স্বাধীনতা দিবস
যথাযোগ্য মর্যাদায় দেশজুড়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন
যথাযোগ্য মর্যাদায় ও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করছে দেশ। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও নানা উৎসবমুখর আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার পর ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয়। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখ শহিদের সর্বোচ্চ ত্যাগ এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর অর্জিত হয় কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।
আজ সরকারি ছুটির দিন। দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার।
ভোরে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হয়। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সকাল ৯টায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ ও ফ্লাইপাস্ট অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে, ভোরে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরবর্তীতে বিদেশি কূটনীতিক, রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে।
দিবসটি উপলক্ষে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সকল বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় আয়োজিত হচ্ছে ছাত্র সমাবেশ ও কুচকাওয়াজ।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসামান্য আত্মত্যাগ আমাদের একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার পথে দৃপ্ত পদভারে এগিয়ে চলার সাহস জোগায়। স্বাধীনতার লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, শোষণমুক্ত সমাজ ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং সর্বস্তরের জনগণের ক্ষমতায়নকে সুসংহত করা। রাষ্ট্র ও সমাজের সব ক্ষেত্রে সাম্য, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে স্বাধীনতার অপূর্ণ স্বপ্নগুলো পূরণ করতে হবে। নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুখী-সমৃদ্ধ মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা আমাদের পবিত্র কর্তব্য।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, ২৬ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের এক গৌরবময় ও ঐতিহাসিক দিন। এই দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি জাতির শ্রেষ্ঠ সূর্যসন্তানদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। একইসঙ্গে আমি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতিতা মা, বোন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মনিবেদিত সবাইকে গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি এবং সব শহিদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবস আমাদের জীবনে সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে নতুন করে উজ্জীবিত করে। স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির অগ্রগতি ও উন্নয়নের ধারাকে আরও বেগবান করতে জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং দেশপ্রেমের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। আসুন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করি। একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করি।
এছাড়া গতকাল (বুধবার) দিবসটি উপলক্ষে একটি স্মারক ডাকটিকিটও উন্মোচন করেন তিনি।
দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার, বিটিভি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করছে এবং সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। দেশের প্রধান বন্দর ও নদী বন্দরগুলোতে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের জাহাজগুলো সূর্যাস্ত পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ফুটবল, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট, কাবাডি ও হা-ডু-ডু প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। সারাদেশের সিনেমা হলগুলোতে বিনামূল্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে এবং জাদুঘর ও শিশু পার্কগুলো বিনা টিকিটে দর্শনার্থীদের জন্য খোলা রাখা হয়েছে।
শহিদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের সমৃদ্ধি কামনা করে মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ সকল উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা ও বৃদ্ধাশ্রমগুলোতে পরিবেশন করা হচ্ছে উন্নত মানের খাবার।
চলমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বছর স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কোনো আলোকসজ্জা করা হয়নি। গত ৮ মার্চ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাশ্রয়ী নীতি অনুসরণের লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন।
২২ মিনিট আগে
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তার দপ্তরে এ ডাকটিকিট উন্মোচন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টা ২ মিনিটে সচিবালয়ে পৌঁছান এবং তার কিছু দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করেন। এরপরই স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেন।
এ সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আবদুন নাসের খান এবং ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
আজ বিকেল ৪টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
রুমন জানান, সাধারণত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে চলতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পড়ায় বৈঠকটি এগিয়ে আনা হয়েছে।
২২ ঘণ্টা আগে
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিএনপির দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।
রবিবার (২২ মার্চ) দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ২৫ মার্চ বুধবার বেলা আড়াইটায় রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বিএনপি। এতে দলটির জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ দেশের বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখবেন।
২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের ভোরে নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের সব দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। ওইদিন ভোর ৫টায় সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপির পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে।
সাভার থেকে ফিরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা। একইসঙ্গে সেখানে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
দিবসটি উপলক্ষে ইতোমধ্যে পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে এবং বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এছাড়া সারা দেশে জেলা, মহানগর, উপজেলা ও পৌরসহ সব ইউনিটে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি পালিত হবে। বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও নিজস্ব উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।
ঘোষিত এসব কর্মসূচি সফল করার জন্য সারা দেশের বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রুহুল কবির রিজভী।
৩ দিন আগে
ঈদ ও স্বাধীনতা দিবসে হিলি স্থলবন্দরে ১০ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ
পবিত্র ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে টানা ১০ দিন আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে এ সময়েও ইমিগ্রেশন কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে।
ছুটি ঘোষণার কারণে বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল থেকে হিলি স্থলবন্দরে ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাকসহ কোনো যানবাহন প্রবেশ করেনি।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ছুটির সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
গ্রুপের সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন শিল্পী বলেন, ‘ঈদুল ফিতর ও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস মিলিয়ে টানা ১০ দিন স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকবে। ছুটি শেষে ২৮ মার্চ শনিবার সকাল থেকে বন্দরে যথারীতি আমদানি কার্যক্রম শুরু হবে।’
হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ইনচার্জ আরিফুল ইসলাম জানান, ছুটির মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক থাকবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চেকপোস্ট খোলা থাকবে।
৭ দিন আগে
২৩ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত স্মৃতিসৌধে সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষেধ
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, ২০২৬ উদ্যাপন উপলক্ষে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আগামী ২৩ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত স্মৃতিসৌধ এলাকার ভেতরে সর্বসাধারণের প্রবেশ বন্ধ থাকবে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সরকারের তথ্য বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২৬ মার্চ ভোরে আমন্ত্রিত অতিথিরা স্মৃতিসৌধ ত্যাগ না করা পর্যন্ত জাতীয় স্মৃতিসৌধে সর্বসাধারণের প্রবেশ বন্ধ থাকবে।
জাতীয় স্মৃতিসৌধের পবিত্রতা ও সার্বিক সৌন্দর্য বজায় রাখার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে ঢাকার গাবতলী থেকে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত সড়কে কোনো ধরনের তোরণ, পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন না টানাতে পৃথক বিবরণীতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এছাড়া, স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণকালে স্মৃতিসৌধের ফুলের বাগানের কোনো ধরনের ক্ষতি সাধন না করার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
১২ দিন আগে
বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভারত: ড. ইউনূসকে মোদি
বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে পাঠানো বার্তায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য দুই দেশের অংশীদারত্বকে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে পাঠানো এক বার্তায় মোদি বলেন, শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য আমাদের (দুদেশের) যে আকাঙ্ক্ষা, তার দ্বারা পরিচালিত হয়ে এবং একে অপরের স্বার্থ ও উদ্বেগের প্রতি পারস্পরিক সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে আমরা এই অংশীদারত্বকে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে ড. ইউনূস ও এদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এই দিনটি আমাদের অভিন্ন ইতিহাস ও ত্যাগের সাক্ষ্য হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, যা আমাদের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্বের ভিত্তি স্থাপন করেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা দুদেশের সম্পর্কের পথপ্রদর্শক হিসেবে অব্যাহত থাকবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এটি বিকশিত হয়েছে এবং দুদেশের জনগণের জন্য সত্যিকারের কল্যাণ বয়ে এনেছে।
আরও পড়ুন: জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা নিবেদন
দেশটির রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে পাঠানো বার্তায় বলেন, ‘ভারতের সরকার, জনগণ এবং আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জাতীয় দিবস উপলক্ষে আপনাকে এবং বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম জনগণকে উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।’
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে বহুমুখী উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাণিজ্য, বহুমুখী যোগাযোগ, উন্নয়ন অংশীদারত্ব, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, শিক্ষা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুদেশের পারস্পরিক সহযোগিতা রয়েছে।
ভারতের রাষ্ট্রপতি বলেন, ভারতের ‘প্রতিবেশী আগে’ ও ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া রয়েছে আমাদের সাগর মতবাদ ও ইন্দো-প্যাসিফিক ভিশন।
গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক, শান্তিপূর্ণ ও প্রগতিশীল বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
৩৬৪ দিন আগে
জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা নিবেদন
দেশের ৫৫তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বুধবার (২৬ মার্চ) সকাল ৬টা ১১ মিনিটে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি।
এ সময় মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি কয়েক মিনিট নীরবতা পালন করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়। বিউগলে এ সময় বেজে ওঠে করুণ সুর।
শ্রদ্ধা নিবেদনকালে প্রধান বিচারপতি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা, তিন বাহিনীর প্রধানরা, মুক্তিযোদ্ধা, বিদেশি কূটনীতিক এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধান উপদেষ্টা স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন। এরপর সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য জাতীয় স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, দেশকে আরও উন্নত ও শক্তিশালী করতে এবং স্বাধীনতার পূর্ণ সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে অন্তর্বর্তী সরকার বদ্ধপরিকর।
তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, জনমুখী ও টেকসই উন্নয়ন এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সামনে রেখে দেশের উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
৩৬৫ দিন আগে
স্বাধীনতা দিবসে কুচকাওয়াজ না হওয়ার খবর সঠিক নয়
২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে এ বছর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত না হওয়ার খবর সত্য নয় বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার রবিবার (১৬ মার্চ) রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানিয়েছেন, ঢাকায় জাতীয় স্টেডিয়ামের সংস্কারকাজ চলমান থাকায় গত কয়েক বছরের মতো এ বছরও ঢাকায় কুচকাওয়াজ আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না। তবে দেশের বাকি ৬৩ জেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় কুচকাওয়াজ আয়োজন ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
আরও পড়ুন: ঈদ ও স্বাধীনতা দিবস ঘিরে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই: স্বরাষ্ট্র সচিব
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সব জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
৩৭৪ দিন আগে
ঈদ ও স্বাধীনতা দিবস ঘিরে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই: স্বরাষ্ট্র সচিব
আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ঘিরে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি।
রবিবার (১৬ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ সংক্রান্ত প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন তিনি।
সিনিয়র সচিব বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পুলিশ এখন শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
‘পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষ্যে ঘরমুখী যাত্রীদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় রয়েছে এবং নিয়মিত টহল কার্যক্রম চলছে। শপিংমলগুলোতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: প্রতারণা: অ্যাপ ও সরাসরি কাউন্টার থেকে ট্রেনের টিকেট কেনার পরামর্শ
নাসিমুল গনি বলেন, পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষ্যে যাতে কোনো শ্রম অসন্তোষের ঘটনা না ঘটে, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাছাড়া শ্রমিকদেরকে যাতে ঈদের আগে নির্ধারিত সময়ে বেতন-ভাতাদি পরিশোধ করা হয়, সেটি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর (অব.) সভাপতিত্বে সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরী, আইজিপি বাহারুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
৩৭৪ দিন আগে
বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের বীরদের সাহসিকতার প্রতি সজীব ওয়াজেদের সম্মান
স্বাধীনতা দিবসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন পোস্টে সজীব ওয়াজেদ পাঁচ দশক আগে ২৬ মার্চের ঐতিহাসিক রাতের কথা স্মরণ করেন, যেদিন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর হাতে বঙ্গবন্ধু গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক মুহূর্ত আগে স্বাধীনতার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছিলেন।
তিনি লিখেছেন, ‘২৬ মার্চ, আমাদের স্বাধীনতা দিবস। ৫৩ বছর আগে আজকের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মধ্য রাতে পাকবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার আগেই স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন।’
সেই ভয়াল রাতে ওয়্যারলেসে বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ বার্তার কথা তুলে ধরেন সজীব ওয়াজেদ, ‘এটাই সম্ভবত আমার শেষ বার্তা। আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন।... পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলার মাটি হইতে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন।’
বঙ্গবন্ধুর ডাককে হৃদয়ে ধারণ করা বাংলাদেশের ছেলে-মেয়েদের সংকল্প ও সাহসিকতার কথা, মাত্র নয় মাসে অর্জিত মুক্তিযুদ্ধে তাদের বিজয়ের কথা স্মরণ করেন সজীব ওয়াজেদ।
সজীব ওয়াজেদ লিখেছেন, ‘আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছিলেন এবং মাত্র ৯ মাসেই বিজয় অর্জন করেছিলেন। আজ স্মরণ করি বঙ্গবন্ধু এবং সকল মুক্তিযোদ্ধাকে।’
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সবাইকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান তিনি।
৭২৯ দিন আগে