প্রাথমিক বিদ্যালয়
নিয়োগপত্রের দাবিতে প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের শাহবাগে অবস্থান
নিয়োগ ও পদায়নের দাবিতে গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ এ চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা।
এদিন বেলা ১১টায় অবস্থান কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই সড়কে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে পরে তারা জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যান।
আন্দোলনকারীরা জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা সড়ক ছাড়বেন না।
উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে জেলা ভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
নিয়োগ পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, দুই মাসের বেশি সময় পার হলেও এখনও তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, যদিও পুলিশ ভেরিফিকেশন, মেডিকেল পরীক্ষা এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
আন্দোলনে আসা সুনামগঞ্জের এক প্রার্থী বলেন, ‘আমরা সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও খুব অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমরা মানসিক চাপে আছি। আমাদের দাবি পূরণ না করলে আমরা কঠোর কর্মসূচির দিকে যাব।’
এ বিষয়ে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে জানান, তিনি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
১০ দিন আগে
প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের পাটের ব্যাগ, পোশাক দেবে সরকার
পাটশিল্প রক্ষা ও পরিবেশ দূষণ রোধে আগামী জুলাই মাস থেকে দেশের প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাটের তৈরি ব্যাগ ও স্কুলের পোশাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রতিটি উপজেলার দুটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাটজাত ব্যাগ ও স্কুলের পোশাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে শুরু হবে।
রুমন জানান, পাটশিল্পকে রক্ষা এবং পরিবেশকে দূষণের হাত থেকে মুক্ত করতে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সাংবাদিকদের বলেন, আগামী জুলাই থেকে প্রতিটি উপজেলায় দুইটি করে স্কুলে এই কর্মসূচি শুরু হবে। এই পরীক্ষামূলক প্রকল্পের স্কুল নির্বাচন করবে স্থানীয় প্রশাসন।
মাহদী বলেন, প্রথম মাসে এক লাখ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পাটের স্কুল ব্যাগ ও ড্রেস দেওয়া হবে। সরকারের এই কার্যক্রমে প্রথম ধাপে প্রতি উপজেলার ২টি স্কুল পাবে। পর্যায়ক্রমে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা পাবে।
তিনি আরও জানান, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের ব্যবহার উৎসাহিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি স্থানীয় শিল্পের প্রসার ঘটাবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা ও ন্যায্যতার বার্তা ছড়িয়ে দেবে। এই উদ্যোগ ধনী-দরিদ্র বৈষম্য কমাতে ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে ও ব্যয়ে তিন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় করে কাজ করবে।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, পাট শিল্পের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনাই আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য। পলিথিনের কারণে যে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে, সেখান থেকে জনগণকে সরিয়ে নিয়ে আসতে শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব পণ্য পৌঁছে দিতে এই কর্মসূচি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
১৪ দিন আগে
প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম দেবে সরকার: প্রতিমন্ত্রী
দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছি। বছরে একবার শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম দেওয়া হবে। আমরা বিশ্বাস করি, বর্তমান সরকারের মেয়াদে পর্যায়ক্রমে দেশের সব প্রাথমিক স্কুলে বিনামূল্যে ইউনিফর্ম দিতে সক্ষম হব।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক সেন্টারে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কার: কৌশলগত পথনির্দেশনা’ শীর্ষক নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষা সংস্কার কার্যক্রমে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও প্রমাণভিত্তিক সুপারিশ নীতিনির্ধারণে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে এই নীতি সংলাপের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে মিড ডে মিল চালু করা হয়েছে। আশা করছি, আগামী বছরের মধ্যে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিলের ব্যবস্থা করতে পারব।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষাখাতের উন্নয়নে থ্রি সি: কারিকুলাম, ক্লাসরুম, কনসিসটেন্সি ঠিক করতে হবে। ক্লাসরুমের অবকাঠামো ও পরিবেশের উন্নয়ন করতে হবে। আমাদের প্রাইমারি শিক্ষার কারিকুলামে অনেক ঘাটতি রয়েছে। আমি ইতোমধ্যে স্কুলে স্কুলে সরেজমিনে পরিদর্শন শুরু করেছি। কয়েকটি স্কুলে গিয়ে, বিশেষ করে, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই থেকে পড়তে বলার পর দেখেছি, পড়াটা তাদের জন্য বেশ মুশকিল হয়। আসলে আমাদের দেখতে হবে, তারা আসলে কী পড়ছে? পড়াগুলো, ভাষাগুলো তাদের জন্য উপযোগী কিনা। সাবলীলভাবে তারা পড়তে পারবে কিনা। আমার কাছে মনে হয়েছে, তাদের জন্য পড়াগুলো বেশ কঠিন। কারিকুলাম পর্যালোচনা করে আপডেট করতে হবে।’
যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়নের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিকে খেলাধুলাভিত্তিক ও গল্পভিত্তিক শিক্ষা চাই। শিক্ষার্থীরা যেন পড়ার আগ্রহ পায়, এমন কারিকুলাম তৈরি করতে হবে। তবে খেলাধুলাভিত্তিক ও গল্পভিত্তিক শিক্ষা কারিকুলাম আমরা আজকে তৈরি করে কালকেই চাপিয়ে দেব না। আমরা কারিকুলাম আপডেটের ঘোষণা দেব, পাইলটিং করব, প্রশিক্ষণ দেব; তারপর কারিকুলাম আপডেট করব।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিসে (সহশিক্ষা কার্যক্রম) আমরা গুরুত্বারোপ করছি। প্রতিটি স্কুলে ৬-৭টি খেলা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছি। এছাড়া নাচ, গান ও অভিনয় শেখার জন্য সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও আমরা কাজ করছি।
এ সময় তিনি শিক্ষকদের কার্যকরী প্রশিক্ষণ প্রদানের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে বলেন, পিটিআই থেকে প্রাথমিকের শিক্ষকদের ১০ মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই ট্রেনিংয়ের কন্টেন্টগুলো বেশ ভালো, আমি দেখেছি ও পড়েছি। কিন্তু স্কুলে গিয়ে আমি এই ট্রেনিংয়ের কোনো প্রয়োগ দেখতে পাই না। টিচারদের প্রশিক্ষণগুলো আরও কার্যকরী করা হবে।
সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দেবব্রত চক্রবর্তী। অন্যান্যের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্।
২৩ দিন আগে
ফেনীতে সংস্কার হয়নি ২৮৪ প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান
ফেনী জেলার প্রায় দুই শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এবং অর্ধশতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে এখনও পাঠদান ও সহশিক্ষা কার্যক্রম চলছে। এতে চরম ঝুঁকি ও আতঙ্কে রয়েছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এসব বিদ্যালয়ে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলায় মোট ৫৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ২০২৪ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৮৪টি বিদ্যালয়ের ভবন এখনও সংস্কার হয়নি। এর মধ্যে ফেনী সদর উপজেলায় ১৫১টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১০টি, দাগনভূঞা উপজেলায় ১০২টির মধ্যে ১৬টি, সোনাগাজী উপজেলায় ১১০টির মধ্যে ৭৭টি, ছাগলনাইয়া উপজেলায় ৭৮টির মধ্যে ৬৫টি, পরশুরাম উপজেলায় ৭টি এবং ফুলগাজী উপজেলায় ৯টি বিদ্যালয়ের ভবন ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
১০৪ দিন আগে
১৫০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুরু হচ্ছে ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচি
সেপ্টেম্বরের শেষ বা অক্টোবরের শুরুতে দেশের ১৫০টি উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড ডে মিল’ বা দুপুরের খাবার চালু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচি চালুর অগ্রগতি কতদূর— জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘মিড ডে মিলের কাজ এগোচ্ছে। ১৫০টি উপজেলায় শিগগির চালু হয়ে যাচ্ছে।’
চলতি বছরের জানুয়ারির মধ্যে দেশের ১৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড ডে মিল চালু করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেটি এখনো হয়নি— এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা ডিপিপি তৈরি করলাম। সেটি আগের বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) রিপোর্ট অনুযায়ী তৈরি হলো। এরপর প্রক্রিয়া মেনে আমরা এটি একনেকে উপস্থাপন করলাম, তখন বিবিএসের নতুন পরিসংখ্যান বের হলো। তখন আমাদের বলা হলো, আপনারা এই (নতুন পরিসংখ্যান) অনুযায়ী করেন।’
একটা জেলার মধ্যে কোন অঞ্চলগুলো বেশি দরিদ্র, সেটি তো পরিবর্তন হয়েছে। নতুন করে আবার এটিকে ঠিক করে পাস করাতে হলো। এজন্য কিছুটা বিলম্ব হলো বলে জানান উপদেষ্টা।
আরও পড়ুন: সাপ্তাহিক ছুটি দুদিনই, প্রাথমিকের অন্যান্য ছুটি কমবে: উপদেষ্টা
তিনি আরও বলেন, ‘আর যে প্রক্রিয়াগুলো... প্রকিউরমেন্টে প্রক্রিয়া, ট্রেনিংয়ের বিষয়গুলো, সেগুলো চালু আছে। আশা করি আমরা পারব।’
কবে নাগাদ পারবেন— এমন প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা আশা করি, সেপ্টেম্বরের শেষ ও অক্টোবরের শুরুতে দেশের ১৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু করতে পারব।’
এই খাবারের মধ্যে ডিম, মৌসুমি ফল, বিস্কুট, দুধসহ পাঁচ ধরনের খাবার থাকবে বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা।
২৪১ দিন আগে
সাপ্তাহিক ছুটি দুদিনই, প্রাথমিকের অন্যান্য ছুটি কমবে: উপদেষ্টা
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাপ্তাহিক ছুটি দুদিন বহাল রেখেই শিক্ষাপঞ্জির অন্যান্য ছুটি কমিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি মনে করি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মূল কাজই হচ্ছে স্বাক্ষরতা। স্কুল স্তরে যদি স্বাক্ষরতা করতে হয়, কতগুলো প্রতিবন্ধকতা আমাদের পার হতে হচ্ছে। কেন আমরা সহজে এগোতে পারছি না। এই বিষয়গুলো আমি আপনাদের সামনে প্রকাশ করতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘স্কুলে যদি পড়াশোনা হতে হয় তবে প্রয়োজনীয় একটি শর্ত হচ্ছে কন্ট্রাক্ট আওয়ার, অর্থাৎ একজন শিক্ষক ছাত্রকে কতটুকু সময় দিতে পারছেন। এই কন্ট্রাক্ট আওয়ার প্রথমত নির্ভর করছে কত দিন স্কুল খোলা থাকে। আপনারা ক্যালেন্ডার দেখেন, ৩৬৫ দিনের মধ্যে আমার স্কুল খোলা থাকে মাত্র ১৮০ দিন। খেয়াল করেছেন ব্যাপারটা? পড়াশোনাটা যে হবে, স্কুল কত দিন খোলা পাচ্ছি? এর মানে আমাদের অনেক অপ্রয়োজনীয় ছুটি রয়ে গেছে।’
‘আমরা চেষ্টা করছি ছুটি যদি কিছু কমিয়ে আনা যায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে এটা করছি, কারণ বিচ্ছিন্নভাবে করলে হবে না।’
আরও পড়ুন: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতনস্কেল দশম গ্রেডে উন্নীত
ছুটি কমানোর ক্ষেত্রে সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন থেকে কমিয়ে এক দিন করার চিন্তা আছে কিনা— জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘আপাতত লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ক্যালেন্ডারে ছুটি কিছুটা কমানো। আমরা যদি সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিনকে এক দিন করতে চাই, সেটা সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেহেতু একই রকম তাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আলাদাভাবে করা কঠিন। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে এক ধরনের দাবি আছে, শিক্ষকরা হচ্ছেন ভ্যাকেশন ডিপার্টমেন্টে, নন-ভ্যাকেশন হতে চাইলে এটা সঙ্গে সরকারের আর্থিক সংশ্লেষের প্রসঙ্গ আছে। ফলে এ ধরনের একটা চিন্তা আছে, তবে এ বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। তবে আমাদের ক্যালেন্ডারে যে ছুটি আছে সেক্ষেত্রে আমাকে কিছুটা কমিয়ে আনব।’
কোন কোন দিন ছুটি কমাবেন সেটা ঠিক হয়েছে কিনা— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা চূড়ান্ত হলে আপনাদের জানিয়ে দেব।’
২৪১ দিন আগে
প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
সোমবার (১৫ জুলাই) বিকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ নির্দেশ দেন তিনি।
বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়াসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান সম্পর্কে এবং কোন স্কুলগুলো ভালো করছে, সে ব্যাপারে মূল্যায়ন জানতে চান প্রধান উপদেষ্টা।
এ সময় উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষাখাতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য অনেক অর্থ ব্যয় হয়েছে। কিন্তু মূল যে উদ্দেশ্য—শিক্ষার মান বৃদ্ধি, সেটি সাধন হয়নি। আমরা মূল্যায়ন করে স্কুলগুলোকে র্যাংকিং করছি। যেসব স্কুলের বাচ্চারা পিছিয়ে আছে, তাদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি নিচ্ছি।’
শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, মূল্যায়নে দেখা গেছে, যেসব স্কুলের মান ভালো সেখানে প্রধান শিক্ষকের যোগ্যতা ও তার সঙ্গে অন্য সহকর্মীদের সম্পর্ক, ব্যবহার ইত্যাদি বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে। দেশের ৩২ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান বলেও প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন তিনি।
এ সময় প্রধান শিক্ষক পদে পদায়নের পাশাপাশি নতুন নিয়োগের বিষয়েও নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘স্কুলগুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কীভাবে যোগ্যদের নিয়ে আসা যায়, সে বিষয়টিকে প্রাধান্য দিতে হবে। কয়েকটা ক্যাটাগরি করে দিতে হবে। যারা বহু বছর ধরে শিক্ষকতা করে আসছেন, অভিজ্ঞ, তারা প্রাধান্য পাবেন। এর পাশাপাশি তরুণদেরও প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য সুযোগ দিতে হবে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হবে।’
সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে সমন্বয় করে অতিদ্রুত বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্নের নির্দেশ দেন অধ্যাপক ইউনূস। এর পাশাপাশি শিক্ষকদের বদলির ক্ষেত্রেও নীতিমালায় পরিবর্তন আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘অনেক সময় এক উপজেলায় নিয়োগ পেয়ে পরে অন্য উপজেলায়, শহরের কাছে কোনো স্কুলে শিক্ষকরা বদলির জন্য চেষ্টা করেন, তারা সুপারিশ-তদবির নিয়ে বিভিন্ন মহলে ঘোরেন। এ ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা ও প্রক্রিয়া থাকতে হবে। কেবল ওই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তিনি বদলি হতে পারবেন।’
স্কুলগুলোতে মেয়েদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা, স্কুলের অবকাঠামো নারীবান্ধব কিনা—এসব বিষয়েও জানতে চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘স্কুলের ভবন নির্মাণের সময় কমিটিতে অন্তত একজন নারী স্থপতি রাখতে হবে যাতে নারীবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ হয়। পরিকল্পনায়, চিন্তায় ও বাস্তবায়নে মেয়েদের বিষয়ে আলাদা করে গুরুত্ব দিতে হবে, সব ব্যবস্থা রাখতে হবে।’
এ ছাড়া দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধারাবাহিকভাবে ইন্টারনেট সংযোগ ও মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ তৈরির বিষয়েও জোর দেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
২৯৫ দিন আগে
প্রাথমিকে ছুটি কমিয়ে পাঠদানের সময় বাড়ানোর পরিকল্পনা
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ছুটির পরিমাণ কমিয়ে পাঠদানের সময় বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।
মঙ্গলবার (১৩ মে) দুপুরে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বড়াইগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা লেখাপড়ার মানোন্নয়নের জন্য বিভিন্ন রকম পদক্ষেপ নিচ্ছি। এর মধ্যে আমাদের এক নম্বর টার্গেট (লক্ষ্য) হচ্ছে, ছাত্রদের সঙ্গে শিক্ষকদের সময়টা, সেটা বাড়ানো।’
সেটি করতে গিয়ে শিক্ষকের অপ্রতুলতার মতো বিষয়টিও তুলে আনেন তিনি। বলেন, শিক্ষকদের সংখ্যা কোথাও বেশি আছে, কোথাও কম আছে। সেটিকে সামঞ্জস্য করার একটি বিষয় রয়েছে। এছাড়া রয়েছে শূন্য পদগুলো পূরণ করার মতো বিষয়।
ডা. বিধান রঞ্জন বলেন, আমাদের (শিক্ষকদের) উপর লেভেলে (উচ্চ পর্যায়ে) কিছু শূন্য পদ রয়ে গেছে, সেগুলোও পূরণ করতে হবে। এটি পদোন্নতি ও নিয়োগ—উভয় মাধ্যমেই করা হবে।
৩৫৮ দিন আগে
কাজে আসছে না ১৫০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ
কোনো কাজে আসছে না সিলেটের বিয়ানীবাজারের ১৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ। প্রযুক্তি ব্যবহার করে বড় পর্দায় (প্রজেক্টর) কোমলমতি শিশু-শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য এই প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। এ জন্য স্কুলগুলোর একজন করে শিক্ষককে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি ট্রেনিং) বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ স্কুলের ল্যাপটপ, প্রজেক্টর ও মডেম শিক্ষক ও নৈশপ্রহরীরা রেখেছেন নিজের বাড়িতে। ফলে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে শিক্ষালাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থী।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি ৩-৪) আওতায় বিয়ানীবাজারের ১৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেওয়া হয়েছে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, মডেম-সিম, ওয়াইফাই রাউটারসহ নানা সরঞ্জাম। প্রতিটি বিদ্যালয়ে ওয়াইফাই রাউটারের জন্য প্রতি মাসে ৪০০ টাকার প্যাকেজে ২০ জিবি ডেটাও সরবরাহ করা হচ্ছে। একটি ওয়াই-ফাই রাউটারের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ সর্বোচ্চ ১০ জন শেয়ার করে ব্যবহার করতে পারে। আবার কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি থাকায় দুটি করে ল্যাপটপ দেওয়া হয়েছে। তবে বিতরণের আগে এসব বিদ্যালয়ের একজন করে শিক্ষককে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি ট্রেনিং) দেওয়া হয়েছে। এসব শিক্ষাসামগ্রী অনেক শিক্ষক রেখেছেন নিজের বাড়িতে। এতে করে বিদ্যালয়ের শিখন-কার্যক্রমের বাইরে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইউটিউব ব্যক্তিগত ডিভাইসে ব্যবহার করে শেষ হচ্ছে সরকারি টাকায় কেনা ডেটা।
আরও পড়ুন: ৩২ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই: উপদেষ্টা
সরেজমিনে দেখা গেছে, কোনো বিদ্যালয় ল্যাপটপ পেয়েছে, কোনো বিদ্যালয় ল্যাপটপ পেলেও প্রজেক্টর পায়নি। আবার প্রজেক্টর পেলেও ল্যাপটপ পায়নি, এমন বিদ্যালয়ও আছে।
এ ছাড়া কিবোর্ড অকেজো, ব্যাটারি ও সাউন্ডে সমস্যার কথাও জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা। বিতরণ করা ল্যাপটপ, প্রজেক্টরের মধ্যে কতটি বর্তমানে সচল আছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি বিয়ানীবাজার উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব।
বিভিন্ন বিদ্যালয়ে দেখা গেছে, ওয়াইফাই রাউটার বিদ্যালয়ের চেয়ারের নিচে কিংবা টেবিলে লাগানো রয়েছে। বন্ধের দিন রাউটার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। ল্যাপটপ, প্রজেক্টর ও মডেমের অধিকাংশই পাওয়া যায়নি। শিক্ষকদের দাবি, স্কুলে চুরি যাওয়ার ভয়ে তারা এগুলো বাড়িতে নিয়ে রাখেন।
বিয়ানীবাজার উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা পারভেজ তালুকদার বলেন, ‘বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ডিজিটাল ক্লাসে শিক্ষকদের আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। তবে উপজেলার সবকটি নয়, এখনও ১২-১৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ডিজিটাল ক্লাসের আওতায় আসেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, রাউটার ও মডেম বিদ্যালয়ে থাকা বাধ্যতামূলক। প্রধান শিক্ষক ও নৈশপ্রহরীর বাড়িতে থাকার বিষয়ে কিছু জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’
আরও পড়ুন: প্রাথমিকেও বৃত্তি চালু করতে যাচ্ছি: উপদেষ্টা
৩৫৮ দিন আগে
রেললাইনের পাশে প্রাথমিক বিদ্যালয়, নেই সীমানা দেওয়াল
কুমিল্লার লাকসামে রেললাইনের পাশে তপইয়া ময়ুরেন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখানে নেই কোনো সীমানা দেওয়াল। এর ফলে শব্দদূষণের পাশাপাশি ঝুঁকিতে রয়েছে শতাধিক শিক্ষার্থী।
লাকসাম-নোয়াখালী রেলরুটের পাশে লাকসাম উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের তপইয়া গ্রামের অবস্থিত তপইয়া ময়ুরেন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে ১১৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
তবে সন্তানের নিরাপত্তার কথা ভেবে অভিভাবকরাও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে কমছে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির পরিমাণ। অতি শিগগির বিদ্যালয়ে সীমানা দেওয়াল নির্মাণের দাবি জানিয়েছে অভিভাবক ও এলাকার সচেতন মহল।
তপইয়া গ্রামের বাসিন্দা শিক্ষানুরাগী আবদুল ওয়াদুদ খোকন বলেন, ‘এখানে মনপাল, তপইয়া ও কৃষ্ণপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের শিক্ষার্থীরা পড়তে আসে। সীমানা প্রাচীর না থাকায় শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিতে রয়েছে। এখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
অভিভাবক রাশিদা খাতুন বলেন, ‘ছেলেকে স্কুলে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকি—কখন না ট্রেন আসে, কখন আবার সে রেললাইনে উঠে পড়ে।’
আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি শুরু ২০ জানুয়ারি, যেভাবে চলবে প্রক্রিয়া
স্কুলের শিক্ষক বিদ্যুৎ পাল বলেন, ‘ট্রেন এলে আমরা রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে যাই। যাতে শিক্ষার্থীরা রেল লাইনে উঠতে না পারে। এছাড়া এলাকাবাসীও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে তৎপর থাকে।’
প্রধান শিক্ষক ইয়াসমিন আক্তার বলেন, ‘আমরা সীমানা প্রাচীর নির্মাণের বিষয়ে উপজেলায় আবেদন করেছি। দুই বছর ধরে এই বিষয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
উপজেলা শিক্ষা অফিসার দেলোয়ার হোসেন মজুমদার বলেন, ‘আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, এই স্কুলের শিক্ষার্থীরা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ বিষয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সেটি পাস হবে।’
৪৫২ দিন আগে