আগুন
মাদকাসক্ত যুবকের অগ্নিসংযোগে পুড়ল ১১ পরিবারের ঘর
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বসতঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগে সোহেল হোসেন নামের এক যুবককে সংঘবদ্ধ পিটুনি দিয়েছেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় ১১টি পরিবারের বসতঘর পুড়ে গেছে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে রায়পুর উপজেলার বাসাবাড়ি এলাকার আশক আলী ব্যাপারি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মাদকের টাকা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সোহেলের প্রায়ই ঝগড়া হতো। তারই জেরে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিনি নিজের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ১১টি পরিবারের বসতঘর ও রান্নাঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
খবর পেয়ে রায়পুর ও লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে আগুন দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয়রা সোহেল হোসেনকে আটক করে সংঘবদ্ধ পিটুনি দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে আছেন।
লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রনজিত কুমার দাস আগুনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে মাদকাসক্ত যুবক সোহেল নিজের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পরে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ১১টি পরিবারের বসতঘর পুড়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে সংঘবদ্ধ পিটুনি দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
২ দিন আগে
বাড্ডায় ফার্নিচারের গোডাউনে আগুন
রাজধানীর বাড্ডা এলাকার সাতারকুলে রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে একটি ফার্নিচারের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের ওয়্যারহাউস পরিদর্শক (মিডিয়া সেল) মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটের দিকে ওই গোডাউনে আগুনের সূত্রপাত হয়।
তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরে পূর্বাচল ফায়ার স্টেশন থেকে আরও দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, পূর্বাচল ফায়ার স্টেশনের ইউনিট দুটি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে আর প্রয়োজন না থাকায় পূর্বাচল ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট মাঝপথ থেকেই ফিরে যায়।
আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
২ দিন আগে
ডিআর কঙ্গোতে বিয়ের অনুষ্ঠানে আগুন, নিহত অন্তত ২২
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আগুন লেগে অন্তত ২২ জন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছে।
আঞ্চলিক মেয়র শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, কিনশাসার উত্তরে লিংওয়ালা পৌরসভায় একটি ভবনে গভীর রাতে আগুনের সূত্রপাত হয়, যা শনিবার ভোর পর্যন্ত জ্বলতে থাকে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত লোকজন আগুন থেকে বাঁচতে সেখানে থেকে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সরু করিডোরগুলোতে ব্যাপক ভিড় তৈরি হয়। পরে কয়েকজনকে রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়, যাদের কেউ জীবিত, কেউ মৃত ছিল।
কঙ্গোলিজ প্রেস এজেন্সিকে লিংওয়ালার মেয়র নরবার্ট মুশিঙ্গা বলেন, প্রাথমিক হিসাবে নিহতের সংখ্যা ২২। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ডিআর কঙ্গোর উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাকমিন শাবানি শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, ‘এটি একটি মর্মান্তিক ঘটনা।’
কিনশাসার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড প্রায়ই ঘটে থাকে। এসব এলাকায় নগর উন্নয়নের সঙ্গে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার মতো প্রয়োজনীয় সুবিধা গড়ে ওঠেনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড বেশি ঘটে এবং চলতি বছরও বেশ কয়েকটি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
২ দিন আগে
কলকাতায় নিহতদের একজন সাভারের বাবু, বাড়িতে চলছে শোকের মাতম
গতকাল মঙ্গলবার রাতে কলকাতায় নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ৯ জন নিহতের মধ্যে পাঁচ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। সেই ৫ জনের একজন ঢাকা শহরের সাভারের আহম্মেদ বাবু।
ঢাকা শহরের উত্তর প্রবেশদ্বার সাভারের আমিন বাজার। আমিন বাজার বাসষ্ট্যান্ড-সংলগ্ন বেগুনবাড়ি মহল্লার বাসিন্দা ছিলেন আহম্মেদ বাবু (৩৮)। তিনি ছিলেন একজন প্রসাধনসামগ্রী ব্যবসায়ী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই সন্তানের বাবা আহম্মেদ বাবু গত রবিবার বেড়াতে গিয়েছিলেন কলকাতায়। আগামী শুক্রবার রাতেই তার দেশে ফিরে আসার কথা ছিল। যাওয়ার সময় বৃদ্ধা মা সাবেরা বেগম ও স্ত্রী বুবলী আকতারকে বলে গিয়েছিলেন মাত্র পাঁচ দিন তিনি কলকাতায় বেড়াবেন। কলকাতায় যাওয়ার সময় মাকে জড়িয়ে ধরে দোয়া চেয়েছেন যেন সুন্দরভাবে তিনি ফিরে আসতে পারেন। কিন্তু এ যে তার শেষ যাত্রা ছিল তা কেউই জানতেন না। তার মৃত্যুর খবরে পরিবারের সদস্যদের মাঝে যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (মঙ্গলবার) রাত ১২টার দিকে সর্বশেষ আহম্মেদ বাবুর সঙ্গে কথা হয় পরিবারের সদস্যদের। এ সময় তিনি তার বড় ভাই মোহাম্মদ আলী, মনির হোসেন এবং স্ত্রী সন্তান ও মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। পরিবারের সদস্যদের জন্য কী কী আনবেন, সেসব নিয়ে তিনি ফোনকলে গল্প করেছেন।
আজ (বুধবার) বিকেল ৩টার দিকে তাদের বাড়িতে খবর আসে আহম্মেদ বাবু কলকাতায় হোটেলে অগ্নি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। এ খবর শোনার পর থেকে তাদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
তার মা সাবেরা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার ছেলের মরদেহটি যেন সরকার দেশে এনে দেয়। ছেলের কথা বলতে বলতে কান্নায় তার গলার স্বর ভেঙে গেছে।
প্রতিবেশীরা এ সময় বাবুর স্ত্রী বুবলী ও সন্তানদের শান্তনা দিচ্ছিলেন। তারা জানান, আহম্মেদ বাবুর স্ত্রী বুবলী স্বামীর এমন মৃত্যু খবরে কাঁদতে কাঁদতে বেশ কয়েকবার মুর্ছা গেছেন। ৫ বছরের ছেলে সোয়াদ যেন কিছুই জানে না। সে বাসার বিভিন্ন কক্ষে ছুটাছুটি করছিল।
বড় ভাই মোহাম্মদ আলী জানান, বাবু ছিলেন পরিবারের সবার ছোট। অনেক আদরের ছিলেন। ফুটবল খেলা খুব পছন্দ করতেন। ছিলেন আর্জেন্টিনার ঘোর সমর্থক। তাদের বাবা কয়েক বছর আগে মারা গেছেন, কিন্তু ভাইয়ের সব আবদার তারা পূরণ করেছেন। এমন অসময়ে তিনি চলে যাবেন, তা ছিল কল্পনার বাহিরে।
গতকাল দিবাগত রাত ২টার দিকে এসি বিস্ফোরণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহম্মেদ বাবুসহ ৯ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। ফায়ার সার্ভিস স্টেশন-সংলগ্ন হওয়ায় ঘণ্টাখানেকের ব্যবধানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও ততক্ষণে প্রাণ যায় পাঁচ বাংলাদেশিসহ ৯ জনের।
২০ দিন আগে
কলকাতার হোটেলে আগুনে ৫ বাংলাদেশির মৃত্যু, আহত ৬ জন
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি হোটেলে আজ ভোরে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত ও আহতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত মোট নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি বলে স্থানীয় পুলিশ পরিচয় নিশ্চিত করেছে।
উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তারা নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে চারজন একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। অপর নিহতদের পরিচয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি।
এছাড়া, অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয় বাংলাদেশি নাগরিককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দেওয়ার জন্য উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তারা হাসপাতাল ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ইতোমধ্যে উপ-হাইকমিশন একটি সার্বক্ষণিক হেল্পলাইন চালু করেছে।
পরিস্থিতি সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে।
২০ দিন আগে
কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ড, বাংলাদেশিসহ নিহত ৯
ভারতের কলকাতায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে ওই অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
আগুনে হোটেলের কয়েকজন অতিথি ভেতরে আটকা পড়েন। পরে প্রায় ৬০ জনকে উদ্ধার করা হয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এনডিটিভি।
এদিকে, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, নিহত বাংলাদেশিরা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন।
কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, হোটেলটিতে অগ্নিনিরাপত্তার মৌলিক ব্যবস্থা ছিল না। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। হোটেলের মালিক ও কর্মীদের খোঁজা হচ্ছে। তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, হোটেলের তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। এয়ার কন্ডিশনার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও এর সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আগুন ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে হোটেলের কক্ষগুলো ধোঁয়ায় ভরে যায়। আতঙ্কিত অতিথিরা দ্রুত বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। রাত ২টা ৭ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি গাড়ি ঘটনাস্থলে যায়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভবনের ভেতরে আটকা পড়াদের উদ্ধারে কাজ করেন এবং একপর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পুলিশের এক কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেন, ঘন ধোঁয়ার কারণে দমকলকর্মীদের সিঁড়ি দিয়ে উঠে উপরের তলায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। নয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, আটকা পড়াদের উদ্ধার করা এবং আগুনের কারণ নির্ধারণ করাই তাদের অগ্রাধিকার ছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
কলকাতার এই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় আরেকটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত আটজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন।
১৭ আগস্ট ভোরে তারাপীঠের হোটেল বিদেশিনীতে ওই আগুন লাগে। পাঁচতলা হোটেলটির নিচতলায় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তখন অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন।
মেঘালয়ের একটি পরিবারের পাঁচ সদস্য ওই ঘটনায় নিহত হন। তারা হোটেলের সর্বোচ্চ তলায় অবস্থান করছিলেন। আগুন লাগার পর শিশুদের নিয়ে একসঙ্গে বের হওয়ার চেষ্টা করার সময় নিচে নামার পথে আগুনের মুখে পড়েন তারা।
২০ দিন আগে
ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ইন্দোনেশিয়ার দাবানল
ইন্দোনেশিয়ায় শুষ্ক মৌসুমে একের পর এক দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টার, শত শত দমকলকর্মী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মী মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির পূর্ব জাভার জনপ্রিয় ব্রোমো টেংগার সেমেরু জাতীয় উদ্যান থেকে শুরু করে সুমাত্রার বিস্তীর্ণ ভূমিতে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (৯ আগস্ট) ইন্দোনেশিয়ার বন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুষ্ক আবহাওয়া ও এল নিনিয়োর (প্রশান্ত মহাসাগরের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণতা) কারণে হওয়ায় দেশটির সর্বোচ্চ শুষ্ক মৌসুমে বন ও ভূমিতে আগুন লাগার ঝুঁকি বেড়েছে।
পূর্ব জাভার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পূর্ব জাভা প্রদেশের ব্রোমো টেংগার সেমেরু জাতীয় উদ্যানে সবচেয়ে বেশি মাত্রায় আগুন লেগেছে। প্রদেশটির প্রায় ৭৪৩ হেক্টর (১ হাজার ৮৩৬ একর) এলাকা পুড়ে গেছে।
দেশটির বন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগুনে শুকনো তৃণভূমি, গাছপালা ও সংরক্ষিত এডেলভেইস ফুলের বিস্তীর্ণ এলাকা পুড়ে গেছে। পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় স্থান মাউন্ট ব্রোমোর দর্শনীয় স্থান পেনানজাকান এলাকাতেও আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহত বা কাউকে সরিয়ে নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
পূর্ব জাভা অঞ্চলে আগুন নিয়ন্ত্রণে শত শত দমকলকর্মী, সেনাসদস্য, পুলিশ কর্মকর্তা, পার্কের রেঞ্জার ও স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ জাতীয় উদ্যানটি দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার পর্যন্ত দুর্গম এলাকায় আগুন নেভাতে অন্তত ৩টি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব হেলিকপ্টার দিয়ে আগুনের উৎসগুলোতে পানি ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি স্থলভাগে কর্মীরা আগুন নেভানো, ঠান্ডা করা, টহল ও আগুনের বিস্তার ঠেকাতে ফায়ারব্রেক তৈরির কাজ করছেন।
রবিবার জাতীয় উদ্যান পরিদর্শনের সময় দেশটির বনমন্ত্রী রাজা জুলাই আন্তোনি বলেন, ‘বন ও ভূমিতে আগুনের পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং এর ঝুঁকি মোকাবিলায় আমরা সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’
এ সময় যেসব মানবসৃষ্ট কারণে নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে, সেসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। যেমন: সিগারেটের অবশিষ্টাংশ না নিভিয়েই ফেলে দেওয়া ও জমি পরিষ্কারের জন্য আগুন লাগানো। এমন বিধ্বংসী সময়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে জনসাধারণকে সতর্ক করেছেন মন্ত্রী।
অস্বাভাবিক শুষ্ক এই মৌসুমে ইন্দোনেশিয়ার আরও কয়েকটি এলাকায় দাবানলের খবর পাওয়া গেছে।
দাবানলে সুমাত্রা দ্বীপের জাম্বি প্রদেশে ৫০ হেক্টরের (১২৪ একর) বেশি পিটভূমি (শুষ্ক স্যাওলাসমৃদ্ধ জলাভূমি) পুড়ে গেছে। এতে কিছু এলাকায় তীব্র ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে এবং বায়ুর মান আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মুয়ারো জাম্বি জেলার সুংগাই গেলাম গ্রামে বড় ধরনের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মালিকানাধীন কয়েক হেক্টর পাম বাগান পুড়ে গেছে। গত সপ্তাহের বুধবার থেকে সেখানে আগুন জ্বলছে।
দেশটিতে বর্তমান পরিস্থিতিতে আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৩০০ দমকলকর্মী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পিটভূমির গভীরতা, পানির সীমিত সরবরাহ, দুর্গম এলাকা ও প্রবল বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে। এসব কারণে তিনটি হেলিকপ্টার আকাশপথে আগুন নেভানোর কাজে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেরে বাইরে রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-ভৌত সংস্থা জানিয়েছে, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর দাবানল সংঘটনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মাস হতে পারে। এ সময়ে শুকনো গাছপালা ও প্রবল বাতাস আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
ইন্দোনেশিয়ায় শুষ্ক মৌসুমে সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপে প্রায়ই বনভূমিতে দাবানলের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়াও জমি পরিষ্কার করতে বাগান মালিক ও স্থানীয় কৃষকেরা অনেক সময় অবৈধভাবে আগুন লাগিয়ে দেন। এসব কর্মকাণ্ডে আগুনের ধোঁয়া মাঝেমধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং বিপজ্জনক ধোঁয়াশা তৈরি করে।
২৯ দিন আগে
দাবানলের কারণে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি
কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় ভয়াবহ দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে জরুরি অবস্থা জারি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় আগুনে ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে ও অনেক মানুষ আটকা পড়েছেন। পরিস্থিতি সামলাতে ওকানাগান লেকের আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (৮ আগস্ট) ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার মুখ্যমন্ত্রী ডেভিড এবি জরুরি অবস্থা জারি করেন।
শনিবার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশজুড়ে ১০০টিরও বেশি জায়গায় দাবানল জ্বলছিল। এ সময় দাবানলের প্রায় অর্ধেকই নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। প্রচণ্ড গরম, ঝোড়ো বাতাস ও দীর্ঘদিনের খরার কারণে এলাকাগুলোতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এ দুর্যোগে প্রায় ১২ হাজার মানুষের বসবাসের শহর সামারল্যান্ড এলাকা থেকে এক রাতেই সকল বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি কাছের শহর পিচল্যান্ড ও এর আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৮ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে আগুনে ঠিক কতটি ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী ডেভিড এবি বলেন, ‘আগুনের কারণে কয়েকজন বাসিন্দা আটকা পড়েছিলেন। পরে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। দাবানল ছড়িয়ে পড়া এলাকাগুলোতে আরও কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি জানি, আজ অনেক পরিবার কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনেক মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছেন, অনেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আপনাদের মধ্যে অনেকেই এখনও নিঁখোজ স্বজনদের খবরের অপেক্ষায় আছেন।’
এদিকে, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার দাবানল নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক ক্লিফ চ্যাপম্যান বলেন, ‘আগুনের কারণে যারা সড়কপথে বের হতে পারছিলেন না, তাদের দমকলকর্মীরা হেলিকপ্টার ব্যবহার করে উদ্ধার করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগুন মোকাবিলায় বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।’
শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রথম ব্যাল্ড রেঞ্জ এলাকায় আগুনের খবর পাওয়া যায়। এরপর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আগুন প্রায় ৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে ছোট্ট ফাউল্ডার এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরের সামারল্যান্ড পর্যন্তও খুব দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, ক্লিফ চ্যাপম্যান ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার দাবানল পরিস্থিতিকে ‘বিস্ফোরণাত্মক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, সামারল্যান্ডের মতো দাবানল পরিস্থিতির মুখে অন্য এলাকাগুলোও পড়তে পারে।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার জরুরি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মন্ত্রী কেলি গ্রিন বলেন, জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে সেখানের প্রাদেশিক সরকারকে অতিরিক্ত কিছু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ওই এলাকায় ভ্রমণ সীমিত করা ও বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় আবাসনের ব্যবস্থা করা।
ওকানাগান-সিমিলকামিন আঞ্চলিক জেলার জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এরিক থমসন বলেন, এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানল এর আগে ওই অঞ্চলে দেখা যায়নি।
থমসন বলেন, একপর্যায়ে তিনি তার কর্মস্থান জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র ছেড়ে নিজের পরিবারকে সরিয়ে নিতে বের হন। শনিবার ভোরে গাড়িতে থাকা অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি একটি ভিডিও প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র ছেড়ে পরিবারকে সরিয়ে নিতে যাচ্ছি। আমরা দক্ষিণ দিকে যাচ্ছি।’ সে সময় সড়কে যানজট তৈরি হয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার কয়েকটি বাড়িতে আগুন জ্বলছে। দুই পাশের আগুনের মধ্য দিয়েই বাসিন্দারা সড়ক ধরে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছেন।
অপরদিকে, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ির মালিক কেরি গোল্ড ও তার স্বামী মাইক এলসিংগা এলাকা ছেড়ে চলে যান। তারা কাছের একটি পাহাড়ের ওপর আগুন ছড়িয়ে পড়তে দেখে বাড়ি থেকে বের হয়ে পড়েন।
কেরি গোল্ড বলেন, ‘এটি ভয়ংকর পরিস্থিতি। আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ‘
সম্প্রতি এই দম্পতি ভ্যানকুভার শহর থেকে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় এসেছেন। এখানে দাবানল পরিস্থিতিতে আগে থেকেই ব্যাগ গুছিয়ে রেখেছিলেন। তারা তাদের বিড়ালকে নেওয়ার জন্য একটি ক্যারিয়ার প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। পাশাপাশি তারা তাদের এক শারিরীক প্রতিবন্ধী বন্ধুকে দাবানল থেকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে আগেহ থেকেই পরিকল্পনা করেছিলেন।
এলসিংগা বলেন, ‘আমরা নিজেদের বাড়ি রক্ষা করতে চাই। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা কেউই আগুনের মধ্যেও আটকা পড়তেও চাই না।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কানাডায় ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। এসব দাবানলের কারণে সরকারকে বহু মানুষকে একসঙ্গে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
৩০ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ায় ফেরিতে আগুন, নিহত ৫, নিখোঁজ বহু
ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের উপকূলে যাত্রীবাহী একটি ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ২২৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ঠিক কতজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, তা নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় সোমবার (৩ আগস্ট) নিখোঁজ যাত্রীদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন দেশটির উদ্ধারকারীরা। গতকাল (রবিবার) সকাল ৬টা থেকে ৭টার দিকে সুমেনেপ রিজেন্সির জলসীমায় ফেরিটিতে আগুন লাগে।
‘মুতিয়ারা সেন্টোসা-২’ ফেরিটি ইন্দোনেশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর পূর্ব জাভার সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ সুলাওয়েসির মাকাসার শহরের উদ্দেশে যাচ্ছিল।
উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাজটির ম্যানিফেস্ট অনুযায়ী এতে ২৩২ জন যাত্রী ও ৩৯ জন ক্রু সদস্য ছিলেন।
এদিকে, সোমবার সকালে কর্মকর্তারা জানান, ফেরিটিতে ম্যানিফেস্টে উল্লিখিত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ ছিলেন। এখন পর্যন্ত ২২৯ জনকে জীবিত উদ্ধার এবং ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে প্রকৃতপক্ষে কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, এখনও তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সংখ্যা নির্ধারণে কর্মকর্তারা নিহত ও জীবিতদের পরিবারের দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করছেন।
সুরাবায়া উদ্ধার কার্যালয়ের প্রধান নানাং সিগিত জানান, ইন্দোনেশিয়ায় নৌযান বা ফেরিতে যাত্রীর প্রকৃত সংখ্যার সঙ্গে অনেক সময় ম্যানিফেস্টে উল্লেখিত সংখ্যার মিল থাকে না। নৌযানগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে এমন অসঙ্গতি দেখা দেয়। ফলে এ ধরনের দুর্ঘটনায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম আরও জটিল হয়ে পড়ে।
এদিকে, ফেরিতে আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
ফেরিটিতে ১৮০টি যানবাহনও ছিল। এর মধ্যে বেশিরভাগই ছিল ট্রাক। এছাড়া এতে একটি এক্সকাভেটরও বহন করা হচ্ছিল।
উদ্ধার হওয়া যাত্রী আহমাদ আবদুল করিম জানান, সম্ভবত নিচতলার যানবাহন ডেকে থাকা একটি ট্রাক থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘বাতাসের কারণে আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। সে সময় ৩০ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে সবাইকে ফেরির সামনের অংশে চলে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।’
ঘটনাস্থলটি সুমেনেপ রিজেন্সির বুরুয়ান সাপুদি দ্বীপের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। এ দুর্ঘটনার পর সুরাবায়া থেকে একটি উদ্ধারকারী নৌযান ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর জাহাজ ও ঘটনাস্থলের আশপাশ দিয়ে যাওয়া বেশ কয়েকটি জাহাজও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।
ফেরিটি ১৯৯২ সালে জাপানে নির্মাণ করা হয়েছিল। সেখানে কয়েক বছর চলাচলের পর ২০১৫ সালে এটি ইন্দোনেশিয়ায় বিক্রি করা হয়। প্রায় ১৬০ মিটার (৫২৫ ফুট) দীর্ঘ এ ফেরিতে ৬৮৯ জন যাত্রী, ৪৯ জন ক্রু সদস্য এবং সর্বোচ্চ ১৮১টি যানবাহন বহনের সক্ষমতা রয়েছে।
মুতিয়ারা সেন্টোসা-২ নিয়মিত সুরাবায়া-মাকাসার রুটে চলাচল করে। সাধারণত এ যাত্রাপথ অতিক্রম করতে প্রায় ৪০ ঘণ্টা সময় লাগে। জাভা ও সুলাওয়েসি দ্বীপের মধ্যে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে এ রুটটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়।
১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত দেশ ইন্দোনেশিয়ায় ফেরি চলাচল অন্যতম প্রধান যাতায়াত ব্যবস্থা। তবে দেশটিতে প্রায়ই নৌদুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনার জন্য দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও তার যথাযথ বাস্তবায়নের ঘাটতিকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।
৩৬ দিন আগে
ফরিদপুরে হরিরহাট বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ৪ দোকান পুড়ে ছাই
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হরিরহাট বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ৪ টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
রবিবার (২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের হরিরহাট বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
তবে আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অগ্নিকাণ্ডে চারটি দোকানের মালামালসহ ব্যবসায়ীদের ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
হরিরহাট বণিক সমিতির সভাপতি মো. মোস্তফা মাতুব্বর জানান, রাত সাড়ে ১০টার পর হঠাৎ করেই বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি জানান, বাজারের ব্যবসায়ী হাশেম মিয়া, আজিজ মুন্সী, পরেশসহ চারজনের দোকান আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পুড়ে যাওয়া দোকানগুলোর মধ্যে মুদি ও কাঁচামালের দোকান ছিল।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় তিন-চারটি গ্রামের মানুষ আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় দোকানগুলোর সঙ্গে ভেতরে থাকা মালামালও পুড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
খবর পেয়ে ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দোকানগুলো পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
৩৬ দিন আগে