স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী
১১ দলীয় এমপিদের এলাকায় সার সংকট তৈরির অভিযোগ শাহে আলমের
বিএনপির সংসদ সদস্যদের এলাকায় সারের কোনো সমস্যা নেই, সংকট ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যদের এলাকাগুলোতে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সরকারকে বিভ্রান্ত করতে ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা তাদের দলীয় লোকজনকে দিয়ে এই সংকট তৈরি করে থাকতে পারেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামে শহিদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শাহে আলম বলেন, যেসব জেলায় সার নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে, সে সব জেলার সংসদ সদস্যরা ১১ দলীয় জোটের। তারা সরকারকে বিভ্রান্ত করতে তাদের দলীয় লোকজন দিয়ে এই সংকট তৈরি করে থাকতে পারেন।
বিএনপির সংসদ সদস্যদের এলাকায় সার নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, উত্তরাধিকার সূত্রে আমরা যেসব সারের ডিলার পেয়েছি, তারা স্বৈরাচারী সরকার আমলে নিয়োগ পাওয়া। তাদের অসহযোগিতার ফলে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে।
এ সময় বর্তমান সরকারের সময় সার ডিলার নিয়োগে কোনো অনিয়ম থাকলে তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন তিনি।
শহিদ আবরার ফাহাদের নামে সেতু
এছাড়া কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে গড়াই নদীর ওপর শহিদ আবরার ফাহাদের নামে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
গত ৮ অক্টোবর শহিদ আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় পারিবারিক বিষয় ছাড়াও এলাকার মসজিদ ও সেতু নির্মাণ নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, তারই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে আমাকে ডেকে সেতু বাস্তবায়নের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। এ কারণেই আজ আমি কুষ্টিয়ায় এসেছি। শহিদ আবরার ফাহাদের নামে সেতু নির্মাণের উদ্দেশ্যে এখানে এসেছি। যত দ্রুত সম্ভব সেতু নির্মাণের সব পরিকল্পনা করে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী উপজেলার রায়ডাঙ্গায় শহিদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করেন। পরে তিনি সেতু নির্মাণের দুটি স্থান ঘুরে দেখেন।
মতবিনিময় সভায় আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ, কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুবউদ্দিন আহমেদ, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
৪ দিন আগে
স্থানীয় নির্বাচনে কলঙ্ক নিতে চায় না সরকার: শাহে আলম
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকার বিন্দুমাত্র কোনো কলঙ্ক নিতে চায় না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সরকার ও প্রশাসন কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে গ্রাম পুলিশের সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক সভার শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার এবং প্রশাসন হস্তক্ষেপ করবে না। নির্বাচন কমিশন যাদের দায়িত্ব দেবে, মাঠপর্যায়ের বেসামরিক প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে বলা হবে।
অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং সব প্রার্থীর সমান অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ দেশে দীর্ঘদিন ধরে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়নি। আমরা চেষ্টা করব, মানুষ যেন উৎসবমুখর পরিবেশে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন পায়।
নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব কমিশনের। সরকার ও প্রশাসন যাতে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ না করে, সেটিই সরকারের অবস্থান।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের পাশাপাশি বরাদ্দ দেওয়া অর্থের যথাযথ ব্যবহারের বিষয়টিও সামনে আনেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের মধ্যে নির্বাচন শেষ করতে সরকার নির্বাচন কমিশনকে বারবার অনুরোধ জানাচ্ছে। কমিশন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে না পারলে বরাদ্দের অর্থ পরবর্তী অর্থবছরে চলে যেতে পারে।
মীর শাহে আলম বলেন, আমরা প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ রেখেছি। এখন তারা নির্বাচন শেষ করতে না পারলে বাজেট আমাদের রয়ে যাবে, পরের অর্থবছরে চলে যাবে। এই সিদ্ধান্তটা তাদের নিতে হবে।
আগামী জুনের মধ্যে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন শেষ করা সরকারের লক্ষ্য বলেও জানান মীর শাহে আলম।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন মে মাস পর্যন্ত চললে বাকি নির্বাচনগুলো জুনের মধ্যে আয়োজন করা সম্ভব হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনই জবাব দিতে পারবে। নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব কমিশনের। সরকার শুধু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন শেষ করার অনুরোধ জানাচ্ছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সচিবদের নিয়ে বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই বৈঠকে প্রাথমিকভাবে কিছু নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। বাকি নির্বাচনগুলোর তারিখ ও আয়োজনের পদ্ধতিও সংশ্লিষ্ট সচিবদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করবে কমিশন।
৫ দিন আগে
আবু সাঈদের বাড়ি-কবরস্থান উন্নয়নে এক কোটি টাকা দেওয়া হবে: শাহে আলম
শহিদ আবু সাঈদের বাড়িতে নতুন ঘর নির্মাণ, তার মা-বাবার থাকার ব্যবস্থা এবং কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধনে এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে আবু সাঈদের বাড়িতে গিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার কত সুন্দর সুন্দর কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, সেগুলোকে সমর্থন না দিয়ে দেশের পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কোনো অপতৎপরতাই কাজে আসবে না, সরকার তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।
এ সময় তিনি শহিদ আবু সাঈদের বাড়ি ও কবর সৌন্দর্য বর্ধন করার জন্য এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনা দূর করতে সরকার কাজ করছে। আবু সাঈদের আত্মত্যাগ শুধু ইতিহাসের অংশ নয়, এটি তরুণ সমাজ ও ছাত্র-জনতার জন্য অনুপ্রেরণা। তার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে আন্দোলন সারা দেশের মানুষকে রাজপথে নামিয়েছিল, তা ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।
শহিদ আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আবু সাঈদ গণ-অভ্যুত্থানের বীর। আমরা আবু সাঈদকে ছড়িয়ে দিতে চাই। তার বাড়ির উন্নয়ন ও কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধনে ঘোষিত এক কোটি টাকার কাজ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য জেলা প্রশাসককে নকশা তৈরির নির্দেশ দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
এছাড়া রংপুর স্টেডিয়ামকে শহিদ আবু সাঈদের নামে করার আগ্রহের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রংপুর জেলা স্টেডিয়ামের নাম ইতোমধ্যে ‘শহিদ আবু সাঈদ স্টেডিয়াম’ করা হয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি রাজনৈতিক দল বেহেশতের কথা বলে ভোট নিয়েছে, কিন্তু মসজিদ, মাদরাসা, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় শিক্ষকদের নিয়ে চিন্তা করেনি। তাদের নিয়ে চিন্তা করেছেন তারেক রহমান। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী, স্বাস্থ্য কার্ড, খাল খনন, কর্মসংস্থান, খেলাধুলার উন্নয়নসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পর্যায়ক্রমে দেশের চার কোটি পরিবারের নারী প্রধানকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে আগামী চার বছরে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
কৃষকদের ভূমিহীন, প্রান্তিক, মধ্যম ও উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন শ্রেণিতে বিবেচনা করে কার্ড দেওয়া হবে। এ জন্য তাদের তদবিরের প্রয়োজন হবে না বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানীর বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, দেশের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্মানী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে সম্মানীর অর্থ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তৃতীয় ভাষা চালুর চিন্তা করছে সরকার। এর মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ করে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে তেল-গ্যাসের বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতির জন্য সরকার দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং সাময়িক অসুবিধার কথা জানিয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে দেশের বাজারেও দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিরোধীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, লংমার্চ করে কখনও সমস্যার সমাধান হবে না। আপনাদের কোনো সুনির্দিষ্ট মতামত থাকলে সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলুন। একই সঙ্গে সরকারের সফলতা-ব্যর্থতা মূল্যায়নের জন্য সময় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় জেলা পরিষদ প্রশাসক ও রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুন্নবীর ডনসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২০ দিন আগে
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারা বছর এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংসের আহ্বান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু নির্দিষ্ট সময়ে অভিযান নয়, সারা বছর নিয়মিতভাবে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংস করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং ডেঙ্গু সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি মীর শাহে আলম।
তিনি বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে ধারাবাহিক সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। সরকারি সংস্থার পাশাপাশি ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর সড়ক ও রাপা প্লাজা এলাকায় ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সকালে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিন মাসব্যাপী দেশব্যাপী এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পরপরই প্রতিমন্ত্রী মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিদর্শনে বের হন।
পরিদর্শনকালে মীর শাহে আলম ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর সড়ক ও রাপা প্লাজা এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজননস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেন।
তার আগে রাজধানীর সেচ ভবনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। সেখানে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
মীর শাহে আলম বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে।’ এজন্য শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; বাড়িঘর, নির্মাণাধীন ভবন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনার আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর লক্ষ্য শুধু মশা নিধন নয়; পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতার মাধ্যমে এডিস মশার প্রজননস্থল সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ বন্ধ করা এবং নাগরিকদের মধ্যে স্থায়ী সচেতনতা গড়ে তোলা।
নির্মাণাধীন ভবনকে এডিস মশার প্রজননের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ স্থান উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্মাণসামগ্রী, ড্রাম, বালতি, গর্ত বা অন্য কোনো স্থানে পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার লার্ভা জন্মাতে পারে। তাই ভবন মালিক, নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়মিত এসব স্থান পরিষ্কার রাখতে হবে।
তিনি জানান, নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পরিধি ও সক্ষমতা বাড়াতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মীর শাহে আলম বলেন, সংশ্লিষ্টদের সচেতন ও সতর্ক করার পরও কেউ দায়িত্বে অবহেলা করে এডিস মশার প্রজননের পরিবেশ সৃষ্টি করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড এবং প্রয়োজনে কারাদণ্ডের মতো আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে তিনি শাস্তির পরিবর্তে সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
পরিদর্শনকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যসহ অন্যান্য অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।
৩৭ দিন আগে
আইন অনুযায়ী যোগ্য যে কেউ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন: প্রতিমন্ত্রী
দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন না হওয়ায় আইন অনুযায়ী যোগ্যতা থাকা যেকোনো বৈধ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বৈঠক করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী আবদুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হলে বিএনপির অবস্থান কী হবে, এমন প্রশ্নে মীর শাহে আলম বলেন, ‘এখানে তো আওয়ামী লীগ হিসেবে নির্বাচন করছে না। দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগই নেই। কারণ দলীয় মনোনয়নও থাকছে না, দলীয় প্রতীকও থাকছে না।’
তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে দল-সমর্থিত প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। উপজেলা বিএনপি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে একজন সমর্থিত প্রার্থী ঠিক করে দিতে পারে। দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকেও স্থানীয় বিএনপিকে সব ইউনিয়নে একক সমর্থিত প্রার্থী রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি কোনো আলাদা অবস্থান নেবে না জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের ভূমিকা থাকবে নির্বাচন কমিশনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করা।
তিনি বলেন, ‘দলীয়ভাবে নির্বাচন হচ্ছে না। বৈধ প্রার্থী হিসেবে যারা নির্বাচন করবে, তাদের নিরাপত্তা দেওয়া এবং তারা যাতে সঠিকভাবে প্রচার প্রচারণা চালাতে পারে, সেজন্য নির্বাচন কমিশনকে স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় প্রশাসন সহযোগিতা করবে।’
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ নিয়ে সরকারের বার্তা কী, জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের মেসেজ ক্লিয়ার। যেহেতু এটা দলীয় নির্বাচন না, এই নির্বাচনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে যাদের যোগ্যতা আছে আইন অনুযায়ী সবাই অংশগ্রহণ করতে পারবে।’
৩৯ দিন আগে
বর্ষায় সড়কের ভাঙন রোধে ‘রাবারাইজড’ বিটুমিন ব্যবহারের পরিকল্পনায় সরকার
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে সড়ক নষ্ট হওয়া ঠেকাতে পর্যায়ক্রমে দেশের ২০ শতাংশ সড়কে রাবারাইজড বিটুমিন বা পলিমার মডিফাইড বিটুমিন ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ প্রযুক্তি ব্যবহারে বাংলাদেশকে কারিগরি সহায়তা দেবে মালয়েশিয়া।
রবিবার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওসমান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, রাবারাইজড বিটুমিন সাধারণত সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়। মালয়েশিয়ায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হলেও তাদের কার্পেটিং করা সড়ক সহজে নষ্ট হয় না। কারণ, তারা বিটুমিনের সঙ্গে রাবার ব্যবহার করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে সড়ক নষ্ট হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। তাই পর্যায়ক্রমে দেশের ২০ শতাংশ সড়কে রাবারাইজড বিটুমিন ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে বর্ষা মৌসুমে যাতে রাস্তাগুলো বৃষ্টির সময় নষ্ট হয়ে না যায়, সে কারণে আমরা প্রযুক্তিটা পর্যায়ক্রমে শুরু করব। প্রযুক্তিটা আমাদের কাছে সহজলভ্য না হওয়ায় মালয়েশিয়া আমাদের কারিগরি সহায়তা দেবে।
রাবারাইজড বিটুমিন ব্যবহারের প্রযুক্তি বাংলাদেশে নতুন নয় জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০০৫ সালে যখন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন, তখন বগুড়া সদরের নির্বাচনি এলাকায় আমরা মালয়েশিয়া থেকে এই পলিমার মডিফাইড বিটুমিন অর্থাৎ রাবারাইজড বিটুমিন নিয়ে এসে দুই কিলোমিটার রাস্তা পাইলটিং করেছিলাম। ওই সময় বর্তমান স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব সচিব শহীদুল হাসান এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন। পরীক্ষামূলকভাবে নির্মাণ করা ওই সড়ক এখনও ভালো আছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যে গ্রামীণ রাস্তাগুলো আমরা মেরামত করব, রক্ষণাবেক্ষণ করব বা নতুন রাস্তা তৈরি হবে তখন সেগুলোতে রাবারাইজড কার্পেটিং বিটুমিন দ্বারা কার্পেটিংয়ের জন্য আমরা এগিয়ে যাব।
বৈঠকে বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক যান বা ইভি খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। এছাড়া সৌর প্যানেল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও বিনিয়োগ করবে দেশটি। পাশাপাশি হালাল খাদ্য খাতেও বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
৫০ দিন আগে
রাজধানীর প্রধান সড়কে নিষিদ্ধ হচ্ছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা
রাজধানীর প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত ও ইলেকট্রিক অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচলের জন্য সর্বোচ্চ চার যাত্রীবাহী অটোরিকশাকে নিবন্ধন দেওয়া হবে। ছয় যাত্রী বহনকারী কোনো ই-রিকশা ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নিবন্ধনের আওতায় আসবে না।
রবিবার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওসমান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের নীতিমালা একদম শেষ পর্যায়ে। এখন এটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে। ভেটিং হয়ে আসার পর যত দ্রুত সম্ভব, এক সপ্তাহ বা তার পরের সপ্তাহের মধ্যে আমরা এটি জারি করব।
তিনি বলেন, আইনের আলোকে এই নীতিমালা দিয়ে দিলেই ইলেকট্রিক রিকশাগুলি একটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসবে।
বুয়েটের প্রত্যয়ন ও ফিটনেস নিয়ে কড়াকড়ি
নীতিমালায় ই-রিকশার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় এবং জেলা পর্যায়ের সরকারি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল শাখার প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করার কথা রয়েছে। পাশাপাশি ট্রাফিক বিভাগের ফিটনেস সনদ ছাড়া কোনো ই-রিকশা নিবন্ধন দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘বুয়েট, ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় এবং জেলা পর্যায়ের সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল বিভাগের প্রত্যয়ন ও ট্রাফিক বিভাগের ফিটনেস ছাড়া আমরা কাউকে রেজিস্ট্রেশন দেব না—নীতিমালায় এমন নির্দেশনা থাকবে। সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভাই মূলত এই রেজিস্ট্রেশনগুলো দেবে।’
তিনি বলেন, ই-রিকশার চার্জিং পয়েন্ট নিয়েও নীতিমালায় শর্ত থাকবে। পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে ই-রিকশা চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে এবং একপর্যায়ে এটি বাধ্যতামূলক করা হবে।
মীর শাহে আলম বলেন, যে গ্যারেজ বা পয়েন্টগুলোতে এগুলো রিচার্জ করা হবে, তা যাতে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে করা হয়, সে চেষ্টা আমরা করব এবং এটি পর্যায়ক্রমে বাধ্যতামূলক করা হবে।
চার্জিং পয়েন্টের লাইসেন্সও নিতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা এলাকা অনুযায়ী নিজ নিজ কর্তৃপক্ষ থেকে চার্জিং পয়েন্টগুলোর লাইসেন্স নিতে হবে।
৫০ দিন আগে
চলতি অর্থবছরেই সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী
চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে সিলেট নগরীর পারাইরচক এলাকায় সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তর রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য চলতি অর্থবছরের মধ্যেই সব স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করা। আগস্টের পর স্থানীয় সরকার বিভাগ, অর্থ বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে বৈঠক করে কোন স্তরের নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি দেশে ফেরার কোনো সুযোগ নেই। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে রায় হয়েছে। দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং আদালতের রায় কার্যকর করা হবে।
এ সময় সিলেট সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের অন্যান্য নগরের তুলনায় সিলেট অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন। খাল খনন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমেও সিসিক ভালো কাজ করছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, সিলেট সিটি করপোরেশন ও লাফার্জ সুরমা সিমেন্টের যৌথ উদ্যোগে ২০২৪ সালে একটি প্রকল্প চালু হলেও তা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হয়নি। এখন থেকে প্রকল্পটি পুরোপুরি চালু হবে। এর আওতায় নগরের বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে প্লাস্টিকজাতীয় অংশ লাফার্জ সুরমা বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করবে। অন্যদিকে, অবশিষ্ট জৈব বর্জ্য থেকে সার উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিদর্শনকালে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালেক, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৭৪ দিন আগে
ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতেই নতুন উপজেলা করা: মীর শাহে আলম
মোকামতলা উপজেলা গঠনের প্রসঙ্গ তুলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, আমার ইচ্ছা ছিল যে, এটা আমার সময় যদি হয়, তাহলে ইতিহাসের পাতায় আমার নামটি লেখা থাকবে যে আমার সময় শিবগঞ্জ ভেঙে নতুন একটি উপজেলা হয়েছে। এই ইতিহাসের সাক্ষী হবার কারণেই নতুন উপজেলা করা।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় নিজের সম্পদ, পারিবারিক প্রতিষ্ঠান, ছেলের বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে পদত্যাগ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও তিনি কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শিবগঞ্জ উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল যে, মোকামতলায় একটি আলাদা উপজেলা করার। আমি এমপি এবং মন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মাথায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে ডিও দিয়ে দুই মাসের মাথায় বাংলাদেশের প্রথম যে পাঁচটি উপজেলা হয়—মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাননীয় মহাসচিবের ওখানে দুটি, কক্সবাজারে একটি, লক্ষ্মীপুরে একটি এবং আমার নির্বাচনে একটি নতুন উপজেলা হয়—মোকামতলা উপজেলা। এই উপজেলাতে আজ হোক, কাল হোক, কেউ না কেউ করতই। আমার ইচ্ছা ছিল যে, এটা আমার সময় যদি হয়, তাহলে ইতিহাসের পাতায় আমার নামটি লেখা থাকবে যে আমার সময় শিবগঞ্জ ভেঙে নতুন একটি উপজেলা হয়েছে। এই ইতিহাসের সাক্ষী হবার কারণেই নতুন উপজেলা করা।’
তিনি বলেন, ‘আমার উপজেলায় নতুন কিছু ইউনিয়ন ছিল, যেগুলো অনেক বড় বড় ইউনিয়ন। যে ইউনিয়নগুলোকে বিভক্ত করার প্রয়োজন ছিল, সেই ইউনিয়নগুলোকে আমরা বিভক্ত করেছি। আমি নতুন চারটি ইউনিয়ন তৈরি করেছি। ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে হয়তো অনেক প্রশ্ন ছিল, অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে, তার অনুশাসন অনুযায়ী তিনটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করে নতুন করে আবার ওই এলাকার জনগণ যেভাবে চাইছে, সেভাবে নামকরণের ব্যবস্থা হয়েছে।’
বগুড়া দীর্ঘদিন উন্নয়নবঞ্চিত ছিল দাবি করে তিনি বলেন, জেলার উন্নয়ন ঘাটতি পূরণে তিনি মন্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় চেষ্টা করেছেন।
ব্যক্তিগতভাবে টার্গেট না করার আহ্বান
শুরুতেই ব্যক্তিগতভাবে টার্গেট করা হলে রাষ্ট্রীয় কাজে নিজের মেধার বিকাশ ঘটানো সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
নিজেকে লক্ষ্যবস্তু করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি তৃণমূল থেকে উঠে এসেছি। কিন্তু আমরা কাজ তো শুরু করেছি। আমাদের কাজ করবার যোগ্যতা আছে কি না, এটা তো কিছুদিন আপনাদের দেখতে হবে। শুরুতেই যদি আমাকে ধাক্কা মারা হয়, শুরুতেই যদি আমাকে টার্গেট করা হয়, তাহলে তো যেটুকু মেধা মহান আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন, আপনাদের চেয়ে কম অথবা বেশি বা সমান, এইটুকু মেধার বিকাশ তো আমি রাষ্ট্রীয় কাজে বা আমার মন্ত্রণালয়ে দেখাতে পারব না। এইটুকু সুযোগ তো আমাকে করে দিতে হবে কাজ করার।
নিজের অর্থে প্রতিষ্ঠানের দাবি
এলাকায় নিজের নামে প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, উন্নয়নের ব্যাপারে আমার একটা পাগলামো রয়েছে। আমি এলাকার উন্নয়নের ব্যাপারে অনেক চেষ্টা করি, কাজ করি দীর্ঘদিন যাবত। আপনারা জানেন যে, এবার অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। আমি প্রথম চেয়ারম্যান হওয়ার পরে আমার গ্রামে কিন্তু প্রাইমারি স্কুল করি আমার নামে, ১৯৯৭ সাল, যেটি এখন সরকারি।
তিনি বলেন, ২০০৩ সালে কারিগরি শিক্ষাকে মাথায় রেখে আমি ‘মীর শাহ আলম কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করি। এরপরে আমার নামে ওখানে কৃষি এবং মৎস্য কলেজ রয়েছে, আমার নামে মাদরাসা রয়েছে, ভেটেরিনারি স্কুল রয়েছে। এরপরে মোকামতলা নতুন উপজেলায় আমার নামে নতুন একটি কলেজ রয়েছে, শিবগঞ্জে আরেকটি কলেজ রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো আমি ১৯৯৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নিজের সম্পত্তি, পৈতৃক সম্পত্তি দিয়ে, কোথাও সম্পত্তি কিনে, নিজের অর্থ দিয়ে ঘরবাড়ি তৈরি করে দিয়ে আস্তে আস্তে এই প্রতিষ্ঠানগুলো আমি দাঁড় করিয়েছি। এর মধ্যে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই আমি বিএনপি করার কারণে এমপিওভুক্ত হয়নি। নতুন করে সরকার আসার পরে আবেদন করেছি, চেষ্টা করছি প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে এমপিওভুক্ত হয়। কারণ, দীর্ঘদিন এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বেতন পাননি; কারণ হচ্ছে আমি।
‘জাতীয় রাজনীতিতে আমার ভূমিকা ছিল’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটা ঠিক যে জাতীয় রাজনীতিতে আমার কোনো পদ-পদবি ছিল না। কিন্তু জাতীয় রাজনীতিতে আমি অনেক কাজ করেছি। আমার কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম স্যারের সঙ্গে আমি কাজ করেছি, রিজভী আহমেদের সঙ্গে আমি বহুবার কাজ করেছি এবং জাতীয় রাজনীতিতে প্রকাশ্যে হোক, অপ্রকাশ্যে হোক, আমার বহু ভূমিকা ছিল। যেহেতু আমি ঢাকা শহরেই বসবাস করতাম, ঢাকা শহরই পরিবারসহ আমার বসবাস।’
‘সমালোচনা পরিবার নিতে পারে না’
মীর শাহে আলম বলেন, ‘কয়েকদিন আগে একটা পত্রিকায় দেখলাম, আমি ওই প্রসঙ্গে যেতে চাই না, একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে হাইড করে কিছু নিউজ করা হয়। এগুলো আসলে হয় কি, আমরা হেয় প্রতিপন্ন মাঝে মাঝে হলে খুব একটা খারাপ লাগে না। কারণ রাজনীতি করি তো; সবাই আমাদের খুশি করবে তা না, কখনও গালি দেবে, কখনও ভালো বলবে। কিন্তু আমাদের সম্বন্ধে নেগেটিভ কিছু গেলে এটা পরিবার নিতে পারে না, আত্মীয়-স্বজনের কাছে এটা খারাপ লাগে।’
তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের সন্তানরা কিছু করলে এটা বিভিন্নভাবে সমালোচিত হয়। যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাহেবের ছেলে কেন ক্রিকেট বোর্ডে, সালাউদ্দিন সাহেবের ছেলে কেন ক্রিকেট বোর্ডে, বা মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেবের ভাই কেন ক্রিকেট বোর্ডে। আমার নিজেরও সন্তান ক্রিকেট বোর্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে এসেছিল। যখন সমালোচনা শুরু হয়েছে, আমার সন্তান আমার ওপর খুবই মন খারাপ করেছে। আমি তাকে ডেকে বুঝিয়ে বলেছি, বাবা, এটা নিয়ে নানা কথা হবে, তোমার ব্যবসা-বাণিজ্য এখন অনেক দেখতে হবে, তুমি দয়া করে পদত্যাগ কর।’
তিনি বলেন, ‘যেদিন বোর্ড নির্বাচিত হয়েছে, ফার্স্ট বোর্ড মিটিং করেছে, পরের দিনই আমার কথামতো গিয়ে আমার ছেলে ক্রিকেট বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেছে। এই নিউজটা আপনারা কেউ হাইলাইট করেন না যে একজন মন্ত্রী তার সন্তানকে ক্রিকেট বোর্ড থেকে সরিয়ে নিয়ে আসছেন।’
তার ভাষায়, ‘আমাদের সন্তানরা বিরোধী দলের থাকার সময় সরকারের রোষানলে পড়বে, আবার ক্ষমতায় আসার পরে সমালোচকদের রোষানলে পড়বে; তাহলে এরা উচ্চ শিক্ষিত হয়ে, উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে, রাজনৈতিকভাবে, ব্যবসায়িকভাবে মেধার বিকাশটা তাহলে ঘটাবে কোথায়? এরা সমাজে অবদানটা রাখবে কীভাবে? এই বিষয়গুলো মনে হয় আপনাদের নোটিশে আনা দরকার।’
সম্পদ নিয়ে ব্যাখ্যা, তদন্তের আহ্বান
সম্পদের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনি হলফনামায় তার সব সম্পদের তথ্য রয়েছে। ‘তাহলে সমস্ত হলফনামাকে আপনি হাইড করে একটা চিহ্নকে গোল চিহ্ন দিয়ে যদি বলেন যে, আমি প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর আমার সম্পত্তির পরিমাণ আট গুণ বেড়েছে, তখন কিন্তু কষ্ট লাগে।’
তিনি বলেন, ‘আপনি ওখানে সম্পত্তিতে দেখালেন ৩১ শতক, কিন্তু আমার হলফনামাতে তো সম্পত্তি দেওয়া আছে এক হাজার ৮৩৫ শতক। তাহলে কোথায় এক হাজার ৮৩৫ শতক আর আপনি হাইলাইট করলেন ৩১ শতক। হ্যাঁ, আমার উপজেলায় আমি মন্ত্রী হওয়ার পরে সম্পত্তি কেনা হয়েছে, এ তো আমি অস্বীকার করছি না। আমার কোম্পানির নামে সম্পত্তি আমার সন্তান কিনেছে। নতুন ইন্ডাস্ট্রি করার জন্য সম্পত্তি কেনার প্রয়োজন হলে সম্পত্তি কিনবে না? অবশ্যই কিনবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু সেটার আয়ের উৎসটা কী, সেটা আপনারা দেখেন, সেটা তদন্ত করুন। ট্যাক্স অফিস আছে, তারা দেখবে যে সেটা বৈধ না অবৈধ। ব্যক্তিগত নামে তো কোনো সম্পত্তি কেনা হয়নি; রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলের নামে, ফাউন্ডেশনের নামে সম্পত্তি কেনা হচ্ছে, কারণ সেখানে আমরা নতুন ইন্ডাস্ট্রি করব, নতুন ব্যবসা করব।’
টাকার উৎস সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি যে ৪২ কোটি টাকা দিয়ে একটা অটো রাইস মিল বিক্রি করলাম, নগদ টাকার উৎস তো এখানেই বের হয়ে আসে। আমি অন্য জায়গায় না-ই গেলাম, আমার অন্যান্য ব্যবসাগুলো নাহয় আমি বাদই দিলাম।’
‘মন্ত্রী আমাকে ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন না’
মন্ত্রণালয়ের কাজের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আমার মন্ত্রণালয়ে কাজ করছি, খুব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। কারণ আমার সৌভাগ্য যে আমার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দলের মহাসচিব। উনি দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তি, আমার পরম শ্রদ্ধেয় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং শ্রদ্ধেয় স্যার কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত... আমি ওনার বয়সে অনেক ছোট, নবীন হিসাবে উনি আমাকে ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেন না। যেকোনো বিষয়ে উনি আমাকে ডাকেন অথবা খবর দেন, আমি গিয়ে উনার কাছে বসলে উনি বলেন যে আমরা এটা এভাবে করতে চাচ্ছি, আমরা এক সমন্বিতভাবেই পরিচালনা করছি।’
তিনি বলেন, ‘আর আমার নিরাপত্তার জায়গা, ফাইল স্বাক্ষরের শেষ জায়গা হচ্ছে মাননীয় মন্ত্রী। আর উনি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাহলে আমার নিরাপত্তা, আমার প্রোটেকশনের দেওয়ালটা তো এখানে আছে, আমি তো ফাইনাল অথরিটি না আমার মন্ত্রণালয়ের। আমার পরেও ফাইলটা তার কাছে যায়। যদি ওখানে কোনো অন্যায় থাকে, নেগেটিভ কিছু থাকে আমার স্বাক্ষরের পরে, তাহলে তো মাননীয় মন্ত্রী সেটা ফেরত দিতে পারবেন বা ওটা এলাউ করবেন না।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি
স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরের নির্বাচনের জন্য চলতি বাজেটে অর্থ বরাদ্দ রয়েছে জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচন কমিশনও প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে।
তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, ইউনিয়ন—এই নির্বাচনগুলো করার জন্য তারাও প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। সব মিলিয়ে এই বছরটি সরকারের এই বড় একটি বাজেট বাস্তবায়নে যেমন একটা চ্যালেঞ্জ হবে, আমাদের সামনে নির্বাচনগুলো আসবে। এখানেও নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করবার জন্য সরকারের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ হয়েছে।’
বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে সংলাপটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।
১০২ দিন আগে
‘তারেক রহমানের বন্ধু’ পরিচয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বন্ধু নন; বরং বিএনপির একজন সাধারণ কর্মী। একই সঙ্গে তিনি গণমাধ্যমকে ‘তারেক রহমানের বন্ধু’ পরিচয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আমি বন্ধু না। আমি বিএনপির সাধারণ একজন কর্মী।’
তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু নিউজে আসে, আমি মাঝখানে একটা সাক্ষাৎকারে বলেছি যে তারেক রহমানের বন্ধু মীর শাহে আলম দুর্নীতি করবে, তারেক রহমানের বন্ধু মীর শাহ আলমের সম্পদ আট গুণ বাড়ল—এই যে কথাগুলি। তারেক রহমান শ্রদ্ধেয় তারেক রহমান বড় হয়েছেন, পড়াশোনা করেছেন ঢাকা শহরে। আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা বগুড়া এবং শিবগঞ্জে। উনার সঙ্গে আমার রাজনৈতিকভাবে সাক্ষাতই হয়েছে ১৯৯৩-৯৪ সালে, আমি ছাত্রদলের সেক্রেটারি হবার পরে, যখন উনার বগুড়ায় যাওয়া-আসা শুরু করলেন।’
মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমি আপনাদের মাধ্যমে আবারও বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করি যে এই বিষয়টি কখনোই কেউ নোটিশে বা নজরে নিয়ে আসবেন না। কোনো কারণেই কোনোভাবেই আমাদের শ্রদ্ধেয় নেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আমি বন্ধু না। আমি বিএনপির সাধারণ একজন কর্মী।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির কর্মী হিসেবে আমার বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়া। বগুড়া জেলার দায়িত্ব পালন করার কারণে যেহেতু বগুড়ায় বাড়ি শ্রদ্ধেয় নেতা তারেক রহমানের, তার সঙ্গে বহুবার আমার সাক্ষাৎ হয়েছে, দেখা হয়েছে। স্বাভাবিক কারণেই তিনি আমাদের স্নেহ করেন এবং বিভিন্ন সময় পরামর্শ দেন।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বগুড়ার মানুষ হিসেবে এইটুকু যোগাযোগ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার আছে। তিনি আমাকে চেনেন, ব্যক্তিগতভাবে জানেন—এইটুকুই তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক। তার সঙ্গে আমার বয়সেরও অনেক তারতম্য রয়েছে। সব মিলিয়ে এই যে মানুষের সামনে তিনি উপস্থাপন করেন যে তারেক রহমানের বন্ধু মীর শাহ আলম এটা করল, এই জিনিসটা আমি এবং আমার পরিবার বা সমাজের অন্য মানুষ নিশ্চয়ই ভালোভাবে নেবেন না। অনুগ্রহপূর্বক এই জিনিসটা থেকে, এই বিষয়টা থেকে আপনারা একটু দূরে থাকবেন বা সবাইকে সজাগ করবেন—এইটুকু আমি অনুরোধ করছি।’
বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে সংলাপটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।
১০২ দিন আগে