শেখ হাসিনা
শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: শেখ হাসিনা-আজিজসহ পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞকে ‘গণহত্যা (জেনোসাইড)’ আখ্যা দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক বিজিবি মহাপরিচালক আজিজ আহমেদ, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার (২৭ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর সাংবাদিকদের এ বিষয়ে জানান চিফ প্রসিকিউটর।
তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে তৎকালীন সরকারের পুলিশ, বিজিবি, র্যাব এবং আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালান। কিন্তু তৎকালীন সরকারের আমলে এ ঘটনায় কোনো তদন্ত বা বিচার হয়নি। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হলে একজন ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয় এবং তদন্ত শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আলেম-ওলামাদের ওপর ওই হামলা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। একটি ধর্মীয় সংগঠনকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তিনি জানান, তদন্তে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার, হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সূত্রের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মোট ৬১ জন নিহতের তথ্য পেয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে পাঁচজন এবং কুমিল্লায় একজনের পরিচয় শনাক্ত করেছে। বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, অভিযোগপত্রে দুটি পৃথক ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একটি হলো ৫ মে মধ্যরাতে শাপলা চত্বরে ৩২ জন নিহত হওয়ার ঘটনা এবং অন্যটি পরদিন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনকে হত্যার ঘটনা। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের ৩(সি) ধারায় এ দুটি ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করে ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিকৃত তথ্য প্রচারও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ঘটনার পর বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন হত্যাযজ্ঞকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছে। তদন্তে এসব কর্মকাণ্ডকে অপরাধে সহায়তা (অ্যাবেটমেন্ট) হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ‘সমীকরণ’ নামে একটি সম্প্রচার এবং একাত্তর টেলিভিশনের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবুসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগে এ ধরনের ভূমিকার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
অভিযোগে আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু, সাংবাদিক ফারজানা রুপা, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, তৎকালীন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এসএম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিএম ফরমান আলী।
শেখ হাসিনার পরিকল্পনায় হামলা হয়েছে দাবি করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা বৈঠক করে হেফাজতের সমাবেশ ভণ্ডুলের পরিকল্পনা করেছিলেন। বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয় এবং পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মধ্যরাতে চারদিক থেকে অভিযান চালানো হয়।
তার দাবি, হামলার সময় সাউন্ড গ্রেনেড, গ্রেনেড ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৩২ জন নিহত হন এবং আরও অনেকে আহত হন। পরে সিদ্ধিরগঞ্জে আরও ২০ জন নিহত হন।
তিনি বলেন, তদন্তে যতটুকু নির্ভরযোগ্য তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেছে, তার ভিত্তিতেই ৪১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, তবে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় অভিযোগে তা অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নেওয়ার পাশাপাশি পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। আগামী ১৬ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বাস্তবায়ন প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে অভিযোগ গঠন ও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।
তিনি বলেন, মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে ট্রাইব্যুনালের কাছে স্পিডি ট্রায়ালের (দ্রুত বিচার আদালত) আবেদন করা হয়েছে।
২ দিন আগে
শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন এ অভিযোগ জমা দেন। এ সময় প্রসিকিউটর মার্জিনা রায়হান উপস্থিত ছিলেন।
এদিন ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
বর্তমানে এ মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন নয়জন। তারা হলেন— সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা এবং মোজাম্মেল বাবু।
প্রসিকিউশনের তথ্যমতে, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ঢাকাসহ চারটি স্থানে মোট ৫৮ জন নিহত হন। তদন্ত সংস্থা নিহতদের মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে পাঁচজন এবং কুমিল্লায় একজনের পরিচয় শনাক্ত করেছে।
২ দিন আগে
শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ: তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে প্রসিকিউশন
২০১৩ সালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। প্রতিবেদনে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজসহ ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আসামিদের মধ্যে আরও রয়েছেন একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, বেসরকারি টেলিভিশনটির সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা, সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীর, তৎকালীন পুলিশ ও র্যাবের মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তৎকালীন কমিশনার।
রবিবার (১৯ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনটি প্রসিকিউশনের হাতে পৌঁছায়।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত সংস্থা ইতোমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দিয়েছে। বর্তমানে সেটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত সময়েই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
এদিকে, মামলার অগ্রগতি জানতে আজ সকালে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ১০ থেকে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে যায়। দলের সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদের (মধুপুর পীর সাহেব) নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।
এ সময় হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার, মুফতি মীর ইদ্রিসসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
২০১৩ সালের ৫ মে ১৩ দফা দাবিতে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। দিনভর উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর গভীর রাতে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি যৌথ অভিযান চালিয়ে শাপলা চত্বর খালি করে। ওই অভিযানে বহু মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগে বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত চলছে।
১০ দিন আগে
হাসিনার আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, দেশে ফিরলেই গ্রেপ্তার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। তিনি দেশে ফিরলেই তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের রায় কার্যকর করা হবে।
বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আজকে ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারী হাসিনা একটি দেশে, তার অবশ্য নিজ দেশে, যে আশ্রয় গ্রহণ করেছে, ওখান থেকে বড় বড় কথা বলছে। তার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নাই। তাকে প্রথমেই গ্রেপ্তার করা হবে তাকে ফিরিয়ে নিয়ে এসে এবং রায় কার্যকর করা হবে।’
তিনি বলেন, অনেকে বলছে, মুর্দাহ কাফন ফুঁড়ে কথা বলছে; সেটা জায়েজ নাই। তিনি বলছেন, বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করবেন।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার আইনানুগ পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তো তার প্রত্যাবর্তন চেয়েছি আইনানুগভাবে। এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুসারে, ইন্টারিম গভর্মেন্টের সময় পত্র দেওয়া হয়েছে, আমরা তাগাদাপত্র দিয়েছি। আমরা চাই তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে, ফিরিয়ে এনে তার রায় কার্যকর করা হোক।’
তিনি আরও বলেন, ‘গতকালের পার্লামেন্টেও আমি স্পষ্টভাবে বলেছি, তার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নাই। তাকে প্রথমেই গ্রেপ্তার করা হবে তাকে ফিরিয়ে নিয়ে এসে এবং রায় কার্যকর করা হবে। যদি তার আপিল করার কোনো অধিকার থাকে, সেটা আইন আদালত দেখবে।’
পলাতক অন্য আসামিদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আর যারা বিভিন্ন দেশে আশ্রয় গ্রহণ করেছে—ফ্যাসিবাদী দোসর মন্ত্রী, এমপি যারা, বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ফ্যাসিবাদের দোসর ছিল, তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা ইন্টারপোলের মাধ্যমে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি করিয়েছি। তার পরিপ্রেক্ষিতেই বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আশা করি খুব শিগগিরই তাকে (শেখ হাসিনা) ফিরিয়ে আনতে পারব এবং বিচারের মুখোমুখি করতে পারব। আমরা চাই, সবাই ন্যায়বিচার পাক। যারা গণহত্যায় জড়িত ছিল, যারা এদেশের সাধারণ মুক্তিকামী মানুষের ওপর পাক হানাদার বাহিনীর মতো আক্রমণ করে গণহত্যা চালিয়েছে, তাদেরও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার আছে, তাদের আমরা বিচারের মুখোমুখি করব।’
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্রসমাজ সব সময় গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের প্রতিটি লড়াইয়ে ছাত্রসমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।
১৪ দিন আগে
শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই আমাদের লক্ষ্য: তথ্য উপদেষ্টা
সরকার শুরু থেকেই শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের চেষ্টা করছে এবং ভারতের কাছেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তাকে ফিরিয়ে এনে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই আমাদের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনার বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেটি সরকারের সিদ্ধান্ত নয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) নির্দেশনা। তাই সরকার কেবল আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনাকে ফেরা নিয়ে সরকার বিষয়টাকে কীভাবে দেখছে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। আমরা শুরু থেকেই তাকে প্রত্যর্পণ করার আনুষ্ঠানিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি দেশে ফিরলে আমরা তাকে স্বাগত জানাব। তবে 'স্বাগত জানানো'র অর্থ এই নয় যে আমরা তাকে রাজনৈতিকভাবে বরণ করছি; বরং আমরা তার জন্য আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই। আদালতে তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, তাই তাকে ফিরিয়ে এনে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই আমাদের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যদি দুই দেশের পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে দেশে ফিরে আসেন, তবে তা অত্যন্ত ভালো। দেশে ফিরে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন। বর্তমানে আইসিটিতে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তিনি চাইলে পৃথিবীর সবচেয়ে নামকরা আইনজীবীদের এনেও নিজের পক্ষে লড়াই করতে পারেন। বিচার প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ করতে সেখানে পর্যবেক্ষক রাখার এবং ভিডিও ক্যামেরায় ধারণের আধুনিক ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আইসিটি আইনকে এতটাই আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হয়েছে যে পুরো বিচার প্রক্রিয়া একেবারে স্বচ্ছতার সঙ্গে চলবে। এ দেশের জনগণ চায় তার অপরাধের সুনির্দিষ্ট বিচার হোক এবং আদালতে তার মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার যে রায় রয়েছে, তা যেন বহাল থাকে। জনগণ সেই রায় কার্যকর হতে দেখতে চায়।
উপদেষ্টা বলেন, তিনি (শেখ হাসিনা) যদি আদালতে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেন, কিংবা আদালত যদি তাকে অন্য কোনো শাস্তি দেন বা খালাস দেন—আমরা তা মেনে নেব। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াটি এমনই হওয়া উচিত। মূলত এই কারণেই আমরা তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চাই এবং তার আসাকে স্বাগত জানাচ্ছি, কারণ আমরা আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যিনি আমাদের এই রাষ্ট্রটিকে ধ্বংস করে ফেলেছেন বলে আমরা মনে করি, আমরা তাকেও আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ দিয়ে একটি সুষ্ঠু বিচারের মুখোমুখি করতে চাই।
জাহেদ উর বলেন, ভূ-রাজনৈতিক (জিওপলিটিক্যাল) দৃষ্টিকোণ থেকে এটিকে আমি বড় কোনো ইস্যু বলে মনে করি না। আসলে, আমরা এতক্ষণ ধরে যাকে নিয়ে আলোচনা করছি, তিনি এখন দেশের রাজনীতিতে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক একজন মানুষ। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, বিভিন্ন মহলে বা মাধ্যমে তার কথা বারবার আসায় তিনি এখন এক ধরনের প্রাসঙ্গিকতা পাচ্ছেন। শুধু আমি নই, এমনকি আওয়ামী লীগের প্রতি যাদের সামান্যতম সহানুভূতি আছে, তারাও বিশ্বাস করেন না যে এ দেশে তার আর কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ রয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, আমাদের চারপাশে যে সাধারণ মানুষ বা রাজনৈতিকভাবে সচেতন ব্যক্তিরা রয়েছেন, তারাও মনে করেন না যে এ দেশে তার আর কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আছে। সুতরাং, তার ফিরে আসার বিষয়টিকে আমি কোনো চাপ বা সংকট বলে মনে করি না। আমরা কেন চাপে পড়ব? আমরা তো নিজেই তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা যদি চাইতাম তিনি ওখানেই থাকুন, আর তিনি হুট করে চলে আসছেন—তাহলে হয়তো চাপের একটি প্রশ্ন আসত। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি তেমন নয়। শুধু পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারই নয়, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীও নিশ্চিত করেছেন যে আমরা ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়েছি। কাজেই, এ বিষয়ে সরকারের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ নেই
তিনি বলেন, তিনি ঠিক কীভাবে দেশে ফিরবেন, সেই প্রক্রিয়াটি দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। তিনি সেখানে কীভাবে অবস্থান করছেন, তা সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের বিষয়। তিনি যদি দেশে ফিরতে চান, তবে সেই রাষ্ট্র আমাদের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এটি একটি নিয়মতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক বিষয় যা আটকে থাকবে না। সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আইনের মুখোমুখি করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। সুতরাং, তিনি যদি নিজে থেকে আসতে চান, তবে স্বাভাবিক নিয়মেই সরকার তাকে সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান করবে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার নিয়ে অনেকেই সরকারের অবস্থান জানতে চাইছেন। কিন্তু বিষয়টি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং আদালতের আদেশ। নির্বাহী বিভাগ হিসেবে আদালতের নির্দেশনা কার্যকর করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
তিনি বলেন, এই আদেশ সরকার দেয়নি, আদালত দিয়েছে। কেউ যদি মনে করেন, এই সিদ্ধান্তে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তাহলে আদালতেই তা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে। আদালত যদি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন, তাহলে সেটি আর বহাল থাকবে না।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাস্তবতায় বিভিন্ন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। তবে আদালতের নির্দেশনা অমান্য না করার বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। রাষ্ট্রের আইনের প্রতি সম্মান দেখানোই সবার দায়িত্ব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
১৫ দিন আগে
শেখ হাসিনা ফিরলে আত্মসমর্পণ করে জেলে যেতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে আত্মসমর্পণ করে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন, সেটিই হবে এবং তাকে জেলে যেতে হবে।
সোমবার (১৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, উনি যদি আত্মসমর্পণ করেন, তাহলে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী উনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে। উনাকে জেলে যেতে হবে এবং সেই আইন আইনের গতিতে চলবে।
শেখ হাসিনা ‘আসামি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আত্মসমর্পণ না করে যে উনি বিদেশে বসে বক্তব্য দিচ্ছেন, এগুলো আমি মনে করি, রাজনৈতিকভাবে উনার আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী পালিয়ে আছেন, লুকিয়ে আছেন, তাদের চাঙ্গা করার জন্য, উজ্জীবিত করার জন্য বলছেন। এছাড়া কোনো কারণ আমি দেখছি না। কারণ, সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এক্সট্রাডিশন (প্রত্যর্পণ) প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, যেকোনো দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যে প্রক্রিয়া আমাদের আছে, সেভাবেই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চলছে। কোনো আসামি যদি আত্মসমর্পণ করে, তাহলে বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনের আওতায় যা প্রয়োজন, সেটাই হবে।
শেখ হাসিনা বিদেশে বাংলাদেশের কোনো কূটনৈতিক মিশনে আত্মসমর্পণ করতে পারেন কি না— সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোথায় এবং কীভাবে একজন আসামি আত্মসমর্পণ করবেন, সেটি তার নিজস্ব বিষয়।
তিনি বলেন, ‘সেটি উনার ব্যাপার। সেটি আমাদের ব্যাপার নয়। এখন একজন আসামি কোথায় আত্মসমর্পণ করবেন, কীভাবে করবেন, সেটি একেবারেই উনার ব্যাপার এবং আমাদের, সরকারের কোনো সাবজেক্ট (বিষয়) এখানে নেই। তবে বিদেশে বাংলাদেশের কোনো মিশনে আত্মসমর্পণ করুক বা বাংলাদেশে এসে আত্মসমর্পণ করুক, প্রক্রিয়া এক।’
বিদেশে অবস্থান করে শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্য সরকারের অবস্থান বা চলমান আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেও মন্তব্য করেন শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বলেন, একজন আসামি কী বক্তব্য দেন, সেটা বাংলাদেশ সরকারের আমলে নেওয়ার কথা না এবং নেবে না। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী একজনের সাজা হয়েছে, তিনি অলরেডি (ইতোমধ্যে) সাজাপ্রাপ্ত। আমাদের যে প্রক্রিয়া, সেই প্রক্রিয়া আগে থেকেই চলমান আছে। এটা নতুন করে আর নতুন প্রক্রিয়ায় চলার কোনো অবস্থা নেই।
১৬ দিন আগে
শেখ হাসিনাকে ফেরানোর চেষ্টায় কূটনৈতিক ঘাটতি নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে কোনো কূটনৈতিক ঘাটতি নেই বলে দাবি করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সেইসঙ্গে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা প্রাসঙ্গিক নয় বলেও মনে করছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা দেশে ফেরার কথা বলছেন এবং সময়ের উল্লেখ করেছেন। তাহলে তাকে ফেরাতে বাধা কোথায়—প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়।
জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের কোর্ট একজনকে সাজা দিয়েছে, সাজাপ্রাপ্ত আসামি যিনি বাংলাদেশে বহু অন্যায়, অত্যাচার, অপকর্ম করে বিদেশে পালিয়ে আছেন। তো উনার এখানে... শেখ হাসিনা কী বলছে না বলছে উনার বক্তব্যটা এখানে (দেশে) রেলেভেন্ট (প্রাসঙ্গিক) না, একেবারেই রেলেভেন্ট না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে যোগাযোগটা শুরু হয়েছে, এখন সেই ডিপ্লোম্যাটিক চ্যানেলে সেটা চলমান আছে। একজন বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় বা একজন আসামিকে যখন ফেরত আনা হয়, সেই যে প্রটোকল আছে, যে নর্মস (নিয়মকানুন) আছে, সেই নর্মস অনুযায়ী উনাকে এনে এখানে বিচার করা হবে। সেটাই তো মনে হয় বাংলাদেশের জনগণ চায়।
তিনি বলেন, এখানে যে অন্যায়গুলো হয়েছে, যে দুর্নীতি হয়েছে, খুন, গুম হয়েছে—সেগুলোর একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ বিচার বাংলাদেশের মাটিতে হবে। ভারত সরকারের সঙ্গে সেই প্রক্রিয়া চলমান আছে, সেটা আমরা আগেই বলেছি। এখন যিনি আসামি তার বক্তব্যটা এখানে রেলেভেন্ট না।
প্রায় ৫ মাস হয়ে যাচ্ছে, এখনো শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার অগ্রগতি নেই, এখানে সফলতার ঘাটতি আছে কি না জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, না; এটা দেখুন... এটা সময় লাগে। প্রক্রিয়াটা চলমান আছে। তার মধ্যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়, তার মধ্যে বাংলাদেশে নির্বাচন হয়েছে, নতুন সরকার গঠন হয়েছে। সরকার আসার পরে প্রক্রিয়াটি আবার সচল হয়েছে। তো প্রক্রিয়ায় সময় লাগে, সেটা চলমান আছে। সেখানে কূটনীতির কোনো ঘাটতি নেই।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে আপনাদের মনে রাখতে হবে, এটা শুধু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়, এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও বিষয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এটা নিয়ে কাজ করছে। উনারাও কাজ করছেন, প্রক্রিয়াটা চলমান আছে।
শেখ হাসিনাকে ফেরানোর ক্ষেত্রে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জটি কী? ভারতের সহযোগিতা সরকার পাচ্ছে কিনা, আইনি কোনো জটিলতা আছে কিনা—এমন প্রশ্নের উত্তরে শামা ওবায়েদ বলেন, আইনি জটিলতা আছে কি নাই, সেটা আমাদের আইন মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খুঁটিয়ে দেখবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমাদের যেই প্রক্রিয়া চালানো দরকার, সেই প্রক্রিয়া আমরা চালাচ্ছি, সেটাতে কোনো ঘাটতি আমি দেখছি না।
গঙ্গা পানি চুক্তি প্রসঙ্গ
গঙ্গার পানি ভাগাভাগি-সংক্রান্ত বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ৩০ বছরের চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। এ চুক্তির নবায়ন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলছে জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটা মাথায় রেখে এ ব্যাপারে ভারত সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি বলেন, ‘গঙ্গা চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হচ্ছে। সব আলোচনা দৃশ্যমান নয়। আলোচনা চলতে থাকে। আমি বিশ্বাস করি, দ্বিপাক্ষিক যে আলোচনা চলছে, গঙ্গা চুক্তির গুরুত্ব এবং পানির গুরুত্ব ভারত বুঝতে পারছে। সেটা বিবেচনায় রেখে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কটা যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটা মাথায় রেখে ভারত সিদ্ধান্ত নেবে।’
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমরা মনে করি, এটা ইতিবাচক দিকে আগাচ্ছে। গঙ্গাচুক্তির বেশি সময় নেই। আমাদের যে টিম (যৌথ নদী কমিশন-জেআরসি) প্রধানমন্ত্রী করে দিয়েছেন, সেই কমিটি কাজ করছে ভারতের সঙ্গে।’
ইতিবাচক দিকে এগোনোর ব্যাখ্যায় শামা ওবায়েদ বলেন, ‘এটা ব্যাখ্যা করার কিছু নেই। আমি আশা করছি, ভারত গঙ্গাচুক্তির গুরুত্ব বুঝবে এবং সেভাবে উনারা এগিয়ে আসবেন।’
‘কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাস যোগ্যতার ভিত্তিতেই করা হচ্ছে’
এ সময় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে রদবদল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিষয়টিকে ‘একটি চলমান প্রক্রিয়া’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন হবে, নতুন দায়িত্বে নতুন ব্যক্তিরা আসবেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন ও রদবদল একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। সরকার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত জানানো হলে তখনই সবাই জানতে পারবেন কোথায়, কেন এবং কী কারণে রদবদল করা হয়েছে। এর আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করার সুযোগ নেই।
রদবদলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দক্ষতা, যোগ্যতা এবং কাজের প্রতি আন্তরিকতা। প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বশীলতাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, শুধু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নয়, সব মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রেই দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা, কাজের প্রতি নিষ্ঠা, দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা এবং ব্যক্তির যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই প্রয়োজনীয় রদবদল করা হয়।
তিনি আরও বলেন, রদবদল প্রক্রিয়া এখনও চলমান। সরকার থেকে গেজেট প্রকাশের পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
২০ দিন আগে
হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে দেশে ফেরানোর চেষ্টা চলছে: শামা ওবায়েদ
জুলাই অভ্যুত্থানকেন্দ্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বুধবার (১ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
এদিন শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন কোনো আপডেট নেই। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।
‘অবশ্যই একজন আসামি, যিনি অন্যায় করে, অপরাধ করে আরেক দেশে অবস্থান করছেন এবং যার বিচার হয়েছে, যিনি সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাকে আমরা দেশে ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশের মাটিতে সেই বিচার সম্পন্ন করতে চাই। বাংলাদেশের জনগণও সেটাই চায়। সেই লক্ষ্যেই কাজ চলছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।’
পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, গত ১৭ বছরে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে জানিয়েছেন যে, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে ১০টি দেশের কাছে বাংলাদেশ অনুরোধ জানিয়েছে। যেসব দেশে অর্থ পাচার হয়েছে, সেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
তিনি বলেন, ‘এটা রাতারাতি হওয়ার মতো কোনো বিষয় নয়। এটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে আমরা মনে করছি, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যে চুক্তিগুলো হয়েছে এবং আলোচনা চলছে, সেগুলোর মাধ্যমে আমরা একধাপ এগিয়েছি। বাংলাদেশের জনগণের পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আমরা একধাপ এগিয়েছি। সেই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ও ‘টু প্লাস টু’ প্রস্তাব
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, ‘চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সবসময়ই ভালো ছিল। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে তারা আমাদের অত্যন্ত শক্তিশালী অংশীদার। প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর আমরা আশা করছি, চীনা বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন নতুন বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসবে।’
চীনের প্রস্তাবিত ‘টু প্লাস টু’ সংলাপ এবং অর্থনৈতিক করিডর (ইকোনমিক করিডর) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সবসময় বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা এবং তাদের চাহিদাকে সামনে রেখেই পরিচালিত হবে। যদি আমরা দেখি এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য উপকারী এবং জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনীয়, তাহলে অবশ্যই আমরা তা বিবেচনা করব।’
‘টু প্লাস টু’ সংলাপের প্রস্তাব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও চীনের প্রেসিডেন্টের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং সরকার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে চীনের মন্তব্য যে ‘এ সম্পর্ক নিয়ে তৃতীয় কোনো পক্ষের মাথা ঘামানোর সুযোগ নেই’, এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, সব দেশের সঙ্গেই আমাদের সম্পর্ক স্বতন্ত্র। চীনের সঙ্গে যেমন সম্পর্ক থাকবে, তেমনি অন্যান্য দেশের সঙ্গেও থাকবে। আমরা মনে করি না, এক দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক হলে আরেক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হবে। সব দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রেখে বাংলাদেশের স্বার্থ হাসিল করাই আমাদের লক্ষ্য।’
তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা
তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) নিয়ে তিনি বলেন, সমীক্ষাটি এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।
তিনি বলেন, ‘ফিজিবিলিটি স্টাডির জন্য যে কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন, চীন তা দিতে সম্মত হয়েছে। শুধু তিস্তা নয়, বাংলাদেশে নদী ব্যবস্থাপনার আরও অনেক বিষয় রয়েছে। সেসব ক্ষেত্রেও সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় তারা সহায়তা করতে চায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি এখনও শেষ হয়নি, শুরু হয়েছে। আগে যেখানে কাজ থেমে ছিল, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের পর সেখান থেকেই এটি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’
অর্থনৈতিক করিডর
মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশ-চীন প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি এখনও বিশ্লেষণাধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এটি বিশ্লেষণ করছি। যদি অর্থনৈতিক করিডরের মাধ্যমে যোগাযোগ সহজ হয়, তাহলে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে। তবে এতে কোনো জটিলতা বা সমস্যা আছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি প্রস্তাব। আমরা প্রস্তাবটিকে সাধুবাদ জানাই, কারণ এটি বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক হতে পারে। তবে বাস্তবে এটি কতটা কার্যকর হবে বা কোনো জটিলতা তৈরি করবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এ সময় সাংবাদিকরা জানতে চান, অতীতে ভারতের উদ্যোগে করিডোর নিয়ে যেভাবে আলোচনা হয়েছিল, তখন একটা ভিন্ন পেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল। বর্তমান প্রস্তাব নিয়েও তেমন কোনো জটিলতা তৈরি হতে পারে কি না।
জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো বিশ্লেষণ করছে এবং তাদের মূল্যায়নের ভিত্তিতেই সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
ভারতের বিভিন্ন থিঙ্ক ট্যাংকের মন্তব্য প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘ভারতের থিঙ্ক ট্যাংক কী বলছে, সেটা ভারতকেই জিজ্ঞেস করা যায়। এ বিষয়ে আমাদের মন্তব্য করার কিছু নেই।’
২৮ দিন আগে
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে আদালতের নিষেধাজ্ঞা মানার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রে কিছু কিছু গণমাধ্যম আদালতের নিষেধাজ্ঞা মানছে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
দেশের কোনো কোনো গণমাধ্যম দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করছে, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা বাংলাদেশে একদম সরাসরি নিষেধ আছে। শুধু দণ্ডপ্রাপ্ত বলে না, তার বক্তব্য প্রচার করা যাবে না—এরকম আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে এবং আমাদের অনেক মিডিয়া এ কাজটা করছে। তার মানে হচ্ছে তারা আদালতের নিষেধাজ্ঞা, নির্দেশনা মানছে না।’
তিনি বলেন, যেহেতু এই মিডিয়াগুলো তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে আছে, তাই আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানাব যে তারা যেন এই কাজটা না করে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, আমরা এটা নিয়ে খুবই কঠোর কোনো অবস্থান নিচ্ছি তা না, কিন্তু এটা আবার স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, আমাদের মিডিয়াগুলো আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখবে, শ্রদ্ধা দেখাবে এবং তারা এসব প্রচার থেকে বিরত থাকবে।
এমন আহ্বান তো এর আগেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করেছিলেন, কিন্তু সেটি তো মানছে না—এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ঠিক আছে, আমরা আবার আহ্বান করব এবং কোনো একটা সময় হয়তো এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবা যেতে পারে।
তিনি বলেন, ঘটনা যেটা হয়েছে, সেটা হলো, তিনি (শেখ হাসিনা) যখন কথা বলেন, এটা অন্যান্য মিডিয়ায় যেহেতু আসে, মানুষ কোনো না কোনোভাবে সেটা জেনে যায়। কারণ এখন কানেক্টিভিটির যুগ। এটা আমি আবারও এর বাইরে গিয়ে, সরকারের বাইরে গিয়ে বলছি যে এটা আসলে শেষ পর্যন্ত ঠেকিয়ে রাখা যায় কি না, তা ভাবনার বিষয়। কারণ এই যে আপনি একটা বিদেশি মিডিয়ার রেফারেন্স দিচ্ছেন, সেই মিডিয়া আমাদের দেশ থেকে দেখা সম্ভব এবং অনেকে সেটা দেখছেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, যদি আদালত এই নিষেধাজ্ঞা না সরায়, তাহলে এসব বিষয় প্রচার করাটা অনুচিত। এটা ‘অপরাধ’ এভাবে বলছি না, এটা অনুচিত এবং আমি আশা করি আমাদের মিডিয়া দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
২৯ দিন আগে
ফেনী মাসুম হত্যা মামলা: শেখ হাসিনাসহ ১৭৮ জন আসামিকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ
জুলাই অভ্যুত্থানকালে ফেনীতে নিহত ছাত্র মাহবুবুল হাসান মাসুম হত্যা মামলায় আত্মগোপনে থাকা শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ১৭৮ জন আসামিকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) ফেনীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ছালামাত উল্লাহ স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আদেশ জারির পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে। অন্যথায়, তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হতে পারে।
ঐ মামলায় আত্মগোপনে থাকা ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ফেনী–৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও ফেনী–২ আসনের সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ ১৭৮ জনকে আদালতে হাজির হতে এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
এর আগে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে ফেনীর মহিপালে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গুলিতে মাহবুবুল হাসান হত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ মামলায় ওবায়দুল কাদের ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১৬২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। মামলায় আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাতে মহিপালে নিহত মাহবুবুল হাসানের ভাই মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় এ মামলা করেন।
নিহত মাহবুবুল হাসান সোনাগাজী উপজেলার চর চান্দিয়া এলাকার নোমান হাসানের ছেলে। তিনি ছাগলনাইয়ার আবদুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ থেকে অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফলপ্রার্থী ছিলেন।
আদালত সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন ২২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি ফেনীর জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলি আদালতের বিচারক মোহাম্মদ হাসান এই অভিযোগপত্র আমলে নেন। একই সঙ্গে শেখ হাসিনাসহ ১৭১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
এ মামলার উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিরা হলেন— ফেনী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল, ফেনী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল।
মামলায় অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সভাপতি দিদারুল কবির, পরশুরাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র রফিকুল ইসলাম, ছাগলনাইয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. মোস্তফা, সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ, আওয়ামী লীগ নেতা জালাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, জেলা যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম ও ছাত্রলীগ নেতা জিয়া উদ্দিন। ছাত্র–জনতার আন্দোলনে গুলি করতে প্ররোচনা, উসকানি ও নির্দেশনার অভিযোগে তাদের আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ মামলায় ৫১ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গুলিবর্ষণে মাহবুবুল হাসানের মাথা, বুকে ও পিঠে গুলি লাগে। পরে তাকে চট্টগ্রামের পার্কভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৭ আগস্ট তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। সেদিন সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ওই দিন মোট ৭ জন নিহত হন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। এ ছাড়া অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধিকাংশ মন্ত্রী ও শীর্ষ নেতারাও দেশে ছেড়ে বিদেশে আশ্রয় নেন।
৪৫ দিন আগে