চার্জশিট
সিলেটে ফাহিমা হত্যা মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি জাকির হোসেনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। চার্জশিটে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে জাকির হোসেন এবং মরদেহ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজুরুল আলম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গতকাল (বৃহস্পতিবার) আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এতে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া মরদেহ গুমে জাকিরকে সহযোগিতার জন্য তার দুই ভাইকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা সকলে ফাহিমার প্রতিবেশী। ঘটনার পরই জাকিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাবাসী দুই দফা জাকিরদের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়।
উল্লেখ্য, গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় ফাহিমা। দুই দিন পর ৮ মে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ১১ মে রাতে ফাহিমাকে হত্যার অভিযোগে প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তিনি পুলিশের কাছে এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
পরদিন ১২ মে সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ৬ মে সকালে ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট আনার জন্য পাঠায় জাকির। সিগারেট এনে দেওয়ার পর জাকির তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেয়। সে সময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। জিজ্ঞাসাবাদে জাকির জানিয়েছেন, সে সময় ঘরের দরজা বন্ধ করে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তবে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে গলা টিপে হত্যা করে জাকির। প্রথমে তিনি মরদেহ ঘরের ভেতরে একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখেন। পরে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় মরদেহ ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তবে মরদেহ পানিতে না ডোবায় সেটি পাশেই রেখে পালিয়ে যান জাকির।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাদর ও ব্রিফকেস উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামত জব্দ করে তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হবে।
এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় সিলেটজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ফাহিমা হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনে নামেন স্থানীয়রা। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি ফাহিমার বাড়িতে গিয়ে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।
১১ দিন আগে
রামিসা হত্যা: সোহেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ।
রবিবার (২৪ মে) বিকেলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ অভিযোগপত্র জমা দেন।
এর আগে সকালে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, শনিবার ডিএনএ প্রতিবেদন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
এর আগে, আজ (রবিবার) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, এ মামলার বিচার প্রক্রিয়া পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে।
মামলার নথি অনুযায়ী, রামিসা আক্তার তার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লার মেয়ে। অভিযুক্ত সোহেল রানা পার্শ্ববর্তী একটি ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া ছিলেন। তিনি শিশুটিকে কৌশলে তার কক্ষে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে রামিসার ছিন্নভিন্ন মরদেহ বিছানার নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় এবং তার কাটা মাথা বাথরুমের একটি বালতির ভেতর থেকে পাওয়া যায়।
ঘটনার সময় স্বপ্না আক্তারকে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। তবে সোহেল রানা পালিয়ে যান। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
৩০ দিন আগে
সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পির নির্দেশে হাদিকে হত্যা করা হয়: ডিবি প্রধান
মিরপুরের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির নির্দেশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা শেষে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে তিনি এ তথ্য জানান।
চার্জশিটে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা ফয়সাল করিমসহ মোট ১৭ জনের অভিযোগ প্রমাণ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে জানিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলেই চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। চার্জশিট দেওয়া ১৭ জনের মধ্যে ১২ জন গ্রেপ্তার এবং ৫ জন পলাতক রয়েছেন।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই হাদিকে হত্যা করা হয় বলে জানান তিনি।
অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের কথিত ভিডিওবার্তা নিয়ে এ সময় ডিবিপ্রধান বলেন, ভিডিও বার্তা দিতেই পারে, কিন্তু তার বিরুদ্ধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এর আগে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছিলেন, চার্জশিট আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে অবশ্যই দাখিল করা হবে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে এ কথা তিনি জানান।
স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন, হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট ৭ তারিখের (জানুয়ারি) মধ্যে অবশ্যই ইনশাআল্লাহ আমরা দিয়ে দেব। এটি চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত হয়ে গেছে। আমরা একটু দেখছি। দেখে ইনশাল্লাহ ফাইনাল চার্জশিট চলে যাবে।
সেদিন সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এরই মধ্যে হাদি হত্যা মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার এ মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই এ হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিহত করতে যথাযথ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। পরের দিন তার মরদেহ দেশে আনার পর গত ২০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের কাছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
১৬৮ দিন আগে
‘হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট প্রস্তুত, ৭ জানুয়ারির মধ্যে দাখিল’
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে অবশ্যই দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে তিনি এ কথা জানান। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সভায় সভাপতিত্ব করেন।
স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট ৭ তারিখের (৭ জানুয়ারি) মধ্যে অবশ্যই ইনশাআল্লাহ আমরা দিয়ে দেব। এটি চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত হয়ে গেছে। আমরা একটু দেখছি। দেখে ইনশাল্লাহ ফাইনাল চার্জশিট চলে যাবে।’
এর আগে, এই মামলার বিচার নিয়ে তাড়াহুড়া করার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেছিলেন, ‘বিচার এমন একটি বিষয়, যেটি নিয়ে তাড়াহুড়া করার কোনো সুযোগ নেই। তবে অবশ্যই আমরা তাদের (আসামি) ফেরত আনার চেষ্টা করছি।’
হাদি হত্যা মামলার আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে শনিবার (৩ জানুয়ারি) উপদেষ্টা বলেন, ‘এখনো শতভাগ নিশ্চিতভাবে আমরা বলতে পারছি না। অন্তত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে এখনো নিশ্চিত করে বলা হয়নি যে জড়িতরা নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় অবস্থান করছেন।
‘ইন্টারোগেশন (জেরা) থেকে আমরা কিছু ইঙ্গিত পেয়েছি যে, তারা সম্ভবত সীমান্ত পার হয়ে গেছে। যদি আমরা খুব সুনির্দিষ্ট কোনো অবস্থান শনাক্ত করতে পারি, তাহলে ভারতকে বলতে পারব যে অমুক জায়গায় তিনি আছেন, তাকে ধরে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হোক।’
তিনি বলেন, ‘এমনিতেই ভারতের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ বজায় রয়েছে। দেখা যাক, এ ব্যাপারে আমরা কতটা অগ্রগতি করতে পারি।’
১৬৯ দিন আগে
রিজার্ভ চুরিতে জড়িত ৫ দেশের নাগরিক, চার্জশিট শেষ পর্যায়ে
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘটা বহুল আলোচিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির অনুসন্ধানে বাংলাদেশ ছাড়াও অন্তত চার দেশের নাগরিকের এই অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। মামলার চার্জশিট প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে, শিগগিরই আদালতে দাখিল হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র ইউএনবিকে জানিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক রয়েছেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি বিভাগের তৎকালীন কয়েকজন কর্মকর্তা, কর্মচারী ছাড়াও ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তার গুরুতর গাফিলতি ছিল। এমনকি তাদের কারও কারও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততাও ছিল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিআইডির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, অত্যাধুনিক ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক হ্যাকার চক্র এ চুরির ঘটনা ঘটায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি বিভাগ থেকে সচেতনভাবেই ওই ম্যালওয়্যারযুক্ত ফাইল খোলা হয়েছিল। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার অবৈধভাবে স্থানান্তরিত হয়।
তিনি আরও বলেন, চার্জশিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) বিস্তারিত প্রতিবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যাতে বিদেশি নাগরিকদের সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে। ওই প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠাতে এরই মধ্যে এফবিআইকে অনুরোধ করা হয়েছে। সেটি হাতে পেলেই তদন্ত শেষ করে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।
২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) রাতে সংঘটিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি বিশ্বের অন্যতম বড় সাইবার ডাকাতির ঘটনা। সে সময় বাংলাদেশে ব্যাংক কার্যক্রম বন্ধ ছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রেও সাপ্তাহিক ছুটি শুরু হয়েছিল। সেই সুযোগে হ্যাকাররা নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে প্রায় ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার স্থানান্তরের চেষ্টা করে, তবে ১০১ মিলিয়ন বা ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার সরাতে পারে তারা।
আরও পড়ুন: ৮৬ বারের মতো রিজার্ভ চুরি মামলার প্রতিবেদন পেছাল
চুরি হওয়া ওই অর্থের বড় অংশ দুর্বল নজরদারির ফাঁক গলে ফিলিপাইনের ক্যাসিনো শিল্পের গোপনীয়তা আইনের অধীনে পাচার হয়ে যায়। এর মধ্যে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনে এবং প্রায় ২ কোটি ডলার শ্রীলঙ্কায় পাঠানো হয়। পরে শ্রীলঙ্কায় প্রেরিত অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হলেও ফিলিপাইন থেকে অর্থ উদ্ধার জটিল হয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে সরকার।
এ ঘটনার তদন্তে সিআইডির পাশাপাশি এফবিআই, ফিলিপাইনের ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এনবিআই) এবং শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংক অংশ নেয়। পরবর্তীতে জাতিসংঘকেও এ অপরাধে ব্যবহৃত কৌশল ও লেনদেনের ধারা সম্পর্কে জানানো হয়।
ঘটনার ৩৯ দিন পর ওই বছরের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব ও বাজেট বিভাগের তৎকালীন উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে অভিযোগ এনে একটি মামলা করেন। পরে মামলাটি সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
প্রায় নয় বছরের তদন্তে দেশি-বিদেশি শতাধিক সাক্ষীর জবানবন্দি, আইপি ঠিকানা, নেটওয়ার্ক লগ, ব্যাংক লেনদেনের তথ্য এবং ড্রিডেক্স ম্যালওয়্যার কোডসহ বিস্তৃত প্রযুক্তিগত প্রমাণ খতিয়ে দেখা হয়েছে। এর ফলে হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি মামলা: প্রতিবেদন ফের পিছিয়ে ২ জুলাই
সিআইডির আরেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইউএনবিকে বলেন, এই তদন্তে আন্তর্জাতিক আর্থিক অপরাধ চক্রের কৌশল, তাদের দেশীয় সহযোগীদের ভূমিকা এবং আমাদের সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতার মতো বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চার্জশিট এমনভাবে প্রস্তুত করতে চাই যাতে অপরাধীরা শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আইনের মুখোমুখি হয়।’
চার্জশিট দাখিলের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম আলোচিত এ সাইবার ডাকাতির রহস্য উন্মোচিত হবে এবং বাংলাদেশের আর্থিক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
৩১১ দিন আগে
দ্রুতই সাংবাদিক তুহিন হত্যার চার্জশিট: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দ্রুত চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
রবিবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে উপদেষ্টা এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘আমরা জাতি হিসেবে অসহিষ্ণু হয়ে পড়েছি। আগে সমাজে কোনো খারাপ ঘটনা ঘটতে থাকলে লোকজন তা প্রতিহত করত, যাতে ঘটনা না ঘটে। কিন্তু এখন সবাই ভিডিও করার জন্য ব্যস্ত থাকে।’
উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘জনসমক্ষে একটি ঘটনা ঘটছে, কিন্তু কেউ তা প্রতিহত করছে না। গাজীপুরে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের সমাজে এ ধরনের ঘটনা কেউ কল্পনাও করতে পারে না। তবে এটা ঘটেছে।’
তিনি জানান, ‘গাজীপুরের ঘটনায় জড়িত বেশিরভাগকে আইনের আওতায় এনেছি। কিন্তু যেই জীবন চলে গেছে, সেই ক্ষতি পূরণের উপায় নেই। আসামিদের বিচারের আওতায় আনার জন্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভিডিও ফুটেজে ঘটনার স্পষ্টতা তুলে ধরে চার্জশিট কত দ্রুত দাখিল করা যাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চার্জশিট দ্রুত দেওয়া হবে। কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করাও বাকি রয়েছে।’
পড়ুন: পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্রের সন্ধান দিলে মিলবে পুরস্কার
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পুলিশের মনোবলের ঘাটতি নিয়ে বলেন, ‘আমরা একটি সংকটময় পরিস্থিতি পেয়েছি। আগে এমন পরিস্থিতি বাংলাদেশে ছিল কি না জানা নেই। পুলিশ কাজ করছে না, আনসার বিদ্রোহ করছে, অন্য বাহিনীগুলোও তত সক্রিয় নয়। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি অনেক উন্নতি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমরা যতটা আশা করেছিলাম, হয়তো তত ভালো হয়নি, কিন্তু একটি স্ট্যান্ডার্ডে পৌঁছেছি। আমাদের আরও কিছু সময় আছে, আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি। আমরা আশা করছি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পারব।’
৩১৭ দিন আগে
দুদকের চার্জশিটে নাম আসায় খুলনার সিভিল সার্জনকে ওএসডি
করোনা পরীক্ষার ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা আত্মসাৎ মামলায় খুলনার বর্তমান সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ ও সাবেক সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক খন্দকার কামরুজ্জামান এই চার্জশিট দাখিল করেন।
মামলার আসামিরা হলেন- খুলনার সিভিল সার্জন ও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সুজাত আহমেদ, সাবেক সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ, জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এস এম মুরাদ হোসেন, সাময়িক বরখাস্ত থাকা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) প্রকাশ কুমার দাস, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) মো. রওশন আলী এবং ক্যাশিয়ার তপতী সরকার।
আরও পড়ুন: সাংবাদিককে গালমন্দ করে ওএসডি হলেন টেকনাফের ইউএনও
দুদক কর্মকর্তারা জানান, করোনা পরীক্ষার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২১ সালের ১৮ নভেম্বর দুদকের উপসহকারী পরিচালক খন্দকার কামরুজ্জামান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন শুধু প্রকাশ কুমার দাস।
মামলার তদন্তে আরও পাঁচজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ওই ছয়জন পরস্পর যোগসাজশে সরকারি রশিদ বইয়ের বাইরে হাসপাতালের বুথে ডুপ্লিকেট রশিদ বই ব্যবহার করে বিদেশগামী যাত্রী ও সাধারণ কোভিড-১৯ রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে নমুনার সংখ্যা ফরওয়ার্ডিংয়ে বসিয়ে তা পরীক্ষার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের আরটি-পিসিআর ল্যাবে পাঠান। সে অনুযায়ী ফলাফল পেয়ে তা প্রকাশ ও রোগীদের সরবরাহ করেন।
পরবর্তীতে রোগীর সংখ্যা কম দেখিয়ে সে অনুযায়ী ইউজার ফি’র টাকা সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করেন। প্রকৃত আদায় করা ইউজার ফির টাকা জমা প্রদান না করে বিদেশগামী যাত্রী ও সাধারণ কোডিড-১৯ রোগীদের ইউজার ফি বাবদ আদায় করা মোট ৪ কোটি ২৯ লাখ ৯১ হাজার ১০০ টাকার মধ্যে ১ কোটি ৬৮ লাখ ৪৬ হাজার ৭০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন। অবশিষ্ট ২ কোটি ৬১ লাখ ৪৪ হাজার ৪০০ টাকা জমা প্রদান না করে আত্মসাৎ করা হয়।
আরও পড়ুন: চিকিৎসককে জরিমানা করে ওএসডি হলেন সাতকানিয়া ইউএনও
১০৬১ দিন আগে
রায়হান হত্যা: এসআই আকবরসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ
সিলেটের নগরীর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হান হত্যা মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেছেন মহানগর দায়রা জজ আদালত। এছাড়া পলাতক আরেক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক আবুল মোমেন এই অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পলাতক আসামি কথিত সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল নোমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
সিলেট মহানগর পুলিশের আদালত পরিদর্শক প্রদীপ চন্দ্র দাশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, অভিযোগপত্র গ্রহণকালে প্রধান অভিযুক্ত বহিষ্কৃত এসআই আকবর হোসেন ভুঁইয়াসহ পাঁচ আসামি আদালতে হাজির ছিল।
পড়ুন: সিলেটে রায়হান হত্যা: আরও ২ পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত
এর আগে গত ৫ মে আলোচিত এই মামলায় ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৫ মে আলোচিত এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয় মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অভিযোগপত্রে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই (সাময়িক বরখাস্ত) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে (৩২) প্রধান অভিযুক্ত করা হয়।
অন্য অভিযুক্তরা হলেন-সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহী (৪৩), কনস্টেবল মো. হারুন অর রশিদ (৩২), টিটু চন্দ্র দাস (৩৮), ফাঁড়ির ‘টুইআইসি’(সেকেন্ড-ইন-কমান্ড) পদে থাকা সাময়িক বরখাস্ত এসআই মো. হাসান উদ্দিন (৩২) ও এসআই আকবরের আত্মীয় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমান (৩২)। এদের মধ্যে পাঁচ পুলিশ সদস্য কারাগারে থাকলেও নোমান এখনও পলাতক রয়েছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিদের মধ্যে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে এসআই মো. আকবর হোসেন ভূঁইয়া, কনস্টেবল হারুন অর রশিদ, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও এএসআই আশেক এলাহী।
আলামত গোপনের অভিযোগে আসামি এসআই মো. হাসান উদ্দিন ও স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল নোমানের বিরুদ্ধে পেনাল কোড ২০১ ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগপত্রে।
পড়ুন: সিলেটে রায়হান হত্যা: এসআই আকবরসহ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট
গত বছরের ১০ অক্টোবর রাতে সিলেট নগরীর আখালিয়া এলাকার বাসিন্দা রায়হান আহমদকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে এনে নির্যাতন করেন ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভুঁইয়াসহ পুলিশ সদস্যরা। পরে ১১ অক্টোবর ভোরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নীর করা মামলার পর মহানগর পুলিশের একটি অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত করে ফাঁড়িতে নিয়ে রায়হানকে নির্যাতনের সত্যতা পায়। ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চারজনকে ১২ অক্টোবর সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়।
১৩ অক্টোবর পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে যান আকবর। পলাতক আকবরকে গ্রেপ্তারের দাবিতে আন্দোলন গড়ে উঠলে ৯ নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
১৭২৭ দিন আগে
পরীমণির দায়ের করা মামলায় চার্জশিট দাখিল
ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাভার থানায় চিত্রনায়িকা পরীমণির দায়ের করা মামলায় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।
সোমবার ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার থানার পরিদর্শক মো. কামাল হোসেন আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটভুক্ত অপর আসামি হলেন শাহ শহিদুল আলম।
এ বছরের ১৩ জুন রাতে ফেসবুক পোস্টে পরীমণি অভিযোগ করেন, ৯ জুন উত্তরার বোট ক্লাবে তাকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা চালান ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদ ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় তিনি সাভার থানায় ছয়জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
আরও পড়ুন: মুক্তি পেয়ে কী বার্তা দিলেন পরীমণি
পরীমণির মামলা দায়েরের পর উত্তরায় তুহিন সিদ্দিকী অমির বাসায় অভিযান চালিয়ে নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও অমিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। অমির বাসায় তল্লাশি চালিয়ে এক হাজার পিস ইয়াবা, বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করা হয়।
এরপর ১৪ জুন রাত ১২টা ৫ মিনিটে ডিবির গুলশান জোনাল টিমের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মানিক কুমার সিকদার বাদী হয়ে রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় নাসির, অমিসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।
আরও পড়ুন: পরিমণির মামলায় জামিন পেলেন নাসির-অমি
মাদকের মামলায় কয়েক দফা রিমান্ড শেষে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
১৭৫১ দিন আগে
ধর্ষণ মামলায় ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক আহ্বায়ক মামুনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে করা মামলায় প্রধান আসামি বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক আহ্বায়ক হাসান আল মামুনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ।
চার্জশিটে মামলার আরেক আসামি সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরসহ পাঁচ জনের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘ধর্ষণে’ ব্যর্থ হয়ে শিশুর হাড় ভেঙে দেয়ার অভিযোগ
বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসলাম উদ্দিন মোল্লা ঢাকার চীফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন।
লালবাগ থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) স্বপন কুমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভিপি নুর বাদে অভিযোগপত্রে অব্যাহতি পাওয়া অন্য আসামিরা হলেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগ, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম, ছাত্র অধিকার পরিষদের সহ সভাপতি মো. নাজমুল হুদা এবং ঢাবি শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ হিল বাকি।
আরও পড়ুন: সিলেটে কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার
ধর্ষণ ও ধর্ষণের সহযোগিতার অভিযোগে গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর রাতে এক ঢাবি শিক্ষার্থী লালবাগ থানায় ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাদের মধ্যে ধর্ষণে সহযোগিতাকারী হিসেবে এজাহারে ৩ নম্বর আসামি হিসেবে নুরের নাম উল্লেখ করা হয়।
আরও পড়ুন: প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনের সাথে বাদীর পরিচয় হয় এবং সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সুবাদে গত বছরের ৩ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটার দিকে বাদীকে তার লালবাগের বাসায় যেতে বলেন হাসান আল মামুন। সেখানে বিয়ের আশ্বাস দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরদিন বাদী অসুস্থ হয়ে পড়েন।
১৮৩২ দিন আগে