বিএনপি নেতা
রাজশাহীতে বিএনপির দুপক্ষের বিরোধে এক নেতাকে পিটিয়ে হত্যা
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় বিএনপির কর্মীরা নিজ দলের এক নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নের সিপাইপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম এরশাদ আলী (৬৫)। তিনি সিপাইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ইউসুফপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ছিলেন। তিনি রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাইদ চাঁদের অনুসারী ছিলেন।
অভিযুক্তরা জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের অনুসারী। তিনি এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে চারঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল ইসলাম জানান, গতকাল (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর স্থানীয়রা মসজিদে বসে একটি ইসলামি জলসা আয়োজন করার ব্যাপারে আলোচনা করছিলেন। এ সময় একপক্ষ বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলকে প্রধান অতিথি করতে চান। আর অপরপক্ষ স্থানীয় এমপি আবু সাঈদ চাঁদকেই প্রধান অতিথি করতে চান। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কিতে আলোচনা ভেস্তে যায়।
ঘটনার বিবরণে তিনি আরও জানান, তর্কাতর্কির পর রাতে এরশাদ আলী তারাবির নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরছিলেন। ওই সময় চায়ের দোকানে বসে ছিলেন আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের অনুসারী সাইদুর রহমান, গাজী, সুমন আলী, সাব্বির, আশাদুল, জোয়াদসহ কয়েকজন। তারা এরশাদ আলীকে দেখতে পেয়ে লাঠি ও গাছের ডাল দিয়ে তাকে পেটাতে থাকেন। এ সময় ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। তার বাড়ির পাশেই ঘটনাটি ঘটে। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাড়ি নিয়ে যান।
এসআই সিরাজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তরা ঘটনার পরই পালিয়েছেন। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে। আর নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।
৬ দিন আগে
গালাগালকাণ্ডে হবিগঞ্জের সেই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ওসির মামলা, আদালতে সোপর্দ
হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলা বিএনপি সভাপতি ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী তুষারকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৮৯/ ৫০৪ ও টেলিকমিউনিকেশন অধ্যাদেশ ২০২৬-এর ৬৯ ধারায় বাহুবল থানায় মামলা করেছেন। আদালত পরিদর্শক সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, বাহুবল থানার ওসিকে মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার অভিযোগে গতকাল (রবিবার) দুপুর ১২টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকায় অবস্থিত নিজ বাসা থেকে তুষারকে আটক করে ডিবি পুলিশ।
এর আগে, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাহুবল থানার ওসিকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। অডিওটি দ্রুত ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তে নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি।
১১ দিন আগে
ওসিকে গালাগাল করার অভিযোগে হবিগঞ্জে বিএনপি নেতা আটক
হবিগঞ্জের বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার অভিযোগে বাহুবল উপজেলা বিএনপি সভাপতি ফেরদৌস চৌধুরী তুষারকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে শহরের শায়েস্তানগর এলাকায় অবস্থিত নিজ বাসা থেকে তুষারকে আটক করেছেন বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবি শামীম ইকবাল।
এর আগে, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাহুবল থানার ওসিকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। অডিওটি দ্রুত ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্তে নামে। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
আজ (রবিবার) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তুষার চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি গত দুই মাসের মধ্যে কোনোদিন ওসিকে ফোনও দেইনি। আমি আমার ম্যানেজারকে গালাগাল করেছি, সেটাকে এডিট করে কেউ ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে।
সর্বশেষ, তুষারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে কি না জানতে বাহুবল থানার ওসি, সহকারী পুলিশ সুপার বাহুবল সার্কেল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) ও হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের মোবাইলে ফোন দেওয়া হলে কেউ কল ধরেননি।
১২ দিন আগে
নরসিংদীতে বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ মোল্লার মৃত্যু
নরসিংদী জেলা বিএনপির উপদেষ্টা, সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ মোল্লা ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ইন্তেকাল করেন।
তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৪ ছেলে, ১ মেয়ে, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গে
আজ (শনিবার) আসরের নামাজের পর নরসিংদী কালেক্টরেট মসজিদ প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা এবং এশার নামাজের পর গ্রামের বাড়ি শিবপুর উপজেলার জয়নগর গ্রামে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।
আব্দুর রশিদের মৃত্যুতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনজুর এলাহী, নরসিংদী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাখন দাস, সাধারণ সম্পাদক আসাদুল হক পলাশ, নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুল মান্নান ভূঁইয়া গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকাহত পরিবারের প্রতিও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন তারা।
২৭ দিন আগে
ময়মনসিংহে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, নিহত ১
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় নির্বাচনি কার্যালয় উদ্বোধন নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নজরুল ইসলাম (৪০) নামে একজন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর ধোবাউড়া উপজেলার এরশাদ বাজারে ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের সমর্থকদের মাঝে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত নজরুল ইসলাম উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের রামসিংহপুর গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী রুবেলের কর্মী ছিলেন।
ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যার পর ধোবাউড়া উপজেলার এরশাদ বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের নির্বাচনি কার্যালয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যান সালমান ওমর রুবেল। উদ্বোধন শেষে ফিরে আসার সময় এমরান সালেহ প্রিন্সের সমর্থকরা হঠাৎ রুবেলের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা করেন। এ সময় নজরুলকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ধোবাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে সালমান ওমর রুবেল বলেন, আমাদের অফিস উদ্ধোধন করে বের হওয়ার সময় পেছন থেকে অতর্কিত হামলা করে প্রিন্স ভাইয়ের লোকজন। আমার কর্মী নজরুল হত্যার সঙ্গে জড়িত সকলকে দ্রুত গ্রেপ্তারে দাবি জানাচ্ছি।
সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, আমি হালুয়াঘাটে আছি। এই ব্যাপার নিয়ে আমি পুরোপুরি অবগত নই। তবে প্রাথমিকভাবে যেটুকু শুনেছি এটা তাদের পারিবারিক কোনো একটা সমস্যা নিয়ে ঝামেলা। এটাকে রাজনৈতিক রঙ লাগানোর চেষ্টা করছে তারা। যে মেরেছে তিনি আমাদের দলের সাবেক কর্মী। তবে এটা যদি এরকম হয়ে থাকে, আমরা ব্যবস্থা নেব।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শুনেছি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এমরান সালেহ প্রিন্স ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী সালসান ওমর রুবেলের সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষের হয়েছে। এ ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। পরে আরও বিস্তারিত জানানো হবে।
ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৪৮ দিন আগে
পাবনায় চাচাতো ভাইয়ের গুলিতে প্রাণ গেল বিএনপি নেতার
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় চাচাতো ভাইয়ের গুলিতে ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকাল সোয়া ৯টায় উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত বীরু মোল্লা (৬০) লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ছিলেন।
নিহতের পরিবার ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা জহুরুল মোল্লা ও নিহত বীরু মোল্লা আপন চাচাতো ভাই।
বীরু মোল্লার ছেলে প্রত্যক্ষদর্শী রাজিব মোল্লা জানান, গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ নেতা জহুরুল মোল্লা ও তার ছেলে আল আমিন মোল্লা বাবার জমি থেকে ইটভাটার জন্য জোরপূর্বক মাটি কেটে নেন। এ বিষয়ে আজকে (বুধবার) সকাল সোয়া ৯টার দিকে জহুরুল মোল্লাকে মাটি কাটার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে গেলে তাৎক্ষণিক ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি ও তার ছেলে অবৈধ অস্ত্র দিয়ে আমার বাবার মাথায় গুলি করেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাটিতে লুটে পড়লে এলাকাবাসী তাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাসনিম তামান্না তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আজমল হোসেন সুজন বলেন, আমার দলের নেতাকে যারা হত্যা করেছে, তাদের দ্রত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, এটা কোনো দলীয় বিষয় নয়। বীরু মোল্লা অভিযুক্ত জহুরুল মোল্লার আপন চাচাতো ভাই। এই হত্যাকাণ্ড মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে ঘটেছে।
ঈশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুজ্জামান বলেন, বীরু মোল্লা নামে এক বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দুপুর সাড়ে ৩টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো মামলা করা হয়নি বলে জানান ওসি।
৭৯ দিন আগে
বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আসলাম চৌধুরী ও তার স্ত্রী নাজনীন মাওলা চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার(১৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালত-১ এর বিচারক মো. হেলাল উদ্দীন ব্যাংকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ এরশাদ বলেন, বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৬০ কোটি ৭৭ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। ব্যাংকের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড নগরীর পাহাড়তলী শাখা থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধ না করায় এ আদেশ দেওয়া হয়। ব্যাংকে যে বন্ধকি সম্পদ রয়েছে, তা নিলামে বিক্রির চেষ্টা করেও ব্যাংক ব্যর্থ হয়। ফলে ব্যাংকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আসলাম চৌধুরী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
পড়ুন: বিএনপির আসলাম চৌধুরীর জামিন চেম্বার আদালতে স্থগিত
বিভিন্ন মামলায় প্রায় আট বছর কারাগারে ছিলেন আসলাম চৌধুরী। গত বছর গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০ আগস্ট তিনি কারামুক্ত হন।
বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে ৭৬টি মামলা হয়।
২০১৬ সালের ১৫ মে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে আসলাম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরদিন ফৌজদারি কার্যবিধির (সন্দেহজনক) ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পাওয়ার পর একই বছরের ২৬ মে আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে গুলশান থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়। মামলায় তার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্টের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাংলাদেশের সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
১৯৯ দিন আগে
কনস্টেবলকে চড়-থাপ্পড়, বিএনপি নেতার নামে মামলা
সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা রিকশাচালককে সরে যেতে বলায় পুলিশ কনস্টেবলকে প্রকাশ্যে চড়-থাপ্পড় মারার ঘটনায় নওগাঁ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মামুনুর রহমান রিপনের নামে মামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) ভুক্তভোগী কনস্টেবল বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় অজ্ঞাত আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই পুলিশ কনস্টেবলের নাম আমিনুল ইসলাম। তিনি সদর ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত।
বুধবার (১৬ জুলাই) বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী।
আরও পড়ুন: বিদেশ পাঠানোর নামে প্রতারণা মামলা: বিএসবি গ্লোবালের বাশার রিমান্ডে
এর আগে সোমবার (১৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের মুক্তির মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ভুক্তভোগীকে চড়-থাপ্পড় মারার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল থেকেই মুক্তির মোড় এলাকায় ট্রাফিকের ডিউটিতে ছিলেন কনস্টেবল আমিনুল ইসলাম। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওই সড়ক হয়ে একটি মিছিল যাচ্ছিল জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ওই মুহূর্তে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থেকে সেখানে নামেন মামুনুর রহমান রিপন। এতে যানজট সৃষ্টি হলে রিকশাটিকে সেখান থেকে সরে যাওয়ার কথা বলেন কনস্টেবল আমিনুল ইসলাম।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করার পাশাপাশি ওই কনস্টেবলকে চড়-থাপ্পড় দিয়ে লাঞ্ছিত করেন মামুনুর রহমানসহ তার সঙ্গে থাকা ৭–৮ যুবক। পাশাপাশি ‘আওয়ামী দোসর’ ট্যাগ দিয়ে কনস্টেবল আমিনুল ইসলামকে নওগাঁ ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কনস্টেবল আমিনুল ইসলাম বলেন, রিকশাটিকে সরে যেতে বলায় মামুনুর রহমান অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। আমার দুই গালে কয়েকবার চড়-থাপ্পড় দিয়ে বাড়ি কোথায় জানতে চান। ঘটনার ভিডিও মামলার এজাহারের সঙ্গে সংযুক্ত করেছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মামুনুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ওসি নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই কনস্টেবল বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব বায়েজিদ হোসেন পলাশ বলেন, মামুনুর রহমান রিপন জেলা বিএনপির বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন। তার এমন কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের বিষয়টি অবগত করা হয়েছে।
২৩২ দিন আগে
নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে বিএনপি নেতাকে গাছের সঙ্গে বাঁধল গ্রামবাসী
প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে ঢুকে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে হাতেনাতে আটক হয়েছেন মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার ধামশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম মুনজেল (৪৫)। স্থানীয়রা তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে সামাজিকভাবে বিচার বসিয়েছে। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে।
স্থানীয়রা জানায়, চরদেশ গ্রামের এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে দীর্ঘদিন ধরে এক ব্যক্তির প্রবেশ নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিনের চাঞ্চল্য ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত রাতেও ওই ব্যক্তি প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে ঢোকার পর এলাকার লোকজন তাকে হাতে-নাতে আটক করে এবং গভীর রাত পর্যন্ত গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে।
অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম মুনজেল উপজেলার ধামশ্বর ইউনিয়নের গালা এলাকার মৃত শিরজন আলীর ছেলে।
ধামশ্বর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইদ্রিস আলী বলেন, রাত দুইটার দিকে এলাকাবাসী তাদের দুজনকে আটক করে গাছে বেঁধে রাখে। তারা দুজনেই অনৈতিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন। ওই নারীর প্রবাসী স্বামী এখন তাকে নিয়ে সংসার করবে না বলে জানিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত দুজনেই দুজনকে বিয়ে করতে রাজি আছেন। এখন সামাজিকভাবে বিষয়টা মীমাংসার চেষ্টা চলছে।
এদিকে,খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পরকীয়ার সম্পর্কে দুইজনই বিয়েতে সম্মত হয়েছেন। এ ব্যাপারে থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ধামশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান বলেন, অন্যায় ও গর্হিত কাজে অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম মুনজেলের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
২৩৭ দিন আগে
দোহারে বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা
ঢাকার দোহার উপজেলার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুনুর রশিদ ওরফে হারুন মাস্টারকে গুলি হত্যা করা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বুধবার (২ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে দোহার বাহ্রা স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হারুন মাস্টার (৬৫) বাহ্রা গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে। দোহার নয়াবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিলেন তিনি।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, আজ সকালে ফজরের নামাজ পড়ে বাড়ির পাশে নদীর ধারে হাঁটতে যান হারুন মাস্টার। এ সময় তিন যুবক এসে হঠাৎ তাকে লক্ষ করে কয়েক রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলি করার সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। শব্দ শুনে এগিয়ে গিয়ে একালাবাসী তাকে দোহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: বাড্ডায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে বিএনপি নেতা নিহত
স্থানীয়রা জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দোহারে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চলেছিল। বিএনপির কিছু নেতা-কর্মীর কার্যকলাপ নিয়ে হারুন মাস্টার প্রতিবাদ জানালে সেই শাসনই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। এ ছাড়া স্থানীয় বালু ব্যবসা নিয়েও টানাপোড়েন ছিল বলে একাধিক সূত্র জানায়।
নিহতের ভাতিজা মো. শাহিন বলেন, ফজরের নামাজ শেষে প্রতিদিন ভোরে আমার চাচা হাঁটতে বের হন। হাঁটার সময় আজ তিন যুবক চাচাকে লক্ষ করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি করে।
দোহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. নুসরাত তারিন বলেন, তার মাথা ও ঘাড়সহ শরীরের অন্যান্য স্থানে ছয়টি গুলির ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে।
খবর পেয়ে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, স্থানীয় কারো সঙ্গে পূর্বশত্রুতার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে কিনা, এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
২৪৭ দিন আগে