ইউএনজিএ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বাংলাদেশ ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
দুই দেশের সরকারপ্রধান অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, দক্ষ জনশক্তি, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে জাতিসংঘসহ বহুপক্ষীয় ফোরামে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার এবং অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
৪ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রী ইউএনজিএর প্রথম দিন ১০ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন: মাহ্দী
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের প্রথম দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্ধারিত ১০টি কর্মসূচিতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক, আঞ্চলিক, মানবিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ গুরুত্ব পেয়েছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেন, দিনের কর্মসূচিতে বহুপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়, রোহিঙ্গা সংকট ও উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী দিনের কর্মসূচি শুরু করেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া প্রাতঃরাশে অংশ নিয়ে। রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে আয়োজিত ওই প্রাতঃরাশের পর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক পর্বের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেন।
আঞ্চলিক পর্যায়ে তারেক রহমান ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ও মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া তিনি হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ও অংশীদারত্ব জোরদারসহ অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে এসব বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিরক্ষা, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক ও বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতাসহ দুই দেশের সামগ্রিক অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।
হুমায়ুন কবির বলেন, ভুটানের প্রধানমন্ত্রীও দুই দেশের বিশেষ সম্পর্ক এবং এ অংশীদারত্ব আরও জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মাহ্দী বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধিদের ও মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।
এছাড়া তিনি বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠক করেন। এতে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং বৈশ্বিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে অংশীদারত্ব জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তেল, গ্যাস ও সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে সৃষ্ট বৈদেশিক অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তা এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে সহায়তা বাড়াতে বিশ্বব্যাংক সম্মত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির মধ্যে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী ও প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা ছিল বলেও জানান মাহ্দী।
অন্যদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থাকতে না পারায় তার মনোনীত একটি উচ্চপর্যায়ের দল মেটার সঙ্গে বৈঠক করেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে মেটার ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক হওয়ায় আলোচনায় কোম্পানিটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এবং দেশের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো উঠে আসে।
প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীর ১২টি কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল। এর মধ্যে সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে ইউরোপীয় কাউন্সিল ও মেটার সঙ্গে বৈঠক—এ দুটি কর্মসূচিতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অংশ নিতে পারেননি বলে মাহ্দী জানান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বার্থ ও দেশের মানুষের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার সরকারের প্রচেষ্টা প্রতিফলিত হয়েছে।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান, জাতিসংঘে বাংলাদেশের ডেপুটি পার্মানেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিউর রহমান রুমন, উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি ও সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক খান উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিশ্ব সংস্থাটিতে এটিই হবে তার প্রথম ভাষণ।
৫ দিন আগে
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক (জেনারেল ডিবেট) পর্বে যোগ দিয়েছেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে এ অধিবেশনে যোগ দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব মো. নাজমুল হক খান জানান, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া প্রতিনিধিদলের প্রধান ও তাদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে আয়োজিত স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশ নেওয়ার পর সকাল ৯টার দিকে তারেক রহমান সাধারণ বিতর্ক পর্বে যোগ দেন।
প্রাতঃরাশে তারেক রহমান তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে অন্যান্য বিশ্বনেতা ও তাদের জীবনসঙ্গী এবং গুতেরেস ও তার স্ত্রীর সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। এ সময় তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব ও তার স্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
সাধারণ পরিষদ হলে বর্ণানুক্রমিকভাবে আসন বিন্যাস অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল সামনের সারিতে বসে।
প্রধানমন্ত্রী হলে প্রবেশের পর ৮১তম ইউএনজিএ অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানকে শুভেচ্ছা জানান এবং এরপর নিজের আসনে বসেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান গত ২ জুন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ৯৯ ভোট পেয়ে ৮১তম ইউএনজিএ অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন।
প্রধানমন্ত্রী সাধারণ পরিষদ হলে প্রবেশ করে আসনে বসার পর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উদ্বোধনী বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান বসেন। তার পেছনে বসেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন ও পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ সফরে ৩৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
আজ (মঙ্গলবার) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রথম দিন সাধারণ পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
আগামী বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিশ্ব সংস্থাটিতে এটিই হবে তার প্রথম বক্তব্য। তিনি বাংলায় বক্তব্য দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউএনজিএর অধিবেশনের পাশাপাশি নিউইয়র্কে সংক্ষিপ্ত সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
৬ দিন আগে
আজ জাতিসংঘ অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব নেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আজ (মঙ্গলবার) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয় বলেছে, আজ (মঙ্গলবার) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপনী পর্ব এবং ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের আনুষ্ঠানিক শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আগামী এক বছর তিনি জাতিসংঘের সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্বশীল ও বৈশ্বিক বহুপক্ষীয় ফোরামটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এছাড়া শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আগে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে ড. খলিলুর রহমান মিডিয়া ব্রিফিংয়ে অংশ নেবেন। এ সময় তিনি সভাপতি হিসেবে আগামী অধিবেশনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন।
শপথগ্রহণের পর রাত ১টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রথম প্লেনারি সভায় সভাপতিত্ব করবেন ড. খলিলুর রহমান।
২০ দিন আগে
ইউএনজিএ অধিবেশন বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরার বড় সুযোগ: শামা ওবায়েদ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও উন্নয়ন অগ্রাধিকার তুলে ধরার বড় সুযোগ দেবে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশি (সেন্টার ফর এনআরবি) আয়োজিত ‘আপকামিং ইউএনজিএ অ্যান্ড ব্র্যান্ডিং অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এটি (ইউএনজিএ) একটি নতুন যাত্রা, নতুন সম্ভাবনা ও নতুন আকাঙ্ক্ষার সূচনা।’
সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো ইউএনজিএতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে তুলে ধরবেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের পর্ব ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, বন্যা, দুর্যোগ কিংবা অনিবন্ধিত অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর মতো বিষয় দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিচয় আর তুলে ধরা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, ‘পর্যটন, ব্যবসা ও বিনিয়োগে বাংলাদেশের সুযোগ রয়েছে এবং বিশ্ব মানচিত্রে দেশকে যথাযথভাবে তুলে ধরার সম্ভাবনাও রয়েছে। আমরা সঠিকভাবে বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করার চেষ্টা করছি। সরকার একা সবকিছু করতে পারে না; আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
তার মতে, অধিবেশনটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে, কারণ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়। এই পদ পাওয়ার জন্য সাইপ্রাস এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করলেও বাংলাদেশ নির্বাচনে সফল হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর এখন নিউইয়র্কে রয়েছেন এবং শিগগিরই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। জাতিসংঘের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়ে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময়ের মধ্যে জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব নির্বাচনের বিষয়টিও রয়েছে।
সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হবে। পরে মাসের শেষ দিকে বার্ষিক উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে অংশ নিতে বিশ্বনেতারা নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সমবেত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক সরকার এই বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, যার মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প নিউইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনের নেওয়া উদ্যোগও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘তাই এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এবারের আসন্ন অধিবেশনটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।’
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিশেষ অধিবেশনে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণে এ বিষয়ে একটি বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ, আরাকান আর্মি, আঞ্চলিক বিভিন্ন পক্ষ ও পরস্পরবিরোধী আন্তর্জাতিক স্বার্থের সম্পৃক্ততার কারণে সংকটটি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠেছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আসলে সমস্যাটি আরও গভীর হয়েছে। একটি আঞ্চলিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপ ছাড়া এই সমস্যার সমাধান করা খুব কঠিন হয়ে যাবে।’
টেকসই সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদারে বিদেশে থাকা বাংলাদেশি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সহায়তা চান তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য বড় সমস্যা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কিন্তু এটি বাংলাদেশের সমস্যা নয়। সমস্যাটি বাংলাদেশ তৈরি করেনি।’
জাতিসংঘে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী, বিশেষ করে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের বিষয়টি।
এছাড়া সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, অর্থনৈতিক কূটনীতি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরকার যে ‘ভেঙে পড়া অর্থনীতি’ ও ‘ভেঙে পড়া ব্যাংকিং খাত’ উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে, তা পুনরুদ্ধার করে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সময় লাগবে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুরু থেকেই ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো এবং বিদেশি বিনিয়োগকারী ও অনাবাসী বাংলাদেশিদের (এনআরবি) জন্য আরও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে আমাদের বাংলাদেশিরা বিনিয়োগ করতে দেশে ফিরে আসবেন এবং বিদেশিরাও এখানে বিনিয়োগ করবেন।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সেবার জন্য বিনিয়োগকারীদের যেন একাধিক সরকারি দপ্তরে যেতে না হয়, সে জন্য ডিজিটাল সেবা ও ওয়ান-স্টপ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার কাজও করছে সরকার।
ব্যবসা পরিচালনা সহজ করতে নিবন্ধন, কোম্পানির নাম নিবন্ধনসহ অন্যান্য প্রক্রিয়ায় অনলাইন সুবিধা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে বলেও জানান শামা।
তিনি ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’ উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন, যার আওতায় বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কাছে থাকা তথ্য একটি একক ডেটাবেজে একত্রিত করে প্রত্যেক নাগরিকের একটি কার্ডের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
পাশাপাশি বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষা ও অবৈধ অভিবাসন বন্ধের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার প্রবাসী বাংলাদেশি ও রেমিটেন্স উপার্জনকারীদের অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। তবে দালালচক্রের মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসন এখনও গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। ইতালি ও স্পেনের মতো দেশে চাকরির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভূমধ্যসাগরসহ বিপজ্জনক পথে যাওয়ার সময় বাংলাদেশি অভিবাসীরা দালালচক্রের শিকার হচ্ছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমরা এই সমস্যা সমাধানে কাজ করছি এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সরাসরি পদক্ষেপ নিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবৈধ অভিবাসন ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় একটি পৃথক মাইগ্রেশন উইং প্রতিষ্ঠা করেছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, আরও কার্যকর কারিগরি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠানোর ওপরও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে, যার লক্ষ্য নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য মর্যাদাপূর্ণ ও বৈধ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।
অবৈধ অভিবাসন ও দালালচক্রের ঝুঁকি সম্পর্কে সম্ভাব্য অভিবাসীদের সচেতন করতে অনাবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সহায়তা চান শামা ওবায়েদ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি সংস্থাগুলো তৃণমূল পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। অবৈধ অভিবাসন বেশি হয়—এমন জেলাগুলো চিহ্নিত করে সমস্যা মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
সরকার ভিসা অন অ্যারাইভাল-সংক্রান্ত বিধানসহ ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার কাজ করছে এবং সংশোধিত নীতিটি সংসদে উপস্থাপনের কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যা কিছু করছেন, তার সবকিছুর লক্ষ্য বাংলাদেশকে আরও বিনিয়োগবান্ধব করে তোলা।
সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংঘাত ও নানা ধরনের বাধার পরিপ্রেক্ষিতে অর্থনীতিতে বহুমুখীকরণ, বিশেষ করে জ্বালানি খাতের গুরুত্বের ওপরও জোর দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি ‘ব্লু ইকোনমি’ বা নীল অর্থনীতির ওপর সরকারের গুরুত্বারোপের কথা তুলে ধরে বলেন, এ খাত নিয়ে কাজ করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি পৃথক মেরিটাইম উইং রয়েছে।
এ বছরের বাজেটে নতুন খাত হিসেবে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বা সৃজনশীল অর্থনীতি যুক্ত করার বিষয়টিও তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, এই খাত নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সুযোগ তৈরি করবে এবং বাংলাদেশের শিল্পকলা, কুটিরশিল্প, হস্তশিল্প ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে মূলধারার অর্থনীতিতে নিয়ে আসার পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে এগুলোকে তুলে ধরতে সহায়তা করবে।
সেন্টার ফর এনআরবির চেয়ারম্যান এম এস শেকিল চৌধুরী জানান, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের ইতিবাচক অগ্রগতি তুলে ধরতে সংগঠনটি তাদের বার্ষিক ‘ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স সিরিজ’-এর অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। তিনি বলেন, এই সিরিজের লক্ষ্য বাংলাদেশের সঙ্গে বৈশ্বিক সম্পৃক্ততা আরও গভীর করা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা ও বৈধ চ্যানেলে তাদের আয় দেশে পাঠাতে উৎসাহ দেওয়া।
২৩ দিন আগে
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অধ্যাপক ইউনূস, রয়েছে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকও
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৯তম অধিবেশনে যোগ দিতে সোমবার রাতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বৈঠকসহ বেশ কয়েকটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের কাউন্সেলর ফাহমিদ ফারহান জানান, নিউইয়র্ক সময় রাত ১০টা ১০ মিনিটে একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান অধ্যাপক ইউনূস। তাকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আবদুল মুহিত ও ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের সিডিএ সালাহউদ্দিন মাহমুদ।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে যোগ দিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রধান হিসেবে এটি অধ্যাপক ইউনূসের প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর এই প্রথম বিদেশ সফর।
আরও পড়ুন: সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান করায় অধ্যাপক ইউনূসকে জাতিসংঘের শুভেচ্ছা
প্রধান উপদেষ্টা ও তার প্রতিনিধি দলের সদস্যদের বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সেখানে তার আবাসস্থল হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়।
২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ আলোচনায় ভাষণ দেবেন তিনি।
২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টার কর্মসূচি
২৪ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ইউনূস জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেখানে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেবেন তিনি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আবদুল মুহিত, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ ও পররাষ্ট্র সচিব রিয়াজ হামিদুল্লাহ প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন।
প্রফেসর ইউনূস রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক একটি উচ্চ পর্যায়ের সাইড ইভেন্টেও যোগ দেবেন।
এছাড়াও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টা 'মিট দ্য ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ' নামে একটি উচ্চ পর্যায়ের সাইড ইভেন্টেও যোগ দেবেন।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করবেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
ইতালির মন্ত্রী পরিষদের সভাপতি জর্জিয়া মেলোনি এবং কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহ জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে পৃথকভাবে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করতে পারেন।
আরও পড়ুন: ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়: নিউইয়র্কে বাইডেন-ইউনূস বৈঠক ২৪ সেপ্টেম্বর
এছাড়াও মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক করার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিউইয়র্কে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউএনবিকে বলেন, এটি একান্ত বৈঠক হতে যাচ্ছে।
এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ গত কয়েক দশকে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কোনো সরকার প্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেননি।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ১১টায় কমপক্ষে ১৫ মিনিট সময়ের এই বৈঠকটি হতে পারে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করা স্বাভাবিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে এমন কোনো নতুন কৌশলগত অংশীদারিত্ব এই বৈঠক থেকে বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছে ঢাকা।
২৩-২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফর করছেন বাইডেন।
প্রেসিডেন্ট বাইডেনের নিউইয়র্ক সফর নিয়ে প্রেস সেক্রেটারি কারিন জিন-পিয়েরে বলেন, ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট বাইডেন আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি মোকাবিলা, বৈশ্বিক সমৃদ্ধি এগিয়ে নেওয়া এবং মানবাধিকার রক্ষায় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করতে বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, প্রতিষ্ঠান গঠন ও উন্নয়নে তাদের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
যেহেতু বাংলাদেশ আরও ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যতের রূপরেখা খুঁজছে, যুক্তরাষ্ট্র এই প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে।
তৌহিদ হোসেনের মতে, প্রধান উপদেষ্টা নিউইয়র্কে চার দিন অবস্থানকালে নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান ও নেপালের প্রধানমন্ত্রী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জাতিসংঘ মহাসচিব, জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট এবং ইউএসএইড প্রশাসকসহ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এই সময়ে সভার অনেক সিদ্ধান্ত শেষ মুহূর্তে নেওয়া হয়। সেই বিবেচনায় নতুন সভা যুক্ত হতে পারে; আবার সময়ের অভাবে কোনো সভা বাদ পড়তে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোর মতো এবারও বাংলাদেশ থেকে শতাধিক সদস্যের কোনো প্রতিনিধি দল চার্টার্ড ফ্লাইটে করে নিউইয়র্ক যাচ্ছে না। বরং নিজ নিজ দায়িত্ব অনুযায়ী যথাসম্ভব সীমিত পরিসরে প্রতিনিধি দল তৈরি করা হয়েছে। ইউএনজিএতে আলোচ্য বিষয়গুলোর সঙ্গে যারা সরাসরি যুক্ত তারাই শুধুমাত্র প্রতিনিধি দলে আছেন।
আরও পড়ুন: ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন ইউনূস
এবারের সাধারণ বিতর্কের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- 'কাউকে পেছনে ফেলে নয়: বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শান্তি, টেকসই উন্নয়ন ও মানবিক মর্যাদার অগ্রগতিতে একসঙ্গে কাজ করা'।
প্রধান উপদেষ্টার ২৭ সেপ্টেম্বর ভাষণের আলোচ্য
অধ্যাপক ইউনূস ২৭ সেপ্টেম্বর তার ভাষণে গত দুই মাসে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া অকল্পনীয় গণঅভ্যুত্থান এবং আগামী দিনে জনমুখী, কল্যাণমুখী ও জনস্বার্থে নিবেদিত একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলার ব্যাপারে তার দৃঢ় প্রত্যয়ের বিস্তারিত তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় একই দিন রাতে ঢাকার উদ্দেশে নিউইয়র্ক ত্যাগ করার কথা রয়েছে তার। ২৯ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ঢাকায় পা রাখবেন তিনি।
আরও পড়ুন: ইউএনজির ৭৯তম অধিবেশন ড. ইউনূসের সরকারের জন্য বড় সুযোগ: কুগেলম্যান
৭৩৪ দিন আগে
ইউএনজিএ অধিবেশন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন শুক্রবার
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৮তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফর বিষয়ে গণমাধ্যমকে অবহিত করতে শুক্রবার (৬ অক্টোবর) বিকালে সংবাদ সম্মেলন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, বিকাল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সংবাদ সম্মেলন শুরু হবে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে ১৬ দিনের সরকারি সফর শেষে বুধবার (৪ অক্টোবর) দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী ৩০ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে লন্ডনে পৌঁছান।
আরও পড়ুন: লন্ডন থেকে ঢাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর লন্ডনে বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং বাংলাদেশ ও রোহিঙ্গা বিষয়ক অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের (এপিপিজি) সভাপতি রুশনারা আলীর (এমপি) নেতৃত্বে এপিপিজি’র একটি প্রতিনিধি দল এবং যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ ও ক্ষুদ্র ব্যবসা বিষয়ক ছায়ামন্ত্রীসহ কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
১৭ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৮তম অধিবেশন ও অন্যান্য উচ্চ পর্যায়ের পক্ষ ও দ্বিপক্ষীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এছাড়া তিনি ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস পরিদর্শন করেন।
আরও পড়ুন: লন্ডন থেকে ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী
১০৮৯ দিন আগে
বাইডেনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে (ইউএনজিএ) যোগদানকারী বিশ্ব নেতাদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আয়োজিত নৈশভোজে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সম্মানে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্ট- এ নৈশভোজের আয়োজন করেন বাইডেন।
আরও পড়ুন: নিউইয়র্কে জয়শঙ্কর আয়োজিত নৈশভোজে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততার বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন হাসিনার উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে এবং ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) থিম্যাটিক অ্যাম্বাসেডর সায়মা ওয়াজেদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।
ভোজসভায় প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
আরও পড়ুন: সালমান এফ রহমানের নৈশভোজে মার্কিন প্রতিনিধি দল
বাজেট পরবর্তী নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী
১১০৪ দিন আগে
৭৮তম ইউএনজিএ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৮তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন।
রবিবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।
লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে ৪ ঘণ্টার যাত্রাবিরতির পর ফ্লাইটটি ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ৫০ মিনিটে (নিউইয়র্ক সময়) নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ ইমরান বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাবেন।
১৭ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী ১৯ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনের উচ্চ পর্যায়ের সাধারণ বিতর্কের প্রথম দিনে যোগ দেবেন এবং ২২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় দুপুর ১টা থেকে ২টার মধ্যে ভাষণ দেবেন।
আরও পড়ুন: শিল্পী শাহাবুদ্দিনের বিশেষ শিল্প প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী
১৯ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আয়োজিত নৈশভোজে যোগ দিতেও শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে তিনি রোহিঙ্গা ও জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি), সার্বজনীন স্বাস্থ্য ও অর্থায়নসহ বেশ কয়েকটি উচ্চ পর্যায়ের সাইড ইভেন্টে যোগ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী ১৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের রকফেলার সেন্টারে ইউনিডো ও ডেলয়েট আয়োজিত 'থট ফর ফুড-কোলাবরেটিং ফর ফুড সাপ্লাই চেইন ইনোভেশন টু অ্যাক্সিলারেট দ্য এসডিজি’স' শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনে বক্তব্য পেশ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
একই দিন ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল চেম্বারে 'এসডিজি সামিট-লিডার্স ডায়ালগ-৪' (এসডিজি অর্জনে সমন্বিত নীতি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করা) শীর্ষক আরেকটি সম্মেলনে ভাষণ দেবেন তিনি।
সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে লেক্সিংটন ভেন্যুতে জাতিসংঘ মহাসচিবের গ্লোবাল এডুকেশন বিষয়ক বিশেষ দূত গর্ডন ব্রাউন এবং গ্লোবাল বিজনেস কোয়ালিশন ফর এডুকেশনের এক্সিকিউটিভ চেয়ার সারাহ ব্রাউন আয়োজিত জাতিসংঘের ২০২৩ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত একটি উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিগত নৈশভোজে যোগ দেবেন।
তিনি ১৯ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সিআর-১৬ এ স্পেনের প্রধানমন্ত্রী এবং ইউরোপীয় কাউন্সিল ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রেসিডেন্ট আয়োজিত 'টুওয়ার্ডস আ ফেয়ার ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল আর্কিটেকচার' শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে ভাষণ দেবেন।
আরও পড়ুন: মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সম্পর্কে সজাগ থাকুন: প্রধানমন্ত্রী
একই দিন শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সিআর-১১ এ বাংলাদেশ, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, ভুটান, চীন, মালয়েশিয়া, চ্যাথাম হাউস এবং সূচনা ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে চিকিৎসা সেবাভিত্তিক কমিউনিটি ক্লিনিক বিষয়ক একটি উচ্চ পর্যায়ের সাইড ইভেন্টে যোগ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দপ্তরের দ্বিপক্ষীয় বুথে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এবং শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।
অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর তিনি ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় (নিউইয়র্ক সময়) ওয়াশিংটন ডিসির উদ্দেশে নিউইয়র্ক ত্যাগ করবেন এবং সেখানে ২৩-২৯ সেপ্টেম্বর অবস্থান করবেন।
এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে (বিএ-২৯২) লন্ডনের উদ্দেশে ওয়াশিংটন ডিসি ত্যাগ করবেন এবং ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন।
যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাবেন।
প্রধানমন্ত্রী ৩ অক্টোবর রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে (লন্ডন সময়) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের (বিজি ২০৮) একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর ত্যাগ করবেন এবং ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে ১২টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে রবিবার নিউইয়র্ক যাবেন প্রধানমন্ত্রী
১১০৭ দিন আগে
সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের আরও বেশি যুক্ত করুন: প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার বিশ্বের সংকটের কার্যকর সমাধানের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় আরও বেশি নারীদের থাকার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘সংকটের সময় নারীরা আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই সংকটের কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।’
২০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিলে সাধারণ পরিষদের সভাপতি কাসাবা কোরোসি আহ্বান করা ইউএনজিএ প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডারদের একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে ভাষণদানকালে এসব কথা বলেন।
এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘আজকের আন্তঃসংযুক্ত চ্যালেঞ্জে নারী নেতাদের দ্বারা রূপান্তরমূলক সমাধান।‘
শেখ হাসিনা বলেন, নারীরা প্রতিটি সেক্টরে উজ্জ্বল হয়ে উঠছে, সব ধরণের গতানুগতিকতা ভেঙ্গে এবং অদম্য সাহস ও নেতৃত্বের দক্ষতা দেখাচ্ছে।
পড়ুন: জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
তিনি বলেন, জটিল বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মতামত বিনিমিয় এবং শুধুমাত্র আমাদের নিজ নিজ দেশের জন্য নয়, মানবজাতির জন্যও ইতিবাচক ফলাফল আনার লক্ষে এই নেটওয়ার্ক (ইউএনজিএ প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডারস) ব্যবহার করার সময় এসেছে।
বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিশ্বব্যাপী নারী নেতৃত্বকে উৎসাহিত করার জন্য জাতিসংঘের প্রচেষ্টায় অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।’
এই বিষয়ে তিনি তিন দফা প্রস্তাব বিষয় তুলে ধরেন, সেগুলো হলো লিঙ্গ সমতার বিষয়ে উপদেষ্টা বোর্ডের স্থানীয়করণ, পর্যাপ্ত রাজনৈতিক ও আর্থিক উপায়ে নারী-নেতৃত্বাধীন সুশীল সমাজ সংস্থাগুলোকে লালন ও সমর্থন করা এবং লিঙ্গ সমতার জন্য সাধারণ এজেন্ডাকে শক্তিশালী করার জন্য একটি শীর্ষ সম্মেলন আহ্বান করা।
পড়ুন: ‘একজন অভিভাবকের বিদায়’: রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে শেষ শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন শুধুমাত্র আ.লীগের আমলেই হয়: বিবিসিকে প্রধানমন্ত্রী
১৪৬৮ দিন আগে