বাকৃবি
বাকৃবির ৪ হলে দুই দফা সংঘর্ষ, তদন্তে ২ কমিটি গঠন
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ৪ আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। ঘটনাগুলোর তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
রবিবার (২ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাত পর্যন্ত পৃথক দুই ঘটনায় হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা ভাসানী, আশরাফুল হক হল ও শহিদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রথমে রাত সাড়ে ৯টার দিকে হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। এরপর প্রক্টোরিয়াল টিমের উপস্থিতিতে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঝামেলার মীমাংসা হয়। তবে এর কিছুক্ষণ পরই রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফসিল মোড় এলাকায় একটি চায়ের দোকানে আশরাফুল হক হল ও শহিদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়।
এ ঘটনায় নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানানোয় তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী হল সূত্রে জানা যায়, গতকাল (রবিবার) রাতে আব্দুল জব্বার মোড় এলাকায় সোহরাওয়ার্দী হলের এক শিক্ষার্থীকে মাওলানা ভাসানী হলের ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি জব্বার মোড় দিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন আমাকে পেছন থেকে টেনে ধরে। আমি জিজ্ঞেস করি, ‘কী হয়েছে?’ তখন তারা আমাকে উসকানিমূলক কথা বলতে শুরু করে। এরপর তারা আমাকে মারধর করে। তারা এমনভাবে মারছিল যে আমি ভেবেছিলাম, হয়তো বাঁচব না। কোনো রকমে সেখান থেকে পালিয়ে এসে প্রাণে বাঁচি। তারা আমার চশমা ভেঙে ফেলে এবং মানিব্যাগও নিয়ে যায়। এর আগে একটি হোটেলে গিয়ে খাওয়ার সময় হামলাকারীদের কয়েকজনকে আমাকে শনাক্ত করতে দেখেছি।’
ঘটনার পরপরই সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থীরা বিচার দাবিতে একত্র হন। হলের শিক্ষার্থী মিজু বলেন, ‘আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। আগের দিনের ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় আজ আবার এমন হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসন যদি এখনই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করে, তাহলে ভবিষ্যতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অস্থিতিশীল থাকবে। আমরা চাই, প্রশাসন দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক।’
এ বিষয়ে মাওলানা ভাসানী হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘ওরা যা করছে সেটি অন্যায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত এটার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া। গত রাতে যা হয়েছে, এই মারামারিতে উভয় পক্ষেরই দায় আছে।’
অন্যদিকে, একই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফসিল মোড় এলাকায় শহিদ শামসুল হক হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় চায়ের দোকানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। পরে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। সে সময় উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীরা অন্য হলের গেট ও আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আশরাফুল হক হলের এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা ব্যাচমেট ও জুনিয়রসহ সাতজন শিক্ষার্থী ফসিল এলাকায় চায়ের দোকানে বসে থাকাকালে শামসুল হক হলের প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে গ্লাস, কাপ ও বেঞ্চ দিয়ে মারধর করেন। হামলাকারীরা আমাদের গালিগালাজ করে শামসুল হক হলের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করে।’
অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহিদ শামসুল হক হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘পূর্ববর্তী বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যেই উত্তেজনা তৈরি হয় এবং ফসিল এলাকায় হাতাহাতির পর ভুল তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীরা শামসুল হক হলের গেটে গিয়ে ভাঙচুর চালান।’
এছাড়া শিক্ষার্থীরা এই সংঘর্ষে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের জন্য বাকৃবির মধ্যে দিয়ে চলে যাওয়া ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথের পাথর সংগ্রহ করেছেন এবং তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনা নষ্ট করাতেও দেখা গেছে। এ বিষয়টিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে রাষ্ট্রের সম্পদ নষ্ট করা হিসেবে অভিযোগ তুলেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, ‘আজ উপাচার্যের নেতৃত্বে প্রোভোস্ট কাউন্সিল, প্রক্টোরিয়াল বডি ও অ্যাডভাইজরি বডির সদস্যদের নিয়ে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক সংঘর্ষের ঘটনাগুলো নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন হল থেকে পাওয়া কাগজপত্র, আমাদের পর্যবেক্ষণ ও ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে যারা দোষী বলে প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এ বিষয়ে সুস্পষ্ট অর্ডিন্যান্স রয়েছে এবং সেই অর্ডিন্যান্স অনুসারেই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
বাকৃবির ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল হক বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনাগুলো তদন্তসাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে আমরা ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটিগুলো ঘটনাগুলোর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেই হোক না কেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতি ও আহতদের চিকিৎসাসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে একটি সভা শেষ করেছি এবং আশা করছি খুব দ্রুতই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার তদন্তে সোহরাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের মধ্যকার ঘটনায় একটি ও শহিদ শামসুল হক হল ও আশরাফুল হক হলের মধ্যকার ঘটনায় আরেকটি কমিটি কাজ করবে। এই দুই কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে বিষয়েও আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছি। আশা করছি, আজকের মধ্যেই এর দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে।
উল্লেখ্য, এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে প্রথম বর্ষের দুই শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে আশরাফুল হক হল ও শহিদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় অন্তত ১৩ জন শিক্ষার্থী আহত হন। পরে আবারও শনিবার রাতে অনলাইনে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ৪ জন শিক্ষার্থী আহত হন।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে চারটি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
১৩ দিন আগে
বাকৃবিতে দুই হলের সংঘর্ষে ৪ শিক্ষার্থী আহত
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অনুষদের মেসেঞ্জার গ্রুপে কথা কাটাকাটির জেরে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় অন্তত চার শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
শনিবার (১ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাতে ওই দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কৃষি অনুষদের প্রথম বর্ষের (ব্যাচ-৬৫) শিক্ষার্থীদের মেসেঞ্জার গ্রুপে তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে ব্যক্তিগত বিরোধ দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, কৃষি অনুষদের সেকশন ‘এ’-এর ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ (সিআর) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মেসেঞ্জার গ্রুপে একটি মিম পোস্ট দেওয়াকে ঘিরে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ওই পোস্টের প্রতিবাদ জানিয়ে একজন শিক্ষার্থী অফিশিয়াল গ্রুপে এ ধরনের বার্তা না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে পাঠানোর পরামর্শ দিলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সেই বিরোধ দুই আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীরা সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেন। পরে সোহরাওয়ার্দী হলের একদল শিক্ষার্থী ভাসানী হলে গিয়ে ভাঙচুর চালান। এতে ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষে অন্তত চার শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে একজনের মাথায় আঘাত লাগে এবং অন্যদের হাত-পায়ে জখম হয়।
খবর পেয়ে রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাদের হস্তক্ষেপে উভয়পক্ষ নিজ নিজ হলে ফিরে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আমিনুল মতিন বলেন, খুব বেশি শিক্ষার্থী আহত হননি; তিন থেকে চারজন আহত হয়েছেন। তারা সবাই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। কাউকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজন হয়নি।
তিনি আরও জানান, আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থী। সোহরাওয়ার্দী হলের আহতের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মাহবুবুল প্রতীক সিদ্দিক বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনার পর সবাই নিজ নিজ হলে ফিরে গেছে। রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, এক হলের শিক্ষার্থীরা অন্য হলে ভাঙচুর করেছে। পরে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
১৪ দিন আগে
ব্রুসেলোসিসে কমছে গাভীর দুধ, বছরে আড়াই কোটি টাকার ক্ষতি: বাকৃবির গবেষণা
বাংলাদেশের দুগ্ধ খাতে ব্রুসেলোসিস একটি নীরব কিন্তু বড় অর্থনৈতিক হুমকি হয়ে উঠেছে। এ রোগে আক্রান্ত দুগ্ধবতী গাভীর দৈনিক গড়ে প্রায় এক লিটার দুধ উৎপাদন কমে যায়। প্রায় ২ হাজার ৭০০ গাভীর ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, এ কারণে খামারিরা প্রতিবছর প্রায় আড়াই কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক দুই বছর ধরে পরচালিত গবেষণায় এ তথ্য পেয়েছেন।
সরকারের লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এলডিডিপি)-এর অর্থায়নে এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় পরিচালিত গবেষণাটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী অ্যানিমেল ডিজিজ-এ প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষক দল ইউএনবিকে জানান, খামারিরা সাধারণত গাভীর গর্ভপাত হলেই ব্রুসেলোসিসের কথা ভাবেন। কিন্তু লক্ষণহীন সুপ্ত সংক্রমণেও গাভীপ্রতি দৈনিক গড়ে প্রায় আধা লিটার এবং সক্রিয় সংক্রমণে প্রায় এক লিটার বা তারও বেশি দুধ উৎপাদন কমে যায়। ফলে খামারিরা না বুঝেই প্রতিদিন বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
গবেষকরা পরামর্শ দেন, খামারে গর্ভপাত, গর্ভফুল আটকে যাওয়া, গাভী গরম না হওয়া বা বারবার প্রজননে ব্যর্থতার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করানো উচিত।
গবেষণার নেতৃত্ব দেন বাকৃবির মেডিসিন বিভাগের ল্যাবরেটরি অব এপিডেমিওলজি অ্যান্ড প্রিভেন্টিভ মেডিসিনের অধ্যাপক ড. এ কে এম আনিসুর রহমান। গবেষক দলে ছিলেন একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান, অধ্যাপক ড. এম আরিফুল ইসলাম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও পিএইচডি গবেষক ডা. মো. শফিউল আলম, মাস্টার্স শিক্ষার্থী মো. নাজমুল ইসলাম লিজান, বিশ্ব জ্যোতি অধিকারী, শান্তা ইসলাম, আর এস মাহমুদ হাসান এবং মিল্কভিটার ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ও পিএইচডি গবেষক মুহাম্মদ আকতারুজ্জামান।
অধ্যাপক ড. এ কে এম আনিসুর রহমান বলেন, সক্রিয় ব্রুসেলোসিসে আক্রান্ত একটি গাভী সুস্থ গাভীর তুলনায় দৈনিক গড়ে ১ দশমিক ০১ লিটার এবং সুপ্ত সংক্রমণে আক্রান্ত গাভী ০ দশমিক ৫৩ লিটার কম দুধ দেয়।
গবেষণা পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি জানান, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের প্রধান দুধ উৎপাদনকারী অঞ্চলের ১৭টি বড় বাণিজ্যিক খামারের ২ হাজার ৬৯৬টি দুগ্ধবতী গাভীর তথ্য ও দুধের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আধুনিক ল্যাব পরীক্ষার পাশাপাশি ‘বায়েসিয়ান মিক্সড-ইফেক্টস মাল্টিনোমিয়াল রিগ্রেশন’ পদ্ধতি ব্যবহার করে গাভীগুলোকে সুস্থ, সুপ্ত সংক্রমণ এবং সক্রিয় ব্রুসেলোসিসে আক্রান্ত—এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
তিনি বলেন, সাধারণত ব্রুসেলোসিসকে শুধু ‘সুস্থ’ বা ‘আক্রান্ত’—এই দুইভাবে বিবেচনা করা হলেও এ গবেষণায় প্রথমবারের মতো সুপ্ত সংক্রমণকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাইরে থেকে সুস্থ মনে হলেও এ ধরনের গাভীর দুধ উৎপাদন কমে যায় এবং পরবর্তীতে রোগটি সক্রিয় হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
রোগ শনাক্তে ব্যবহৃত আধুনিক গাণিতিক বিশ্লেষণে বাকৃবির গবেষকদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছেন গ্রিসের থেসালি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ লেফটেরিস মেলেটিস ও পলিক্রোনিস কস্তুলাস।
গবেষণার অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বড় বাণিজ্যিক ডেইরি খামারগুলোতে শুধু ব্রুসেলোসিসের কারণে বছরে গড়ে প্রায় ২ কোটি ৪১ লাখ টাকার ক্ষতি হতে পারে, যার বড় অংশই দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে হয়।
ক্ষতি কমানোর উপায় নিয়ে অধ্যাপক আনিসুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে পরিকল্পিত গণটিকাদানকে সবচেয়ে লাভজনক পদ্ধতি হিসেবে পাওয়া গেছে। এতে প্রতি ১ টাকা বিনিয়োগে গড়ে ৮ টাকা ১৪ পয়সা পর্যন্ত ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। তবে আক্রান্ত গরু শনাক্ত করে খামার থেকে বাদ দেওয়ার পদ্ধতি সরকারি ভর্তুকি ছাড়া সাধারণ খামারিদের জন্য ব্যয়বহুল।
গবেষক দলের সদস্য ও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শফিউল আলম বলেন, ব্রুসেলোসিস মানুষের জন্যও একটি বিপজ্জনক জুনোটিক রোগ। আক্রান্ত গরুর কাঁচা দুধ পান করা বা সংক্রমিত প্রাণীর সংস্পর্শে এলে মানুষও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে ব্রুসেলোসিস নিয়ন্ত্রণে উচ্চ ঝুঁকির গাভী দ্রুত শনাক্তকরণ, নিয়মিত রোগ নজরদারি, প্রজননস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং বড় খামারের পাশাপাশি ছোট খামারগুলোতেও এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
২১ দিন আগে
পশু ক্রয় থেকে মাংস সংরক্ষণ, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণের আহ্বান বাকৃবির বিশেষজ্ঞদের
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর হাটে ভিড় বাড়ছে। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী স্টেরয়েড, গ্রোথ হরমোন ও ক্ষতিকর ওষুধ দিয়ে কৃত্রিমভাবে পশু মোটাতাজা করছেন। পাশাপাশি কোরবানির হাট থেকে অ্যানথ্রাক্সসহ প্রাণঘাতী রোগ ছড়ানোর ঝুঁকিও রয়েছে। আবার কুরবানির পর সঠিকভাবে সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে মাংসের গুণগত মান। এসব বিষয়ে নিয়েই ইউএনবির বাকৃবি প্রতিনিধির কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত জানিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) তিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক।
কৃত্রিম মোটাতাজা করা গবাদিপশু চেনার উপায়
বাকৃবির ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলম মিয়া জানান, কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরুর নাক শুকনো থাকে, শরীর থলথলে হয় এবং দেহে অতিরিক্ত পানি জমে।
তিনি জানান, এসব গরু অল্প হাঁটলেই হাঁপিয়ে যায়, দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হয় এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বেশি থাকে। আঙুল দিয়ে চাপ দিলে শরীর দেবে যায় এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগে। রানের মাংস অস্বাভাবিক নরম হয় এবং হাড় তুলনামূলক দুর্বল থাকায় দুর্ঘটনায় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ড. মোহাম্মদ আলম আরও জানান, এসব গরুর খাওয়ার আগ্রহ কম, জাবর কাটে না এবং মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা বা ফেনা বের হয়। দীর্ঘ পথ হেঁটে হাটে আসার পর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং বসে গেলে সহজে উঠতে চায় না।
প্রাকৃতিক উপায়েও গরু মোটাতাজা করা যায় জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক উপায়ে ২ থেকে ৪ বছর বয়সী সুস্থ গরু বেছে নিয়ে সুষম খাদ্য, নিয়মিত কৃমিনাশক প্রয়োগ, ভিটামিন-মিনারেল প্রিমিক্স ব্যবহার এবং পরিষ্কার পরিবেশ নিশ্চিত করলে ৩ থেকে ৬ মাসেই গরু ভালোভাবে মোটাতাজা করা সম্ভব।
পশু কেনার সময় শুধু আকার নয়, আচরণ, শ্বাস-প্রশ্বাস, নাকের অবস্থা ও চলাফেরা পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন তিনি। সন্দেহ হলে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বা ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত বলেও জানান তিনি।
পশুরহাটে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি
বাকৃবির মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আমিমুল এহসান জানান, সম্প্রতি রংপুর ও গাইবান্ধায় অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে এবং মানুষের মধ্যে চামড়ায় ক্ষত ও চোখ ফোলার মতো উপসর্গ দেখা গেছে। আক্রান্ত পশুর রক্ত, মাংস বা দেহের যেকোনো অংশের সংস্পর্শে এলে এ রোগ মানুষের শরীরেও ছড়াতে পারে। নিয়মিত টিকাদান এবং হাটের প্রবেশপথে বিশেষজ্ঞ দল দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা গেলে এ ঝুঁকি অনেকটা কমানো সম্ভব বলে জানান তিনি।
অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত পশু সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, পশু অনেক সময় লক্ষণ প্রকাশের আগেই মারা যায়। লক্ষণ দেখা দিলে পশুর তাপমাত্রা ১০৪ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। মৃত্যুর পর নাক, মুখ ও পায়ুপথ দিয়ে আলকাতরার মতো কালো রক্ত বের হয় যা বাতাসের সংস্পর্শে স্পোর তৈরি করে দীর্ঘদিন সংক্রমণ ছড়াতে পারে। জীবিত পশুর ক্ষেত্রে জিহ্বা, নাক বা গলায় কালচে দাগ ও ফোসকা এবং অস্বাভাবিক উত্তেজনা বা অতিরিক্ত শান্তভাব লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে।
খুরা রোগকেও চিন্তার কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি বাতাসের মাধ্যমে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়াতে পারে এবং কোরবানির সময় মহামারি আকার নিতে পারে। দিনাজপুর বা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আনা একটি আক্রান্ত গরু পুরো পথজুড়ে এবং হাটের আশপাশের সব গরুর মধ্যে জীবাণু ছড়িয়ে দিতে পারে।
কোরবানির পর অবিক্রিত পশু হাট থেকে আক্রান্ত হয়ে নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে সুস্থ পশুকেও সংক্রমিত করতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। অসুস্থ পশু চিকিৎসা করে সুস্থ না করে হাটে আনা উচিত নয় বলে খামারিদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
অধ্যাপক আমিমুল এহসান আরও বলেন, হাটে যাওয়ার সময় শরীরে কোনো ক্ষত বা কাটা থাকলে ঢেকে যাওয়া জরুরি কারণ ক্ষতস্থান দিয়ে অ্যানথ্রাক্স বা টিটেনাসের জীবাণু সহজেই প্রবেশ করতে পারে। পশুর সংস্পর্শে আসার পর সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত-পা পরিষ্কার করা এবং হাটের বর্জ্য ও রক্ত যত্রতত্র না ফেলা নিশ্চিত করতে হবে বলেও জানান তিনি।
ভালো গরু চেনা ও মাংস সংরক্ষণ
বাকৃবির অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম আজাদ ইউএনবিকে জানান, ভালো মাংসের গরুর শরীরে মাংসের বিন্যাস সমান ও মসৃণ হবে। রানে অতিরিক্ত মাংস জমা বা আঙুরের থোকার মতো অস্বাভাবিক ক্লাস্টার থাকলে সেই মাংস কম সুস্বাদু হয়। গলার নিচের ঝুলন্ত অংশ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকলে তা শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত।
তিনি বলেন, ৩৫০ কেজির বেশি ওজনের গরুতে চর্বি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। গুণগত মানের মাংসের জন্য ২০০ থেকে ২৫০ কেজি ওজনের দুই দাঁতের দেশি গরু উপযুক্ত বলে তিনি মত দেন। দাঁত দেখতে না পেলে শিংয়ের গোড়া মোটা হলে বুঝতে হবে গরুটি ক্রয়যোগ্য।
মাংস সংরক্ষণ প্রসঙ্গে অধ্যাপক আজাদ বলেন, পশু জবাইয়ের পর মাংস সরাসরি মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ডিপ ফ্রিজে রাখা সঠিক পদ্ধতি নয়। এতে মাংসের স্বাভাবিক বায়োকেমিক্যাল প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থাকে এবং পরে ডিপ ফ্রিজ করার সময় মাইক্রো স্ট্রাকচার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মাংস ছিবড়ে হয়ে যায়।
তিনি বলেন, জবাইয়ের পর মাংসের তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে। এটি ধীরে ধীরে ১০–১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামতে প্রায় ১৬ ঘণ্টা এবং এরপর প্রোটিন ভেঙে অ্যামিনো এসিডে রূপান্তর হতে আরও ৮ ঘণ্টা সময় লাগে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে মাংস থেকে পুরোপুরি পুষ্টি পাওয়া যায় না।
সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি জানান, মাংস ১–২ কেজি করে প্যাকেট করে প্রথমে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সাধারণ ফ্রিজে ২৪–৪৮ ঘণ্টা রাখতে হবে। এই ধাপ সম্পন্ন হলে তারপর ডিপ ফ্রিজে স্থানান্তর করলে মাংস ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত ভালো মানে সংরক্ষণ করা সম্ভব। এছাড়া গরুর মাংসের আসল স্বাদ ও গন্ধ পেতে হলে জবাইয়ের অন্তত তিন দিন পর রান্না করা উচিত বলে জানান এই বিশেষজ্ঞ।
৮৫ দিন আগে
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাকৃবি উপাচার্যের শোক
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ শোক জানানো হয়।
শোকবার্তায় উপাচার্য মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
শোকবার্তায় উপাচার্য বলেন, আজ আমরা একজন সৎ, দৃঢ়চেতা ও দেশের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ আপসহীন নেত্রীকে হারালাম। তিনি দেশের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন তা জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
তিনি আরও বলেন, মহান আল্লাহ তাআলা তার অশেষ রহমতে মরহুমার সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিয়ে তাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের অনন্ত শান্তির আশ্রয় দান করুন, আমিন।
২২৯ দিন আগে
প্রাণিসম্পদ গবেষণায় নতুন যুগ: বাকৃবিতে অত্যাধুনিক জৈবপ্রযুক্তি ল্যাব চালু
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) প্রাণিসম্পদ গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে ইন ভিট্রো ভ্রূণ উৎপাদন, ভ্রূণ কালচার এবং জেনোম এডিটিং সুবিধাসম্পন্ন একটি বিশেষায়িত ও অত্যাধুনিক গবেষণাগার। উচ্চমাত্রার জৈব-নিরাপত্তা নিশ্চিত করে গড়ে তোলা এই গবেষণাগারটি দেশে প্রথম, যেখানে ইন ভিট্রো কালচার ও জেনোম এডিটিং প্রযুক্তি সমন্বিতভাবে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া প্রধান অতিথি হিসেবে গবেষণাগারটির উদ্বোধন করেন।
বাকৃবির পশু প্রজনন ও কৌলিবিজ্ঞান বিভাগের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক গবেষণা উদ্যোগের অংশ হিসেবে ল্যাবটি স্থাপন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় এবং কেজিএফ, বিএএস-ইউএসডিএ ও এটিএফ-হিট প্রকল্পের আর্থিক সহায়তায় আন্তর্জাতিক মান ও জৈব-নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করে গবেষণাগারটির অবকাঠামো ও গবেষণা সুবিধা গড়ে তোলা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, আধুনিক জৈবপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও গবেষণাকে আরও কার্যকর, গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে এই গবেষণাগারটি একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা অবকাঠামো হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। এই ল্যাব থেকে অর্জিত গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও প্রযুক্তি ভবিষ্যতে দেশের প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
২৩১ দিন আগে
কেবি কলেজের শিক্ষকদের আমরণ অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম ফজলুল হক ভূঁইয়ার আশ্বাসে আমরণ অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (কেবি) কলেজের শিক্ষকরা।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেবি কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক বি. এম. আব্দুল্লাহ রনি।
আরও পড়ুন: ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের হামলার প্রতিবাদে চোখে লাল কাপড় বেঁধে বাকৃবি শিক্ষার্থীদের মৌন মিছিল
আব্দুল্লাহ রনি ইউএনবিকে বলেন, অতি দ্রুত বিষয়টি সমাধান করার আশ্বাস দিয়েছেন উপাচার্য। তার আশ্বাসের ভিত্তিতে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এর আগে, কলেজে বোমা হামলার হুমকি, শিক্ষকদের শারীরিক ক্ষতির ভয়ভীতি, হাত-পা ভেঙে ঝুলিয়ে রাখার ভয় এবং বহিরাগত ও অভ্যন্তরীণ নানা ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে গতকাল দুপুর থেকে কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. আতাউর রহমানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আমরণ অনশন কর্মসূচিতে যোগ দেন কলেজের অন্য শিক্ষকরা।
৩৩৬ দিন আগে
বাকৃবি: ২ দাবি মেনে নিল প্রশাসন, আন্দোলন সাময়িক স্থগিত
ছয় দফা দাবি আদায়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দুটি দাবি মেনে নিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) প্রশাসন। বাকি চারটি দাবির বিষয়ে আলোচনা চলমান থাকবে বলে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের আশ্বাসে আপাতত আন্দোলন স্থগিত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলার পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে আলোচনা শেষ হয়। এ সময় বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।
এর আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনার আহ্বান জানানোর পর চলমান ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা।
আলোচনায় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের ছয় দফা দাবির প্রথম দুটি মেনে নেওয়া হয়েছে, বাকি চার দাবি নিয়ে আলোচনা চলবে।
আলোচনা শেষে বাকৃবির ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, শিক্ষার্থীরা এখন থেকেই হলে থাকতে পারবেন। আগামীকাল (আজ বুধবার) সিন্ডিকেট মিটিংয়ের ব্যবস্থা করে বিজ্ঞপ্তি আকারে হল ত্যাগের নির্দেশনা প্রত্যাহার করা হবে। তাছাড়া আগামী সাত দিনের মধ্যে ক্লাস-পরীক্ষা শুরুর ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে কম্বাইন্ড ডিগ্রির বিষয়ে একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তই বলবৎ থাকবে বলে জানান এই শিক্ষক।
আরও পড়ুন: বাকৃবির একাডেমিক কাউন্সিল সভার পরবর্তী ঘটনায় ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
তিনি আরও জানান, বহিরাগতদের হামলায় শিক্ষার্থীরা আহত হওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দেওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের পক্ষে এ এন এম এহসানুল হক হিমেল জানান, কম্বাইন্ড ডিগ্রির বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নি। পরবর্তীতে এই বিষয়ে আরও আলোচনা করা হবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের একক কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবির পক্ষেই আমরা অবস্থান করছি। তবে আগামীকাল আমরা কোনো আন্দোলন কর্মসূচি রাখিনি।’
আন্দোলনরত আরেক শিক্ষার্থী শিবলী জানান, আন্দোলনে যেসব শিক্ষার্থী জড়িত ছিল, তাদের প্রশাসনিক বা অ্যাকাডেমিক কোনো ধরনের হ্যারাসমেন্ট করা হবে না বলে উপাচার্য আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা লিখিত চাইলে উপাচার্য আজকের (বুধবার) মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান বলে উল্লেখ করেন এই শিক্ষার্থী।
৩৪৭ দিন আগে
চবি ও বাকৃবি শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বিক্ষোভ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীদের উপর সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের(জবি) শিক্ষকরা মানববন্ধন করেছেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির (জেএনইউটিএ) ব্যানারে মঙ্গলবার(২ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরাও সংহতি প্রকাশ করেছেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের উপর এই ধরনের হামলা অগ্রহণযোগ্য এবং ক্যাম্পাসে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে। তারা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক বেলাল হোসেন বলেন, ‘সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাজনৈতিক নেতা ও শিক্ষার্থীদের উপর হামলা ৫ আগস্টের পূর্ববর্তী পরিস্থিতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।’
আরও পড়ুন: বাকৃবির আর্থিক লেনদনকারী প্রতিষ্ঠানে তালা ঝোলালেন আন্দোলনকারীরা
অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রইস উদ্দিন বলেন, ‘নুরুল হক নূরের উপর হামলার ঘটনাটি যথাযথভাবে তদন্ত করতে হবে। লাল টি-শার্ট পরা পুলিশ সদস্য, যাকে আক্রমণাত্মক আচরণ করতে দেখা যাচ্ছে, তাকে অবশ্যই চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে, চবি এবং বাকৃবি শিক্ষার্থীদের উপর হামলার অপরাধীদের জবাবদিহি করতে হবে।’
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের দুটি যৌক্তিক দাবি রয়েছে- সরকারকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং আক্রমণকারীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
৩৪৮ দিন আগে
বাকৃবির আর্থিক লেনদনকারী প্রতিষ্ঠানে তালা ঝোলালেন আন্দোলনকারীরা
দিনব্যাপী ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি শুরু করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে অবস্থিত সকল ব্যাংক ও আর্থিক লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার পর শিক্ষার্থীরা প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পাশে অবস্থিত বেসরকারি পূবালী ব্যাংকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর তারা নতুন প্রশাসনিক ভবন ও কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা দেন। তার আগে অবশ্য ভেতরে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের হওয়ার সুযোগ দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
এ সময় ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘প্রশাসনের বিরুদ্ধে আগুন জ্বালো একসাথে’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্র সমাজ জেগেছে’, ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘প্রশাসনের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘টালবাহানার বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় তাদের।
আরও পড়ুন: বাকৃবি শিক্ষার্থীদের ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ অবরোধ
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা বলেছিলাম আমাদের ছয় দফা দাবি মানা না হলে বিশ্ববিদ্যালয় লকডাউন এবং ব্ল্যাকআউট করে দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা সবকিছুই বন্ধ। ক্যাম্পাসের ভেতরে চালু প্রতিটি ব্যাংক ও আর্থিক লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকবে।
তারা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আমাদের দাবি আদায়ের কোনো আশ্বাস এখনো পাইনি। প্রশাসন যাতে দ্রুত আমাদের দাবি মেনে নেয় এজন্য আমরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হচ্ছি।
৩৪৮ দিন আগে