আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
মিথ্যা প্রতিবেদনের মাধ্যমে দুর্বল কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে: অর্থমন্ত্রী
মিথ্যা প্রতিবেদনের মাধ্যমে দুর্বল কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে, যার ফলে যোগ্য ও মৌলিক কোম্পানিগুলো বাজারে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
দেশে সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে এবং পুঁজিবাজার ও আর্থিক খাতের প্রতি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
বুধবার (২০ মে) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল কর্তৃক ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) এবং ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) যৌথ সহযোগিতায় আয়োজিত এফএআর সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এবারের সামিটের মূল প্রতিপাদ্য ছিল— ট্রাস্টওয়ার্দি ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং: হোয়াট রিয়েলি ম্যাটার্স।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গত বছরগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি অস্থির সময় পার করেছে। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা, তদারকি ব্যবস্থা ও পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাসমূহ প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ায় আর্থিক খাতে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এছাড়া মিথ্যা প্রতিবেদনের মাধ্যমে দুর্বল কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে, যার ফলে যোগ্য ও মৌলিক কোম্পানিগুলো বাজারে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।
আর্থিক খাতের বর্তমান সংকট উত্তরণে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন একটি ক্রসরোডে (মোড়ে) দাঁড়িয়ে আছি। বর্তমান সরকার এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যেখানে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকবে।
তিনি বলেন, এফআরসি, আইসিএবি এবং আইসিএমএবির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে কাজ করছে, তার ওপরই অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। কোনো নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার পক্ষে প্রতিদিন ভুল বের করা সম্ভব নয়। তাই হিসাববিদদের নিজেদের এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সবার আগে ‘সেলফ-রেগুলেট’ বা স্বপ্রণোদিত নিয়ন্ত্রণের ভূমিকা নিতে হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বেসরকারি খাতের ওপর বিশ্বাস রেখে অতীতে বিজিএমইএকে যেভাবে ইউডি সার্টিফিকেট প্রদানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং তারা সফল হয়েছিল, ঠিক তেমনি আইসিএবি এবং আইসিএমএবি-কে কেবল বার্ষিক সাধারণ সভা বা ডিনারের আয়োজক হিসেবে সীমাবদ্ধ না থেকে তাদের সদস্যরা কীভাবে কাজ করছে এবং সঠিক অডিট করছে কি না, তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
মন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতি তৈরি হওয়া নতুন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, বিশ্বের বড় বড় ফান্ড ম্যানেজার এবং বিনিয়োগকারীরা এখন বাংলাদেশের প্রতি ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছে। জেপি মরগ্যানসহ বিশ্বখ্যাত ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে আসতে চায়। আমরা হংকং ও লন্ডনে বাংলাদেশ ডেডিকেটেড ফান্ড ফ্লোট করার পরিকল্পনা করছি, পাশাপাশি ডোমেস্টিক বন্ড চালু করতে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, এই বিশাল বিদেশি বিনিয়োগ বা ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট (এফডিআই) আকর্ষণের প্রথম শর্তই হলো নির্ভরযোগ্য আর্থিক প্রতিবেদন। বিনিয়োগকারীরা যদি অডিট প্রতিবেদনের ওপর আস্থা না পায়, তবে কোনো সংস্কারই কাজে আসবে না।
স্বল্পমেয়াদি সুবিধা নয়, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে একটি বৈশ্বিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে আর্থিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার জন্য পুঁজিবাজার, এনবিআর এবং আর্থিক খাতের চলমান সংস্কার কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম ভাইস প্রেসিডেন্ট বিটিএমএ। অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন এফআরসির চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া।
১০ দিন আগে
রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত থাকবে আর্থিক খাত: অর্থমন্ত্রী
পুঁজিবাজারসহ দেশের বিনিয়োগ ও আর্থিক খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের আর্থিক খাত স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে এবং বিনিয়োগ ও ঋণ বরাদ্দে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা হবে না।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ স্টার্ট-আপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানির (বিএসআইসি) উদ্বোধনী ফান্ড ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের উদ্যোক্তা খাতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে ৩৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংক যৌথভাবে বিএসআইসি চালু করেছে, যা বাংলাদেশের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পরিচালিত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্ল্যাটফর্ম। প্রাথমিকভাবে ৪২৫ কোটি টাকার তহবিল নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য স্টার্টআপ খাতের বিদেশি অর্থায়নের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক খাতে সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। বিনিয়োগ বরাদ্দের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক প্রভাব থাকবে না—এটি সরকারের স্পষ্ট নীতিগত অবস্থান।
তিনি বলেন, পুঁজিবাজার ও আর্থিক খাতকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে যাতে এটি তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যেতে পারে। সরকারের লক্ষ্য হলো বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিক রূপান্তরের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে উৎপাদনশীলতা, প্রযুক্তি ও বেসরকারি খাতের উদ্ভাবন হবে প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি।
তিনি আরও বলেন, বিএসআইসি বৈশ্বিক মানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে তরুণ উদ্যোক্তাদের সক্ষমতার প্রতি আমাদের আস্থার প্রতিফলন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানান, ৩০ জুনের পর বাংলা কিউআর কোড ছাড়া পেমেন্ট করা যাবে না।
গভর্নর আশাপ্রকাশ করে বলেন, নতুন প্রজন্মের অর্থায়নে সফল হবে স্ট্যার্টআপ কোম্পানি। পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে, এমন প্রকল্প বাছাইয়ের আহ্বান জানান তিনি।
ব্যাংকগুলোর প্রাথমিক ৪২৫ কোটি টাকার বিনিয়োগের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক ভেঞ্চার ক্যাপিটালের জন্য পুনঃঅর্থায়ন তহবিল হিসেবে আরও ৫০০ কোটি টাকা দেবে।
গত পাঁচ বছরের নিট মুনাফার ১ শতাংশ অবদান রেখে ব্যাংকগুলো এ তহবিল গঠন করেছে। এটি সিড, লেট সিড ও সিরিজ-এ পর্যায়ের বিনিয়োগের জন্য ধারাবাহিক তহবিলচক্র হিসেবে পরিচালিত হবে।
বিএসআইসির চেয়ারম্যান এবং সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফিন বলেন, ২০১০ সাল থেকে ৪৫০টির বেশি চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্টার্টআপ খাতে ১০০ কোটির বেশি ডলার বিনিয়োগ এলেও এর ৭ শতাংশেরও কম এসেছে দেশীয় উৎস থেকে।
তিনি জানান, বিএসআইসি শুধু একটি তহবিল নয়; এটি এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম, যা স্থানীয় আস্থার সঙ্গে বৈশ্বিক ভেঞ্চার মানদণ্ডের সংযোগ ঘটাবে। প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতেও এ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান তিনি।
বিএসআইসি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ তারা প্রথম তিনটি বিনিয়োগ সম্পন্ন করতে চায়। এ বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের মধ্যে একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল খাতে দেশীয় ব্যাংকগুলোর এই প্রাতিষ্ঠানিক প্রবেশ করপোরেট সুশাসনকে শক্তিশালী করবে এবং স্থানীয় স্টার্টআপগুলোকে বিদেশি অংশীদারদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।
১৮ দিন আগে
জ্বালানি সংকটে দ্রব্যমূল্য বাড়ার আশঙ্কা অর্থমন্ত্রীর
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ফলে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় আগামীতে বাংলাদেশে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রবিবার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর আঁগারগাওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তোরণ (এলডিসি গ্রাজুয়েশন)’ প্রস্তুতি বিষয়ক এক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এটি কেবল জ্বালানি খাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর প্রভাব পড়ছে সব ধরনের পণ্য, খাদ্যদ্রব্য এবং সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর। এর ফলে সামনের দিনগুলোতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এই সমস্যাটি কেবল বাংলাদেশের নয়, বরং একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে খসরু বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট ইতোমধ্যে জাতীয় অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
মন্ত্রী সরকারের ওপর ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপের কথা স্বীকার করে বলেন, অন্যান্য দেশ জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ালেও বাংলাদেশ এখনো তা করেনি যা রাষ্ট্রীয় তহবিলের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
তিনি বলেন, আমরা কতক্ষণ জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখতে পারব তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। আমাদের রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ দিয়ে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত জনগণের জন্যই লোকসান হবে। তবে জ্বালানির দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের বিষয়ে মন্ত্রী জানান এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন বা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারের ইশতেহার অনুযায়ী উন্নয়নমূলক কাজগুলো ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজগুলো সম্পন্ন হলে দেশ গ্র্যাজুয়েশনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হবে এবং তখন বিষয়টি জাতিসংঘে উপস্থাপন করা হবে। তবে বর্তমানে সেই লক্ষ্য অর্জনে কাজ চলমান থাকায় এখনই গ্র্যাজুয়েশনের কোনো সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।
৫৫ দিন আগে
পুঁজিবাজারে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা, সংস্কারের অঙ্গীকার আমির খসরুর
সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিএনপির নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার যদি পুঁজিবাজার থেকে অতিমাত্রায় সরাসরি মূলধন সংগ্রহ থেকে বিরত থাকে, তবেই পুঁজিবাজারে সব অংশীজনের আস্থা ফিরবে।
সোমবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে ‘পুঁজিবাজার পুনর্গঠন ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আমির খসরু বলেন, পুঁজিবাজারের বিকাশ কেবল কয়েকটি ভালো কোম্পানিকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
তিনি সতর্ক করে বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অতিনিয়ন্ত্রণ এবং শক্তিশালী স্বনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় বাজারের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করতে তিনি অর্থনীতির ‘গণতান্ত্রিকীকরণ’-এর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিএনপি নেতা বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের অগ্রসরমান অর্থনীতিতে বিনিয়োগের সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন।
আরও পড়ুন: সংসদ ছাড়া পিআর ও বড় ধরনের নির্বাচনী সংস্কারের সুযোগ নেই: খসরু
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে মৌলিক পরিবর্তন না এলে কোনো বড় ধরনের সংস্কার সম্ভব নয়।
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বিষয়ে বিএনপির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে আমির খসরু বলেন, “আমরা যদি ক্ষমতায় যাই, আমি আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—অর্থনীতি এবং পুঁজিবাজারকে আরও শক্তিশালী করব।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান প্রমুখ।
৩২০ দিন আগে
সংসদ ছাড়া পিআর ও বড় ধরনের নির্বাচনী সংস্কারের সুযোগ নেই: খসরু
বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচিত সংসদ ছাড়া নির্বাচনের জন্য আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) ব্যবস্থা প্রবর্তনের মতো বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ৩১ দফা প্রস্তাবে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থার কোনো উল্লেখ নেই। যারা নির্বাচন ব্যবস্থায় এত বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা বলছেন—তারা পরবর্তী সংসদ ছাড়া তা করতে পারবেন না।’
বুধবার (২ জুলাই) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে চারটি রাজনৈতিক দল ও জোট - বাংলাদেশ জনাধিকার পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), আম জনতার দল এবং গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খসরু এই মন্তব্য করেন।
তিনি স্মরণ করেন, দেশ যখন রাষ্ট্রপতিশাসিত থেকে সংসদীয় ব্যবস্থায় স্থানান্তরিত হয়েছিল—তখন সংসদের সকল প্রধান দল একমত হয়ে সেখানে এটি পাস করেছিল।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘যদি কোনো দল আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের নির্বাচন চায়… তাদের মতামতের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলছি, তারা এই প্রস্তাব জনগণের কাছে নিয়ে গিয়ে পরবর্তী নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট নিক, তারপর তা পরবর্তী সংসদে উত্থাপন করুক। যেকোনো মৌলিক পরিবর্তন নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সামনে আনা উচিত এবং তা সংসদে পাস হওয়া উচিত।’
এক পর্যায়ে, আনুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা আলোচনার বিষয় নয় বলেও মন্তব্য করেন খসরু।
সংস্কারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি ইতোমধ্যেই উল্লেখ করেছে যে, তারা কোথায় ঐক্যমতে পৌঁছেছে — যেমন দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রস্তাব এবং কেউ দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে না এমন বিষয়ে। ‘এগুলো মূলত বিএনপির প্রস্তাব। সুতরাং, প্রকৃতপক্ষে, এরই মধ্যে সেখানে অনেক ঐকমত্য হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, সব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব নয়। আমরা একদলীয় রাষ্ট্র (বাকসাল) গঠন করতে যাচ্ছি না… যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হবে, সেগুলো সম্মতির মাধ্যমে এগিয়ে যাবে। বাকি বিষয়গুলোতে, প্রতিটি দল জনগণের কাছে গিয়ে তাদের মতামত নিয়ে সেভাবে কাজ করবে।’
এর আগে, খসরু বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে পৃথক বৈঠক করেন।
৩৩২ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর হাতে সব ক্ষমতা দেওয়ায় হাসিনার মতো দৈত্য সৃষ্টি হয়েছিল: আমির খসরু
প্রধানমন্ত্রীর হাতে সব ক্ষমতা দেওয়ায় শেখ হাসিনার মতো দৈত্য সৃষ্টি হয়েছিল মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সেই দৈত্য সৃষ্টি যাতে আর সৃষ্টি না হয়, সেজন্য ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষে বুধবার (২০ নভেম্বর) কুড়িগ্রামের উলিপুরে এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জনসভায় আমির খসরু বলেন, ‘ক্ষমতার বন্টন ও ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। দুই বারের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকবে না। ইতোমধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিএনপির বক্তব্য পরিষ্কার করেছেন।’
‘আগামী দিনে জনগণ যদি বিএনপিকে রায় দেয়, তাহলে তারেক রহমান জাতীয় সরকার গঠনের যে ঘোষণা দিয়েছেন, সরকার সেই ৩১ দফা বাস্তবায়ন করবে।’
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ নির্বাচন করবে কি না, তা ঠিক করবে জনগণ: ফখরুল
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আয়োজিত জনসভায় উলিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হায়দার আলী মিঞার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাবেক উপমন্ত্রী ও দলটির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তাসভীরুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সোহেল হোসাইন কায়কোবাদ প্রমুখ।
জনসভায় জেলা ও উপজেলার থেকে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত হন।
৫৫৬ দিন আগে
‘লুটেরাদের’ সুবিধা দিতে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি: বিএনপি
বিএনপির জ্যৈষ্ঠ নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অভিযোগ করে বলেছেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের লুটেরাদের’ সুবিধা দিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তারা (সরকার) ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য বৃদ্ধি করেছে যা সকল পণ্যসহ বাস ও ট্রাক ভাড়াও বাড়াবে।’
শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির স্ট্যান্ডিং কমিটির এই সদস্য উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘ডিজেলের দাম বাড়ার ফলে কৃষকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে এবং এতে তারা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
তিনি বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ নেতারা) দ্রব্যের দাম, ডিজেলের দাম ও বিদ্যুতের শুল্ক বারবার বাড়িয়ে লুটপাট করছে। যারা লুটপাটের সাথে সরাসরি জড়িত তাদের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি সুবিধা দেবে।’
খসরু বলেন, ‘ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ১৫ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে এবং এ টাকা সাধারণ জনগণের পকেট থেকে নেয়া হবে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘জনগণের কাছে কোনো জবাবদিহিতা না থাকায় সরকার সব পণ্য ও ইউটিলিটি সার্ভিসের শুল্ক একের পর এক বাড়িয়ে যাচ্ছে। তারা (আওয়ামী লীগ নেতারা) লুটপাটের মাধ্যমে টাকা বানায় এবং তা অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করে।’
এর আগে বুধবার গ্রাহক পর্যায়ে ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য বৃদ্ধি করেছে সরকার। এছাড়া ১২ কেজি ওজনের এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ২৫৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার ৩১৩ টাকা করা হয়েছে যা বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) থেকে কার্যকর হয়।
আরও পড়ুন: শুধু নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে গণতান্ত্রিক দল নির্বাচনে অংশ নেবে: বিএনপি
সরকারের সাথে আলোচনার কোন সম্ভাবনা নেই: বিএনপি
ঢাকা এখন বিষাক্ত গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয়েছে: বিএনপি
১৬৬৭ দিন আগে