কৃষি
কৃষিশ্রমিক ধরে রাখতে কৃষিকে লাভজনক করার ওপর গুরুত্ব রাষ্ট্রপতির
কৃষিকাজ থেকে পর্যাপ্ত আয় না হওয়াই কৃষিশ্রমিক পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ার প্রধান কারণ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ খাতকে লাভজনক করতে পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) গাজীপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বারি) সফরকালে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মাঠে গিয়ে দেখবেন, শ্রমিক পাওয়া যায় না। কারণ কী? কারণ হচ্ছে, সে মাঠে একটু কাজ করে যে আয় করে, সেটা তার জীবনযাপনের জন্য যথেষ্ট নয়।’
তিনি আরও বলেন, কৃষিতে শ্রমিকের সংকটকে শুধু শ্রমিক খুঁজে পাওয়ার সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। মানুষকে এই পেশার প্রতি নিরুৎসাহিত করা মূল অর্থনৈতিক কারণগুলোরও সমাধান করতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, কৃষিকাজ এখন আর লাভজনক না হওয়ায় মানুষ এ পেশা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে আপনাদের কাজ করতে হবে এবং কৃষিকে লাভজনক করার উপায় খুঁজে বের করতে হবে।
দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠে প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনে কাজ করার সময় এসেছে।
তরুণদের আত্মত্যাগ ও গণ-অভ্যুত্থান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিরল সুযোগ তৈরি করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। সবাই একটু ধৈর্য ধরে ধীরে ধীরে যদি সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করি, তাহলে অবশ্যই আমরা সফল হতে পারব বলে বিশ্বাস করি।
সভায় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম রনি, কৃষি সচিব মো. সেলিম খান, বারির মহাপরিচালক ড. মো. মঞ্জুরুল কাদির ও ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
বারির মহাপরিচালকের স্বাগত বক্তব্যের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রীও বক্তব্য দেন।
এর আগে সকাল সোয়া ১০টায় রাষ্ট্রপতি বারিতে পৌঁছালে বাংলাদেশ পুলিশের একটি দল তাকে গার্ড অব অনার দেয়।
পরে তিনি প্রতিষ্ঠানটির জিন ব্যাংক ও বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। এরপর উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ কেন্দ্রে বারি কাঁঠাল-৬ জাতের একটি চারা রোপণ করেন।
৩ দিন আগে
ঝিনাইদহের কৃষিতে আশা দেখাচ্ছে সৌরসেচ
জ্বালানি ও বিদ্যুতের বাড়তি দামে সেচের খরচ মেটাতে হিমশিম খাওয়া কৃষকদের জন্য ঝিনাইদহের মাঠে সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচপাম্প নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। এতে কৃষকদের সেচের খরচ কমার পাশাপাশি বাড়তি আয়েরও সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা নিজেদের জমিতে তুলনামূলক কম খরচে সেচ দিতে সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্প ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত সেচের পানি আশপাশের কৃষকদের কাছে বিক্রি করে বাড়তি আয়ও করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার মহেশপুর, কোটচাঁদপুর ও সদর উপজেলায় ইতোমধ্যে ১০৬টি সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প চালু হয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সাতটি, এইড ফাউন্ডেশনের ৩৪টি ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের ৬৫টি পাম্প রয়েছে। শুধু সীমান্তঘেঁষা মহেশপুরেই স্থাপন করা হয়েছে ৩২টি পাম্প। এর বাইরেও কিছু ছোট ছোট সৌর প্যানেল রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) কারিগরি সহায়তায় রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশন (আরআরএফ) স্মার্ট প্রকল্পের মাধ্যমে এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এছাড়া ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) উদ্যোগে ব্যক্তিগত পর্যায়েও বসানো হচ্ছে সোলার প্যানেল।
ফুলচাষিদের বাড়তি আয়
সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে মহেশপুরের সীমান্ত এলাকার ফুলচাষিদের মাঝে।
উপজেলার ফুলচাষি গফুর মিয়া জানান, সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প বসানোর পর থেকে তেল বা বিদ্যুতের কোনো ঝক্কি আর তাকে পোহাতে হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, নিজের জমিতে সেচ দেওয়ার পর সাশ্রয়কৃত পানি অন্যদের কাছে বিক্রি করে ভালো বাড়তি আয় হচ্ছে।
একই এলাকার কৃষক সাদিকুল রহমান জানান, প্রকল্পের ঋণ ও অনুদান নিয়ে তিনি সৌর সেচ প্রকল্প গড়ে তুলেছেন।
তিনি আরও বলেন, নিজের জমির চাহিদা মিটিয়ে বাণিজ্যিকভাবে আশপাশের আরও ১৫ বিঘা জমিতে নিয়মিত সেচ দিচ্ছেন।
২৫ দিন আগে
উত্তরাঞ্চলে আমন চাষ বেড়েছে, ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন কৃষকদের
উত্তরাঞ্চলের মাঠে মাঠে আমন ধান চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে এবার স্বস্তিতে রয়েছেন তারা। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ জমিতে চারা রোপণ শেষ হয়েছে।
কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আমন চাষ এবং ভালো ফলনের আশা রয়েছে।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে রংপুর বিভাগের আট জেলায় ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৭১৪ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৬ লাখ ৩৩ হাজার টন ধান।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, অধিকাংশ জমিতে ইতোমধ্যে আমনের চারা রোপণ শেষ হয়েছে। বাকি জমিগুলোতে আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে রোপণ শেষ হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে কৃষক-কৃষাণীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ, কোদাল দিয়ে জমির আইল ঠিক করা এবং মই দিয়ে জমি সমান করার কাজ চলছে। কেউ বীজতলা থেকে চারা তুলছেন, আবার কেউ সারিবদ্ধভাবে জমিতে চারা রোপণ করছেন। কেউ কেউ জমিতে সার দেওয়ার কাজেও ব্যস্ত।
রংপুর সদর এলাকার কৃষক আব্দুল বারী বলেন, ‘চলতি মৌসুমে পাঁচ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছি। প্রকৃতি এবার অনেকটাই সহায় হয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টির পানি পাওয়ায় চাষাবাদে কোনো অসুবিধা হয়নি। সেচের খরচও করতে হয়নি। ফলে ব্যয় আগের তুলনায় কম হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ভালো ফলন হবে।’
৩৮ দিন আগে
উত্তরে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে স্বপ্ন বুনছেন চাষিরা
উত্তরের জেলাগুলোতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। সবজির জন্য বিখ্যাত এ অঞ্চলের কৃষকরা এবার আগাম সবজি চাষে ভালো ফলন ও ন্যায্য দাম পাওয়ার আশায় স্বপ্ন বুনছেন।
গত বছরের ক্ষতকে পিছনে ফেলে মূলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, লাউ, টমেটো, লালশাকসহ শীতকালীন বিভিন্ন সবজির চাষ হয়েছে উত্তরের এলাকাজুড়ে। খেতের পরিচর্যা, রোগবালাই দমন ও অধিক ফলনের আশায় দিনরাত পরিশ্রম করছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা।
ইতোমধ্যে বাজারেও শীতকালীন সবজি উঠেছে। পাওয়া যাচ্ছে শিম ও বাঁধাকপি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবার বেশি লাভ ও বাম্পার ফলন হবে—এমনটাই আশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উত্তরের আট জেলা—রংপুর, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে—চলতি মৌসুমে আগাম শীতকালীন সবজি চাষের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে। এতে ৩ লাখ ১৪ হাজার টন আগাম শীতকালীন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
৩৯ দিন আগে
বিষমুক্ত সবজি চাষ: ফলনে খুশি হলেও দামে মলিন কৃষক
জমির আলের চারপাশে নীল জালের বেড়া। ভেতরে বাঁশ ও জালের মাচা। মাচার ওপরে সবুজ লতা, আর নিচে থোকায় থোকায় ঝুলছে তরতাজা করলা। কিন্তু এই করলায় নেই কোনো কীটনাশক বা রাসায়নিক বিষ।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় প্রথমবারের মতো উত্তম কৃষি চর্চা বা গ্যাপ পদ্ধতিতে বিষমুক্ত সবজি চাষ করে সাড়া ফেলেছেন দুই কৃষক। তবে ফলন ভালো হলেও বাজারে দাম কম পাওয়ায় হাসি নেই তাদের মুখে।
উত্তম কৃষি চর্চা বা গুড এগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিসেসস হলো এমন কিছু পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক কৃষি পদ্ধতি, যার মূল লক্ষ্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা। পরিবেশের ভারসাম্য ও মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করা। কৃষকদের কাজের নিরাপদ পরিবেশ ও সুঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি করা।
এর একটি পদ্ধতি ‘মালচিং’। এটি এমন একটি কৃষি পদ্ধতি যার মাধ্যমে গাছের গোড়ায় বা মাটির উপরিভাগে খড়, পাতা, কচুরিপানা বা প্লাস্টিকের শিট দিয়ে একটি সুরক্ষা স্তর বা ঢাকনা তৈরি করা হয়, যা আর্দ্রতা রক্ষা, আগাছা দমন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, মাটির ক্ষয়রোধ ও পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি করে।
উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ধলনগর গ্রামের জমারত আলীর ছেলে দবির উদ্দিন ফারাজী ও মৃত তোয়াজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল বারী তিন বিঘা জমিতে আলিসা জাতের করলা চাষ করেছেন। গত ১০ দিনে তারা ২ হাজার ২০০ কেজি করলা বিক্রি করেছেন। স্থানীয় বাজারে পাইকারি দর ছিল কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৫৫ টাকা। এতে ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় হয়েছে তাদের।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দেড় মাসে আরও ৪ হাজার কেজির বেশি করলা বিক্রির আশা করছেন তারা, যার বাজার মূল্য প্রায় আড়াই লক্ষাধিক টাকা।
কিন্তু তাদের অভিযোগ, বাজারে বিষমুক্ত এবং বিষযুক্ত সবজির আলাদা বাজার বা হাট নেই। ফলে সমান দামে বিক্রি হওয়ায় লাভবান হতে পারছেন না তারা। তাদের ভাষ্য, গতবছর এই সময়ে প্রতি কেজি করলা প্রায় ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে বর্তমান দাম তার অর্ধেক। গতবারের মতো দাম থাকলে কয়েক লাখ টাকা লাভবান হতেন তারা।
বাড়তি খরচ, কিন্তু দাম কম
শহর থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার দুরের ধলনগর মাঠে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো জমি নীল রঙের জাল দিয়ে ঘেরা। পোকামাকড় দমনে ব্যবহার করা হয়েছে ফেরোমন ফাঁদ ও জৈব বালাইনাশক। মাটিতে দেওয়া হয়েছে জৈব সার। একজন খেতের পরিচর্যা করছেন, অপরজন তুলছেন করলা।
এ সময় উদ্যোক্তা দবির উদ্দিন বলেন, ‘গ্যাপ পদ্ধতিতে চাষ করতে খরচ বেশি। জাল, ফাঁদ, জৈব সার—সবই কিনতে হয়। ফলন ভালো এবং সবজিও স্বাস্থ্যকর। তবে ক্রেতারা এখনও বিষমুক্ত সবজির দাম দিতে চান না।’
৪১ দিন আগে
পদ্মাপাড়ে অবৈধ ব্যাটারি রিসাইক্লিং কারখানা, হুমকিতে কৃষিজমি-পরিবেশ
পদ্মাপাড়ে দিনের বেলায় সুনসান নীরবতা। তারই মাঝে চোখে পড়ে সবুজ রঙের ত্রিপল দিয়ে ঘেরা একটি পরিত্যক্ত জায়গা। তবে রাতের গভীর ওই ত্রিপলের আশপাশের চিত্র পুরোপুরি পাল্টে যায়। তখন সেখানে উন্মুক্তভাবে ভাঙা হয় শত শত পুরাতন ব্যাটারি। তাতে আবার কয়লা ও কাঠের আগুন জ্বালিয়ে বের করা হয় বিষাক্ত সিসা, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
পদ্মা নদীর পাড়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চরসাদিপুর ইউনিয়নের সাদিপুর নৌকাঘাট-সংলগ্ন দেলোয়ার হোসেনের ইটভাটা এলাকায় প্রতিদিন বিকেল ও মধ্যরাতে এই বিপরীত দৃশ্যের দেখা মিলেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক জানান, পাবনার মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তি কারখানাটি পরিচালনা করছেন। প্রায় দেড় মাস ধরে সেখানে ব্যাটারি রিসাইক্লিংয়ের কাজ চলছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অপরিকল্পিত ও অনিরাপদভাবে পরিচালিত কারখানাটিতে পুরাতন ব্যাটারি ভেঙে ও পুড়িয়ে সিসা বের করা হচ্ছে। এতে সিসাযুক্ত ধোঁয়া, দূষিত ধূলিকণা ও অ্যাসিডের মতো ভয়ানক রাসায়নিক পদার্থ মাটি, পানি ও বাতাসে মিশে চারপাশ দূষিত করছে। প্রায় দুই মাস ধরে প্রকাশ্যে এমন কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তাদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে নদীপাড়ের শত শত বিঘা কৃষিজমি ও বিভিন্ন ধরনের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এ বিষয়ে জানতে ইটভাটার মালিক দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, পাবনার মনির স্থানীয় প্রভাবশালীদের ‘ম্যানেজ’ করে অবৈধভাবে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা বের করছেন। এ জন্য তিনি মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন দেলোয়ার।
তিনি আরও বলেন, ‘এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে; ফসল নষ্ট হচ্ছে। বারবার নিষেধ করার পরও এসব কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।’ এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অবৈধভাবে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা বের করার কথা স্বীকার করেছেন মনির হোসেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সবাইকে ম্যানেজ করেই দেড় মাস ধরে কারখানা চলছে।’ তবে বাতাসের কারণে অধিকাংশ দিনই কারখানা বন্ধ রাখতে হয় বলে তিনি দাবি করেন। ব্যবসায় লাভ হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক বলেন, দিনের বেলায় সেখানে কোনো কাজ হয় না। রাত সাড়ে ১১টার পর ট্রাকে করে পুরাতন ব্যাটারি আনা হয়। রাত ১২টার দিকে জ্বালানো হয় আগুন।
তার অভিযোগ, চরসাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রহমান টিক্কা, বিএনপির কর্মী জালাল ও হযরতের ছত্রচ্ছায়ায় অবৈধ কারখানাটি চলছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নদীপাড়ের কলা, সবজিসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।
তবে, অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান টিক্কা বলেন, ‘কারা কী করছে জানিনে। আমি এসবে নাই। আপনারা মনিরের সাথে মিলতাল করে নেন।’
অবৈধ ব্যাটারি কারখানার সঙ্গে বিএনপির কেউ জড়িত নন বলে দাবি করেছেন চরসাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম আজম। তিনি বলেন, ‘দিন পনেরো আগে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে কারখানার লোকদের দৌড়ানি দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে চলে কি না, তা জানা নেই।’
কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (জ্যেষ্ঠ রসায়নবিদ) হাবিবুল বাসার বলেন, ব্যাটারির ভেতরে সালফিউরিক অ্যাসিড থাকে। উন্মুক্তভাবে ব্যাটারি ভেঙে সিসা বের করার ফলে বাতাসে সিসা ও লেডের মাত্রা বেড়ে যায় যা পরিবেশ ও মাটির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
এ বিষয়ে দ্রুত অবৈধ ব্যাটারি কারখানায় অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন কুমারখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার।
৪৭ দিন আগে
শেরপুরে বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ১১৮ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত
টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি কমতে শুরু করায় শেরপুরে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে। জেলার ১১৮ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ এবং ৯৩ হেক্টর জমির ফসল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বর্তমানে জেলায় ১২ হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ফসল আবাদ রয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে ৩২ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা, ৪২ হেক্টর শাকসবজি, ১০ হেক্টর কলা এবং ৩৪ হেক্টর আউশ ধানের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া অনেক এলাকায় পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে আসা বালির স্তর জমে কৃষিজমি সাময়িকভাবে অনাবাদি হয়ে পড়েছে।
শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সূদীপ্ত চৌধুরী জানান, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মৃগী নদীর প্রায় দেড় কিলোমিটার, ভোগাই নদীর এক কিলোমিটার, চেল্লাখালী নদীর ৫০০ মিটার এবং মহারশি নদীর ১০০ মিটার এলাকাজুড়ে দুই তীরের অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
তিনি বলেন, নদীভাঙন রোধে জরুরি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকায় ১১ হাজার বালিভর্তি বস্তা ফেলা হয়েছে।
এদিকে, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, শেরপুর সদর, নকলা, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলায় নদীভাঙনে ৭৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের শুকনো খাবার ও ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে নালিতাবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটা এলাকায় চেল্লাখালী নদীর ওপর নির্মিত একটি বেইলি সেতু ভেঙে যাওয়ায় দুই পাড়ের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে প্রায় ১৫ হাজার পরিবারের দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। আপাতত পারাপারের সুবিধার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এছাড়া চেল্লাখালী নদীর ভাঙনে শেরপুর-নালিতাবাড়ী (গাজীরখামার হয়ে) সড়কের গোল্লারপাড় এলাকায় প্রায় ১০০ মিটার সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় ওই সড়কে ভারী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্রামীণ কাঁচা ও পাকা সড়কেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান জানান, অতিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনও প্রস্তুত হয়নি। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় জেলার প্রতিটি উপজেলার জন্য ১০ টন করে জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
৮৭ দিন আগে
কৃষি ও বাজার ব্যবস্থাপনায় এআইভিত্তিক বাজার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করবে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
কৃষি ও বাজার ব্যবস্থাপনাকে আরও তথ্যনির্ভর ও কার্যকর করতে সরকার এআইভিত্তিক বাজার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদন, আবহাওয়া, আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানির প্রয়োজনীয়তা ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আগাম সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেটকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শাকসবজি রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এ লক্ষ্যে সিলেটে একটি আধুনিক প্যাকেজিং সেন্টার স্থাপন, কৃষকদের আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উৎপাদন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং পণ্য অনুসরণ ব্যবস্থা (ট্রেসেবিলিটি) নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সিলেটে বিপুল পরিমাণ শাকসবজি উৎপাদিত হলেও প্যাকেজিং ও লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার কারণে রপ্তানির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এসব সমস্যা দূর করা গেলে সিলেট দেশের প্রধান শাকসবজি রপ্তানি অঞ্চলে পরিণত হবে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী বিজ্ঞানসম্মত উৎপাদন নিশ্চিত করতে কৃষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।
পণ্যের মূল্য নির্ধারণ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে অধিকাংশ পণ্যের মূল্য বাজারব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। তবে সংবেদনশীল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার একটি কার্যকর মূল্য নির্ধারণ কাঠামো প্রণয়নের কাজ করছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।
এ বছর রপ্তানি বাড়বে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধ ও অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রপ্তানিতে প্রভাব পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলেও জানান তিনি।
বাজার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি এআইভিত্তিক বাজার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদন, আবহাওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানির প্রয়োজনীয়তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে আগাম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, এআইভিত্তিক এই ব্যবস্থা চালু হলে বাজার তদারকি আরও প্রাতিষ্ঠানিক, তথ্যনির্ভর ও কার্যকর হবে। এর ফলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজারে অস্থিরতা প্রতিরোধে সরকার আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শামসুজ্জামান এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেমসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, বাণিজ্যমন্ত্রী তার স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে আর্থিক অনুদান প্রদান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণ, অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের মাঝে ছাগলের খাদ্য বিতরণ, সদর উপজেলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং সদর কৃষি অফিস আয়োজিত পার্টনার কংগ্রেস কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
১০৭ দিন আগে
তাপপ্রবাহের দাপটে বিপর্যস্ত কৃষিনির্ভর উত্তরাঞ্চলের জনজীবন
কয়েকদিনের টানা তীব্র তাপপ্রবাহে উত্তরাঞ্চলের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। প্রচণ্ড রোদ ও ভ্যাপসা গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষক ও কৃষিশ্রমিকরা। মাঠে কাজ করতে গিয়ে তারা টানা এক ঘণ্টাও টিকতে পারছেন না। কিছুক্ষণ কাজ করেই গাছের ছায়া কিংবা খড়ের গাদার পাশে গিয়ে বিশ্রাম নিতে হচ্ছে। এতে কৃষিকাজের গতি কমে যাওয়ার পাশাপাশি কমেছে শ্রমিকদের দৈনিক আয়ও।
বর্তমানে রংপুর অঞ্চলের মাঠে বোরো ধান ও ভুট্টা কাটার শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে। পাশাপাশি কাটা ফসল শুকিয়ে ঘরে তোলার কাজেও ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তবে তাপপ্রবাহের কারণে এসব কাজে ধীরগতি দেখা দিয়েছে।
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা চাঁপারতল গ্রামের কৃষিশ্রমিক এন্তাজ আলী বলেন, ‘আমাদের এলাকায় কয়েকদিন আগেও টানা বৃষ্টির কারণে মাঠে নামতে পারিনি। এখন বৃষ্টি নেই, কিন্তু গত পাঁচ দিন ধরে এমন গরম পড়েছে যে জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। মাঠে টানা এক ঘণ্টা কাজ করলেই শরীর জ্বলে ওঠে। বাধ্য হয়ে গাছের নিচে গিয়ে বিশ্রাম নিতে হয়।’
একই গ্রামের কৃষিশ্রমিক আলম মিয়া বলেন, ‘এখন ধান ও ভুট্টা কাটার মৌসুম চলছে। আমরা চুক্তিভিত্তিক জমিতে ধান ও ভুট্টা কাটার কাজ করি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ছয়জনের একটি দল দুই ঘণ্টায় এক বিঘা ধান এবং তিন ঘণ্টায় এক বিঘা ভুট্টা কাটতে পারে। কিন্তু তীব্র গরমের কারণে এখন একই কাজ করতে প্রায় তিনগুণ বেশি সময় লাগছে। ফলে আয়ও কমে গেছে। মাঠে কিছুক্ষণ কাজ করলেই ছায়ায় গিয়ে বসতে হচ্ছে।’
১৩৭ দিন আগে
রংপুরে আলুর দামে ধস: লোকসান ও সংরক্ষণের অভাবে রাস্তায় ফেলছেন কৃষক
রংপুর অঞ্চলে আলুর কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় এবং সংরক্ষণের অভাবে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন চাষিরা। বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি আলু মাত্র ৫-৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় সামান্য। লোকসান এড়াতে ও পচন ধরায় অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে বস্তাভর্তি আলু রাস্তার ধারে ফেলে দিচ্ছেন। কৃষি বিভাগের আশঙ্কা, এ মৌসুমে এই অঞ্চলে আলুর ক্ষতি প্রায় ৬ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
কৃষকদের তথ্যমতে, বর্তমানে পাইকারি বাজারে আলুর দর ৬ থেকে ৮ টাকা কেজি, তবে মাঠপর্যায়ে কৃষকের কাছ থেকে কেনা হচ্ছে ৪ থেকে ৫ টাকা কেজিতে। অথচ প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের খরচ দাঁড়িয়েছে ১৮ থেকে ১৯ টাকা। গত বছরও উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে (৮-১০ টাকা) আলু বিক্রি করতে হয়েছিল, তবে এ বছর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের।
কৃষি বিভাগের রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাটের ৯টি উপজেলার চাষিরা আলু সংরক্ষণ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে গঙ্গাচড়া উপজেলায় সংকট সবচেয়ে বেশি। উপজেলার একমাত্র হিমাগারটির ধারণক্ষমতা ১ লাখ ৫০ হাজার বস্তা, যা এরই মধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে কৃষকরা বাধ্য হয়ে বাড়িতে আলু মজুত করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেই আলুতেও দ্রুত পচন ধরেছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) গঙ্গাচড়ার সদর ইউনিয়নের চেংমারী ও কুরিয়ার মোড় এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শত শত বস্তাভর্তি পচা আলু রাস্তার ধারে ফেলে রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও স্তূপ করা আলু থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, দাম পড়ে যাওয়ায় বিক্রি করতে না পারায় এবং সংরক্ষণের অভাবে এসব আলু পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে ফেলে দিচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর গঙ্গাচড়ায় ৫ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার ২০৭ টন আলু, যা স্থানীয় চাহিদার তুলনায় বেশি। অতিরিক্ত উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য না থাকায় আলুর দাম কমে গেছে।
১৬২ দিন আগে