শেখ হাসিনা
শেখ হাসিনাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক উন্নয়নে বড় বাধা: মুশফিকুল
শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া এবং তাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ করে দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে ভারতকে এ দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে হবে এবং নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে আরও সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আয়োজিত এক আলোচনায় অতিথি বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনার প্রতিপাদ্য ছিল পরাশক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা, যুক্তরাষ্ট্র-চীন ও চীন-ভারত ভূরাজনীতি এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় গণতন্ত্র ও মানবাধিকার।
মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে ভারতকে আরও বেশি সচেষ্ট হতে হবে। শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া এবং তাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ করে দেওয়া জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে আরও কঠিন করে তোলে।’
তিনি আরও বলেন, সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য ভারতের পক্ষ থেকে আরও সুস্পষ্ট পদক্ষেপ প্রয়োজন। দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব একটি দেশের জনগণের সঙ্গে গড়ে তুলতে হয়; তা কোনো একজন নেতা বা একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না।
৮ দিন আগে
হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছা চায় বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ
দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরিয়ে আনতে চলমান প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ভারত ত্বরান্বিত করবে বলে বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে। আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক সদিচ্ছাও সমান গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
রবিবার (৪ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
ভারতীয় হাইকমিশনারের সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়ার বিষয় তো রয়েছেই, তবে এর পাশাপাশি রাজনৈতিক সদিচ্ছাও থাকতে হবে। আসামিদের ফেরত আনার জন্য যে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চলছে, তা যেন আরও দ্রুত সম্পন্ন হয়—ভারত সরকার সেই দিকে নজর দেবে বলেই আমরা আশা করি।’
দুই দেশেরই রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের অবশ্যই রাজনৈতিক সদিচ্ছা রয়েছে এবং ভারত সরকারেরও একই ধরনের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকা প্রয়োজন।
প্রত্যর্পণ চুক্তির কাঠামোর আওতায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণ করা অবশ্যই সম্ভব এবং এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
এর আগে গতকাল (শনিবার) বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আপনাদের সরাসরি উত্তর দিতে গেলে, ভারত সরকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মাধ্যমে বারবার এ বিষয়ে বলেছে, একটি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়ায় আইনি বিষয় জড়িত, আর এটি একটি সুসংগঠিত প্রক্রিয়া। সুতরাং সেই দিক থেকে প্রক্রিয়াটি চলমান।’
বিষয়টি আদালত সংশ্লিষ্ট হওয়ায় ‘কেউ কোনো সময়সীমা দিতে পারবে না’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকায় চলমান বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনেরর অংশ হিসেবে ‘পাওয়ার অ্যান্ড প্রুডেন্স: ম্যানেজিং গ্রেট-পাওয়ার কম্পিটিশন উইদাউট কনফ্লিক্ট’ শীর্ষক এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো সমাধানে দুই দেশের মধ্যে ধারাবাহিক সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন হাইকমিশনার।
দুই প্রতিবেশীর মধ্যকার প্রতিটি সমস্যারই সমাধান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিষয়গুলো গোপন করে রাখার কোনো মানে নেই, আর বিষয়গুলো নিয়ে কথা না বলারও কোনো মানে নেই।’
বেশ কয়েকটি প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, পানি, বাণিজ্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, যোগাযোগ, পরিবহনসহ সব অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে উপযুক্ত ফোরামের মাধ্যমে দুই দেশের আলোচনা করা প্রয়োজন।
দুই দেশের মধ্যে সম্পৃক্ততার প্রক্রিয়া ধীরগতির হতে পারে, তবে তা থেমে যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রে যথাযথ ফোরামে সংলাপ হতে হবে। আর সেই সংলাপ হতে হবে ধারাবাহিক।’
ভারতীয় এই কূটনীতিক বলেন, ‘আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিতে পারি, প্রক্রিয়ায় কোনো বিরতি নেই। প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিশ্বাস করুন, এর সমাধান হতে হবে এবং সমাধান হবেই।’
১৪ দিন আগে
হাসিনাকে ভারতীয় বিমান বা সেনাবাহিনী ভারতে আনেনি: ত্রিবেদী
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে সে দেশের বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী নিয়ে যায়নি—এ কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, ভারত থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের অনুরোধের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান এবং বিষয়টির সঙ্গে আদালত যুক্ত থাকায় এর কোনো সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীতে এক প্যানেল আলোচনায় প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘বারবার ভারত সরকার এ বিষয়ে বলেছে, একটি প্রক্রিয়া রয়েছে, আর সেই প্রক্রিয়াটি আইনি ও সুসংগঠিত। সুতরাং এ বিষয়ে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
বিষয়টির সঙ্গে আদালত যুক্ত থাকায় ‘কেউ কোনো সময়সীমা দিতে পারবে না’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার পর শেখ হাসিনা যে পরিস্থিতিতে ভারতে পৌঁছান, সে বিষয়েও ত্রিবেদী কথা বলেন। তিনি বলেন, ওই পরিস্থিতির জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত ছিল না।
বাংলাদেশ থেকে শেখ হাসিনার চলে যাওয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে, শেখ হাসিনাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা ভারতীয় সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে আসেনি।’
সে সময় বাংলাদেশের ‘মর্মান্তিক পরিস্থিতির’ কারণে ঘটনাটি ঘটেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি বিশ্বের কোথাও যেন আর কখনও না ঘটে।
হাইকমিশনার বলেন, শেখ হাসিনা যখন ভারতে পৌঁছান, তখনও তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং প্রতিবেশী দেশ হিসেবে নয়াদিল্লিকে ওই পরিস্থিতিতে সাড়া দিতে হয়েছিল।
১৫ দিন আগে
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগ অব্যাহত: সংসদীয় কমিটি
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে বলে একটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে সরকারের এ অবস্থান তুলে ধরা হয়।
কমিটির সভাপতি জহরত আদিব চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বৈঠকে বলা হয়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ভারসাম্যপূর্ণ থাকতে হবে। প্রতিটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব থাকবে; তবে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে গুরুত্ব দিয়েছেন বলেও বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে বৈঠকে বলা হয়, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে।
বৈঠকে অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, বিগত সময়ে বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় গুরুতর পদ্ধতিগত দুর্বলতা ছিল। যথাযথ যাচাই-বাছাই না করার ফলে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা বর্তমানে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রবাসী কর্মীদের তথ্য ও নথিপত্রের যথাযথ সত্যায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও কার্যকর প্রক্রিয়ায় উপযুক্ত ও যাচাই করা রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
নিরাপদ অভিবাসন ও প্রবাসী কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মাইগ্রেশন উইং চালু করা হয়েছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়।
এছাড়া দালাল ও অননুমোদিত মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রতারণা থেকে সম্ভাব্য অভিবাসীদের সুরক্ষায় তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালানো এবং বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং আগামী অক্টোবরে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের আশা প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, মো. আমানউল্লাহ আমান, এস কে আজিজুল বারী, এ বি এম মোশাররফ হোসেন ও সানজিদা ইসলাম অংশ নেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে অংশ নেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
৩১ দিন আগে
শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ আইন নির্ধারণ করবে: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আপিল করতে চাইলে আইন সেটা নির্ধারণ করবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আইন ও বিচার বিভাগ এবং ব্র্যাকের মধ্যে ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আপিলের সুযোগ পাবেন না এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে—এমন আলোচনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জবাবে তিনি বলেন, ‘যখন উনি আপিল করতে চাইবেন, তখন আইন তা নির্ধারণ করবে। তার আগে না।’
এর আগে শেখ হাসিনাকে ভারত হস্তান্তর করবে না বলে দেশটির একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে এটি আইন মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রত্যর্পণ আপনি আগে দেখেন, প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তির সঙ্গে কোন কোন মন্ত্রণালয় জড়িত থাকে, সেটা দেখে তারপর প্রশ্ন করেন।’
‘আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে’ — সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার) সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের এমন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি মঙ্গলবার এজলাস ত্যাগ করেছেন। এ ঘটনা নিয়ে আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকরা। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আশা করি প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্ট বার এ বিষয়ে নিষ্পত্তি করে ফেলেছেন।’
তিনি আরও বলেন, এটা বার আর বেঞ্চের অভ্যন্তরীণ সম্পর্কের ব্যাপার। কখন, কীভাবে সমাধান করতে হয়, তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সক্ষম।
৩৯ দিন আগে
অনুমতি ছাড়া কনসার্ট, শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান; আয়োজক কারাগারে
গোপালগঞ্জে পুলিশের অনুমতি ছাড়া কনসার্ট আয়োজন এবং সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার আয়োজক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হাফিজুর রহমান পিয়ালকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম। পরে জেলার পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ জানান, আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গতকাল (সোমবার) বিকেলে এফএনএফ কনভেনশন হল অ্যান্ড পার্টি সেন্টারের গ্র্যান্ড ওপেনিং উপলক্ষে গোপালগঞ্জ পৌর পার্কে কনসার্টের আয়োজন করা হয়। এতে অতিথি শিল্পী হিসেবে গান পরিবেশন করেন মাইনুল আহসান নোবেল।
অনুষ্ঠান চলাকালে দর্শকসারি থেকে শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান দেওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ‘শেখ হাসিনা, শেখ হাসিনা’ স্লোগানে কনসার্ট এলাকা উত্তাল হয়ে ওঠে। আয়োজকরা স্লোগান বন্ধ করতে দর্শকদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। মঞ্চ থেকেও ঘোষণা দেওয়া হয়, এটি কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়। তবে এরপরও স্লোগান অব্যাহত থাকায় রাত সোয়া ৯টার দিকে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়।
গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ বলেন, কনসার্ট আয়োজনের আগে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার বিষয়ে আয়োজকদের সতর্ক করে অনুষ্ঠান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি নিজস্ব পার্টি সেন্টারের ভেতরে ছোট পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা বলা হয়েছিল।
কিন্তু পুলিশের অনুমতি না নিয়েই কনসার্টের আয়োজন করা হয় জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা সেখানে একত্রিত হয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে হাফিজুর রহমান পিয়ালকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
৪০ দিন আগে
শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে সরকারের কোনো দ্বিধা নেই: ডা. জাহেদ
শেখ হাসিনা নিজে দেশে ফিরুন কিংবা ভারত থেকে তাকে ফিরিয়ে আনা হোক, তাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে সরকারের কোনো দ্বিধা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনাকে সরকার ফিরিয়ে আনতে চায় কি না, এ নিয়ে কেউ কেউ যে ধরনের অনুমান করছেন, তা সঠিক নয়। ভারতের ওপর চাপ তৈরির জন্য প্রত্যর্পণের দাবি তোলা হচ্ছে, এমন কোনো কৌশল সরকারের নেই। ভারত সরকারের সঙ্গে বিষয়টি শর্ত হিসেবে দেওয়া হয়েছিল এবং সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায়ই বলছি, আপনি (শেখ হাসিনা) আসবেন না, আপনাকে ধরে নিয়ে আসতে চাই। আপনি আসামি, আপনি পলাতক আসামি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।’
শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ নিয়েও কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার এখন আর আপিল করার সুযোগ নেই। ফলে তিনি দেশে ফিরে বিচার পুনর্বিবেচনার সুযোগও পাবেন না।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘টেকনিক্যালি এখন ব্যাপারটা এ রকম, তিনি আসবেন এবং তার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে। আমরা তাকে ধরে আনতে চাই।’
সম্প্রতি শেখ হাসিনা ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন উল্লেখ করে এ বিষয়ে ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে সংবাদমাধ্যমে কথা বলছেন, এটি সরকারের কাছে অপ্রত্যাশিত। প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত তিনি যেন এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে না পারেন, ভারত সরকারের কাছ থেকে সে বিষয়ে পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছিল বাংলাদেশ। ‘আমরা এক্সপেক্ট করব, ভারত সরকার এ ব্যাপারে তাকে একটা বার (বাধা) দেবেন।’
একই সঙ্গে শেখ হাসিনা ভারতে কী ধরনের মর্যাদা বা অধিকার ভোগ করছেন, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভারত সরকারের এই অবস্থান ‘সঠিক হচ্ছে না’ উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার দাবি শক্তিশালী এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের কোনো দ্বিধা নেই।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের উন্নয়নে ভারত চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে একটি পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, ‘ইন্ডিয়ান সরকার সম্পর্কটা উন্নতি করার জন্য অন্তত একটা স্টেপ ইমিডিয়েটলি নিতে পারত, সেটা হচ্ছে তার মুখ বন্ধ রাখা। সেটা কেন নিচ্ছে না, সেই জবাব আমার মনে হয় আমি আপনাদের কাছে চাইব।’
ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তিনি গণমাধ্যমবান্ধব এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলেন। পেশাদার কূটনীতিকের পরিবর্তে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোকে বাংলাদেশ ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখেছে বলেও জানান তিনি।
তবে শেখ হাসিনার বক্তব্যের কারণে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে, তা ভারতীয় পক্ষের বোঝা উচিত বলে মন্তব্য করেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় বাংলাদেশিরা হামলার শিকার হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে ভারতীয় গণমাধ্যমে কথা বলতে দেখা বাংলাদেশের মানুষের জন্য কতটা বিরক্তিকর ও ক্ষোভের, তা ভারত সরকারের বোঝা উচিত।
শেখ হাসিনার একটি সংবাদ সম্মেলনের পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিবাদলিপির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির জন্য একটি আস্থার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘একটা এনভায়রনমেন্ট আসলে লাগবে, আস্থার এনভায়রনমেন্ট। আমাকে কনভিন্সড হতে হবে, আপনি আসলে আমার সঙ্গে যথেষ্ট এনগেজ করতে চাইছেন।’
সার্বিকভাবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবিকে বাংলাদেশের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান হিসেবে তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, তাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে সরকারের কোনো কৌশল বা দ্বৈত অবস্থান নেই। তিনি নিজে দেশে ফিরুন কিংবা তাকে ফিরিয়ে আনা হোক, সরকার তাকে দেশে ফেরাতে চায়।
৪০ দিন আগে
শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: হাসিনা, বেনজিরসহ ৩০ জনকে আত্মসমর্পণে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাকাণ্ডে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার পলাতক আসামি শেখ হাসিনা, বেনজীর আহমেদসহ ৩০ জনকে আত্মসমর্পণ করতে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিজ্ঞপ্তিতে ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হাজির হতে নির্দেশনা দিয়ে এ মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে।
প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ (বৃহস্পতিবার) এই আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এদিন সকালে গ্রেপ্তার হাসানুল হক ইনু, শাহরিয়ার কবির, দীপু মনিসহ ১০ আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তবে অসুস্থ থাকায় আনা হয়নি সাংবাদিক ফারজানা রুপাকে।
ট্রাইব্যুনালে আনা অপর আসামিরা হলেন: তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল ও ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু।
পলাতকরা হলেন: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, তৎকালীন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এস এম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম শিবলী নোমান ও তৎকালীন মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বি এম ফরমান আলী।
এর আগে গত ১৬ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় ১১ আসামিকে হাজির করার কথা ছিল। তবে দুজনের নামে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যু না হওয়া এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিকৃত ব্যক্তিদের নন এক্সিকিউটিভ রিপোর্ট বা এনইআর না আসায় সময় চায় প্রসিকিউশন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
গত ২৭ জুলাই ৪১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে পলাতকদের নামে পরোয়ানা ও গ্রেপ্তারদের হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ মামলায় দুটি অভিযোগের মধ্যে প্রথমটিতে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে ঢাকায় ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা আনা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগে আনা হয়েছে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনা।
৪৫ দিন আগে
শেখ হাসিনাকে সমর্থনকে অপরাধ গণ্য করতে আইন লাগবে: ডা. জাহেদ
শেখ হাসিনার পক্ষে কথা বলা বা তাকে সমর্থন করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হলে এ বিষয়ে আইন করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
সচিবালয়ে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতির বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. জাহেদ বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেই তাকে অপরাধী বানানো যাবে না। আইনের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
সাংবাদিকদের একাংশ শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধের সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখেছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে এবং সেই অপরাধের আওতায় নেওয়ার মতো তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার হচ্ছে। কয়েকজন সাংবাদিক এরই মধ্যে এ ধরনের মামলায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, কোনো কিছুকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার আগ পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ আনা যায় না। আইন করে অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগই ছিল—সেখানে ন্যায়বিচার ছিল না এবং আইনের ভিত্তিতে কাজ করা হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে আইন থাকলেও তা পরিকল্পিতভাবে খারাপ আইন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তাই বর্তমান সরকার বা ভবিষ্যতের কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে কেউ যেন অন্যায়ের শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে গোপনে বৈঠক বা ষড়যন্ত্রের অভিযোগের বিষয়ে ডা. জাহেদ বলেন, কোনো গোপন বৈঠক হয়েছে কি না, সেটি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দেখার বিষয়। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যাহত হতে পারে—এমন কোনো তৎপরতা হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় আলাদা ‘সাংবাদিক সুরক্ষা আইন’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হামলা বা নির্যাতনের ঘটনায় প্রচলিত আইনেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন আইন করা যেতে পারে, তবে শুধু নতুন আইন করলেই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে—এমন নয়। তার মতে, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাগুলোর বিচার বিদ্যমান আইনেই অব্যাহত রাখা উচিত।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাংস্কৃতিক কর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, তদন্ত চলাকালে কারও নাম নিয়ে অনুমাননির্ভর আলোচনা করা উচিত নয়।
প্রধান প্রসিকিউটর কোনো সাংস্কৃতিক কর্মীর সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার কথা জানালেও আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ না হওয়া পর্যন্ত কারও নাম প্রকাশ করা ঠিক হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেন্সেশনালিজমের (চাঞ্চল্য সৃষ্টি) জন্য যে কারও একটা নাম বলে ফেলা উচিত নয়। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা যাচাই করে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ (অভিযোগ) গঠন করা হলে গণমাধ্যম তখন বিষয়টি জানতে পারবে।’
৪৭ দিন আগে
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে গোপন তৎপরতা খতিয়ে দেখতে খুবিতে তদন্ত কমিটি
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে গোপন তৎপরতায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) কোনো শিক্ষক জড়িত কি না, তা অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (১১আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এস এম মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক কার্যালয়ের আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
কার্যালয়ের আদেশে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও নানা সূত্রের খবরে জানা গেছে, শেখ হাসিনাকে ফেরাতে দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক একটি গোপন তৎপরতায় যুক্ত হয়েছেন। উক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক এ ধরনের কোনো গোপন অপতৎপরতায় জড়িত আছেন কি না, তা সুষ্ঠুভাবে অনুসন্ধানের লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো।
গঠিত কমিটিতে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলমকে সভাপতি ও ছাত্র বিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। এছাড়া কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন: শিক্ষা স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল জব্বার, আইন স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নাসিফ আহসান ও সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. শেখ শারাফাত হোসেন।
আদেশে কমিটিকে আগামী ১ মাসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
৬৮ দিন আগে