হাইকোর্ট
অধস্তন আদালতের পৃথক সচিবালয় স্থাপন-সংক্রান্ত রায়ের বিরুদ্ধে আপিল, শুনানি ৯ জুন
অধস্তন আদালতের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এই আপিলের ওপর শুনানির জন্য আগামী ৯ জুন দিন ধার্য করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। দুপুরের পর আপিল আবেদনটি আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালতে শুনানির জন্য উত্থাপন করা হয়।
আদালত অবেদনটি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়েছেন। একইসঙ্গে শুনানির জন্য ৯ জুন দিন ধার্য করেছেন। তবে হাইকোর্টের রায়ের ওপর কোনো স্থগিতাদেশ দেননি আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক।
এর আগে, গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রায়টি দেন।
রায়ে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের সেই বিধান বাতিল ঘোষণা করা হয়, যেখানে অধস্তন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ, পদায়ন, পদোন্নতি, ছুটি ও শৃঙ্খলা বিধানের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত রয়েছে। একইসঙ্গে এসব বিষয়ে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া অধস্তন আদালত নিয়ন্ত্রণের জন্য তিন মাসের মধ্যে একটি পৃথক সচিবালয় স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালাও বাতিল ঘোষণা করা হয়।
গত ৭ এপ্রিল এ রায়ের ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেন উচ্চ আদালত।
আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের ৭ জন আইনজীবী সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ ও ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন। একইসঙ্গে, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চাওয়া হয়। পরে একই বছরের ২৭ অক্টোবর এ বিষয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
বর্তমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচার বিভাগে নিয়োজিত ব্যক্তি ও বিচারিক দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ, পদায়ন, পদোন্নতি, ছুটি ও শৃঙ্খলা বিধানের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত। তবে রাষ্ট্রপতি এ ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রয়োগ করেন।
রিটকারীদের দাবি, এ ব্যবস্থায় নির্বাহী বিভাগের প্রভাব থেকে যায় যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পরিপন্থি। তাদের মতে, ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে এসব ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল।
পরে ১৯৭৪ সালের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এসব ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ‘সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তা প্রযুক্ত হইবে’ বাক্যাংশ যুক্ত করা হয়।
এরপর আপিল বিভাগ পঞ্চম সংশোধনী অসাংবিধানিক ঘোষণা করলে ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদের বর্তমান বিধান প্রতিস্থাপন করা হয়, যা এখনও কার্যকর রয়েছে।
৯ দিন আগে
ফুটপাতে হকারদের জায়গা বরাদ্দের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রুল
রাজধানী ঢাকার রাস্তা ও ফুটপাতে হকারদের জন্য জায়গা বরাদ্দ দেওয়া কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
রুলে স্থানীয় সরকার সচিব, আইন সচিব এবং ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে ‘ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬’ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট মো. শোয়েবুজ্জামান।
গত ৫ মে যানজট নিরসন এবং ফুটপাতে পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সরকার ‘ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬’ প্রণয়ন ও জারি করে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রণীত এ নীতিমালার মূল লক্ষ্য হিসেবে হকারদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির কথা বলা হয়। নীতিমালায় ঢাকার ফুটপাতে হকারদের ব্যবসা পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট স্থান ও ফুটপাত বরাদ্দের নিয়ম নির্ধারণ করা হয়।
১১ দিন আগে
সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেপ্তার-হয়রানি না করতে হাইকোর্টের নির্দেশ
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে আসামি হিসেবে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রবিবার (১৭ মে) বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী, সাঈদ আহমেদ রাজা, মুস্তাফিজুর রহমান ও মোনায়েম নবী শাহীন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ে সংঘটিত দুটি হত্যা মামলায় ১২ মে বিচারপতি খায়রুল হক হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। আদেশের পর তার আইনজীবীরা জানান, সব মামলায় জামিন হওয়ায় আপাতত তার কারামুক্তিতে আইনি বাধা নেই।
তবে এরই মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে বুধবার আপিল বিভাগে আবেদন করেছে।
এর আগে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত রায় জালিয়াতি এবং দুদকের করা পাঁচ মামলায় ২৮ এপ্রিল বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।
তারও আগে ৮ মার্চ হাইকোর্ট জামিনের বিষয়ে রুল মঞ্জুর করে চার মামলায় তাকে জামিন দেন। পরে ১১ মার্চ দুদকের মামলায়ও তিনি জামিন পান। এ জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করলেও তা খারিজ করে দেন আদালত।
এরপর যাত্রাবাড়ী থানায় আরিফ হত্যা এবং আদাবর থানায় রুবেল হত্যা মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। পরে ১২ মে ওই দুই মামলায় তিনি জামিন পান। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে মোট সাতটি মামলা রয়েছে।
গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমণ্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
১৩ দিন আগে
বিসিবি নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না হাইকোর্ট
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা কমিটির নির্বাচন স্থগিত চেয়ে করা বিচারাধীন এক রিটের সম্পূরক আবেদন নথিভুক্ত করার আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আদালত বলেছেন, বিসিবি নির্বাচন নিয়ে তারা কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবেন না।
এর ফলে আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠেয় বিসিবি নির্বাচন আয়োজনে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন বিসিবির আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহিম এম রহমান।
রবিবার (১৭ মে) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায়ের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মহসিন রশিদ। বিসিবির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহিম এম রহমান।
পরে মাহিম এম রহমান সাংবাদিকদের বলেন, মোহাম্মদ মোশারফ নামে একজন ব্যক্তি গত মার্চে বিসিবির গঠনতন্ত্রের একটি ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করেন। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রুল জারি করেছিলেন।
তিনি বলেন, বিচারাধীন ওই রিটে রবিবার একটি সম্পূরক আবেদন করে আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিতব্য বিসিবি নির্বাচন স্থগিত চাওয়া হয়। শুনানি শেষে আদালত স্পষ্টভাবে জানান, এই আবেদনের মাধ্যমে বিসিবির নির্বাচন বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করা হবে না।
১৩ দিন আগে
দুই মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে দুই মামলায় জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে আপাতত তার কারামুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু এবং অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
এর আগে, গত ২৮ এপ্রিল জুলাই আন্দোলনের সময় যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় জালিয়াতি এবং দুদকের করা পাঁচ মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন। হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন খারিজ করে আদালত এ আদেশ দেন।
গত ৮ মার্চ বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল মঞ্জুর করে চার মামলায় তাকে জামিন দেন। পরে ১১ মার্চ দুদকের মামলায়ও তিনি জামিন পান। সে সময় জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। পরে নিম্ন আদালতে আরও দুই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আজ সেই দুই মামলায় তিনি জামিন পেলেন।
গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমণ্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সে সময় তার বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলা হয়। একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে গত ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীনের করা মামলা। ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় আরেকটি মামলা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভূঁইয়া।
একই অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় ২৫ আগস্ট আরেকটি মামলা করেন নুরুল ইসলাম মোল্লা। এর আগে, ৪ আগস্ট প্লট জালিয়াতিতে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকও একটি মামলা করে।
এসব মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন নামঞ্জুরের পর তিনি হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। পরে হাইকোর্ট পাঁচ মামলায় জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন।
২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান খায়রুল হক। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তার নিয়োগ কার্যকর হয়। ২০১১ সালের ১৭ মে তিনি অবসরে যান। এরপর তিনবার তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হন।
১৮ দিন আগে
মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
বুধবার (৬ মে) বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি সম্পন্ন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু, অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন।
গত ৪ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিলের বৈধতা নিয়ে রিট শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেছিল হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত ওই হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট আবেদনটি শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এর আগে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিলে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
২৪ দিন আগে
অন্তবর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ডের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং তাদের কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির অনুসন্ধানের জন্য অনুসন্ধান কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।
জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ মুহসিন রশিদ। এতে সে সময়ে গৃহীত বিভিন্ন আইন প্রণয়ন, সংস্কার কমিশন ও দেশি-বিদেশি চুক্তির বৈধতার বিষয়ে কমিশন গঠন করে অনুসন্ধানের আর্জি জানানো হয়।
রিটকারী আইনজীবী বলেন, দেশের স্বার্থে ইউনুস সরকারের সকল অপকর্মের তদন্ত করা দরকার। রিট আবেদনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
এর আগে, বর্তমান সরকারের শপথ ও গঠন প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আরও একটি রিট আবেদন করেছিলেন এই আইনজীবী। তবে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সেই আবেদনটি খারিজ করে দেন। পরবর্তীতে ওই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে সুপ্রিম কোর্ট অন্তর্বর্তী সরকারকে বৈধ বলে আদেশ প্রদান করেন।
২৫ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই করা রিসিপ্রোকাল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্টের (পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি) বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। রিটে চুক্তিটিকে অযৌক্তিক, কাঠামোগতভাবে অসম ও বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থপরিপন্থি বলা হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) আইনজীবী মোহাম্মদ মঈদুল ইসলাম পলক রিটটি করেছেন। অ্যাডভোকেট সুবীর নন্দী দাস তা আদালতে উপস্থাপন করেন। বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চে এই রিটের ওপর শুনানি হবে।
রিটে পররাষ্ট্র, অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবদের বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে দাবি করা হয়, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই করা রিসিপ্রোকাল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও জনকল্যাণ সুরক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে এবং সংবিধানের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
চুক্তিতে বাংলাদেশের ওপর অসম শুল্ককাঠামো, নীতিনির্ধারণী স্বাধীনতা খর্ব এবং দেশীয় শিল্প, কৃষি ও পরিবেশের সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
২৬ দিন আগে
নিয়োগ আদেশ অমান্য: স্বাস্থ্যের ডিজিকে হাইকোর্টে তলব
হাইকোর্টের আদেশ পালন না করার ব্যাখ্যা জানতে স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে (ডিজি) তলব করেছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে আগামী ১৯ মে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।
অ্যাডভোকেট সিদ্দিক উল্লা মিয়া বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে সারা বাংলাদেশে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তির আলোকে রিটকারী ২৫ জনসহ দেশের অনেক প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।
রিটকারী ২৫ জন লিখিত পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হলেও তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়নি। পরে তারা ২০২১ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত রিটকারীদের নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে সেই নির্দেশনার পরও তারা নিয়োগ পাননি।
পরবর্তীতে রিটকারীরা আদালতের রায় বাস্তবায়নের জন্য পুনরায় আবেদন করলে হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করে ২৩ এপ্রিলের মধ্যে রিটকারীদের নিয়োগ দিয়ে রায় বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় আদালত স্বাস্থ্য সেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে তলব করেছেন।
৩০ দিন আগে
দুই মামলায় জামিন পেলেন আইভী
সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় করা দুটি মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এর আগে, বুধবার (২৯ এপ্রিল) শুনানি শেষে হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের জন্য আজকের এ দিন ধার্য করেন।
এদিকে, আরও ৫ মামলায় সাবেক মেয়র আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন নিয়ে আগামী রোববার (৩ মে) আদেশ দেবেন আপিল বিভাগ। সোমবার (২৭ এপ্রিল) আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ আদেশের এই দিন ধার্য করেন।
জানা গেছে, গত বছরের ৯ মে দিবাগত ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার চুনকা কুটির থেকে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পরবর্তীতে হাইকোর্টে তিনি ৫ মামলায় জামিন পেলেও আপিল বিভাগে তা স্থগিত হয়ে যায়। এর মধ্যেই গত ১৮ নভেম্বর তাকে আরও ৫ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পরবর্তীতে বিচারপতি কেএম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তাকে জামিন দেন।
পাঁচটি মামলার মধ্যে যে চারটি মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, সেগুলো হলো— ফতুল্লা থানায় করা বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা এবং পারভেজ হত্যা মামলা। এ ছাড়াও হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় আরও একটি মামলা করা হয়েছে।
হাইকোর্টের জামিন আদেশের পর রাষ্ট্রপক্ষ আইভীর জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে। পরবর্তীতে গত ৫ মার্চ হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। সেই সঙ্গে বিষয়টি শুনানির জন্য নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানো হয়। তবে এর মধ্যেই আরও দুই মামলায় সাবেক এই মেয়রকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়, দুটিই ছিল হত্যা মামলা। সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ও ২০২৫ সালের ৩০ জুন ওই মামলা দুটি করা হয়। এই দুই মামলার একটিতে ২ মার্চ ও অন্যটিতে ১২ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের ওপর ২৭ এপ্রিল শুনানি হয়। সেদিন শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ আদেশের জন্য আগামী ৩ মে দিন ধার্য করেন।
৩০ দিন আগে