নির্বাচন পর্যবেক্ষণ
নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্য ভোটার উপস্থিতির আহ্বান ইইউয়ের
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশে আসা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভারস ইয়াবস বলেছেন, ব্যালটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন—এই দুটি ঐতিহাসিক নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে তিনি সমাজের সব শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণ এবং ভোটারদের বিশ্বাসযোগ্য উপস্থিতির ওপর জোর দিয়েছেন, যাতে তারা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ইয়াবস বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে, বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছভাবে নির্বাচন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আশা করছি, নির্বাচনি প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস গড়ে তুলতে এখানে আমাদের কার্যক্রম ভূমিকা রাখবে।’
তফসিল অনুযায়ী, বর্তমানে মনোনয়নপত্র নিয়ে আপিল শুনানি চলছে, যা চলবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি, যা চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। তারপর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনের দুই দিন পর, অর্থাৎ আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নিয়ে একটি প্রাথমিক বিবৃতি দেবে ইইউ মিশন। ওইদিন ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে তাদের। তার দুই মাসের মধ্যে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য সুপারিশসহ একটি পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করবে তারা।
ইভারস ইয়াবস জানিয়েছেন, ২০০৫ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে অনুমোদিত ‘আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা’ অনুযায়ী তাদের মিশনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বাংলাদেশেও ইইউ পর্যবেক্ষক মিশনের সবাই কঠোর আচরণবিধি মেনে চলবেন।
আসন্ন নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ইইউ দেয় গত ১৬ ডিসেম্বর। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস ইয়াবস প্রধান পর্যবেক্ষক হিসেবে ওই দলের নেতৃত্ব দেবেন বলে সেদিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়। এরপর ডিসেম্বরের শেষ দিকে দলটি বাংলাদেশে এসে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। সবশেষ আজ (রবিবার) আরও ৫৬ জন পর্যবেক্ষক দীর্ঘ সময় বাংলাদেশে অবস্থানের জন্য ঢাকা পৌঁছেছেন। দেশের ৬৪ জেলায় দলটি তাদের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের পর এটিই বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন।
এ বিষয়ে প্রধান পর্যবেক্ষক ইয়াবস বলেন, ‘পারস্পরিক সম্মান ও গণতান্ত্রিক নীতিতে অভিন্ন অঙ্গীকারের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউয়ের অংশীদারত্বের গুরুত্ব পুনরায় নিশ্চিত করে এই মিশন।’
ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সফরের শুরুতে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চলমান নির্বাচনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রত্যক্ষ তথ্য নেন ইয়াবস।
মিশনের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নির্বাচন প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, বিচার বিভাগ, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন পর্যবেক্ষকরা। সেইসঙ্গে নির্বাচনের প্রস্তুতি, আইনগত কাঠামো ও তার বাস্তবায়ন, নির্বাচনি প্রচারণা এবং নির্বাচনসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিসহ পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করবেন তারা। এছাড়া রাজনৈতিক দল এবং নারী, তরুণ ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীসহ সব নাগরিকের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সামগ্রিক পরিসর মূল্যায়ন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ইয়াবস জানিয়েছেন, এ ছাড়াও ভোটারদের সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কতটা সহায়ক ভূমিকা রাখছে, তা পর্যালোচনার জন্য ইইউ মিশনের আলাদা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ ইউনিট রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, জাতীয় আইন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক নির্বাচনি মানদণ্ডের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাও মূল্যায়ন করবে এই মিশন।
প্রধান পর্যবেক্ষক বলেন, ‘তিনটি মূল নীতির ওপর ভিত্তি করে আমরা নির্বাচনের কারিগরি মূল্যায়ন করে থাকি, সেগুলো হলো: স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও হস্তক্ষেপ না করা। এ লক্ষ্যে আমরা দীর্ঘমেয়াদি, দেশব্যাপী পর্যবেক্ষণ করা যায়—এমন একটি শক্তিশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি অনুসরণ করব। আমরা পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করব, তবে ভোটের ফল নিয়ে প্রত্যয়ন করব না। এই নির্বাচন কেবল বাংলাদেশের জনগণের।’
পূর্ণ সক্ষমতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্যরাষ্ট্র ছাড়াও কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক এই মিশনে অংশ নেবেন। এর মধ্যে ঢাকাভিত্তিক ১১ সদস্যের একটি মূল বিশ্লেষক দল, ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক, নির্বাচনের ঠিক আগে মোতায়েনযোগ্য ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক এবং ইইউ সদস্যরাষ্ট্র ও অংশীদার দেশগুলোর কূটনৈতিক মিশন থেকে পর্যবেক্ষকেরা থাকবেন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধিদল মিশনকে আরও শক্তিশালী করবে।
২২ ঘণ্টা আগে
দূতাবাসের আয়োজনে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ
ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের আমেরিকান সেন্টারে বুধবার (৬ নভেম্বর) আয়োজিত হয়েছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যবেক্ষণ অনুষ্ঠান।
বিশেষ এই আয়োজনে বাংলাদেশের তরুণ সমাজ এবং অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনি প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের সুযোগ পায়।
আরও পড়ুন: দেশকে সবার আগে রাখতে হবে: নির্বাচনের রাতের ভাষণে ট্রাম্প
তরুণ নেতারা, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের সদস্যরা অংশগ্রহণ এবং নির্বাচনের তাৎপর্য ও গণতন্ত্রে তরুণদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমের মধ্যে ছিল প্রতীকী নির্বাচন। যেখানে অংশগ্রহণকারীরা তাদের প্রিয় আমেরিকান মিনিস্টারের পক্ষে ভোট দেন।
এছাড়া, দুটি প্যানেল আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়।
অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি আপডেটের মাধ্যমে নির্বাচনি ফলাফল পর্যবেক্ষণ করেন, যা তাদের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ দেয়।
ভারপ্রাপ্ত চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মেগান বোলডিন বলেন, ‘নির্বাচনি প্রক্রিয়া গণতন্ত্রের জীবন্ত উদাহরণ। বাংলাদেশের তরুণদের এই অভিজ্ঞতায় সম্পৃক্ত করে আমরা গণতন্ত্রের গুরুত্ব এবং নাগরিক অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও ভালোভাবে বোঝার সুযোগ করে দিতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘আশা করি এই আয়োজন নেতা-নেত্রীদের অনুপ্রাণিত করবে যেন তারা তাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নিজেদের কণ্ঠস্বরের মূল্যায়ন করে।’
এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ অনুষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের আন্তঃসাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রসারের প্রচেষ্টার একটি অংশ।
আরও পড়ুন: নিউ হ্যাম্পশায়ারে প্রথম ব্যালটের মধ্য দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু
৪৩১ দিন আগে