মিরপুর
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা: দ্রুত তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ দাবি সিএসও অ্যালায়েন্সের
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে তিন শতাধিক বেসরকারি ও নাগরিক সংগঠনের জাতীয় জোট সিএসও অ্যালায়েন্স।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানায় সংগঠনটি। এতে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০০ থেকে ২৫০ জনের একটি দল ক্লিনিকের নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে টিকা, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও নগদ টাকা লুট করে। পরে ভারী যন্ত্র দিয়ে কেন্দ্রের ভবনগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সিএসও অ্যালায়েন্স রাড্ডার কর্মী ও কেন্দ্রটির ওপর নির্ভরশীল সব পরিবারের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে।
রাড্ডা মিরপুরভিত্তিক একটি এনজিও স্বাস্থ্যকেন্দ্র। ১৯৭৪ সালে রাড্ডা বার্নেনের (সেভ দ্য চিলড্রেন সুইডেন) উদ্যোগে এর যাত্রা শুরু হয়। পাঁচ দশক ধরে সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বে প্রতিষ্ঠানটি দরিদ্র মা ও শিশুদের টিকা, মাতৃস্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় দফা শুরুর ঠিক আগে মিরপুর-১-এর ক্লিনিকটিতে হামলা হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ত্রিপলের অস্থায়ী তাঁবুতে শিশুদের টিকা দেওয়া চালিয়ে গেলেও বেশির ভাগ সেবা বন্ধ রাখতে হয়েছে।
সিএসও অ্যালায়েন্স বলেছে, দেশের মানুষ প্রত্যাশা করেছিল নবনির্বাচিত সরকার মব সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি থেকে আরও বেশি সুরক্ষা দেবে এবং কার্যকর বিচার নিশ্চিত করবে। কিন্তু এসব সমস্যা এখনও চলছে এবং রাড্ডায় হামলা সেই চলমান উদ্বেগের আরেকটি উদাহরণ। জমি নিয়ে বিরোধের মীমাংসা আইনি প্রক্রিয়ায় হতে হবে, মাঝরাতে শক্তি প্রয়োগ করে নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সেবা প্রদানে সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওর অংশীদারত্ব আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকার ওপর নির্ভরশীল। স্বাস্থ্য খাতে এনজিওগুলো দীর্ঘদিন রাষ্ট্রের পাশে থেকে কাজ করছে।
স্বাধীনতার ৫০ বছরে নাগরিক সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে সিএসও অ্যালায়েন্সের গবেষণার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, ১৯৮৫ সালে মাত্র ২ শতাংশে থাকা শিশুদের টিকাদান বাড়াতে এই অংশীদারত্ব ভূমিকা রেখেছে। সর্বশেষ ইপিআই কাভারেজ ইভ্যালুয়েশন সার্ভে-২০২৩ অনুযায়ী, দেশে পূর্ণ টিকাপ্রাপ্ত শিশুর হার এখন ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ। চাঁদাবাজি, ভাঙচুর ও দখলবাজি থেকে সবার আইনি সুরক্ষা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করা হয়।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের ঘোষণা এবং মালিকানার প্রশ্ন আদালতে নিষ্পত্তি ও টিকাদান চালু রাখার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আশ্বাসকে স্বাগত জানিয়েছে সিএসও অ্যালায়েন্স।
সংগঠনটি সরকারের কাছে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে হামলার পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও অংশগ্রহণকারীদের শনাক্ত করতে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত এবং তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের তদন্তের ফলাফল ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থার তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাড্ডার ক্লিনিক যাতে নিরাপদে কাজ চালাতে পারে, সেই নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি টিকাদানসহ অন্যান্য সেবা ত্রিপলের তাঁবু থেকে একটি নিরাপদ অস্থায়ী কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে সহায়তা এবং লুট হওয়া টিকা ও সামগ্রী প্রতিস্থাপনের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এতে ৩১ অক্টোবর শেষ হতে যাওয়া হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন থেকে এলাকার কোনো শিশু বাদ না পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া চাঁদাবাজি, ভাঙচুর ও দখলবাজি থেকে সব স্বাস্থ্যকেন্দ্র, এনজিও ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দেওয়া এবং যেকোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলাকে জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে গণ্য করার দাবি জানিয়েছে সিএসও অ্যালায়েন্স।
সিএসও অ্যালায়েন্স কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষে বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সহ-আহ্বায়ক ও ব্লাস্টের অনারারি নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন, সহ-আহ্বায়ক ও ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্, কোষাধ্যক্ষ ও কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের উপদেষ্টা শিব নারায়ণ কৈরী।
অ্যালায়েন্সের সদস্যদের মধ্যে স্বাক্ষর করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, ওয়াটারএইডের আঞ্চলিক পরিচালক (দক্ষিণ এশিয়া) হাসিন জাহান, নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. এ কে এম মুসা ও ব্র্যাকের সিনিয়র ডিরেক্টর কে এ এম মোর্শেদ এবং সদস্যদের সমন্বয়ক ও আইআইডির নির্বাহী প্রধান সাঈদ আহমেদ।
১ দিন আগে
মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর-লুট: গ্রেপ্তার ৯, ওসি প্রত্যাহার
রাজধানীর মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় পুলিশ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় লুট হওয়া মালামালভর্তি দুটি ট্রাকও উদ্ধার করা হয়েছে।
পাশাপাশি এ ঘটনায় শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া ও জনসংযোগ) আকতার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রশাসনিক কারণে ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শাহ আলী থানার একটি দল বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি থেকে লুট হওয়া চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য মালামালভর্তি দুটি ট্রাক উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে গ্রেপ্তারদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রায় ২৫০ জনের একটি মুখোশধারী দল মিরপুর-১ এলাকায় ৫০ বছরের পুরোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে ভাঙচুর চালিয়ে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, সরকারি নথিপত্র ও নগদ অর্থ লুট করে এবং অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠানটির জায়গা দখলে নেয়। পরে এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় একটি মামলা করা হয়।
১ দিন আগে
মিরপুরে ইটের আঘাতে আহত সেই সাজিদ মারা গেছেন
রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় চলন্ত মোটরসাইকেলে ছোড়া ইটের আঘাতে গুরুতর আহত আরোহী সাজিদ চৌধুরী রাফি (২১) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
সোমবার (২২ জুন) সকাল ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো সাজ্জাদ হোসেন জানান, মোটরসাইকেলচালক সাজিদ চৌধুরী রাফি আজ (সোমবার) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন— প্রধান আসামি মো. পারভেজ, ফয়সাল ওরফে কালু এবং আনোয়ার হোসেন বাবু।
মৃত রাফির চাচা মো. নুর হোসেন চৌধুরী জানান, ঘটনার দিন রাফিকে প্রথমে শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন ১০ জুন তাকে ঢামেক হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। প্রায় ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সেখানে তার মৃত্যু হয়।
এর আগে, ৯ জুন দিবাগত রাত রাত সোয়া ১টার দিকে পূর্ব শেওড়াপাড়া দিয়ে মোটরসাইকেলে বাসায় ফিরছিলেন রাফি। আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একজন তাকে থামার সংকেত দেন। তিনি না থামলে আরেকজন চলন্ত মোটরসাইকেলে ইট ছুড়ে আঘাত করেন। এতে রাফি রাস্তায় পড়ে যান। এ সময় দিয়ে আঘাতকারী ব্যক্তি চিৎকার করে বলেন উপর থেকে রাফির ওপরে ইট পড়েছে। তাকে হাসপাতালে নিতে হবে। তিনি নিজেই ইট দিয়ে রাফিকে আঘাত করে তাকে গুরুতর আহত করার পর চিৎকার করে আশপাশের লোকজনের কাছে সাহায্য চান। পরে রাফিকে একটি অটোরিকশায় করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই এটিকে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনা বলে মনে করেছিলেন। পুলিশও প্রথমে সেই দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তবে তদন্তের পরে উঠে আসে ভিন্ন তথ্য।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, হামলাকারীরা রাফির পূর্বপরিচিত। ঘটনার দিন রাফি একা মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত কালু, পারভেজসহ কয়েকজন সহযোগী ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন। রাফিকে একা পেয়ে তারা তাকে আটকের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে কালু তাকে থামাতে ব্যর্থ হলে সামনে অবস্থান নেওয়া পারভেজ একটি বড় ইটের টুকরো দিয়ে রাফির মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে অভিযুক্তরাই আহত রাফিকে প্রথমে সোরাওয়ার্দী হাসপাতাল ও পরে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান।
৯৮ দিন আগে
মিরপুরে মাদ্রাসার সাইনবোর্ড টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ ৩
রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর এলাকায় আশরাফুল উলুম মাদ্রাসায় সাইনবোর্ড টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক শিক্ষক ও ২ ছাত্র দগ্ধ হয়েছেন।
রবিবার (১৪ জুন) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুপুরে তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।
দগ্ধরা হলেন—মাদ্রাসার শিক্ষক মো. সালমান (২৬), শিক্ষার্থী মো. মারুফ (১২) ও খাইরুল ইসলাম (১৪)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান।
তিনি জানান, আজ (রবিবার) দুপুরে মারুফ শরীরে ১৮ শতাংশ দগ্ধ, সালমান শরীরে ২ শতাংশ দগ্ধ এবং খাইরুল ইসলাম শরীরে ৩ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে হাসপাতালে জরুরি বিভাগে আনা হয়। দগ্ধের পরিমাণ কম থাকায় তাদের মধ্যে আমরা ২ জনকে জরুরি বিভাগে পর্যক্ষেণে রেখেছি। মো. মারুফকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে আহত মারুফের বড় ভাই মান্নান জানান, সকালে মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক দুই ছাত্র ও একজন শিক্ষককে সাইনবোর্ড টাঙানোর দায়িত্ব দেন। এ সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে তারা তিনজনই দগ্ধ হন।
পরে আমরা খবর পেয়ে দ্রুত তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসি।
১০৬ দিন আগে
মিরপুরে গ্যাস লাইনের সামনে সিগারেট খাওয়ার সময় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৩
রাজধানীর মিরপুরের পাইকপাড়ায় গ্যাস লাইনের লিকেজের সামনে সিগারেট খেতে গিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনজন দগ্ধ হয়েছেন।
শনিবার (৬ জুন) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।
দগ্ধরা হলেন— মিরাজ (২৬), সুজন (২৪) ও বিপ্লব (২৪)।
দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান।
তিনি জানান, আজ ভোরের দিকে তিন যুবক মিরপুরের পাইকপাড়া এলাকায় সিগারেট খাওয়ার সময় লাইনের গ্যাস থেকে লিকেজের ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে মিরাজের শরীরে ১৫ শতাংশ, সুজনের শরীরে ২৪ শতাংশ দগ্ধ এবং বিপ্লবের শরীরে ১০ শতাংশ দগ্ধ রয়েছে। আমরা ৩ জনকেই হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখেছি।
১১৪ দিন আগে
মিরপুরে অজ্ঞাত দ্রুতগামী গাড়ির ধাক্কায় যুবক নিহত
রাজধানীর মিরপুরে অজ্ঞাত দ্রুতগামী এক গাড়ির ধাক্কায় সজীব (২৮) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১৮ মে) দুপুর পৌনে ১টার দিকে পল্লবী থানার সাগুপ্তা মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালেরর জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা তানভীর জানান, নিহত সজীব বিভিন্ন জায়গায় কন্ট্রাকে গ্রিলের কাজ করতেন। তার ওয়ার্কসপ মোহাম্মদপুরে। আজ (সোমবার) সকালের দিকে পল্লবীর সাগুপ্তা মোড় এলাকায় রাস্তা পারাপার সময় অজ্ঞাত দ্রুতগামী গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। পরে আমরা খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসলে ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টার (ওসেকে) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, নিহত সজীব ঢাকার কেরানীগঞ্জের মহিউদ্দিনের ছেলে ছিলেন। পরিবার নিয়ে থাকতেন তিনি। অল্প কিছুদিন আগে তিনি বিয়ে করেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
১৩৩ দিন আগে
মিরপুরে বিএইউপিতে এসি বিস্ফোরণে দগ্ধ ৪
ঢাকার মিরপুরে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের তৃতীয় তলায় এসি মেরামতের কাজ করার সময় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডে চারজন দগ্ধ হয়েছেন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়েছে।
দগ্ধরা হলেন— মো. আল মামুন (৩৪), মোহাম্মদ সেলিম (৩০), মো. রাসেল (৪৫) ও সুজন (৩১)। তারা চারজনই এসি মেরামতকারী মিস্ত্রি।
আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসা তাদের সহকর্মী ওমর ফারুক জানান, আজ (বুধবার) দুপুর পৌনে ১টার দিকে বিইউপির একাডেমিক ভবনের তৃতীয় তলায় এসি মেরামতের সময় হঠাৎ শর্ট সার্কিট থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে এসি মেরামতকারী চারজন দগ্ধ হন। পরে আমরা তাদের দগ্ধ অবস্থায় বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসি। বর্তমানে জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা চলছে।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, মিরপুর এলাকা থেকে এসি বিস্ফোরণের ঘটনায় চারজন দগ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে তাদের ড্রেসিং চলছে। তাই এই মুহূর্তে দগ্ধের পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। ড্রেসিং সম্পন্ন হলে তা জানা যাবে।
১৭৩ দিন আগে
মিরপুরের বাসায় ঝুলছিল শিক্ষার্থীর মরদেহ
রাজধানীর মিরপুর এলাকার একটি বাসায় সানজানা ইসলাম মিম (১৯) নামে এক শিক্ষার্থীর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি মিরপুরের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল ও কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান তার স্বজনরা। সেখানে জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক মেয়েটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত মিম বরগুনার চাঁদখালি এলাকার সাখাওয়াত মৃধার মেয়ে। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি।
নিহতের ভাই জানান, ‘আমার বোন মেধাবী ছাত্রী ছিল। আমাদের সকলের অগোচরে একটি ছেলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়েছিল। পরে ওই ছেলের সঙ্গে অভিমান করে আজ সকালে নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে রাখে সে। বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেলে তার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে আমরা দরজা ভেঙে দেখি ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছে মিম। পরে দ্রুত অচেতন অবস্থায় তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানান, আমার বোন আর বেঁচে নেই।
পুলিশ কর্মকর্তা মো. ফারুক বলেন, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
২৫৪ দিন আগে
মিরপুরে নিহতদের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা লাগবে: ফায়ার সার্ভিস
রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর আবাসিক এলাকার শিয়ালবাড়িতে একটি তৈরি পোশাক কারখানা ও একটি রাসায়নিক গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর গার্মেন্টস ভবন থেকে ১৬টি অগ্নিদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।
মরদেহগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে, তবে খালি চোখে সেগুলোর কোনোটিরই পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব নয়। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘গার্মেন্টসটির ছাদ টিনশেড ছিল। ছাদ ও গেট তালা মারা থাকায় দ্বিতীয় এবং তৃতীয় তলায় লোকজন আটকে পড়ে। মৃতদেহগুলো সেই দুই তলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় একজন স্বেচ্ছাসেবক আহত হয়েছেন। মরদেহগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, প্রচণ্ড তাপে তাদের মুখ সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে, তাই পরিচয় শনাক্ত সম্ভব হচ্ছে না। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেই পরিচয় শনাক্ত করতে হবে।
আরও পড়ুন: মিরপুরের অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬
রাসায়নিক বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট বিষাক্ত গ্যাসের কারণে তারা অচেতন হয়ে সঙ্গে সঙ্গে মারা যান বলে জানান তিনি।
তাজুল ইসলাম বলেন, ‘কেমিক্যাল গোডাউনের আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আরও সময় লাগবে। ক্যামিকেল গোডাউনে ৬ থেকে ৭ ধরনের কেমিকেল ছিল। সাধারণত আগুন ধরার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত ছড়িয়েছে, তাই গার্মেন্টস অংশে থাকা কর্মীরা বাইরে বের হতে পারেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘গার্মেন্টস ও কেমিক্যাল গোডাউনের কোনো লাইসেন্স ও অনুমোদন ছিল না। এখানে কতজন কাজ করত সেই হিসাবও পাওয়া যায়নি।’
এর আগে আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে ফায়ার সার্ভিসের কাছে আগুনের খবর আসে। খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট ১১টা ৫৬ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রথমে পাঁচ ইউনিট পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে আরও সাত ইউনিট যোগ দেয় আগুন নিয়ন্ত্রণে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করে পোশাক কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশে থাকা রাসায়নিকের গোডাউনেও। খবর পেয়ে একে একে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অগ্নিনির্বাপণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় সামলাতে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী। এরপর তাদের সঙ্গে সহায়তায় যোগ দেন পাশে থাকা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবক, পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি।
৩৪৯ দিন আগে
মিরপুরের অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬
রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়ি এলাকায় একটি ভবনে থাকা গার্মেন্টস কারখানা ও রাসায়নিকের গুদামে অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম এ তথ্য জানিয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, সব মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মরদেহগুলো গার্মেন্টস ভবন থেকে পাওয়া গিয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। কেমিক্যাল গোডাউনের আগুন নির্বাপনের কাজ চলছে।
এছাড়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামুন (৩৫), সোহেল (৩২) ও সুরুজ (৩০) নামের তিনজনকে দগ্ধ অবস্থায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, বিকেল পৌনে ৩টার দিকে তাদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসাপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়।
দগ্ধ মামুনের স্বজন জোসনা জানান, মামুন ওই কারখানায় কাটিং মাস্টার হিসেবে এবং সোহেল ফিনিশিং সেকশনে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া সুরুজ অর্ডারকৃত পণ্যের গুণমান যাচাই করতে সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
এর আগে, মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে শিয়ালবাড়িও ওই পোশাক কারখানা এবং একটি রাসায়নিকের গুদামে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
বিকেলে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘তল্লাশি অভিযান এখনো চলমান। পাশের যে কেমিক্যাল গোডাউন রয়েছে, সেখানে এখনো আগুন জ্বলছে। এটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ওখানে কাউকে যেতে দিচ্ছি না। আমরা সর্বোচ্চ প্রযুক্তি দিয়ে, ড্রোন দিয়ে এসব কার্যক্রম করছি।’
আগুনের সূত্রপাতের বিষয়ে তিনি বলেন, এখনো জানা যায়নি। যারা শুরুতে আগুন নেভাতে এসেছেন, তারা রাসায়নিকের গুদাম ও গার্মেন্টস দুই দিকেই আগুন দেখেছেন।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, তিনতলা পোশাক কারখানার নিচতলায় ‘ওয়াশ ইউনিট’ রয়েছে। সেখানে প্রথম আগুন লাগে। সেই আগুন পাশের রাসায়নিকের গুদামে ছড়িয়ে পড়লে সেখানে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর আগুন তিনতলা পোশাক কারখানার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
৩৪৯ দিন আগে