আয়োজন করে মেলা, বিবাহ এবং বাইরের অনুষ্ঠানগুলো পুরোদমে চলছে।
তবে, শীতের রাত এবং সম্ভাব্য কুয়াশা ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়ের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে উত্তরের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা কম থাকে।
কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যেতে পারে এমন সময় ভ্রমণকারীদের ভোরের দিকে সাবধানতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বাসিন্দা এবং দর্শনার্থীদের জন্য পরামর্শ
আবহাওয়া অধিদপ্তর সন্ধ্যায় এবং ভোরের জন্য হালকা জ্যাকেট(গরম কাপড়) পরার পরামর্শ দেয়। আবহাওয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ থাকার পরামর্শ দেয় সংস্থাটি। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ দূরত্বে ভ্রমণ করেন তাদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
কক্সবাজার, সুন্দরবন এবং সিলেটের চা বাগানের মতো প্রধান ভ্রমণ গন্তব্যগুলো মনোরম আবহাওয়া এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের একটি অনাবিল পরিবেশ উপভোগ করতে আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীদের এই সময়ে বাংলাদেশ ঘুরে দেখতে উৎসাহিত করা হয়।
শীতের ঠান্ডা তীব্রতর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সাংস্কৃতিক উদযাপন এবং উত্তাপ থেকে বহুল প্রত্যাশিত অবকাশের ঋতুকে বরণ করতে প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন: শীতকালে নিরাপদে মোটরসাইকেল চালকদের প্রয়োজনীয় সেফটি গিয়ার ও পোশাক
৩৯৯ দিন আগে
কুড়িগ্রামে তীব্র ঠান্ডায় বীজতলা ও ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা
কুড়িগ্রামে ঘন কুয়াশা আর শীতের প্রকোপ দিন দিন বেড়েই চলছে। রাতভর বৃষ্টির মতো ঝরে পড়া কুয়াশা আর দিনের বেলা হিম বাতাসে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তীব্র ঠান্ডায় কাজ করতে পারছেন না শ্রমজীবীরা। কাজের ফাঁকে শুকনো খড় জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন শ্রমিকরা।
এদিকে তীব্র শীতে বোরো আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। কনকনে ঠান্ডার হাত থেকে রক্ষা পেতে অনেকে স্বচ্ছ সাদা রঙের প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রাখছেন বীজতলা। এমন বৈরি আবহাওয়ায় জমিতে চারা রোপণের সাহস পাচ্ছেন না কৃষকরা।
কথা হয় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙা গ্রামের কৃষক আনিছুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, বোরো আবাদের জন্য বীজতলার চারার পরিণত বয়স হয়েছে। কিন্তু প্রচণ্ড ঠান্ডা ও কুয়াশার কারণে জমিতে রোপণ করতে পারছি না। এদিকে বীজতলাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে প্লাস্টিক দিয়ে বীজতলা ঢেকে রেখেছি।
আরেক কৃষক মো. মন্তাজ আলী বলেন, যে শীত পড়ছে তাতে কৃষি আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। বিশেষ করে আলু খেত, বীজতলায় হিম ধরা শুরু করেছে। স্প্রে করতেছি কোনো কাজ হচ্ছে না। কী হবে আল্লাহ জানে।
আরও পড়ুন: তীব্র শীতে বোরো ধানের বীজতলা ও সবজির ক্ষতির আশঙ্কায় যশোরের কৃষকরা
শ্রমিক মো. রহমত আলী বলেন, ‘বাহে প্রচণ্ড ঠান্ডা পড়ছে। হাত পা টট্টরিয়া নাগছে (বরফ মত)। মাঠে এক-দেড় ঘণ্টা কাজ করলে আর কাজ করা যায় না। কাজের ফাঁকে আগুন তাপা নাগে। কী করমো কাজ না করলে পেটে কি ভাত জুটবে?’
কুড়িগ্রাম কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার অফিসের কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র বলেন, রবিবার জেলায় সকাল ৬টায় ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই-তিন দিন এমন তাপমাত্রা অব্যাহত থাকবে। তবে মাসের শেষে একটি শৈত্য প্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিপ্লব কুমার মোহন্ত বলেন, জেলায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে বীজতলা রয়েছে। ঘন কুয়াশা ও তীব্র ঠান্ডায় কৃষকদের বোরো আবাদে বিলম্বিত হচ্ছে। বীজতলা এখনও নষ্ট হওয়া শুরু করেনি। তবে তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকলে চারা খাদ্য গ্রহণ করতে না পারায় পাতা হলুদ হয়ে যায়। বীজতলা নষ্টের হাত থেকে বাঁচাতে কৃষকদের বাড়তি যত্ন ও ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: শৈত্য প্রবাহ থেকে ফসল রক্ষায় যে পরামর্শ দিল কৃষি মন্ত্রণালয়
৭২১ দিন আগে
তীব্র শীতে বিপর্যস্ত খুলনাঞ্চলের জনজীবন
তীব্র শীতে খুলনাঞ্চলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কনকনে ঠাণ্ডা আর ঘন কুয়াশাতে আচ্ছন্ন এ অঞ্চল। সূর্যও বেশ দেরিতে দেখা দিচ্ছে। দেখা দিলেও যেন কোনো তেজ নেই। এতে মানুষজন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) হঠাৎ করে রাতের তীব্র শীত মানুষের জন্য চরম ভোগান্তি নিয়ে আসে। কেননা, এর আগে এ বছর এতো মাত্রার শীত পড়েনি এ অঞ্চলে। এই শীতে অনেকটাই বিপর্যস্ত জনজীবন, বেশি ভুগছে বয়স্ক ও শিশুরা।
প্রচণ্ড ঠান্ডা, ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ নাকাল হয়ে পড়েছেন। কুয়াশার চাদর ভেদ করে দেরিতে সূর্য দেখা দিলেও কমছে না শীতের প্রকোপ। শীতবস্ত্রের অভাবে শীত থেকে মুক্তি পেতে অনেকে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: ঠান্ডা-শীতে কাবু চাঁদপুর, বিপাকে খেটে খাওয়া মানুষ
এদিকে উষ্ণতার জন্য গরম কাপড়ের কদর বেড়েছে। ভিড় দেখা গেছে শীতবস্ত্রের দোকানগুলোয়। বিভিন্ন বয়সের মানুষের শীতজনিত নানা রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ফলে হাসপাতালগুলোয় অসুস্থ রোগীর ভিড় বাড়ছে।
খুলনা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেন, খুলনায় আজকের তাপমাত্রা ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এ বছরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
তিনি আরও বলেন, ‘এ রকম তাপমাত্রা আরও ২ থেকে ৩ দিন থাকবে। ১৫ জানুয়ারির পর তাপমাত্রা একটু বাড়বে। তবে ২০ জানুয়ারি পর আবার তাপমাত্রা কমবে।’
উল্লেখ্য, আজ খুলনা বিভাগের চুয়াডাঙ্গা সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আরও পড়ুন: গোয়ালন্দে জেঁকে বসছে শীত, দুর্ভোগে পদ্মা পাড়ের মানুষ
৭২৪ দিন আগে
ঠান্ডা-শীতে কাবু চাঁদপুর, বিপাকে খেটে খাওয়া মানুষ
চাঁদপুর নদী উপকূলীয় ও চর এলাকায় জেঁকে বসেছে শীত। উত্তরাঞ্চলের মতোই কনকনে ঠান্ডা পড়েছে সেখানে। ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে জনজীবন অনেকটা স্থবির। এতে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষরা।
জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করে বের হতে হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষগুলোকে।
আরও পড়ুন: তীব্র শীতে বিপর্যস্ত লালমনিরহাটের জনজীবন
শুক্রবার(১২ জানুয়ারি) সকাল থেকেই উত্তরের হাওয়া বইতে শুরু করে। বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত সূর্যের তাপ ও আলো কিছুটা থাকলেও বাতাসের তীব্রতা আবারও বাড়তে থাকে। যার ফলে মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যাহত হয়। শহরের যানবাহন কমে যায়। লোকজনও বেশিরভাগ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হননি।
সন্ধ্যায় শহরের পালপাড়া সড়কের মুখে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে আগুন জালিয়ে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। শহরের ট্রাকরোডে দেখা গেছে শীতের গরম জামাকাপড় বিক্রি করছেন এক হকার। গত কয়েকদিন শীত থাকলেও বাতাস কম ছিল। আজকে বাতাসের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার কারণে শীতের কাপড়ের কদরও বেড়েছে।
আরও পড়ুন: গোয়ালন্দে জেঁকে বসছে শীত, দুর্ভোগে পদ্মা পাড়ের মানুষ
ট্রাকরোডের ওষুধ ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল বলেন, এ বছরের মধ্যে আজকে বেশি শীত পড়ছে। মূলত বাতাসের কারণে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে।
শহরের পুরান বাজার এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান জানান, মেঘনা পাড়ের লোকজন শীত খুবই নাজুক অবস্থা। আজকে উত্তরের বাতাসে মানুষের শীতের কষ্ট বেড়েছে।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁওয়ে জেকে বসেছে শীত, বিক্রি বেড়েছে হকার্স মার্কেটে
চাঁদপুর আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক শাহ মুহাম্মদ শোয়েব ইউএনবিকে জানান, চলতি শীত মৌসুমে আজকে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। আজকে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২০ দশমি ০৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আরও পড়ুন: শীতে কাহিল কুড়িগ্রামের মানুষ, হাসপাতালে বাড়ছে শিশুরোগী
৭২৫ দিন আগে
পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা বাড়লেও শীতের প্রকোপ কমেনি
উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে চারদিক। সকাল থেকে সূর্যের দেখা মেলেনি। হালকা হিমেল হাওয়া বইছে। তাপমাত্রা বাড়লেও শীতের প্রকোপ কমেনি।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে শুক্রবার সকাল ৯টায় ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়ছে।
বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই দিন সকাল থেকেই হালকা কুয়াশার সঙ্গে আকাশ মেঘে ঢাকা ছিল। সন্ধ্যায় এক পশলা বৃষ্টি হয়েছে। এরপর রাত থেকে এখন পর্যন্ত ঘনকুয়াশায় ঢেকে পড়েছে চারপাশ।
আরও পড়ুন: আবারও দেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ে
এদিকে, মেঘলা আকাশের পাশাপাশি টিপ টিপ কুয়াশা ঝড়ছে। তবে বৃহস্পতিবারে তুলনায় শুক্রবার তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও শীতের প্রকোপ কমেনি। ৩ থেকে ৫ নটিকেল মাইল বেগে বয়ে যাচ্ছে বাতাস।
অপরদিকে, শীতজনিত কারণে হাসপাতালগুলোতে বয়স্ক ও শিশু রোগীদের সংখ্যা বাড়ছে। জেলা প্রশাসন শীতবস্ত্র বিতরণ করলেও শীতার্তদের একটি বিরাট অংশ এখন পর্যন্ত শীতবস্ত্রের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
আরও পড়ুন: টানা ৩ দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ে
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র আবহাওয়া পর্যবেক্ষক জীতেন্দ্রনাথ রায় জানান, বৃষ্টির পর ঘনকুয়াশা হচ্ছে। আবারও শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। আকাশ পরিষ্কার হলে তাপমাত্রা আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে পারে।
১৪২৬ দিন আগে
কুড়িগ্রামে আবারও বেড়েছে শীতের দাপট
কুড়িগ্রামে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গত দু’দিনের বৃষ্টির পর কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসের দাপট বেড়েছে। তবে বৃষ্টি বন্ধ হলেও আকাশে মেঘাচ্ছন্ন দেখা যাচ্ছে।
রবিবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আরও পড়ুন: পঞ্চগড়ে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা
এদিকে, তীব্র ঠান্ডা বাতাসের কারণে বাইরে লোক চলাচল কমে গেছে। হাট-বাজারগুলোতেও লোক সমাগম নেই বলেই চলে। তবে কর্মমুখী মানুষদের ঠান্ডা উপেক্ষা করে কর্মক্ষেত্রে বের হতে হচ্ছে। এছাড়া শীতের তীব্রতার কারণে দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষরা দুর্ভোগে পড়েছেন।
আরও পড়ুন: সূর্যের দেখা মিলছে না, পঞ্চগড়ে শৈত্যপ্রবাহ
কুড়িগ্রাম রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান জানান, গত দু’দিনের গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে যাবে। রবিবার জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর শনিবার ছিল ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
১৪৩০ দিন আগে