শেখ হাসিনা
শেখ হাসিনাকে ফেরানোর চেষ্টায় কূটনৈতিক ঘাটতি নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে কোনো কূটনৈতিক ঘাটতি নেই বলে দাবি করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সেইসঙ্গে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা প্রাসঙ্গিক নয় বলেও মনে করছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা দেশে ফেরার কথা বলছেন এবং সময়ের উল্লেখ করেছেন। তাহলে তাকে ফেরাতে বাধা কোথায়—প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়।
জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের কোর্ট একজনকে সাজা দিয়েছে, সাজাপ্রাপ্ত আসামি যিনি বাংলাদেশে বহু অন্যায়, অত্যাচার, অপকর্ম করে বিদেশে পালিয়ে আছেন। তো উনার এখানে... শেখ হাসিনা কী বলছে না বলছে উনার বক্তব্যটা এখানে (দেশে) রেলেভেন্ট (প্রাসঙ্গিক) না, একেবারেই রেলেভেন্ট না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে যোগাযোগটা শুরু হয়েছে, এখন সেই ডিপ্লোম্যাটিক চ্যানেলে সেটা চলমান আছে। একজন বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় বা একজন আসামিকে যখন ফেরত আনা হয়, সেই যে প্রটোকল আছে, যে নর্মস (নিয়মকানুন) আছে, সেই নর্মস অনুযায়ী উনাকে এনে এখানে বিচার করা হবে। সেটাই তো মনে হয় বাংলাদেশের জনগণ চায়।
তিনি বলেন, এখানে যে অন্যায়গুলো হয়েছে, যে দুর্নীতি হয়েছে, খুন, গুম হয়েছে—সেগুলোর একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ বিচার বাংলাদেশের মাটিতে হবে। ভারত সরকারের সঙ্গে সেই প্রক্রিয়া চলমান আছে, সেটা আমরা আগেই বলেছি। এখন যিনি আসামি তার বক্তব্যটা এখানে রেলেভেন্ট না।
প্রায় ৫ মাস হয়ে যাচ্ছে, এখনো শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার অগ্রগতি নেই, এখানে সফলতার ঘাটতি আছে কি না জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, না; এটা দেখুন... এটা সময় লাগে। প্রক্রিয়াটা চলমান আছে। তার মধ্যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়, তার মধ্যে বাংলাদেশে নির্বাচন হয়েছে, নতুন সরকার গঠন হয়েছে। সরকার আসার পরে প্রক্রিয়াটি আবার সচল হয়েছে। তো প্রক্রিয়ায় সময় লাগে, সেটা চলমান আছে। সেখানে কূটনীতির কোনো ঘাটতি নেই।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে আপনাদের মনে রাখতে হবে, এটা শুধু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়, এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও বিষয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এটা নিয়ে কাজ করছে। উনারাও কাজ করছেন, প্রক্রিয়াটা চলমান আছে।
শেখ হাসিনাকে ফেরানোর ক্ষেত্রে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জটি কী? ভারতের সহযোগিতা সরকার পাচ্ছে কিনা, আইনি কোনো জটিলতা আছে কিনা—এমন প্রশ্নের উত্তরে শামা ওবায়েদ বলেন, আইনি জটিলতা আছে কি নাই, সেটা আমাদের আইন মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খুঁটিয়ে দেখবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমাদের যেই প্রক্রিয়া চালানো দরকার, সেই প্রক্রিয়া আমরা চালাচ্ছি, সেটাতে কোনো ঘাটতি আমি দেখছি না।
গঙ্গা পানি চুক্তি প্রসঙ্গ
গঙ্গার পানি ভাগাভাগি-সংক্রান্ত বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ৩০ বছরের চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। এ চুক্তির নবায়ন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলছে জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটা মাথায় রেখে এ ব্যাপারে ভারত সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি বলেন, ‘গঙ্গা চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হচ্ছে। সব আলোচনা দৃশ্যমান নয়। আলোচনা চলতে থাকে। আমি বিশ্বাস করি, দ্বিপাক্ষিক যে আলোচনা চলছে, গঙ্গা চুক্তির গুরুত্ব এবং পানির গুরুত্ব ভারত বুঝতে পারছে। সেটা বিবেচনায় রেখে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কটা যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটা মাথায় রেখে ভারত সিদ্ধান্ত নেবে।’
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমরা মনে করি, এটা ইতিবাচক দিকে আগাচ্ছে। গঙ্গাচুক্তির বেশি সময় নেই। আমাদের যে টিম (যৌথ নদী কমিশন-জেআরসি) প্রধানমন্ত্রী করে দিয়েছেন, সেই কমিটি কাজ করছে ভারতের সঙ্গে।’
ইতিবাচক দিকে এগোনোর ব্যাখ্যায় শামা ওবায়েদ বলেন, ‘এটা ব্যাখ্যা করার কিছু নেই। আমি আশা করছি, ভারত গঙ্গাচুক্তির গুরুত্ব বুঝবে এবং সেভাবে উনারা এগিয়ে আসবেন।’
‘কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাস যোগ্যতার ভিত্তিতেই করা হচ্ছে’
এ সময় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে রদবদল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিষয়টিকে ‘একটি চলমান প্রক্রিয়া’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন হবে, নতুন দায়িত্বে নতুন ব্যক্তিরা আসবেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন ও রদবদল একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। সরকার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত জানানো হলে তখনই সবাই জানতে পারবেন কোথায়, কেন এবং কী কারণে রদবদল করা হয়েছে। এর আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করার সুযোগ নেই।
রদবদলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দক্ষতা, যোগ্যতা এবং কাজের প্রতি আন্তরিকতা। প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বশীলতাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, শুধু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নয়, সব মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রেই দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা, কাজের প্রতি নিষ্ঠা, দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা এবং ব্যক্তির যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই প্রয়োজনীয় রদবদল করা হয়।
তিনি আরও বলেন, রদবদল প্রক্রিয়া এখনও চলমান। সরকার থেকে গেজেট প্রকাশের পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
৪ ঘণ্টা আগে
হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে দেশে ফেরানোর চেষ্টা চলছে: শামা ওবায়েদ
জুলাই অভ্যুত্থানকেন্দ্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বুধবার (১ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
এদিন শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন কোনো আপডেট নেই। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।
‘অবশ্যই একজন আসামি, যিনি অন্যায় করে, অপরাধ করে আরেক দেশে অবস্থান করছেন এবং যার বিচার হয়েছে, যিনি সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাকে আমরা দেশে ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশের মাটিতে সেই বিচার সম্পন্ন করতে চাই। বাংলাদেশের জনগণও সেটাই চায়। সেই লক্ষ্যেই কাজ চলছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।’
পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, গত ১৭ বছরে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে জানিয়েছেন যে, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে ১০টি দেশের কাছে বাংলাদেশ অনুরোধ জানিয়েছে। যেসব দেশে অর্থ পাচার হয়েছে, সেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
তিনি বলেন, ‘এটা রাতারাতি হওয়ার মতো কোনো বিষয় নয়। এটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে আমরা মনে করছি, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যে চুক্তিগুলো হয়েছে এবং আলোচনা চলছে, সেগুলোর মাধ্যমে আমরা একধাপ এগিয়েছি। বাংলাদেশের জনগণের পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আমরা একধাপ এগিয়েছি। সেই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ও ‘টু প্লাস টু’ প্রস্তাব
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, ‘চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সবসময়ই ভালো ছিল। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে তারা আমাদের অত্যন্ত শক্তিশালী অংশীদার। প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর আমরা আশা করছি, চীনা বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন নতুন বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসবে।’
চীনের প্রস্তাবিত ‘টু প্লাস টু’ সংলাপ এবং অর্থনৈতিক করিডর (ইকোনমিক করিডর) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সবসময় বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা এবং তাদের চাহিদাকে সামনে রেখেই পরিচালিত হবে। যদি আমরা দেখি এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য উপকারী এবং জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনীয়, তাহলে অবশ্যই আমরা তা বিবেচনা করব।’
‘টু প্লাস টু’ সংলাপের প্রস্তাব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও চীনের প্রেসিডেন্টের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং সরকার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে চীনের মন্তব্য যে ‘এ সম্পর্ক নিয়ে তৃতীয় কোনো পক্ষের মাথা ঘামানোর সুযোগ নেই’, এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, সব দেশের সঙ্গেই আমাদের সম্পর্ক স্বতন্ত্র। চীনের সঙ্গে যেমন সম্পর্ক থাকবে, তেমনি অন্যান্য দেশের সঙ্গেও থাকবে। আমরা মনে করি না, এক দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক হলে আরেক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হবে। সব দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রেখে বাংলাদেশের স্বার্থ হাসিল করাই আমাদের লক্ষ্য।’
তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা
তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) নিয়ে তিনি বলেন, সমীক্ষাটি এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।
তিনি বলেন, ‘ফিজিবিলিটি স্টাডির জন্য যে কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন, চীন তা দিতে সম্মত হয়েছে। শুধু তিস্তা নয়, বাংলাদেশে নদী ব্যবস্থাপনার আরও অনেক বিষয় রয়েছে। সেসব ক্ষেত্রেও সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় তারা সহায়তা করতে চায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি এখনও শেষ হয়নি, শুরু হয়েছে। আগে যেখানে কাজ থেমে ছিল, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের পর সেখান থেকেই এটি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’
অর্থনৈতিক করিডর
মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশ-চীন প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি এখনও বিশ্লেষণাধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এটি বিশ্লেষণ করছি। যদি অর্থনৈতিক করিডরের মাধ্যমে যোগাযোগ সহজ হয়, তাহলে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে। তবে এতে কোনো জটিলতা বা সমস্যা আছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি প্রস্তাব। আমরা প্রস্তাবটিকে সাধুবাদ জানাই, কারণ এটি বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক হতে পারে। তবে বাস্তবে এটি কতটা কার্যকর হবে বা কোনো জটিলতা তৈরি করবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এ সময় সাংবাদিকরা জানতে চান, অতীতে ভারতের উদ্যোগে করিডোর নিয়ে যেভাবে আলোচনা হয়েছিল, তখন একটা ভিন্ন পেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল। বর্তমান প্রস্তাব নিয়েও তেমন কোনো জটিলতা তৈরি হতে পারে কি না।
জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো বিশ্লেষণ করছে এবং তাদের মূল্যায়নের ভিত্তিতেই সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
ভারতের বিভিন্ন থিঙ্ক ট্যাংকের মন্তব্য প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘ভারতের থিঙ্ক ট্যাংক কী বলছে, সেটা ভারতকেই জিজ্ঞেস করা যায়। এ বিষয়ে আমাদের মন্তব্য করার কিছু নেই।’
৮ দিন আগে
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে আদালতের নিষেধাজ্ঞা মানার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রে কিছু কিছু গণমাধ্যম আদালতের নিষেধাজ্ঞা মানছে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
দেশের কোনো কোনো গণমাধ্যম দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করছে, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা বাংলাদেশে একদম সরাসরি নিষেধ আছে। শুধু দণ্ডপ্রাপ্ত বলে না, তার বক্তব্য প্রচার করা যাবে না—এরকম আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে এবং আমাদের অনেক মিডিয়া এ কাজটা করছে। তার মানে হচ্ছে তারা আদালতের নিষেধাজ্ঞা, নির্দেশনা মানছে না।’
তিনি বলেন, যেহেতু এই মিডিয়াগুলো তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে আছে, তাই আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানাব যে তারা যেন এই কাজটা না করে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, আমরা এটা নিয়ে খুবই কঠোর কোনো অবস্থান নিচ্ছি তা না, কিন্তু এটা আবার স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, আমাদের মিডিয়াগুলো আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখবে, শ্রদ্ধা দেখাবে এবং তারা এসব প্রচার থেকে বিরত থাকবে।
এমন আহ্বান তো এর আগেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করেছিলেন, কিন্তু সেটি তো মানছে না—এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ঠিক আছে, আমরা আবার আহ্বান করব এবং কোনো একটা সময় হয়তো এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবা যেতে পারে।
তিনি বলেন, ঘটনা যেটা হয়েছে, সেটা হলো, তিনি (শেখ হাসিনা) যখন কথা বলেন, এটা অন্যান্য মিডিয়ায় যেহেতু আসে, মানুষ কোনো না কোনোভাবে সেটা জেনে যায়। কারণ এখন কানেক্টিভিটির যুগ। এটা আমি আবারও এর বাইরে গিয়ে, সরকারের বাইরে গিয়ে বলছি যে এটা আসলে শেষ পর্যন্ত ঠেকিয়ে রাখা যায় কি না, তা ভাবনার বিষয়। কারণ এই যে আপনি একটা বিদেশি মিডিয়ার রেফারেন্স দিচ্ছেন, সেই মিডিয়া আমাদের দেশ থেকে দেখা সম্ভব এবং অনেকে সেটা দেখছেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, যদি আদালত এই নিষেধাজ্ঞা না সরায়, তাহলে এসব বিষয় প্রচার করাটা অনুচিত। এটা ‘অপরাধ’ এভাবে বলছি না, এটা অনুচিত এবং আমি আশা করি আমাদের মিডিয়া দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
৯ দিন আগে
ফেনী মাসুম হত্যা মামলা: শেখ হাসিনাসহ ১৭৮ জন আসামিকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ
জুলাই অভ্যুত্থানকালে ফেনীতে নিহত ছাত্র মাহবুবুল হাসান মাসুম হত্যা মামলায় আত্মগোপনে থাকা শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ১৭৮ জন আসামিকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) ফেনীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ছালামাত উল্লাহ স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আদেশ জারির পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে। অন্যথায়, তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হতে পারে।
ঐ মামলায় আত্মগোপনে থাকা ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ফেনী–৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও ফেনী–২ আসনের সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ ১৭৮ জনকে আদালতে হাজির হতে এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
এর আগে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে ফেনীর মহিপালে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গুলিতে মাহবুবুল হাসান হত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ মামলায় ওবায়দুল কাদের ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১৬২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। মামলায় আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাতে মহিপালে নিহত মাহবুবুল হাসানের ভাই মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় এ মামলা করেন।
নিহত মাহবুবুল হাসান সোনাগাজী উপজেলার চর চান্দিয়া এলাকার নোমান হাসানের ছেলে। তিনি ছাগলনাইয়ার আবদুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ থেকে অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফলপ্রার্থী ছিলেন।
আদালত সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন ২২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি ফেনীর জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলি আদালতের বিচারক মোহাম্মদ হাসান এই অভিযোগপত্র আমলে নেন। একই সঙ্গে শেখ হাসিনাসহ ১৭১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
এ মামলার উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিরা হলেন— ফেনী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল, ফেনী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল।
মামলায় অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সভাপতি দিদারুল কবির, পরশুরাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র রফিকুল ইসলাম, ছাগলনাইয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. মোস্তফা, সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ, আওয়ামী লীগ নেতা জালাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, জেলা যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম ও ছাত্রলীগ নেতা জিয়া উদ্দিন। ছাত্র–জনতার আন্দোলনে গুলি করতে প্ররোচনা, উসকানি ও নির্দেশনার অভিযোগে তাদের আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ মামলায় ৫১ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গুলিবর্ষণে মাহবুবুল হাসানের মাথা, বুকে ও পিঠে গুলি লাগে। পরে তাকে চট্টগ্রামের পার্কভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৭ আগস্ট তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। সেদিন সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ওই দিন মোট ৭ জন নিহত হন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। এ ছাড়া অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধিকাংশ মন্ত্রী ও শীর্ষ নেতারাও দেশে ছেড়ে বিদেশে আশ্রয় নেন।
২৫ দিন আগে
প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাবে ভারত, প্রত্যাশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
বন্দি বিনিময় ও প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সরকার চায় শেখ হাসিনা দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হোন।
রবিবার (২৪ মে) সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এ প্রত্যাশার কথা জানান।
শেখ হাসিনা দেশে আসবেন বলে গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, উনার ট্রাভেল পাস চাওয়ার ক্ষেত্রে আলোচনা হচ্ছে; এ ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রস্তুতি বা কোনো তথ্য আছে কি না—জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আমি আরও অনেক আগে বলেছি। আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে তার প্রত্যর্পণের জন্য অনেক আগেই বারবার চিঠি পাঠিয়েছি।
তিনি বলেন, আমরা এখনো চাই আইনানুগ প্রক্রিয়ায় দুই দেশের মধ্যকার প্রত্যর্পণ চুক্তির বিধান অনুযায়ী ভারত সরকার তাকে ফেরত পাঠাবে। আমরা তো চাই তিনি বিচারের মুখোমুখি হোন।
জুয়া ও অনলাইন বাজি ঠেকাতে নতুন আইন
সংলাপে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জুয়া, অনলাইন জুয়া ও বাজি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, আশা করি ইনশাআল্লাহ আগামী অধিবেশনেই সেই আইনটি আমরা পাব। এখন পর্যন্ত যে আইনটি আছে, সেটা একদম মান্ধাতা আমলের। ১৮৬৭ সালের বোধহয় একটি আইন আছে।
বর্তমান বাস্তবতায় অনলাইন জুয়া, অফলাইন জুয়া ও ইন্টারনেটভিত্তিক বাজির মতো অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় পুরোনো আইন বাতিল করে আধুনিক ও যুগোপযোগী আইন আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে সংলাপে উপস্থিত ছিলেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।
৪৬ দিন আগে
শেখ হাসিনাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেরত চাই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেরত চায় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে শোনা যাচ্ছে যে শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসবেন, তার ফিরে আসার জন্য মিছিল হচ্ছে। আপনারা পর্যবেক্ষণ করছেন কি না?—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফিরে আসার কার্যক্রম কী? আমরাও তো তাকে ফেরত চাই, সেটা আইনিভাবে।
তিনি বলেন, আমরা তো তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দেশে ফেরত চাই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এবং বিদ্যমান এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয়েছে, যেন তিনি বাংলাদেশে মামলার মুখোমুখি হন।
রাজধানীর মিরপুরে চাঞ্চল্যকর রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল ও তার সহযোগী স্ত্রীকে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মূল আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সম্ভাব্য সংক্ষিপ্ততম সময়ের মধ্যে মামলার তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে সংঘটিত প্রতিটি জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারত্বের সঙ্গে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিটি ঘটনায় জড়িত আসামিদের দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং এর কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।
তিনি বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ ‘প্রো-অ্যাক্টিভ’ ও ‘রি-অ্যাক্টিভ’ উভয় পদ্ধতিতে কাজ করছে। মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানগুলো মূলত ‘প্রো-অ্যাক্টিভ’ বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, যাতে অপরাধ সংঘটিত না হয়। অন্যদিকে ধর্ষণ বা হত্যার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত অপরাধের ক্ষেত্রে ‘রি-অ্যাক্টিভ’ ব্যবস্থা হিসেবে দ্রুত আসামি গ্রেপ্তার এবং তদন্ত সম্পন্ন করা হচ্ছে।
৪৯ দিন আগে
নড়াইলে আ.লীগ কার্যালয়ে টাঙানো হলো মুজিব-হাসিনার ছবি ও জাতীয় পতাকা
কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের লোহাগড়া উপজেলা শাখা কার্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ও পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কয়েকটি ছবি টাঙানো ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তবে কে বা কারা এ কাজ করেছে, তা জানা যায়নি।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে শহরের জয়পুর এলাকায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কার্যালয়টিতে আগুন ধরিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা। সেই থেকে কার্যালয়টি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) অজিত রায় বলেন, এ বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
১৪১ দিন আগে
পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতি মামলায় হাসিনার ১০ বছরের জেল
রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দুটি পৃথক মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একইসঙ্গে যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে ৪ বছর এবং শেখ রেহানার সন্তান রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীকে পৃথকভাবে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও আরোপ করা হয়েছে। অনাদায়ে প্রত্যেককে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার বিশেষ জজ-৪ আদালতের বিচারক মো. রবিউল আলম এই রায় ঘোষণা করেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী তরিকুল ইসলাম তরিক রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ।
মামলার অন্য আসামিদের ৫ বছর করে কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
একই রায়ে মামলার বাকি আসামিদেরও অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দুদকের করা এই দুই মামলায় অভিযোগ আনা হয় যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার বোন শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীকে পৃথকভাবে ১০ কাঠা করে দুটি সরকারি প্লট বরাদ্দ দেন।
১৫৭ দিন আগে
জাহাজবাড়ি হত্যা মামলা: শেখ হাসিনা-কামালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল
রাজধানীর কল্যাণপুরের ‘জাহাজ বাড়িতে’ কথিত জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের নামে ৯ জনকে হত্যার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগটি জমা দেয় প্রসিকিউশন।
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম সাংবাদিকদের জানান, ২০১৬ সালে কল্যাণপুরের ওই ভবনে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ৯ জনকে হত্যার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, ডিএমপির সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলামসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
২০১৬ সালের ২৫ জুলাই কল্যাণপুরের ‘জাহাজ বাড়ি’ নামক বাড়িতে ৯ জনকে আটকে রেখে কথিত জঙ্গি নিধন অভিযানের নামে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ করা হয়। গত বছরের ২৪ মার্চ এ মামলায় সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, ডিএমপির সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং ডিএমপি মিরপুর বিভাগের সাবেক উপকমিশনার (ডিসি) মো. জসীম উদ্দীন মোল্লাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
এর আগে, চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা জানতে পেরেছে, ওই ৯ তরুণকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাদের কেউ কেউ দুই-তিন মাস ধরে ডিবি হেফাজতে ছিলেন। পরে তাদের ওই বাড়িতে জড়ো করা হয়। ঘটনার রাতে ‘ব্লক রেইড’-এর কথা বলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে হাজির হন। গুলি করে হত্যার পর তারা বিষয়টিকে ‘জঙ্গি হত্যা’ হিসেবে প্রচার করেন।
১৬১ দিন আগে
হাসিনা, টিউলিপ, ববিসহ ১৮ জনের মামলার রায় ২ ফেব্রুয়ারি
রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে গণঅভ্যুথ্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে করা একটি মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলম রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন। শেখ হাসিনা ছাড়াও তার ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকসহ মোট ১৮ জন এ মামলার আসামি।
আজ আদালতে মামলার আসামি খুরশীদ আলমের উপস্থিতিতে চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। খুরশীদ আলম এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া একমাত্র আসামি। তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
খুরশীদ আলমের পক্ষের আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম দুদক অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি বলে খালাসের দাবি করেন। বাকিদের আত্মপক্ষ উপস্থাপন বা আইনজীবী দ্বারা যুক্তি প্রদানের সুযোগ হয়নি।
মামলার অপর আসামিরা হলেন— গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, শেখ হাসিনার সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক পরিচালক শেখ শাহিনুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, তন্ময় দাস, সাবেক সহকারী পরিচালক ফারিয়া সুলতানা ও মাজহারুল ইসলাম, সাবেক উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ।
গত বছরের ১৩ জানুয়ারি দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ ববিকে প্রধান আসামি করে ১৬ জনের নামে মামলাটি করেন সংস্থার সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান। মামলাটির বিচার চলাকালে ২৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। গত ৩১ জুলাই বিচারক অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরুর আদেশ দেন। আজ যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হয়।
এর আগে, গত ১৩ জানুয়ারি পূর্বাচল প্রকল্পসংক্রান্ত আরেকটি দুর্নীতি মামলাতেও শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ১৭ জন সদস্যের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার জন্যও ২ ফেব্রুয়ারি দিনটি ধার্য করেন আদালত। ওই মামলায় শেখ হাসিনার দুই ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক রুপন্তীসহ সব আসামি পলাতক।
ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত জানুয়ারিতে ছয়টি মামলা করে দুদক। সেই মামলাগুলোতে শেখ হাসিনা ছাড়াও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, ভাগ্নি ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী ও ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিকে আসামি করা হয়।
চার মামলায় শেখ হাসিনাকে ইতোমধ্যে মোট ২৬ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। জয় ও পুতুলের পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড হয়েছে। এছাড়া শেখ রেহানার ৭ বছর এবং তার মেয়ে টিউলিপের ২ বছরের সাজা হয়েছে।
১৭২ দিন আগে