সীমান্ত হত্যা
সীমান্ত হত্যা, পুশইন প্রতিরোধ করতে না পারলে দল থেকে ‘জাতীয়তাবাদী’ শব্দটি কেটে ফেলুন: সরকারকে নাহিদ
সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধে সরকার ব্যর্থ হলে বিএনপির নাম থেকে ‘জাতীয়তাবাদী’ শব্দটি বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে রংপুর বিভাগীয় ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, তারেক রহমানের প্রতি আমাদের আহ্বান, যদি দেশ পরিচালনা সঠিকভাবে করতে হয়, তাহলে আপনাকে অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। অবিলম্বে অর্থনৈতিক সংস্কার করতে হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। সীমান্তে পুশইন ও সীমান্ত হত্যা প্রতিরোধ করতে হবে।
তিনি বলেন, যদি সীমান্ত হত্যা, পুশইন প্রতিরোধ করতে না পারেন, তাহলে নিজেদের দল থেকে ‘জাতীয়তাবাদী’ শব্দটি কেটে ফেলে দেন। জাতীয়তাবাদের নামে ব্যবসা করবেন, নিজেদের দেশপ্রেমিক দেখাবেন, অথচ সীমান্ত হত্যা, পুশইন রোধ করতে পারবেন না, তাহলে দেশের জনগণ আপনাদের ক্ষমতায় থাকার ম্যান্ডেন্ট দেবে না।
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের অর্জন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ।
তিনি বলেন, কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফরে গিয়েছিলেন। আমরা বিরোধীদলের পক্ষ থেকে সংসদে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। এরপরে হয়তো কিছু বলা উচিত না, কিন্তু বলতে বাধ্য হচ্ছি, চীন সফরের অর্জন কোথায়? চীন সফরের অর্জন হচ্ছে শূন্য। চীন সফরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আমরা কোনো কমিটমেন্ট (প্রতিশ্রুতি) পাই নাই। রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্সন নিয়ে কোনো কমিটমেন্ট পাই নাই।
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, দেশে যদি জাতীয় ঐক্য না থাকে, তারেক রহমান পৃথিবীর কোনো দেশ থেকে কোনো ধরনের সাহায্য পাবে না। অলরেডি আইএমএফ তাদের (সরকারকে) বলে দিয়েছে যে আর কোনো ঋণ দেবে না। পৃথিবীর কোনো দেশই তাদের সহযোগিতা করবে না। গণঅভ্যুত্থান ও সংস্কারের সঙ্গে প্রতারণা করলে কেউই সহযোগিতা করবে না।
তিনি আরও বলেন, রংপুর থেকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ গণঅভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছিল; গণঅভ্যুত্থানের সিপাহ সালার ছিল। কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম, নির্বাচনের পরে বিএনপি গণভোটের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পরে সবার দাবি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমেই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল এবং এসেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অস্বীকার করেছিল। তার ফলাফল কী হয়েছিল? বিএনপিকে এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তুলে রাজপথে নির্যাতিত হতে হয়েছিল।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, যে গণঅভ্যুত্থান, গণভোট, সংস্কার ও জুলাই সনদের কারণে বিএনপি আজ ক্ষমতায় আসতে পেরেছে, এখন সেই গণভোটের সঙ্গেই তারা প্রতারণা করেছে। বিএনপি ৩১ দফার সঙ্গে প্রতারণা করেছে, জুলাই সনদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, গণতন্ত্রের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
নাহিদ আরও বলেন, সারা বাংলাদেশে বিদ্যুৎ নেই। বাংলাদেশে গ্রামেগঞ্জে আবার মানুষ হারিকেন জ্বালাতে বাধ্য হয়েছে। এই সরকার বিগত সময়েও হারিকেন দিয়েছে, এবারও বাংলাদেশের মানুষের হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিয়েছে। বিদ্যুৎ দিতে পারছে না, কর্মসংস্থান দিতে পারছে না।
জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই বাজেটে কোনো অর্থনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা রাখা হয়নি। ব্যাংকগুলো কীভাবে ঠিক হবে, দেশ থেকে পাচার হওয়া টাকা কীভাবে ফেরত আসবে—কোনো ধরনের সুপরিকল্পনা এই সরকারের নেই। ফলে আমরা বলব, আপনি (তারেক রহমান) এভাবে দেশ চালাতে পারবেন না। দেশ চালাতে অলরেডি ব্যর্থ হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যর্থ হয়েছেন। সংস্কার দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ডিসেম্বরে কেউ একজন দেশে আসার পরিকল্পনা করছে। আমরা ফাঁসির দঁড়ি রেডি করে অপেক্ষা করছি। আপনি (শেখ হাসিনা) ডিসেম্বরে আসুন আর যখনই আসুন, ফাঁসির দঁড়িতে ঝুলতেই হবে। বাংলাদেশ থেকে যে পালিয়ে যায়, সে আর বাংলাদেশে কখনও ফিরে আসে না। পাকিস্তানিরাও এর থেকে সম্মানজনকভাবে বিদায় নিয়েছিল, ইংরেজরাও এর থেকে সম্মানজনকভাবে বিদায় নিয়েছিল; কিন্তু শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ সরকার এত অসম্মানজনকভাবে, কাপুরুষোচিত ভাবে এই দেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে ভারতের কোলে আশ্রয় নিয়েছে যে তিনি আর এই দেশে আসার সৎসাহস কখনও রাখবেন না।
নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা আসবে কি আসবে না, এটা দিল্লির সঙ্গে ঢাকাকে নির্ধারণ করতে হবে। এই সরকার থেকে দিল্লিকে মেসেজ (বার্তা) দিতে হবে। শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ফ্যাসিস্ট মিডিয়ার দোসররা সেইসব তথ্য প্রচার করছে। বাংলাদেশের জনগণ এটা মেনে নেবে না।
এ সময় সংস্কার, গণভোট, জুলাই সনদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের দাবি বাস্তবায়নে অচিরেই নতুন করে আন্দোলনের ডাক আসবে বলে জানান তিনি। সেই আন্দোলনে সফল হবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে, বক্তব্যের শুরুতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, রংপুর বিভাগ বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে আঞ্চলিক বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। আমরা আশা করেছিলাম, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী এবারের নির্বাচনে যে সরকার গঠিত হয়েছে, তাদের প্রথম বাজেটে রংপুর বিভাগের প্রতি সুদৃষ্টি, সুনজর দেওয়া হবে। কিন্তু আমরা দেখলাম, এবারের বাজেটেও রংপুর বিভাগের সঙ্গে বৈষম্য করা হয়েছে। রংপুর বিভাগের বেশিরভাগ আসন বিরোধী দলের হওয়ার কারণে পরিকল্পিতভাবে বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রংপুরে কোনো বড় উন্নয়ন প্রকল্প রাখা হয়নি। বরাদ্দ সব যাচ্ছে বগুড়ার শিবগঞ্জে। গোপালগঞ্জ প্রতিস্থাপিত হয়েছে বগুড়ার শিবগঞ্জে। কিন্তু যারা প্রকৃত বৈষম্যের শিকার, সেই রংপুরবাসী কোনো বরাদ্দ পাচ্ছে না। সরকারি দলের এমপিরা যে বরাদ্দ পান, বিরোধী দলের এমপিরা সেই বরাদ্দের তিনভাগের একভাগও পাচ্ছেন না।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
রংপুর বিভাগীয় এ সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলী আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁনও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
এ ছাড়াও সমাবেশের শুরুতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী, রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খান, সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রংপুর জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, মহানগরের সদস্য সচিব আব্দুল মালেকসহ ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
৫ দিন আগে
অনুপ্রবেশ বা অপরাধের ক্ষেত্রে হত্যাকে ‘বর্ডার কিলিং’ বলা ঠিক হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অন্য দেশের অভ্যন্তরে অপরাধে জড়িত থাকা বা অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনায় কোনো ব্যক্তি নিহত হলে সেটিকে ‘বর্ডার কিলিং’ বলা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
মঙ্গলবার (২ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সীমান্তে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা যেটাকে বর্ডার কিলিং বলছেন, সে সম্পর্কে যদি বিস্তারিত জানেন তাহলে খুশি হব। যদি অন্য দেশের বাহিনী আমাদের সীমান্তে বা শূন্য রেখায় এসে কাউকে হত্যা করে, সেটাকে আমরা বর্ডার কিলিং বা সীমান্ত হত্যা বলতে পারি। কিন্তু আমাদের সীমানার ভেতরে কিংবা তাদের সীমানার ভেতরে কেউ কোনো অপরাধে জড়িত থাকলে বা অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করলে, সেটি তারা তাদের নিজস্ব আইন অনুযায়ী মোকাবিলা করবে। এটাকে ‘বর্ডার কিলিং’ বলা ঠিক হবে না।
আগামী বিএসএফ ও বিজিবির মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের বৈঠকে কোন বিষয়গুলো উত্থাপন করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত অনুষ্ঠিত একটি বৈঠক।
মন্ত্রী বলেন, প্রতি বছরই এ বৈঠক হয়। একবার এপারে, আরেকবার ওপারে। সীমান্তসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়, উভয় পক্ষের সমস্যা এবং সেগুলোর সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা হবে। সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ই সেখানে উত্থাপিত হবে।
পশ্চিমবঙ্গে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষকে সীমান্ত এলাকায় জড়ো করার অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা যেকোনো ধরনের অবৈধ পুশইন বা পুশব্যাকের বিপক্ষে। তবে বাংলাদেশের কোনো নাগরিক যদি কোনো কারণে সে দেশে গিয়ে থাকেন এবং জাতীয় পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে তার নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা হয়, এরপর ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সেই তালিকা যদি আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়, তবে নিয়মানুযায়ী আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের প্রত্যাবাসন করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, বর্তমানে এ ধরনের কোনো বিষয় সরকারের কাছে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় নেই। অতীতে কোনো বিষয় থেকে থাকলে তা আইন অনুযায়ী সমাধান করা হবে।
৪৪ দিন আগে
সীমান্ত হত্যা যেন আর না শুনতে হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সীমান্ত হত্যা বন্ধে ভারতকে আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
রবিবার (১ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা জানান। এর আগে, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন।
ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, ‘এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতের হাইকমিশনারকে সীমান্ত নিয়ে কথা বলেছি। বিশেষ করে সীমান্ত হত্যা যেন আর শুনতে না হয়, সেজন্য বিজিবি ও বিএসফ যেন সব সময় এ বিষয়ে বৈঠক করতে থাকে। যতটুকু সম্ভব সীমান্ত হত্যা এড়িয়ে চলার জন্য বলা হয়েছে।
‘এ বিষয়ে ভারত বলেছে, তারাও আন্তরিক এবং তাদের সব সংস্থাকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হবে।’
ভারতে ভ্রমণ ভিসার কার্যক্রমের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিগত এক-দেড় বছরে ভারতের কনস্যুলেট ও ভিসা অফিসগুলো আক্রমণের শিকার হয়েছে। যার জন্য তারা পুরোদমে সেই ভিসা কার্যক্রম চালু করতে পারেনি। তবে তারা নিশ্চিত করেছে, ধারাবাহিকভাবে চালু করবে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ভারতীয় হাইকমিশনার সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। নতুন একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে থাকে, এটি তারই অংশ। এছাড়া প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের সঙ্গে আমাদের লেনদেন ও ব্যবসা-বাণিজ্য আছে। নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার কথা বলতে এসেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ, মর্যাদা ও লাভের ভিত্তিতে ভারতের কাছে আমরা একটি সহযোগিতা চেয়েছি। উভয় দেশ এ সম্পর্ক বজায় রাখব। ব্যবসা-বাণিজ্য, কুটনীতিকসহ সব ক্ষেত্রে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকবে। আমরা আশা করি, ভারত সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে এবং পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে আমাদের সম্পর্কটা বহাল রাখবে।
১৩৮ দিন আগে
ঝিনাইদহ সীমান্তে ১০ বছরে ঝরেছে ২৯ বাংলাদেশির প্রাণ
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে আগ্রাসী হয়ে উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ। বাংলা ভাষাভাষীদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার পাশাপাশি নির্বিচারে সীমান্তের মানুষদের ওপর গুলি চালিয়ে হত্যা করছে তারা।
গত ১০ বছরে বিএসএফের দ্বারা হত্যার এমন উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। ভারতীয় এই বাহিনী গুলি করে ও অপহরণের পর পিটিয়ে অন্তত ২৯ বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে বিএসএফের হাতে কয়েকশ মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
মহেশপুর ৫৮ বিজিবি সুত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলার সঙ্গে ভারতের ৭২ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া ছাড়াই উন্মুক্ত রয়েছে প্রায় ১০ কিলোমিটার। বাংলাদেশ অংশে মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর, মান্দারবাড়ীয়া, শ্যামকুড়, নেপা, কাজীরবেড় ও স্বরূপপুর ইউনিয়ন রয়েছে ভারত সীমান্তঘেঁষা।
বিজিবি থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, মহেশপুরের কাজীরবেড় সীমান্তের বিপরীতে হাবাসপুর ও সুন্দরপুর, বাঘাডাঙ্গা সীমান্তের বিপরীতে ভারতের বর্ণবাড়ীয়া, শীলবাড়ীয়া, গৌড়া, মাইলবাড়ীয়া সীমান্তের বিপরীতে পাখিউড়া, স্বরুপপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের নোনাগঞ্জ ও বেণীপুর, খোসালপুরের বিপরীতে রামনগর ও কুমারী এবং শ্যামকুঁড় সীমান্তের বিপরীতে ভারতের ছুটিপুর, ফতেপুর ও ভজনঘাট সীমান্তের বিএসএফ ক্যাম্প রয়েছে।
ভারতের সীমান্তে দেশটির ১৪টি বিএসএফ ক্যাম্প গত ১০ বছরে ২৯ জন বাংলাদেশিকে গুলি করে ও পিটিয়ে হত্যা করে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। নিহতদের মধ্যে ২৫ জনের নাম ঠিকানা পাওয়া গেছে।
সর্বশেষ গত ২৯ নভেম্বর ভারতের টুঙ্গি বিএসএফ সদস্যরা শহিদুল নামে এক বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করে। ওই ঘটনার এক সপ্তাহ পর গত ৬ ডিসেম্বর শহিদুলের লাশ ফেরৎ দেয় বিএসএফ। এর আগে, গত ৩ নভেম্বর মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তে বাউলি গ্রামের আবুল কাসেমের ছেলে আব্দুর রহিমকে ভারতের নদীয়া জেলার ধানতলী থানার হাবাসপুর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যদের গুলি চালিয়ে হত্যা করেন।
বিজিবির তথ্য অনুসারে, গত ১০ বছরে ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে যারা নিহত হয়েছেন তাদের মধ্যে বাঘাডাঙ্গা গ্রামের আলম মিয়া, ওয়াসিম আলী, আব্দুল মান্নান ও আত্তাব আলী; তিন সহোদর ফজলুর রহমান, আবু সালেহ ও লিপু হোসেন; সলেমানপুর গ্রামের ইব্রাহিম হোসেন ও মিজানুর রহমান; খোসালপুর গ্রামের দুই ভাই সোহেল ও রাশিদুল; মাটিলা গ্রামের আশা মিয়া, হারুন মিয়া ও জসিম উদ্দীন; শ্যামকুড় গ্রামের নাসির উদ্দীন, লেবুতলা গ্রামের লান্টু মিয়া, আমিরুল ইসলাম, আন্টু মিয়া, জলুলী গ্রামের খয়জেল হোসেন, গোপালপুর গ্রামের ওবাইদুর রহমান, যাদবপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম, বাঁকোশপোতা গ্রামের হাসান আলী, বাগাডাঙ্গা জিনজিরাপাড়ার আব্দুল খালেক মিয়া, কাজীরবেড় গ্রামের আশাদুল ইসলাম ও মাইলবাড়িয়া গ্রামের শফিউদ্দিন।
বিজিবির একটি সূত্র দাবি করেছে, ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় ৫৮ বিজিবি ক্যাম্প স্থাপনের পরে সীমান্ত হত্যা কিছুটা কমেছে। আগে দুরত্বের কারণে সীমান্তে নজরদারি ব্যবস্থা ছিল অনেকটা ঢিলেঢালা। এখন নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি অনুপ্রবেশ রোধে সীমান্তে সর্তক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।
সীমান্তের একটি সুত্র জানায়, বাংলাদেশিরা অবৈধ পথে ভারতে প্রবেশ করে মাদক, গরু, অস্ত্র ও সোনা পাচার করতে গিয়ে বিএসএফের গুলির মুখে পড়ে। অনেক সময় আবার বাংলাদেশিদের হাতে বিএসএফ সদস্যদের জখম হওয়ার খবরও পাওয়া যায়।
এসব বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সামসুল আলম জানিয়েছেন, ভারতীয় বাহিনীর অনমনীয়তার কারণেই সীমান্ত হত্যা বাড়ছে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হলেই কেবল সীমান্ত হত্যা রোধ করা সম্ভব।
কাজীরবেড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইয়ানবী জানান, সীমান্তের ভারতীয় অংশে প্রতি কিলোমিটারে একটি করে বিএসএফ ক্যাম্প রয়েছে। অথচ সেখানে বাংলাদেশের আছে প্রতি ৪ কিলোমিটারে একটি। অনেকসময় বাংলাদেশিরা ভুল করে সীমান্ত এলাকায় প্রবেশ করলেই বিএসএফ গুলি করে হত্যা করে।
মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রফিকুল আলম গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, সীমান্ত হত্যা ও সীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি বরাবরই শক্ত অবস্থানে আছে। তারা নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও সীমান্ত এলাকার মাননুষকে সচেতন করে সীমান্ত হত্যা বহুলাংশে কমাতে সক্ষম হয়েছে। এতে করে আগের চেয়ে এখন সীমান্তের পরিস্থিতি অনেক ভালো বলে মন্তব্য করেন তিনি।
১৮৮ দিন আগে
মোদি-ইউনূস বৈঠক: হাসিনাকে প্রত্যর্পণসহ সীমান্ত হত্যা নিয়ে আলোচনা
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণসহ দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কথা হয়েছে।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের সাংরিলা হোটেলে ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন শেষে স্থানীয় সময় শুক্রবার (৪ এপ্রিল) মধ্যাহ্নের পর তাদের দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠক হয়েছে।
পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের এমন তথ্য দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করবো: প্রধান উপদেষ্টা
দুই নেতার বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বৈঠকে দুদেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট যতগুলো ইস্যু ছিল, সবগুলো নিয়ে কথা হয়েছে। আমাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যতগুলো বিষয় ছিল, সবগুলো বিষয়ই প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন। যেমন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে কথা হয়েছে। শেখ হাসিনা যে ওখানে (ভারতে) বসে ইনসিন্ডিয়ারে (হিংসাত্মক) কথা বলছেন, সেগুলো নিয়ে কথা হয়েছে। সীমান্ত হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, নতুন করে সেটা করা নিয়ে কথা হচ্ছে। তিস্তা পানি চুক্তি নিয়েও কথা হয়েছে।’
বৈঠকটি অনেক গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন শফিকুল আলম।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার উচ্চপ্রতিনিধি খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি–বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম ও পররাষ্ট্রসচিব মো. জসিম উদ্দিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথমবারের মতো অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হয়েছে।
আরও পড়ুন: থাইল্যান্ডে প্রথমবারের মতো মোদি-ইউনূস বৈঠক
৪৬৯ দিন আগে
বঞ্চিত বিষয়গুলোতে ভারতকে কোনো ছাড় দেব না: বিজিবির ডিজি
ভারতের সঙ্গে যেসব বিষয়ে বাংলাদেশ বঞ্চিত হয়েছে, সেসব বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। সীমান্ত হত্যা এই বৈঠকের মূল আলোচ্যবিষয় হবে বলেও জানান তিনি।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ে সীমান্ত সম্মেলন সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিজিবির ডিজি।
তিনি বলেন, ‘ভারতের সাথে যে বিষয়গুলো নিয়ে আমরা মনে করছি যে আমরা বঞ্চিত হয়েছি, সে বিষয়গুলোতে আমরা কোনো ছাড় দেব না।’
‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলেছি ভারতের সাথে অসম চুক্তিগুলো নিয়ে কাজ করতে। এটা ডিপ্লোমেটিক চ্যানেলে এটা সমাধান করা হবে। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যেগুলোতে আমরা মনে করছি যে আমরা বঞ্চিত হয়েছি, সে বিষয়গুলোতে আমরা কোনো ছাড় দেব না,’ বলেন আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
আরও পড়ুন: ভারতের সঙ্গে অসম চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
তিনি আরও বলেন, ভারতের সাথে সীমান্ত সম্মেলনে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের নিয়ে আমরা বসবো। সেখানে আপনারা সুনির্দিষ্ট তথ্য পাবেন। বর্ডার কিলিং এই সম্মেলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা। মোট কথা কোনো বিষয়ে তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে) খোদা বখস চৌধুরীও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
আগামী মাসে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন হবে।
৫৩৪ দিন আগে
সীমান্ত হত্যা কখনোই মেনে নেওয়ার নয়: মির্জা ফখরুল
সীমান্ত হত্যা কখনোই মেনে নেওয়ার নয় বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি সবসময়ই এই দাবি জানিয়ে আসছে।
বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ব্যক্তিগত সফরে সিলেট গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সিলেট ওসমানী আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ভারতের উচিত সীমান্ত হত্যা বন্ধ করা। সীমান্ত হত্যা কখনোই মেনে নেওয়ার নয়।’
আরও পড়ুন: সতর্ক থাকুন, দেশকে কেউ যেন বিভক্ত করতে না পারে: মির্জা ফখরুল
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ নতুনভাবে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের সবার। দেশের গণতন্ত্র পুনর্প্রতিষ্ঠার জন্যই বিএনপি কাজ করছে।’
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৫৬৮ দিন আগে
বাংলাদেশ সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদের ভাষাকে আরও ‘শক্তিশালী’ করেছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, সাম্প্রতিক সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বাংলাদেশ প্রতিবাদের ভাষাকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের স্পষ্টভাবে নিন্দা জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক সীমান্ত হত্যাকাণ্ড নিয়ে মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রতিবাদের ভাষাকে আরও শক্তিশালী করেছি। আমরা প্রতি মুহূর্তে যা বলছি তা খুবই স্পর্শকাতর একটি বিষয়। আমরা আশা করি ভারত বিষয়টি বিবেচনায় নেবে।’
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক জনকেন্দ্রিক হোক: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হোসেন সীমান্ত হত্যা বন্ধে বাংলাদেশের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, দুই দেশের স্বার্থে এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা দরকার। কারণ এতে কোনো লাভ হয় না, বরং সম্পর্কের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের পরিষ্কারভাবে বলেছি, আমরা এই ঘটনার নিন্দা জানাই। এসব ঘটনা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে খুবই নেতিবাচক ভূমিকা রাখছে। আমি কখনও কাউকে বলতে শুনিনি যে এটি ভারতের জন্য সুফল বয়ে আনে।’
বাংলাদেশ সরকার এর আগে ভারত সরকারকে এ ধরনের 'জঘন্য কর্মকাণ্ডের' পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে এবং সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে।
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার স্বর্ণা দাস (১৩) নামে এক কিশোরী ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় গত ১ সেপ্টেম্বর ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আজ ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে পাঠানো প্রতিবাদলিপিতে বাংলাদেশ এ ধরনের নির্মম ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির নাগরিকত্বের বিষয়ে যা বললেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
বাংলাদেশ সরকার স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, সীমান্ত হত্যার এ ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত ও প্রত্যাশিত এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড সীমান্ত কর্তৃপক্ষের জন্য যৌথ ভারত-বাংলাদেশ নির্দেশিকা, ১৯৭৫ এর বিধানের লঙ্ঘন।
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা মঙ্গলবার তার কার্যালয়ে নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র সচিব জসিম উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন।
এর আগে সোমবার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সীমান্ত হত্যা অবশ্যই একটি বাধা।
তিনি বলেন, সীমান্তে একজন মানুষ নিহত হলে সারা দেশে প্রতিক্রিয়া হয়।
উপদেষ্টা বলেন,‘এটি একটি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া, যা আমরা চাই না।’
এদিকে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আরও এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।
এসময় আহত হয়েছেন- উপজেলার ফকির ভিটা গ্রামের জয়ন্ত কুমার সিংহ (১৫), জয়ন্তর বাবা মহাদেব কুমার সিংহ ও ফকির ভিটা গ্রামের বাংদু মোহাম্মদ।
আরও পড়ুন: ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা নেই: রাজনাথের মন্তব্য প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
আহতরা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জানিয়ে তিনি বলেন, বিএসএফ সদস্যরা যুবকের লাশ নিয়ে গেছে।
সীমান্ত হত্যা অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে হোসেন বলেন, সীমান্ত হত্যা এমন সময়ে ঘটেছে যখন বলা হচ্ছে দুই দেশ একটি সোনালী অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এই ধারায় কোনো পরিবর্তন হয়নি।
৬৭৪ দিন আগে
সীমান্ত হত্যা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার
ভবিষ্যতে সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার ঘটনা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে দূর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
সীমান্ত হত্যার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সীমান্তে হত্যা নিয়ে এখানে একটু আলোচনা হয়েছে।
আরও পড়ুন: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আদেশ করেছি।। আশা করব ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না।’
তিনি বলেন, আমি সাংবাদিকদের কাছে অনুরোধ করব, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে আপনারাও আমাকে সাহায্য-সহযোগিতা করবেন।
উপদেষ্টা আরও বলেন, পূজার সময় আরেকটি সমস্যা দেখা দেয়। যেহেতু আমাদের অনেক লোক ভারতে যাওয়া-আসা করে, এপারের লোক ওপারে আবার ওপারের লোক এপারে পূজা দেখতে আসে।
তাই সবাইকে আমি অনুরোধ করেছি, এবার আপনারা বর্ডার বেল্টে ভালো ভালো পূজা মণ্ডপ করেন। যাতে এপারের লোক ওপারে না যায়। আবার ওপারের লোক এপারে না আসে পূজা দেখার জন্য।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে সব বিদেশি নাগরিকের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
ঘুষ, দুর্নীতি বন্ধের মাধ্যমে কারাগারের বেশিরভাগ সমস্যার সমাধান সম্ভব: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
৬৭৪ দিন আগে
সীমান্ত হত্যা কারোই কাম্য নয়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেছেন, হত্যা কারোই কাম্য নয়। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সু-সম্পর্ক রয়েছে। তারাও চান না সীমান্তে হত্যাকাণ্ড হোক।
তিনি বলেন, আমাদেরও কাম্য নয়। বিগত বছরের তুলনায় সীমান্ত হত্যা এ বছরে অনেক কম হয়েছে। দুই দেশে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এছাড়া সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নিয়ে আসা হবে।
শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে লালমনিরহাট চার্চ অভ্ গড উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে তিনি সাংবাদিকের এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: বিদেশি মিশনের সঙ্গে নথি শেয়ারের কারণ জানালেন শাহরিয়ার আলম
ইতোপূর্বে সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের শিকার লাশ ফেরতের বিষয়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী আলোচনা করে থাকেন। করোনার সময় বন্ধ থাকা দুই দেশের জেলা প্রশাসক পর্যায় আলোচনা পুনরায় চালু করা হবে। সেখানে এসব বিষয়ও আলোচনা হতে পারে। তবে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ না করতে সীমান্তবাসীর প্রতি আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এক সময় মোগলহাট স্থলবন্দর দিয়ে কয়লাসহ বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। যা পুণরায় তৈরি করতে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। পুরানো যত যোগাযোগের মাধ্যম রয়েছে সবগুলো পুনরায় চালু করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ভারত সরকার আন্তরিক হলে মোগলহাট স্থলবন্দর চালু করা সম্ভব হবে। এ নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও কথা হয়েছে।
প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসাবে চার্চ অভ্ গড উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ব্যবস্থা করতে আমার বাবার নামে একটি ট্রাস্টি গঠন করব। ২৫ লাখ টাকার তহবিল দেয়া হবে। সেখান থেকে মিশন স্কুলের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট দূর করাসহ ডিজিটাল ল্যাব গঠন করা হবে।
এতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে প্রয়োজনে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে গড়ে তুলব। বিদ্যালয়টিতে আধুনিক যুগোপযোগী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী।
চার্চ অভ্ গড উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহিদার রহমানের সভাপতিত্বে ৭৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, লালমনিরহাট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, সিআইবির জাতীয় পরিচালক খ্রাস্টাবেল কালাইসেলভি, লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজন, লালমনিরহাট পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম স্বপন, বিদ্যালয়টির প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক অনিমেষ বৈদ্য ও প্লাটিনাম জুবিলি উদযাপন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা সালেহ বিন সামস প্রমুখ।
এর আগে চার্চ অভ্ গড উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭৫ বছর উদযাপনে প্রকাশিত স্মরণিকা 'ঐক্যতান' এর মোড়ক উন্মোচন করেন প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।
এরপর কেক কেটে ও বেলুন উড়িয়ে দুই দিনব্যাপী বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন তিনি।
শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) রাতে তিন দিনের সফরে লালমনিরহাট পৌঁছান তিনি।
শনিবার বিকালে জেলা কালেক্ট্রেট মাঠে জেলা চেম্বার অব কমার্সের আয়োজনে বাণিজ্যের উদ্বোধন করবেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি সোমবার সকালে লালমনিরহাট ত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: কোনো দল নির্বাচনে অংশ না নেয়ার দায় সরকার নেবে না: শাহরিয়ার আলম
‘বিজিবি সতর্ক, মিয়ানমার থেকে এখন কেউ ঢুকতে পারবে না’: শাহরিয়ার আলম
১৩০৭ দিন আগে