সাতক্ষীরা
কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড: সাজুর মরদেহ বাড়ি ফিরলেও রেবতি সরকারের মরদেহ দাহ হয়েছে ভারতে
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত দুইজেনর মধ্যে আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ (৪৫) সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে দেশে এসেছে। তবে নিহত রেবতি সরকারের মরদেহ ভারতে সৎকার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গেল মঙ্গলবার মধ্যরাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলতায় একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন সাজু। তিনি সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের ইউনুস সরদারের ছেলে। এছাড়া একই ঘটনায় তেঁতুলিয়া গ্রামের ভবেশ সরকারের স্ত্রী রেবতী সরকারও (৩৭) নিহত হন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তারা উভয়ই চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। সেখানে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ওঠেন। রাতে ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি ৭ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে দুইজন সাতক্ষীরার। দুইদিন আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তার করা হয়। এর মধ্যে আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ দেশে আনা হয়েছে।
রেবতি সরকারের দেবর সঞ্জয় সরকার জানান, তার ছেলেমেয়ে ভারতে অবস্থান করায় সেখানেই তার মরদেহ সৎকার করা হয়েছে।
ভোমরা ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, আজ (শনিবার) দুপুর ১২টার পর সাজুর মরদেহ তারা গ্রহণ করেছেন। মাজুর বাড়িতে জানাজা এবং দাফনের সব প্রস্তুতি সেরে রেখেছেন নিহতের পরিবার।
১৭ দিন আগে
সাতক্ষীরা শহরে প্রতি ৪ জনে একজন জলবায়ু উদ্বাস্তু, সুরক্ষায় ৮ দফা দাবি
সাতক্ষীরা পৌর শহরের প্রতি চারজন বাসিন্দার একজনই জলবায়ু উদ্বাস্তু এবং নিম্ন আয়ের বস্তিবাসী। নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড় ও লবণাক্ততার কারণে ভিটেমাটি হারিয়ে শহরে আশ্রয় নেওয়া এই বিশাল জনগোষ্ঠীর আবাসন সংকট নিরসন এবং জলবায়ু দুর্যোগ থেকে তাদের সুরক্ষায় ৮ দফা দাবি তুলে ধরেছেন নাগরিক নেতারা।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের ম্যানগ্রোভ সভাঘরে বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ (বারসিক) আয়োজিত ‘সাতক্ষীরার নিম্ন আয়ের ভূমিহীন বস্তিবাসীর আবাসন সংকট সমাধানে করণীয়’ শীর্ষক এক নাগরিক সংলাপে এসব দাবি জানানো হয়।
গ্রিন কোয়ালিশন সাতক্ষীরার সভাপতি আবু আফফান রোজ বাবুর সভাপতিত্বে সংলাপে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার গাজী মাহিদা মিজান।
ধারণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নিঃস্ব হওয়া মানুষেরা জীবিকার তাগিদে শহরে পাড়ি জমাচ্ছে। বর্তমানে শহরের প্রায় দুই লাখ জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিম্ন আয়ের পথবাসী, ঝুপড়িবাসী ও বস্তিবাসী। অর্থাৎ শহরের প্রতি ৪ জনে ১ জন মানুষ জলবায়ু উদ্বাস্তু হয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবহন, গৃহস্থালি ও নির্মাণশিল্পে যুক্ত থেকে শহরকে সচল রাখলেও নগর উন্নয়ন পরিকল্পনায় তারা সবসময় উপেক্ষিত।
২০২৪ সালে সাতক্ষীরা-শ্যামনগর সড়ক প্রশস্তকরণের অজুহাতে ইটাগাছা বস্তির ১০৪টি পরিবারকে কোনো পুনর্বাসন ছাড়াই উচ্ছেদ করা হয়, যারা দীর্ঘদিন ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
সংলাপে নাগরিক নেতারা বলেন, প্রতিকূল পরিবেশে বাস করায় বস্তিবাসী বিভিন্ন জটিল ব্যাধিতে ভোগেন এবং তাদের উপার্জনের প্রায় ৩০ শতাংশ টাকাই চিকিৎসাবাবদ খরচ হয়ে যায়। সাংবিধানিক অধিকার ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে নগর দরিদ্রদের অন্তর্ভুক্ত করে পরিকল্পিত উন্নয়ন বাস্তবায়ন জরুরি।
সংলাপে বক্তব্য রাখেন, নাগরিক নেতা কল্যাণ ব্যানার্জি, পবিত্র মোহন দাশ, কিশোরী মোহন সরকার, মাধব চন্দ্র দত্ত, এম কামরুজ্জামান, মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল, গোলাম সরোয়ার, আলী নুর খান বাবুল, সিদ্দিকুর রহমান, বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. শাহীন ইসলাম, রাজার বাগান ঋষিপাড়ার কুমারেশ সরকার, ইটাগাছা বস্তির জোবেদা খাতুন, মাজেদা খাতুন প্রমুখ।
সংলাপ থেকে বস্তিবাসীর সুরক্ষা ও অধিকার আদায়ে উচ্ছেদ হওয়া ১০৪টি পরিবারসহ দরিদ্র বস্তিবাসীর নিরাপদ ও দুর্যোগসহনশীল আবাসন নিশ্চিতকরণ, শহরের জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে দূরীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ, বস্তিতে সরকারি ভর্তুকিতে সুপেয় পানি, বিদ্যুৎ ও পয়ঃনিষ্কাশন সেবা নিশ্চিতকরণ, বস্তিবাসীর ছেলেমেয়েদের কারিগরি শিক্ষার আওতায় আনা, বিকল্প পুনর্বাসন ছাড়া যেকোনো ধরনের উচ্ছেদ বন্ধ রাখা, বস্তির দরিদ্র শিশুদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, সারা বছর ভর্তুকিমূল্যে খাদ্যসামগ্রী প্রাপ্তির সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি পরিকল্পিত ও দরিদ্রবান্ধব নগর গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়।
১৯ দিন আগে
সাতক্ষীরায় ছাত্রদলের সঙ্গে আ.লীগ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১০
সাতক্ষীরায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ হামলায় উভয় পক্ষের ১০-১২ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে সদর উপজেলার ঘোনা ইউনিয়নের শ্রীডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাত্রদল গ্রুপের আহত ৮ জনকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, আওয়ামী লীগের একজন নেতাকে সদর হাসপাতাল ও আরেকজনকে অপর এক মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত জেলা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মঞ্জুরুল আলম বাপ্পী জানান, বিএনপি ও ছাত্রদল নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল। অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার বিষয়টি জানতে চাইলে ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হোসেনকে নাজমুল আটকে রাখেন। খবর পেয়ে কয়েকজন নেতাকর্মীকে নিয়ে তিনি সেখানে গেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় দুপক্ষের সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১০-১২ জন আহত হয়েছেন।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক অর্ঘ্য জানান, ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল, যুবলীগ নেতা খালিদ ও আওয়ামী লীগ নেতা লাল্টুর নেতৃত্বে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জেলা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি দাবি করেন।
তবে এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৩০ দিন আগে
সাতক্ষীরার ব্লিস হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড, দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে
সাতক্ষীরা জেলা শহরের বেসরকারি ব্লিস হাসপাতালের গ্রাউন্ড ফ্লোরের অ্যাক্সিজেন লাইন থেকে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিটের চেষ্টায় দেড় ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে হঠাৎ হাসপাতালটির ভবনের ভেতরে ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। এতে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার পর সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট সেখানে পৌঁছে আগুর নেভানোর চেষ্টা করে। এ অবস্থায় হাসপাতালের রোগীদের বের করে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক সাইফুজ্জামান জানান, ব্লিস হাসপাতালের গ্রাউন্ড ফ্লোরের অ্যাক্সিজেন লাইন থেকে আজ (মঙ্গলবার) দুপুর দেড়টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট। এরপর বিকেল তিনটার দিকে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের উদ্ধার করে আশপাশের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করেছেন বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।
৩৫ দিন আগে
সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তার
সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে বসুন্ধরায় নিজ বাসা থেকে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
ডিবিপ্রধান আরও জানান, গ্রেপ্তার নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৪৩ দিন আগে
সাতক্ষীরায় আকস্মিক হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, দুই চিকিৎসকসহ তিনজন বরখাস্ত
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ কয়েকটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে দুজন চিকিৎসকসহ তিনজনকে শাস্তি দিয়েছেন তিনি।
রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় ছুটি না নিয়ে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় ডা. তন্নি নামের এক চিকিৎসককে এবং চুরির ঘটনায় এক নাইট গার্ডকে বরখাস্ত করেন তিনি।
পরে তিনি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে হাসপাতালের রান্নাঘর, ওয়াশরুম ও বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় এক মাসের বেশি সময় ছুটি ছাড়া অনুপস্থিত থাকায় ডা. সোহানা সেলিম নামের আরেক চিকিৎসককে বরখাস্ত করা হয়। এরপর তিনি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বাংলাদেশে রোগীর তুলনায় চিকিৎসক কম। গত ১৭ বছরে স্বৈরশাসন চিকিৎসক নিয়োগ দেয়নি; কোনো দিকে খেয়াল করেনি; যে কারণে এ সমস্যা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করতে যাচ্ছি। প্রতিটি জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল হাসপাতালে ৫০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রতিটি উপজেলায় ১০১ শয্যার ফিজিওথেরাপি ও আধুনিক প্যাথলজি করা হচ্ছে। পরবর্তীতে ওই হাসপাতালগুলোতেও ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সুবিধা দেওয়া হবে। ইউনিয়ন হেলথ কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন ফ্যামিলি প্ল্যানিং সেন্টারকে পিপিপির আওতায় আনা হবে। খুব দ্রুতই ই-হেলথ কার্ড দেওয়া শুরু করব। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী দেখছেন।’
৪৪ দিন আগে
শ্যামনগরে এমপি নজরুলকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে তার পদত্যাগের দাবিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ, শ্যামনগর’-এর ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রেসক্লাব চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলায়মান কবির, সাবেক সহ-সভাপতি অধ্যাপক আবু সাঈদ, শিক্ষানুরাগী অ্যাডভোকেট আশেক এলাহী মুন্না, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, জাতীয় মহিলা সংস্থার উপজেলা সভাপতি নুরজাহান পারভীন ঝর্নাসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, নৈতিক স্থলন হওয়ায় গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতের দলীয় পদ ও এমপি পদ থেকে বহিষ্কার করতে হবে। শ্যামনগরের মানুষকে কলঙ্কিত করেছেন তিনি। তাকে আমরা আর এমপি দেখতে চাই না। শ্যামনগরে তাকে আজ থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো। মুখে ইসলামের কথা বলে অন্তরের বাস্তব চিত্র ভিডিওর মাধ্যমে দেশবাসী দেখেছে। আমরা কলঙ্কিত, লজ্জিত। আমরা আশা করব, জামায়াতে ইসলামী তার বিরুদ্ধে দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের কলঙ্কমুক্ত করবে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২০ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে রাজধানীর মগবাজার এলাকার একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় গাজী নজরুল ইসলামকে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়।
এ ঘটনাকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যে গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পোস্টে ওই কিশোরীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। তবে তার ওই বিয়ের দাবিও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
৪৮ দিন আগে
সাতক্ষীরা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি আহত
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের বসন্তপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।
বুধবার (৩ জুন) রাতে সীমান্তসংলগ্ন কালিন্দী নদী এলাকায় এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— কালিগঞ্জ উপজেলার শীতলপুর গ্রামের গোলাম রাব্বানীর ছেলে মহিউদ্দিন (৪২) ও ফজর আলী সরদারের ছেলে মো. শাহীন (২৮)। আহতদের প্রথমে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা মেডিকেলের সার্জারি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক শরিফুল ইসলাম জানান, তাদের উভয়ের অস্ত্রপচার করতে হবে। এখন অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) আছি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে ওই দুই ব্যক্তি অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যান। পরে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে রাজমিস্ত্রি শ্রমিকের কাজ করতেন। গতকাল (মঙ্গলবার) গভীর রাতে তারা অবৈধভাবে দেশে ফেরার চেষ্টা করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বসন্তপুর সীমান্তসংলগ্ন বাঁশঝাড়িয়া এলাকা দিয়ে কালিন্দী নদী সাঁতরে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় বিএসএফের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে দুজনই হাতে ও পিঠে গুলিবিদ্ধ হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে ভোরে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এরপর সেখান থেকে সকালে তাদের মেডিকেলে নেওয়া হয়।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন এবং একইভাবে বাংলাদেশে ফেরার সময় বিএসএফের গুলির শিকার হন। তবে সাতক্ষীরার বিজিবির দায়িত্বশীল সূত্র এ ঘটনার কোনো সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।
৯৭ দিন আগে
সাতক্ষীরায় গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরায় তাছলিমা খাতুন (৩৫) নামে এক গৃহবধুকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তারই স্বামীর বিরুদ্ধে।
শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার লক্ষ্মীদাড়ি গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর থেকে স্বামী সাদ্দাম হোসেন নিখোঁজ রয়েছেন।
নিহতের বড় মেয়ে সাদিয়া সুলতানা (১২) বলেন, আমার বাবা নেশা করে প্রায়ই মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করতেন। ঘটনার দিন আমার দাদি, আমি ও আমার ছোট ভাই নুর হোসেন (৯) পাশের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলাম। এর মধ্যে মায়ের গোঙ্গানির শব্দ শুনে আমার দাদি আমাদের ডেকে দ্রুত মায়ের ঘরে যান। সেখানে গিয়ে দেখি মায়ের গলা কাটা মরদেহ। ঘরের ভেতর তখন রক্ত আর রক্ত। আমাদের প্রতিবেশীরা দ্রুত এসে আমার মাকে নিয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক বলেন, আমার মা মারা গেছেন।
নিহত গৃহবধূর বাবা নুরুজ্জামান জানান, বিয়ের পর থেকে আমার মেয়ের ওপর শারিরীক নির্যাতন করত আমার জামাই। নেশার টাকা জোগাড় করতে না পারলে আমার মেয়ের ওপর বেশি নির্যাতন চলত। তবে এভাবে আমার মেয়েকে হত্যা করবে, আমি ভাবতে পারিনি। আমি এই পাষণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে। সেটি ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। ঘাতক স্বামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
১১৪ দিন আগে
আজ থেকে বাজারে মিলছে সাতক্ষীরার ‘হিমসাগর’ আম
প্রশাসনের নির্ধারিত ‘আম ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী সাতক্ষীরার জনপ্রিয় আম ‘হিমসাগর’ আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে উঠতে শুরু করেছে। শুক্রবার সকাল থেকে জেলার বাগানগুলোতে এই সুস্বাদু আম সংগ্রহের উৎসবে মেতেছেন চাষিরা।
বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি মণ হিমসাগর আম পাইকারি দরে ২,৩০০ থেকে ২,৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় চাহিদ মিটিয়ে সাতক্ষীরার এই আম এখন বিদেশের মাটিতেও সুবাস ছড়াচ্ছে। শহরের কুকরালী এলাকার আম চাষি হাফিজুল ইসলাম খোকার বাগান থেকে হিমসাগর আম ইংল্যান্ড ও ইতালিতে রপ্তানি শুরু হয়েছে। হাফিজুল ইসলাম জানান, আজ তার বাগান থেকে চার টন আম বিদেশের উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, হিমসাগর আম এখন পুরোপুরি পরিপক্ব এবং বাজারজাতকরণের উপযোগী। তিনি আরও জানান, সরকারি সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২৭ মে ল্যাংড়া এবং ৫ জুন থেকে আম্রপালি জাতের আম সংগ্রহ ও বিক্রি করতে পারবেন চাষিরা।
উল্লেখ্য, গত ৫ মে গোবিন্দভোগ ও গোপালভোগ জাতের আম সংগ্রহের মধ্য দিয়ে জেলায় এ বছরের আম মৌসুম শুরু হয়। এ বছর সাতক্ষীরা জেলায় মোট ৭০ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১০০ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানির আশা করছে কৃষি বিভাগ।
১১৬ দিন আগে