কয়রা
উপকূলীয় অঞ্চলে ক্রমেই বাড়ছে সুপেয় পানির জন্য হাহাকার, আশা জাগাচ্ছে বৃষ্টির পানি
বসন্তের শেষ, গ্রীষ্মকাল শুরু। খুলনার উপকূলীয় কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের গৃহিণী আম্বিয়া খাতুনের প্রতিটি সকাল শুরু হয় এক কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। ঘুম থেকে উঠেই তার প্রথম চিন্তা পরিবারের জন্য খাবার পানি সংগ্রহ করা।
প্রতিদিন দূরের গভীর নলকূপ থেকে পানি আনতে তাকে দীর্ঘ পথ হাঁটতে হয়। এতে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে, কখনও অসুস্থও হয়ে যান তিনি। আর যদি কোনোদিন সেই দূরের নলকূপে যাওয়া সম্ভব না হয়ে ওঠে, তখন বাধ্য হয়ে ব্যবহার করতে হয় পুকুরের অনিরাপদ পানি। অথচ শুষ্ক মৌসুমে সেই পুকুরও শুকিয়ে যায়।
নদী ও খালের পানিও এ সময় অতিরিক্ত লবণাক্ত হয়ে ওঠে। ফলে বিশুদ্ধ পানির সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এমন দিনও আসে যখন পানির অভাবে রান্না করাও কঠিন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয়স্বজন বেড়াতে এলে মিষ্টি বা উপহারের বদলে কয়েক বোতল মিনারেল ওয়াটার নিয়ে এলে উপকূলের মানুষ যেন বেশি খুশি হয়।
সুপেয় পানির জন্য এই হাহাকার শুধু খুলনার উত্তর বেদকাশীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং বাংলাদেশের সমগ্র দক্ষিণ উপকূলজুড়ে এটি আজ এক ভয়াবহ বাস্তবতা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় সব পানির উৎসে লবণাক্ততার মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে বঙ্গোপসাগরের লোনা পানি নদী ও খালে প্রবেশ করে সেগুলোকে লবণাক্ত করে তোলে। ফলে নিরাপদ ও সুপেয় পানির সংকট দিন দিন আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র
‘অ্যা-ক্রসসেকশনাল ভিউ অব দ্য ড্রিংকিং ওয়াটার সিনারিও ইন আ ক্লাইমেট-স্ট্রেসড সেটিং: কেস স্টাডি ফ্রম সাউথওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণায় উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক চিত্র।
ওই গবেষণা অনুযায়ী, উপকূলীয় অঞ্চলের একজন নারীকে প্রতিদিন শুধু এক কলস বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহের জন্য পাঁচ থেকে ছয় কিলোমিটার পথ হাঁটতে হয়। বছরের চার থেকে সাত মাস পর্যন্ত এই সংকট স্থায়ী থাকে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এ অঞ্চলের প্রায় ৮৪ শতাংশ পরিবারের নিজস্ব কোনো নিরাপদ পানির উৎস নেই। ফলে তাদের নির্ভর করতে হয় বাইরের উৎসের ওপর যা অনেক সময় দূরবর্তী, অনিরাপদ কিংবা ব্যয়বহুল।
বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়নের তথ্য অনুযায়ী, গত চার দশকে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ত জমির পরিমাণ প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু ভূপৃষ্ঠই নয়, ভূগর্ভস্থ পানিতেও লবণাক্ততার প্রভাব ভয়াবহভাবে বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে উপকূল থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৭০ কিলোমিটার উজান পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ পানিতে লবণাক্ততার উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে। ফলে স্বাদু পানির প্রাকৃতিক উৎসগুলো ক্রমেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং নিরাপদ পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে।
বাতায়নের তথ্য বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিই এই সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ। সমুদ্রের লোনা পানি ধীরে ধীরে ভূখন্ডের ভেতরের দিকে প্রবেশ করায় লবণাক্ততার বিস্তার বাড়ছে, অন্যদিকে ভূপৃষ্ঠের নিচে থাকা স্বাদুপানির মজুতও যাচ্ছে কমে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশ মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের মোট আবাদি জমির প্রায় ৩০ শতাংশ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত, যার মধ্যে প্রায় ৫৩ শতাংশ জমি সরাসরি লবণাক্ততার শিকার। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ২৮ দশমিক ৬ লাখ হেক্টর উপকূলীয় এলাকার মধ্যে ১০ দশমিক ৫৬ লাখ হেক্টর জমি বিভিন্ন মাত্রায় লবণাক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, সংকুচিত হচ্ছে জীবিকা এবং মানুষ বাধ্য হয়ে এলাকা ছাড়ছে।
সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী দরিদ্র জনগোষ্ঠী
জলবায়ুগত এই সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠী। উপকূল ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়া পরিবারগুলোও বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা পায় না। উপকূলের অধিকাংশ গ্রামে বর্তমানে সুপেয় পানির প্রধান ভরসা গভীর নলকূপ বা ডিপ টিউবওয়েল। প্রতিদিন ভূগর্ভ থেকে লাখ লাখ লিটার পানি উত্তোলন করা হলেও ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততার কারণে অনেক জায়গায় সেই পানিও নিরাপদ থাকছে না। ফলে উপকূলের বহু পরিবার এখন টাকা দিয়ে বিশুদ্ধ পানি কিনতে বাধ্য হচ্ছে। আর যাদের সেই সামর্থ্য নেই, তারা বাধ্য হয়েই লবণাক্ত পানি পান করে জীবনযাপন করছে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি যেমন বাড়ছে, অর্থনৈতিক চাপও তীব্র হচ্ছে।
গত ২৫ থেকে ৩০ বছরে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শুষ্ক মৌসুমে পানির উৎসগুলোতে লবণাক্ততা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। ফলে প্রতি বছরই দেখা দিচ্ছে সুপেয় পানির তীব্র সংকট। যারা বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করতে পারে, তারা শুষ্ক মৌসুমে কিছুটা স্বস্তিতে থাকে। কিন্তু যাদের সেই সুযোগ নেই, তাদের খাওয়া-দাওয়াসহ দৈনন্দিন প্রায় সব কাজে বাধ্য হয়ে লোনা পানিই ব্যবহার করতে হয়।
২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুযায়ী, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ১৯টি জেলায় প্রায় ৪ কোটি ৩৮ লাখ মানুষের বসবাস। সম্ভাবনাময় ও সম্পদসমৃদ্ধ এই অঞ্চল আজ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং লবণাক্ততার বিস্তার উপকূলীয় মানুষের জীবন ও জীবিকাকে ক্রমাগত সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডর এবং ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলার পর উপকূলের প্রায় সব মিঠা পানির উৎস লোনা পানিতে দূষিত হয়ে পড়ে। পুকুর, খাল, নদী ও ভূগর্ভস্থ পানির উৎসগুলোতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে কৃষিজমির উর্বরতা কমে যাওয়ায় ফসলের স্বাভাবিক উৎপাদনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিঘ্নিত হচ্ছে প্রকৃতির সাম্যাবস্থা
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপকূলীয় অঞ্চলে লোনা পানি ও ভূগর্ভস্থ মিঠা পানির মধ্যে একটি স্বাভাবিক ভারসাম্য বিদ্যমান থাকে। বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে জলাশয় ও মাটির নিচে স্বাদুপানির মজুত তৈরি হয়। অন্যদিকে সমুদ্রের জোয়ার-ভাটার প্রভাবে লোনা পানি ভূমির অভ্যন্তরে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। এই দুই প্রক্রিয়ার মধ্যেই একটি সাম্যাবস্থা বজায় থাকে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সেই ভারসাম্য এখন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। সমুদ্রের লোনা পানি ধীরে ধীরে লোকালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে মিঠা পানির উৎসগুলোকে দূষিত করছে। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় সব পানীয় জলের উৎসই আজ ঝুঁকির মুখে।
বর্তমানে উপকূলের লবণাক্ত এলাকাগুলোতে নিরাপদ পানির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে মিঠা পানির পুকুর, সংরক্ষিত বৃষ্টির পানি, গভীর নলকূপ, পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহকৃত পানি, পন্ড স্যান্ড ফিল্টার (পিএসএফ) এবং রিভার্স ওসমোসিস বা আরও প্ল্যান্ট। এর মধ্যে ভূগর্ভস্থ নিরাপদ পানি উত্তোলনের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় গভীর নলকূপ। তবে উপকূলের অধিকাংশ এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক নলকূপে এখন আর পানি ওঠে না। আবার কোথাও কোথাও পানি উঠলেও সেটি লবণাক্ত হয়ে থাকে। শহরাঞ্চলে পাইপলাইনের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ বা ভূ-উপরিস্থ পানি শোধন করে সরবরাহ করা হলেও সেই পানি সবসময় নিরাপদ ও মানসম্মত হয় না। ফলে নিরাপদ পানির সংকট দিন দিন প্রকট থেকে প্রকটতর হয়ে উঠছে।
বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ: হতে পারে কার্যকর ও টেকসই সমাধান
উপকূলীয় অঞ্চলে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ৩ হাজার মিলিমিটারেরও বেশি। তাই বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর ও টেকসই সমাধান। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ মাটির পাত্র, মটকা বা ড্রামে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে আসছে। বর্তমানে ঘরের চাল বা ছাদ থেকে পাইপের মাধ্যমে ট্যাংকে পানি জমিয়ে রাখার পদ্ধতি ‘রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং’ ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এই পানি কয়েক মাস পর্যন্ত ব্যবহার করা সম্ভব।
সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা অসচ্ছল পরিবারগুলোকে পানির ট্যাংক সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের জন্য প্রয়োজন বৃহৎ পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়ন।
উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। এগুলো হলো বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, নতুন খাসপুকুর খনন ও পুরোনো পুকুর পুনর্খনন, পুকুরে লবণপানি প্রবেশ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, নিরাপদ গভীর নলকূপ স্থাপন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য স্বল্পমূল্যে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে পানি ব্যবস্থাপনার টেকসই মডেল গড়ে তোলা।
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের সুপেয় পানির সংকট এখন শুধু পরিবেশগত নয়, বরং মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পরিণত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে এই সংকট দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে। এখনই কার্যকর পরিকল্পনা ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণ না করলে উপকূলের মানুষের জীবনযাপন আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
সুপেয় পানির নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা তাই শুধু একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা নয়, এটি উপকূলবাসীর বেঁচে থাকার অধিকার। বাংলাদেশের উপকূলের জন্য নিরাপদ পানির একটি বৃহৎ ও টেকসই প্রকল্প সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
লেখক: মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ
১৫ দিন আগে
খুলনায় গভীর রাতে ঘরে ঢুকে দম্পতির ওপর হামলা, স্বামী নিহত
খুলনার কয়রায় গভীর রাতে সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে ভবতোষ মৃধা (৩৭) নামের এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তার স্ত্রীও আহত হয়েছেন।
রবিবার (১৭ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের মধ্য মহেশ্বরীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ভবতোষ মৃধা স্থানীয় একজন ওষুধ ব্যবসায়ী। একই ইউনিয়নের গিলাবাড়ি বাজারে তার একটি ওষুধের দোকান রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, গতকাল (রবিবার) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সংঘবদ্ধ একটি চক্র ভবতোষ মৃধার মাটির ঘরে সিঁধ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। শব্দ পেয়ে ভবতোষ জেগে উঠে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় তার স্ত্রী বাধা দিতে গেলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভবতোষ মৃধাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত স্ত্রী বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তিনি শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন তিনি।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, কয়রায় গত কয়েক মাস ধরে সিঁধ কেটে চুরির ঘটনা বেড়ে চলেছে। সংঘবদ্ধ চক্র ঘরে চেতনানাশক জাতীয় পদার্থ স্প্রে করে অচেতন করে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। ফলে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা পুলিশ প্রশাসনের কাছে রাতের নিরাপত্তা জোরদার ও টহল বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে।
১৬ দিন আগে
উপকূলে অশনিসংকেত: কয়রায় অসময়েও ভাঙছে বাঁধ
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে নদী ভাঙনে প্রতি বছর প্লাবিত হওয়া খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রার সবচেয়ে বড় সমস্যা। প্রতি বছর গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমে কয়রার মানুষ চরম আতঙ্কে থাকে। জলবায়ু পরিবর্তন, জোয়ার-ভাটার তীব্রতা এবং নদীর গতিপ্রকৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা উপকূলীয় এই অঞ্চলের প্লাবন-ঝুঁকিও বাড়ছে।
এদিকে উপকূলবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত টেকসই বাঁধ নির্মাণে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের অনুমোদন আশার আলো জাগালেও কাজের ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়দের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। মেগা প্রকল্পে যথেষ্ট বরাদ্দ থাকার পরও অবৈধভাবে কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন করে তা বাঁধ নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এ ছাড়া গাছ কেটে ধ্বংস করা হচ্ছে নদী চরের সবুজ বনায়ন। যার ফলে বাঁধের স্থায়িত্ব কমছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয় সচেতন মহল।
জানা যায়, গেল শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে কয়রার মহারাজপুর ইউনিয়নের দোশহালিয়া থেকে হোগলার মধ্যকার একটি অংশের বাঁধে ফাটল দেখা দেয়। স্থানীয়রা সেখানে মাটি দিয়ে মেরামত করেন। এ ছাড়া নদীতে পানির চাপ ও কোনো প্রকার ঝড়ো বাতাস ছাড়াই গত ৪ ডিসেম্বর গভীর রাতে হঠাৎ করে কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের মাটিয়াভাঙ্গা এলাকার বেড়িবাঁধের প্রায় ২০০ মিটার ধসে পড়ে। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে বাঁধটির বিশাল অংশ নদীতে ভেঙে পড়ে প্লাবিত হয় সংলগ্ন এলাকা। পরের দিন ভাটার সময় স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে রিং বাঁধ দিয়ে পানি আটকাতে সক্ষম হলেও তাদের আতঙ্ক এখনো কাটেনি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাত ১১টার পর থেকেই নদীর পাড়ের মাটি সরে যাওয়ার অস্বাভাবিক শব্দ শোনা যাচ্ছিল। পরে সেখানে গিয়ে দেখেন, বাঁধের বড় বড় খণ্ড নদীতে ধসে পড়ে ২০০ মিটারের মতো বাঁধ ভেঙে এলাকায় লবণাক্ত পানি প্রবেশ করেছে।
তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বাঁধের স্থায়ী সংস্কার এবং নদী খননে অবহেলার কারণে এই অঞ্চলে ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে। বর্তমানে দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের ধানচর, শামুকপোতা, কুতুবেরচর, গাবতলা ও খোলপেটুয়া পাড়ের বেশ কয়েকটি এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
মাটিয়াভাঙ্গার বাসিন্দা মাসুম বিল্লাহ সেদিন রাতের ভয়াবহ মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘চোখের সামনে দিয়ে বাঁধটা নদীতে চইলে গেল। মনে হচ্ছিল, আজই বুঝি সব শেষ; বাড়িঘর সবকিছুই বুঝি তলাই যাবেনে।’
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম জানান, ‘প্রতিদিনই নদী এগিয়ে আসছে। কয়েক দিনের মধ্যে তিনটি বাড়ি নদীতে চলে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে জরার্জীণ থাকলেও মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’
মাটিয়াভাঙ্গা বাঁধের ভেঙে যাওয়া অংশটি মেগা প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় দুই বছর যাবৎ বিভিন্ন প্যাকেজের কাজ চলমান থাকলেও তাতে রয়েছে চরম ধীরগতি। মাটিয়াডাঙ্গার ওই অংশটি দীর্ঘদিন ধরে নাজুক অবস্থায় থাকলেও সংস্কারে গুরুত্ব দেননি ঠিকাদার।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘পুনর্বাসন’ প্রকল্পের আওতায় কয়রা উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের দুটি পোল্ডারে (১৪/১ ও ১৩–১৪/২) প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পের আওতায় ৩২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের উচ্চতা ও প্রশস্ততা বৃদ্ধি, ঢাল সংরক্ষণ, নদীশাসন ও চরবনায়নের কাজ করা হচ্ছে। মাটিয়াভাঙ্গার ভাঙনকবলিত এলাকাটিও এই প্রকল্পের অংশ।
দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. দিদারুল আলম বলেন, ‘সুন্দরবনঘেঁষা আড়পাঙ্গাসিয়া নদী ও কপোতাক্ষ নদের মোহনার পাশে থাকা এ বাঁধটিতে এক মাস আগেই ফাটল দেখা গিয়েছিল। বিষয়টি আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানালেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’ তার ভাষ্যে, ‘অল্প কিছু বস্তা ডাম্পিং করে দায়সারা কাজ করা হয়েছিল তখন। তাই গতরাতে আগের ফাটলটা হঠাৎ বড় রূপ নিয়ে ধসে গেছে।’
রাতে গ্রামবাসী ও পাউবো মিলে বিকল্প রিং বাঁধ দিয়ে এলাকা প্লাবিত হওয়া থেকে রক্ষা করে। কিন্তু নদীর ভাঙন ঠেকাতে রিং বাঁধ কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নয়।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, রিং বাঁধের স্থায়িত্ব খুব স্বল্প। যেকোনো মূহুর্তে সেটি ভেঙে যেতে পারে। দ্রুত যদি মূল বাঁধ সংস্কার করা না হয়, তাহলে ধ্বসের পরিধি আরও বাড়তে পারে।
উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের আহ্বায়ক এম আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘যেখানে বাঁধ তৈরি করা হচ্ছে, তার আশপাশ থেকেই বালু উত্তোলন করা হয়। এ ছাড়া নদীর চর থেকে মাটি কেটে বাঁধ তৈরি করা হচ্ছে। এতে করে নদীর চরের গাছ কেটে বনায়ন নষ্ট করা হচ্ছে।’ এসব বিষয় উল্লেখ করে বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নাগরিক সমাজের এই নেতা।
তিনি আরও বলেন, ‘২০০৯ সালের ঘুর্ণিঝড় আয়লার পর থেকে প্রত্যেক বছরের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে কোনো না কোনো এলাকা ভেঙে যেতে দেখা যাচ্ছে। এ বছর বর্ষা ও গ্রীষ্ম মৌসুমে এলাকা প্লাবিত হাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেলেও শীত মৌসুমে প্লাবিত হলো। শীতকালে এমন ভাঙন এর আগে কখনো দেখিনি।
‘আমাদের প্রাণের দাবি ছিল টেকসই বেড়িবাঁধ। আমাদের দাবির কথা বিবেচনা করে সরকার বরাদ্দ দেওয়ায় আমরা কৃতজ্ঞ, কিন্তু বরাদ্দের সদ্ব্যবহার হচ্ছে না। নিয়ম বহির্ভূতভাবে কাজ হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
বিষয়টি কি শুধুই প্রকৃতির তাণ্ডব, নাকি বাঁধের কাঠামোগত দুর্বলতাও—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সচেতন মহল।
কয়রার দক্ষিণ বেদকাশীর মাটিয়াডাঙ্গা এলাকার মেগা প্রকল্পের কাজ তদারকির দায়িত্বে রয়েছে পাউবোর সাতক্ষীরা–২ বিভাগ। ওই বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আলমগীর কবির বলেন, ‘কাজ চলমান অবস্থায়ই বাঁধটি ভেঙে গেছে। এতে কংক্রিট ব্লক নির্মাণের সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাতেই বিকল্প রিং বাঁধ দিয়ে পানি আটকাতে পারায় এলাকা প্লাবিত হয়নি। সকাল থেকে জোরেসোরে আমাদের বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে।’
১৭৫ দিন আগে
কয়রায় সাবেক এমপি, ইউএনও ও পুলিশসহ ৮০ জনের নামে মামলা
বছর চারেক আগে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতাদের ত্রাণ বিতরণে বাধা দিয়ে মারপিটের অভিযোগে খুলনার কয়রায় সাবেক সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও তিন পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৮০ জনের নামে মামলা হয়েছে।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) কয়রা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন জি এম রাজিবুল আলম নামের লবণচরা এলাকার এক বাসিন্দা। তিনি খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক ছিলেন।
আসামিরা হলেন, খুলনা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম, সাবেক ইউএনও মমিনুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম, কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক নীশিত রঞ্জন মিস্ত্রী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিজয় কুমার সরদার, তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) সাচ্চু শেখ ও মিহির মজুমদার, কয়রা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম, বাগালী ইউপির চেয়ারম্যান আ. সামাদ গাজী, আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক ও আরাফাত হোসেন, আমিনুল হক বাদল, মনি শংকর রায়, সুমাইয়া নীলা ও কাজল প্রমুখ।
আরও পড়ুন: বন্ধুকে হত্যা মামলার প্রায় ১০ বছর পর যুবককে আটকাদেশ
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১২ জুন সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নেতৃত্বে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা কয়রায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ ও ক্ষতিগ্রস্ত ভেড়িবাঁধ পরিদর্শনে আসেন। কয়রায় ত্রাণ বিতরণ শেষে পাইকগাছাতে বিতরণের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে চাঁদআলী সেতু এলাকায় তাদের বহনকারী গাড়ির পথরোধ করে আসামিরা। এরপর বন্দুক, দেশীয় অস্ত্রসহ লাঠিসোঁটা দিয়ে মারপিট করে তাদেরকে রক্তাক্ত জখম করে।
ওই সময় পুলিশ-প্রশাসনের কাছে সহায়তা চাইলে উল্টো তাদেরকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। তাদের পাঁচটি প্রাইভেটকার ও ১৭টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়েছে বলে মামলায় বলা হয়েছে।
মামলার বাদী বাপ্পী বলেন, ‘তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট প্রতিকূল না থাকায় মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে। ন্যায়বিচার পাবো বলে আশা করছি।’
বাদীর আইনজীবী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘মামলাটি আদালত আমলে নিয়েছে। আশা করছি ন্যায় বিচার পাবো।’
৪৭০ দিন আগে
কয়রায় সরিষার রেকর্ড চাষাবাদ, বাম্পার ফলন
খুলনার কয়রা উপজেলায় এবার রেকর্ড পরিমাণে সরিষার চাষাবাদ হয়েছে। উপজেলার আমাদী, বাগালী, মহেশ্বরীপুর, মহারাজপুর, কয়রা সদর, উওর বেদকাশী, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চারপাশের সরিষা খেতগুলো শুধু সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধে ভরে উঠেছে।
সবুজ-শ্যামল প্রকৃতির ষড়ঋতুর এই দেশে ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যেমন প্রকৃতির রূপ বদলায়, তেমনি বদলায় ফসলের মাঠও।
কখনও সবুজ, কখনও সোনালি, কখনও-বা হলুদ। এমনই ফসলের মাঠ পরিবর্তনের এ পর্যায়ে হলুদ সরিষা ফুলের চাদরে ঢাকা পড়েছে ফসলের মাঠ। বিকাল হলেই মাঠগুলোতে প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে ছবি তুলছেন অনেকে।
আরও পড়ুন: খুলনায় সরিষার বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা
সরিষা প্রধানত আবাদ হয় দোঁআশ ও বেলে-দোঁআশ মাটিতে। বর্তমানে সরিষা একটি লাভজনক ফসলে পরিণত হওয়ায় কয়রায় ধীরে ধীরে সরিষার আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কয়রা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কয়রা উপজেলায় ২১০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। সরিষা চাষে উপজেলার ২০০ জন কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এই প্যাকেজে প্রত্যেক কৃষক পেয়েছেন ১০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি সার এবং ১ কেজি সরিষার বীজ।
কালনা গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, আমি এ বছরে ৭ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। গত বছরও ৫ বিঘা জমিতে সরিষা লাগিয়েছিলাম, ফলন বাম্পার হয়েছিল। এ বছরও বাম্পার হয়েছে।
বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের তরুণ কৃষক আশরাজ্জামান লিটন বলেন, আমি কয়রা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে এ বছর আমি প্রথমবার সরিষা লাগিয়েছি। ফলনও বাম্পার হয়েছে। যদি কোনো দুর্যোগে আঘাত না হানে, তাহলে বাম্পার ফলন পাওয়া যাবে।
বেদকাশী গ্রামের কৃষক মোহর আলী গাইন বলেন, আমি প্রতি বছর সরিষা লাগাই। এ বছরে ২ বিঘা জমিতে সরিষা লাগায়েছি। ভালো ফলন হয়েছে।
আরও পড়ুন: মাদারীপুরে সরিষার বাম্পার ফলন, লাভের প্রত্যাশা
কম খরচে সরিষা চাষে বাম্পার ফসল পাওয়া যায় বলে জানান তিনি।
কয়রা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কয়রা উপজেলায় সূর্যমুখীর পাশাপাশি সরিষার ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে। এবার অতিবৃষ্টির কারণে আমন দেরিতে হওয়ায় সরিষার আবাদ কিছুটা কম হয়েছে। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তেরের পরামর্শে কৃষক ভাইয়েরা বিনা চাষে সরিষার আবাদ করে ক্ষতি পুষিয়ে নিয়েছেন।
৫০৬ দিন আগে
কয়রায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নারী ইউপি সদস্যকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ
খুলনার কয়রায় ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েলের বিরুদ্ধে নারী ইউপি সদস্য দিলরুবা খাতুনকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে।
গত রবিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কয়রা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন ভুক্তভোগী।
অভিযুক্ত চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল আমাদি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ভুক্তভোগী দিলরুবা খাতুন আমাদী ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত এক নং ওয়ার্ডের সদস্য।
দিলরুবা খাতুনের অভিযোগ, শনিবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার পর প্রথমে ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েলের লোকজন তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরে ইউপি চেয়ারম্যান তাকে তার কক্ষে ডাকেন। সেই সময় সেখানে পরিষদের আরও কয়েকজন সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতে ইউপি চেয়ারম্যান চেয়ার থেকে উঠে প্রথমে কক্ষের দরজা বন্ধ করেন। এরপর কোনো কারণ ছাড়াই তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তাকে মারতে উদ্যত হলে উপস্থিত কয়েকজন তাকে নিবৃত্ত করেন। এ সময় তিনি ‘বেশি বাড়াবাড়ি করলে প্রাণে মেরে ফেলারও’ হুমকি দেন।
আরও পড়ুন: যশোরে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যুবকের মৃত্যু
ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য বলেন, রানা ও মুন্নার (চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমানের সহোদর ভাই) সঙ্গে দিলরুবার আগে কি হয়েছে জানি না। ওই দিন প্রথমে রানা ও মুন্না দিলরুবার সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করেন। পরে চেয়ারম্যান এসে পরিষদের কলাপসিবল গেট বন্ধের নির্দেশ দেন। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মারতে যান। পরে সালাম সানা নামের এক ব্যক্তি দিলরুবাকে চেয়ারম্যানের হাত থেকে রক্ষা করে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।
ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল বলেন, একটি প্রকল্পের কাজে অনিয়ম হয়েছে, এমন অভিযোগের বিষয়ে তার (ইউপি সদস্য) কাছে জানতে চাওয়া নিয়ে একটু-আধটু কথা কাটাকাটি হয়েছে। এর বেশি কিছু না।
স্থানীয় সরকার বিভাগের খুলনার উপ-পরিচালক মো. ইউসুপ আলী বলেন, আমদী ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্যকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় কয়রা থানায় অভিযোগ করার কথা শুনেছি। অভিযোগের কপি পেলে জেলা প্রশাসকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গত ৬ এপ্রিল কয়রায় একটি খালের সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আক্তারুজ্জানকে মারধর করেন ওই ইউপি চেয়ারম্যানের জিয়াউর রহমান জুয়েল। সেই সময় ভুক্তভোগী সার্ভেয়ার আক্তারুজ্জান এ বিষয়ে খুলনা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় নারী খুন, ভাইকে মারধর
৯৫৩ দিন আগে
কয়রায় অনেক বেড়িবাঁধ অরক্ষিত, আতঙ্কে খুলনার উপকূলবাসী
খুলনার কয়রা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলে অনেক বেড়িবাঁধ অত্যন্ত অরক্ষিত এবং বেড়িবাঁধের কোথাও কোথাও মাত্র দুই থেকে তিন ফুট চওড়া মাটির বাঁধ রয়েছে। বেড়িবাঁধ এমন দুর্বল হয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ স্থানীয় মানুষ আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে।
এছাড়া এরইমধ্যে ঘূর্ণিঝড় মোখা’র আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়া অফিস বলছে, আগামী ১১ মে’র মধ্যে বঙ্গোপসাগরে এই ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হতে পারে এবং ১১ থেকে ১৫ মে’র মধ্যে তা উপকূলে আঘাত হানতে পারে।
আরও পড়ুন: সাতক্ষীরায় বেড়িবাঁধ সংস্কারে স্থানীয় শত শত মানুষ
এছাড়া ঘূর্ণিঝড়টি মিয়ানমারের রাখাইন ও বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে।
তার মধ্যে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় আঘাত আনার সম্ভবনা দেখছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এটির বাতাসের সম্ভাব্য গতিবেগ থাকতে পারে ১৫০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার।
গত বছরের মে মাসে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়েছিল ঘূর্ণিঝড় অশনি। ঘূর্ণিঝড় আতঙ্কে ইতোমধ্যে দিন অতিবাহিত করছে উপকূলবাসী। এরমধ্যে আবার দুর্বল বেড়িবাঁধ নিয়ে তাদের শঙ্কা বেড়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) স্থানীয় কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও ইয়াসের পর খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার ২১টি জায়গায় ভেঙে যাওয়া বাঁধ মেরামত করা হয়। পাশাপাশি ২০ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধে মাটি ও বালুর বস্তা ফেলে সংস্কার করা হয়। বর্তমানে সাত কিলোমিটারের বেশি সংস্কারকাজ চলমান। তবে এখনো ৯ থেকে ১০ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিতে আছে।
এলাকাবাসী ও পাউবোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলার ৬ নম্বর কয়রা, ৪ নম্বর কয়রা রিং বাঁধ, ঘাটাখালী, হরিণখোলা, মদিনাবাদ লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকা, মঠবাড়িয়া, ২ নম্বর কয়রা, হোগলা, গাজীপাড়া, গোলখালী, হাজতখালী, জোড়শিং ও মহেশপুর এলাকার প্রায় ১২ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে।
এদিকে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে নদীতে পানি বাড়লে ওই এলাকার বিভিন্ন জায়গায় বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে পারে।
এছাড়া কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীতে পানি সরবরাহের আটটি জলকপাট অকেজো পড়ে আছে।
শাকবাড়িয়া নদীর নয়ানী ও সুতিয়া বাজার-সংলগ্ন জলকপাটটি নষ্ট হওয়ার উপক্রম। জলকপাটের দুই পাশের মাটি ডেবে গিয়ে নদী থেকে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে পারে এমন আশংকা করছে স্থানীয়া।
শাকবাড়িয়া নদীর বেড়িবাঁধের পাশেই হেমলতা মন্ডলের (৫০) ঘর। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বাঁধের ওপর বসে তিনি কখনো নদীর দিকে, আবার কখনো নিজের ঘরের দিকে তাকাচ্ছিলেন।
কাছে যেতেই ধসে যাওয়া বাঁধটি দেখিয়ে বললেন, আগে দুই বার ভেঙেছে। পরে বড় বাঁধ দিলেও সেটিও কয়েক দিন আগে ভেঙে গেছে। বালু দিয়ে বাঁধ দেওয়ায় এ অবস্থা। আরেকটু হলে গ্রামে পানি ঢুকবে। ভাঙন তাঁদের নিঃস্ব করেই ছাড়বে।
উত্তর বেদকাশী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম বলেন, আমার ইউনিয়নের গাজীপাড়া ও গাতিরঘেরী এলাকায় নতুন প্রযুক্তিতে বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বছর না ঘুরতেই সেই বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য পাউবোর কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জানা গেছে, তীব্র ভাঙনে সিসি ব্লক সরে গিয়ে হুমকির মুখে পড়েছে উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের কাটকাটা এলাকার শাকবাড়িয়া নদীর বাঁধ।
উত্তর বেদকাশী থেকে দক্ষিণ বেদকাশী পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার বাঁধের ঢালে মাটি ধসে জীর্ণশীর্ণ হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও দুই পাশের মাটি সরে বাঁধ সরু হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: কয়রায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ৫ গ্রাম প্লাবিত
১১২২ দিন আগে
কয়রায় বেড়িবাঁধে ভাঙন, আতঙ্কে এলাকাবাসী
সুন্দরবন ঘেঁষা খুলনার কয়রা উপজেলার বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সোমবার ভোরে হঠাৎ করে কয়রার কপোতাক্ষ নদের তীরের হরিণখোলা বেড়িবাঁধ ও শিবসা নদীর তীরে গাতিরঘেরী বেড়িবাঁধে ধস শুরু হয়।
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং ঘিরে আতঙ্ক বিরাজ করছে উপকূলীয় অঞ্চলে। ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের তীরে বসবাসকারীদের মাঝে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ভর করেছে।
আরও পড়ুন: ধরলার তীব্র ভাঙন মুখে ৫ শতাধিক পরিবার
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন,বাঁধের যা অবস্থা, ঘূর্ণিঝড় হলে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়া ছাড়া আমাদের নিস্তার নেই।
কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, হরিণখোলা বেড়িবাঁধে মারাত্মক ভাঙন দেখা দিয়েছে। দুপুরের জোয়ারের আগে কাজ করতে না পারলে জমির ফসল, ঘরবাড়ি সব আবার নোনা পানিতে প্লাবিত হবে। হরিণখোলা ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে যেতে পারে।
কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম শফিকুল ইসলাম বলেন, কয়রার হরিণখোলা ও গাতিরঘেরীর বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের নিয়ে মেরামতের কাজের প্রস্তুতি চলছে।
এছাড়া কয়রায় হোগলা, দোশহালিয়া, মদিনাবাদ লঞ্চঘাট, ঘাটাখালী, গাববুনিয়ার, আংটিহারা, চার নং কয়রা সুতির গেট ও মঠবাড়ির পবনাও ঝুঁকিতে রয়েছে।
আরও পড়ুন: পদ্মার ভাঙনে গোয়ালন্দে ফেরি চলাচল ব্যাহত
ফেরিঘাটে ভাঙন, নদীগর্ভে বিলীন বসতভিটা
১৩১৮ দিন আগে
বিয়ে না দেয়ায় ছোট ভাইয়ের দায়ের কোপে বড় ভাইয়ের হাত বিচ্ছিন্ন!
খুলনার কয়রায় বিয়ে না দেয়ায় ঝগড়ার জেরে ছোট ভাইয়ের দায়ের কোপে বড় ভাইয়ের হাত বিছিন্ন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছোট ভাইকে আটক করেছে পুলিশ।
উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের মেঘারআইট গ্রামে শুক্রবার এই ঘটনাট ঘটে।
আহত বড় ভাই শাহাদাৎ হোসেন এবং আটক ছোট ভাইয়ের নাম শাকিল। তারা একই এলাকার সোহরাব মিস্ত্রির ছেলে।
আরও পড়ুন: বরিশালে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ: ‘কারিগরের’ দুই হাত বিচ্ছিন্ন
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবিএম দোহা বলেন, দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। শুক্রবার শাকিল তার বড় ভাই শাহাদাৎ হোসেনের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায় ধারালো দা দিয়ে কোপ দিলে শাহাদাতের বাম হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। প্রতিবেশীদের কয়েকজন জানিয়েছেন শাকিল বিয়ে করতে চাইছিলেন, এই নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল।
আরও পড়ুন: লোহাগড়ায় বোমা বিস্ফোরণে যুবকের হাত বিচ্ছিন্ন
ওসি জানান,এলাকাবাসীর সহযোগিতায় শাকিলকে আটক করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাস-ট্রাক সংঘর্ষে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের শিক্ষিকার হাত বিচ্ছিন্ন
স্থানীয়রা জানায়, আহত শাহাদাৎকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
১৩৪১ দিন আগে
বাঁচার তাগিদে স্বেচ্ছাশ্রমে রিংবাঁধ নির্মাণ
‘একদিন আয় না করলে সংসার চলে না, তবুও বাঁচার তাগিদে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করতে হয়। সব ভেসে গেছে, জিনিসের দাম বেড়েছে। সংসার চালানো নিয়ে চিন্তিত।’ খুলনার কয়রায় স্বেচ্ছাসেবায় রিংবাঁধ নির্মাণ করতে আসা এক উপকূলযোদ্ধা গোপাল সরকার আক্ষেপের সাথে এমনটি জানালেন। তিনি দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের হলুদবুনিয়ায় বসবাস করেন।
দক্ষিণ বেদকাশী গ্রামের চা বিক্রেতা ওবায়দুল হোসেন বলেন, দিন শেষে যে আয় হয় সেটা দিয়ে কোন রকমে তিন সদস্যের পরিবার নিয়ে কষ্টে দিনতিপাত করি। পানি ওঠায় কয়েক দিন দোকান বন্ধ, প্রতিদিন বাঁধে যেয়ে ফ্রি কাজ করেছি। বাজার করতে পারিনি, খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছি। তবে বাঁধ মেরামত করতে পেরে তিনি খুঁশি।
এমন আক্ষেপ শুধু ওবায়দুল কিংবা গোপালের নয়, অবহেলিত কয়রার লাখো মানুষের। ওই এলাকার অধিকাংশ মানুষই নিম্নবিত্ত। কোথাও বাঁধ ভেঙে গেলে টিকে থাকতে স্বেচ্ছাশ্রম নিজেদেরই ঝাপিয়ে পড়তে হয় পানি আটকানোর জন্য।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, ১৪/১ নম্বর পোল্ডারে কয়রা উপজেলার শাকবাড়িয়া, মেদেরচর, ঘড়িলাল বাজার ও চরামুখা এলাকার বাঁধ মেরামতে ৩ কোটি ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। কাজটিতে অর্থায়ন করেছে জাপান আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা (জাইকা)। দরপত্রের মাধ্যমে ‘অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওই কাজটির দায়িত্ব পায়।
প্রতিষ্ঠানটির ঠিকাদার জাকির মোহান্দি। তিনি তার পূর্ব পরিচিত শ্রমিক সর্দার সাতক্ষীরার আক্কাস আলীর কাছে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে লাইসেন্স ভাড়া দিয়েছেন। বিষয়টি শ্রমিক আক্কাস আলী স্বীকার করেছেন। বর্তমানে ওই কাজটি তিনিই করছেন। আর স্থানীয়ভাবে কাজ দেখাশুনা করছেন ওই মোজাফ্ফার মেম্বার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বড় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ, সরঞ্জাম ও লোকবল নেই ওই শ্রমিক সর্দারের। কাজের মান ভালো না হওয়ায় চলমান কাজের চরামুখা এলাকার বাঁধ গত ১৭ জুলাই ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দাপ্তরিকভাবে ওই কাজের তদারকির দায়িত্বে আছেন পাউবো’র উপ-সহকারি প্রকৌশলী মশিউল আবেদীন। তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন।
সরঞ্জাম বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা অফিস থেকেই সব দিয়েছি। যে কোন দোকান থেকে সব আনতে বলি, পরে যে ঠিকাদার কাজ পাবেন তিনি সব পরিশোধ করেন। পরে মোজাফ্ফার মেম্বারের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, তিনি ওখানের কাজের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, এজন্য উনাকে দিয়ে করাচ্ছি।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহনেওয়াজ তালুকদার বলেন, কয়রার দক্ষিণ বেদকাশী এলাকার স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় প্রাথমিকভাবে পানি প্রবেশ রোধ করা গেছে। পাউবো’র পক্ষ থেকে বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য বাঁশ ও জিও ব্যাগ দেয়া হয়েছিল। এবার পাউবো বাঁধ শক্তিশালী করার কাজ করবে।
গত ১৩ আগস্ট জোয়ারের পানির চাপে কপোতাক্ষ নদের চরামূখা নামক স্থানের রিংবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় বিস্তীর্ণ এলাকা। ওই দিন থেকে টানা পাঁচ দিন স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বুধবার (১৭ আগস্ট) নির্মাণ সম্ভব হয়েছে। টানা ৪ দিন বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেও পঞ্চমদিনে প্রায় ৩ হাজার মানুষের স্বেচ্ছাশ্রমের প্রচেষ্টায় ফের রিংবাঁধ দিয়ে কপোতাক্ষের নোনা পানি আটকাতে সক্ষম হয়েছে। তবে শুধু এবার নয়, প্রতি দুর্যোগের পর এভাবেই ভাঙা বাঁধ মেরামতে স্থানীয় মানুষকেই দায়িত্ব নিতে হয় বলে জানালেন তারা। এবার বাঁশ- সিনথেটিক ব্যাগ চাহিদা মত না পাওয়ায় কাজে চরম ভোগ পেতে হয় বলে অভিযোগ তাদের।
পড়ুন: কয়রায় স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণে সহস্রাধিক মানুষ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুলাই ভোরে চরামুখার এই বাঁধের প্রায় ৩০০ মিটারের মতো ধসে যায়। সেসময় ভাঙা স্থানে রিংবাঁধ দিয়ে পানি আটকানো সম্ভব হয়। এরপর ১৩ আগস্ট দুপুরে উচ্চ জোয়ারে ওই রিং বাঁধটি পুনরায় ভেঙে যায়। এই ভাঙনে কপোতাক্ষের নোনা পানিতে ডুবে যায় ১০টির বেশি গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে পড়ে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ। অভ্যন্তরিণ যোগাযোগ ব্যবস্থা, মৎস্য ঘের, আমনের বীজতলা, বসতবাড়িসহ পরিবেশের চরম ক্ষতি হয়েছে।
বাঁধ মেরামতে আসা লোকজন অভিযোগ করেন, চরামুখার বাঁধটি সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষকে বারবার তাগিদ দেয়া হলেও তারা এড়িয়ে গেছে। এলাকার জনপ্রতিনিধিদের জানালে এ কাজ তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না বলে জানিয়ে দেন। উপজেলা প্রশাসনও একই কথা জানায়। অথচ বাঁধ ভাঙলে বারবার ভুক্তভোগী মানুষকেই তা রক্ষায় এগিয়ে আসতে হয়।
দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা নাজমুল জানান, বাঁধ নির্মাণে কাজ করেছি। চাহিদা অনুযায়ী সরঞ্জামাদি দেয়া হয়নি। মোজাফ্ফার মেম্বার ও এক পাউবো কর্মকর্তার সখ্যতা রয়েছে।
কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, আমরা দেখেছি বিগত ১০ বছরে জরুরি কাজের নামে কয়রার বেড়িবাঁধ সংস্কার ও নির্মাণ বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে ১শ’ ৪২ কোটি ৫৮ লাখ ৮ হাজার টাকারও বেশি। বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ হয় না। সেখানে রয়েছে অর্থ লুটপাটের অসাধু চক্র। টেন্ডারে কাজ পেয়ে মূল ঠিকাদার নিজের লাভটা রেখে কাজটা বিক্রি করে দেন আরেকজনের কাছে। এভাবে হাতবদল হলে কাজের মান খারাপ হতে বাধ্য- এটাই দেখে এসেছি এতদিন।
এদিকে বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে চরামুখা গ্রামের খালের গোড়া নামক স্থানে কপোতাক্ষ নদের ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধের রিংবাঁধ মেরামত কাজ পরিদর্শন করেছেন খুলনা-৬ আসনের (কয়রা-পাইকগাছা) আসনের সংসদ সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান বাবু।
এসময় তিনি বলেন, সরকার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প দিয়েছেন যেটা একনেকে পাশ হয়েছে, এটার টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া জাইকার অর্থায়ানে ৩৫০ কোটি ব্যয়ে বেঁড়িবাধের কাজ চলমান আছে। এছাড়াও বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানসমূহ জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
পড়ুন: কয়রায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ৪ গ্রাম প্লাবিত
১৩৮৪ দিন আগে