চট্টগ্রাম বন্দর
চট্টগ্রাম বন্দরের বিদেশি টার্মিনাল ইজারা চুক্তিতে ‘অনিয়ম’, দুদকে অভিযোগ
চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালগুলো বিদেশি কোম্পানির কাছে কনসেশন চুক্তির আওতায় ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তা তদন্তের আবেদন জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তিনটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) নাগরিক সংগঠন ‘দেশপ্রেমিক নাগরিক সমাজ’-এর মুখপাত্র মো. আল আমিন হোসেন এবং সহ-মুখ্যপাত্র মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল চৌধুরী এই অভিযোগগুলো জমা দেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বন্দরের বেশ কিছু লাভজনক টার্মিনাল অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং ‘নন-ডিসক্লোজার’ (তথ্য প্রকাশ না করার শর্ত) চুক্তির মাধ্যমে বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে বা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে স্বচ্ছতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কমিশনভিত্তিক লেনদেনের বিষয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগে দাবি করা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং সাবেক নৌপরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালটি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে কনসেশন চুক্তির অধীনে ইজারা দিতে তড়িঘড়ি প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। সম্প্রতি সেই প্রচেষ্টা পুনরায় সচল করার জন্য তদবির শুরু হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর ডেনমার্কভিত্তিক ‘এপিএম টার্মিনালস’-এর সঙ্গে লালদিয়া টার্মিনালের জন্য ৪৮ বছরের একটি কনসেশন চুক্তি সই হয়। একই দিনে কেরানীগঞ্জের পানগাঁও টার্মিনালের জন্য সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ‘মেডলগ এসএ’-এর সঙ্গে ২২ বছরের একটি চুক্তি করা হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, এই চুক্তিগুলো অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং গোপনীয়তার শর্তে সাধারণের অগোচরে রাখা হয়েছে, যা জবাবদিহিতা ও জনসমক্ষে তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাদের মতে, উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র ছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ নির্দিষ্ট বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
তাদের ভাষ্যমতে, নিউমুরিং টার্মিনালের ইজারা কার্যকর হলে বিশাল অঙ্কের লেনদেন এবং ব্যাপক কমিশন প্রদানের সম্ভাবনা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয় অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ; তাই জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের গোপন চুক্তি বা অনিয়ম গ্রহণযোগ্য নয় বলে তারা মন্তব্য করেন।
তারা দুদককে একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের তদন্ত, প্রয়োজনে দেশ-বিদেশের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও আর্থিক লেনদেন যাচাই এবং তথ্য-প্রমাণ নষ্ট করা বা পালানোর চেষ্টা ঠেকাতে তদন্তকালীন বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় দুদক দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ‘দেশপ্রেমিক নাগরিক সমাজ’।
১১ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের ধর্মঘট স্থগিত
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য চলমান ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে।
এনসিটি ডিপি ওর্য়াল্ডকে ইজারা দেওয়ার চুক্তি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে না হওয়ার ঘোষণা আসার পর লাগাতার ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দরে আটক ৩ জনসহ আন্দোলনরত ১৭ শ্রমিক-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ১৫ জন নেতার সরকারি বাসা হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বিদেশি কোম্পানির কাছে এনসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলসহ চার দফা দাবিতে গতকাল (রবিবার) সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট ডেকেছিল চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।
পরে গতকাল বিকেলের দিকে ঢাকার পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সংবাদ সম্মেলনের পর আশার আলো জ্বলেছিল। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা নেই।
এমন প্রেক্ষাপটে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য অব্যাহত রাখার স্বার্থে এবং রমজান মাস ও জাতীয় নির্বাচনের কথা বিবেচনা করে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ প্রথমে ধর্মঘট থেকে সরে আসার বিষয়টি বিবেচনায় নিলেও পরবর্তী সময়ে কয়েকজন কর্মচারীকে গ্রেপ্তার ও বিভিন্ন থানায় আন্দোলনকারীদের নামে জিডি হওয়াসহ কয়েকটি কারণে ধর্মঘট অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
সংবাদ সম্মেলনে আশিক চৌধুরী জানান, ‘রবিবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছ থেকে একটি চিঠি এসেছে। চিঠিতে ডিপি ওয়ার্ল্ড ইজারা চুক্তি নিয়ে চলমান দরকষাকষির (নেগোসিয়েশন) অগ্রগতির প্রশংসার পাশাপাশি এ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। ডিপি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, শেয়ার করা খসড়া কনসেশন চুক্তি তারা গ্রহণ করেছে এবং বিস্তারিত পর্যালোচনা করেছে। তবে তারা এটি আরও পুনর্মূল্যায়ন (রিভিউ) করার জন্য কিছু সময় চেয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের আনুষ্ঠানিক মেয়াদ রয়েছে আর দুই কার্যদিবস। ডিপি ওয়ার্ল্ড সময় নেওয়ার কারণে নেগোসিয়েশনটি বর্তমান সরকারের আমল পেরিয়ে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গিয়ে আবারও কন্টিনিউ হতে পারে।’
২৪ দিন আগে
ধর্মঘটে অচল চট্টগ্রাম বন্দর, চেয়ারম্যানকে অপসারণের দাবি ‘গুজব’
দুই দিন স্থগিত থাকার পর চট্টগ্রাম বন্দরে আজ (রবিবার) সকাল থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। বন্দর ইয়ার্ডের পাশাপাশি এবার বহির্নোঙরেও কাজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে ধর্মঘট শুরু হওয়ার পর বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে সব ধরনের পণ্য ও কনটেইনার ওঠানামা বন্ধ রয়েছে, থেমে আছে পণ্য ডেলিভারি কার্যক্রমও।
আজ (রবিবার) সকালে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির এক ভিডিওবার্তায় বন্দরের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানকে অপসারণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। তবে, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তাকে অপসারণের তথ্যটি সত্য নয়। তিনি এখনও সপদে বহাল রয়েছেন।
এদিকে, বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান আজ দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বন্দর ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন, বন্দরের কার্যক্রম সচল আছে।
তিনি বলেন, ‘বন্দর সচল আছে। আমি ২ ঘণ্টা বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা সবাই কাজে যাবেন। কেউ বাধা দেবেন না।’
তবে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ জানিয়েছে, সকাল থেকে বন্দরে কোনো ধরনের কার্যক্রম হচ্ছে না। কোনো শ্রমিক-কর্মচারী কাজে যোগ দেননি। এবারের কর্মসূচি কার্যকর হলে পুরো বন্দর অচল হয়ে পড়বে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার ভার আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলসহ ৪ দফা দাবিতে ফের লাগাতার ধর্মঘট শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। গতকাল (শনিবার) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়।
ওই সময় চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের দুই সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহিম খোকন লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। এরপর পরিষদের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে চট্টগ্রাম শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।
সূত্র জানিয়েছে, এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে ৩১ জানুয়ারি (শনিবার) থেকে ৮ ঘণ্টা করে তিন দিন এবং মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করে আসছিল বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার পরিবহন এবং জাহাজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। তবে বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর বিকেলে লাগাতার কর্মবিরতি দুই দিনের জন্য স্থগিত করেন সংগঠনটির নেতারা। শ্রমিক নেতারা নৌ উপদেষ্টার সঙ্গে আলাপকালে এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বাতিলের সুস্পষ্ট ঘোষণা এবং শ্রমিক–কর্মচারীদের বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু দাবি না মানার কারণে আজ সকাল থেকে ফের ধর্মঘট শুরু হয়। নতুন করে বন্দর অচলের কর্মসূচিতে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিসহ বন্দর ব্যবহারকারীদের মাঝে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আন্দোলন স্থগিত করার পরপর আন্দোলনরত ১৫ জন কর্মচারীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন জানায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানাতে অনুরোধ করা হয়। এ খবর জানতে পেরে আন্দোলনকারীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন।
উল্লেখ্য, দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দর দিয়ে সমুদ্রপথে পরিবাহিত আমদানি–রপ্তানি পণ্যের ৭৮ শতাংশ পরিবহন হয়। কনটেইনারজাত পণ্যের প্রায় পুরোটা পরিবহন হয় এই বন্দর দিয়ে। বন্দর বন্ধ হলে কন্টেনারে রপ্তানি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। কনটেইনারে বোঝাই করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিকৃত শিল্পের কাঁচামাল খালাসও বন্ধ হয়ে যায়।
২৫ দিন আগে
অবিলম্বে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম চালুর দাবি ইউরোচেমের
বাংলাদেশ চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান কার্যক্রমে বিঘ্ন নিয়ে উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চেম্বার অব কমার্স (ইউরোচেম বাংলাদেশ)। সংগঠনটির মতে, এসব ব্যাঘাতে অর্থনৈতিক ক্ষতি বেড়ে চলেছে, রপ্তানি কার্যক্রম ঝুঁকির মুখে পড়ছে এবং বাংলাদেশের সরবরাহ শৃঙ্খলের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে আস্থা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, অনুমানযোগ্য, নিরবচ্ছিন্ন ও দক্ষ বন্দর পরিচালনা রপ্তানি কার্যক্রম বন্দরের সুরক্ষা, বিদেশি চাহিদার সঙ্গে পরোক্ষভাবে যুক্ত লাখো কর্মসংস্থান রক্ষা এবং ইউরোপীয় ও বৈশ্বিক বাজারে নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বাংলাদেশের সুনাম বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি ইইউভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশের পোশাক আমদানি ৯৬০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে উল্লেখ করে ইউরোচেম বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে অবিলম্বে স্বাভাবিক বন্দর কার্যক্রম ফের পুরোপুরি চালু করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
একই সঙ্গে জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে চলমান বিরোধগুলোর সমাধান এবং দক্ষতা, নির্ভরযোগ্যতা, দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ও অনুমানযোগ্যতা বাড়াতে বন্দর আধুনিকায়ন উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে সংগঠনটি।
ইউরোচেম বাংলাদেশ জানিয়েছে, তারা ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা এবং দেশের বাণিজ্য অবকাঠামো শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে একটি স্থিতিশীল, দক্ষ ও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত বন্দর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অংশীজনদের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকতে প্রস্তুত রয়েছে তারা।
চট্টগ্রাম বন্দর দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পগুলোর প্রধান প্রবেশদ্বার। দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ৯০ শতাংশেরও বেশি পরিচালনা করে এই বন্দর। স্বাভাবিক সময়ে এ বন্দরে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার থেকে আড়াই ২ হাজার কনটেইনার স্থানান্তর করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কাজ বন্ধ থাকায় বন্দরটির কার্যক্রম প্রায় পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে রপ্তানি পণ্য ও কনটেইনার চলাচল অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। রপ্তানি সময়সূচি ভেঙে পড়ায় সরবরাহের নির্ধারিত সময়সীমা মিস হচ্ছে এবং অতিরিক্ত কারিগরি ব্যয়ও বাড়ছে।
এই অচলাবস্থার কারণে ইউরোচেম সদস্য রাষ্ট্র ও বাংলাদেশ থেকে পণ্য সংগ্রহকারী ইউরোপীয় ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
আর্থিক হিসাবে, প্রায় ১৩ হাজার কনটেইনারে থাকা আনুমানিক ৬৬ কোটি ডলারের (প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা) রপ্তানি পণ্য বর্তমানে বন্দর স্থাপনা, বেসরকারি ডিপো ও নোঙর করতে বা ছাড়তে না পারা জাহাজে আটকে আছে।
২০২৪–২৫ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর ৮ লাখ ৩১ হাজারের বেশি রপ্তানি কনটেইনার ইউনিট পরিচালনা করেছে যার আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ৪ হাজার ২৩০ কোটি ডলার।
বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের, যা আমাদের বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারকে পরিণত করেছে।
২৬ দিন আগে
দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি করবে না সরকার: চট্টগ্রাম বন্দরের ইজারা নিয়ে উপদেষ্টা
দেশের জন্য অনুকূল না হলে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এখনও চুক্তি হয়নি জানিয়ে নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, যদি আমাদের জন্য অনুকূল হয় তবে চুক্তি হবে, অনুকূল না হলে হবে না। দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি এ সরকার করবে না।
এদিকে, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলন করছে চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মচারীরা। কর্মচারীদের কর্ম বিরতিতে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর।
এ বিষয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বন্দরে অচলাবস্থা তৈরি করছে কিছু সংখ্যক বা বহু সংখ্যক বন্দরেরই কর্মচারী, যারা সরকারি কর্মচারীও বটে। এই অচলাবস্থার কারণে দেশের ক্ষতি হচ্ছে, সেই ক্ষতির মাসুল কে দেবে আমি জানি না। নির্বাচনের আগে তাদের একটা পরিচয় আছে, যেটা আমরা পত্রপত্রিকায় দেখছি। জনগণ দেখছে, আমি এটার ওপরে কিছুই বলতে চাচ্ছি না।’
৩১ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি-রপ্তানিতে ৩০ শতাংশ শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত
আমদানি-রপ্তানিতে ৩০ শতাংশ শুল্ক (ট্যারিফ) বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। আন্তঃমন্ত্রণালয় ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই শুল্ক বাড়ানো হয়েছে বলে জানান নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অব. এম শাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হবে। এ নিয়ে প্রচারণা (প্রোপাগান্ডা) চালানোর কিছু নেই।
শুক্রবার (২৫ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল-এনসিটিতে কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘১৯৮৬ সালের পর এবারই প্রথম ট্যারিফ বাড়ানো হয়েছে। এতে রাজস্ব আয় বাড়বে, তবে আমদানি-রপ্তানিতে খরচ বাড়বে ব্যবসায়ীদের।’
নৌ উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘সরকার চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়াতে চায়। এ বন্দরকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়ে যেতে হলে বিদেশি অপারেটরকে পরিচালনার ভার দিতে হবে। এ নিয়ে প্রোপাগান্ডা না ছড়াতে সবাইকে পরামর্শ দেন তিনি।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘বিদেশিদের হাতে বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে, বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম ও নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতেই থাকবে। গত ৭ জুলাই সাইপ পাওয়ার টেক থেকে নিয়ে বন্দরের এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব নৌবাহিনীকে দেওয়া হয়।’
এরপর নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে কনটেইনার হ্যান্ডেলিং বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার ২০০ একক কনটেইনার হ্যান্ডলিং হচ্ছে বলে জানান বন্দর কর্তৃপক্ষ।
পড়ুন: ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর
১৬ বছর পর চলতি বছরে ৭ জুলাই থেকে এনসিটিতে পরিচালনা করছে নতুন অপারেটর চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড।
মূলত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বন্দরের অত্যাধুনিক নিউমুরিং টার্মিনালটি সুপার স্ট্রাকচার সমৃদ্ধ একটি আন্তর্জাতিকমানের এ টার্মিনালে এসেছে ব্যাপক অগ্রগতি।
তবে আগে যে প্রতিষ্ঠান এনসিটি পরিচালনা করেছে তারাও ভালোভাবে কাজ করেছে বলে জানান নৌ পরিবহন উপদেষ্টা।
চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এনসিটিতে জাহাজে কন্টেইনার উঠা নামা কার্যক্রম পরিদর্শন এবং এর অগ্রগতি বিষয়ে অবগত হন।
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি চট্টগ্রাম বন্দর বিষয়ে বর্তমান সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
নৌবাহিনী চট্টগ্রাম অঞ্চলের কমান্ডার রিয়াল অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী বলেন, আগের অপারেটরের তুলনায় ড্রাইডক পরিচালিত এনসিটিতে ৭ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত ১৭ দিনে বিশ ফুট সমতুল্য কন্টেইনার দৈনিক গড় হ্যান্ডলিং হয়েছে ৩ হাজার ২৫০ টিইইউএস, যা পূর্ববর্তী মাসে একই সময়ের চেয়ে ১২ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।
একই সময়ে মোট ৩০টি জাহাজের কনটেইনার লোডিং ও আনলোডিং সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। ১০ ঘণ্টা জাহাজের সময় কমিয়ে আনা হযেছে। বর্তমানে এনসিটির ২, ৩, ৪ ও ৫ নম্বর জেটিতে একযোগে ৪টি জাহাজে পণ্য ওঠানামার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রাম ড্রাই ডকের এ কার্যকর ভূমিকা বন্দরের সার্বিক কর্মকাণ্ডে গতি এনেছে, যা দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীরা।
২২৩ দিন আগে
ড্রাইডক দায়িত্ব গ্রহণের পর চট্টগ্রাম বন্দরে দৈনিক কন্টেইনার হ্যান্ডলিং বেড়েছে
চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেডের পরিচালনার প্রথম সাত দিনে (৭ জুলাই থেকে ১৩ জুলাই) কন্টেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে।
প্রতিদিন গড়ে ২২৫ টিইইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং বেশি হয়েছে, যা একটি ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। রবিবার (১৩ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি টার্মিনালটি দীর্ঘদিন সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড কর্তৃক পরিচালিত হয়ে আসছিল। ৬ জুলাই তাদের সঙ্গে বন্দরের চুক্তি মেয়াদ শেষ হয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৭ জুলাই থেকে এনসিটি টার্মিনালের দায়িত্ব গ্রহণ করে চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড।
আরও পড়ুন: ডলারের দাম কমেছে প্রায় ৩ টাকা
৭ জুলাই থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত ৭ দিনে চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড কর্তৃক ১০টি জাহাজের কন্টেইনার লোডিং-আনলোডিং সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে এনসিটি’র ৪টি জেটিতে একযোগে ৪টি জাহাজে অপারেশন চলছে।
পূর্ববর্তী ৭ দিনে (১ থেকে ৬ জুলাই), সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার ৯৫৬ টিইইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করেছে। এর পরের ৭ দিনে (৭ থেকে ১৩ জুলাই) চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড কর্তৃক প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার ১৮১ টিইইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সম্পন্ন হয়েছে।
২৩৫ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর
চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) আজ সোমবার থেকে পরিচালনা করছে চট্টগ্রাম ড্রাইডক কর্তৃপক্ষ। রবিবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে এনসিটি হস্তান্তর করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
চুক্তি শেষ হওয়ায় ১৭ বছর পর এনসিটি ছেড়েছেন সাইফ পাওয়ার টেক। আজ সোমবার থেকে টার্মিনাল পরিচালনা শুরু করেছে নৌবাহিনীর মাধ্যমে ড্রাইডক। তবে আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় সরাসরি নৌবাহিনীকে না দিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান ড্রাইডকের সঙ্গে এনসিটি পরিচালনার চুক্তি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত একটি সামরিক জাহাজ মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান। চট্টগ্রাম বন্দরের সীমানার মধ্যেই এটির অবস্থান।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক জানান, সরকারের সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর ড্রাইডকের সঙ্গে এনসিটি পরিচালনার চুক্তির বিষয়টি বন্দর কর্তৃপক্ষের বোর্ড সভায় অনুমোদন হয়েছে। সোমবার ড্রাইডকের সঙ্গে ছয় মাসের জন্য এনসিটি পরিচালনার চুক্তি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই দিন সাইফ পাওয়ার টেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছে। আজ সোমবার থেকে নৌবাহিনীর মাধ্যমে এটি পরিচালনা করছে চিটাগাং ড্রাইডক।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টেকনিক্যাল কারণে নৌবাহিনী সরাসরি টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারেনি। তবে ড্রাইডকের মাধ্যমে তারা এটি পরিচালনা করবে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনালের দায়িত্ব নিচ্ছে ড্রাইডক
সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমীন গণমাধ্যমকে জানান, নৌবাহিনীকে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন তারা। এনসিটি ছাড়লেও তাদের কার্যক্রম চুক্তি অনুযায়ী বহাল আছে সিসিটিতে।
চট্টগ্রাম বন্দরে চারটি কনটেইনার টার্মিনাল আছে। এগুলো হলো– চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি), নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), জেনারেল কার্গো বার্থ (কনটেইনার ও বাল্ক-জিসিবি) এবং পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি)। চট্টগ্রাম বন্দরে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে হ্যান্ডলিং হওয়া ৩২ লাখ টিইইউস কনটেইনারের মধ্যে ৪৪ শতাংশ এককভাবে পরিচালনা হয়েছে এনসিটি থেকেই।
প্রসঙ্গত, ২০০৭ সাল থেকে এনসিটি পরিচালনা করছিল সাইফ পাওয়ারটেক।
২৪১ দিন আগে
‘দেশীয় ব্যবস্থাপনায়ই’ থাকা উচিত চট্টগ্রাম বন্দর: জিওসি
চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর না করে দেশীয় সম্পদ ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার দাবি জানিয়েছে বামধারার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জোট গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি (জিওসি)।
শনিবার (২১ জুন) রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বিদেশি কোম্পানির কাছে চট্টগ্রাম বন্দর লিজ দেওয়া কেন ঝুঁকিপূর্ণ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থনীতিবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান দেশীয় ব্যবস্থাপনা যথেষ্ট কার্যকরভাবে কাজ করছে। তাই এর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারকে বিনিয়োগ করতে হবে এবং যন্ত্রপাতি আধুনিকায়নের মাধ্যমে কার্যক্রম আরও দক্ষ করা উচিত।’
আন্তর্জাতিক উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘সিঙ্গাপুরের মতো মডেল অনুসরণ করে বাংলাদেশ জাতীয় সক্ষমতা দিয়ে একটি প্রতিযোগিতামূলক বন্দর গড়ে তুলতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘দেশে দক্ষ জনবল থাকার পরও তা উপেক্ষিত হচ্ছে। এই জনবলকে আন্তর্জাতিক মানে দক্ষ করে গড়ে তোলা সম্ভব।’
আরও পড়ুন: ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তানের অঙ্গীকার
চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের হাতে গেলে তা জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বর্তমান অবকাঠামো ব্যবহার করেই বাংলাদেশ সহজেই রপ্তানি চারগুণ বাড়াতে পারে।’
লেখক ও প্রকৌশলী কল্লোল মোস্তফা বলেন, ‘বন্দরের বিভিন্ন সেবা প্রদানেও দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত।’
তিনি দেশি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির সব শর্ত জনসমক্ষে প্রকাশের আহ্বান জানান। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক কর্মকর্তা জাফর আলম বন্দরের কার্যক্রমের ওপর একটি বিশদ উপস্থাপনা তুলে ধরেন।
অন্যান্য বক্তার মধ্যে ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক শেখ নুরুল্লাহ বাহার ও মাহা মির্জা।
আলোচনা সভা শেষে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি আগামী ২৮ জুন জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে লংমার্চ করার ঘোষণা দেয়।
২৫৭ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরকে বিশ্ব মানের সমুদ্রবন্দরে রূপান্তরিত করার আশাবাদ প্রধান উপদেষ্টার
চট্টগ্রাম বন্দরকে দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র বলে অভিহিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এটিকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সমুদ্রবন্দরে রূপান্তরিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বুধবার (১৪ মে) চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন শেষে নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি-৫) প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব বলেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব উপেক্ষা করে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরু করা সম্ভব নয়। এই বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি এটিকে আরও শক্তিশালী করে তোলার ওপর জোর দিতে হবে।’
বন্দর সেরা না হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিকেও সেরা বলা যাবে না বলে মন্তব্য করেন ড. ইউনূস।
দ্রুততার সঙ্গে বন্দরের সমস্যা সমাধানে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, বিশ্বের সেরা বন্দরের পরিচালনায় অভিজ্ঞ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করছে সরকার।
বন্দরের সুবিধা বাড়লে বিদেশিরা এখানে বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবেন, এতে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাপকভাবে ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টা।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এম সাখাওয়াত হোসেন এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান।
আরও পড়ুন: সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সফরে ড. ইউনূস
২৯৫ দিন আগে