চট্টগ্রাম বন্দর
চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে চুক্তিকে ‘দেশ বিক্রির চুক্তি’ বলা অমূলক: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, চট্রগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে যে চুক্তি হয়েছে সেই চুক্তিকে ‘দেশ বিক্রির চুক্তি’ বলা অমূলক।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সিলেটে সিটি করপোরেশনের (সিসিক) উদ্যোগে মতবিনিময় ও অনুদান বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বন্দরের টার্মিনাল নিয়ে যে চুক্তি হয়েছে, এটি টার্মিনালের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য হয়েছে। এছাড়া এটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হয়েছে। এরপরে সেই চুক্তি বাংলাদেশ চাইলে নবায়ন হবে অথবা সেখানেই সেই চুক্তির যবনিকাপাত করবে
তিনি বলেন, এই চুক্তিকে দেশ বিক্রির চুক্তি যারা বলছেন, সেটি সস্তা ও অমূলক একটা কথা।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব দুবাইভিত্তিক বৈশ্বিক টার্মিনাল অপারেটর ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’কে প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে এই ১৫ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তির সমালোচনা করছেন অনেকেই।
এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের বাইরের বিনিয়োগ বা আমাদের দেশীয় বিনিয়োগকারীদের নতুন বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করতে হলে পণ্যের উৎপাদন খরচ এবং রপ্তানি খরচ পৃথিবীর অন্যান্য জায়গার তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে আসতেহবে।
বাংলাদেশকে যদি সরকার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার স্থানে নিয়ে যেতে না পারে, কীভাবে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে?— প্রশ্ন রাখেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, এ কারণেই চট্টগ্রাম পোর্টের মধ্যে এফিসিয়েন্সি বৃদ্ধি করতে চায় সরকার। বাংলাদেশের এফিসিয়েন্সি বৃদ্ধির উদ্দেশ্য নিয়ে এই চুক্তিটি করা হয়েছে।
খন্দকার মুক্তাদির বলেন, সরকার নিশ্চিত হয়েছে যে, যারা বন্দরে কাজ করছে তাদের কারও কর্মচ্যুতি ঘটবে না। আজকে যে বেতনে কাজ পাচ্ছেন আগামী দিনে এফিসিয়েন্সি বৃদ্ধির কারণে তাদের প্রত্যেকের এই বেনিফিটটা বাড়বে। মানে আজকে যে পারিশ্রমিক পান সেটির পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।
যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশের অবস্থান অবনমন প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চীন বরাবরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে প্রধানতম পোশাক রপ্তানিকারী। চীন তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে। কিন্তু ভিয়েতনামের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড থাকায় ভিয়েতনাম আগেও পোশাক রপ্তানিতে কখনও বাংলাদেশকে ছেড়ে গিয়েছে, আবার বাংলাদেশ সেই স্থান দখল করেছে।
তিনি বলেন, সরকার বিশ্বাস করে, আগামী দিনে পোশাক রপ্তানিকারকরা তাদের সেই অবস্থানটা আবার ফেরত নিয়ে আসবে।
এর আগে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে মতবিনিময় ও অনুদানপ্রদান অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা হোমোজিনিয়াস (সমজাতি) একটা নেশন। দেখতে এক রকম, চালচলন এক রকম, কথাবার্তা এক রকম এবং আমাদের সম্প্রীতি সবসময়ই অটুট— এটাই আমাদের শক্তি।
সিলেটের জন্য সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা কিন ব্রিজ দেখতে যাব। সেখানে কিন সাহেবের এই ব্রিজটা থাকবে। এটা আরও শক্তিশালী করা হবে। যেহেতু এটার বয়স অনেকদিন হয়ে গিয়েছে, তার পাশেই যেন একটা দৃষ্টিনন্দন ব্রিজ করতে পারি সেটার সম্ভাব্যতা আমরা যাচাই করছি।
তিনি বলেন, নগর ও নগরের বাইরের অনেক সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের টেন্ডার হয়েছে, সেগুলো এই শীত থেকে কাজ হবে। সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডের মধ্যে রাস্তার পরিমাণ হচ্ছে প্রায় আটশো কিলোমিটার। এই আটশো কিলোমিটারের মধ্যে এতদিনে আমরা করেছি কমবেশি প্রায় সাড়ে চারশো কিলোমিটারের মতো। তাহলে বাকি আছে আরও তিনশো, সাড়ে তিনশোর মতো। তো ইনশাল্লাহ পঞ্চান্ন বছরে যেটা হয়েছে বাকিটা করতে একশো দশ বছর লাগবে না।
তিনি বলেন, আমরা আরেকটা প্রকল্প নিতে যাচ্ছি যাতে বাকিগুলির নির্মাণ কাজে আমরা হাত দিতে পারি। এটা একটা বড় প্রকল্প হবে। কারণ, যে কাজ পঞ্চান্ন বছর লেগেছে, সমপরিমাণ কাজ আগামী তিন-চার বছরে শেষ করার জন্য যে পরিমাণ সাইজের প্রকল্প লাগে, সে রকম একটা প্রকল্প নিয়ে আমরা আগাচ্ছি।
সিলেটের পানি সংকট নিয়ে মন্ত্রী বলেন, সিলেটের পানির সমস্যা সমাধানের জন্য সিটি করপোরেশনের অধীনে একটি বড় প্রকল্প জমা আছে। টিউবওয়েল দিয়ে পানি তোলা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, এতে পানির স্তর নিচে নামতে থাকে। আমরা আরেকটা বড় প্রকল্প নিতে যাচ্ছি। যেটা দিয়ে সুরমা এবং কুশিয়ারা চেঙ্গেরখাল থেকে পানি তুলে পরিশোধন করে সেটা আমাদের ব্যবহারের জন্য নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, নগরের কাষ্টঘরে এই সিটি করপোরেশনের সঙ্গেই কাজ করেন আমাদের একটা জনগোষ্ঠী আছে (হরিজন সম্প্রদায়)। আমাদের সেই ভাইবোনেরা তারা রীতিমতো মানবেতর জীবনযাপন করেন। আমি নিজে তাদের ঘরের মধ্যে গিয়েছি। এক একটা রুমের মধ্যে বাবা-মা, ছেলে, ছেলের বউ— এটা খুবই অস্বাস্থ্যকর একটা অবস্থা। তো, আমরা ইনশাল্লাহ আগামী দিনে তাদের জন্য একটা পরিকল্পনা নিতে যাচ্ছি। তাদের জন্য একটা স্বতন্ত্র আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে যাতে তারা সামাজিক জীবনযাপন করতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, একইভাবে চা বাগানগুলিতে স্কুল নাই। তো সেখানে যেন সরকারিভাবে স্কুলের নির্মাণ করা হয়। আমাদের এই সিলেট সিটি করপোরেশনের এক নির্বাচনি আসনের মধ্যেই বারোটা চা বাগান আছে। সেজন্য আমরা একটা উদ্যোগ নিতে যাচ্ছি।
সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।
৬ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরানো হলো ৯ কনটেইনার বিপজ্জনক রাসায়নিক
চট্টগ্রাম বন্দরে দুই দশক ধরে পড়ে থাকা পুরোনো ও বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ ধ্বংসের জন্য ৯টি কনটেইনার নারায়ণগঞ্জে পাঠানো হয়েছে। রূপগঞ্জে অবস্থিত ওয়াটা কেমিক্যাল লিমিটেডে এগুলো ধ্বংস করা হবে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে বিশেষ ব্যবস্থায় চট্টগ্রাম বন্দরের এইট বি ইয়ার্ড থেকে চার নম্বর গেট দিয়ে মিথানলের পাঁচটি, থিনারের দুটি এবং সালফিউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রিক অ্যাসিডের একটি করে কনটেইনার নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়।
এসব বিপজ্জনক রাসায়নিক ধ্বংস করার উদ্দেশ্যেই চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নারায়ণগঞ্জে নেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রাসেল আহমেদ।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৫ থেকে ২০ বছর আগে বিভিন্ন শিল্পকারখানার কাঁচামাল হিসেবে এসব রাসায়নিক আমদানি করা হয়েছিল। তবে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে এগুলো বন্দর থেকে খালাস করা হয়নি। দীর্ঘ সময় এসব রাসায়নিক বন্দরে পড়ে থাকায় বন্দরের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে ওঠে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ মোহাম্মদ হামিম জানান, বিপজ্জনক ও মেয়াদোত্তীর্ণ রাসায়নিকের ৯টি কনটেইনার সরানো হয়েছে। বন্দরের নিরাপত্তা ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে এগুলো নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে ওয়াটা কেমিক্যালসের কারখানায় রাসায়নিকগুলো ধ্বংস করা হবে।
প্রথম ধাপে ৯টি কনটেইনার সরানো হলেও ধাপে ধাপে বাকি কনটেইনারগুলোও সরানো হবে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
১২ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কনটেইনার গায়েবের অভিযোগ তদন্তে কমিটি
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে তিন কোটি টাকার কাপড়ের রোলভর্তি কনটেইনার গায়েবের অভিযোগে বন্দর কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) প্রতিষ্ঠান এসআরএস সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এ কমিটি গঠন করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-২ বার্থে এমভি এমসিসি ডানাং জাহাজ কনটেইনার খালাস করে। ওই জাহাজে ৪০ ফুট এফসিএল কনটেইনারে সাভারের রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠান গোল্ড স্টার গার্মেন্টস লিমিটেডের ৬৬৮ বেল ফেব্রিকস আনা হয়।
কাস্টমস সূত্রে আরও জানা যায়, আমদানিকারকের পক্ষে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এসআরএস সিন্ডিকেট পণ্য খালাসের জন্য কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সার্ভারে গত ২২ আগস্ট বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। পরে কাস্টমস ও বন্দরের সব ধরনের রাজস্ব পরিশোধ করে ৩০ আগস্ট বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ড থেকে কনটেইনারটি খালাসের জন্য গেলে বন্দর কর্তৃপক্ষ তা ডেলিভারি দিতে ব্যর্থ হয়।
এসআরএস সিন্ডিকেটের মালিক মো. হাফিজুর রহমানের অভিযোগ, ৩০ আগস্ট কনটেইনারটি ডেলিভারি নিতে গেলে বন্দর কর্তৃপক্ষ কনটেইনারটি নামিয়ে দিতে পারেনি। এরপর কয়েকদিন খোঁজাখুঁজি করে কনটেইনার না পেয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, গায়েব হওয়া কনটেইনারে প্রায় তিন কোটি টাকার কাপড় ছিল। এখন নির্ধারিত সময়ে কাপড়গুলো না পেয়ে গ্রাহকও বিপাকে পড়েছে। তারা নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি পণ্য ক্রেতার কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ হবে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, কনটেইনার গায়েবের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান।
৩৭ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের ৪৪২ কনটেইনার পণ্য ই-নিলামে
চট্টগ্রাম বন্দরে অখালাসকৃত ও নিলামযোগ্য ৪৪২ কনটেইনার পণ্য ই-অকশনের মাধ্যমে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রাম। এসব পণ্যের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি, কাপড়, সুতা, সোলার মডিউল, লবণ, টাইলস ও গৃহস্থালি পণ্য রয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সোমবার (২৪ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার জট নিরসন, বন্দরের কর্মক্ষমতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে নিয়মিত নিলামের অংশ হিসেবে এসব পণ্য ই-অকশনে তোলা হচ্ছে।
এবারের নিলামে দুটি ই-অকশনে মোট ২৯০টি এবং ১৫২টি—অর্থাৎ ৪৪২টি কনটেইনারের পণ্য রয়েছে।
এনবিআরের স্থায়ী আদেশ ও বিশেষ আদেশ অনুযায়ী, বিশেষ ই-অকশন নম্বর-১০/২০২৬-এ ১০১ লটে ২৯০টি কনটেইনারের পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ, প্লাস্টিক ওয়েস্টেজ (স্ক্র্যাপ), চেস্ট ফ্রিজার, পাইপ, বিভিন্ন ধরনের সুতা ও কাপড়, সোলার মডিউল, লবণ, কাগজ, টাইলস, গৃহস্থালি পণ্য এবং ৮৬টি পুরোনো খালি কনটেইনার রয়েছে।
এই বিশেষ ই-অকশনের পণ্যগুলোর নিলামে কোনো সংরক্ষিত মূল্য (রিজার্ভড ভ্যালু) রাখা হয়নি।
অন্যদিকে, ই-অকশন নম্বর-০৯/২০২৬-এ ১০৯ লটে ১৫২টি কনটেইনারের পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, ফেব্রিক্স, পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার, কেমিক্যাল, এসির যন্ত্রাংশ, টাইলস, স্টেইনলেস স্টিল কয়েল, স্ক্যানার, ব্যাডমিন্টন র্যাকেট, এলিভেটর ও লবণ।
নিলাম কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। আগ্রহী ক্রেতারা কাস্টমসের অফিসিয়াল ই-অকশন পোর্টালে নিবন্ধন করে অনলাইনে দরপত্র দাখিল করতে পারবেন।
দুই ই-অকশন নম্বরের পণ্যই ৩০ আগস্ট থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর এবং বিশেষ ই-অকশন নম্বর-১০/২০২৬-এর পণ্য ৩০ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অফিস চলাকালে সরেজমিনে পরিদর্শনের সুযোগ থাকবে।
ই-অকশন নম্বর-০৯/২০২৬-এর দরপত্র ২৭ আগস্ট থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা পর্যন্ত এবং বিশেষ ই-অকশন নম্বর-১০/২০২৬-এর দরপত্র ২৭ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা পর্যন্ত অনলাইনে দাখিল করা যাবে।
অনলাইন বিডিংয়ের সময় প্রস্তাবিত দরমূল্যের ন্যূনতম ১০ শতাংশ জামানতের স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মূল কাগজপত্রও দাখিল করতে হবে।
সর্বোচ্চ দরদাতাদের আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪-এর প্রযোজ্য শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে পণ্য খালাস নিতে হবে।
আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টায় ই-অকশন নম্বর-০৯/২০২৬-এর দরপত্র বাক্স এবং ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় বিশেষ ই-অকশন নম্বর-১০/২০২৬-এর দরপত্র বাক্স খোলা হবে।
নিলামসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য কাস্টমসের ই-অকশন পোর্টালে পাওয়া যাবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর এ নিলাম কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
৫২ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের আরটিজি ক্রেনে আগুন
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) একটি আরটিজি ক্রেনে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
সোমবার (২২ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে এনসিটির ৪ নম্বর বার্থে থাকা আরটিজি-৪০১৪ ক্রেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে বন্দর, ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর সমন্বিত চেষ্টায় আধ ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রাম অঞ্চলের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা যায়, দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. নাসির উদ্দিন জানান, দুপুর আড়াইটায় এনসিটির দক্ষিণ এলাকার ৪ নম্বর বার্থে থাকা আরটিজি-৪০১৪ ক্রেনে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করে।
তিনি বলেন, পরে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যোগ দেন। তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি।
১১৫ দিন আগে
ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ৫ জাহাজ
চট্টগ্রাম বন্দরে তেল খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে ৫টি জাহাজ। এসব জাহাজে ১ লাখ ৭৭ হাজার টন ডিজেল রয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে ‘এমটি প্যাসিফিক ইন্ডিগো’ নামের জাহাজটি খালাসের জন্য বন্দরের ডলফিন জেটিতে বার্থিং করে তেল খালাস শুরু করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিবের দায়িত্বে থাকা সৈয়দ রেফায়েত হামিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, ৩৫ হাজার ৩৪৬ টন ডিজেল নিয়ে আসা লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমটি অকট্রি’ তেল খালাস শেষে আজ (বুধবার) বন্দরের জেটি ত্যাগ করেছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানায়, গত ১৭ এপ্রিল ৪১ হাজার ৯০৭ টন ডিজেল নিয়ে আসা চীনের পতাকাবাহী ‘এমটি লিয়ান সং হো’ জাহাজটি বন্দরের আলফা অ্যাঙ্করে অবস্থান করছে। জাহাজটি থেকে লাইটারিং করা হচ্ছে। এছাড়া ২০ এপ্রিল ৩৩ হাজার টন ডিজেল নিয়ে আসে ‘এমটি প্যাসিফিক ইন্ডিগো’ জাহাজ। ১৯ এপ্রিল মালয়েশিয়া থেকে ৩৫ হাজার ২৮ টন ডিজেল নিয়ে আসে ‘এমটি গোল্ডেন হরাইজন’। ২১ এপ্রিল ৩২ হাজার ৫০০ টন ডিজেল নিয়ে আসে ‘এমটি হাফনিয়া চিত্তা’। একই দিনে সিঙ্গাপুর থেকে ৩৪ হাজার ৫৩৩ টন ডিজেল নিয়ে আসে ‘এমটি এফপিএমসি ৩০’।
এদিকে, চীন থেকে ৩৪ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে ‘এমটি জিং টং ৯৯’ নামের জাহাজটি ২২ এপ্রিল আসার কথা থাকলেও সেটি আগামী ২৪ এপ্রিল চট্টগ্রামে আসবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
১৭৬ দিন আগে
৩৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে মালয়েশিয়ার জাহাজ
৩৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে মালয়েশিয়ার তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজ ‘শান গ্যাং ফা জিয়ান’।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতে জাহাজটি বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেলে পৌঁছে বলে জানান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম।
জাহাজের স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনস জানায়, আজ (শনিবার) সকালে এটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসেছে।
এর আগে, শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে ২৭ হাজার ৩০০ টন ডিজেল নিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে আগত ‘ইয়ান জিং হে’ নামের আরেকটি জাহাজ পদ্মা অয়েলের ডলফিন জেটি-৬-এ বার্থিং করেছিল (ঘাটে এসে বেঁধে রাখা)। এই জাহাজটির স্থানীয় এজেন্টও প্রাইড শিপিং লাইনস।
প্রাইড শিপিং লাইনসের ম্যানেজিং পার্টনার নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘শান গ্যাং ফা জিয়ান’ ইতোমধ্যেই কুতুবদিয়ায় পৌঁছেছে এবং এতে ৩৪ হাজার টনের কিছু বেশি ডিজেল রয়েছে। আজ শনিবার জাহাজটি বার্থিং করার কথা রয়েছে।
১৯৪ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা ৬২ হাজার টন গম চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬২ হাজার ১৫০ টন গম নিয়ে ‘এমভি উবন ন্যারী’ জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
খাদ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের আলোকে নগদ ক্রয় চুক্তি জিটুজি-৩-এর অধীনে এ গম আমদানি করা হয়েছে। এর আগে, একই চুক্তির আওতায় প্রথম শিপমেন্টর মাধ্যমে ৫৮ হাজার ৪৫৭ টন গম দেশে পৌঁছায়।
জাহাজে থাকা গমের নমুনা পরীক্ষার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং দ্রুত গম খালাসের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জাহাজের ৬২ হাজার ১৫০ টন গমের মধ্যে ৩৭ হাজার ২৯০ টন চট্টগ্রামে এবং অবশিষ্ট ২৪ হাজার ৮৬০ টন গম মোংলা বন্দরে খালাস করা হবে।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সরকার টু সরকার (জি টু জি) ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানি কার্যক্রম শুরু করেছে। জি টু জি-১ এবং ২-এর আওতায় আমদানিকৃত সকল গম দেশে পৌঁছেছে।
এর আগে, জি টু জি-১-এর আওতায় ২ লাখ ৩৭ হাজার ৮৪৫ টন এবং জি টু জি-২-এর আওতায় ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৯ টন মিলিয়ে মোট ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮৪ টন গম দেশে এসেছে।
উল্লেখ্য, দেশে মোট গমের চাহিদা আনুমানিক ৭০ লাখ টন। দেশে উৎপাদন হয় প্রায় ১০ লাখ টন। চাহিদা পূরণের জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে অবশিষ্ট গম বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়।
২০২ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের বিদেশি টার্মিনাল ইজারা চুক্তিতে ‘অনিয়ম’, দুদকে অভিযোগ
চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালগুলো বিদেশি কোম্পানির কাছে কনসেশন চুক্তির আওতায় ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তা তদন্তের আবেদন জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তিনটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) নাগরিক সংগঠন ‘দেশপ্রেমিক নাগরিক সমাজ’-এর মুখপাত্র মো. আল আমিন হোসেন এবং সহ-মুখ্যপাত্র মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল চৌধুরী এই অভিযোগগুলো জমা দেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বন্দরের বেশ কিছু লাভজনক টার্মিনাল অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং ‘নন-ডিসক্লোজার’ (তথ্য প্রকাশ না করার শর্ত) চুক্তির মাধ্যমে বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে বা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে স্বচ্ছতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কমিশনভিত্তিক লেনদেনের বিষয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগে দাবি করা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং সাবেক নৌপরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালটি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে কনসেশন চুক্তির অধীনে ইজারা দিতে তড়িঘড়ি প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। সম্প্রতি সেই প্রচেষ্টা পুনরায় সচল করার জন্য তদবির শুরু হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর ডেনমার্কভিত্তিক ‘এপিএম টার্মিনালস’-এর সঙ্গে লালদিয়া টার্মিনালের জন্য ৪৮ বছরের একটি কনসেশন চুক্তি সই হয়। একই দিনে কেরানীগঞ্জের পানগাঁও টার্মিনালের জন্য সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ‘মেডলগ এসএ’-এর সঙ্গে ২২ বছরের একটি চুক্তি করা হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, এই চুক্তিগুলো অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং গোপনীয়তার শর্তে সাধারণের অগোচরে রাখা হয়েছে, যা জবাবদিহিতা ও জনসমক্ষে তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাদের মতে, উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র ছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ নির্দিষ্ট বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
তাদের ভাষ্যমতে, নিউমুরিং টার্মিনালের ইজারা কার্যকর হলে বিশাল অঙ্কের লেনদেন এবং ব্যাপক কমিশন প্রদানের সম্ভাবনা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয় অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ; তাই জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের গোপন চুক্তি বা অনিয়ম গ্রহণযোগ্য নয় বলে তারা মন্তব্য করেন।
তারা দুদককে একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের তদন্ত, প্রয়োজনে দেশ-বিদেশের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও আর্থিক লেনদেন যাচাই এবং তথ্য-প্রমাণ নষ্ট করা বা পালানোর চেষ্টা ঠেকাতে তদন্তকালীন বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় দুদক দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ‘দেশপ্রেমিক নাগরিক সমাজ’।
২৩৫ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দরের ধর্মঘট স্থগিত
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য চলমান ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে।
এনসিটি ডিপি ওর্য়াল্ডকে ইজারা দেওয়ার চুক্তি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে না হওয়ার ঘোষণা আসার পর লাগাতার ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দরে আটক ৩ জনসহ আন্দোলনরত ১৭ শ্রমিক-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ১৫ জন নেতার সরকারি বাসা হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বিদেশি কোম্পানির কাছে এনসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলসহ চার দফা দাবিতে গতকাল (রবিবার) সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট ডেকেছিল চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।
পরে গতকাল বিকেলের দিকে ঢাকার পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সংবাদ সম্মেলনের পর আশার আলো জ্বলেছিল। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা নেই।
এমন প্রেক্ষাপটে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য অব্যাহত রাখার স্বার্থে এবং রমজান মাস ও জাতীয় নির্বাচনের কথা বিবেচনা করে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ প্রথমে ধর্মঘট থেকে সরে আসার বিষয়টি বিবেচনায় নিলেও পরবর্তী সময়ে কয়েকজন কর্মচারীকে গ্রেপ্তার ও বিভিন্ন থানায় আন্দোলনকারীদের নামে জিডি হওয়াসহ কয়েকটি কারণে ধর্মঘট অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
সংবাদ সম্মেলনে আশিক চৌধুরী জানান, ‘রবিবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছ থেকে একটি চিঠি এসেছে। চিঠিতে ডিপি ওয়ার্ল্ড ইজারা চুক্তি নিয়ে চলমান দরকষাকষির (নেগোসিয়েশন) অগ্রগতির প্রশংসার পাশাপাশি এ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। ডিপি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, শেয়ার করা খসড়া কনসেশন চুক্তি তারা গ্রহণ করেছে এবং বিস্তারিত পর্যালোচনা করেছে। তবে তারা এটি আরও পুনর্মূল্যায়ন (রিভিউ) করার জন্য কিছু সময় চেয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের আনুষ্ঠানিক মেয়াদ রয়েছে আর দুই কার্যদিবস। ডিপি ওয়ার্ল্ড সময় নেওয়ার কারণে নেগোসিয়েশনটি বর্তমান সরকারের আমল পেরিয়ে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গিয়ে আবারও কন্টিনিউ হতে পারে।’
২৪৮ দিন আগে