শেখ হাসিনা
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে গোপন তৎপরতা খতিয়ে দেখতে খুবিতে তদন্ত কমিটি
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে গোপন তৎপরতায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) কোনো শিক্ষক জড়িত কি না, তা অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (১১আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এস এম মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক কার্যালয়ের আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
কার্যালয়ের আদেশে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও নানা সূত্রের খবরে জানা গেছে, শেখ হাসিনাকে ফেরাতে দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক একটি গোপন তৎপরতায় যুক্ত হয়েছেন। উক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক এ ধরনের কোনো গোপন অপতৎপরতায় জড়িত আছেন কি না, তা সুষ্ঠুভাবে অনুসন্ধানের লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো।
গঠিত কমিটিতে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলমকে সভাপতি ও ছাত্র বিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। এছাড়া কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন: শিক্ষা স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল জব্বার, আইন স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নাসিফ আহসান ও সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. শেখ শারাফাত হোসেন।
আদেশে কমিটিকে আগামী ১ মাসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
৭ দিন আগে
হাদি হত্যার আসামি ও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার তাগিদ ঢাকার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ এবং শহিদ ওসমান হাদিকে হত্যায় অভিযুক্তদের বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সাক্ষাৎ করতে গেলে দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর মধ্যে এ দুটি বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।
বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
একই সঙ্গে শহিদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত হত্যাকারীদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও ভারতের প্রতি অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
আজ বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে স্বাগত জানান। এ সময় হাইকমিশনার ঢাকায় গত দুই মাস দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এ তথ্য জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
গত জুনে বাংলাদেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন দীনেশ ত্রিবেদী।
সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
গত এপ্রিল মাসে পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিক, সাবেক রেলমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী ত্রিবেদীকে বাংলাদেশের ষোড়শ হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয় ভারত। তিনি প্রণয় কুমার ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হন।
গত ২৫ জুন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করার মাধ্যমে ত্রিবেদী আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ঢাকায় কূটনৈতিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনি ইতোমধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
৮ দিন আগে
সরকারের নিজ দায়িত্বে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা উচিত: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকারের নিজ দায়িত্বে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা উচিত। তার ওপর যে রায় হয়েছে এবং যেসব বিচারিক প্রক্রিয়া অপেক্ষমাণ রয়েছে, সেগুলোর মুখোমুখি তাকে হতে দেওয়া উচিত।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বাগেরহাট সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ ও তার সঙ্গী-সাথীদের তাদের দলে (জামায়াতে) নিতে গেলে অবশ্যই কেন্দ্রের অনুমতি নিতে হবে। কেন্দ্রের অনুমতি ছাড়া কাউকে দলে নেওয়া যাবে না। আমাদের কাছে কেউ অনুমতি চায়নি। অতএব কাউকে তাদের দলে নেওয়া হয়নি। আমরা মনে করি না, এখনই আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে আসার উপযুক্ত।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের রাজনীতি হত্যা করেছে। তারা দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে, অসংখ্য মায়ের বুক খালি করেছে। অসংখ্য মানুষ গুম হয়েছে। গুম হওয়া মানুষদের সবাই এখনও ফিরে আসেনি। এ অবস্থায় খোলস বদল করে আওয়ামী লীগ আবার রাজনীতিতে চলে আসবে। এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ দুঃখ প্রকাশ করেনি। তাদের মধ্যে অনুশোচনা নেই। পাশের দেশ থেকে উসকানি অব্যাহত রেখেছে। দল ভারী করার জন্য তাদের (আওয়ামী লীগকে) রাজনীতিতে সামিল করলে তা হবে অন্যায়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, সরকারের নিজ দায়িত্বে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা উচিত। তার ওপর যে রায় হয়েছে এবং যেসব বিচারিক প্রক্রিয়া অপেক্ষমাণ রয়েছে, সেগুলো তাকে ফেস করতে দেওয়া উচিত। বিচার হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে। আমরা অন্যায্য বিচার চাই না।
তিনি বলেন, সংসদে কৌশলগত বিষয় এলে সরকার বিরোধী দলকে সহজে কথা বলতে দেয় না। সংসদে পদ্ধতিগতভাবে কথা বলতে গেলে মাঝে মধ্যে বাধাগ্রস্ত হতে হয়। তবে সে দাঁড়িয়ে গেলে স্পিকার তাকে বাধা দেন না। তিনি আশা করেন, সরকার এই বাধা তুলে নেবে।
তিনি আরও বলেন, দেশে নানান সমস্যা আছে। তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে দেশের জনগণ সরকারি দলের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। জনগণ পাঁচ বছর সরকারি দল এবং বিরোধী দলের কার্যক্রম বিবেচনায় নেবে। পাঁচ বছর পরে জনগণ বিচারের রায় প্রদান করবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজনীতিতে আসলে শারীরিক ব্যায়ামের জায়গা নেই। দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে রাজনীতিতে মাসল পাওয়ারের ব্যবহার দেখে আসছি। রাজনীতি হচ্ছে নীতির রাজা, এখানে শারীরিক কসরতের জায়গা নেই। বুদ্ধি-বিবেচনা করে রাজনীতি করতে হয়। রাজনীতির উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে সেবা দেওয়া।
তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনের পর দেশে জামায়াতের চারজন খুন হয়েছেন। সুন্দর বাংলাদেশ আমাদের পেতেই হবে। তা না হলে রাজনীতিতে আমাদের ব্যর্থতাই প্রমাণিত হবে। দেশে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সরকারি দলের। দায়িত্বশীল ভূমিকা তাদেরকেই পালন করতে হবে। সরকারি দল যত আন্তরিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেবে, দেশ তত সুন্দরভাবে চলবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল হিসেবে যেখানে সহযোগিতা করা দরকার সেখানে সহযোগিতা করে থাকি। আর যেখানে বিরোধিতা করা দরকার সেখানে বিরোধিতা করি।
জামায়াত আমির বলেন, সরকারি দল সরকার পরিচালনা করলেও দেশের সমস্ত মানুষ সরকারকে ভোট দেয় না। মানুষ তার পছন্দমতো ভোট দেয়। এটাই গণতন্ত্রের ভাষা। এ সময় মিডিয়া পুরোপুরি স্বাধীন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিডিয়া পুরোপুরি স্বাধীন হওয়া উচিত।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাগেরহাট জেলা শাখা এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিমি এতে সভাপতিত্ব করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, খুলনা অঞ্চল পরিচালক ও সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, জামায়াত নেতা বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান খান, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম প্রমুখ।
১১ দিন আগে
হাসিনা গণহত্যাকারী ও পলাতক আসামি হিসেবে কারাগারে যাবেন: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে আসলে গণহত্যাকারী ও পলাতক আসামি হিসেবে কারাগারে যাবেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘আগামী শৈলকূপা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা খুন, গুম ও গণহত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না, এ কথা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি যদি সত্যের মুখোমুখি হতে চান, তবে অবশ্যই তার দেশে ফিরে আইনি লড়াই চালানো উচিত।
তিনি আরও বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে এবং এর হাত অনেক লম্বা। হাসিনা নিজেই ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা বলেছেন। আইনও চায় তিনি দেশে ফিরে আসুক, গণহত্যার দায় স্বীকার করুক এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কারাগারে যাক।
শেখ হাসিনার বক্তব্য ও সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া অডিও বার্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিনি ভিডিও কনফারেন্সে আসার সাহস পাননি, কেবল একটি অডিও ক্লিপ পাঠিয়েছেন, যা অনেকেই এআই-জেনারেটেড বলছেন। আমার দৃষ্টিতে তিনি একজন পরোয়ানাভুক্ত ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। চার-সাড়ে চার হাজার মানুষকে ক্রসফায়ারে হত্যা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চৌদ্দশত মানুষকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যার প্রধান অভিযুক্ত তিনি। এতদিনেও কি তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা এসেছে? তিনি কি এতগুলো অপরাধের জন্য জনগণের কাছে মাফ চেয়েছেন?’
বিচার বিভাগের আধুনিকায়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমার স্বপ্নের বিচার বিভাগ হবে সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল। সৃষ্টিকর্তার পরেই যেন মানুষ বিচার বিভাগের ওপর নিজের আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে পারে, সেই পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। অবকাঠামো বা পদ্ধতিগত সংকটের চেয়েও বিচার বিভাগের প্রধান সমস্যা হলো মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বিচারকের অভাব। বিচারকদের মনে রাখতে হবে, এটি কেবল আর দশটা চাকরির মতো কোনো পেশা নয়; ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং জনগণের আমানত রক্ষা করাই তাদের মূল দায়িত্ব।’
উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এই মতবিনিময় ও স্মরণসভায় অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছান, শৈলকূপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহফুজুর রহমান এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক নেতা এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশ নেন।
১১ দিন আগে
বাংলাদেশের জনগণের সেন্টিমেন্টের বিষয়ে ভারতকে আরও বেশি সংবেদনশীল হতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতি ও সংবেদনশীলতার বিষয়ে ভারতকে আরও বেশি সংবেদনশীল হতে হবে। তিনি বলেন, ভারতের মাটিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতারা যদি ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে থাকেন এবং ভারত সরকার তা বন্ধ না করে, তাহলে তা বাংলাদেশের জনগণের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি ভারতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতারা নিজেদের দোষ অস্বীকার করার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বক্তব্য এবং বাংলাদেশকে ‘জঙ্গি রাষ্ট্র’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে কূটনৈতিক ভাষায় তার অবস্থান পরিষ্কার করেছে।
তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাদের বিবৃতি দেখেছেন। বিবৃতিতে ডিপ্লোম্যাটিক ভাষায় যতটুকু একটি দেশকে বোঝানো যায়, সেটা আমরা বলেছি। এর আগেও আমরা বারবার বলেছি, ভারতের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে—বাংলাদেশের সঙ্গে তারা কী ধরনের সম্পর্ক চায়।’
তিনি বলেন, ‘একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি যখন ভারতের মাটিতে বসে এই ধরনের কথা বলে এবং ভারত সরকার সেটা এলাউ (অনুমোদন) করে, তখন অবশ্যই বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটা উদ্বেগের জায়গা তৈরি হয় যে আমাদের ভবিষ্যতের সম্পর্ক কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে।’
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ‘জঙ্গিবাদ’ ইস্যু রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ এনে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, অতীতেও আওয়ামী লীগ সরকার দেশে কোনো ঘটনা ঘটলেই ‘এক্সট্রিমিজম’ ও ‘টেররিজম’-এর একটি বয়ান দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, তাদের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং অন্যান্য কর্মকাণ্ড আড়াল করতে জঙ্গিবাদের তত্ত্ব ব্যবহার করা হয়েছে। এটি আওয়ামী লীগের পুরোনো রাজনৈতিক কৌশল। এখন তারা বিদেশের মাটিতে বসেও সেই একই ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
‘তবে এটা ভারত এলাউ করবে কি করবে না, সেটা ভারত সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে’, বলেন তিনি।
বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে যুক্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টা নাকচ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলেও এ ধরনের বয়ান দেশি-বিদেশি কেউ বিশ্বাস করেনি, এখনও বিশ্বাস করার প্রশ্নই ওঠে না।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন জনগণের সমর্থিত, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত একটি সরকার আছে, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত একটি বিরোধী দল আছে। এখানে কোনোভাবেই জঙ্গিবাদের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এটা আন্তর্জাতিক মহলে মনোযোগ আকর্ষণের একটি পুরোনো রাজনৈতিক প্রচেষ্টা।’
আওয়ামী লীগের মানবাধিকারবিষয়ক বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। অতীতে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং জুলাই-আগস্টের সহিংসতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যারা এসব ঘটনার সময় নীরব ছিল, তাদের মুখে এখন গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে কথা শোনা ‘হাস্যকর’।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ। গত ১৭-১৮ বছরে যে ফ্যাসিবাদ চলেছে, সেটি আবার ফিরে আসুক—এটা বাংলাদেশের মানুষ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণ এবং দুই দেশের সরকারই সম্পর্ক উন্নত হোক—এটাই চায়। ‘কিন্তু ভারতের মাটিতে বসে স্বৈরাচারী, ফ্যাসিবাদী, সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের লোকজন এবং আওয়ামী লীগের প্রধান যদি এই ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক কাজকর্ম চালিয়ে যেতে থাকে এবং সেটা যদি ভারত সরকার এখনই বন্ধ না করে, তাহলে অবশ্যই সেটা বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটা উদ্বেগের জায়গা তৈরি করে।’
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, দুই দেশের মধ্যে পানি, জ্বালানি, সীমান্তসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ইস্যু রয়েছে, যেগুলোর সমাধান সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমেই করতে হবে। ‘আমরা আলোচনা করতে চাই। কিন্তু ভারতের মাটিতে আশ্রয় নেওয়া সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত ভারতকেই নিতে হবে,’ বলেন তিনি।
ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ারম্যান এবং ব্রিকস একটি গুরুত্বপূর্ণ বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্ম। বাংলাদেশ এ ধরনের বহুপাক্ষিক উদ্যোগে অংশ নিতে আগ্রহী। তবে প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসে যোগ দেবেন কি না, সেটি তার নিজস্ব সময়সূচি ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে বলে জানান তিনি।
ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে বৈঠক অব্যাহত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার-টু-সরকার সম্পর্ক সবসময়ই বহুমাত্রিক।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ তো একটি জায়গায় আটকে থাকতে পারে না। ভারতের সঙ্গে আমাদের জ্বালানি সহযোগিতা আছে, পানি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আছে, সীমান্ত ইস্যু আছে। এসব বিষয় আলোচনার মাধ্যমেই এগিয়ে নিতে হবে। এই সংলাপ চলবে।’
তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাটি এমন একটি বিষয়, যা ‘জুলাই যোদ্ধা’, তাদের পরিবার এবং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের অনুভূতিকে আঘাত করেছে।
‘যেটা বাংলাদেশের ১৭ কোটি সাধারণ গণতান্ত্রিক মানুষ, যারা যুদ্ধ করেছে, প্রাণ দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে—তাদের আহত করে। সেই জায়গাটায় ভারতকে আরও বেশি সংবেদনশীল হতে হবে এবং এ বিষয়ে তাদের খুবই বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে,’ বলেন তিনি।
ভারতের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের সফর ও যোগাযোগ ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ। বাংলাদেশের বিষয়ে তাদের পররাষ্ট্রনীতি কী হবে, সেটি তাদেরই সিদ্ধান্ত।’
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক থাকুক, কারণ সেটি জনগণের স্বার্থে। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে সমতার ভিত্তিতে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা-সম্মান এবং উভয় দেশের স্বার্থকে অক্ষুণ্ন রেখে। ভারত যদি সেটা উপলব্ধি করতে পারে, তাহলে সেটাই সবার জন্য মঙ্গলজনক হবে।’
১২ দিন আগে
ভারত আবারও শেখ হাসিনাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে: রিজভী
ভারত আবারও শেখ হাসিনাকে ‘টুল’ বা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেছেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যে দেশ নিজেদের বৃহত্তর গণতান্ত্রিক দেশ বলে দাবি করে, তারা এটিকে প্রশ্রয় দিয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতাকে অপমান করা হয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশকে অবজ্ঞা করার জন্য।
জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) শহিদ পরিবারকে অনুদান প্রদান ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ‘শহিদ জুলাই স্মৃতি সংসদ’।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আগে ভারত শেখ হাসিনাকে দিয়ে বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও এখন আর পারছে না। সে কারণে শেখ হাসিনাকে আবারও ‘টুল’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, রক্তপান করা দানবকে বাংলাদেশ থেকে তাড়ানো হয়েছে। এখন একটি প্রশ্ন এসেছে— একজন পলাতক আসামি কি সেই দেশ (ভারত) থেকে রাজনীতি করার সুযোগ পেতে পারেন? ভারত আশ্রয় দিয়েছে, সেখানে থাকুক। কিন্তু সেখান থেকে বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্য অনর্গল অডিও রেকর্ড ও বার্তা পাঠানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যে তারিখে শেখ হাসিনার পতন হয়েছে, সেই তারিখেই আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের সরকার এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। কিন্তু ভারতের সরকার বলেছে, এটার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে এ ধরনের একটি অনুষ্ঠান করতে গেলে তো সরকারের অনুমতি লাগে। সরকারের ‘গ্রিন সিগনাল’ না থাকলে একজন খুনি, পলাতক আসামি এবং তার ছেলে কীভাবে সংবাদ সম্মেলন করেন?
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশে শেখ হাসিনা এলে দেশে আবারও রক্তগঙ্গা বয়ে যাবে। তিনি কাউকে বাঁচতে দেবেন না।’
তিনি বলেন, সংগত ন্যায়বিচার আওয়ামী লীগের আমলে কেউ করেনি। শেখ হাসিনার আমলে কোনো আদালত, কোনো বিচারকই ন্যায় বিচার করেননি। যদি কেউ বিচার করার চেষ্টা করতেন, তবে তার গুম হওয়ার সম্ভাবনা থাকত এবং তাকে প্রাণের ভয়ে দেশ ছেড়ে পালাতে হতো।
১২ দিন আগে
হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগটি ভারতীয় নীতি-নির্ধারকদের পরিকল্পিত: রিজভী
গ্লোবাল জার্নালিস্ট ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার প্রোগ্রামে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি ভারতের নীতি-নির্ধারকদের পরিকল্পিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে পলাতক একজন আসামি। তার মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া খুনসহ বিভিন্ন দুর্নীতির মামলায় তার বিচার চলছে। তিনি একটি দেশে পালিয়ে গেছেন। আমাদের দেশের ২০১৩ সালের এক্সট্রাডিশন আইনের মাধ্যমে সে দেশ শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে পারে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার জন্য সরকার সেদেশে চিঠি দিয়েছে, কিন্তু সেই চিঠির কোনো জবাব দেওয়া হয়নি। একজন পলাতক আসামিকে প্রত্যর্পনের জন্য, তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য যে আইন, সেই আইনে দুই দেশ সই করেছে, এগ্রিমেন্ট করেছে। অথচ তারপরও তাকে ফিরিয়ে না দিয়ে তাকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মনে করেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া মানে আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি একটা অপমান। এই অপমান পার্শ্ববর্তী দেশ—যাকে আমরা বন্ধু রাষ্ট্র বলি, আমরা সমমর্যাদার ভিত্তিতে পরস্পর অবস্থান করব—আর অন্যান্য দেশ যারা রয়েছে, সেখানে একজন পলাতক আসামিকে তার রাজনৈতিক বক্তব্য তুলে ধরার জন্য সুযোগ করে দেওয়া হলো তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সহযোগিতায়। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
এতে দুদেশের পারস্পরিক বিশ্বাস এবং সম্মানকে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষিত করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিতভাবে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এই সংবাদ যখন বাংলাদেশ সরকার পেয়েছে, তখন সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি জানিয়েছে ভারতের সরকারকে। কিন্তু ভারত সরকার তাতে কোনো সাড়া দেয়নি। গত ৫ই আগস্ট—যেদিন তার পতনের দিন, এ দেশের জনগণ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার অধিকার আদায়, বাকস্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে এক অভূতপূর্ব গণজাগরণ ও মহাবিপ্লব সম্পন্ন করেছিল এবং তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন—ঠিক সেই দিনটিতেই দিল্লিতে এই ধরনের একটি প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়েছে। আর সেখানে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার মতো সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এটা সম্পূর্ণরূপে ভারতীয় নীতি-নির্ধারকদের পরিকল্পিত একটি বিষয়।
বিএনপির এই নেতা বলেন, যে গণবিপ্লবে হাজারেরও বেশি তরুণ, কিশোর ও শিক্ষার্থীদের জীবন চলে গেল, তাদের রক্ত ঝরল রাজপথে, বাংলাদেশে এক ভয়ঙ্কর বিয়োগান্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে পালাতে বাধ্য হলো এক ভয়ঙ্কর রক্তপিপাসু স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট, তাকে পার্শ্ববর্তী একটি দেশ, যেটি পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র বলে তারা নিজেরা দাবি করে, সেই দেশে তাকে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে!
তিনি বলেন, ওই যেদিন তার পতনের দিন, যেদিন ভয়ঙ্কর রক্তঝরানো পথ পেরিয়ে বিপ্লব সাধিত হলো, সেই দিন তাকে বক্তব্য রাখতে দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, ওই শহিদদের প্রতি, যাদের রক্ত ঝরিয়েছে শেখ হাসিনা, তাদের অপমান করার জন্যই এই সুযোগটা করে দেওয়া হয়েছে তাকে বক্তব্যে সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে। তিনি আবারও এই ঘৃণ্য প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানান।
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর যখন উদ্যোগ নেওয়া হয়, ঠিক ওই সময় আন্তর্জাতিক নানা চক্রান্ত শুরু হয়। জিয়াউর রহমান যখন এই জাতিকে ক্ষুধামুক্ত করেছেন, এই জাতিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছেন খাদ্যে এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র এনেছেন, তখন তাকে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক চক্রান্তে হত্যা করা হয়েছে। ঠিক এখনও নানা আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা চলছে বলে তিনি দাবি করেন।
১৩ দিন আগে
দণ্ডিত শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের আহ্বান
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) নির্দেশনার আলোকে পলাতক ও জুলাই-আগস্ট গণহত্যা মামলার দণ্ডিত আসামি শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি প্রচার না করতে দেশের সব গণমাধ্যমের প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) এরই মধ্যে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই-আগস্ট গণহত্যা মামলার আসামি, ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইসিটির এ নিষেধাজ্ঞা জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ট্রাইব্যুনাল পলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করা, তার পূর্বে দেওয়া বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বিভিন্ন মাধ্যম থেকে অপসারণ ও প্রচার-প্রকাশ বন্ধে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিও (এনসিএসএ) দেশের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে প্রাসঙ্গিক আইনি বিধান উল্লেখ করে দণ্ডিত আসামির বক্তব্য প্রচার না করার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।
তথ্য মন্ত্রণালয় জানায়, কিছু গণমাধ্যম আদালতের নির্দেশনা মেনে চললেও এখনো কয়েকটি গণমাধ্যম দণ্ডিত আসামির বক্তব্য প্রচার করছে, যা নিয়ে সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগকে সর্বোচ্চ সম্মান করে। যেসব গণমাধ্যম পলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত রয়েছে, তাদের প্রতি সরকার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে।
সরকার জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা সমুন্নত রাখা এবং আইনি বাধ্যবাধকতা প্রতিপালনের স্বার্থে টেলিভিশন, সংবাদপত্র, অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব ধরনের গণমাধ্যমকে শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি প্রচার না করার জন্য আবারও বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আশা প্রকাশ করা হয়, জাতীয় ঐক্য ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষায় দেশের সব গণমাধ্যম আগের মতোই দায়িত্বশীল ও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করবে।
১৪ দিন আগে
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার আদালতের রায়ের লঙ্ঘন, ব্যবস্থা নেবে সরকার: ডা. জাহেদ
আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য বা নিউজ প্রচার আদালতের রায়ের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এ বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, আগেও এ বিষয়ে সরকার গণমাধ্যমের জন্য সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়েছিল। যদি কেউ আগাম প্রচার করে যে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন এবং সেটি প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, তবে সেটি আদালতের আদেশ অমান্য করার শামিল হবে।
তিনি বলেন, আমরা আবারও সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেব, কেউ যেন এ ধরনের কাজ না করেন। আদালতের নির্দেশনা মানা প্রত্যেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। সরকারের কাজ হলো আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আদালতের আদেশ না থাকলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বাধা দেওয়া ঠিক হতো না। কেউ যদি আদালতের ওই আদেশের সঙ্গে একমত না হন, তাহলে তিনি আদালতেই গিয়ে সেই রায় চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত আদালতের আদেশ বহাল থাকবে, ততক্ষণ সেটি সবাইকে মেনে চলতে হবে।
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ বৃহস্পতির জামিন পাওয়ার তথ্য সরকার দুই-তিন দিন পর জানল কেন—এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন এবং তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারছেন না।
তিনি বলেন, আমি বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেব এবং তার সঙ্গে কথা বলব। কেন এ ধরনের গ্যাপ হয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখা হবে।
প্রশাসনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এখনও আগের সরকারের প্রভাব রয়েছে—এমন দাবির জবাবে ডা. প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ও দেশত্যাগ বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তবে ১৫ বছর ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সবাইকে একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে প্রশাসনসহ নানা প্রতিষ্ঠানে আগের সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষ এখনও রয়েছেন। চাইলেই এত মানুষকে একসঙ্গে সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয়। ১৫ বছরে বিভিন্ন স্তরে যারা উঠে এসেছেন, তাদের পরিবর্তে নতুনদের আনতে সময় লাগে।
১৫ দিন আগে
ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক তৎপরতা ঠেকাতে সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ
ভারতে পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ব্যক্তি যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এ ধরনের কার্যক্রম দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ঢাকায় নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ভারতের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার এবং এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রকাশ্য বক্তব্যের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
এ সময় পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ভারতের হাইকমিশনারকে জানান, পলাতক শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ব্যক্তি যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভারতের হাইকমিশনার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া এবং এ বিষয়ে সচেষ্ট থাকার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাতকালে উভয় পক্ষ নিয়মিত সংলাপ ও গঠনমূলক সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি পারস্পরিক আস্থা ও আলোচনার মাধ্যমেই সব বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান অর্জন সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে, পৃথক এক বার্তায় ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, এই আলোচনাটির কেন্দ্রে ছিল পারস্পরিক আগ্রহ ও পারস্পরিক কল্যাণের ওপর ভিত্তি করে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে জনগণ-কেন্দ্রিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। হাই কমিশনার ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়নমূলক আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের সাথে ইতিবাচকভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে ভারতের অভিপ্রায়ের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
১৫ দিন আগে