কুমির
সুন্দরবনে কুমিরের আক্রমণে নারী জেলে নিহত
বাগেরহাটের সুন্দরবনে শেলা নদীতে কুমিরের আক্রমণে সেলিনা বেগম (৫২) নামে এক নারী জেলে নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১৭ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই নারী জেলার মোংলা উপজেলাধীন সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের জয়মনি লঞ্চঘাট এলাকায় জাল টেনে মাছ ধরার সময় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সেলিনা বেগম (৫২) বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনি গ্রামের আব্দুল শেখের স্ত্রী ছিলেন।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, ১ জুন থেকে আগামী ৩১ আগাস্ট পর্যন্ত ৩ মাস সুন্দরবনে জেলে,বাওয়লী, মৌয়াল ও পর্যটকসহ সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ। কিন্তু ওই এলাকার তিনজন নারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লোকালয়-সংলগ্ন শেলা নদীর লঞ্চঘাট এলাকায় জাল টেনে মাছ ধরছিলেন। এ সময় হঠাৎ একটি কুমির সেলিনা বেগম নামে ওই নারীকে টেনে নদীর মধ্যে নিয়ে যায়। পরে তার সঙ্গীরা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
জয়মনি এলাকার স্থানীয় এক সূত্র জানায়, সুন্দরবন-সংলগ্ন লোকালয়ের অসহায় দরিদ্র বেশকিছু নারী বিভিন্ন সময়ে সুন্দরবনের নদ-নদীতে জাল টেনে মাছ এবং মাছের রেনু আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কুমিরের আক্রমণে নিহত ওই নারী বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও জীবিকার তাগিদে শেলা নদীতে জাল টেনে মাছ আহরণ করছিলেন। এ সময় কুমিরের আক্রমণে তার প্রাণহানি ঘটে। বন-সংলগ্ন লোকালয়ের অসহায় নারী-পুরুষদের কর্মসংস্থান এবং আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান স্থানীয়রা।
ডিএফও মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বৈধ পাশ (অনুমতিপত্র) নিয়ে জেলে, বাওয়ালী, মৌয়ালসহ পেশাজীবীরা সুন্দরবনে প্রবেশ করে বাঘ, কুমিরসহ বন্যপ্রাণীর আক্রমণে নিহত অথবা আহত হলে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। ওই নারী নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন অবৈধভাবে সুন্দরবনের নদীতে মাছ আহরণ করতে গিয়ে কুমিরের আক্রমণে নিহত হয়েছেন। এক্ষেত্রে তাকে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা দেওয়া সম্ভব নয়।
৮ দিন আগে
খানজাহান আলী মাজারের কুমির ফিরিয়ে আনার দাবিতে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম
ঐতিহাসিক বাগেরহাট হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘির একমাত্র কুমিরটি পুনরায় ফিরিয়ে আনার দাবিতে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (৭ জুন) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি সম্বলিত আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে দিঘি থেকে কুমিরটিকে সরিয়ে নেওয়ায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সেইসঙ্গে বাগেরহাটের বাসিন্দারা হতাশ ও মর্মাহত বলে দাবি করা হয়।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, শত শত বছর ধরে এই মাজার, দিঘি ও কুমির বাগেরহাটের ইতিহাস, ঐতিহ্য সাংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পরিচিত। দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য দর্শনার্থী ও ধর্মপ্রাণ মানুষ ঐতিহাসিক এই নির্দশন ও কুমিরটি একনজর দেখার জন্য বাগেরহাটে আসেন। দিঘির এই কুমিরটি শুধুমাত্র একটি প্রাণী নয়, এটি বাগেরহাটের ঐতিহ্যের প্রতীক, মানুষের আবেগের অংশ এবং ইতিহাসের জীবন্ত স্মারক।
এ সময় দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে ফাতেমা নামে ৮ বছরের শিশু নিহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ এবং নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, প্রশাসন চাইলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে পারত। দর্শনার্থীদের জন্য সুরক্ষা বেষ্টনী, সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত পাহারার মাধ্যমে কুমিরটিকে দিঘিতে সংরক্ষণ করা সম্ভব ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, স্থানীয় জনগণ, মাজার কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্টদের মতামত যথাযথভাবে বিবেচনা না করেই দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। রাতে জরুরি বৈঠক করে ঐতিহাসিক দিঘির একমাত্র কুমিরটিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম নিয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সম্মেলনে বলা হয়, ঐতিহাসিক এই দিঘির কুমিরটি বাগেরহাটের মানুষের সম্পদ। এটি আমাদের ইতিহাস,ঐতিহ্য ও পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনতিবিলম্বে কুমিরটিকে পুনরায় দিঘিতে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কুমিরটিকে দিঘিতে ফিরিয়ে আনা না হলে নতুন করে কর্মসুচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয় এই সংবাদ সম্মেলনে।
১৯ দিন আগে
খানজাহান আলীর মাজারের কুমিরটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে
জনস্বার্থে বাগেরহাটের হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের প্রায় ৬০০ বছর পুরোনো দিঘিতে বর্তমানে থাকা একমাত্র কুমিরটিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে ৮ বছর বয়সী এক শিশুর নিহত হবার পর জরুরি সভা করে জেলা প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নেয়।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন বিভাগের বিশেষজ্ঞ টিম দিঘি থেকে কুমিরটি উদ্ধার করে খুলনা বন্যপ্রাণী ও পূর্নবাসনকেন্দ্রে নিয়ে গেছে। কুমিরটিকে সেখানে রাখা হবে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে মাজারের দিঘিতে কুমিরের জন্য সুরক্ষিত স্থাপনা নির্মাণ করে কুমিরটিকে ভবিষ্যতে ফিরিয়ে আনা হতে পারে জানানো হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে খান জাহান আলীর মাজারের সার্বিক নিরাপত্তা ও মাজার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দিঘি থেকে কুমিরটি সরিয়ে নেওয়া হলো। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক ও মাজার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি গোলাম মো. বাতেন ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন।
দিঘি থেকে সরিয়ে নেওয়া কুমিরটি নারী কুমির। তার আনুমানিক বয়স ৪৫ বছর। কুমিরটির ওজন ৬০০ কেজি, দৈর্ঘ ৯ ফুট ৩ ইঞ্চি এবং কুমিরের বেড় সাড়ে ৫ ফুট বলে সুন্দরবন বিভাগ জানিয়েছে।
গত সোমবার রাত ৮টার দিকে ফাতেমা আক্তার নামে (৮) একটি শিশু মাজারে দিঘির নারীদের জন্য নির্ধারিত ঘাটে গোসল করতে নামে। সে সময় কুমিরটি তাকে টেনে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তল্লাশি চালিয়ে গতকাল ভোরে ভাসমান অবস্থায় দিঘি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
এরপর মানুষের নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে গতকাল রাতে জেলা প্রশাসক জরুরি সভা আহ্বান করেন। ওই সভা থেকে মানুষের নিরপত্তার বিষয়টি বিবেচনায নিয়ে দিঘি থেকে কুমিরটিকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
গোলাম মো. বাতেন জানান, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দিঘি থেকে কুমিরটিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শক্রমে দিঘিতে কুমিরের জন্য সুরক্ষিত স্থাপনা নির্মাণ করে কুমিরটিকে ভবিষ্যতে ফিরিয়ে আনা হতে পারে।
তিনি আরও জানান, মাজারে আসা অনেক পর্যটকের কুমির দর্শনের আগ্রহ থাকে। তারপরও নিরাপত্তার জন্য কুমিরটিকে দিঘি থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাজারের খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম জানান, এই মুহুর্তে দিঘি থেকে কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঠিক হয়নি। আরও চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, জেলা প্রশাসনের সভার সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী দিঘি থেকে কুমিরটিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। খুলনা বন্যপ্রাণী পূর্নবাসন কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ টিম আজ (বুধবার) দুপুরে মাজারে দিঘির পূর্বপাড় থেকে কুমিরটিকে উদ্ধার করে পিকআপ যোগে খুলনায় নিয়ে গেছে। সেখানে বন্যপ্রাণী পূর্নবাসন কেন্দ্রে কুমিরটি রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে দিঘিতে কুমিরের জন্য সুরক্ষিত স্থাপনা নির্মাণ করে কুমিরটিকে মাজারের দিঘিতে ফিরিয়ে আনা হতে পারে। ততদিন কুমিরটিকে খুলনায় রাখা হবে। কুমিরটি সুস্থ্য রয়েছে বলেও জানান ডিএফও।
২৩ দিন আগে
পদ্মায় কুমির, রাজবাড়ীর নদীপাড়ে আতঙ্ক
রাজবাড়ী সদর উপজেলার পদ্মা নদীতে মাঝারি আকারের একটি কুমিরের দেখা মিলেছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) উপজেলার উড়াকান্দা এলাকায় পদ্মা নদীতে দুপুরের পর মাঝেমধ্যে কুমিরটিকে ভেসে উঠতে দেখেন স্থানীয়রা। এর আগেও একাধিকবার কুমিরটিকে দেখা গেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বরাট ইউনিয়নের ২৮ নম্বর উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পদ্মা নদীতে গত দুই দিন ধরে মাঝেমধ্যে একটি কুমির ভেসে উঠতে দেখা যাচ্ছে। নদীর ওই জায়গায় স্থানীয়রা নিয়মিত গোসল করেন। ফলে তাদের মধ্যে বাড়তি আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
উড়াকান্দা এলাকার বাসিন্দা শামীম মোল্লা জানান, গত তিন দিন ধরে মাঝেমধ্যে কুমিরটি ভেসে উঠছে। সকালে এক গৃহবধূ নদীতে কাপড় ধোয়ার জন্য গেলে কুমিরটি দেখে ভয়ে চিৎকার করে পালিয়ে যান।
২৮ নম্বর উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদুল হাসান বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুরে স্থানীয় লোকজন কুমির দেখতে নদীর পাড়ে ভিড় করেন। হঠাৎ বিদ্যালয়ের সামনে নদীতে কুমির দেখতে পাওয়ায় আমরাও আতঙ্কের মধ্যে আছি। কারণ অনেক সময় স্থানীয়দের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও নদীতে গোসল করে থাকে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
আজ (বুধবার) সকালে রাজবাড়ী সামাজিক বনায়ন নার্সারি এবং প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সহকারী বন সংরক্ষক (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) সানজিদা সুলতানা বলেন, গতকাল বিকেলে আমরা পদ্মা নদীতে কুমির দেখা পাওয়ার খবর জানতে পেরেছি। এলাকাবাসীর সচেতনতার জন্য আজ এলাকায় মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করেছি।
তিনি বলেন, কুমিরের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য বন বিভাগ কয়েকদিন নদীপাড়জুড়ে পাহারা দেবে। এরপর কুমিরটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিরুপমা রায় বলেন, গতকাল রাত ৮টার পর আমি কুমিরের বিষয়টি জানতে পারি। এরপর উড়াকান্দা এলাকার পদ্মা নদীতে আপাতত কেউ যাতে না নামেন, সেজন্য আজই নদীপাড়ে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড স্থাপন এবং লাল কাপড় টানাতে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বলেছি।
পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন থেকেও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বাড়তি নজরদারি করতে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।
১৬৩ দিন আগে
সুন্দরবনে ছাড়া হলো স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসানো আরেকটি কুমির
জীবনাচরণ সম্পর্কে জানতে সুন্দরবনে ছাড়া হলো স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসানো আরেকটি কুমির। রবিবার (২৬ জানুয়ারি) বিকালে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের চরাপুটিয়া খালে অবমুক্ত করা হয় কুমিরটি।
এ নিয়ে ৫টি কুমিরের পিঠে ট্রান্সমিটার স্থাপন করা হলো। এর আগে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে ৪টি কুমিরের পিঠে ট্রান্সমিটার স্থাপন করা হয়।
এশিয়া মহাদেশের মধ্যে বাংলাদেশে এই প্রথম কুমিরের জীবনচারণ জানতে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসানো হয়েছে বলে জানায় বন বিভাগ।
বন বিভাগ জানিয়েছে, স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার যুক্ত করে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা কুমিরটির জন্ম হয়েছে ১২ বছর পূর্বে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণি প্রজনন কেন্দ্রে। স্ত্রী প্রজাতির কুমিরটির দৈর্ঘ ৭ ফুট ও ওজন ২০ কেজি।
আরও পড়ুন: পদ্মায় জেলের জালে ধরা পড়ল বিশালাকৃতির কুমির
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের করমজল বন্যপ্রাণি প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির জানান, বন বিভাগ ও আইইউসিএনের (প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক জোট) সহযোগিতায় সুন্দরবনের নদী-খালে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসিয়ে চারটি কুমির অবমুক্ত করা হয়।
তিনি জানান, ট্রান্সমিটার যুক্ত ৪টি কুমির থেকে প্রতি ১৫ দিন অন্তর রিডিং সংগ্রহ করা হচ্ছে। অ্যাপসের মাধ্যমে সেই তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।
৫১৫ দিন আগে
পদ্মায় জেলের জালে ধরা পড়ল বিশালাকৃতির কুমির
পদ্মা নদীর কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া অংশে জেলের জালে একটি বিশালাকৃতির কুমির ধরা পড়েছে। কুমিরটির ওজন আনুমানিক সাড়ে ৩ মণ এবং লম্বায় প্রায় ১০ ফুট।
মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে তালবাড়িয়া ঘাট সংলগ্ন পদ্মা নদীতে শরিফুল ইসলাম নামের এক জেলের মাছ ধরার জালে কুমিরটি ধরা পড়ে।
জালে কুমির আটকে থাকতে দেখে জেলেসহ আশপাশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পরে সেটিকে ডাঙায় তুলে আনলে হাজার হাজার উৎসুক জনতা কুমিরটিকে এক নজর দেখার জন্য ভিড় জমায়।
খবর পেয়ে কুষ্টিয়ার বন বিভাগ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় পরিবেশ কর্মীদের সহায়তায় কুমিরটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে রিসোর্ট থেকে কুমির উদ্ধার
এ বিষয়ে জেলে শরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা ৭-৮ জন জেলে প্রতি দিনের মতো নদীতে মাছ ধরতে যাই। দুপুর ১টার দিকে নদীতে জাল ফেলি। জাল টানার পর প্রথমে মনে করেছিলাম বড় কোনো মাছ ধরা পড়েছে, কিন্তু জাল তোলার পরে দেখি বিশাল আকৃতির একটি কুমির। আমরা জাল কেটে কুমিরটিকে বের করে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখি। পরে বন বিভাগের লোক এসে কুমিরটিকে নিয়ে যায়।
বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের (বিবিসিএফ) সহ-সভাপতি শাহাবউদ্দিন মিলন বলেন, বেশ কিছুদিন আগে থেকেই স্থানীয়রা পদ্মা এবং গড়াই নদীতে কয়েকটি কুমির দেখতে পাচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমরা মুরগি, হাঁস ও ছাগল দিয়ে রাখি নদীতে। কয়েকবার দেখা গেলেও হাজারো মানুষের ভিড়ের কারণে শেষ পর্যন্ত আর কুমিরের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে আজ (মঙ্গলবার) দুপুর দেড়টার দিকে জানতে পারি, তালবাড়িয়া ঘাট সংলগ্ন পদ্মা নদীতে জেলেদের জালে একটি কুমির ধরা পড়েছে। খবর পেয়ে আমরা বিবিসিএফ টিম এবং কুষ্টিয়া বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। সেখানে জেলেদের জাল কেটে কুমিরটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়েছে। পরবর্তীতে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে কুমিরটিকে নিরাপদ কোনো স্থানে অবমুক্ত করা হবে।
এ ব্যাপারে সামজিক বনায়ন কুষ্টিয়ার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (জগতি) মো. আতিয়ার রহমান জানান, এটি একটি মিঠা পানির কুমির। এসব কুমির লম্বায় ১০ ফুটও হতে পারে। কুমিরটিকে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছি। পরবর্তীতে উপযুক্ত স্থানে আমরা এটিকে অবমুক্ত করব।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনে কুমিরের আক্রমণে মৌয়ালের মৃত্যু
৫৪৯ দিন আগে
গাজীপুরে রিসোর্ট থেকে কুমির উদ্ধার
গাজীপুরের রিসোর্ট অবৈধভাবে রাখা একটি কুমির উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। কুমিরটির বয়স আনুমানিক ২০ বছর।
মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাজীপুর মহানগরের নীলেরপাড়া এলাকায় পাখির স্বর্গ রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে কুমিরটি উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন: খান জাহান আলীর মাজারে কুমিরের মৃত্যু
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, অভিযান চালিয়ে একটি কুমির উদ্ধার করা হয়েছে। এটি স্ত্রী কুমির। রিসোর্ট থেকে উদ্ধারের পর বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের কুমির বেষ্টনীতে এটাকে অবমুক্ত করা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংগঠনের মাধ্যমে ঢাকা বন বিভাগ জানতে পারে পাখির স্বর্গ রিসোর্টে একটি কুমির রয়েছে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গাজীপুর সাফারি পার্কের বন্য প্রাণী কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সেভ ওয়াইল্ড লাইফ এবং নেচার (সোয়ান) এর সদস্যরা কুমিরটি উদ্ধার করেন। বন্যপ্রাণী আইন অনুযায়ী নোনা পানির কুমির কোথাও রাখা যাবে না। এখান থেকে যে কুমিরটি উদ্ধার করেছি এটি নোনা পানির কুমির,যা প্রায় ২০ বছর ধরে অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছিল। উদ্ধার করা কুমিরটি গাজীপুর সাফারি পার্কে বিচরণের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সেভ ওয়াইল্ড লাইফ এবং নেচার (সোয়ান) সভাপতি আদনান আজাদ বলেন, আমরা যখন জানতে পারি রিসোর্টে অবৈধভাবে একটি কুমির রাখা হয়েছে, তখন খোঁজ খবর নিয়ে বন বিভাগকে অবগত করি। তাদের সহযোগিতায় কুমিরটি উদ্ধার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনে কুমিরের আক্রমণে মৌয়ালের মৃত্যু
বাগেরহাটের চিতলমারীতে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসানো কুমির উদ্ধার
৬৬১ দিন আগে
সুন্দরবনে কুমিরের আক্রমণে মৌয়ালের মৃত্যু
সুন্দরবনে কুমিরের আক্রমণে মোশাররেফ হোসেন গাজী নামে এক মৌয়ালের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (৮ জুন) ঢাংমারী নদীতে ঘটনাটি ঘটে।
মৃত মৌয়াল মোশাররেফ হোসেন গাজী খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারী গ্রামের আমির আলী গাজীর ছেলে।
আরও পড়ুন: যশোরে পুলিশ হেফাজতে নারীর মৃত্যুর অভিযোগ
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মুহাম্মদ নুরুল করিম বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে চারজন মৌয়াল শনিবার দুপুরে একটি ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে ঢাংমারী নদী দিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করেন।
তিনি আরও বলেন, এসময় হঠাৎ করে একটি কুমির নৌকা থেকে মোশারফেকে টেনে নদীতে নিয়ে যায়। পরে তার সঙ্গীরা করমজল এলাকার খাল থেকে মোশারেফের লাশ উদ্ধার করে।
প্রসঙ্গত সুন্দরবনে নদী-খালে মাছ এবং বনে বন্যপ্রাণীদের অবাধ বিচরণ ও প্রজনন কার্যক্রমের সুরক্ষায় ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পযন্ত তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বন বিভাগ।
এই তিন মাস জেলে-বাওয়ালি, মৌয়াল ও পর্যটকসহ সবার সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধি রয়েছে।
আরও পড়ুন: মাগুরায় পানিতে ডুবে একজনের মৃত্যু
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু
৭৪৮ দিন আগে
খান জাহান আলীর মাজারে কুমিরের মৃত্যু
বাগেরহাটের হযরত খান জাহান আলী (রহ.) মাজারের ৬০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক দীঘিতে একটি কুমির মারা গেছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সন্ধ্যায় কুমিরটির ময়নাতদন্ত করে। মাজারের খাদেম ও দর্শনার্থীরা কুমিরটিকে অশ্রুসিক্ত শেষ বিদায় জানান।
মৃত কুমিরটি পুরুষ প্রজাতির। এখন দিঘিতে রয়েছে মাত্র একটি নারী প্রজাতির কুমির।
মাজারের প্রধান শের আলী ফকির বলেন, তিনি লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারেন, দীঘিতে একটি কুমির মৃত অবস্থায় ভাসছে। পরে তিনি প্রশাসনকে খবর দেন।
আরও পড়ুন: ফরিদপুরের ভুবনেশ্বর নদ থেকে বিলুপ্তপ্রায় কুমির উদ্ধার
খুলনা বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক লুৎফর রহমান বলেন, কুমিরটি এর আগে দু'বার অসুস্থ হয়েছিল এবং প্রাণিসম্পদ বিভাগ এর চিকিৎসা করে।
তিনি বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, কুমিরটি তিন-চার দিন আগে মারা গেছে। কুমিরটির বয়স আনুমানিক ১৫ বছর।’
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. খালিদ হোসেন বলেন, হযরত খান জাহান আলীর (রা.) মাজারের ৬০০ বছরের পুরানো দীঘিতে কুমিরের ঐতিহ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দীঘির দু’টি কুমিরের মধ্যে একটি মারা গেছে। দীঘির ঐতিহ্য ধরে রাখতে মিঠা পানির কুমির যাতে দিঘিতে সংরক্ষণ করা যায় সে জন্য প্রাণিসম্পদ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।’
আরও পড়ুন: ফরিদপুরের ভুবনেশ্বর নদে কুমির, এলাকায় আতঙ্ক
বরিশালের জয়ন্তী নদীতে পাঙ্গাসের জালে উঠে এলো কুমির!
৯৮০ দিন আগে
ফরিদপুরের ভুবনেশ্বর নদ থেকে বিলুপ্তপ্রায় কুমির উদ্ধার
ফরিদপুরের ভুবনেশ্বর নদ থেকে মিঠাপানির বিলুপ্ত প্রায় একটি কুমির উদ্ধার করেছে বন বিভাগের প্রাণী সম্প্রসারণ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের খুলনা অঞ্চলের উদ্ধারকারী দল।
মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুর সদরের আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গজারিয়ায় ভুবনেশ্বর নদ থেকে কুমিরটি উদ্ধার করা হয়। কুমিরটি প্রায় ৭ ফুট লম্বা।
উদ্ধারকারী দলটি মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) বিকালেই কুমিরটি নিয়ে সড়কপথে সুন্দরবনের করমজল বণ্যপ্রাণী উদ্ধার কেন্দ্রের উদ্দেশে রওনা হয়।
জানা গেছে, গত বুধবার (১১ অক্টোবর) বিকালে চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের শিকদারডাঙ্গী গ্রামের ভুবনেশ্বর নদে প্রথম কুমিরটি দেখা যায়। বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টার মধ্যে কুমিরটি কয়েকবার ভেসে ওঠে। এতে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: একদিন পর কুড়িগ্রামের চিলমারী নৌবন্দরে ফেরি চলাচল শুরু
আলিয়াবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. বকলুকার রহমান বলেন, কুমির দেখার খবর পেয়ে আমরা থানা ও বন বিভাগকে বিষয়টি জানাই। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকার মানুষকে সতর্ক করে। এলাকার মসজিদ থেকে মাইকিং করেও সতর্ক করা হয়।
খুলনা প্রাণী সম্প্রসারণ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের প্রাণী বিশেষজ্ঞ মফিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, কুমিরটি উদ্ধারে রবিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুরের সদর উপজেলার পাটপাশা এলাকায় পরিদর্শনে যায় উদ্ধারকারী দল। তবে সেখানে কুমিরের কোন সন্ধান মেলেনি। পরে মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে গজারিয়ায় ব্রিজের নিকট ভুবনেশ্বর নদে কুমিরটি দেখতে পেয়ে উদ্ধার করা হয়।
মফিদুল ইসলাম আরও জানান, উদ্ধার করা কুমিরটি মিঠাপানির বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির কুমির। কুমিরটি প্রথমে সুন্দরবনের করমজল বণ্যপ্রাণী উদ্ধার কেন্দ্রে নেওয়া হবে। পরে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে এ ব্যাপারে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২১ সালের ৯ আগস্ট ফরিদপুর সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নে পদ্মা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত একটি খাল থেকে আরও একটি মিঠাপানির কুমির উদ্ধার করা হয়। পরে কুমিরটিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে পাঠায় প্রাণী সম্প্রসারণ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ।
২০০০ সালে পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনসারভেশন অব নেচার’- বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে মিঠা পানির কুমির বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে।
আরও পড়ুন: পশুর নদীতে সিমেন্টের ক্লিংকারবোঝাই লাইটার জাহাজডুবি
ভোলায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরায় ৩৪ জেলে গ্রেপ্তার
৯৮৩ দিন আগে