স্বাস্থ্যসেবা
চিকিৎসকদের মানবিক মানুষে রূপান্তর হওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন চিকিৎসকদের আরও মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগমুক্ত করা সম্ভব নয়; রোগ নিরাময়ের পাশাপাশি এখন প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীতে জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম)-এ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্বখাতে পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রমের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এম এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।
শুধু ওষুধ দিয়ে জাতিকে রোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব নয় উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এখন শুধু রোগ নিরাময় নয়, বরং রোগ প্রতিরোধের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এর জন্য একদম জিরো (শূন্য) বয়স থেকে উদ্ভাবনী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
১৫ দিন আগে
প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সহজ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
প্রান্তিক মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত, সহজলভ্য ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের রোগীদের প্রতি আরও আন্তরিক হয়ে দায়িত্ব পালনের তাগিদ দিয়ে অবহেলার অভিযোগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। এটাই ছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অডিটোরিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বৈঠক।
বৈঠকের শুরুতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত পাঁচ মাসে স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তারা স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন উদ্যোগ ও অগ্রগতি তুলে ধরেন।
কর্মকর্তারা জানান, বিগত সরকারগুলো স্বাস্থ্যখাত একে বারে খাদের কিনারে নিয়ে গিয়েছিল। প্রান্তিক মানুষের যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
বৈঠকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসাসেবা-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগও আলোচনায় আসে। বিশেষ করে চিকিৎসক কর্মস্থলে উপস্থিত থাকলেও রোগীরা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগ এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, গ্রামের মানুষের জন্য যেকোনো উপায়ে স্বাস্থ্যসেবা সহজ করতে হবে। সরকারি হাসপাতালে যেন রোগীরা কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই মানসম্মত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পান এবং চিকিৎসার জন্য অন্য কোথাও যেতে বাধ্য না হন। সরকারি হাসপাতালকে মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
কিডনি রোগীদের চিকিৎসা নিয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জেলা পর্যায়ে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টারগুলো পর্যায়ক্রমে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলা পর্যায়ে ধাপে ধাপে ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল তৈরি এবং লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেন তিনি।
বৈঠকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সরকারি উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীরা অবকাঠামো উন্নয়নের নকশা ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের পরিচালক ও শীর্ষ কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন।
২৫ দিন আগে
পরিবার পরিকল্পনার বর্তমান কাঠামোটি আমাদের জন্য বোঝা নয়, বরং বড় সম্পদ: প্রতিমন্ত্রী
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, আমাদের সরকারের স্বাস্থ্য পরিকল্পনার মূল ভিত্তিই হচ্ছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা। আমরা এমন একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বানাতে চাই, যা সম্পূর্ণ পুনর্গঠিত এবং আধুনিক। এখানে পরিবার পরিকল্পনার বর্তমান কাঠামোটি আমাদের জন্য বোঝা নয়, বরং বড় সম্পদ। তবে সময়ের প্রয়োজনে আমাদের এই ব্যবস্থায় বিবর্তন আনতেই হবে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও জাতীয় পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি’ বিষয়ক এক নীতি সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। সুইডেন ও বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের যৌথ উদ্যোগে এই সংলাপের আয়োজন করা হয়।
মাঠপর্যায়ের সেবায় কাজের ডুপ্লিকেশন বা দ্বৈততা কমাতে নতুন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পরিবার পরিকল্পনা এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের অধীনে প্রায় ৪০ হাজার কর্মী তিন-চার ভাগে বিভক্ত হয়ে কাজ করছেন। সরকার আরও ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। বর্তমান ও নতুন মিলিয়ে মোট ১ লাখ ৪০ হাজার কর্মীকে একটি সমন্বিত কাঠামোর অধীনে আনা হবে। তাদের সবার জন্য একই ধরনের জব ডেসক্রিপশন এবং ‘এসেনশিয়াল সার্ভিস প্যাকেজ’ নিশ্চিত করা হবে যাতে সেবার মান একরূপ হয়।
ড. মুহিত বলেন, এখন থেকে শুধুমাত্র জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন, রোগ-প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বেশি জোর দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘একই বাড়িতে তিনবার আলাদা আলাদা কর্মী যাওয়ার ফলে যেমন ডুপ্লিকেশন হয়, তেমনি দূরের অনেক বাড়ি বাদ পড়ে যায়। সমন্বিত কাঠামো হলে এই ঘাটতি আর থাকবে না।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এখন দেশের ৫০ শতাংশ মানুষ ব্যক্তিগত উদ্যোগে গর্ভনিরোধক সামগ্রী কিনে ব্যবহার করেন। যথাযথ সচেতনতা বাড়াতে পারলে এটি ৭০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। ফলে সরকারের ওপর চাপ কমবে এবং সরকার সেই সম্পদ জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে ব্যয় করতে পারবে।
স্বাস্থ্য খাতের অর্থনীতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থের চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হলো আমাদের অদক্ষতা এবং সময়মতো বাস্তবায়ন করতে না পারা। সরকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে এবং পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্য বাজেটের আকার উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে তাৎক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ এবং স্থানীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্যানেল আলোচনায় আরও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আশরাফী আহমাদ, সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তসলিম উদ্দিন খান, সুইডিশ দূতাবাসের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডা. মোহাম্মদ জাহিরুল ইসলাম, জনসংখ্যা পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ডা. উবায়দুর রব, বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের উপদেষ্টা ডা. ইয়াসমিন এইচ আহমেদ, প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি শিশির মোড়ল এবং বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্য ও জ্যেষ্ঠ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আবু জামিল ফয়সেল।
৯৯ দিন আগে
স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার: জুবাইদা রহমান
স্বাস্থসেবা কোনো সুবিধা নয়, বরং এটি প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার হয়েছে। তবে সরকার এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যাতে কোনো নাগরিক প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আয়োজিত ‘স্বাস্থ্যসেবার সমতা প্রতিষ্ঠায় ঢাকা-১৭ এর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন’ স্লোগানে শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জুবাইদা রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিনের অবহেলার শিকার। কড়াইল, ভাসানটেক ও সাততলা বস্তিবাসীর জন্য সাধ্যমতো সর্বাত্মক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করতে আজকে আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি।
তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত চাপের মুখে। স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরুসাহিত ও অসমভাবে বঞ্চিত। মানসম্মত সেবায় প্রবেশাধিকার প্রতিদিন লাখও মানুষের কাছে এক অসময় লড়াই। স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭২ শতাংশ সরাসরি জনগণ বহন করে। ফলে অসুস্থতা এখন দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ।
প্রধানমন্ত্রী সহধর্মিণী বলেন, বাংলাদেশ একটি সুস্থ, বেশি উৎপাদনশীল, আত্মনির্ভর ও সার্বভৌম দেশ। আর কোনোদিন কড়াইল-ভাসানটেক ও সাততলার জনগণ চিকিৎসাসেবা থেকে যেন বঞ্চিত না হয়; নবজাতক শিশু থেকে শুরু করে বয়োজেষ্ঠ্য সবাই যেন সুচিকিৎসা পায়; অন্তঃসত্ত্বা মা-বোনেরা জটিল সমস্যার সমাধান এবং তারা যেন দ্রুত ও সহজে চিকিৎসা পায়, সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।
তিনি বলেন, এই এলাকায় মূলত যাদের বসবাস, তারা এই শহরের জীবনযাত্রা চলমান রেখেছে। পোশাকশিল্পকে উজ্জ্বল করেছে। তাদের অসাধারণ শ্রম প্রতিটি কর্মক্ষেত্রকে সচল রেখেছে। কিন্তু তাদের মধ্যে ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ এলাকাবাসী প্রতিদিনের স্বাস্থ্য সমস্যার সমধান খুঁজতে স্থানীয় ফার্মেসির শরণাপন্ন হন। তারা আসলে যেকোনো মূল্যে সুস্থ হতে চান, যেন অসুস্থতার জন্য চাকরি বা ব্যবসায় থেকে ছুটি না নিতে হয়। বিষয়টি সত্যিই অভাবনীয়!
ডা. জুবাইদা বলেন, আমাদের এই এলাকাবাসীর মধ্যে কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবী প্রয়োজন, যারা এই চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নাম সবাইকে অবহিত করবেন। সেই নাম কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। আমি আশাবাদী, ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্গত স্বেচ্ছাসেবী ও কুর্মিটোলার সদস্যরা একত্রিত হয়ে বহু প্রাণ বাচাঁতে সক্ষম হবে। এখানকার স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।
এর আগে ডা. জুবাইদা রহমান কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি প্যাভিলিয়ন, গ্যাস্ট্রোলিভার সেন্টার ও ৫০ শয্যা আইসিইউর উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনের পর তিনি আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসা সেবার মান সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিতে চিকিৎসকদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, বিএনপির ঢাকা-১৭ নির্বাচনি পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য (ডা. জুবাইদা রহমান) যিনি আজকে আপনাদের সামনে এসেছেন। এটা দায়বদ্ধাতার প্রতিফলন। এই আসাটা জনগণের মধ্যে আশার আলো সৃষ্টি করবে। বুঝতে হবে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশে একটা দায়বদ্ধতার রাজনীতির মেরুকরণ নতুনভাবে সৃষ্টি করতে চান।
সবার জন্য সুস্বাস্থ্য, এটা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই মতবিনিময়, এটাকে রাজনৈতিক নতুন মেরুকরণের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা দিচ্ছেন।
বর্তমান সরকারের আমলে বাংলাদেশে চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে গুনগত পরিবর্তন আসবে, এমন আশা প্রকাশ করে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের এই আমলে চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে দ্রুত একটা গুণগত পরিবর্তন আসবে। সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে তা প্রমাণ করেছেন।
তিনি বলেন, ইতিহাস থেকে জানি, আমাদের শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারের সময়ে কৃষি ও সেচব্যবস্থার উন্নতির ফলে খাদ্য উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছিল। এখন আমরা চিকিৎসা এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে যদি এরকম দ্রুত সময়ের মধ্যে একটা পরিবর্তন আনতে পারি, সেটাই হবে বড় সফলতা।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান জানান, নতুন আইসিইউ ইউনিটে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষিত জনবল এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে গুরুতর রোগীরা দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসা পাবেন।
১০১ দিন আগে
সাশ্রয়ী ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চিকিৎসকদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
জিডিপির ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তৃণমূল পর্যায়ে কর্মরত চিকিৎসকদের প্রতি সহজলভ্য, সাশ্রয়ী, কার্যকর ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) সম্মেলন-২০২৬’-এ তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সুস্থ জাতি গড়ার যে স্বপ্ন আমরা দেখি, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের আপনারাই মূল কারিগর। আমরা সবাই মিলে এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই যা হবে সবার জন্য সহজলভ্য, কার্যকর এবং মানবিক।
তিনি আরও বলেন, আপনারা একটি জবাবদিহিমূলক, টেকসই এবং জনগণকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলবেন। আপনাদের প্রত্যেকে নিজ নিজ এলাকার কর্মস্থলকে একটি মডেল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পরিণত করবেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি যে ধারণাগুলো উপস্থাপন করেছেন তা স্বাস্থ্য খাত নিয়ে সরকারের ইশতেহার, পরিকল্পনা এবং সামগ্রিক রূপকল্পেরই প্রতিফলন। তিনি বলেন, সরকার একা সব অর্জন করতে পারে না; এর জন্য স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।
চিকিৎসকদের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমি আপনাদের অনুরোধ করছি—সরকার ও জনগণকে সমর্থন করুন যাতে তারা অন্তত মৌলিক স্বাস্থ্যসেবাটুকু কোনো অসুবিধা ছাড়াই পেতে পারে।
স্বাস্থ্যকর্মীদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের পেশাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সামগ্রিক ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, সরকার ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করেছে, যাদের মধ্যে ৮০ শতাংশই হবে নারী। জনস্বাস্থ্য সেবা জোরদার করতে এবং দেশজুড়ে নাগরিকদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে তিনি সব স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাজ্যের ‘ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস’ (এনএইচএস)-এর উদাহরণ দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এনএইচএস এমন একটি দেশে প্রায় ৭৫ বছর ধরে সেবা দিচ্ছে যা অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী এবং বাংলাদেশের চেয়ে অনেক কম জনসংখ্যার দেশ।
তিনি বলেন, তারপরেও যুক্তরাজ্য সরকারকে প্রায়ই এই ব্যবস্থা পরিচালনা করতে এবং সবার জন্য সেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হয়।
এই তুলনা টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ থাকাটাই স্বাভাবিক। তিনি স্বীকার করেন যে, তৃণমূল পর্যায়ে কর্মরত চিকিৎসকরা সেবা দিতে গিয়ে প্রায়ই বিভিন্ন প্রতিকূলতার সম্মুখীন হন। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরায় প্রধানমন্ত্রী এটিকে একটি গঠনমূলক এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে তিনি চিকিৎসকদের মনে করিয়ে দেন যে, তারা সবাই একই দেশ ও সমাজের অংশ এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা সম্পর্কে তারা অবগত।
তারেক রহমান বলেন, রোগ নিরাময়ের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম—এই নীতি অনুসরণ করে স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেরও অঙ্গীকার করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতের কাঠামোগত ও জনবল সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং প্রযুক্তি-ভিত্তিক সেবার মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে আধুনিকায়ন করা হবে। তিনি দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন এবং স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃত্ব, টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালনের জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
১১৮ দিন আগে
স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, হাসপাতালগুলোকে দুর্নীতি ও দালালমুক্ত করা এবং সাধারণ মানুষ যাতে হাসপাতালে এসে তাদের প্রাপ্য সেবাটুকু পায়—সে লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন তিনি। পরে সিংগাইর পৌরসভার আয়োজনে মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার চায় সাধারণ মানুষ যেন সরকারি হাসপাতালে এসে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয়। হাসপাতালগুলোকে দুর্নীতি ও দালালমুক্ত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।’
তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ সরবরাহে দুর্নীতি, রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবার ঠিকমতো না দেওয়া এবং ডাক্তার-নার্সদের সময়মতো হাসপাতালে উপস্থিত না থাকার মতো অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে কাজ করা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মো. সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, গ্রামের সাধারণ মানুষ যাতে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পায়, সেজন্য উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুন্নাহার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাবেল উদ্দিন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাফসান রেজা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজাহারুল ইসলাম এবং হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৫৩ দিন আগে
সীমিত সম্পদ দিয়ে হলেও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের স্বাস্থ্যসেবার মান আগের চেয়ে উন্নত হচ্ছে। সিভিল সার্জন এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে যারা রয়েছেন তাদের বলব, নিজেদের সীমিত সম্পদ দিয়ে হলেও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
রবিবার (১ মার্চ) সকালে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য এবং স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন, তত্ত্বাবধায়ক সেগুলোর চাহিদা প্রেরণ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়াও রোগী ও স্বজনদের চলাচলের জন্য একটি লিফট জেলা প্রশাসন পক্ষ থেকে ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।
ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল ও জেলার সার্বিক স্বাস্থ্য সেবার বিষয়ে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে, যেন এখানকার সব মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত হতে পারে।
নীতিমালায় রয়েছে একজন ডাক্তার একই কর্মস্থলে ৩ বছরে বেশি কর্মরত থাকতে পারবে না, কিন্তু হাসপাতালগুলোতে ৫-৭ বছর ধরে ডাক্তাররা কর্মরত রয়েছেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিষয়টি আমরা দেখব। দায়িত্ব গ্রহণের কেবল ১০-১২ দিন হলো, আস্তে আস্তে সব ঠিক করা হবে।
এ সময় মির্জা ফখরুলের সঙ্গে আরও ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেনসহ স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মকর্তারা।
১৬৬ দিন আগে
স্বাস্থ্যখাতে আরও ভালো পরিবর্তনের সুযোগ দেখছেন প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সোমবার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হবে, যাতে জনগণকে আরও ভালোভাবে সেবা প্রদান করা যায়।
‘পিছনে ফিরে তাকানোর দরকার নেই। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের সাথে জড়িতদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ। আপনাদের প্রত্যেকের একটু বেশি মনোযোগ এবং নিষ্ঠা ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে,’ বলেন তিনি।
ড. ইউনূস বলেন, আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যে কমপক্ষে ২৫ শতাংশ উন্নতি সম্ভব।
আরও পড়ুন: এলডিসি উত্তরণে জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের শাপলা হলে জেলা সিভিল সার্জনদের এক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছিলেন অধ্যাপক ইউনূস।
সম্মেলনের উদ্বোধন করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের প্রতি তাদের (স্বাস্থ্য খাতের ব্যক্তিদের) প্রচেষ্টা দেখে মানুষ হয় অনুপ্রাণিত হতে পারে, নয়তো হতাশ হতে পারে।
তবে তিনি স্বাস্থ্য খাতের প্রয়োজনীয়তাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন। এই খাতের সাথে জড়িত প্রতিটি ব্যক্তির কাছ থেকে আরও ভালো প্রচেষ্টা নিশ্চিত করার উপর জোর দেন, যা যথাযথ মনোযোগ দেওয়া হলে একেবারে সম্ভব।
‘আমাদের নিজেদেরকে জিজ্ঞাসা করতে হবে, আমরা কেন তা করতে পারি না? আমার মনে হয় যদি আমাদের সেই মানসিকতা থাকে, তাহলে পরিবর্তন সম্ভব,’ অধ্যাপক ইউনূস বলেন।
বর্তমান মুহূর্তকে ‘বড় সুযোগ’ বলে অভিহিত করে অধ্যাপক ইউনূস উল্লেখ করেন যে বিশ্বব্যাপী দৃষ্টি বাংলাদেশের দিকে রয়েছে এবং তিনি স্বাস্থ্য খাতের পেশাদারদের জাতির আরও ভালোভাবে সেবা করার জন্য এই মুহূর্তটি কাজে লাগাতে উৎসাহিত করেন।
তিনি স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সম্প্রতি জমা দেওয়া প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করেন, যাতে পদ্ধতিগত উন্নতির লক্ষ্যে কিছু সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বিভিন্ন হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণের বিবরণ দেন।
আরও পড়ুন: বিভিন্ন খাতে আমিরাতের বিনিয়োগ প্রস্তাবকে স্বাগত জানালেন প্রধান উপদেষ্টা
তিনি কিছু ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা এবং জবাবদিহিতার অভাব লক্ষ্য করেছেন বলেও জানান। ‘এই সমস্যাগুলো সমাধান না করে আমরা অর্থপূর্ণ সাফল্য আশা করতে পারি না,’ বলেন তিনি।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা স্বাস্থ্যসেবা প্রদান উন্নত করার জন্য সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থার মধ্যে সহযোগিতার গুরুত্বের উপর জোর দেন। অধ্যাপক ইউনূসের নীতির প্রতিধ্বনি করে তিনি আরও বলেন, ‘কোন কিছুই অসম্ভব নয়। অসম্ভবকে সম্ভবে পরিণত করা আপনার দায়িত্ব।’
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা জনবলকে শক্তিশালী করার জন্য পর্যায়ক্রমে ৭,০০০ ডাক্তার এবং অতিরিক্ত নার্স নিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। তিনি জেলা সিভিল সার্জনদের স্থানীয় পর্যায়ে আরও আলোচনা এবং সমাধানের জন্য মূল চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করার আহ্বান জানান।
৪৫৯ দিন আগে
মেঘনা উপকূলীয় চরাঞ্চলবাসীদের জন্য ভাসমান হাসপাতাল উদ্বোধন
চাঁদপুরে মূল জনপদ থেকে বিচ্ছিন্ন মেঘনা নদীবেষ্টিত বেশ কয়েকটি দুর্গম চর। চরবাসীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা ছিল সোনার হরিণ।
অনেকটা স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত ছিলেন তারা। তাদের জন্য নতুন করে আশার আলো ছড়িয়েছে বাদশা আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজের নামে ভ্রাম্যমাণ ভাসমান হাসপাতাল। এটি পরিচালনা করছে ফ্রেন্ডশিপ নামে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা। যেখানে মিলছে সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা।
বুধবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে হাইমচর উপজেলার মেঘনা নদীর পশ্চিমপাড়ের চরে প্রধান অতিথি হিসেবে এই ভাসমান হাসপাতাল উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা সচিব মো. সাইদুর রহমান।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবার ব্যতিক্রম দৃষ্টান্ত ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের
চরের মানুষদের জন্য হাতের নাগালে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই বাদশা এই ভ্রাম্যমাণ ভাসমান হাসপাতালের উদ্দেশ্য। প্রাথমিক চিকিৎসা, রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে অস্ত্রোপচার সবকিছুই মিলছে একেবারে বিনামূল্যে। হাতের নাগালে এমন উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে ভরসার জায়গা পেয়েছে চরবাসী।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান ইউএনবিকে বলেন, নদীবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যায় না। এ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বাদশা আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজের নামে ভ্রাম্যমাণ ভাসমান হাসপাতাল কার্যক্রম শুরু হয়।
বিলকিস বেগম নামের এক রোগী হাসপাতাল সম্পর্কে বলেন, এর আগে ঝড়বৃষ্টি মাথায় নিয়ে উত্তাল মেঘনা পেরিয়ে জেলা শহর কিংবা রোগের ধরন দেখে ছুটতে হতো রাজধানী পর্যন্ত। তাও যাদের আর্থিক সামর্থ্য ছিল শুধুই তারা চিকিৎসা নিতো। এখানে ভাসমান হাসপাতাল হওয়ায় খুব উপকার পেয়েছি। বিনামূল্যে চক্ষু অপারেশন করেছি।
ফ্রেন্ডশীপ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান ইউএনবিকে জানান, প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ রোগী এই ভাসমান হাসপাতালে চিকিৎসা ও বিনামূল্যে ওষুধ পাচ্ছে। সাতজন চিকিৎসকসহ ৩২ সদস্যের ভ্রাম্যমাণ ভাসমান হাসপাতালটিতে কার্যক্রম চলছে। হাইমচর উপজেলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩২ লাখ মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কাজ করবে এই প্রকল্প।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার মো. আবু জাফর, কিং আব্দুল্লাহ হিউম্যানিটিরিয়ান ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সোলায়মান আব্দুল আজিজ, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিবসহ সৌদি সরকারের প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন।
৪৯১ দিন আগে
তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা বাড়াতে ২০০০ চিকিৎসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে: রিজওয়ানা
তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা বাড়াতে আরও দুই হাজার চিকিৎসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
তিনি বলেছেন, ‘পিএসসির মাধ্যমে ৩ হাজার ৪৯৩ জন চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান। এর অতিরিক্ত হিসেবে আরও দুই হাজার চিকিৎসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্যে হলো গ্রামাঞ্চলের মানুষ চিকিৎসাসেবা পায় না। তাদের চিকিৎসা–সুবিধার জন্য যেন পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিশ্চিত করা যায়, সে জন্য এ সিদ্ধান্ত।’
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। পরে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পরিবেশ উপদেষ্টা।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে সস্তায় তেল সরবরাহ করবে আরামকো: রিজওয়ানা
বৈঠকে দুটি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান রিজওয়ানা হাসান। এগুলো হলো— বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্ট আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত উপদেষ্টা পরিষদে ১৩৫টি সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৯২টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৬৮ শতাংশ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, ডেপুটি প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ও অপূর্ব জাহাঙ্গীর এবং সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি।
৫২৮ দিন আগে