দাফন
ইরানে খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠান শুরু
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফনকে কেন্দ্র করে আজ শনিবার থেকে কয়েক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচি শুরু হয়েছে। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খামেনির কফিনের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানী তেহরানে শত শত হাজার মানুষ জড়ো হয়েছে। শোকাহত জনতা বুক চাপড়ে শোক প্রকাশের পাশাপাশি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের স্লোগান দিচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধের শুরুর দিকে এক বিমান হামলায় নিহত হন ৮৬ বছর বয়সী খামেনি। তার মৃত্যু ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থা এবং নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির নেতৃত্বকে আরও সুসংহত করার সুযোগ এনে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এমন সময়ে এই শোকানুষ্ঠান শুরু হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিজের প্রভাবকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল আবারও হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কাও পুরোপুরি কাটেনি।
অনুষ্ঠানস্থল থেকে ইরানের প্রধান আলোচক কাজেম গারিবাবাদি ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যৌথ টহলের সম্ভাবনা নিয়ে তাদের মন্তব্য উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
১২ দিন আগে
কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের ৫ প্রবাসীর দাফন সম্পন্ন
কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ প্রবাসীর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ২টার দিকে স্থানীয় আকুনি মাদরাসা মাঠে হাজারও মানুষের উপস্থিতিতে সম্মিলিত জানাজা শেষে নিজ নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাদের সমাহিত করা হয়।
এর আগে, আজ (মঙ্গলবার) সকালে কফিনবন্দী পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
এ সময় সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মাওলানা আবুল হাসানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা জানান।
ওয়েজ অনার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে নিহতদের দাফনের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয় এবং ভবিষ্যতে আরও ৩ লাখ টাকা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
মরদেহগুলো অ্যাম্বুলেন্সযোগে নিজ গ্রামে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। প্রিয়জনদের হারিয়ে স্বজনদের বুকফাটা আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন— ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন, আগতালুক গ্রামের মস্তাক আহমদ, জুবায়ের আহমদ এবং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ী গ্রামের কাদির আহমদ।
গত ২১ জুন কাতারের শাহানিয়া এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় এই পাঁচ বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিহত হন। এই দুর্ঘটনায় মোট ছয়জন প্রাণ হারিয়েছিলেন, যার মধ্যে পাঁচজনই ছিলেন কানাইঘাটের বাসিন্দা। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এমন অকাল প্রয়াণে পুরো কানাইঘাট উপজেলাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
১৬ দিন আগে
হাজারো মানুষের শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় তোফায়েল আহমেদকে শেষ বিদায়
কিংবদন্তি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং নয়বারের সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদকে দলমত নির্বিশেষে হাজারো মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শেষ বিদায় জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার প্রতি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে তার জাতীয় পতাকায় মোড়ানো মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
তারা জানাজার নামাজে ইমামতি করেন ভোলা খলিফাপট্টি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা জমির উদ্দিন।
জানাজায় ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর, সদস্য সচিব রাইসুল আলমসহ বিএনপি, বিজেপি, কমিউনিস্ট পার্টি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সর্বস্তরের হাজারো মানুষ অংশ নেন। তীব্র গরম ও রোদ উপেক্ষা করে তারা প্রিয় নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
৪৪ দিন আগে
ফতুল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণ: পরিবারটির বাঁচল না কেউ, গ্রামের বাড়িতে দাফন
‘চাচা অনেক কষ্ট করে বাড়িতে একটা পাকা ঘর তুলেছিলেন। ছাদের কাজ এখনও বাকি ছিল। কোরবানির ঈদে এসে কাজ শেষ করে গ্রামেই থাকার কথা ছিল। ফিরেছেন ঠিকই, তবে লাশ হয়ে। তার স্ত্রী-সন্তানেরাও ফিরছে লাশ হয়ে।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার উত্তর কনকদিয়া গ্রামের আবুল কামালের ভাতিজি মেঘলা। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাসের লাইনে লিকেজ থেকে বিস্ফারণের ঘটনায় ৪০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি নিজে প্রাণ হারিয়েছেন, তারপর একে একে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে হার মেনেছেন তার পরিবারের সব সদস্য।
জীবিকার তাগিদে প্রায় ৩০ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বসবাস করতেন কামাল। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে ছোট্ট সংসার ছিল তার। কিন্তু গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে সেই সংসারের পাঁচটি জীবনই একে একে নিভে গেছে।
গত ১০ মে ভোরে ফতুল্লার ভাড়া বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় আবুল কামাল, তার স্ত্রী সায়মা (৩২), ছেলে মুন্না (৮) এবং দুই মেয়ে মুন্নি (১০) ও কথা (৭) গুরুতর দগ্ধ হন। পরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে তাদের মৃত্যু হয়।
গত সোমবার আবুল কামালকে তার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছিল। আজ (শনিবার) সকালে জানাজা শেষে কামালের কবরের পাশেই পরিবারের অপর চারজনকে দাফন করা হয় বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
এ হৃদয়বিদারক ঘটনায় উত্তর কনকদিয়া গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারি আর প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, আবুল কামাল ফতুল্লায় সবজির ব্যবসা করতেন। কয়েকদিন আগে তাদের বাসার গ্যাস লাইনে লিকেজ দেখা দেয়। বিষয়টি বাড়ির মালিক ও দারোয়ানকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে ঘরে গ্যাস জমে ছিল।
তারা জানান, ১০ মে (রবিবার) ভোরে তরকারি গরম করার জন্য লাইটার দিয়ে চুলা জ্বালাতে গেলে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পরিবারটির পাঁচ সদস্যই গুরুতরভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়।
চিকিৎকের বরাত দিয়ে কামালের মেজ ভাই রফিকুল ইসলাম জানান, কামালের শরীরের ৯৫ শতাংশ, স্ত্রী সায়মার ৬০ শতাংশ, মেয়ে মুন্নির ৩৫ শতাংশ, কথার ৫২ শতাংশ এবং ছেলে মুন্নার ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, ‘এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাফন-কাফনে সহযোগিতা করা হবে।’
৬২ দিন আগে
পাশাপাশি কবরে শায়িত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত একই পরিবারের ৯ জন
খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই সেতু-সংলগ্ন এলাকায় বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে নিহত বর সাব্বিরসহ তার পরিবারের ৯ জনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার নামাজ শেষে উপজেলা পরিষদ মাঠে এই জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন শেখ ফরিদুল ইসলামসহ বাগেরহাট জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
আজ (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা মাঠে জানাজা শেষে তাদের মোংলা পোর্ট পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল ও রামপাল হাসপাতাল থেকে মরদেহগুলো এনে গোসল শেষে সকাল থেকে একে একে তাদের উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মাঠে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়। আর কনে পক্ষের বাড়ি কয়রায় ও রামপালের চালকসহ ৫ জনকে তাদের নিজ নিজ এলাকায় দাফন করা হয়েছে।
স্থানীয়রদের বরাতে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাই সেতু এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। মোংলা থেকে খুলনার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া একটি বাসের সঙ্গে বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন নিহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে বাকিরা মারা যান। সব মিলিয়ে বর-কনেসহ মোট ১৪ জন এ দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন।
নিহতদের মধ্যে ৯ জনই ছিলেন মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের সদস্য।
নিহতরা হলেন— আব্দুর রাজ্জাক, তার দুই ছেলে সাব্বির ও আব্দুল্লাহ, এক মেয়ে ঐশী, ৪ নাতনি আরফা, ইরান, ফাহিম ও আলিফ। এছাড়া তার এক পুত্রবধু পুতুল বেগম নিহত হন। কয়রা উপজেলার কনের দাদি, নানী, বোন ও কনে এবং রামপাল উপজেলার মাইক্রোবাস চালক এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।
মোংলায় বর সাব্বির ও তার বাবা আব্দুর রাজ্জাকসহ পরিবারের ৯ জনের মরদেহ শুক্রবার ভোরে মোংলার শেহালাবুনিয়ায় শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। আজ জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজ শেষে মোংলা পৌর কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
মোংলা উপজেলা মাঠে জানাজায় অংশ নেন মোংলা-রামপাল বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাত, বাগেরহাট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ হাছান চৌধুরী, সহকারী পুলিশ সুপার রিফাতুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আলহাজ জুলফিকার আলী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনিসহ প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক লোক জানাজায় অংশ নেয়।
মোংলা-রামপাল বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মোংলা-খুলনা সড়কে যে সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে এটি দুঃখজনক। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এছাড়া সড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে এখন থেকে কঠোরভাবে কাজ করা হবে।
তিনি আরও জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে বিআরটিএর পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা করে অনুদান প্রদান করা হবে। এ ব্যাপারে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে তাদের সকল কাগজ পত্র জমা দিয়ে এ টাকা গ্রহণ করার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া সরকারিভাবে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এবং নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে সহায়তা প্রদান করা করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
এর আগে কনে মিতু, তার বোন, নানী ও দাদির মরদেহ খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামে নেওয়া হয়। সেখানে শুক্রবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে তাদের নিজ বাড়িতে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মাইক্রোবাস চালককে দাফন করা হয় রামপালের তার নিজ বাড়িতে।
১২৫ দিন আগে
বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত একই পরিবারের ৪ জনের দাফন সম্পন্ন
বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের মধ্যে খুলনার কয়রা উপজেলার একই পরিবারের চার জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার নাকশা গ্রামের বাড়ির পাশের মাঠে মিতু, লামিয়া ও রাশিদা বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। এছাড়া দাকোপে মিতুর নানী আনোয়ারা বেগমের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
নিহতরা হলেন— কয়রা উপজেলার নাকসা গ্রামের সালাম মোড়লের মেয়ে নববধু মার্জিয়া মিতু, তার ছোট বোন লামিয়া (১০), তাদের দাদী মৃত শামছুউদ্দিন মোড়লের স্ত্রী রাশিদা বেগম (৭৫) ও নানী আনোয়ারা বেগম মারা গেছেন। মিতু নাকশা আলিম মাদ্রাসায় আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৪টার দিকে খুলনা–মোংলা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বোলাই সেতু এলাকায় এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার (১১ মার্চ) রাতে নাকশা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাব্বির হোসেনের সঙ্গে মিতুর বিয়ে হয়। বৃহস্পতিবার সকালে বরযাত্রী নববধু মিতু, তার ছোট বোন লামিয়া, বৃদ্ধা দাদি রাশিদা ও নানী আনোয়ারা বেগমকে নিয়ে মাইক্রোবাসে তাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।
পথে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি রামপাল বেলাই সেতু এলাকায় পৌঁছালে মোংলা থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসে থাকা নববধু, বর ও তাদের স্বজনসহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতদের গ্রাম নাকশাসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বাড়িতে স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
১২৫ দিন আগে
স্বামীর পাশে চিরনিদ্রায় খালেদা জিয়া
স্বামী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে, তারই কবরের পাশে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়।
এ সময় তার বড় ছেড়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, পরিবারের সদস্য এবং বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, আজ বিকাল ৩টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও প্লাজা-সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউজুড়ে খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক।
এ সময় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন তিন বাহিনীর প্রধানরাও।
জানাজায় তারেক রহমান, তার পরিবার ও স্বজন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্যমণ্ডলীসহ বিএনপির শীর্ষ ও তৃণমূলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতিনিধি, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি, এনসিপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং নানা শ্রেণিপেশার সর্বস্তরের মানুষ জানাজায় অংশ নেন।
জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, আমি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান হিসেবে বলছি, এখানে যারা উপস্থিত আছেন, আমার মা জীবীত থাকা অবস্থায় আপনাদের কারো কাছ থেকে যদি কোনো ঋণ নিয়ে থাকেন, দয়া করে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আমি সেটি পরিশোধের ব্যবস্থা করব।
তিনি বলেন, একইসঙ্গে উনার কোনো ব্যবহারে, কথায় যদি কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন, তাহলে মরহুমার পক্ষ থেকে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। দোয়া করবেন, আল্লাহ তাআলা যেন উনাকে বেহেশত দান করেন।
খালেদা জিয়ার জানাজা উপলক্ষে আজ (বুধবার) সকাল থেকেই সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকা জনসমূদ্রে পরিণত হয়। রাজধানী ঢাকা, এর আশপাশের জেলা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে মানুষ ঢাকায় এসে জড়ো হন। এ সময় অনেককেই কালো ব্যাজ ধারণ করতে দেখা যায়। অনেকে প্রিয় নেত্রীর শোকবার্তা-সংবলিত ব্যানার, প্ল্যাকার্ড নিয়ে হাজির হন।
খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবনসহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। পুলিশ, বিজিবি, র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং আশেপাশে এলাকাজুড়ে। সেনাবাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে।
পুরো কার্যক্রম ঘিরে ১০ হাজারেরও বেশি পুলিশ, এপিবিএনসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বিজিবির ২৭ প্লাটুন সদস্যও মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে, সকাল ৯টার একটু আগে বাংলাদেশের পতাকায় মোড়ানো একটি গাড়িতে করে তার মরদেহ এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে গুলশানে তার ছেলে তারেক রহমানের বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে তাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান খালেদা জিয়ার স্বজন ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন দেশের রাজনীতিতে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের এই প্রয়াণে দেশের রাজনীতিতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু শুধু একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়, বরং একটি যুগের অবসান।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বুধবার এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। সেই সঙ্গে দেশে আজ থেকে শুক্রবার পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার।
১৯৭ দিন আগে
জানাজা দুপুর ২টায়, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত হবেন খালেদা জিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার নামাজ আগামীকাল বুধবার দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দুপুর সাড়ে ৩টায় তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হবে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে এক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বার্তায় বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন স্থানে বুধবার দুপুর ২টায় খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে সমাহিত করা হবে।
খালেদা জিয়ার দাফনের সময় জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। সেইসঙ্গে দাফনে উপস্থিতদের কোনো ব্যাগ বা ভারী সামগ্রী বহন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১৯৮ দিন আগে
খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার, দাফন হতে পারে জিয়ার কবরের পাশে: সালাহউদ্দিন
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে তার স্বামী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে সমাহিত করা হতে পারে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন ।
তিনি জানান, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) জোহরের নামাজের পর ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হতে পারে। জানাজা শেষে জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হতে পারে।
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বাজ মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
তিনি গত ২৩ নভেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হন। গত ২৭ নভেম্বর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয় এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণকারী খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের বেনজির ভুট্টোর পর মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, পরিবার ও দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর জানাজা ও দাফনের বিস্তারিত কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে।
১৯৯ দিন আগে
জাতীয় কবির পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত ওসমান হাদি
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের কাছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবির কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হন এই তরুণ নেতা।
এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজা সম্পন্ন হয়। বড়ভাই আবুবকর সিদ্দিক হাদির জানাজা পড়ান। এরপর লাশবাহী ফ্রিজিং ভ্যানে করে তার মরদেহ ঢাবি ক্যাম্পাসে নেওয়া হয়। এ সময় ফ্রিজিং ভ্যানের সঙ্গে ঢাবি অভিমুখে রওনা হয় হাজারো মানুষের কাফেলা।
তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রবেশপথ বন্ধ রাখা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়।
২০৮ দিন আগে