কর্মসংস্থান
তরুণদের কর্মসংস্থান করতে না পারলে ৫ আগস্ট, একাত্তরের প্রত্যাশা ধ্বংস হয়ে যাবে: তারেক
দেশের মোট জনসংখ্যার একটা বড় অংশ তরুণ উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এই তরুণদের জন্য যদি আমরা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে না পারি, তাহলে ৫ আগস্ট হোক, কিংবা ৯০ বা ৭১, সব প্রত্যাশা ধ্বংস হয়ে যাবে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) বনানীর হোটেল শেরাটনে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, এ দেশে ২০ কোটির মতো মানুষ, যার মধ্যে একটি বড় অংশ তরুণ সমাজের সদস্য। এই তরুণ সমাজের জন্য কীভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যায়, দেশের ভেতরে হোক কিংবা বাইরে, তা আমাদের ভাবতে হবে। আমরা যদি কাজটি করতে সক্ষম না হই, তাহলে আমরা ৫ আগস্ট বলি, ৯০ বলি আর ৭১, আমাদের প্রত্যেকটি প্রত্যাশা ধ্বংস হয়ে যাবে।
তরুণদের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনার ব্যাপারে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন ভোকেশনাল (কারিগরি) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আমরা আধুনিকায়ন করতে চাই। এসব প্রতিষ্ঠানে ২০০ থেকে ২৫০ বিষয়ে শিক্ষাদান করা হয়, যার সবগুলোর প্রয়োজন আমাদের নেই। দেশের বাইরে কর্মী পাঠাতে যেসব দক্ষতা অত্যাবশ্যক, সেগুলোর প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
তারেক বলেন, সাধারণভাবে আমাদের দেশের মানুষ যেসব দেশে যেতে পারে বা পারবে, যেমন: মধ্যপ্রাচ্য। সেখানে বর্তমানে কী কী কাজের সুযোগ আছে বা আগামী ৫-১০ বছরে কী কী কাজের সুযোগ তৈরি হবে, সে বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিয়ে দেশের তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জাপান, ইউরোপ, এমনকি চীনেও দক্ষ কর্মী পাঠানোর একটি বড় বাজার তৈরি হচ্ছে। সেসব জায়গায় কোন কোন বিষয়ে দক্ষ মানুষের প্রয়োজন হবে, সে বিষয়ে আমরা রিসার্চ করে দেখেছি। সেই অনুযায়ীই আমরা আমাদের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকায়ন করতে চাই।
সম্প্রতি আমার সঙ্গে যেসব বিদেশি কূটনীতিকের সাক্ষাত হয়েছে, তাদের কাছেও আমি এ ব্যাপারে সহযোগিতা চেয়েছি। তারা খুশি মনে সহযোগিতা করতে রাজি হয়েছেন বলে তিনি জানান।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, কাজের উদ্দেশ্যে আমাদের দেশ থেকে যারা দেশের বাইরে যাচ্ছেন, তাদের যদি আমরা সেই দেশের ভাষাটা শিখিয়ে দিতে পারি, সেখানে যে কাজগুলোতে তারা যাচ্ছেন, তাদের যদি সেসব কাজে আমরা প্রশিক্ষণ দিয়ে পাঠাতে পারি, তাহলে সেখানে গিয়ে আরও ভালো করতে সক্ষম হবে।
ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেন, আমরা গবেষণা করে শ্রমবাজারগুলো যদি বের করতে পারি, তাহলে এখন যে আট থেকে দশ লাখ মানুষ বিদেশে যাচ্ছে, সেটাকে দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ লাখে উন্নীত করতে পারি। এর সঙ্গে যে মানুষগুলো যাচ্ছেন, তাদের যদি আমরা প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিখিয়ে পাঠাতে পারি, তাহলে আরও মূল্য বাড়বে। এখন যদি তারা মাসে ১০০ ডলার আয় করেন, তাহলে সেটাকে সহজেই ৩০০ ডলারে নিয়ে আসতে পারব। তাহলে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহও অনেক বাড়বে, যা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো যাবে।
এর আগে, দেশের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে যেন সেগুলোর সমাধানে মনোযোগ দেয়, সে বিষয়ে নিজেদের বক্তব্যে তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সম্পাদকেরা।
নিজের বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, অতিথিদের বক্তব্য থেকে কয়েকটি বিষয় ফুটে উঠেছে। ভবিষ্যৎকে আমরা যদি দুই-তিনটি ভাগে ভাগ করি, তাহলে দেখতে পাচ্ছি, ব্যক্তি হিসেবে হোক কিংবা সংবাদকর্মী হিসেবে, আপনার স্বাধীনতা, আপনার নিরাপত্তা। আরেকটি বিষয় আমার চোখে যেটা পড়েছে, গণতান্ত্রিক অধিকারের ব্যাপারে আপনার, আমার, আমাদের সকলের উদ্বেগ বক্তারা প্রকাশ করেছেন। একজন বক্তা বলেছেন যে আগামী দিন, অর্থাৎ আমাদের ভবিষ্যৎ কেমন হবে।
তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন দেশে থাকতে না পারলেও দেশের সঙ্গে আমার সবসময় যোগাযোগ ছিল। আমরা অবশ্যই আর ৫ আগস্টের আগে (আগের পরিস্থিতিতে) ফিরে যেতে চাই না। আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো কারণ নেই আমাদের।
হিংসা, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসার কারণে একটি মানুষ, একটি দলের কী পরিণতি হতে পারে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তা আমরা দেখেছি। তাই আমি সবাইকে অনুরোধ করব, আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও সেটিকে পাশে রেখে আলোচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান আমরা বের করে আনতে সক্ষম হব। কোনোভাবেই মতপার্থক্য যেন মতবিভেদের পর্যায়ে চলে না যায়। বিভেদের মাধ্যমে জাতিকে বিভক্ত করে ফেললে কী হতে পারে, আমরা দেখেছি। আজকে আমরা অনেক বিভেদ, হতাশার কথা শুনি। তবে হতাশা থাকলেও অনেক পরিকল্পনাও কিন্তু আছে বলে জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, দেশে ফিরে আমি যতটুকু যে কয়টি জায়গায় গিয়েছি, আমার মনে হয়েছে, নতুন প্রজন্ম একটি গাইডেন্স (দিকনির্দেশনা) চাইছে, একটি আশা দেখতে চাইছে। শুধু নতুন প্রজন্ম কেন, আসলে সবাই একটি গাইডেন্স চাইছে বলে মনে হয়েছে। আমরা যারা রাজনীতি করি, তাদের কাছে সবার অনেক প্রত্যাশা। সব প্রত্যাশা হয়তো পূরণ করা সম্ভব নয়, কিন্তু আমরা রাজনীতিকরা যদি ১৯৭১ সাল, ১৯৯০, ২০০৪, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট—এই সবগুলোকে সমানে রেখে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করি, তাহলে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার আছে মনে হয়, আমরা জাতিকে একটি সঠিক পথে পরিচালিত করতে সক্ষম হব।
একজন সংবাদকর্মীর নারীর নিরাপত্তা বিষয়ে বলা বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি বলেন, নিরাপত্তা শুধু নারীর নয়, নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে হওয়া উচিত। বাংলাদেশে গত বছর ৭ হাজারের মতো মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। বিষয়টি আপনার-আমার কাছে অস্বাভাবিক লাগলেও ঘটনাটি ঘটছে, কোনো বছর বেশি, কোনো বছর কম। এটি কেন ঘটবে?
সড়ক দুর্ঘটনায় যে মানুষটি মারা যাচ্ছে, তিনি হয়তো ওই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। তার মৃত্যুর পর তার পরিবারের কী হচ্ছে? বা যারা দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে যায়, তাদের পরিবারের কী হচ্ছে—এই বিষয়টি আমাদের নজরে আনা উচিত। এমন অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর চিন্তা করা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর পাশাপাশি দেশের কৃষি ও কৃষকদের নিয়েও আলোচনা, চিন্তাভাবনা হওয়া উচিত বলে জানান এই নেতা।
নারীর উন্নয়ন বিষয়ে তিনি বলেন, বেগম রোকেয়া নারীর শিক্ষার জন্য আন্দোলন করেছিলেন, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার ব্যাপারটা নিশ্চিত করেছিলেন। আগামী নির্বাচনে জিতে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে, যেসব নারী শিক্ষিত হয়েছে, তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা।
এ সময় নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশে ফিরে যে ‘প্লানের’ কথা আমি বলেছিলাম, তার একটি হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড। আমাদের দেশে গড়ে ৪ কোটি পরিবার রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আমরা একটা পরিবারকে সারাজীবন সহায়তা করে যাব, এমনটি নয়। ৫ থেকে ৭ বছর আমরা ওই পরিবারটিকে সাপোর্ট দিয়ে যাব, সেটা টাকার হিসাবে কিংবা অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যপণ্যের মাধ্যমে। আমরা দেখেছি, একজন নারীকে যদি এই সাপোর্টটা দেওয়া যায়, তাহলে তিনি সেটি তার পরিবারের জন্য সঠিকভাবে খরচ করেন।
আমরা রিসার্চ করে দেখেছি, ৫-৭ বছর যদি এই সাপোর্টটা দেওয়া যায়, তাহলে যে অর্থটা তার (নারী) হাতে জমা হয়, সেটা তিনি মূলত তিনটি কাজে খরচ করেন: প্রথমত, তার পরিবারের স্বাস্থ্যের পেছনে, দ্বিতীয়ত, ছেলেমেয়েদের শিক্ষার পেছনে এবং তৃতীয়ত, জমা করা অর্থ তিনি ছোট ছোট খাতে বিনিয়োগ করেন। এভাবে বিনিয়োগের ফলে ধীরে ধীরে গ্রামের, সমাজের অর্থনীতি মজবুত হবে। এভাবে একটি উপজেলা, জেলার অর্থনীতি মজবুত হবে বলে ব্যাখ্যা করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এভাবে পরিবার শিক্ষিত হলে, সুস্থ থাকলে গ্রামের জনস্বাস্থ্য, উপজেলা, জেলা, একসময় গিয়ে দেশের জনস্বাস্থ্যে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তারেক রহমান বলেন, চার কোটি পরিবারকে একবারে এই সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব নয়। যারা প্রান্তিক, যাদের জন্য এটি আগে দরকার, তাদের দিয়ে আমরা শুরু করব। দুর্নীতি এড়াতে এই পরিকল্পনাটি কোনো প্রকল্পের আওতায় রাখা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি আমরা সর্বজনীন রেখেছি। একজন কৃষকের স্ত্রী, ইমাম সাহেবের স্ত্রী যেমন পাবেন, একজন ডিসির স্ত্রীও পেতে পারেন। তবে ডিসির স্ত্রী এই সুবিধা গ্রহণ করবেন না বলে মনে করেন তিনি।
পাশাপাশি কৃষি কার্ড, এমনকি জনস্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি নিয়েও একইরকম পরিকল্পনার কথা জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।
দেশের জনসংখ্যার বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জনসংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে সৌদি আরব-কুয়েতের সবগুলো তেলের খনিও এখানে নিয়ে আসি, তারপরও আমরা হয়তো এত রিসোর্স (সম্পদ) দিয়েও এত মানুষের সমস্যার সমাধান করতে পারব না। সেজন্য আমাদের অবশ্য জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের দিকে যেতে হবে।
সরকার গঠন করতে পারলে স্বাস্থ্যসেবা খাতে ১ লাখের মতো কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এর মধ্যে ৮০-৮৫ শতাংশ আমরা নারী কর্মী নিয়োগ করতে চাই, যাতে তারা ঘরে ঘরে গিয়ে নারীদের বোঝাতে সক্ষম হন যে পরিবারের সদস্যসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা, সদস্যদের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখা ইত্যাদি কী কারণে প্রয়োজন।
১ দিন আগে
আইটি-আইটিইএস খাতে যুব সমাজের কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হবে: পলক
ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার প্রকল্প থেকে বের হয়ে তরুণ উদ্যোক্তারা আইটি ইন্ডাস্ট্রিতে যেন ব্যাপক পরিসরে কাজ করতে পারে সে লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় হাই-টেক পার্ক স্থাপনের কাজ সমান্তরালে চলমান। এই ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার থেকে প্রতি বছর এক হাজার তরুণ-তরুণী প্রশিক্ষণ নিয়ে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে।’
তিনি বলেন, ‘এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের আইটিতে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই প্রকল্প। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করে একাডেমিয়া ও আইটি ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে সেতুবন্ধন প্রতিষ্ঠা করা হবে। ফলে আইটি ও আইটিইএস খাতে বাংলাদেশের যুব সমাজের আত্ম-কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
আরও পড়ুন: ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে সমতার বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব: প্রতিমন্ত্রী পলক
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর সিংপাড়ায় শনিবার (১৩ জুলাই) ‘শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আগামী দুই বছরের মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারের নির্মাণকাজ শেষ হয়ে গেলে কার্যক্রম শুরু হবে। এটি চালু হলে ঠাকুরগাঁওয়ের তরুণ-তরুণীরা প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসেই ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে কাজ করে ডলার আয় করতে পারবে। ডলার আয়ের জন্য আর বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আর এই প্রজন্মের হাত ধরেই আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলব।’
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য দ্রৌপদী দেবী আগারওয়ালা, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম সুজন, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জি এস এম জাফরউল্লাহ এনডিসি (গ্রেড-১), প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম প্রমুখ।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কের) মিথুন সরকার, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মজিদ আপেল, পৌর মেয়র আঞ্জুমান আরা বেগম বন্যা, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারের নারীদের আত্মকর্মসংস্থানে ল্যাপটপ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পলকের
ইসরোর সঙ্গে যৌথভাবে ছোট স্যাটেলাইট তৈরি করবে বাংলাদেশ: পলক
৫৪৭ দিন আগে
বিএনপির আমলে বন্ধ হওয়া রেললাইন আজ সচল হয়েছে: রেলপথমন্ত্রী
রেলপথমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম বলেছেন, বিএনপির আমলে বন্ধ হওয়া রেললাইন আজ সচল হয়েছে। এতে করে ঢাকা থেকে রাজবাড়ীতে আসতে সময় লাগছে মাত্র দুই ঘণ্টা।
জিল্লুল হাকিম বলেন, রাজবাড়ীতে ১০৫ একর জায়গার ওপর দেশের সর্ববৃহৎ রেল কারখানা হচ্ছে। এতে করে জেলার অনেক বেকার কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।
আরও পড়ুন: প্রতিটি জেলায় রেল সংযোগ দেওয়া হবে: রাজবাড়ীতে রেলপথমন্ত্রী
রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে রবিবার (২৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে রেলপথমন্ত্রী এ কথা বলেন।
রেলপথমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম বলেছেন, স্বাধীনতা আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তাই আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর আমাদের সবচেয়ে বড় সফলতা হলো জাতির পিতার নেতৃত্বে আমরা দেশকে স্বাধীন করেছি।
রেলপথমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু একমাত্র নেতা যার পক্ষে সম্ভব ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দেওয়া। সেই সঙ্গে জনগণকে স্বাধীনতার স্বপক্ষে যুদ্ধে নামানো ও সেই যুদ্ধে জয়লাভ করা।
আরও পড়ুন: ট্রেন বন্ধ রেখে বাস মালিকদের সুবিধা দেওয়া বিকৃত মানসিকতার পরিচয়: রেলপথমন্ত্রী
তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকে দেশি ও বিদেশি চক্রান্তকারীরা হত্যা করল। আমাদের পিছিয়ে দেওয়া হলো। আর স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে চক্রান্ত শুরু হলো। কিন্তু চক্রান্ত বেশি দিন থাকে না, চক্রান্ত বেশি দিন টিকতে পারে না। বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতাকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ বক্তব্য হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হলো। তারপর সমস্ত রকম ষড়যন্ত্র থেমে গেল।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তারই মেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা পদ্মা সেতুর মতো একটা সেতু বানাতে পেরেছি। মেট্রোরেল তৈরি করতে পেরেছি। আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
রেলপথমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আপনাদের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ঈদে প্রত্যেক মানুষ যারা ট্রেনে বাড়ি যেতে চেয়েছে তারা সহজে বাড়ি পৌঁছাতে পেরেছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এমন একটা দল গঠন করব, এমন একটা আওয়ামী লীগ গঠন করব, যাদের নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র করার দুঃসাহস বিএনপি কেন, কেউ করবে না।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, রাজবাড়ী ১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলীসহ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় রেলস্টেশন নির্মাণ করা হবে: রেলপথমন্ত্রী
৫৬৭ দিন আগে
আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান সহজীকরণের প্রস্তাব পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য ভিসা পুনরায় চালু, ভিসা পদ্ধতি সহজ এবং এক নিয়োগকর্তার কাছ থেকে অন্য নিয়োগকর্তার কাছে ওয়ার্ক পারমিট স্থানান্তর সহজীকরণের প্রস্তাব করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
দেশটির মানবসম্পদ ও এমিরেটাইজেশন বিষয়ক মন্ত্রী ড. আব্দুল রহমান আল আওয়ারের সঙ্গে বৈঠকে এ অনুরোধ জানান দেশটিতে সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
শুক্রবার সকালে দুবাইয়ে মানবসম্পদমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপাক্ষিক বিষয়ের মধ্যে আমিরাতে বাংলাদেশি স্নাতক নার্স, কেয়ারগিভার, স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক টেকনিশিয়ান, কৃষিবিদসহ বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়োগের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
আরও পড়ুন: সৌদি প্রবাসীদেরকে বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বান
এ সময় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানে কোনো বাধা নেই জানিয়ে আমিরাতের মানবসম্পদমন্ত্রী বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার প্রযুক্তিচালিত চাকরির বাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ কর্মী নিয়োগের ওপর জোর দিচ্ছে।
তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মী নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া করার জন্য এআই এবং সম্পর্কিত সফ্টওয়্যার ব্যবহার সম্পর্কে জানান এবং চাকরি প্রার্থীদের দক্ষতা যাচাই পদ্ধতি তুলে ধরেন।
এই প্রেক্ষাপটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান আমিরাত-গামী কর্মীবাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশি কর্মীদের প্রস্তুত করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাষা প্রশিক্ষক নিয়োগের কথাও জানান।
আরও পড়ুন: জলবায়ু অভিবাসী ও শরণার্থীদের সংজ্ঞা পরিবর্তন করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বান
বৈঠকে মন্ত্রী ড. হাছান কুয়েত সরকারের বাংলাদেশি নার্স নিয়োগের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ থেকে যোগ্য নার্স ও চিকিৎসা পেশাজীবী নিয়োগের জন্য আমিরাত পক্ষকে অনুরোধ করেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের মন্ত্রী প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে ঢাকায় আসন্ন যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠকে কুয়েতি নিয়োগের মডেল পরীক্ষা করবেন বলে আশ্বাস দেন।
উভয় পক্ষ সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের কল্যাণমূলক বিষয় নিয়েও আলোচনা করেছেন।
বৈঠকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. আবু জাফর, দুবাইয়ে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম এশিয়া শাখার মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: আমাদের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করতে চাই: মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী
এ দিন সন্ধ্যায় আবুধাবির আল আইন শহরের রয়্যাল প্যালেসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুই দিনের সফরে মন্ত্রী ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে সেখানে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সঙ্গে একটি কমিউনিটি মিটিংয়ে যোগ দেবেন এবং অন্যান্য বিশিষ্টজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা মন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন।
আরও পড়ুন: বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার লক্ষ্য রয়েছে বাংলাদেশের: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
৬৭৪ দিন আগে
১৭ মার্চ ঢাকায় আসছেন আয়ারল্যান্ডের এন্টারপ্রাইজ, বাণিজ্য, কর্মসংস্থানমন্ত্রী সাইমন কোভেনি
বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ডের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে জোরদারে একযোগে কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নবনিযুক্ত আয়ারল্যান্ডের অনারারি কনসাল মাসুদ জামিল খান।
রবিবার ইউএনবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ অত্যন্ত দ্রুত প্রবৃদ্ধির দেশ এবং আয়ারল্যান্ড উন্নত ও শিক্ষিত দেশ। উভয় পক্ষ একসঙ্গে খুব ভালো কাজ করতে পারে।’
তিনি বলেন, আয়ারল্যান্ডের এন্টারপ্রাইজ, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী সাইমন কোভেনি টিডির ১৭ মার্চ ঢাকায় আসার কথা রয়েছে এবং সম্পর্ক জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করতে বেশ কয়েকটি বৈঠক করবেন।
আরও পড়ুন: মাসুদ জামিল খান আয়ারল্যান্ডের অনারারি কনসাল নিযুক্ত
মাসুদ বলেন, ‘মন্ত্রী সাইমন বাংলাদেশে আসছেন বলে আমরা সম্মানিত। দিল্লিতে আমার রাষ্ট্রদূত (ভারতে নিযুক্ত আয়ারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত কেভিন কেলি) এই বিষয়কে সমর্থন করেছেন। আমি মনে করি, এটি একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সফর।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এবং বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটুর সঙ্গে বৈঠক করবেন কোভেনি।
সফরকালে সেন্ট প্যাট্রিক দিবস, আয়ারল্যান্ডের জাতীয় দিবস এবং 'বাংলাদেশে আয়ারল্যান্ডের অনারারি কনস্যুলেট'র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন তিনি।
ঢাকায় অবস্থানকালে আয়ারল্যান্ডের মন্ত্রী বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড সম্পর্ক নিয়ে একটি সংলাপে অংশ নেবেন।
১৯৭২ সালের প্রথম দিকে বাংলাদেশকে আয়ারল্যান্ডের স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যে চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিরাজ করছে।
কসমস গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাসুদ বলেন, 'আয়ারল্যান্ড প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে কাউকে নিয়োগ দিয়েছে। সম্পর্ক উন্নয়নে উভয় পক্ষের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি গর্বিত ও উচ্ছ্বসিত।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত ২৬ বছরে আয়ারল্যান্ডে বাংলাদেশের রপ্তানি বার্ষিক ১৬.৩ শতাংশ হারে বেড়েছে। রপ্তানির এ পরিমাণ ১৯৯৫ সালে ৬.৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ২০২১ সালে ৩৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ‘সুতরাং, এটি বিশাল আকারের রপ্তানি বৃদ্ধি।’
মাসুদ বলেন, আয়ারল্যান্ডকে এখন ইউরোপের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি হাব হিসেবে দেখা হয়। এটি হাবস্পট অ্যান্ড ইনডিড সহ বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ইএমইএ সদর দপ্তরও।
তিনি বলেন, ‘আয়ারল্যান্ড বাংলাদেশ থেকে আইটি সেক্টরে দক্ষ পেশাজীবী নিতে পারে। আয়ারল্যান্ডের সহায়তায় বাংলাদেশও হতে পারে আইটি হাব। বাংলাদেশে তরুণ জনগোষ্ঠী রয়েছে এবং তারা অত্যন্ত প্রশিক্ষিত।’
আরও পড়ুন: গ্যালারি অন হুইলস: ইউনেস্কোর ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় রিকশা পেইন্টারদের কসমস ফাউন্ডেশনের সংবর্ধনা
মাসুদ বলেন, দুই দেশই ওষুধ খাতে ভালো করছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ থেকে আয়ারল্যান্ডে পোশাক রপ্তানি হচ্ছে এবং এটি প্রতি বছরই বাড়ছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'আমরা অবশ্যই বিষয়টি দেখতে পারি।’
তিনি বলেন, আয়ারল্যান্ড থেকে কনসেন্ট্রেটেড মিল্ক বাংলাদেশে রপ্তানি হচ্ছে।
মাসুদ আরও বলেন, ‘আমরা আয়ারল্যান্ড থেকে গরু আনতে পারি। একই সঙ্গে আমরা তাদের প্রজননের জন্যও এখানে আনতে পারি। আয়ারল্যান্ড থেকেও মল্ট এক্সট্রাক্ট ও স্ক্র্যাপ আয়রন বাংলাদেশে আনা হচ্ছে। এই ক্ষেত্রগুলোতে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে কাজ করার উদ্যোগ নিতে পারি।’
তিনি বলেন, শিক্ষা খাতে সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং দুই পক্ষ এখানে আয়ারল্যান্ডের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শাখা স্থাপনের বিষয়ে কাজ করতে পারে।
আয়ারল্যান্ডে কিছু শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আয়ারল্যান্ড পড়াশোনার জন্য একটি চমৎকার জায়গা।’
নিয়োগ নিয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে মাসুদ বলেন, 'সম্পর্ক উন্নয়নে উভয় পক্ষের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি গর্বিত ও উচ্ছ্বসিত।’
মাসুদ বলেন, ‘এটি চমৎকার অনুভূতি। বর্ণনা করা খুব কঠিন। অবশ্যই, এটি অত্যন্ত আনন্দের। আমি এটি অর্জনের চেষ্টা করেছি।’
তার বাবা রোমানিয়ার অনারারি কনসাল এনায়েতুল্লাহ খানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনিও সেই সংস্কৃতির মধ্যে বড় হয়েছেন।
এই দায়িত্ব পালনে সফলতার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'একটি দেশের অনারারি কনসাল হওয়ার ইচ্ছা আমার সবসময়ই ছিল; যাতে সেই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করতে পারি।’
আরও পড়ুন: মঙ্গলবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রদর্শনীর আয়োজন করছে গ্যালারি কসমস
৬৭৯ দিন আগে
আইসিটি খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে: পলক
আগামী পাঁচ বছরে ১০ লাখ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে আইসিটি খাতের রপ্তানি ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রার কথা জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক।
তিনি বলেন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চাই। বাংলাদেশ-ভারতকে উন্নত, সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক দেশ হিসেবে বিশ্বের দরবারে পরিচয় করার জন্য একযোগে কাজ করতে চাই।
বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত পাঁচ বছরে ১ বিলিয়ন ডলার আমাদের স্টার্টআপে বিনিয়োগ হয়েছে। এর বেশিরভাগই এসেছে আমেরিকা, ভারত ও সিঙ্গাপুর থেকে। আর কিছু অংশ এসেছে জাপান থেকে।
তিনি বলেন, ভারত আমাদের খুব কাছের অকৃত্রিম বন্ধু। ভারতের প্রায় দেড় বিলিয়ন জনগোষ্ঠী। আমাদের একটা পণ্য যদি ভারতে নিতে পারি, তাহলে এটি আমাদের কাছে বিশাল মার্কেট হবে। সেটা হার্ডওয়ার হোক কিংবা সফটওয়ার হোক।
সাইবার জগৎকে নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ ও ভারত একসঙ্গে কাজ করবে। এ বিষয়ে আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে দু’দেশের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি হতে পারে বলেও জানান তিনি।
জুনাইদ আহমেদ বলেন, সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে ৫ বছর আগে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। ভারতের একটি সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ দল তিন মাস আগে বাংলাদেশ সফরে এলে এ বিষয়ে দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করা জরুরি বলে আলোচনা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো দেশ এককভাবে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। বাংলাদেশ ও ভারতের বিশেষজ্ঞরা এ নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে। নৌপথে, আকাশপথে দুই দেশ যেমন একসঙ্গে কাজ করে, তেমনি সাইবার জগৎ নিরাপদ রাখতে একসঙ্গে কাজ করবে। আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি সই হবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ১২টি হাইটেক পার্ক নির্মাণে লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় ১৯ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে। এসব হাইটেক পার্ক ২০২৫ সালের মধ্যে চালু হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের পাশাপাশি স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে দেশটি বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে। এতে মানুষের কর্মসংস্থান হবে। রপ্তানি বাড়বে।
আরও পড়ুন: পণ্যের দাম বেশি হলে ৩৩৩ নম্বরে অভিযোগ জানাতে পারবেন: পলক
এছাড়াও ডেটা সেন্টার নির্মাণ, ডাক, টেলিকম ও আইসিটির বেসরকারি খাতে ভারতীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
এক্ষেত্রে বাংলাদেশ-ভারত স্টার্টআপ সেতুবন্ধন ত্বরান্বিত করতে আরও মনোযোগ দেওয়া হবে। বিপরীতে ডিজিটাল ভারত বিনির্মাণে বাংলাদেশ দেশটির পাশে থাকবে। আর ভারত স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে জানান জুনাইদ আহমেদ পলক।
বৈঠকের বিষয়ে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, আইসিটি খাতের নানা বিষয়ে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে ভারত পাশে থাকবে। সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।
তিনি বলেন, তরুণদের কীভাবে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মমুখী করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ডিজিটাল পেমেন্ট কীভাবে করা যায় সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গত ১০ বছরের বেশি পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধির কারণে দু’দেশের মানুষ উপকৃত হয়েছে। এ সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন: আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হবে: পলক
৭২৪ দিন আগে
২০২২-২০২৩ অর্থবছরের জুন পর্যন্ত ১০ লাখ ৭৪ হাজার কর্মী বিদেশ গেছে: মন্ত্রী
চলতি অর্থবছরের (২০২২-২০২৩) জুন পর্যন্ত মোট ১০ লাখ ৭৪ হাজার শ্রমিক কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে গেছেন। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেশি।
সোমাবার প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ সংসদে ভোলা থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আলী আজমের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করতে আ.লীগকে ক্ষমতায় থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
মন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছরের একই সময়ে (২০২১-২২) মোট ৯ লাখ ৭ হাজার কর্মী বিদেশে গেছেন।
বগুড়া থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাবিবর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, জনশক্তি রপ্তানির জন্য নতুন দেশের সঙ্গে চুক্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে লিবিয়া, মাল্টা, আলবেনিয়া, রোমানিয়া ও সার্বিয়ার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলছে।
ভোলা-৪ আসনের আওয়ামী লীগের আরেক সংসদ সদস্য নুরন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকে অভিবাসনের কাজে ঋণ হিসেবে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার প্রবাসী শ্রমিকের মাঝে ২ হাজার ৮১ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
ঢাকা থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য একেএম রহমতুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, আগে দেশে চায়ের অভ্যন্তরীণ চাহিদা উৎপাদনের তুলনায় কম ছিল এবং সে কারণেই বেশি চা রপ্তানি হতো।
আরও পড়ুন: নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ে সংসদে সমালোচনার মুখে বাণিজ্যমন্ত্রী
বর্তমানে দেশে চায়ের চাহিদা প্রায় ১০০ মিলিয়ন কেজি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে উৎপাদিত সব চা অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে ব্যবহৃত হয় এবং রপ্তানির জন্য সামান্য উদ্বৃত্ত থাকে।
তিনি আরও বলেন, চা রপ্তানি বাড়াতে সরকারের পাশাপাশি চা বোর্ড মানসম্পন্ন চায়ের উৎপাদন বাড়াতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।
ফেনীর আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের ২১টি দেশের ২৩টি শহরে বাংলাদেশের বাণিজ্য মিশন রয়েছে।
সেগুলো হলো-
ক্যানবেরা, ব্রাসেলস, বেইজিং, কুনমিং, প্যারিস, বার্লিন, নয়াদিল্লি, কলকাতা, তেহরান, টোকিও, ইয়াঙ্গুন, কুয়ালালামপুর, মস্কো, সিউল, সিঙ্গাপুর, মাদ্রিদ, জেনেভা, দুবাই, লন্ডন, ওয়াশিংটন ডিসি ও লস অ্যাঞ্জেলেস।
তিনি আরও বলেন, অদূর ভবিষ্যতে ব্রাসিলিয়া, তুরস্ক, আঙ্কারা, মেক্সিকো, মেক্সিকো সিটি ও আফ্রিকায় বাণিজ্যিক শাখা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডেও মিশন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: সিলেটের উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ড. মোমেনের কৃতজ্ঞতা
৯৩০ দিন আগে
চট্টগ্রামে বিডিজবস চাকরি মেলায় ৩ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ
চট্টগ্রামে তিন হাজারের বেশি সেলসম্যান নিয়োগের লক্ষ্যে সেলস্ চাকরি মেলা, চট্টগ্রাম’ আয়োজন করেছে বিডিজবস ডটকম। বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) চট্রগ্রামের জিইসি কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত হবে দিনব্যাপী এ মেলা।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে বিডিজবস ডটকমের মার্কেটিং ডিরেক্টর প্রকাশ রায় চৌধুরী।
প্রতিষ্ঠানটির শোয়েব হাসান সবুজ এবং মেলার সমন্বয়ক মোহাম্মদ আলী ফিরোজ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
দেশের ক্রমবর্ধমান রিটেইল সেক্টর, ভোগ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সমূহে ফিল্ড সেলসম্যান, শো-রুম সেলসম্যানের বিপুল চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে বিডিজবস ডটকম মেলার আয়োজন করছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ভোগ্যপণ্য প্রস্তুতকারী এবং রিটেইল প্রতিষ্ঠান সমূহ তিন হাজার সেলসম্যান নিয়োগের লক্ষ্যে মেলায় অংশগ্রহণ করছে। কোম্পানিগুলো আগ্রহী প্রার্থীর বায়োডাটা সংগ্রহের পাশাপাশি তাদেরকে সরাসরি ইন্টারভিউ করবে। মেলায় অংশগ্রহণ করতে চাকরিপ্রার্থীদের অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে (www.bdjobs.com/jobfair) ঠিকানায়।
প্রকাশ রায় চৌধুরী বলেন, বর্তমানে সারাদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হয়ে কয়েক লাখ লোক সেলসম্যান হিসেবে কাজ করছে। দেশে ভোগ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এবং রিটেইল সেক্টর খুব দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে ফিল্ড সেলস ফোর্সের চাহিদা। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে দেশে প্রচুর বেকার থাকা সত্ত্বেও এই খাতে কাজ করতে আগ্রহীদের সংখ্যা কম। এই খাতে কাজ করতে আগ্রহীদের সঙ্গে কোম্পানিগুলোর সংযোগ তৈরি করতে বিডিজবস এই মেলার আয়োজন করছে।
আরও পড়ুন:চট্টগ্রামে ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনীতে যুবক নিহত
তিনি আরও জানান, সেলস্ চাকরি মেলায় মেঘনা গ্রুপ, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, সুপার স্টার গ্রুপ, পারটেক্স স্টার গ্রুপ, নিটল-নিলয় গ্রুপ, বিএসআরএম, এসএ গ্রুপ, কেডিএস গ্রুপ, কনফিডেন্স সিমেন্ট, জিপিএইচ ইস্পাত, দি পেনিনসুলা চট্রগ্রাম, ডেলিভারি টাইগারসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলো অংশগ্রহণ করছে। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনিমার্ণের জন্য বিশেষ প্রোগ্রাম এটুআই এবং ব্রাক স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম এই চাকরি মেলায় সার্বিক সহযোগিতা করছে।
আরও পড়ুন:রাঙামাটিতে ৩২ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ
চট্টগ্রাম বন্দরে এক কন্টেইনার বিদেশি সিগারেট জব্দ
১২২৩ দিন আগে
করোনায় চার লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে প্রশিকা
গত এক বছরে করোনার মতো অতিমারির মধ্যেও প্রশিকা এক হাজার ৪৫০ কোটি টাকার ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ করেছে। প্রায় চার লাখ মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। চলতি অর্থ বছরে দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকার বাজেট প্রণয়ন করেছে। ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আগামী অর্থ বছরে প্রায় ছয় লাখ মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। যার ৮০ শতাংশই নারী উদ্যোক্তা।
শনিবার সকালে আগারগাঁও এনজিও বিষয়ক ব্যুরো মিলনায়তনে প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের আয়োজনে আর্থিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও সামাজিক সুরক্ষা সেবা কার্যক্রমের তিন দিনব্যাপী বার্ষিক কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এই তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রথম দিন সকাল ১০টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ-২ আসনের এমপি মমতাজ বেগম, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (গ্রেড-১) কে. এম. তারিকুল ইসলাম; ক্রেডিট এন্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (সিডিএফ) এর চেয়ারম্যান মুর্শেদ আলম সরকার, সেন্টার ফর ডিজেএ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক এ.এই.এম নোমান খান; প্রশিকার গর্ভানিং বডির ভাইস চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা জহিরুল ইসলাম।
কর্মশালায় সাতটি বিভাগের ৫৪টি জেলার ৩৪০টি উপজেলা থেকে এলাকা ব্যবস্থাপক, বিভাগীয় ব্যবস্থাপক, কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপক, বিভিন্ন কর্মসূচির সমন্বয়কারী, উপ- পরিচালক, পরিচালক, উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রশিকার গর্ভানিং বডির চেয়ারম্যান বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক রোকেয়া ইসলাম। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রশিকার প্রধান নির্বাহী সিরাজুল ইসলাম। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রশিকার উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন মিলন।
সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তথা তৃণমূল মানুষের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে প্রশিকা ১৯৭৬ সাল থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ, লালন ও রক্ষা করে আসছে।
প্রশিকার আর্থিক কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি রয়েছে যেমন, নারী সমাজ উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন কর্মসুচি, সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি, মাদকাসক্তি প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধি কর্মসূচি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মসূচি, গণসাংস্কৃতিক কর্মসূচি, আইনি সহায়তা কর্মসূচি, প্রতিবন্ধি মানুষের উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ২৩, ২৪ ও ২৫ জুলাই আর্থিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও সামাজিক সুরক্ষা সেবা কার্যক্রমের বিগত বছরের অর্জন এবং চলতি অর্থ-বছরের বাজেট উপস্থাপিত হবে। প্রধান নির্বাহী সিরাজুল ইসলাম প্রশিকার কার্যক্রম বাস্তবায়নে উপস্থিত সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন এবং তিনি আরও বলেন ‘ঘুরে দাঁড়িয়েছে প্রশিকা। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহযোগিতা পেলে প্রশিকা তার হারানো গৌরব দ্রুতই ফিরে পাবে।’
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহ হাইটেক পার্ক তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের ঠিকানা: পলক
ইলিশ আহরণ বন্ধের সময় মৎস্যজীবীদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান
১২৬৮ দিন আগে
প্রটোকল বজায় রেখে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
টিকা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতাসহ প্রয়োজনীয় সব প্রটোকল বজায় রেখে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী এম সারাভানান তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সাক্ষাৎকালে তিনি এ আশ্বাস দেন।
এসময় দুই দেশের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ায় তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপদ, নিয়মিত, সুলভ ও সুশৃঙ্খল কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষই কাজ করবে।
আরও পড়ুন: চলতি মাসেই মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী
তিনি মালয়েশিয়া সরকারের বাংলাদেশি নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন।
মালয়েশিয়ার মন্ত্রী এম সারাভানান দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত এমওইউ বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়ায় মানব পাচারের সম্ভাবনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি দুই দেশের মধ্যে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে স্বাক্ষরিত শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে এমওইউ-এর পৃষ্ঠপোষকতায় চলমান জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের আয়োজনে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়া অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে। এই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে ১৫০০ রিংগিত করেছে।
আরও পড়ুন: মে মাসে রপ্তানি আয় ৯ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন ৩. ৮৩ বিলিয়ন ডলার
মালয়েশিয়ায় পাঁচ লাখের বেশি প্রবাসী শ্রমিক নিয়োগ হলে আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশ ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করতে পারে।
মন্ত্রী আরও বলেন, এখন তারা সমস্ত কর্মসংস্থান প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজ করছেন যাতে প্রতিটি পদক্ষেপ অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা হয়।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে মাঝে না রেখে সরাসরি নিয়োগকর্তার কাছ থেকে শ্রমিকদের বেতন কার্ড অ্যাকাউন্টে ই-পেমেন্ট ইনস্টল করেছেন তারা।
দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশে সফররত মালয়েশিয়ার মন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী স্বাগত জানান।
আরও পড়ুন: চাপের মধ্যে ডলারের একক রেট প্রত্যাহার করল বাংলাদেশ ব্যাংক
১৩১৯ দিন আগে