পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক তৎপরতা ঠেকাতে সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ
ভারতে পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ব্যক্তি যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এ ধরনের কার্যক্রম দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ঢাকায় নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ভারতের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার এবং এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রকাশ্য বক্তব্যের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
এ সময় পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ভারতের হাইকমিশনারকে জানান, পলাতক শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ব্যক্তি যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভারতের হাইকমিশনার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া এবং এ বিষয়ে সচেষ্ট থাকার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাতকালে উভয় পক্ষ নিয়মিত সংলাপ ও গঠনমূলক সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি পারস্পরিক আস্থা ও আলোচনার মাধ্যমেই সব বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান অর্জন সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে, পৃথক এক বার্তায় ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, এই আলোচনাটির কেন্দ্রে ছিল পারস্পরিক আগ্রহ ও পারস্পরিক কল্যাণের ওপর ভিত্তি করে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে জনগণ-কেন্দ্রিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। হাই কমিশনার ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়নমূলক আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের সাথে ইতিবাচকভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে ভারতের অভিপ্রায়ের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
১১ দিন আগে
কৌশলগত কারণে সৌদি জোটে যোগদান, ইরানকে আঘাতের উদ্দেশ্যে নয়: হুমায়ুন কবির
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যোগদান কোনোভাবেই ইরানকে লক্ষ্য করে নয়; বরং সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং হুথি হুমকি মোকাবিলায় সহযোগিতার অংশ বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
রবিবার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সৌদি আরবের নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ যোগ দিয়েছে হুথিদের হুমকি মোকাবিলার জন্য। অন্যদিকে আমরা ইরানের সঙ্গেও কথাবার্তা বলছি। তাই এটিকে কোনোভাবেই ইরানকে বাদ দেওয়া বা আঘাত করার কিছু হিসেবে দেখার কারণ নেই।
তিনি বলেন, মূল বিষয়টি হলো সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্ক শুধু হজ, ওমরাহ বা তীর্থযাত্রার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটিকে শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ নেই। ঢাকা ও রিয়াদের সম্পর্ক হবে একটি কৌশলগত সম্পর্ক। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি সম্পর্ক হবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরব ইসলাম ধর্মের দুটি পবিত্র মসজিদ—মক্কা ও মদিনার রক্ষক। এ কারণে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। যেকোনো সময় সৌদি আরবের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তারা যদি সহযোগিতা চায়, এই আত্মিক ও নৈতিক সম্পর্কের জায়গা থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সবসময় সহায়তার জন্য সাড়া দেবে।
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল বিশেষ দূত সার্জিও গরের সাম্প্রতিক ঢাকা সফর ছিল একটি পরিচিতিমূলক ও অনুসন্ধানমূলক সফর। এটি ছিল তার বাংলাদেশে প্রথম সফর এবং এর মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করা।
তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সার্জিও গরের বৈঠক অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, ভূরাজনীতি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সহযোগিতাসহ বিস্তৃত বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, সফর শেষে সার্জিও গর প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘সর্বোচ্চ সম্মান’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন, যা দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা ও পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বাংলাদেশকে তারা গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে। তার ভাষায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
চীনা বিনিয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আপত্তি বৈঠকে উত্থাপিত হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে যেমন চীনের বিনিয়োগ রয়েছে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোরও বিনিয়োগ রয়েছে। সরকার কোনো পক্ষের সঙ্গে বিরোধে না গিয়ে সব অংশীদারের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে চায়।
১২ দিন আগে
বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছে এবং প্রক্রিয়াটি নিয়ে আলোচনা চলছে।
রবিবার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আমরা প্রক্রিয়া শুরু করেছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আলোচনা চলছে। অগ্রগতি হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি জানানো হবে।
দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদের জামিন পাওয়ার বিষয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য তার কাছে নেই। ‘আমি বিভিন্ন বৈঠক থেকে এসেছি। বিষয়টি সম্পর্কে আপডেট না জেনে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাবে।’
একই ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল বিশেষ দূত সার্জিও গরের সাম্প্রতিক ঢাকা সফর ছিল একটি পরিচিতি ও অনুসন্ধানমূলক সফর। এটি ছিল তার বাংলাদেশে প্রথম সফর এবং এর মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করা।
তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সার্জিও গরের বৈঠক অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, ভূরাজনীতি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সহযোগিতাসহ বিস্তৃত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, সফর শেষে সার্জিও গর প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘সর্বোচ্চ সম্মান’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন, যা দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা ও পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বাংলাদেশকে তারা গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে। তার ভাষায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এটি মূলত সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অংশ। তিনি বলেন, সৌদি আরবের নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ যোগ দিয়েছে, হুতিদের হুমকি মোকাবিলা করার জন্য। অন্যদিকে আমরা ইরানের সাথেও কথাবার্তা বলছি, তাই এটিকে কোনোভাবেই ইরানকে বাদ দেওয়া বা আঘাত করার কিছু হিসেবে দেখার কারণ নেই।
তিনি বলেন, মূল বিষয়টা হলো সৌদির সাথে আমাদের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। সৌদির সঙ্গে সম্পর্কটা শুধু তীর্থযাত্রা, ওমরাহ বা হজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটিকে শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবেন না, ঢাকা ও রিয়াদের সম্পর্ক হবে একটি কৌশলগত সম্পর্ক। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি সম্পর্ক হবে।
তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব দুটি পবিত্র মসজিদ মক্কা ও মদিনার রক্ষক। তাই এখানে আমাদের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। যেকোনো সময় সৌদি আরবের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তারা যদি কোনো সহযোগিতা চায়, এই দৃঢ় আত্মিক সম্পর্ক থেকে এবং নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে সবসময় সৌদি আরবকে সহায়তার জন্য সাড়া দেবে।
চীনা বিনিয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আপত্তি বৈঠকে উত্থাপিত হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি। তার মতে, বাংলাদেশে চীনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোরও বিনিয়োগ রয়েছে এবং সরকার সব অংশীদারের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে চায়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ বৈঠকে উঠেছিল কি না জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘শেখ হাসিনা এখন একটি অপ্রাসঙ্গিক বিষয়। এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’
আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ডায়ালগ পার্টনার’ এবং ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’—দুটি ভিন্ন বিষয়। এ দুটি ধারণা নিয়ে বিভ্রান্তি না রাখারও পরামর্শ দেন তিনি।
১২ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে আইআরসি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (আইআরসি) একটি প্রতিনিধিদল।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়৷ বৈঠকে বাংলাদেশে দুর্যোগ প্রস্তুতি, ঝুঁকি হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন আইআরসির এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক উপপরিচালক হাসিনা রহমান। প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির আঞ্চলিক অ্যাডভোকেসি বিশেষজ্ঞ এবং অ্যাডভোকেসি ও কমিউনিকেশন প্রধান শাবিরা নূপুর।
এ সময় বাংলাদেশে দুর্যোগ প্রস্তুতি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আইআরসির সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেন উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবিলায় জনগণের সক্ষমতা বাড়ানো, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে সহনশীলতা গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রাণহানি ও জীবিকার ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব।’
আলোচনায় উভয় পক্ষ দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি জোরদার করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, জলবায়ুজনিত দুর্যোগ ও অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কমিউনিটির সক্ষমতা উন্নয়ন এবং টেকসই সহনশীলতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অগ্রাধিকারসমূহ বাস্তবায়নে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও অভিঘাত মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি বাংলাদেশ ও আইআরসির মধ্যকার সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন সংশ্লিষ্টরা।
৫৭ দিন আগে
আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে, সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরালো করার ইঙ্গিত দিয়েছেন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছান। এদিন কর্মসূচির শুরুতে তিনি পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়ামের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের দপ্তরে যান।
বৈঠক শেষে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে চমৎকার বৈঠক হয়েছে। আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।’
এদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক কমানোর সুযোগ খুঁজছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে আগামীকাল (সোমবার) বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একটি বাণিজ্যচুক্তি সই করতে পারে।
১৮৭ দিন আগে
হাদি হত্যার বিচার নিয়ে তাড়াহুড়া নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিয়ে তাড়াহুড়া করার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘বিচার এমন একটি বিষয়, যেটি নিয়ে তাড়াহুড়া করার কোনো সুযোগ নেই। তবে অবশ্যই আমরা তাদের (আসামি) ফেরত আনার চেষ্টা করছি।’
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
হাদি হত্যা মামলার আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে উপদেষ্টা বলেন, ‘এখনো শতভাগ নিশ্চিতভাবে আমরা বলতে পারছি না। অন্তত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে এখনো নিশ্চিত করে বলা হয়নি যে জড়িতরা নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় অবস্থান করছেন।
‘ইন্টারোগেশন (জেরা) থেকে আমরা কিছু ইঙ্গিত পেয়েছি যে, তারা সম্ভবত সীমান্ত পার হয়ে গেছে। যদি আমরা খুব সুনির্দিষ্ট কোনো অবস্থান শনাক্ত করতে পারি, তাহলে ভারতকে বলতে পারব যে অমুক জায়গায় তিনি আছেন, তাকে ধরে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হোক।’
তিনি বলেন, ‘এমনিতেই ভারতের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ বজায় রয়েছে। দেখা যাক, এ ব্যাপারে আমরা কতটা অগ্রগতি করতে পারি।’
এই মামলার বিচার কতদিনে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘বিচারের ক্ষেত্রে কখনোই সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া যায় না যে এত দিনের মধ্যেই শেষ হবে। এটি সম্পূর্ণ আদালতের বিষয়। তবে আপনারা জানেন, ইতোমধ্যেই চার্জশিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। চার্জশিট বিচারব্যবস্থার প্রাথমিক ধাপ যা পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে এবং পুলিশই তা করবে। এরপর সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক চেষ্টা থাকবে যেন যত দ্রুত সম্ভব অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করে শাস্তি নিশ্চিত করা হয়। বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করবে আদালত, সরকার সার্বিক সহযোগিতা করবে।’
এ সময় নির্বাচন নিয়ে বাইরের কোনো চাপ রয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা রয়েছে এবং মোটের ওপর বহির্বিশ্বের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো। চাপের কোনো প্রশ্নই নেই।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা নিজেরাই নির্বাচন করতে চাইছি। সেক্ষেত্রে বাইরের কোনো চাপের প্রয়োজন নেই। এই সরকার চায়, যত দ্রুত সম্ভব ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন আয়োজন করে নির্বাচিত সরকারের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে। এটাই আমাদের লক্ষ্য।
‘সময় খুবই সংক্ষিপ্ত, মাত্র ছয় সপ্তাহ। তাই এখানে কারও চাপের বিষয় নেই। আমরা নিজেরাই সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং ইনশাল্লাহ, সময়মতো বিষয়গুলোর সমাধান করতে পারব।
‘আর অন্যান্য দেশ আমাদের সঙ্গে কতটা ভালো সম্পর্ক রাখবে, সেটি তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়, আমাদের নয়।’
এর আগে, বেলা ১১টার দিকে মুন্সীগঞ্জ শহরের দক্ষিণ কোটগাঁওয়ে অবস্থিত জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে শহিদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। এরপর শহরের উত্তর ইসলামপুর এলাকায় জুলাই আন্দোলনে শহিদ তিনজনের কবর জিয়ারত করেন।
এ সময় মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা তার সঙ্গে ছিলেন।
২২৩ দিন আগে
বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ, নয়াদিল্লির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান ঢাকার
নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের বাইরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ। ঢাকা বলেছে, ওই বিক্ষোভের কারণে হাইকমিশনার ও তার পরিবার নিরাপত্তা শঙ্কা অনুভব করেছেন।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এ বিষয়ে ঢাকার অবস্থান তুলে ধরেন।
উপদেষ্টা বলেন, ভারতের দাবি অনুযায়ী নয়াদিল্লির বাংলাদেশ দূতাবাসের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভাঙার চেষ্টা হয়নি। বরং ২০–২৫ জন যুবক ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাসের হত্যার প্রতিবাদে স্লোগান দিয়েছে। তবে ভারতের প্রেসনোটে এ বিষয়টি ‘সহজভাবে’ উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ পুরোপুরি গ্রহণ করছে না।
তিনি বলেন, মাত্র ২০–২৫ জন হিন্দু চরমপন্থীর একটি দল কূটনৈতিক এলাকায় এত গভীরে প্রবেশ করতে পারবে কেন? এটা স্পষ্টভাবে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের লঙ্ঘন। একজন বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনা কেন সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, তা আমাদের কাছে অপ্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশ এই ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।
তৌহিদ হোসেন বলেন, দূতাবাসের ভেতরে থাকা কর্মকর্তারা নিরাপত্তা শঙ্কা অনুভব করেছেন, যথেষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল না। আমরা পরিস্থিতি খারাপ হলে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সীমিত করার পদক্ষেপ নিতে পারি।
আরও পড়ুন: নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে নিরাপত্তা ভাঙার চেষ্টা হয়নি: ভারত
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে উগ্রবাদী সংগঠন অখণ্ড হিন্দু রাষ্ট্রসেনার অন্তত ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল চার থেকে পাঁচটি গাড়িতে করে নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করে বাংলাদেশ হাউসের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেয়। সেখানে তারা কিছু সময় ধরে বাংলাদেশবিরোধী উগ্র স্লোগান দিতে থাকে। সে সময় বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে হুমকিও দেয় তারা।
এ ব্যাপারে নয়াদিল্লিতে আজ (রবিবার) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘বিষয়টি হচ্ছে, নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনের সামনে ২০–২৫ জন তরুণ জড়ো হয়ে ময়মনসিংহে দিপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে স্লোগান দেন। তারা বাংলাদেশে সব সংখ্যালঘুর সুরক্ষার আহ্বান জানান।’
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসব ঘটনার দৃশ্যমান প্রমাণও রয়েছে। চাইলে যে কেউ তা দেখতে পারেন।
এ সময় ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী নিজেদের ভূখণ্ডে বিদেশি মিশন ও পোস্টগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও মন্তব্য করেন জয়সওয়াল।
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে উদ্ভূত পরিস্থিতির ওপর ভারত নিবিড়ভাবে নজর রাখছে। ভারতীয় কর্মকর্তারা বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। এছাড়া (বাংলাদেশে) সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় কর্তৃপক্ষের কাছে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।’
জয়সওয়াল বলেন, দিপু চন্দ্র দাসের বর্বর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে ভারত।
২৩৬ দিন আগে
পদ বাঁচাতে তিন উপদেষ্টাকে তিন দাবি পূরণের আল্টিমেটাম ডাকসুর
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় ৩ দফা দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে স্বরাষ্ট্র, আইন ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বৈঠকে এই আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
ডাকসুর পক্ষ থেকে প্রথম দাবিতে বলা হয়, ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের সঙ্গে জড়িত প্রত্যক্ষ হামলাকারী, পরিকল্পনাকারী ও সহায়তাকারী সব সন্ত্রাসীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। একইসঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থাসহ রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সব অর্গানকে (অঙ্গ সংস্থাকে) দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। যাদের গাফিলতি প্রমাণিত হবে, তাদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবিও জানানো হয়। পাশাপাশি এই হামলাকে সমর্থন ও উসকানি দেওয়া ‘কালচারাল ফ্যাসিস্টদের’ সামাজিকভাবে সম্পূর্ণ বয়কটের আহ্বান জানানো হয়। এসব পদক্ষেপ দ্রুত দৃশ্যমান করার দাবি করে ডাকসু।
দ্বিতীয় দাবিতে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে এলাকাভিত্তিক চিরুনি অভিযান শুরুর আহ্বান জানানো হয়। নিষিদ্ধ সংগঠনের সব স্তরের নেতাকর্মী ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানিয়ে বলা হয়, এ বিষয়ে সরকারের অবহেলা আর মেনে নেওয়া হবে না।
তৃতীয় দাবিতে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে মানবতাবিরোধী অপরাধে দেওয়া রায় কার্যকরের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে গণহত্যাকারী ও অভিযুক্তদের আশ্রয় দেওয়ার প্রতিবাদে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়। অভিযুক্তদের ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা যাবে না বলেও দাবি জানানো হয়।
গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেলে করে আসা দুই আততায়ীর একজন চলন্ত রিকশায় থাকা ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
কিন্তু সেখানে অবস্থার খুব বেশি পরিবর্তন না হওয়ায় আজ (সোমবার) দুপুরে হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছে। দুপুর ২টার দিকে হাদিকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।
২৪২ দিন আগে
আসন্ন নির্বাচন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য অ্যাসিড টেস্ট: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় পরীক্ষা বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে পরাজিত ব্যক্তি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সজাগ থাকতে হবে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে রংপুর জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের সবকিছুর ভিত্তি আইনশৃঙ্খলা। শুরুতে সমস্যা থাকলেও এখন অবস্থা ভালো। পুলিশ গুছিয়ে উঠে নিজেরা সংহত হতে পেরেছে। সামনে নির্বাচন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় টেস্ট (পরীক্ষা)। কেননা অধ্যাপক ইউনূস বলেছেন, সামনের নির্বাচন একটি আদর্শ নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচন নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সজাগ থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘পুলিশ ইতোমধ্যেই তাদের অবস্থান সুসংগঠিত করেছে। সামনে জাতীয় নির্বাচন, আমাদের অ্যাসিড টেস্ট। নির্বাচনে পরাজিত ব্যক্তি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবে। আমরা চাই, ভালো একটা নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব দিয়ে চলে যেতে।’
তৌহিদ হোসেনের মতে, ‘দুটো সেক্টরে (খাতে) বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার: শিক্ষা ও স্বাস্থ্য। বাইরের দেশে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, কিন্তু আমরা পারছি না। আমরা চেষ্টা করছি। ডাক্তার, নার্সের সমস্যা নিরসনের অংশ হিসেবে (অন্তর্বর্তী সরকারের) এই স্বল্প সময়ে সাড়ে ৩ হাজার নার্স ও ৩ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই খাতে বাজেট বাড়ানো হয়েছে। আগামী বছর তা দেখা যাবে। আমরা কিছু প্রকল্প শুরু করেছি। আশা করছি, পরের সরকার তা ধরে রাখবে।’
প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের প্রাথমিক শিক্ষার খুব ভয়ঙ্কর বাজে অবস্থা। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা প্রাইমারি শিক্ষকদের অনেক বেশি বেতন দিই, কিন্তু তাদের মধ্যে কোনো কর্মস্পৃহা দেখতে পাই না।’
২৫১ দিন আগে
তারেক রহমানের ফেরার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে সরকার এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান এখনো ট্রাভেল পাসের জন্য আবেদন করেননি। তিনি আবেদন করলেই সরকার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দ্রুত ইস্যু করবে।
সাম্প্রতিক সময়ে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তার ছেলের দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হলেও সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা পায়নি বলে জানান তিনি।
তার কথায়, তারেক রহমানের পরিবার বা বিএনপির পক্ষ থেকেও তার দেশে ফেরার বিষয়ে এখনো সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠাতে চাইলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। দল বা পরিবার সিদ্ধান্ত নিলে তাকে বিদেশে পাঠাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সরকার।
এর আগে, গেল রবিবারও (৩০ নভেম্বর) তিনি জানিয়েছিলেন, তারেক রহমান দেশে ফিরতে চাইলে সরকার এক দিনের মধ্যেই ‘ওয়ান-টাইম ট্রাভেল পাস’ প্রদান করতে সক্ষম। তার ভাষ্যে, ‘আজ জানালে কালই আমরা পাস দিতে পারব, আর পরশুদিনই তিনি দেশে ফেরার ফ্লাইটে উঠতে পারবেন।’
২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় ১৮ মাস কারাভোগ করেন তারেক রহমান। পরে ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পান এবং তার কয়েক দিন পরই (১১ সেপ্টেম্বর) পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। এরপর থেকে সেখানেই অবস্থান করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
সরকারের মতে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা পুরোপুরি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, আর এ বিষয়ে যে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পেলেই সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
২৫৫ দিন আগে