ভিডিও গেম
ভিডিও গেম খেলে অর্থ উপার্জনের উপায়
ভিডিও গেমের অনুষঙ্গ উত্থাপিত হলে স্বাভাবিকভাবেই যে বিষয়টি সামনে আসে, তা হলো শিশুদের বিনোদনের মাধ্যম। ধারণাটির সূচনা থেকেই বিনোদনের খোরাক যোগাতে বছরের পর বছর ধরে ব্যবসা করে এসেছে গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদের চাহিদার আলোকে গ্রাহক শ্রেণিও সীমাবদ্ধ ছিলো সর্বোচ্চ টিনেজার পর্যন্ত। কিন্তু বিগত বছরগুলোতে আমূল পরিবর্তন ঘটেছে এই দৃশ্যপটে। বিশ্ব জুড়ে গেম খেলা এখন কেবল একটি শখ নয়, বরং অর্থ উপার্জনের একটি বিরাট মাধ্যম। শিশু থেকে বুড়ো সব বয়সের মানুষরাই এখন এই ইন্ডাস্ট্রির অনুগত গ্রাহক। পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২৫ সালে এই খাতে ৩১২ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের বাজারে পরিণত হবে। আয়ের নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হয়ে ওঠার কারণে অনেকেই রীতিমত ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিচ্ছেন গেমিংকে। চলুন, ভিডিও গেম খেলার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করার কয়েকটি উপায় নিয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
ভিডিও গেম খেলে অর্থ উপার্জনের কয়েকটি পদ্ধতি
সর্বপ্রথম যে বিষয়টি অনুধাবন করা জরুরি তা হচ্ছে, এটি কোনো তাৎক্ষণিক প্রক্রিয়া নয়। যে কোনো পেশার মতো গেমিং থেকে আয়ের জন্যেও প্রয়োজন ধারাবাহিক প্রচেষ্টা, নিবেদিত হওয়া এবং গেমিং সম্পর্কে গভীর জ্ঞান। সাম্প্রতিক সময়ে নিম্নোক্ত কার্যক্রমগুলো চমকপ্রদ আয়ের পথ তৈরিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে।
লাইভ স্ট্রিমিং
একজন গেমার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুপরিচিত এবং সফল উপায়গুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে লাইভ স্ট্রিমিং। এখানে গেম খেলার পুরো সেশনটিকে সরাসরি দর্শকদের সঙ্গে শেয়ার করা যায়। অন্যান্য যেকোনো লাইভ অনুষ্ঠান উপভোগের মতো এটিও একটি নিত্য-নৈমিত্তিক বিনোদনের উৎস। পৃথিবীর কোনো এক প্রান্তে ঘরে বসে নিজের কম্পিউটার একজন গেম খেলেন আর ঠিক একই সময়ে তা দেখতে পারেন লাখ লাখ উৎসাহীরা। শুধু তাই নয়, একই সঙ্গে তারা সরাসরি লাইক, কমেন্ট, এবং শেয়ারও করতে পারেন।
আরো পড়ুন: মোবাইল ফোন বিস্ফোরণ: কারণ ও বাঁচার উপায়
এমন অনেকগুলো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম রয়েছে যেখানে গেমাররা লাইভ স্ট্রিমিং করে আয় করতে পারেন। যেমন- টুইচ, কিক, ইউটিউব গেমিং, ফেসবুক গেমিং এবং ডিলাইভ। এগুলোতে কত দর্শক দেখছেন, গেমারের ফলোয়ার সংখ্যা, লাইক, শেয়ার এবং কমেন্টের উপর নির্ভর করে আয়ের মাপকাঠি নির্ধারিত হয়। সঙ্গত কারণেই এখানে দর্শকদের ধরে রাখতে গেম খেলার পাশাপাশি দরকার হয় আরও কিছু দক্ষতার। সেগুলো হলো-
ভয়েস ওভার বা ধারা বিবরণী: গেমপ্লেতে প্রাসঙ্গিক এবং বিনোদনে ভরপুর ধারা বিবরণী দর্শকদের ধরে রাখার একটি মোক্ষম উপায়। যেমন- গেমিং-এর লাইভ রি-অ্যাকশন দেওয়া, গেমের সুনির্দিষ্ট কৌশল বা চিটকোড প্রদর্শনপূর্বক টিউটোরিয়াল, অথবা দর্শকদের সঙ্গে গেমের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চ্যাট করা।
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং: স্ট্রিমিংটিকে দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপযুক্ত উপায় হচ্ছে অনলাইন মার্কেটিং। আর সোশ্যাল মিডিয়ার বিশ্বে বিপণনের সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো। কেননা এখানেই উদ্দিষ্ট দর্শকশ্রেণির এক বিশাল অংশের বিচরণ। এর মাধ্যমে বিজ্ঞাপনটি যত বেশি সংখ্যক দর্শকদের সামনে পৌঁছে, স্ট্রিমিং-এ ভিউ হওয়ার সম্ভাবনাও তত বাড়তে থাকে। আর এরই সঙ্গে উন্মোচন হতে শুরু করে আয়ের পথ।
আরো পড়ুন: কীভাবে বুঝবেন ছবিটি এআই দিয়ে বানানো কিনা
নেটওয়ার্কিং: ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয়তা গেমারদের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া পরিচিতি বাড়ানোর একটি নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি। এতে সেই গেমারদের দর্শকদের কাছে এক্সপোজার পাওয়ার পাশাপাশি তার কাছ থেকে ইন্ডাস্ট্রিতে সফল হওয়ার কার্যকরি টিপস পাওয়া যায়।
পরিসংখ্যানের তথ্যানুযায়ী, ২০২৯ সাল নাগাদ প্রায় ১০৮ কোটি লোক গেমিং লাইভস্ট্রিমের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। ফলে এত বিশাল দর্শকের চাহিদা সৃষ্টির মধ্য দিয়ে বাড়বে ব্র্যান্ড স্পন্সরশিপ ও চ্যানেল মেম্বারশিপের মতো প্ল্যাটফর্মকেন্দ্রিক আয়ের ক্ষেত্র।
গেমিং নিয়ে ইউটিউব চ্যানেল তৈরি
গেমিং কন্টেন্ট নির্মাতাদের জন্য এক বিশাল প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে ইউটিউব। প্ল্যাটফর্মটিতে প্রতিদিন ২০ কোটিরও বেশি মানুষ গেমিং ভিডিও দেখেন। বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক সাবস্ক্রাইবকৃত পাঁচটি চ্যানেলের মধ্যে দুটিই গেমিং চ্যানেল। তাই গেমারদের জন্য ইউটিউব যতটা বৈচিত্র্যময় ঠিক ততটাই লাভজনক।
আরো পড়ুন: টপ লোড বনাম ফ্রন্ট লোড ওয়াশিং মেশিন: জেনে নিন সুবিধা ও অসুবিধা সমূহ
ইউটিউবে গেমারদের আয়ের পথ তৈরির পদ্ধতি
অ্যাড রেভ্যিনিউ: ভিডিওতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দেখিয়ে এই আয়ের ক্ষেত্রটি তৈরি হয়। যত সংখ্যক দর্শক এই বিজ্ঞাপন দেখেন, তাতে ক্লিক করেন কিংবা বিজ্ঞাপনের সঙ্গে যুক্ত ওয়েবপেজে গিয়ে কোনো কিছু ক্রয় করলে তা থেকে আয়ের একটি অংশ বরাদ্দ হয় কন্টেন্ট নির্মাতার জন্য। সঙ্গত কারণেই বিজ্ঞাপনগুলো কন্টেন্টের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক হতে হয় এবং ভিডিওর সঠিক স্থানে যুক্ত করতে হয়।
ব্র্যান্ড স্পন্সরশিপ: জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেলগুলোতে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপন দিতে চায়। আর এই জন্য তারা চ্যানেলটির মালিক বা সংশ্লিষ্ট কন্টেন্ট নির্মাতার সঙ্গে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের উপর ভিত্তি করে চুক্তি করে। এই ব্র্যান্ড স্পন্সরশিপ বাবদ একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে বিজ্ঞাপনটি ভিডিওর কিছু অংশে প্রচার করা হয়। কখনও কখনও কন্টেন্ট নির্মাতারা নিজেরাই ধারা বিবরণীর সময় পণ্যের প্রোমোশন করে দেন।
পেইড প্রোমোশন এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং: চ্যানেলের ভিডিওগুলোতে গেম, গেমিং গিয়ার বা প্রযুক্তি-সংক্রান্ত পণ্যের প্রচারের মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট কমিশন লাভ করা যায়। এখানে যেই প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবার প্রোমোশন করা হবে তাদের পক্ষ থেকে প্রতি পণ্যের জন্য একটি রেফারেল লিঙ্ক কন্টেন্ট নির্মাতাকে দেওয়া হয়। সেই লিঙ্ক ভিডিওর ভেতরে অথবা ডেসক্রিপশন বক্সে উল্লেখ করা থাকে। অতঃপর দর্শকরা এই লিঙ্কের মাধ্যমে সেই পণ্যের ওয়েবপেজে গিয়ে পণ্যটি ক্রয় করলে আয়ের একটি শতাংশ কন্টেন্ট নির্মাতাকে দেওয়া হয়।
এছাড়া পোস্টকৃত ভিডিওগুলো বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন বা সোশ্যাল মিডিয়াতে ক্যাম্পেইন চালিয়েও চ্যানেলটি কম সময়ে অধিক সংখ্যক দর্শকের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া যায়। পেইড ক্যাম্পেইনের জন্য জনপ্রিয় মার্কেটিং টুলগুলো হচ্ছে গুগল অ্যাড্স, বিং অ্যাড্স, ফেসবুক অ্যাড্স ও ইন্স্টাগ্রাম অ্যাড্স।
আরো পড়ুন: রয়্যাল এনফিল্ড ৩৫০ সিসির নতুন চারটি মোটরবাইক মডেলের আকর্ষণীয় সব ফিচার
সুপার চ্যাট্স এবং মেম্বারশিপ: অনেক সময় নির্মাতা ভক্তদের সঙ্গে সরাসরি চ্যাট করার সময় অনুদান প্রদানের বার্তা দিতে পারেন। এছাড়া স্রেফ ডেসক্রিপশন বক্সেও ক্রাউড ফান্ডিংয়ের লিঙ্ক রেখে দেওয়া যায়। পরবর্তীতে আগ্রহীরা সেখানে তাদের অনুদান দিতে পারেন। তাছাড়া ভিডিওর বাইরে বিশেষ সুবিধা দিতে নির্মাতারা দর্শকদের কাছ থেকে চ্যানেল মেম্বারশিপ নিতে পারেন। অনেক প্রসিদ্ধ ইউটিউব চ্যানেলে ফি প্রদানের ভিত্তিতে মেম্বারশিপের ব্যবস্থা রয়েছে। এমনকি তাদের কিছু কিছু ভিডিও দেখার জন্যও অর্থ দিতে হয়।
চ্যানেলকে সম্পূর্ণরূপে আয়ের পর্যায়ে নিতে হলে দর্শকদের চাহিদার প্রতি দৃষ্টি দেওয়া অপরিহার্য। গেমিংয়ের ক্ষেত্রে মূলত টিউটোরিয়াল, কৌশল নির্দেশিকা বা সাম্প্রতিক গেমের খবর, রি-অ্যাকশন এবং গেম রিলিজগুলো বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করে। গেমের সুনির্দিষ্ট সাবটপিক নির্বাচনের পাশাপাশি মানসম্পন্ন কন্টেন্ট নির্মাণ, নতুনত্ব এবং মার্কেটিংয়ের দিকেও নজর রাখা জরুরি।
গেম টেস্টিং
যারা বিশদ আকারে সূক্ষ্মতিসূক্ষ্ম বিশ্লেষণসহ যেকোনো সিস্টেমের অসঙ্গতিগুলো খুঁজে বের করতে পারেন, তাদের জন্য চমৎকার একটি কাজ গেম নিরীক্ষণ। যেকোনো ওয়েবসাইট বা সফটওয়্যার টেস্টিংয়ের মতো এখন গেম টেস্টিংও একটি লাভজনক পেশা। এর জন্য বিভিন্ন ধরণের গেমপ্লের পাশাপাশি কম্পিউটার সহ নানা প্ল্যাটফর্মকেন্দ্রিক গেমের কারিগরি জ্ঞান থাকাও আবশ্যক।
আরো পড়ুন: আইফোন চুরি প্রতিরোধে অ্যাপলের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা
একজন গেম টেস্টার সাধারণ গেমারের দৃষ্টিকোণ থেকে গেমগুলো খেলার মাধ্যমে এর অসঙ্গতিগুলো খুঁজে বের করেন। অতঃপর সেই ত্রুটিগুলো দূর করে গেমটিকে সাধারণের কাছে আরও সহজ, আরামপ্রদ ও আনন্দদায়ক করে তোলার জন্য পরামর্শ দেন।
বর্তমানে গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো গেমপ্লে, মেকানিক্স এবং গেমের সামগ্রিক বিষয় সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানাতে গেম টেস্টারদের সম্মানী হিসেবে মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়ে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ের গিগ-কেন্দ্রিক বা ফ্রিল্যান্স বাজারে চটকদার গিগগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে এই গেম টেস্টিং। ফ্রিল্যান্স গিগের সুযোগ দেওয়া যে কোম্পানিগুলো হলো- প্লেটেস্টক্লাউড, বেটা ফ্যামিলি এবং ইউজার টেস্টিং।
চূড়ান্ত পেইড গেমপ্লে টেস্টার হিসেবে নিয়োগের পূর্বে অনেক ক্ষেত্রে প্লেয়ারদের গেমের বেটা টেস্টিং প্রোগ্রামে নিয়োগ দেওয়া হয়। এটি অনেকটা চাকরিতে স্থায়ী হওয়ার পূর্বে ইন্টার্নি বা অন-দ্যা-জব ট্রেনিংয়ের মতো। এখানে মূরত গেমারের গেম নিরীক্ষণের দক্ষতা যাচাই করা হয়।
আরো পড়ুন: শীতকালে গরম পানির গিজার: জনপ্রিয় ব্র্যান্ড, মডেল, ধরন ও দাম
গেমিং প্রতিযোগিতা
যারা গেমিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে ইচ্ছুক তাদের পোর্টফোলিও সমৃদ্ধ করতে বিভিন্ন গেমিং টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করা অত্যাবশ্যক। নগদ আর্থিক পুরস্কার অর্জনের বাইরে এই টুর্নামেন্টগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে গেম প্রতিষ্ঠানগুলো এবং অন্যান্য দক্ষ প্রতিযোগিদের সঙ্গে নেটওয়ার্কিংয়ের সম্ভাবনা। অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমেই সংঘটিত এই প্রতিযোগিতাগুলো সারা বিশ্বের গেমার, গেম উৎসাহী এবং গেম নির্মাতাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
কিছু বৃহৎ এবং প্রসিদ্ধ টুর্নামেন্টগুলো হলো- দ্যা ইন্টারন্যাশনাল (ডোটা ২), লিগ অফ লিজেন্ডস ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ ও ফোর্টনাইট ওয়ার্ল্ড কাপ।
একটি বড় টুর্নামেন্টে জয়লাভের মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রিতে একজন দক্ষ গেমার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায়। স্পোর্টস ইভেন্টগুলোতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠান বা গেমিং সংঘগুলো স্পন্সর করে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রতিযোগিতায় শীর্ষস্থান অধিকারী গেমারদের দিকে তাদের আলাদা নজর থাকে। এর মধ্য দিয়ে পরবর্তীতে সেই বিজয়ীদের গেম সংক্রান্ত নানা পেশায় চাকররি ক্ষেত্র তৈরি হয়।
আরো পড়ুন: শীতে রুম হিটার: জনপ্রিয় ব্র্যান্ড, মডেল, ধরন ও দাম
শুধু তাই নয়, নির্দিষ্ট গেমগুলোতে পারদর্শিতা থাকা অনেক গেমাররা নিজেই পুরো একটি টুর্নামেন্টের পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। এটি গেম ডোমেইনে উদ্যোক্তা মনোভাবের নামান্তর। এতে এন্ট্রি ফি, স্পন্সরশিপ ডিল এবং করপোরেট অংশীদারদের মাধ্যমে অর্থায়নের সুযোগ থাকে। বিস্তৃত পরিসরে একটি নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্ক থাকলে এই টুর্নামেন্টগুলো দীর্ঘমেয়াদে একটি লাভজনক ব্যবসায়িক মডেলে রূপ নেয়।
গেমিং পডকাস্ট তৈরি
সম্প্রতি চিত্তাকর্ষক অনলাইন বিনোদনের অন্যতম একটি মাধ্যম হচ্ছে পডকাস্ট। গেমিং-এর বিস্তৃতি এই মিডিয়া পর্যন্তও চলে এসেছে। গেমাররা তাদের নিজস্ব পডকাস্ট নিয়ে যুক্ত হয়েছে হাল ফ্যাশনের মূল ধারায়। গেম রিভিউ, লাইভ ভাষ্য, ইন্ডাস্ট্রির খবরাখবর, গেম ডেভেলপমেন্ট, রি-অ্যাকশন এবং গেমিং জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাত্কারগুলো স্থান পাচ্ছে গেম পডকাস্টে।
স্পন্সরশিপ ডিল, ফান্ড রাইজিং বা ডোনেশন, সরাসরি পণ্য বিক্রয় বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মতো অনলাইনের সাধারণ পদ্ধতিগুলো এখন পডকাস্টের সঙ্গেও জুড়ে গেছে। তাই এই প্ল্যাটফর্মটিও আয়ের একটি লাভজনক ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
আরো পড়ুন: শীতে ঘরের শুষ্কতা দূর করতে হিউমিডিফায়ার: জনপ্রিয় ব্র্যান্ড, মডেল ও দাম
বাজস্প্রাউট, স্পটিফাই, পডবিনের মতো স্বতন্ত্র প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি ইউটিউবের মতো ভিডিও স্ট্রিমিং সাইটও পডকাস্ট হোস্ট করছে।
গেম নিয়ে ব্লগিং
ইউটিউব চ্যানেল যেখানে কাজ করে শুধুমাত্র ভিডিও নিয়ে, ব্লগিং সেখানে গুরুত্ব দেয় লিখিত কন্টেন্টকে। অবশ্য এখন একটি ব্লগসাইটকেও টেক্স্ট, অডিও এবং ভিডিও কন্টেন্টের সমন্বয়ে একটি সামগ্রিক প্ল্যাটফর্মে রূপ দেওয়া যায়। এখানেও একইভাবে জনপ্রিয়তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গেমপ্লে পর্যালোচনা, কৌশল বিশ্লেষণ, নতুন গেম বা প্রসিদ্ধ গেমের নতুন ভার্সনের আপডেট ও রি-অ্যাকশন।
এখানেও ব্লগাররা তাদের লিখিত কন্টেন্টকে উপজীব্য করে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ও অ্যাড রেভিনিউয়ের মাধ্যমে আয় করতে পারে। এছাড়া নামী-দামী ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে নির্দিষ্ট স্পন্সরশিপের ভিত্তিতে তাদের পণ্য বা সেবার বিষয়ে পোস্ট লেখাও আয়ের একটি উপায়।
আরো পড়ুন: ২০২৫ সালে যে প্রযুক্তিগত দক্ষতাগুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকবে
একটি সফল গেমিং ব্লগের নেপথ্যে প্রধান উপকরণ হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশান বা এসইও। এর মাধ্যমে গুগল, বিং বা ডাকডাকগো’র মতো বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পেজে ব্লগকে নিয়ে আসা যায়। এতে করে ব্লগে পাঠক সমাগম বেশি হয়। ব্লগে পাঠকদের আনাগোণা যত বেশি হয়, সাইটে থাকা অ্যাড বা রেফারাল লিঙ্কে ক্লিক করা এবং ব্র্যান্ড স্পন্সরশিপ প্রাপ্তির সম্ভাবনা ততই বেশি থাকে। আর এর মধ্য দিয়েই আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পথ সুগম হয়।
শেষাংশ
ভিডিও গেম খেলে অর্থ উপার্জনের এই পদ্ধতিগুলোতে সফলতা পাওয়ার জন্য প্রয়োজন দৃঢ় সংকল্প, অধ্যবসায় এবং প্রযুক্তির ক্রমবিকাশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। এগুলোর মধ্যে তাৎপর্যপূর্ণভাবে বিকাশ ঘটেছে গেমভিত্তিক ইউটিউব চ্যানেল ও ব্লগিংয়ের। শুধুমাত্র কারিগরি দিক থেকে বিশেষজ্ঞরা অগ্রাধিকার পেলেও ইন্ডাস্ট্রিতে পিছিয়ে নেই গেম টেস্টিংও। এই প্রতিটি উপায়ে গেমার শুধু গেমপ্লে করেই ক্ষান্ত হন না। এর পাশাপাশি তাকে যোগাযোগ এবং বিপণনেও মনোযোগী হতে হয়। একই সঙ্গে গেমপ্লেকে দর্শক ও শ্রোতাদের জন্য গ্রহণযোগ্য কন্টেন্টে রূপ দিতে হয়। আর এর পথ ধরে অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনে বাড়ছে গেমিং ইভেন্ট।
ফলশ্রুতিতে, আর সব পেশার মতই সৃজনশীল ও উদ্যোগী মনোভাবকেও গেমের ডোমেনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আরো পড়ুন: এয়ার পিউরিফায়ার: প্রয়োজনীয়তা, দাম, জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ও নতুন মডেল
৭৫ দিন আগে
পোকেমন গো’র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিয়ানটিক এক-চতুর্থাংশ কর্মী ছাঁটাই করবে
পোকেমন গো ভিডিও গেমের নির্মাতা কোম্পানি নিয়ান্টিক ইনকরপোরেটেড জানিয়েছে, মহামারি চলাকালীন সময়ে ডাউনলোড বেড়ে যাওয়ার পরবর্তী সময়ে গেমিং শিল্পে চাহিদা কমে যাওয়ায় তারা তাদের এক চতুর্থাংশ কর্মী ছাঁটাই করবে।
কোম্পানিটি লস অ্যাঞ্জেলেসে এর স্টুডিও-ও বন্ধ করবে এবং দুটি গেম বাতিল করবে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নিয়ান্টিকের প্রধান নির্বাহী জন হ্যাঙ্ক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা আমাদের ব্যয়কে রাজস্বের চেয়ে দ্রুত বাড়তে দিয়েছি।’
পোকেমন গো ২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়ার পরে এটি বিশ্বব্যাপী আলোচনা ও আগ্রহের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
সে সময় প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল জানিয়েছিল যে অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর) গেমটি এক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডাউনলোডে অ্যাপ স্টোরের রেকর্ড ভেঙেছিল।
আরও পড়ুন: গুগল স্ট্রিমিং গেম পরিষেবা বন্ধ করবে আগামী জানুয়ারিতে
হ্যাঙ্ক বলেন, ‘শীর্ষ অগ্রাধিকার হলো পোকেমন গো-কে পরিচ্ছন্ন রাখা এবং চিরদিনের জন্য একটি গেম হিসেবে এগিয়ে নেওয়া।’
তিনি আরও বলেন যে গেমটি চালু করার পর স্মার্টফোন মার্কেটে বেশ ভিড় বেড়েছে, তাছাড়া অ্যাপ স্টোর ও বিজ্ঞাপনের পরিবর্তনের কারণে বড় পরিসরে নতুন গেম ছাড়া এখন অনেকটাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই ছাঁটাইয়ের ফলে নিয়ান্টিকের গেম প্ল্যাটটফর্ম টিমসহ মোট ২৩০ জন কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
কোম্পানিটি এর এনবিএ অল-ওয়ার্ল্ড গেমটিও বাতিল করবে, যা জানুয়ারিতে প্রকাশিত হয়েছিল এবং এর মার্ভেল ওয়ার্ল্ড অব হিরোস শিরোনামের গেমের বাজারজাত বন্ধ করবে।
সূত্র: বিবিসি
আরও পড়ুন: পোকেমনে আর দেখা যাবে না অ্যাশ-পিকাচুর বন্ধুত্ব
ইন্টারেক্টিভ গেমিং প্ল্যাটফর্ম ‘হাসিনা অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ উদ্বোধন করলেন পলক
৬৩৭ দিন আগে
রেললাইনে বসে ভিডিও গেম: ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত ১, আহত ২
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেললাইনে বসে মোবাইলে গেমস খেলার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে রিমঝিম (২০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও দুই জন।
শনিবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের বাইরে পুনিয়াউট এলাকার রেললাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রিমঝিম জেলা শহরের সরকার পাড়া এলাকার মনজু মিয়ার ছেলে এবং আহত আরাফাত (২২) সরকারপাড়া এলাকার সোনা মিয়ার ছেলে ও দিপু মিয়া (২৫) একই এলাকার বাদশা মিয়ার ছেলে।
আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে শিশুসহ নিহত ৩
তারা তিনজনই রাজমিস্ত্রি সহকারী হিসাবে কাজ করত।
এদিকে, নিহত রিমঝিমের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা লিপি বেগম।
তিনি জানান, রিমঝিমের বাবা ১০ বছর আগে মারা গেছে। এরপর থেকেই বহু কষ্টে চলছিল তাদের পরিবার। রিমঝিম বড় হয়ে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করে। দুই ভাই, এক বোন ও নানীসহ পাঁচজনের পরিবারটি চালিয়ে আসছিল সে।
লিপি বেগম বলেন, শনিবারও প্রতিদিনের মত দিনভর কাজ শেষ করে সন্ধ্যার পর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। তাকে মোবাইলে গেম খেলতে বার বার বারণ করেছি। সে কথা শুনল না। আমাদের অজান্তের সে ওইখানে গিয়ে বন্ধুদের নিয়ে মোবাইলে গেইমস খেলছিল।
এছাড়াও এলাকাবাসী জানান, প্রায় সময়ই রেললাইনে কাটা পড়ে অনেকের মৃত্যু হয়। তাই সকলকে সচেতন হতে হবে। সে সঙ্গে রেল লাইনের নিরাপত্তায় রেলওয়ে পুলিশের তৎপরতা আরও বাড়াতে হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম জানান, রাতে পুনিয়াউট এলাকায় তিন যুবক রেললাইনে বসে মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তারা ট্রেন আসার বিষয়টি খেয়াল করতে পারেননি। এসময় তিনজনই ট্রেনে কাটা পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই রিমঝিম মারা যান। অন্য দু’জন পা ও মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে হতাহতদের উদ্ধার করে জেলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে আহত দুইজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
এছাড়া এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে রেল সড়কের ওপর অহেতুক আড্ডা, গেম খেলা বন্ধে পুলিশি তৎপরতা আরও বাড়ানো হবে। সেসঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করা হবে।
আরও পড়ুন: মোবাইলে কথা বলার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু
লালমনিরহাটে ট্রেনে কাটা পড়ে মা-মেয়ের মৃত্যু
৭৯৫ দিন আগে
যে ভিডিও গেমগুলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিফলক
প্রযুক্তির বিকাশ ও সাহিত্য-সংস্কৃতির বিভিন্ন মাধ্যমে সৃজনশীলতার চর্চার ফলে বাংলাদেশের ইতিহাস সমৃদ্ধ জ্ঞান ক্রমাগত সহজলভ্য হচ্ছে নতুন প্রজন্মের কাছে। তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গেমিংগুলো। বাংলাদেশে গেমিং ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়নশীলতায় এক অমূল্য সংযোজন স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট। এতে বাংলাদেশি গেমের নিজস্বতার পাশাপাশি এ দেশের বাংলা ভাষাভাষি নতুন প্রজন্মের উপর প্রতিফলিত হচ্ছে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। সরকারি পদক্ষেপের সাথে সাথে উল্লেখযোগ্য হারে বেসরকারি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলো রীতিমত প্রতিযোগিতা করে গেম তৈরি ও ক্রমান্বয়ে সেগুলোর মানোন্নয়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এই ধরনের কয়েকটি গেম নিয়েই সাজানো হয়েছে আজকের ফিচারের আলোচ্য বিষয়বস্তু।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সাতটি ভিডিও গেম
হিরো’স অফ সেভেন্টি ওয়ান (Heroes of 71)
হিরো’স অফ সেভেন্টি ওয়ান গেমটি মুক্তি পায় ২০১৫ সাল। গেমটির গেমপ্লে এবং বিশদ কাহিনী বিন্যাস প্রচন্ড গেমপ্রিয়দের পাশাপাশি যারা সাধারণত গেম খেলায় অভ্যস্ত নন তাদেরকেও সমানভাবে আকৃষ্ট করেছিল।
১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কার বরিশাল বিভাগের একটি কাল্পনিক গ্রামকে কেন্দ্র করে গেমটির কাহিনী অগ্রসর হয়। গেমটির ইউজাররা গ্রামের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের জন্য মুক্তিবাহিনীর সদস্য হিসাবে খেলতে পারে। গেমের খেলোয়াড়দের প্রাথমিকভাবে পাকিস্তানি নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি শিবিরকে রক্ষা করার জন্য একটি আউটপোস্টে নিযুক্ত করা হয়।
আরও পড়ুন: মোটর বাইক রাইডারদের নিরাপত্তার জন্য সেফটি গিয়ার
ব্যতিক্রমী আবহ সঙ্গীতের সাথে দারুণ গ্রাফিক্সের মেলবন্ধনে আকর্ষণীয় গেম হিরো’স অফ সেভেন্টি ওয়ান। শান্ত এবং নিরিবিলি গ্রামীণ ল্যান্ডস্কেপ এবং যুদ্ধক্ষেত্রের ভয়াবহতা গেমটিতে সুন্দরভাবে দৃশ্যায়ন করা হয়েছে।
দুর্দন্ত গেমপ্লে ও অত্যাশ্চর্য গ্রাফিক্সের কারণে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ায় গেমটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইন্ডফিশার এর আরও দুটি সিক্যুয়াল বের করে।
হিরো’স অফ সেভেন্টি ওয়ান: রিটালিয়েশান (Heroes of 71: Retalliation)
২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত হিরো’স অফ সেভেন্টি ওয়ান: রিটালিয়েশান-ই হচ্ছে ২০১৫ সালের সেই হিরো’স অফ সেভেন্টি ওয়ানের দ্বিতীয় সংস্করণ। এর গেমপ্লে প্রথমটির চেয়ে কোন অংশে কম নয়। বরং এখানে নতুন বৈশিষ্ট্য হিসেবে যুক্ত করা হয় একজন নারী চরিত্র। এটি ছিলো বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গেমে গেরিলা সদস্য হিসেবে প্রথম নারী চরিত্রের আবির্ভাব। পূর্বে যেখানে একমাত্র লক্ষ্য ছিল একটি ফাঁড়ি রক্ষা করা, এখানে তার জায়গায় অন্তর্ভূক্ত হয়েছে একাধিক মিশন।
আরও পড়ুন: সুবর্ণ আইজাক বারী: বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ অধ্যাপক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ‘বিস্ময় বালক’
১২১৩ দিন আগে
অ্যানিহিলেশন: বাংলদেশের প্রথম ব্যাটেল রয়েল গেমের ইতিবৃত্ত
আপনি যদি একজন গেম প্রিয় হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই এতদিনে জেনে গেছেন বাংলাদেশের তৈরী প্রথম ব্যাটেল রয়েল গেম অ্যানিহিলেশন এর কথা। গত ৫ জানুয়ারি গেমটির একটি টিজার প্রকাশের পর থেকে অনলাইন সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ব্যাপক সাড়া ফেলে দেয় গেমটি। রাজধানী ঢাকা সহ বাংলাদেশের প্রধান অঞ্চলগুলো মূল লোকেশন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে গেমটিতে।
তবে সবচেয়ে দারুণ ব্যাপার হলো, গেমটির একটি প্রধান চরিত্র হিসেবে ফিচার করা হয়েছে বাংলাদেশের সিনেমা জগতের কিংবদন্তি নায়ক সালমান শাহকে। ফার্স্ট পার্সন শ্যুটার গেমটির প্রধান ডেভেলপার তরুণ গেমার ও প্রোগ্রামার সিয়াম হাসান উদয়।
আরও পড়ুন: দেশব্যাপী পাওয়া যাচ্ছে সুপার অ্যামোলেড গেমিং ফোন রিয়েলমি ৮
চলুন, বাংলাদেশের গেম শিল্পে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা এই গেমটির ব্যাপারে আরো কিছু জেনে নিই।
প্রথম ব্যাটেল রয়েল গেমটির শেষ খবর
গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ক্রাইসিস এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেডের ব্যানারে গেমটি মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল গত ৩০ এপ্রিল। অ্যানিহিলেশন কমিউনিটি ৩ দিন আগে গুগল প্লে স্টোরে গেমটি সাবমিটও করেছে। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারির কারণে গুগল থেকে জানানো হয়, গেমটি প্রকাশে আরো দেরি হবে। সুতরাং মাল্টিপ্লেয়ার ভিডিও গেম প্রিয়দের গেমটি খেলার জন্য বেশ কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
অ্যানিহিলেশন গেমের পটভূমি
গেমটির গল্প মূলত বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নির্ভর। সময় ২০৩০ সাল। বাংলাদেশের সাহসী সৈনিকরা একত্রে আন্দোলন গড়ে তুলছে ‘কাউন্সিল’ নামের একটি গুপ্ত সংগঠনের বিরুদ্ধে। বহিঃবিশ্ব সংক্রান্ত কিছু অদ্ভূত ঘটনাকে কেন্দ্র করে রহস্য দানা বাঁধতে শুরু করে। ধীরে ধীরে সবাই বুঝতে পারে ঘটনা শুধু কাউন্সিলের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। এর ভেতরে রয়েছে ভয়ঙ্কর এক বহুজাগতিক ধ্বংসের বীজ।
অতঃপর চূড়ান্তভাবে ঢাকা শহরে এলিয়েনদের অনুপ্রবেশকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হতে থাকে কাহিনী। মানুষের মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সম্পন্ন এই এলিয়েনরা পারস্পরিক সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিতে থাকে শহরবাসীকে। মানুষ ক্রমশ এগিয়ে যায় গৃহযুদ্ধের দিকে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের সাহসী সৈনিকরা এলিয়েনদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। নেপথ্যে থাকা এলিয়েনদের পরিচালনাকারী অদৃশ্য চরিত্র, একজন গেম ভক্ত হিসেবে আপনার রোমাঞ্চের খোরাক যোগাবে।
সব মিলিয়ে গেমটি করোনা পরবর্তী পৃথিবীর সম্ভাব্য সব রকম ভয়াবহতা তুলে ধরবে গেমারদের সামনে।
গেমপ্লের ফিচারসমূহ
ফার্স্ট পার্সন শ্যুটার এই গেমটিতে মোট ৮টি চরিত্র থেকে আপনার পছন্দ মত একজন ফাইটার বাছাই করতে পারবেন সরাসরি এলিয়েনদের সাথে লড়াই করার জন্য। প্রত্যেক হিরোকে ক্রমান্বয়ে লড়তে হবে ৬০ জন প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে। এই ৮টি চরিত্রের মাঝেই প্রধান হিসেবে থাকছে সালমান শাহ চরিত্রটি। ইতিমধ্যে অবশ্যই আপনি গেম ট্রেইলার দেখে একটি বায়োনিক মানুষ বা রোবট চরিত্রের সাথে প্রিয় নায়কের সাদৃশ্যতা ধরতে পেরেছেন। রোবটটির চেহারা, গলার লকেট, পরণের পোশাক, চোখের গ্লাস, চুলের এবং হাটার স্টাইল প্রভৃতির সাথে অকপটেই সালমান শাহের ভক্তরা মিল খুঁজে পেয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে ঢাকা শহর সহ কিছু গ্রাম্য এলাকা ও আন্ডারগ্রাউন্ড দেখতে পাবেন। প্রতিটি ইভেন্টের জন্য দেখানো কাহিনীগুলোর মাধ্যমে পরবর্তীতে আপনি গেম খেলায় উৎসাহিত হবেন।
গেমটির একাধিক সিজন প্রকাশ হবে। প্রথমটা সিজন জিরো নামে আপনার নিকট পুরো প্লটটা তুলে ধরবে। ৮টি চরিত্রের প্রত্যেকের-ই থাকবে কিছু না কিছু ভালো এবং দুর্বল দিক। উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্রশস্ত্র, হিরোদের সাথে গল্পের সম্পর্ক সব কিছু বিস্তারিত জানতে পারবেন প্রাথমিক গেমিং মুডগুলোর সাথে পরিচিত হওয়ার মাধ্যমে। ফার্স্ট পার্সন শ্যুটার হিসেবে যেহেতু আপনি একজন হিরোকে বাছাই করবেন, তাই আপনার প্রতিটি সিন্ধান্তের ওপর নির্ভর করে এগোতে থাকবে গেমের কাহিনীসূত্র।
সিজন ওয়ান এ আপনাকে সম্মুখীন হতে হবে এলিয়েনদের সাথে সংঘর্ষের। সিজন জিরোতে দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী আপনি এখানে ব্যবহার করতে পারবেন মারণাত্মক অস্ত্র, লোকেশন ম্যাপ, প্রয়োজনীয় স্কিল।
যাই হোক, গেমটি বাংলাদেশের এলাকা নির্ভর হলেও আপনি গেমটিকে বাংলা ভাষায় পাচ্ছেন না। এর মূল কারণ হলো, নির্মাতারা গেমটিকে বিশ্বব্যাপী বাজারজাত করার উদ্দেশ্য নিয়েই বানিয়েছে। আপনি বাংলা ভাষায় গেমটির ডিজিটাল ব্যানার, পোস্টার পেতে পারেন। কিন্তু গেমের চরিত্রগুলো এবং ব্যাকগ্রাউন্ড কণ্ঠগুলো সব গতানুগতিকভাবে ইংরেজিতেই কথা বলবে।
গেমটির খেলোয়ার এবং ডেভেলপারদের পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে পুরো গেমপ্লে এখনো উন্নত করা হচ্ছে, সংযোজিত হচ্ছে নতুন ফিচার। প্রতিযোগিতামূলক এই গেমটির নির্মাণ শুরু হয় ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে। গেমটিকে পরিপূর্ণ ভাবে সব রকম টেকনিক্যাল সমস্যা মুক্ত করে বাজারে ছাড়ার চিন্তা ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের।
আরও পড়ুন: ঈদে আসছে স্লিম এবং ট্রেন্ডি রিয়েলমি ৮, সি২৫ এবং গেম প্রো কিট
ইন্টারনেট কানেকশনের সাথে লাইভ গেমটি খেলায় আপনার আনন্দ আরো দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিবে।
ডেক্সটপ কম্পিউটার ছাড়াও আপনি অ্যানিহিলেশন গেমটি খেলতে পারবেন স্টিম, প্লেস্টেশন কন্সোল্স, এক্সবক্স, অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস ডিভাইসগুলোতে। অবশ্য প্লেস্টেশন, এবং এক্সবক্সে গেমটির সহজলভ্যতা নির্ভর করছে গেমারদের চাহিদার ওপর। চাহিদা বাড়লে ক্রাইসিস এন্টারটেইনমেন্ট অবশ্য দু’টি প্ল্যাটফর্মের জন্যই গেমটি প্রকাশ করবে।
গেমটির নেপথ্যে যারা রয়েছেন
গেমটির প্রধান ডেভেলপার সিয়াম হাসান উদয়। তিনি বর্তমানে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এ সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রিতে পড়ছেন। এর আগে তিনি রাইজআপ ল্যাব্স নামক একটি প্রতিষ্ঠানের গেম ডেভেলপার ছিলেন।
গেমটির ফাইন্যান্স এবং মার্কেটিং ডিরেক্টর শাদমান সিয়ান। গেম ম্যানেজমেন্টে আছেন ফারুক ইমরান। অ্যানিহিলেশনের থ্রিডি ও লেয়ার ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেছেন নাহিদ উল কবির। আর প্রোগ্রামার হিসেবে আছেন মিসবাহ হাবিব।
গেমটি বাংলাদেশের গেমারদের নিকট চূড়ান্তভাবে উন্মুক্ত হবে সহকারী প্রতিষ্ঠান ক্রাইসিস এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেডের ব্যানারে।
গেম শিল্পে অ্যানিহিলেশনের সম্ভাবনা
টিজার এবং ট্রেইলার বের হবার পর পরই গেমটি অনেক সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। অনেকেই দাবী করেছেন যে, গেমটি দুর্বোধ্য, গেমপ্লে নিম্নমানের। গেমপ্লে থেকে ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবেশটাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে ট্রেইলারে। চরিত্র ও স্কিলগুলোর আধিক্য নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।
আরও পড়ুন: বাজারে আসছে রিয়েলমি নারজো ৩০এ, শুরু হচ্ছে গেমিং চ্যাম্পিয়নশিপ
কিন্তু সবকিছুর ওপরে বাংলাদেশ এখনো এই শিল্পে হামাগুড়ি দিয়ে এগোচ্ছে। সে দিক থেকে ভাবলে, এরকম উচ্চ গ্রাফিক্স কোয়ালিটি সম্পন্ন গেম দেশের জন্য এক যুগান্তকারী সৃষ্টি। ২০০২ সালে ঢাকা রেসিং, ২০০৪ সালে অগ্নিশিখা, ২০১১ সালে রেড ক্লাউড-৭১, ২০১২ সালে লিবারেশন-৭১, এভাবে গেমিংয়ের জগতে বাংলাদেশের প্রাথমিক যাত্রা অব্যাহত থাকে। সে সময় থেকে এখন অ্যানিহিলেশনের আবির্ভাবে নিমেষেই স্বীকার করা যায় যে, বাংলাদেশে গেম ডেভেলপমেন্ট সঠিক দিকেই এগোচ্ছে। এখন এই গেমটিকে টেক্কা দিতে হচ্ছে কল অফ ডিউটি, ফ্রি ফায়ার-এর মত জনপ্রিয় গেমগুলোকে। এভাবে চলতে থাকলে একদিন বাংলাদেশের গেমগুলো বিশ্বমানের প্রথম সাড়িতে অবস্থান করবে বলে আশা করা যায়। সে সূত্রে অ্যানিহিলেশনকে বিশ্বমানের গেমের মাইলস্টোনের অগ্রদূত বলা যেতে পারে। নিঃসন্দেহে তা বাংলাদেশে গেম শিল্পে আরো নতুনত্ব আনার পথিকৃৎ হয়ে থাকবে।
শেষাংশ
বাংলাদেশের গেম ডেভেলপমেন্ট নিয়ে বৃহৎ পরিসরে কাজ না হলেও অ্যানিহিলেশন অগ্রদূত হিসেবে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখবে। ফলশ্রুতিতে দেশের সফ্টওয়্যার নিয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা পাবে পেশাগতভাবে অনুশীলনের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম।
আরও পড়ুন: অবরুদ্ধ সময়ে কিশোর-কিশোরীদের জন্য ফ্রি অনলাইন গেমস
শুধু তাই নয়, গেম শিল্পে নিজের ক্যারিয়ার তৈরি করতে তাদের দেশের বাইরে যেতে হবে না। বরং গেমের সমৃদ্ধশালী গ্রাহকদের সেবা সুনিশ্চিত করতে নতুন প্রতিষ্ঠান সৃষ্টির মাধ্যমে সুযোগ বাড়বে নতুন কর্মসংস্থানের। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ব মানচিত্রে গেম ডেভেলপার দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নিজের জায়গা করে নিতে পারবে।
১৪০৮ দিন আগে