দাফন
স্বামীর পাশে চিরনিদ্রায় খালেদা জিয়া
স্বামী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে, তারই কবরের পাশে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়।
এ সময় তার বড় ছেড়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, পরিবারের সদস্য এবং বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, আজ বিকাল ৩টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও প্লাজা-সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউজুড়ে খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক।
এ সময় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন তিন বাহিনীর প্রধানরাও।
জানাজায় তারেক রহমান, তার পরিবার ও স্বজন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্যমণ্ডলীসহ বিএনপির শীর্ষ ও তৃণমূলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতিনিধি, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি, এনসিপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং নানা শ্রেণিপেশার সর্বস্তরের মানুষ জানাজায় অংশ নেন।
জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, আমি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান হিসেবে বলছি, এখানে যারা উপস্থিত আছেন, আমার মা জীবীত থাকা অবস্থায় আপনাদের কারো কাছ থেকে যদি কোনো ঋণ নিয়ে থাকেন, দয়া করে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আমি সেটি পরিশোধের ব্যবস্থা করব।
তিনি বলেন, একইসঙ্গে উনার কোনো ব্যবহারে, কথায় যদি কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন, তাহলে মরহুমার পক্ষ থেকে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। দোয়া করবেন, আল্লাহ তাআলা যেন উনাকে বেহেশত দান করেন।
খালেদা জিয়ার জানাজা উপলক্ষে আজ (বুধবার) সকাল থেকেই সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকা জনসমূদ্রে পরিণত হয়। রাজধানী ঢাকা, এর আশপাশের জেলা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে মানুষ ঢাকায় এসে জড়ো হন। এ সময় অনেককেই কালো ব্যাজ ধারণ করতে দেখা যায়। অনেকে প্রিয় নেত্রীর শোকবার্তা-সংবলিত ব্যানার, প্ল্যাকার্ড নিয়ে হাজির হন।
খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবনসহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। পুলিশ, বিজিবি, র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং আশেপাশে এলাকাজুড়ে। সেনাবাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে।
পুরো কার্যক্রম ঘিরে ১০ হাজারেরও বেশি পুলিশ, এপিবিএনসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বিজিবির ২৭ প্লাটুন সদস্যও মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে, সকাল ৯টার একটু আগে বাংলাদেশের পতাকায় মোড়ানো একটি গাড়িতে করে তার মরদেহ এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে গুলশানে তার ছেলে তারেক রহমানের বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে তাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান খালেদা জিয়ার স্বজন ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন দেশের রাজনীতিতে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের এই প্রয়াণে দেশের রাজনীতিতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু শুধু একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়, বরং একটি যুগের অবসান।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বুধবার এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। সেই সঙ্গে দেশে আজ থেকে শুক্রবার পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার।
১৪ দিন আগে
জানাজা দুপুর ২টায়, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত হবেন খালেদা জিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার নামাজ আগামীকাল বুধবার দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দুপুর সাড়ে ৩টায় তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হবে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে এক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বার্তায় বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন স্থানে বুধবার দুপুর ২টায় খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে সমাহিত করা হবে।
খালেদা জিয়ার দাফনের সময় জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। সেইসঙ্গে দাফনে উপস্থিতদের কোনো ব্যাগ বা ভারী সামগ্রী বহন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১৫ দিন আগে
খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার, দাফন হতে পারে জিয়ার কবরের পাশে: সালাহউদ্দিন
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে তার স্বামী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে সমাহিত করা হতে পারে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন ।
তিনি জানান, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) জোহরের নামাজের পর ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হতে পারে। জানাজা শেষে জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হতে পারে।
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বাজ মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
তিনি গত ২৩ নভেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হন। গত ২৭ নভেম্বর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয় এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণকারী খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের বেনজির ভুট্টোর পর মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, পরিবার ও দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর জানাজা ও দাফনের বিস্তারিত কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে।
১৫ দিন আগে
জাতীয় কবির পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত ওসমান হাদি
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের কাছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবির কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হন এই তরুণ নেতা।
এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজা সম্পন্ন হয়। বড়ভাই আবুবকর সিদ্দিক হাদির জানাজা পড়ান। এরপর লাশবাহী ফ্রিজিং ভ্যানে করে তার মরদেহ ঢাবি ক্যাম্পাসে নেওয়া হয়। এ সময় ফ্রিজিং ভ্যানের সঙ্গে ঢাবি অভিমুখে রওনা হয় হাজারো মানুষের কাফেলা।
তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রবেশপথ বন্ধ রাখা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়।
২৫ দিন আগে
নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনা: কুষ্টিয়ায় পাশাপাশি দাফন একই পরিবারের চারজনকে
নাটোরের বড়াইগ্রামে ট্রাকের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে আটজন নিহত হন। নিহত আটজনের মধ্যে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ধর্মদহ গ্রামের একই পরিবারের পাঁচজন ও গাড়িচালক। নিহত অপর দুইজন তাদের স্বজন।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দুপুর দুইটার দিকে দৌলতপুরের ধর্মদহ ফরাজীপাড়া গোরস্থানে একই পরিবারের চারজনের একসঙ্গে জানাজা শেষে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়েছে। জানাজায় গ্রামের হাজারো মুসল্লি অংশ নেন।
দুর্ঘটনায় নিহত জাহিদুল ইসলামের দুই ছেলে সোহান ও সাগর সিঙ্গাপুর থেকে বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বেলা ১০টার দিকে গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছানোর পর দুপুর ২টার দিকে একসঙ্গে পরিবারের চারজনের নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন: নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ নিহতের ঘটনায় ট্রাকচালক গ্রেপ্তার
নিহতরা হলেন- কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ গ্রামের মৃত জিল্লুর রহমানের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৫৫), তার স্ত্রী সেলিনা খাতুন (৫০), তার ভাই শহিদুল ইসলামের স্ত্রী আনোয়ারা খাতুন আন্না (৫৫),তার ভাই মিজানুর রহমানের স্ত্রী আনোয়ারা খাতুন আনু (৫০), নিহত জাহিদুলের বোন প্রাগপুর গ্রামের রফেজ চৌধুরীর স্ত্রী ইতি খাতুন (৪০), একই গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে সাহাব হোসেন (৩৫), মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়ীয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী আঞ্জুমানারা (৭৫) এবং মেয়ে সীমা খাতুন (৩৫)।
নিহতরা মাইক্রোবাসে করে বাড়ি থেকে সিরাজগঞ্জে অসুস্থ রোগীকে দেখতে যাচ্ছিলেন।
নিহত জাহিদুল, তার স্ত্রী সেলিনা খাতুন, ভাইয়ের স্ত্রী আন্না ও আনুর লাশ বুধবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ গ্রামে পৌঁছায়। এ সময় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের তৈরি হয়। পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের শোক আর কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
একই গ্রামের বাসিন্দা ও নিহত গাড়িচালক সাহাবের লাশও বুধবার রাতে ধর্মদহ গ্রামে পৌঁছায়। এরপর স্থানীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এদিকে জাহিদুল ইসলামের বোন ও পার্শ্ববর্তী প্রাগপুর গ্রামের রফেজ চৌধুরীর স্ত্রী ইতি খাতুন (৪০), জাহিদুলের শ্বাশুড়ি ও শ্যালিকা অর্থাৎ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়ীয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী আঞ্জুমানারা (৭৫) এবং মেয়ে সীমা খাতুনের(৩৫) লাশ তাদের নিজ নিজ গ্রামে আনা হয় বুধবার রাতে। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় গোরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
নিহত জাহিদুলের চাচাতো ভাই অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য জানারুল ইসলাম বলেন, বুধবার সকাল ৭টার দিকে মাইক্রোবাসে করে সিরাজগঞ্জে রোগী দেখতে যাচ্ছিলেন সবাই। জাহিদুলের ছেলে সোহানের অসুস্থ স্ত্রীকে দেখতে যাচ্ছিলেন তারা। এ সময় ট্রাকের ধাক্কায় আটজন মারা গেছেন। ধর্মদহ গ্রামের পাঁচজন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে একজন মাইক্রোবাসের চালক। বাকি চারজন একই পরিবারের সদস্য। এছাড়াও নিহত জাহিদুলের বোন প্রাগপুর গ্রামের ইতি, গাংনীর বসতবাড়িয়া গ্রামের জাহিদুলের শাশুড়ি ও শ্যালিকা মারা গেছেন।
আরও পড়ুন: নাটোরে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮
জানা গেছে, বুধবার সকাল ১০টার দিকে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের তরমুজ পাম্প এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে একজনের মৃত্যু হয়। বাকি দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ওই দুজনেরও মৃত্যু হয়।
১৭৪ দিন আগে
রাজশাহীতে পাইলট তৌকিরের দাফন সম্পন্ন
রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় প্রাণ হারানো বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার তৌকির ইসলামের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার(২২ জুলাই) বিকাল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্টেডিয়ামে জানাযা শেষে পাশেই সপুরা কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে ঢাকায় তার জানাযা সম্পন্ন হয়। বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের পাইলট ছিলেন তিনি।
নিহত তৌকিরের মামা রফিকুল ইসলাম বলেন, সোমবার মৃত্যুর খবর শোনার পর তৌকিরের পরিবারের সদস্যদের ঢাকায় নেওয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকায় প্রথম জানাজা শেষে হেলিকপ্টারে তার লাশ রাজশাহীতে নেওয়া হয়।
দ্বিতীয় দফায় রাজশাহী উপশহর ঈদগাহ মাঠে তার জানাজা হয়। এরপর বিকালে সপুরা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
তিনি আরও জানান, তৌকিরের মৃত্যুতে শোকের আবহ পুরো রাজশাহী নগরীজুড়ে। সকাল থেকেই ভাড়া বাসায় ভিড় জমাতে শুরু করেছেন স্বজনরা। তৌকিরের বন্ধু-বান্ধবসহ পরিচিতরা তার রুহের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।
জেলা প্রশাসন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন দোয়ার আয়োজন করেছে।
১৭৬ দিন আগে
দাফনের আগে জানা গেল ‘মৃত ব্যক্তি’ জীবিত
সিলেটে এক ব্যক্তিকে দাফনের আগমুহূর্তে জানা গেছে যে তিনি জীবিত; হাসপাতাল থেকে যে লাশ নিয়ে আসা হয়েছে সেটি তার নয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
রবিবার (২২ জুন) সকালে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর সুলতানপুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রাম (এতিছানগর) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
যে ব্যাক্তির দাফন নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে তার নাম সাবু আহমদ। তিনি জকিগঞ্জ জেলার বাসিন্দা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২১ জুন) রাতে ফেসবুকে ছবি দেখে সাবুর ছোট ভাই বাবুল আহমদ জানতে পারেন, তার ভাইয়ের লাশ জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। এরপর ভাইয়ের লাশ মনে করে অজ্ঞাতনামা ওই লাশ বাড়িতে নিয়ে আসেন বাবুল। এরপর তিনি লাশের দাফন ও কবর খোড়ার ঠিক আগমুহূর্তে জানতে পারেন সাবু জীবিত আছেন।
বাবুল বলেন, আমার বড় ভাই সাবু একজন মানসিক রোগী। গত এক সপ্তাহ ধরে তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে রাতে (শনিবার) ফেসবুকে ছবি দেখে মনে হয়েছিল সে মারা গেছে। তাই আমরা হাসপাতালে গিয়ে লাশটি নিয়ে এসে দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।ৎ
আরও পড়ুন: মৌলভীবাজারে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে যুবক নিহত
তিনি বলেন, তবে শনিবার দিবাগত গভীর রাতে আমাদের এক পরিচিতজন জানান, আমার ভাই বেঁচে আছেন এবং স্থানীয় গঙ্গাজল বাজারে আছেন।
তিনি আরও জানান, ভাই জীবিত আছেন জানতে পেরে তিনি হাসপাতালে ওই লাশটি ফেরত দিতে চান। তবে জকিগঞ্জ জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের নেতা মিজানুর রহমানের অনুরোধে সেটি দাফনের জন্য নিয়ে আসেন।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, ‘একজন অজ্ঞাত-পরিচয়ের লোক চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা গেছেন। পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাড়িতে নিয়ে লাশের দাফন-কাফন ও কবর খোঁড়ার ঠিক আগমুহূর্তে মৃত সাবু আহমদ জীবিত আছেন বলে আমরা শুনেছি।
এদিকে, জানাজার ইমাম মাওলানা জালাল উদ্দিন জানান, রবিবার বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় এতিছানগর জামে মসজিদে জানাজা শেষে বাবুর বাজার-সংলগ্ন কবরস্থানে লাশটি দাফন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সিলেটে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
তিনি আরও বলেন, ‘আমি থানার ওসি সাহেবের সঙ্গে কথা বলে মানবিক দিক বিবেচনা করে লাশের জানাজা পড়াই এবং দাফনের জন্য বলি।’
এ বিষয়ে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শেখ মো. আব্দুল আহাদ বলেন, ‘অজ্ঞাত পরিচয়ে চিকিৎসাধীন ওই ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করার পর আমরা নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় লাশ সিলেটে পাঠানোর উদ্যোগ নেই। ঠিক তখনই তার ভাই ও আত্মীয়স্বজন পরিচয়ে লোকজন এসে লাশটি নিয়ে যান। এখন শুনছি ওই ব্যক্তি নাকি তাদের কেউ নন।’
২০৫ দিন আগে
রবিবার সিলেটে মুক্তিযোদ্ধা হারিছ চৌধুরীকে দাফন করা হবে: মেয়ে সামিরা
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব মুক্তিযোদ্ধা হারিছ চৌধুরীর লাশ ঢাকা মেডিকেল থেকে আগামী রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) সিলেট নিয়ে আসা হবে।
হারিছ চৌধুরীর মেয়ে ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে তার বাবার লাশ সিলেটে নিয়ে যাওয়া হবে।
রবিবার(২৯ ডিসেম্বর) বেলা ২টায় ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দানে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর বাদ আছর লাশ কানাইঘাট উপজেলার সড়কের বাজারে প্রয়াত হারিছ চৌধুরী প্রতিষ্ঠিত ‘শফিকুল হক চৌধুরী মেমোরিয়াল এতিমখানা’র আঙ্গিনায় নির্ধারিত স্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।
আরও পড়ুন: ডিএনএ মিলেছে, হারিছ চৌধুরীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের নির্দেশ
সামিরা চৌধুরী জানান, ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর হারিছ চৌধুরী মৃত্যুবরণ করলে ওই সময় আওয়ামী লীগ সরকারের রোষানল ও নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে তার পরিচয় গোপন করে অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান নামে সাভারের বিরুলিয়ায় জামিয়া খাতামুন্নাবিয়্যিন মাদরাসা প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হয়।
পরে কন্যা সামিরার এক রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করা হয়। কবর থেকে লাশ তোলার পর ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিআইডি নমুনা সংগ্রহ করে এবং লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।
পরবর্তীতে ডিএনএ টেস্টে লাশটি হারিছ চৌধুরীর নিশ্চিত হওয়ার পর তার লাশ সিলেটে দাফন করার পদক্ষেপ নেয় পরিবার।
আরও পড়ুন: কানাইঘাটে ফের দাফন হবে হারিছ চৌধুরীর লাশ, দেওয়া হবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা
৩৮৩ দিন আগে
দাফনের ১২ দিন পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন
ফেনীর দাগনভূঞায় দাফনের ১২ দিন পর কবর থেকে আবদুল গফুর মিয়া নামে এক ব্যক্তির লাশ উত্তোলন করেছে পুলিশ।
পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: ময়নাতদন্তের জন্য কুয়েট শিক্ষকের লাশ উত্তোলন
বুধবার (১২ জুন) জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুর রহমানের উপস্থিতিতে লাশটি উত্তোলন করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার জেলার গফুর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) (তদন্ত) রাসেল মিয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লাশটি উত্তোলনের নির্দেশ দেন দাগনভূঞা আমলি আদালত।
জানা যায়, গত ২৯ মে জেলার দাগনভূঞা পৌর শহরের হাসপাতাল রোডের অভিরামপুর এলাকায় ছয় তলা একটি ভবন দখল করতে তাণ্ডব চালায় স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। ওই সময় হামলাকারীরা ভবনটির বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যসের লাইন কেটে দেয়। এতে আহত মালিক আবদুল গফুর ভূঞা গত ১ জুন মারা যাওয়ার পর ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠে।
গত ৪ জুন নিহতের ছেলে রিয়াদ হোসেন একই উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন মামুনসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে ফেনীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের দাগনভূঞা আমলি আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দাগনভূঞা আমলি আদালতের বিচারক ফারহানা লোকমান মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করে আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য দাগনভূঞা থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসিম বলেন, আদালতের নির্দেশে হত্যা মামলা এফআইআর করা হয়েছে। মামলা হওয়ার পর থেকে আসামিরা পলাতক রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বুধবার আদালতের নির্দেশে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, দাগনভূঞা থানার ওসি আবুল হাশিম, উপজেলা মেডিকেল অফিসার ডা. আসিফ ইনতেছার, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাসেল মিয়া, নিহত গফুরের ছেলে লিয়াকত হোসেন রাজু, রাকিব হোসেন ও রিয়াদ হোসেনসহ বিপুল সংখ্যক এলাকাবাসী।
আরও পড়ুন: রংপুরে দাফনের সাড়ে ৬ মাস পর কবর থেকে তরুণীর লাশ উত্তোলন
সিরাজগঞ্জে দাফনের ৪ মাস পর গৃহবধূর লাশ উত্তোলন
৫৮১ দিন আগে
রংপুরে দাফনের সাড়ে ৬ মাস পর কবর থেকে তরুণীর লাশ উত্তোলন
দাফনের সাড়ে ছয় মাস পর আদালতের আদেশে এক তরুণীর লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। সোমবার (২০ মার্চ) সকালে নগরীর খাসবাগ এলাকার পারিবারিক কবরস্থান থেকে তার লাশ ওঠায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মৃত বর্ষা হোসাইন বর্না (২০) ওই এলাকার বেলাল হোসেনের মেয়ে। বর্না আউট সোর্সিংয়ের কাজ করতেন।
তার মা শাহিনা বেগম ও বাবা বেলাল হোসেন দুই সন্তান বর্ষা ও বাঁধনকে বাড়িতে রেখে ঢাকায় কাজ করতেন।
আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে দাফনের ৪ মাস পর গৃহবধূর লাশ উত্তোলন
পুলিশ জানায়, বর্নার সঙ্গে একই এলাকার রিপন মিয়ার ছেলে জিয়াদ হোসেনের (২৫) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের কথা বলে বর্নার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়ায় জিহাদ। এতে বর্না অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। ঘটনাটি জিয়াদ ও তার পরিবারকে জানানো হলে তারা বর্নার গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে বলে। কিন্তু বর্না রাজি না হওয়ায় তাদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর রাতে আত্মহত্যা করেন বর্না।
এ ঘটনায় থানায় ইউডি মামলা হয়।
পরবর্তীতে রংপুরের নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ ছয় জনকে আসামি করে বর্নার মা শাহিনা বেগম মামলা করেন।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন-জিয়াদ হোসেন, ছবি বেগম, মনি বেগম, সিরাজউদ্দিন, সাজু মিয়া ও মো. রিফাত।
এদিকে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের স্বার্থে ১২ জানুয়ারি পারিবারিক কবরস্থান থেকে লাশ উত্তোলনের আদেশ দেন আদালত। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে লাশটি কবর থেকে উত্তোলন করা হয়।
এসময় সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মলিহা খানম ও মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানা পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রংপুরের সিআইডির পরিদর্শক শামসুল আলম বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: ময়নাতদন্তের জন্য কুয়েট শিক্ষকের লাশ উত্তোলন
প্রেমিকার বাড়ির সামনে মৃত্যুর ৩৬ দিন পর প্রেমিকের লাশ উত্তোলন
১০৩১ দিন আগে