যাত্রীসেবা
কোটি টাকার ইজারা দিয়েও চিলমারী নদীবন্দরে নেই প্রত্যাশিত যাত্রীসেবা
হাজারো যাত্রীর পদচারণায় প্রতিদিন মুখর থাকে কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী চিলমারী নদীবন্দর। রৌমারী, রাজীবপুরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলের মানুষের নৌপথে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান ঘাট এটি। তবে দীর্ঘদিনেও এখানে নিশ্চিত হয়নি ন্যূনতম যাত্রীসেবা। নেই যাত্রীছাউনি, গণশৌচাগার কিংবা পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নৌকার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নারী, শিশু ও বয়স্কদের।
জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত চিলমারী নদীবন্দর একসময় দেশের অন্যতম ব্যস্ত নৌবন্দর হিসেবে পরিচিত ছিল। সময়ের পরিক্রমায় এর জৌলুস কিছুটা কমলেও গুরুত্ব কমেনি একটুও। প্রতিদিন রৌমারী, রাজীবপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ নৌপথে যাতায়াতের জন্য এই ঘাট ব্যবহার করেন।
সরেজমিনে ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, নৌকার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা খোলা আকাশের নিচে বসে আছেন। তীব্র রোদ কিংবা বৃষ্টিতে তাদের জন্য নিরাপদ কোনো অপেক্ষালয় নেই। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। ফলে অসুস্থ, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে।
শুধু যাত্রীছাউনির অভাবই নয়, চিলমারী নদীবন্দরে কোনো গণশৌচাগারও নেই। রৌমারী কিংবা রাজীবপুরের মতো দূরবর্তী এলাকা থেকে দুই-তিন ঘণ্টার নৌযাত্রা শেষে ঘাটে আসা যাত্রীরা প্রাকৃতিক প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েন। বিশেষ করে নারী যাত্রীদের দুর্ভোগ হয় সবচেয়ে বেশি। প্রয়োজনের সময় অনেককে বাধ্য হয়ে আশপাশের বাড়িতে যেতে হয়। আবার কেউ কেউ লোকলজ্জা এড়িয়ে খোলা জায়গায় শৌচকর্ম সারতে বাধ্য হচ্ছেন।
রৌমারী উপজেলা থেকে আসা বেলাল হোসেন বলেন, ‘অনেক দূর থেকে নৌকায় করে আসি। ঘাটে এসে বসার বা সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কোনো টয়লেট নেই। নারীদের জন্য বিষয়টি আরও কষ্টের। এত বড় ঘাটে অন্তত একটি গণশৌচাগার থাকা উচিত।’
একই উপজেলার শাহারিয়ার নাজিম বলেন, ‘নৌকার জন্য অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। বৃষ্টি এলে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের নিয়ে খুব কষ্ট হয়। যাত্রীদের জন্য দ্রুত ছাউনি ও বসার ব্যবস্থা করা দরকার।’
ঘাট-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চিলমারী নদীবন্দর দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ৫০টি নৌকা চলাচল করে। প্রতিটি নৌকায় গড়ে ৮০ থেকে ১০০ জন যাত্রী থাকেন। সে হিসাবে প্রতিদিন প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ এই ঘাট দিয়ে যাতায়াত করেন। এত বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচল থাকলেও পর্যাপ্ত আসন, সুপেয় পানি কিংবা শৌচাগারের সুবিধা নেই।
চলতি অর্থবছরে চিলমারী নদীবন্দর ঘাটটি থেকে প্রায় ১ কোটি ৯৪ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় হলেও যাত্রীসেবায় কোনো দৃশ্যমান উন্নতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন আহমেদ বলেন, ‘প্রতিবছর ঘাট থেকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হচ্ছে। অথচ যাত্রীদের বসার জায়গা নেই, টয়লেট নেই, পানির ব্যবস্থা নেই। এত বড় একটি ঘাটে এমন অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
এদিকে, চিলমারী নদীবন্দর উন্নয়নে নেওয়া প্রকল্পের কাজও এগোচ্ছে ধীরগতিতে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলমান বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৪ শতাংশ বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে চিলমারী নদীবন্দরের পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্র বলেন, আলাদাভাবে গণশৌচাগার নির্মাণের কোনো সিদ্ধান্ত আপাতত নেই। তবে প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে পর্যাপ্ত টয়লেটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জেটির কাজ শেষ হলে টার্মিনালটি চালু করা হবে এবং তখন যাত্রীরা সব সুবিধা পাবেন।
ঈদের আগেই টার্মিনালটি খুলে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহামুদুর হাসান বলেন, ‘চিলমারী নদীবন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। বিআইডব্লিউটিএসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।’
২ ঘণ্টা আগে
এমিরেটস এয়ারলাইন্সে যাত্রী হয়রানির অভিযোগ, উদ্বেগ বাড়ছে
বিশ্বখ্যাত এমিরেটস এয়ারলাইন্সে এক বৃদ্ধা যাত্রীর হুইলচেয়ার সহায়তা না দেওয়াসহ যাত্রী হয়রানির অভিযোগ সামনে আসার পর এয়ারলাইনটির যাত্রীসেবা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ৭১ বছর বয়সী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক লায়লা হুসেইন ঢাকা থেকে নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে এমিরেটসের দুটি ফ্লাইটে (টিকিট নম্বর ১৭৬৭২১৬৪২৩৮৬৫) ভ্রমণ করেন। ঢাকা থেকে দুবাইগামী ফ্লাইট ইকে৫৮৭ (সিট ১১এইচ) এবং দুবাই থেকে নিউইয়র্কগামী ইকে২০৫ (সিট ৪৭সি) ফ্লাইটে যাত্রা করেন তিনি।
পরিবারের অভিযোগ, ঢাকায় প্রাথমিকভাবে হুইলচেয়ার সেবা পাওয়া গেলেও দুবাই বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বারবার জানানো সত্ত্বেও কোনো হুইলচেয়ার দেওয়া হয়নি। বরং তাকে বলা হয় ‘একটু হেঁটে যাও, পরে হুইলচেয়ার দেওয়া হবে।’ অনেক দূর হেঁটেও কোনো সহায়তা না পাওয়ায় তিনি ভোগান্তিতে পড়েন।
দুবাই থেকে মিলান হয়ে নিউইয়র্কগামী ফ্লাইট ইকে২০৫-এ মিলান বিমানবন্দরে ২ ঘণ্টার যাত্রাবিরতির সময় আরও খারাপ পরিস্থিতির মুখে পড়েন তিনি। বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হলেও বসার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। হুইলচেয়ার বা অন্য কোনো সহায়তা না থাকায় তাকে টানা দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, যা তার স্বাস্থ্যে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
এ ঘটনায় অন্যান্য যাত্রীরাও বিস্ময় প্রকাশ করেন। একজন বৃদ্ধা যাত্রীকে এভাবে দাঁড় করিয়ে রাখার মতো ঘটনা এমিরেটসের মতো এয়ারলাইনের কাছ থেকে অনভিপ্রেত বলে তারা মন্তব্য করেন।
পড়ুন: সায়মা ওয়াজেদকে ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত অন্তর্বর্তী সরকারের
নিউইয়র্কের বাসিন্দা লায়লা হুসেইনের মেয়ে ইশরাত জাহান, দুবাইতে এমিরেটস কাস্টমার সার্ভিসে যোগাযোগ করলে সেখান থেকেও ‘অসংবেদনশীল’ জবাব পান বলে অভিযোগ করেন। এয়ারলাইনের এক কর্মকর্তা তাকে বলেন, ‘আপনার মা এখন মিলানে নেই, আমরা কিছু করতে পারব না। আর আপনি কেন এই টিকিট কিনেছেন, সেটা বলুন।’
ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইশরাত লিখেন, ‘দামী টিকিট বিক্রি করে এরা আমাদের সঙ্গে এমন ব্যবহার করে! জীবনে সবচেয়ে খারাপ এয়ারলাইন্স অভিজ্ঞতা। যত জরুরি দরকারই হোক, আমি আর কখনো এমিরেটস ব্যবহার করব না।’
এ ধরনের অভিযোগ এর আগেও এসেছে বলে যাত্রী ও সংশ্লিষ্টরা জানান। কিন্তু অনেক সময়ই এসব অভিযোগ উপেক্ষিত থাকে। বাংলাদেশে এয়ারলাইন্সের স্বল্পতার কারণে এমিরেটসের যাত্রী সংখ্যা বেশি হলেও সেবার মান নিয়ে যাত্রীরা দিন দিন অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।
এ ব্যাপারে এমিরেটসের এক মুখপাত্র জানান, ‘মিলান মালপেনসা বিমানবন্দরে হুইলচেয়ার সহায়তা সংক্রান্ত একটি অভিযোগের তদন্ত চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে নিচ্ছি এবং আমাদের গ্রাউন্ড সার্ভিস অংশীদারদের সঙ্গে বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। সংশ্লিষ্ট যাত্রীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হবে। আমরা আমাদের যাত্রীদের জন্য সর্বোচ্চ সহানুভূতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
৪১০ দিন আগে