আশ্রয়ণ
চান্দিনায় আশ্রয়ণের এক তৃতীয়াংশ ঘরে নেই ভূমিহীন, বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ
ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় কুমিল্লার চান্দিনায় নিমার্ণ করা অনেক ঘরের বরাদ্দ নিয়ে কেউ থাকছেন না। অভিযোগ আছে, বরাদ্দের সময় বিভিন্ন মহলের তদবিরে কিছু সংখ্যক মানুষ ঘর বাগিয়ে নিয়েছেন। ফলে বঞ্চিত হয়েছেন প্রকৃত ভূমিহীনরা।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের পরিত্যক্ত ওইসব ঘরে এখন মানুষের পরিবর্তে কোথাও লাকড়ির স্তুপ আবার কোথাও রয়েছে হাঁস-মুরগী! কেউ আবার ঘরের বৈদ্যুতিক তারসহ গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম নিয়ে হয়েছন উধাও। বরাদ্দকৃত ঘরের এক তৃতীয়াংশই এখন ফাঁকা পড়ে আছে। এমতাবস্থায় তাদের বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত গৃহহীনদের নামে বরাদ্দ দিতে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।
আরও পড়ুন: ড্যাপ ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় সংশোধন চান আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পতিত আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৮ সালে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ হাতে নেয়। ওই কর্মসূচির আওতায় সরকারি খাস জমিতে নির্মাণ করা হয় দৃষ্টিনন্দন পাকা ঘর। এসব ঘরে সংযুক্ত শৌচাগাড় সুবিধা এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হয়। জমির বন্দোবস্তসহ আশ্রয় দেওয়া হয় গৃহহীনদের।
ওই কর্মসূচির আওতায় কুমিল্লার চান্দিনায় পাঁচ ধাপে উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের ভোমরকান্দি, কেরণখাল ইউনিয়নের ছয়ঘড়িয়া, বাড়েরা ইউনিয়নের বাড়েরা, মহিচাইল ইউনিয়নের অম্বরপুর গ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে ২১৬টি গৃহ নির্মাণের মধ্য দিয়ে প্রতিটি ঘরে গৃহহীনদের আবাসন নিশ্চিত করা হয়। কিন্ত পরবর্তীতে ওই ঘরগুলোর অকেগুলোতে থাকছেন না অনেক পরিবার। ঘর বরাদ্দপ্রাপ্ত সুবিধাভোগীরা কেউবা কর্মের তাগিদে পরিবার নিয়ে শহরে থাকেন, আবার কেউবা ঘর বরাদ্দ নিয়ে পূর্বের ঠিকানায় ফিরে গেছেন। এর আগে বরাদ্দ পেতে রাজনৈতিক বিবেচনায় তদবির, উপজেলা প্রশাসনের দপ্তরের চাকুরির সুবাদে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সুপারিশ, আবার কেউ কেউ টাকার বিনিময়ে বরাদ্দ নেন ওইসব ঘরের।
উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের ভোমরকান্দি গ্রামের খাস জমিতে একত্রে ৪০টি ঘর নির্মাণ করে সেখানে ৪০টি পরিবারকে আশ্রয় দেওয়া হয়। গত শনিবার (৮ মার্চ) দুপুরে সরজমিনে দেখা যায়, সেখানকার ৫, ৭, ১১, ১৪, ২৪, ২৯, ৩০, ৩৫, ৩৬ ও ৪০নম্বর ঘরগুলোর কোনোটিতে তালা ঝুলছে, আবার কোনটির দরজা খোলা ফেলেই চলে গেছে বরাদ্দপ্রাপ্তরা। তালাবদ্ধ ঘরগুলোর কোনটির সামনে রয়েছে পাশের ঘরের বাসিন্দাদের লাকড়ি ও পাতার স্তুপ। আর দরজা খোলা রেখে ফেলে যাওয়া ঘরগুলোর ভিতরে রয়েছে পাশের ঘরের বাসিন্দাদের লাকড়ি, খড়কুটো। আবার কোনোটিতে হাঁস মুরগি পালন করা হচ্ছে। সেখানকার ৪০ নম্বর ঘরটি যার নামে বরাদ্দ ওই ব্যক্তি ঘর বরাদ্দ পাওয়ার কয়েকদিন পর ঘরের বৈদ্যুতিক তারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র খুলে নিয়ে গেছে। কোনো কোনো ঘরে দুই বছরেও কোন মানুষ বসবাস না করায় বকেয়া বিলের দায়ে বৈদ্যুতিক লাইন বিচ্ছিন্ন করেছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। আবার কোনো ঘরে একদিনও বৈদ্যুতিক আলো না জ্বলায় দুই বছরে মিটার রিডিং শুন্যের কোঠায়!
রবিবার (৯ মার্চ) উপজেলার কেরণখাল ইউনিয়নের ছয়ঘড়িয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশে এক সঙ্গে ৩০টি গৃহ নির্মাণ করে সেগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়। বর্তমানে সেখানে ১৬টি পরিবার স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও ১০টি পরিবারের কোনো খোঁজ নেই। ৪টি ঘরে প্রকৃত বরাদ্দপ্রাপ্তর না থাকলেও বাস করছেন অন্যরা।
আরও পড়ুন: সংশোধিত ড্যাপ বাতিলের দাবি আবাসন ব্যবসায়ীদের, আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে মনে করছেন পরিকল্পনাবিদরা
অভিযোগ রয়েছে উপজেলা প্রশাসনে অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকুরি করার সুবাদে লাইলি বেগম ঘর বরাদ্দ নিয়ে এ পর্যন্ত ওই ঘরে বসবাস করেননি। সুবিধাভোগী রিকশাচালক সুজন ঘর বরাদ্দ নিয়ে একদিনও থাকেনি।
লাইলি বেগম জানান, আমি মাঝে মধ্যে ওই ঘরে যাই। আর আমার মামার বাড়ি চান্দিনা উপজেলা সদরের মহারং গ্রামে, বেশির ভাগ সময় সেখানেই থাকি।
একই দিন শুহিলপুর ইউনিয়নের শুহিলপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় ৮টি ঘরের মধ্যে ১টিতে বাসিন্দা নেই। ঘর বরাদ্দ পাওয়া বিমল শুরু থেকেই থাকছেন ওই ঘরে। অম্বরপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ২৫ ঘরের মধ্যে ৯টি ফাঁকা পড়ে আছে।
ভোমরকান্দি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ওসমান গণি জানান, সে সময়ে ঘরগুলো এলোমেলোভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এক গ্রামের বা এক ইউনিয়নের বাসিন্দাকে অন্য গ্রামে অন্য ইউনিয়নে ঘর দেয়। যে কারণে অনেকেরই কোনো কাজ কর্ম নেই। এখানে অনেকে কর্ম না পেয়ে বাধ্য হয়ে অন্যত্র চলে গেছে।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের একাধিক বাসিন্দা জানান, সে সময়ে (যখন ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়) চেয়ারম্যান মেম্বারসহ রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশে অনেক ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। যাদের বাড়িতে জায়গা আছে, বা যারা চান্দিনাতে থাকেন না—এমন লোকদেরকেও ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওইসময়ে প্রকৃত ভূমিহীন অনেকেই ঘর বরাদ্দ পায়নি। বর্তমানে সবগুলো ঘর যাচাই-বাছাই করে যারা ঘরে থাকছে না বা যাদের নিজস্ব জায়গা থাকার পরেও ঘর বরাদ্দ নিয়েছেন— তাদের বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত ভূমিহীনদের তালিকা করে ঘরগুলো বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ জানান তারা।
আরও পড়ুন: গণভবনে জাদুঘরের পাশাপাশি শহীদদের পরিবারের আবাসনের প্রস্তাব পার্থর
১৬ দিন আগে
আশ্রয়ণ: বাগেরহাটে শেফালীসহ ৪৫ পরিবারের স্বপ্ন পুরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী
দীর্ঘ ৪০ বছরের সংসার জীবনে শেফালী দাসের বসতঘর কমপক্ষে ২০ বার গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে অথবা ভাঙা পড়েছে। রাস্তার পাশে আবার কখনো বা নদীর চরে বা অন্যের জমিতে ঝুপড়ি ঘর বেঁধে বসতি গড়ে ওই নারী। স্বামী আর তিন মেয়েকে নিয়ে এইভাবে সংসার চলছিল ৬০ বছর বয়সী ভূমিহীন শেফালী দাসের।
নিজেরা স্থায়ীভাবে একটি ঘর তৈরি করে বসবাস করবে এমন স্বপ্ন দেখেছিল ওই পরিবারটি। বাগেরহাটের রামপালের গৌরম্ভা আশ্রয়ণ প্রকল্পে শেফালী দাসকে জমিসহ ঘর দিয়ে তার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পুরণ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
নতুন ঘরের খুঁশিতে আত্মহারা শেফালী দাস আনন্দ অশ্রু ঝড়ালেন। এখন তিনি স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন। মুজিববর্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য জমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রমের ৩য় পর্যায়ের ২য় ধাপে গৌরম্ভা আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৪৫টি পরিবার জমিসহ গৃহ পাচ্ছেন।
শুধু শেফালী দাস নয়, গৌরম্ভা আশ্রয়ণ প্রকেল্পর বাসিন্দা বিউটি সরকার, তাসলিমা বেগম, সাবেরা বেগম, ফুলজান বেগম, আফরোজা বেগম, ইব্রাহিম হাওলাদার এবং ইউনুছ তালুকদারসহ সবার জীবনের গল্প প্রায় একই রকম। ভূমিহীন ওই সব পরিবারগুলোর নদীর চরে, কখনো অন্যের জমিতে ঝুঁপড়ি ঘরে তাদের জীবন চলছিল। সবার স্বপ্ন ছিল একখন্ড জমিতে তাদের নিজেদের ঘর হবে। কিন্তু ভূমিহীন ওই সব পরিবারের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ছিল না। মুজিব শতবর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে জমি ও গৃহ পেয়ে এসব ভূমিহীনদের স্বপ্ন পুরণ হচ্ছে।
পড়ুন: স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারের ব্যাপক পরিকল্পনা
৯৮৪ দিন আগে
দেশে কেউ গৃহহীন থাকবে না : মনজুর হোসেন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লক্ষ্য হচ্ছে দেশের প্রত্যেকটি পরিবারের বাসস্থান নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুর হোসেন। তিনি বলেন, দেশে কেউ গৃহহীন থাকবে না। আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকারভোগীদের দ্বায়িত্ব হচ্ছে তাঁদের সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।
শুক্রবার দুপুরে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের চর কাতলাসুর গ্রামে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ স্বপ্ননগরের বাসিন্দাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মনজুর হোসেন এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুনঃ ফরিদপুরে আশ্রয়ণের সুবিধা ভোগীদের অন্যরকম ঈদ
এসময় তিনি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদেরকে বাল্যবিয়ে পরিহারসহ সামাজিক উন্নয়নে সচেতন থাকার অনুরোধ জানান। মনজুর হোসেন বলেন, ‘আপনাদের বাসস্থান গড়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই আশ্রয়ের পরিবেশকে সুন্দর রাখতে হবে আপনাদেরই। নইলে এর জন্য আপনাদেরই কষ্ট পোহাতে হবে।‘
এসময় তিনি আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় জেলা প্রশাসক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং বৃক্ষরোপণ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আলফাডাঙ্গার 'স্বপ্ননগর' নামের এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে ২৫০টি ঘর তৈরি করা হয়েছে। এখানে বাসিন্দাদের জন্য স্কুল, খেলার মাঠ, ইকো পার্ক, মসজিদ, ঈদগাহ, মন্দির, কবরস্থান, শ্মশান, প্রস্তাবিত কমিউনিটি ক্লিনিক, হাট, ৩৮টি নলকূপ স্থাপন করা হবে। পর্যায়ক্রমে এসব বাস্তবায়ন করা হবে।
আরও পড়ুনঃ খুলনার আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পেয়ে খুশি গৃহহীন পরিবারগুলো
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পে যেসব বাসিন্দা তাঁদের সন্তানদের পড়াশোনার প্রতি লক্ষ্য রাখবেন, যারা পরিবেশের উন্নয়নে ভুমিকা রাখবেন তাঁদেরকে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে। এছাড়া তিনি সেখানকার নারীদের সমিতি গড়ে বিভিন্নভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠার পরামর্শ দেন।
মতবিনিময় সভায় ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার, আলফাডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম জাহিদুল হাসান জাহিদ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওহিদুজ্জামান, পৌর মেয়র সাইফুর রহমান সাইফার, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ দেলোয়ার হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান আহাদুল হাসান আহাদ, ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাইফুল কবির ও ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।
১৩৩২ দিন আগে
ফরিদপুরে আশ্রয়ণের সুবিধা ভোগীদের অন্যরকম ঈদ
ফরিদপুরের সদরপুরের শত স্বপ্ননীড় থেকে আলফাডাঙ্গার স্বপ্ননগর; জেলার নয়টি উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর অধীনে নির্মিত প্রত্যেকটি ঘর যেন ভূমি ও গৃহহীন মানুষের কাছে এক স্বপ্নের ঠিকানা, পরম নির্ভরতায় স্থান। তাই তো এবারে্র ঈদ তাদের কাছে বড়ই আনন্দের ।
মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের জমিসহ ঘর পেয়েছেন বোয়ালমারীর চতুল ইউনিয়নের সুকদেবনগর গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী বিধবা নারী রাহেলা বেগম।
আরও পড়ুনঃ খুলনার আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পেয়ে খুশি গৃহহীন পরিবারগুলো
তিনি জানালেন, ‘আমার ইট্টু জমি হবে, একখান ঘর হবে, এই কথা স্বপ্নেও ভাবি নাই। তয় এইবার আল্লা মুখ তুইল্যা তাকাইছে। মাইয়াগো নিয়্যা জীবনে এই পথমবারের মতো এট্টা ঈদ করবো নিজের ঘরে! আমি অহন নিজের এট্টা ঠিকানা পাইছি।’
ফরিদপুর জেলা প্রশাসন অফিস সূত্রে জানা যায়, এবছর প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত ৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ হাজার ৬০৭ ভূমিহীন ছিন্নমূল পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। আর ওই ঘরের জমিও তাদের নামে কবুলিয়াত দলিল রেজিস্ট্রি করে দেয়া হয়েছে। এখনও সামান্য কিছু ঘরের কাজ বাকি আছে। অনেক ঘরে এরই মধ্যে বরাদ্দপ্রাপ্তরা উঠে পড়েছেন।
আরও পড়ুনঃ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মিত নিউচর আশ্রয়ণ প্রকল্প হস্তান্তর
বোয়ালমারীর সুকদেবনগর গ্রামের ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পের আরেকটি ঘরের মালিক আব্দুস সামাদ শেখের স্ত্রী সালেহা বেগম বলেন, ‘আমাগের মতো গরীবের জীবনতো পথে পথেই শ্যাষ হইয়্যা যায়। কেউ হয়তো বিপদের সময় চাইল, ডাইল, কাপড় দেয়; কিন্তু জমির সাথে ঘর দিয়ার কথা শুনি ন্যাই। আমাগো শেখ হাসিনা আমাগের জন্য এই ব্যবস্থা কইরা দিছে। আমরা তাঁর প্রতি চিরদিনের জন্য কৃতজ্ঞ। আল্লাহ উনারে আরও অনেকদিন বাঁচায় রাখুক।’
জেলার সদর উপজেলার কানাইপুরে ইব্রাহিমদি গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে সাতটি সাড়িতে ২৮টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ঘরগুলোতে এরই মধ্যে অনেকেই মালামাল নিয়ে বসবাস শুরু করেছেন। ঘরের পাশের জমিতে এরই মধ্যে নানাজাতের ফুলের গাছসহ ফলজ ও বনজ গাছ রোপণ করেছেন অনেকে।
আরও পড়ুনঃ মধুখালীতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের পিলার ভাঙচুর
১৩৫০ দিন আগে
মধুখালীতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের পিলার ভাঙচুর
ফরিদপুরের মধুখালীতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের-১ ও ২ এর আওতায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে নির্মানাধীন ঘরের পিলার ভেঙে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। ‘মুজিববর্ষে একজন লোকও গৃহহীন থাকবে না’ -এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আশ্রয়ণ প্রকল্প হাতে নেয় সরকার।
রবিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার মেগচামী ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের কালিনগর এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের নির্মাণাধীন পাঁচটি ঘরের মধ্যে একটি ঘরের দুটি পিলার দূর্বৃত্তরা ভেঙে ফেলে। এই ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
আরও পড়ুনঃ শাল্লায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে ফাটল
এই ঘটনায় সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও থানা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
ভেঙে ফেলা ঘরের সুবিধাভোগী অখিল মন্ডল (৪৮) জানান, রবিবার রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে চার থেকে পাঁচজন যুবক এসে নির্মাণাধীন ঘরের কাছে গিয়ে বলে আমরা ফরিদপুর থেকে এসেছি, ঘরগুলো ভালো করে তৈরি হচ্ছে না, তাই এগুলো ভাঙতে হবে। পরে ভালো করে তৈরি করে দিব, একথা বলতে বলতে দুটি পিলার ভেঙে ফেলে তারা। রাতে বিষয়টি বুঝে উঠতে না পেরে সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে পড়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোস্তফা মনোয়ার জানান, সরকারের অগ্রাধিকার আশ্রয়ণ প্রকল্পের-১ ও ২ এর আওতায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে নির্মাণাধীন মেগচামী ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে অখিল মন্ডলসহ পাঁচজনের জন্য পাঁচটি ঘর নির্মাণ চলমান রয়েছে। সকালে জানতে পারি কে বা কারা রাতের বেলায় দুটি পিলার ভেঙ্গে ফেলেছে। বিষয়টি ঊদ্ধর্তনদের জানানো হয়েছে। আমারা মামলার জন্য থানায় অভিযোগ দাখিল করবো।
আরও পড়ুনঃ খুলনার আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পেয়ে খুশি গৃহহীন পরিবারগুলো
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জানান, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এই ঘরগুলোর দিকে নজর রাখা হচ্ছে। সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য একটি কুচক্রী মহল এ ঘটনা ঘটাতে পারে। কোন অন্যায়কারীকে ছাড় দেয়া হবে না। বিষয়টি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মধুখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রথীন্দ্রনাথ তরফদার জানান, ঘটনাস্থল পরির্দশন করা হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে। অভিযোগ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
১৩৫৭ দিন আগে
শাল্লায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে ফাটল!
মুজিব জন্ম শতবর্ষে প্রধানমন্ত্রী নিজ উদ্যোগে দেশের আশ্রয়হীনদের আশ্রয় দিতে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প হাতে নিয়ে একযোগে সারা দেশে লক্ষাধিক ঘর নির্মাণ করেছেন। যা বিশ্বব্যাপী আজ নন্দিত। কিন্তু ভাটির জেলা সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত শাল্লা উপজেলায় দেখা গেছে অন্য চিত্র।
আরও পড়ুনঃ নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে পড়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর
নির্মিত প্রায় প্রতিটি ঘরেই দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। অনেক সুবিধাভোগীরা জানিয়েছেন ঘর পেয়ে তাদের নানান অসুবিধার কথা।
উপজেলার বাহাড়া (সদর) ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামে বুধবার ৭ জুলাই বিকেলে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই গ্রামে নির্মিত ঘরগুলোর অনেক ঘরেই দেখা দিয়েছে বিশাল বড় বড় ফাটল ও মেঝে ভাঙ্গা, টয়লেট ভাঙ্গাসহ নানা ত্রুটি।
আরও পড়ুনঃ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মিত নিউচর আশ্রয়ণ প্রকল্প হস্তান্তর
সুবিধাভোগীদের মধ্যে আব্দুল গনি মিয়া নামে এক ব্যক্তি জানান, ঘর পেতে আমাকে অনেক কষ্ট পোহাতে হয়েছে। পাশাপাশি নিজের হাত থেকে নগদ টাকাও ব্যয় করতে হয়েছে।
ওই গ্রামের খায়রুল মিয়ার স্ত্রী পাখি বেগম বলেন, ঘর পেয়ে আমরা এখন বিপদে আছি। আমার স্বামী একজন দিন মজুর। ঘরের জন্য সারা বছর কোনো কাজ করতে পারেনি। ঘর পেয়ে আমাদের আরও ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা ধারকর্জ করতে হয়েছে। তারপরও ঘরে বিশাল বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। যে কোনো সময় ভেঙ্গে আমাদের ওপর পরতে পারে।
আরও পড়ুনঃ খুলনার আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পেয়ে খুশি গৃহহীন পরিবারগুলো
ঘর প্রাপ্ত সুবিধাভোগীদের অনেকেই বলেন, নিম্নমানের মালামাল দিয়ে ঘর নির্মাণ করায় আজ এ অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। তারা আরও জানান যে, তারা এসব নিম্নমানের মালামাল দিয়ে ঘরের কাজ করতে নিষেধ করলে কেউ তাদের কথা শুনেননি।
এ নিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও উপজেলা সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্য সচিব শেখ মোঃ ফজলুল করিমের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমি এখনই ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলছি, দেখি কি করা যায়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মুক্তাদির হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ‘ এসব ঘরগুলোর অবস্থা আমিও দেখেছি, এগুলো মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় মালামাল সংগ্রহ করছি। তাড়াতাড়িই এসব ঘর মেরামত করে দেবো।
১৩৬১ দিন আগে
আশ্রয়ণ: হাটিকুমরুলে স্থায়ী ঠিকানা পেয়ে উৎফুল্ল তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়
তৃতীয় লিঙ্গের হওয়ার কারণে মাত্র নয় বছর বয়সে পরিবার এবং সমাজের ঠাঁই হারাতে হয় কলিকে। সেই থেকে স্থায়ী ঠিকানাহীন হয়ে অনেক কষ্ট করে গত ১৬ বছর ধরে ভাড়া বাড়িতে থাকতে হয়েছে তাকে।
১৫০৬ দিন আগে
নেত্রকোনায় আশ্রয়ণের ঘরে ২য় সপ্তাহেই ফাটল, তদন্ত কমিটি গঠন
আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় পূর্বধলা উপজেলার ধলা এলাকায় ভূমিহীনদের সরকারের দেয়া বেশ কয়েকটি ঘরের মেঝে ও দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। কারণ জানতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
১৫০৯ দিন আগে