হাইকোর্ট
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন হবে: আইনমন্ত্রী
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে এক প্রতিক্রিয়ায় সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় আপিল বিভাগে বহাল রাখা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন। তবে নির্বাচনকালীন এ সরকার কোন প্রক্রিয়ায়, কাদের নিয়ে গঠিত হবে, তা রায় দেখলে বোঝা যাবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
আজ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয় পরিবর্তন করে আনা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের অধিকার ফিরল বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
এরপর যে জাতীয় নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচন কি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে? এ ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ইনশাল্লাহ, ইনশাল্লাহ। এটি আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। আপনারা জানেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিএনপির আন্দোলনের ফসল। কীভাবে? ১৯৯০ ও ১৯৯১ সালে যে নির্বাচন হলো, সেটা বিএনপির বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যে সংগ্রাম হয়েছিল, সেই সংগ্রামের ফসল ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেই কনসেপ্ট (ধারণা) থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রক্রিয়ায় গেছি। ১৯৯৬ সালে সংসদে ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিল আনা হয়েছিল। এটি এনে বিএনপি নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাংগঠনিক রূপরেখা তৈরি করে দিয়েছিল।’
তিনি বলেন, বিএনপি এটির জন্য বিগত ১৬-১৭ বছর ধরে সংগ্রাম করেছে। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ স্লোগান দিয়ে আমরা নিরন্তর সংগ্রামের পথে হেঁটেছিলাম। সেই পথে হাঁটার মুখ্য লক্ষ্য ছিল ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’। এবং সেই প্রক্রিয়ায় ফেরার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প কোনো পথ ছিল না। আমরা সেই জায়গায় রাজনৈতিকভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বেশ কিছু সংশোধনী আনা হয়েছিল। যে সংশোধনীগুলো বাংলাদেশের গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিল, যে সংশোধনীগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশে ফ্যাসিস্টদের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়ার জন্য প্রক্রিয়া আনা হয়েছিল, যেগুলো নিয়ে আমরা বলেছিলাম—এটা আল্ট্রা ভাইরাসের মতো কনস্টিটিউশন।’
তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ে অবৈধ ঘোষিত সংবিধানের সংশোধনীগুলো বহাল রয়েছে এবং যেসব বিষয়ে সংসদের সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে। এক্ষেত্রে জুলাই সনদকে মুখ্য বিবেচনায় রেখে জনপরামর্শের ভিত্তিতে সংসদে সংশোধনী বিল আনা হবে।’
তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে যা যা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, সেগুলো আমরা পার্লামেন্টের সামনে উপস্থাপন করব। সেখানে আমাদের এই সংশোধনীগুলো আনতে মুখ্য বিবেচ্য বিষয় থাকবে জুলাই চার্টার। জুলাই সনদকে সামনে রেখে মানুষের কল্যাণে, যুগোপযোগী, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের জন্য কীভাবে সংশোধনী আনা যায়, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করে ও জণগণের মতামতের ভিত্তিতেই সংসদে বিল আনব।
মো. আসাদুজ্জামান জানান, রায় হাতে পাওয়ার পর সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে। সেই কমিটি আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। তবে এ প্রক্রিয়া শেষ হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা সরকারের রাজনৈতিক, নির্বাচনি ও জাতীয় অঙ্গীকার। সে অনুযায়ী আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে।
আইনমন্ত্রী জানান, রায়ে শুধু তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট নয়, মোট ৫৪টি বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। সরকার সবগুলো বিষয়ই পর্যালোচনা করবে এবং জুলাই সনদকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক পদক্ষেপ নেবে।
তিনি বলেন, সংসদ যে আইন প্রণয়ন করতে পারে, একইভাবে সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে সেই আইন বাতিল করারও ক্ষমতা রাখে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের রায়, জুলাই সনদ ও জনআকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, হাইকোর্টের রায় অনুসারে যখন আমরা সংশোধনীগুলো আনব, হাইকোর্টের রায় আমার সামনে থাকবে। যে যে জায়গায় সংস্কার, সংযোজন, সংশোধন, পরিবর্তন বা পরিমার্জন দরকার, সব জায়গায় আমরা রায় ও জুলাই সনদকে সামনে রেখে জনআকাঙ্ক্ষা পূরণ করে জণগণের মতামতের ভিত্তিতেই দিয়ে আইন পাস করার চেষ্টা করব।
আইনমন্ত্রী জানান, সুপ্রিম কোর্ট সম্পর্কিত যেকোনো পরিবর্তনের বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সরকার কোনোভাবেই সুপ্রিম কোর্টের রায় উপেক্ষা করবে না।
তিনি জানান, যেসব আইন ব্যাপকভাবে জনগণকে প্রভাবিত করবে, সেগুলো প্রণয়নের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে। এজন্য খসড়া আইন প্রকাশ করে নাগরিক সমাজ, বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, ভুক্তভোগী, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক জনপরামর্শ করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, জনপরামর্শের প্রক্রিয়া শেষ করে মানবাধিকার কমিশন আইন আগামী সংসদ অধিবেশনেই উত্থাপনের চেষ্টা করা হবে।
১৪ ঘণ্টা আগে
হাইকোর্টের রায় বহাল, সংবিধানে ফিরল গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশকিছু বিষয় পরিবর্তন করে আনা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের অধিকার ফিরেছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
নির্ধারিত দিনে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ৪ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
শুনানির পরপরই অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, চার সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেছেন। সেই রায়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বদরুদ্দুজা মজুমদার সাহেবসহ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে যে আপিল করা হয়েছিল, সেগুলো ডিসমিস করে দিয়েছেন। অর্থাৎ হাইকোর্টের রায়টি বহাল থাকল।
তিনি বলেন, এর অর্থ হচ্ছে, হাইকোর্ট বিভাগ পঞ্চদশ সংশোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের যে প্রক্রিয়া করা হয়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে যখন এই সংশোধনীটা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়, হাইকোর্ট ডিভিশন চারটি বিষয়ের ওপর তার অবজারভেশন দিয়েছিল। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে ফিরে আসা।
গণভোট ফিরে আসা এবং সংবিধানের ৭-এর ক, খ এবং সুপ্রিম কোর্টের রিটের যে ক্ষমতা, সেই সম্পর্কে তো আল্টিমেটলি এই রায়ের ফলে হাইকোর্টের যে রায় সেই রায়টি বহাল থাকল। অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে আসলো আর বাকিগুলো এখন সংসদে পরে যেটা হাইকোর্ট ছেড়ে দিয়েছিল সেটা আল্টিমেটলি সংসদে সিদ্ধান্ত হবে।
এর আগে, বুধবার (৮ জুলাই) তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি শেষ হয়। টানা তিন দিন শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৯ জুলাই দিন ধার্য করা হয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটের পক্ষে ছিলেন ড. শরীফ ভূঁইয়া। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
গত বছরের ১৩ নভেম্বর বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন সর্বোচ্চ আদালত।
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।
তার আগে, গত ৩ নভেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করা হয়। আপিলে পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরোটা বাতিল চাওয়া হয়েছে।
রিটকারী সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া এ আপিল করেন।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধান ফিরিয়ে আনেন উচ্চ আদালত। তবে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোটা বাতিল করা হয়নি ওই রায়ে।
আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, গণতন্ত্র হচ্ছে আমাদের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ। এই গণতন্ত্র বিকশিত হয় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপক্ষে এবং প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার কোনো প্রতিফলন হয়নি। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের আত্মবিশ্বাস জনগণের মধ্যে জন্ম নেয়নি। যার ফলশ্রুতিতে হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান।
রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে।
বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে এ রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে আদালত বলেন, অনুচ্ছেদ দুটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে ধ্বংস করেছে, যেটি হচ্ছে গণতন্ত্র। পঞ্চদশ সংশোধনী মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ ক, ৭ খ, ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করেছেন আদালত। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল।
রায়ে আদালত বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পুরোটা বাতিল করা হচ্ছে না। বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে আগামী জাতীয় সংসদ আইন অনুসারে জনগণের মতামত নিয়ে সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করতে পারবে। এর মধ্যে জাতির পিতার স্বীকৃতির বিষয়, ২৬ মার্চের ভাষণের বিষয়গুলো রয়েছে।
গণভোটের বিষয়ে রায়ে হাইকোর্ট বলেন, গণভোটের বিধান বিলুপ্ত করা হয়, যেটি সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অংশ ছিল। এ বিধান বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৪৭ ধারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় বাতিল ঘোষণা করা হলো। ফলে দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হলো।
হাইকোর্টের রায়ে ৭ ক, ৭ খ এবং ৪৪ (২) অনুচ্ছেদও বাতিল করা হয়েছে। ৭ ক অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ এবং ৭ খ সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য করার কথা বলা ছিল। এদিকে ৪৪ অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ বিষয়ে বলা আছে। এই অনুচ্ছেদের ২ ধারা বলছে, এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটিয়ে সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোনো আদালতকে তার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে ওইসব বা এর যেকোনো ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দান করতে পারবেন। এই অনুচ্ছেদটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে রায়ে।
গত বছরের ১৯ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।
১৬ ঘণ্টা আগে
প্রসূতির ছুটি সীমিত করার বিধান কেন অসাংবিধানিক নয়, জানতে চেয়ে হাইকোর্টের রুল
কর্মক্ষেত্রে কোনো নারী কর্মীকে চাকরিজীবনে দুবারের বেশি মাতৃত্বকালীন ছুটি না দেওয়া এবং কোনো প্রতিষ্ঠানে ছয় মাস চাকরি না করলে মাতৃত্বকালীন ছুটি না দেওয়ার বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (২৯ জুন) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
রুলে শ্রম আইনের ৪৬(১) ও ৪৬(২) ধারা এবং বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের (বিএসআর) ১৯৭(১) ও ১৯৭(১এ) বিধি কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের সব কর্মজীবী নারীর জন্য সমান মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা ও সুবিধা নিশ্চিত করতে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং এ বিষয়ে একটি অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, নারী ও শিশুবিষয়ক সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব ও স্বাস্থ্যসচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে, গত ১৫ জুন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান ২০০৬ সালের শ্রম আইনের প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা প্রাপ্তির অধিকার ও প্রদানের দায়িত্বসংক্রান্ত ৪৬ ধারা এবং বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের (বিএসআর) প্রসূতি ছুটিসংক্রান্ত ১৯৭ বিধির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদনটি দায়ের করেন।
রিটে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের ১৯৭ বিধি অনুযায়ী একজন নারী কর্মচারী পুরো চাকরিজীবনে দুবারের বেশি প্রসূতি ছুটি পাবেন না। অন্যদিকে, শ্রম আইনের ৪৬(১) ধারা অনুযায়ী কোনো নারী কর্মী কোনো প্রতিষ্ঠানে টানা অন্তত ৬ মাস চাকরি না করলে তিনি প্রসূতি ছুটির সুবিধা পাবেন না।
এছাড়া শ্রম আইনের ৪৬(২) ধারা অনুযায়ী, কোনো নারী কর্মীর প্রসবের সময় যদি দুই বা ততোধিক সন্তান জীবিত থাকে, তাহলে তিনি ছয় মাসের বেশি চাকরি করলেও প্রসূতি ছুটি পাবেন না।
রিট দায়েরের পর আইনজীবী ইশরাত হাসান সাংবাদিকদের বলেন, এসব বিধানের মূল বিষয় হলো—তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে প্রসূতি ছুটি দেওয়া হয় না। এমনকি শ্রম আইনের বিধান অনুযায়ী ছয় মাসের কম চাকরি করলে প্রথম বা দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রেও কোনো নারী কর্মী মাতৃত্বকালীন ছুটি থেকে বঞ্চিত হন, যা অমানবিক।
তিনি বলেন, ‘প্রথম, দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে একজন নারীর প্রসবজনিত শারীরিক ঝুঁকি, চিকিৎসা, বিশ্রাম এবং নবজাতকের যত্নের প্রয়োজনীয়তা একই। ফলে শুধু সন্তানের সংখ্যার ভিত্তিতে প্রসূতিকালীন ছুটি বা সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা বৈষম্যমূলক, অযৌক্তিক এবং সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’
রবিবার রিটের ওপর শুনানি শেষে আদালত সোমবার আদেশের দিন নির্ধারণ করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দীন মো. হানিফ।
১০ দিন আগে
বেওয়ারিশ কুকুর অপসারণের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল
রাজধানীতে বেওয়ারিশ কুকুর অপসারণ ও স্থানান্তরের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ঢাকাসহ দেশব্যাপী পথকুকুর ব্যবস্থাপনায় সিএনভিআর (ধরা-বন্ধ্যাকরণ-টিকাদান-ছেড়ে দেওয়া) ও গণটিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (২১ জুন) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. তৌফিকুল ইসলাম খান।
এর আগে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বিভিন্ন এলাকা থেকে বেওয়ারিশ কুকুর অপসারণ ও স্থানান্তরের কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জ করে ‘এএলবি অ্যানিমেল শেল্টার’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দীপান্বিতা হৃদি হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এই কমিটিকে ডিএসসিসি এলাকায় পথকুকুরের জন্য ‘ম্যাস ডগ ভ্যাক্সিনেশন’ (এমডিভি) এবং সিএনভিআর কর্মসূচির সম্ভাব্যতা নিরূপণ করে তা বাস্তবায়ন শুরু করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মসূচির নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রুলে স্থানীয় সরকার বিভাগের ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের পরিপত্র এবং প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘন করে বেওয়ারিশ কুকুর অপসারণের কার্যক্রম কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।
আদেশের পর রিটকারী দীপান্বিতা হৃদি বলেন, ‘এটি শুধু প্রাণিকল্যাণ আন্দোলনের জন্য নয়, আইনের শাসন, জনস্বাস্থ্য এবং মানবিক মূল্যবোধের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। আদালতের এই আদেশ স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিয়েছে যে কমিউনিটি কুকুর ব্যবস্থাপনার গ্রহণযোগ্য সমাধান হত্যা নয়, বরং টিকাদান, বন্ধ্যাকরণ এবং মানবিক ব্যবস্থাপনা। যদিও বর্তমান মামলাটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে কেন্দ্র করে, সিএনভিআর এবং গণ-কুকুর টিকাদান কর্মসূচি শুধু ডিএসসিসির জন্য নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন এবং তা দেশব্যাপী বাস্তবায়ন করা উচিত।’
এই রিট আদেশের এক দিন আগে গতকাল (২০ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে পথকুকুর নিধন বন্ধ ও প্রাণী কল্যাণ আইন বাস্তবায়নের দাবিতে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। গ্রিট ফাউন্ডেশনের পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিন টুম্পাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা এতে অংশ নিয়ে সিএনভিআর কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছিলেন।
আজ আদালতের আদেশের পর নিলুফার ইয়াসমিন টুম্পা বলেন, ‘গতকালের মানববন্ধনে আমরা যে দাবিগুলো তুলেছিলাম, আজকের আদালতের নির্দেশনা সেগুলোর গুরুত্বকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সিএনভিআর ও গণটিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’
সংশ্লিষ্টদের মতে, আদালতের এই আদেশ বাংলাদেশে প্রাণিকল্যাণ, জনস্বাস্থ্য এবং মানুষ-পথপ্রাণীর নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
১৮ দিন আগে
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট
রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।
সোমবার (১৫ জুন) সুপ্রিম কোর্টে অ্যাডভোকেট ইউনূছ আলী আকন্দ রিটটি দায়ের করেন।
আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, এই রিট দায়েরের সঙ্গে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পর্ক নেই।
এর আগে, গত ১১ জুন রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে সরকার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হাসপাতালটি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবে।
গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়। মৃত নবজাতকদের বয়স ছিল এক থেকে তিন দিন।
সদ্যজাত এসব শিশুর নামও রাখা হয়নি। ফলে, মৃত শিশুদের তাদের মায়ের নামে চিহ্নিত করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর অভিযোগ এনে রমনা থানায় মামলা করেন মৃত এক নবজাতকের বাবা হাবিবুর রহমান।
ঘটনা তদন্তে দ্রুত ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ৩০ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, তদন্ত কমিটি ৩ জুন পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেবে।
ঘটনা তদন্তে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও। তারা এই তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশের ঘোষণাও দিয়েছিল। পরে তারা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে জানায়, প্রতিবেদনটি প্রকাশ না করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে।
২৪ দিন আগে
রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল-স্বপ্নার আপিল শুনানি গ্রহণ
রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট।
রবিবার (১৪ জুন) বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
গত বৃহস্পতিবার কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জেল আপিল করেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার।
এর আগে, গত ৯ জুন রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড (ডেথ রেফারেন্স) অনুমোদনের নথি হাইকোর্টে আসে।
দুই আসামির ফাঁসির রায়ে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন স্বাক্ষরের পর ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ফৌজদারি কোনো মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে, যা ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) মামলা হিসেবে পরিচিত।
রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গত রবিবার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, আর স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড ভুক্তভোগী রামিসার আইনগত উত্তরাধিকার পাবে। ক্ষতিপূরণ না দিলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে নিহত রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এর আগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতাধীন ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও অন্যান্য মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ১০ জুন হাইকোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত ওই বেঞ্চ ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে।
২৫ দিন আগে
বিসিবি নির্বাচন বাতিলের রিট খারিজ, নির্ধারিত সময়েই হবে ভোট
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালনা পরিষদ নির্বাচন-২০২৬-এর তফসিল ঘোষণা ও ভোটার তালিকা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে আগামী ৭ জুন নির্ধারিত বিসিবি নির্বাচন অনুষ্ঠানে আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না বলে জানিয়েছেন বিসিবির আইনজীবী। বিসিবির সাবেক ৬ জন কাউন্সিলর এ রিট দায়ের করেছিলেন।
বুধবার (৩ জুন) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
বিসিবির আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান জানান, পূর্বর্ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ পর্যন্ত বিসিবির বোর্ড সংক্রান্ত চারটি রিট হাইকোর্ট খারিজ করে দিয়েছেন।
বিসিবির আইনজীবী আরও বলেন, একের পর এক রিট করে আইসিসির কাছে ক্রিকেটের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিসিবির সার্বিক পরিস্থিতি জানতে, দুবাই থেকে আইসিসির দুই জন প্রতিনিধি ঢাকায় অবস্থান করছেন। তাদেরও ক্রিকেট বোর্ডের সার্বিক পরিস্থিতি জানানো হয়েছে।
গত ১৬ মে এক বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি পরিচালনা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে হাইকোর্টের গঠিত নির্বাচন কমিশনার।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৭ জুন পরিচালনা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সেদিনই ফলাফল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনে সরাসরি ভোটে ২৩ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। পাশাপাশি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মনোনয়নে আরও দুজন পরিচালক হবেন। ২৫ জন পরিচালকের ভোটে একজন সভাপতি নির্বাচিত হবেন।
৩৬ দিন আগে
অধস্তন আদালতের পৃথক সচিবালয় স্থাপন-সংক্রান্ত রায়ের বিরুদ্ধে আপিল, শুনানি ৯ জুন
অধস্তন আদালতের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এই আপিলের ওপর শুনানির জন্য আগামী ৯ জুন দিন ধার্য করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। দুপুরের পর আপিল আবেদনটি আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালতে শুনানির জন্য উত্থাপন করা হয়।
আদালত অবেদনটি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়েছেন। একইসঙ্গে শুনানির জন্য ৯ জুন দিন ধার্য করেছেন। তবে হাইকোর্টের রায়ের ওপর কোনো স্থগিতাদেশ দেননি আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক।
এর আগে, গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রায়টি দেন।
রায়ে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের সেই বিধান বাতিল ঘোষণা করা হয়, যেখানে অধস্তন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ, পদায়ন, পদোন্নতি, ছুটি ও শৃঙ্খলা বিধানের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত রয়েছে। একইসঙ্গে এসব বিষয়ে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া অধস্তন আদালত নিয়ন্ত্রণের জন্য তিন মাসের মধ্যে একটি পৃথক সচিবালয় স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালাও বাতিল ঘোষণা করা হয়।
গত ৭ এপ্রিল এ রায়ের ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেন উচ্চ আদালত।
আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের ৭ জন আইনজীবী সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ ও ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন। একইসঙ্গে, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চাওয়া হয়। পরে একই বছরের ২৭ অক্টোবর এ বিষয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
বর্তমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচার বিভাগে নিয়োজিত ব্যক্তি ও বিচারিক দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ, পদায়ন, পদোন্নতি, ছুটি ও শৃঙ্খলা বিধানের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত। তবে রাষ্ট্রপতি এ ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রয়োগ করেন।
রিটকারীদের দাবি, এ ব্যবস্থায় নির্বাহী বিভাগের প্রভাব থেকে যায় যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পরিপন্থি। তাদের মতে, ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে এসব ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল।
পরে ১৯৭৪ সালের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এসব ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ‘সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তা প্রযুক্ত হইবে’ বাক্যাংশ যুক্ত করা হয়।
এরপর আপিল বিভাগ পঞ্চম সংশোধনী অসাংবিধানিক ঘোষণা করলে ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদের বর্তমান বিধান প্রতিস্থাপন করা হয়, যা এখনও কার্যকর রয়েছে।
৪৯ দিন আগে
ফুটপাতে হকারদের জায়গা বরাদ্দের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রুল
রাজধানী ঢাকার রাস্তা ও ফুটপাতে হকারদের জন্য জায়গা বরাদ্দ দেওয়া কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
রুলে স্থানীয় সরকার সচিব, আইন সচিব এবং ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে ‘ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬’ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট মো. শোয়েবুজ্জামান।
গত ৫ মে যানজট নিরসন এবং ফুটপাতে পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সরকার ‘ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬’ প্রণয়ন ও জারি করে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রণীত এ নীতিমালার মূল লক্ষ্য হিসেবে হকারদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির কথা বলা হয়। নীতিমালায় ঢাকার ফুটপাতে হকারদের ব্যবসা পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট স্থান ও ফুটপাত বরাদ্দের নিয়ম নির্ধারণ করা হয়।
৫১ দিন আগে
সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেপ্তার-হয়রানি না করতে হাইকোর্টের নির্দেশ
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে আসামি হিসেবে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রবিবার (১৭ মে) বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী, সাঈদ আহমেদ রাজা, মুস্তাফিজুর রহমান ও মোনায়েম নবী শাহীন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ে সংঘটিত দুটি হত্যা মামলায় ১২ মে বিচারপতি খায়রুল হক হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। আদেশের পর তার আইনজীবীরা জানান, সব মামলায় জামিন হওয়ায় আপাতত তার কারামুক্তিতে আইনি বাধা নেই।
তবে এরই মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে বুধবার আপিল বিভাগে আবেদন করেছে।
এর আগে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত রায় জালিয়াতি এবং দুদকের করা পাঁচ মামলায় ২৮ এপ্রিল বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।
তারও আগে ৮ মার্চ হাইকোর্ট জামিনের বিষয়ে রুল মঞ্জুর করে চার মামলায় তাকে জামিন দেন। পরে ১১ মার্চ দুদকের মামলায়ও তিনি জামিন পান। এ জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করলেও তা খারিজ করে দেন আদালত।
এরপর যাত্রাবাড়ী থানায় আরিফ হত্যা এবং আদাবর থানায় রুবেল হত্যা মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। পরে ১২ মে ওই দুই মামলায় তিনি জামিন পান। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে মোট সাতটি মামলা রয়েছে।
গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমণ্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
৫৩ দিন আগে