আটক
মানিকগঞ্জে মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়ের বিরুদ্ধে বৃদ্ধ মাকে হত্যার অভিযোগ
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়ের হাতে তার বৃদ্ধ মাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মেয়েকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার গালা ইউনিয়নের মধ্য ধুসুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রেজিয়া বেগম (৯৫) মধ্য ধুসুরিয়া গ্রামের মৃত সোবহানের স্ত্রী। অভিযুক্ত রোকেয়া বেগম (৬০) নিহতের মেয়ে। তিনি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার হাটিপাড়া এলাকার মৃত মালেকের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আজ সকালে ঘরের ভেতরে থাকা বটি দিয়ে রোকেয়া বেগম তার মা রেজিয়া বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে তিনি তার বড় ভাই মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রাসেলকে ডেকে জানান যে তার দাদি মারা গেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় রেজিয়া বেগমের মরদেহ দেখতে পান।
এলাকাবাসী জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই রোকেয়া বেগম মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন।
খবর পেয়ে হরিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে।
হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আফজাল হোসেন বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মেয়ে রোকেয়া বেগমকে আটক করা হয়েছে।’
১০ দিন আগে
ময়মনসিংহে ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে ‘হত্যা’, আটক ১
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে বন্ধুদের সঙ্গে জন্মদিন পালন শেষে বাসায় ফেরার পথে নাহিয়ান রবিন (২৭) নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় রাজিব নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (৮ জুন) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে গফরগাঁও পৌর শহরের শিলাসী মাজার রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নাহিয়ান রবিন গফরগাঁও পৌর এলাকার শিলাসী গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। তিনি যুবলীগ নেতা তাজমুল গ্রুপের ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, নাহিয়ান রবিন তার বাবার একমাত্র সন্তান। গতকাল (সোমবার) রাতে তিনি উপজেলার জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে বন্ধুদের নিয়ে জন্মদিন পালন করেন। অনুষ্ঠান শেষে এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে চড়ে বাসায় ফিরছিলেন।
বাসায় ফেরার পথে শিলাসী মাজার রোড এলাকায় আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা মুখোশধারী অজ্ঞাত ৫-৬ জন তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। সে সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা তাকে ধারালো অস্ত্র ও রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বলেন, ‘ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় রাজিব নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি।’
১০ দিন আগে
ঠাকুরগাঁও সীমান্তের ওপারে বিএসএফের হাতে দুই বাংলাদেশি আটক
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক আটক হয়েছেন। ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় সীমান্তের ওপারে ভারতের অভ্যন্তরে কাকরমনি ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের আটক করেন।
শনিবার (৬ জুন) সকালে ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি)-এর হাবিলদার (আইপি) মো. খায়রুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আটকরা হলেন— হরিপুর উপজেলার ডাঙ্গীপাড়া গ্রামের মো. আলিমুল ইসলাম (৪৬) এবং কাদিরসুখা গ্রামের মো. করিম (৩৪)।
গত বৃহস্পতিবার রাতে হরিপুর বিওপির সীমান্তবর্তী দনগাঁও গ্রামের বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত কাকরমনি বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের আটক করেন বলে জানিয়েছে ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি।
বিজিবি সূত্র জানায়, আটকদের মধ্যে মো. করিম ভারতের একটি ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তারা দুজনেই ভারত থেকে অবৈধ পথে বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় হরিপুর বিওপির (বর্ডার আউটপোস্ট) বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরে কাকরমনি বিএসএফ ক্যাম্পের একটি টহল দল তাদের হাতেনাতে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত কমান্ডিং কর্মকর্তা মেজর আহসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি জানার চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে ও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
১২ দিন আগে
‘হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়’ পাবনার সেই কিশোরীকে, বস্তায় ভরে ফেলা হয় পদ্মায়
নবম শ্রেণির কিশেীর রিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তার চাচাতো ভাই নাইমের। মঙ্গলবার রাতে নাইমের বাসায় তার সঙ্গে রিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার আগে তাকে ধর্ষণ করেন নাইম। হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দি করে প্রাইভেটকারে করে সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারার পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
এ ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টার পর রহস্য উদঘাটন করে বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যায় পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান।
রেজিনুর রহমান জানান, সকালে এই অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের পরপরই পুলিশের সব ইউনিট কাজ শুরু করে। এলাকার সিসিটিভির ফুটেজ এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হয়। হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্তসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এখনও ভুক্তভোগীর পরিবারের থেকে মামলা দেওয়া হয়নি। লিখিত এজাহার দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মামলা গ্রহণ করা হবে। ঘটনাটির আরও কিছু বিষয় পরবর্তী তদন্ত কার্যক্রমের পর জানানো হবে।
নিহত রিয়া (১৫) পাবনার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘপুর এলাকার প্রামানিকের মেয়ে এবং মাওলানা কসিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী।
আটকরা হলেন—প্রধান অভিযুক্ত পূর্ব রাঘপুর এলাকার বাসিন্দা নাইম, একই এলাকার ইয়াসিন শেখ ও তুহিন প্রামানিক। তাদের ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি জব্দ করেছে পুলিশ।
এর আগে, গতকাল (বুধবার) সকালে পাবনা সদরের ভাড়ারা ইউনিয়নের পিরপুরে পদ্মার চরে কৃষকেরা কাজে যাওয়ার সময় নদীর তীরে ঠেকানো নৌকার পাশে একটি বস্তা ভাসতে দেখতে পান। বস্তা খুলেই কিশোরীর মরদেহ দেখতে পেয়ে তারা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহটি হাত বাঁধা এবং গলায় বাজারের ব্যাগ প্যাঁচানো অবস্থায় বস্তাবন্দি ছিল।
১৫ দিন আগে
দর্শনা সীমান্তে অনুপ্রবেশের অভিযোগে নারী-শিশুসহ আটক ১০
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
রবিবার (৩১ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভোর ৫টার দিকে সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে প্রবেশের সময় বিজিবির বারাদি ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের আটক করেন। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ২ জন পুরুষ, ৩ জন নারী ও ৫ জন শিশু রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিক আইনগত কার্যক্রম শেষে তাদের দর্শনা থানায় সোপর্দ করা হবে।
তিনি আরও জানান, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির টহল ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান কর্নেল নাজমুল হাসান।
১৮ দিন আগে
পটুয়াখালীতে বিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কিশোরকে হত্যা, আটক ৩
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে তাজুল ইসলাম (১৬) নামের এক কিশোরকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে দুর্বত্তরা। এ ঘটনায় তিন যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩০ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কলাপাড়া উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তাজুল ওই গ্রামের ফারুক হাওলাদারের ছেলে ছিল। আটকরা হলেন— ওই গ্রামের রিয়াদ (১৭), সজীব খান (১৭) ও হৃদয় মোল্লা (১৮)
স্থানীয়দের বরাত পুলিশ জানায়, রাতে ওই এলাকার কামাল মৃধার বাড়িতে তার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। ওই অনুষ্ঠান থেকে তাজুলকে বাড়ির পেছনের বিলে ডেকে নিয়ে তলপেটে ছুরিকাঘাত করে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে আমতলী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর পরই স্থানীয়রা সন্দেহভাজন হিসেবে ওই তিন যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ওই তিন যুবককে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং হত্যার রহস্য উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত চলছে।
১৮ দিন আগে
‘ছাগলে গাছের পাতা খাওয়ায়’ বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ১
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় ছাগলের সজনে গাছের পাতা খাওয়াকে কেন্দ্র করে মাহাবুল হোসেন (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৩ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নর সাহাপুর পূর্বপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মাহাবুল হোসেন ওই এলাকার মৃত আজিজুল প্রামাণিকের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সকালে মাহাবুল হোসেনের একটি ছাগল প্রতিবেশী বাশার মুন্সি ও তার বড় ভাই তসলিম মুন্সির সজনে গাছের পাতা খেয়ে ফেলে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন তারা।
এ সময় বাশার ও তসলিম মুন্সি গাছের ডাল দিয়ে বানানো লাঠি দিয়ে মাহাবুল হোসেনের ঘাড়, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেন। পরে তার স্বজনরা ও স্থানীয় লোকজন তাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত বাশার মুন্সিকে আটক করেছে। অপর আসামিকে আটকের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো অভিযোগ করা হয়নি।
২৫ দিন আগে
শেরপুরে পৃথক ধর্ষণের অভিযোগ: যুবককে পিটুনি, পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর গর্ভপাতের ঘটনায় আটক ১
শেরপুর শহরে গৃহবধু ও পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।
সজবরখিলা এলাকার ঘটনায় গৃহবধুকে ধর্ষণের অভিযোগে এনামুল হোসেন নামে এক যুবককে স্থানীয় আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে জনতা।
অপরদিকে, শহরের ঢাকলহাটি মহল্লায় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ফলে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় গর্ভপাতের অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। ওই ঘটনায় মুল অভিযুক্তকে আটক করতে না পারলেও মামলার অপর আসামি সুন্নত আলী সন্তু (৬০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (২৩ মে) শহরের সজবরখিলা ও ঢাকলহাটি এলাকায় এ ঘটনা দুটি ঘটে। ধর্ষণের এসব ঘটনায় শহরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল (শনিবার) রাত ১০টার দিকে শহরের সজবরখিলা এলাকার মোবারক মিয়ার ছেলে এনামুল হোসেনকে স্থানীয় জনতা এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে আটক করে পিটুনি দেয়। সংবাদ পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে এনামুলকে হেফাজতে নেয়। পরে তার শাস্তির দাবিতে শহরে বিক্ষোভও করে এলাকাবাসী।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ভুক্তভোগী গৃহবধূ স্বামীর সঙ্গে এনামুলের বাসায় গত ৫ মাস ধরে ভাড়া রয়েছেন। বেশ কিছুদিন ধরে এনামুল ওই গৃহবধূকে মেসেঞ্জারে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি তিনি তার স্বামীকে জানালে পরিবার ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে এনামুলকে সতর্কও করা হয়। এরপর থেকেই এনামুল ওই গৃহবধুর প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন। এর জেরেই গতকাল দুপুরে বাড়িতে ওই গৃহবধূর স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগে এনামুল ঘরে প্রবেশ করে মুখ চেপে ধরে তাকে ধর্ষণ করেন। পরে বিষয়টি গৃহবধু তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের জানান। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এনামুলকে আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয়।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসরিন আক্তার বলেছেন, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অভিযুক্তকে থানায় নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, জনতার কাছ থেকে এনামুলকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, শহরের ঢাকলহাটি মহল্লায় পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া এক ছাত্রীকে (১২) ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় গর্ভপাতের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল (শনিবার) নির্যাতনের শিকার ওই শিশুর পরিবার বাদী হয়ে স্থানীয় যুবক কাউছার ওরফে কায়েস (২৪), সুন্নত আলী সন্তুসহ (৬০) আরও কয়েকজনের নামে সদর থানায় মামলা করেছেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও মামলার বিবরণে জানা গেছে, শিশুটিকে বিভিন্ন সময় স্থানীয় কাউছার মিয়া ফুসলিয়ে ধর্ষণ করেন। একাধিকবার এমন নিপীড়নে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে শিশুটি। পরে ভুক্তভোগীর শারীরিক গঠনে পরিবর্তন এলে কাউসার মিয়া অন্যান্য আসামিদের সহযোগিতায় তার গর্ভপাত করান। এ সময় শিশুটির ব্যাপক রক্তক্ষরণ হলে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
এদিকে, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে একটি মহল চাপ প্রয়োগ করে। পরে গত শুক্রবার শিশুটির মা আশঙ্কাজনক অবস্থায় শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে তাকে ভর্তি করান।
ভুক্তভোগী শিশুর মা বলেন, আমার মেয়েকে ফুসলিয়ে ধর্ষণ করেছে, এরপর গর্ভপাত করানোর ফলে মেয়ের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। এখন আমার মেয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। অপরাধীর শাস্তি চাই।
শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. তাহেরাতুল আশরাফী বলেন, ১২ বছরের একটি কন্যাশিশু স্ত্রীরোগ-সংক্রান্ত জটিলতায় গাইনি বিভাগে ভর্তি রয়েছে। শিশুটি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় আছে এবং চিকিৎসা চলছে। যেহেতু এটি পুলিশ কেস, সে কারণে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
শেরপুর সদর থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, শেরপুর পৌর শহরের একটি মহল্লায় শিশুকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে গতকাল বিকেলে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালতের বিচারক তাকে জেলা কারাগারে পাঠিয়েছেন। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে।
২৬ দিন আগে
সিলেটে দেড় বছরের কন্যাশিশুকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগে মা আটক
সিলেটে দেড় বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সুবিনা বেগমকে (২৫) আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২২ মে) ভোরে সদর উপজেলার জালালাবাদ থানাধীন কালারুকা এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুর নাম মাইমুনা জান্নাত তোহা। তার বাবার নাম আমির আলী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আজ (শুক্রবার) ভোরে শিশুটির বাবা ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় ঘরের ভেতরে থাকা দা দিয়ে নিজের মেয়েকে গলাকেটে হত্যা করেন মা সুবিনা বেগম। নামাজ শেষে বাড়ি ফিরে শিশুটির বাবা আমির আলী ঘরে ঢুকে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান।
পরে খবর পেয়ে জালালাবাদ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। একইসঙ্গে অভিযুক্ত মাকেও আটক করে পুলিশ।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) সাইফুল ইসলাম বলেন, সুবিনা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি। তিনি স্বাভাবিক হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তখন জানা যাবে, এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো বিষয় জড়িত আছে কি না।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এ ঘটনায় আটক সুবিনার বিরুদ্ধে তার স্বামী বাদী হয়ে মামলা করলে তা হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করবে পুলিশ।
শিশুটির বাবা আমীর আলী জানান, ‘ফজরের আজানের সময় শিশু তোহা ঘুম থেকে উঠলে তিনি তার স্ত্রীকে উঠে নামাজ পড়তে বলে মসজিদে যান। নামাজ শেষে তার ছোট ছেলে গিয়ে তাকে তোহার গলা কেটে ফেলার খবর জানায়। তিনি আসার আগে প্রতিবেশীদের জড়ো করে তাদের বড় ছেলে।
আমীর আলী আরও বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুল হাবিব জানান, সুবিনা বেগম মানসিক রোগে আক্রান্ত বলে দাবি করেন তার পরিবারের সদস্যরা। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
২৭ দিন আগে
মাদরাসা সুপারের ছেলের জন্য পরীক্ষা দিতে গিয়ে র্যাবের জালে তিন শিক্ষক
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চুয়ামল্লিকপাড়া রেজওয়ানুল উলুম দাখিল মাদরাসা কেন্দ্রে তখন চলছে এসএসসি (দাখিল) স্তরের জীববিজ্ঞান পরীক্ষা। হলের ভেতরে পরীক্ষার্থীরা যখন প্রশ্নের উত্তর মেলাতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই হলের বাইরে চলছিল এক অবিশ্বাস্য ও অভিনব জালিয়াতির উৎসব। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। খোদ শিক্ষকদের দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানোর এই সাজানো নাটকটি মাঝপথেই ভেঙে দেয় র্যাবের একটি দল।
বুধবার (২০ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যখন তারা বাইরে বসে খাতা লিখছিলেন, তখনই হাতেনাতে তাদের ধরে ফেলে র্যাব-১২-এর একটি আভিযানিক দল।
গল্পের মূল চরিত্র মো. নাসিরুল্লাহ (১৬)। সে মহিষকুন্ডি মুসলিম নগর দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থী। তবে তার আরও একটি পরিচয় রয়েছে, সে ওই মাদরাসারই সুপারিনটেনডেন্ট মো. আব্দুল ওহাব বিশ্বাসের ছেলে।
বাবার ক্ষমতার দাপট আর অবৈধ অর্থের জোরে পরীক্ষায় পাসের এক অদ্ভুত ছক কষা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নাসিরুল্লাহর জীববিজ্ঞান পরীক্ষার খাতা হলের ভেতরে নয়, বরং কেন্দ্রের বাইরে বসে লিখে দিচ্ছিলেন তিন শিক্ষক।
আটক হওয়া শিক্ষকরা হলেন— মো. বজলুর রহমান (৪৮), মো. নুরুল ইসলাম (৪৫) এবং মোছা. মাতোয়ারা খাতুন মায়া (৪০)। এই তিন শিক্ষকের কেউই ওই কেন্দ্রের অফিশিয়াল ডিউটিতে ছিলেন না। তারা কেবল তাদের সুপারের ছেলের খাতা লিখে দিতেই অবৈধভাবে কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই অর্থের বিনিময়ে তারা এমন অনৈতিক কাজ করে আসছিলেন বলে জানা গেছে।
শিক্ষকদের এই ‘কীর্তি’ফাঁসের পর পরীক্ষা কেন্দ্র ও এর আশেপাশে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রভাবশালীদের একটি মহল তড়িঘড়ি করে এসে অভিযুক্ত শিক্ষকদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস।
তদন্তে নেমে বেরিয়ে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস জানান, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও বাইরে থেকে খাতায় লিখে এনে জমা দেওয়ার মতো গুরুতর অনিয়ম এখানে ঘটেছে। বুধবারে র্যাবের হাতে তিন শিক্ষক আটক হওয়ার বিষয়টি সত্য প্রমাণিত হয়েছে।
তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নাসিরুল্লাহকে বহিষ্কার করা হয়। তবে শিক্ষকরা কেন্দ্রের বাইরে আটক হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া না গেলেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
এদিকে, আটকের পর ওই তিন শিক্ষক নিজেদের বাঁচাতে সব দোষ চাপিয়েছেন মাদরাসা সুপারের ঘাড়ে। তাদের দাবি, তারা স্বেচ্ছায় এই জালিয়াতি করেননি; মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল ওহাব বিশ্বাস তার ছেলের জন্য এই কাজ করতে তাদের বাধ্য করেছিলেন।
নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিক্ষকদের জালিয়াতিতে বাধ্য করা এবং ছেলের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া সেই ‘সুপার’ বাবা এখন পলাতক রয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে তার মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন করে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
বর্তমানে আটক তিন শিক্ষক র্যাবের হেফাজতে রয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
২৮ দিন আগে