অপ্রতিম হত্যা
অপ্রতিমের মা-বাবাকে ফোনে হয়রানির অভিযোগে থানায় জিডি
কুমিল্লায় হত্যার শিকার স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মা-বাবাকে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে হয়রানি ও অশোভন আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রতিম ও তার পরিবারকে জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এসব ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় অপ্রতিমের মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগম তার মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন।
এ ঘটনায় অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, বিভিন্ন ফেসবুক আইডি খুলে অপ্রতিম ও আমাদের জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে আমাদের দুজনের মোবাইল নম্বরে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে অশোভন আচরণ করা হচ্ছে। এসব কারণে আতঙ্কে অপ্রতিমের মা তার মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।
সদর দক্ষিণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাইবার বুলিং এবং বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে অশোভন আচরণের অভিযোগে অপ্রতিমের বাবা জিডি করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
১৯ দিন আগে
আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে হত্যা: পুলিশ সুপার
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) সঙ্গে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এ তথ্য জানান।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও মো. কামরুল হাসান। তাদের মধ্যে ফাহাদ অপ্রাপ্তবয়স্ক।
এছাড়া সিয়াম (১৯) নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণ যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে তুহিন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলে যান।
পরবর্তীতে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর তুহিনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন অপ্রতিমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ নামের একজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ফাহাদ তার বন্ধু কামরুলের সম্পৃক্ততার কথা জানায়। পরে কামরুলকেও হেফাজতে নেয় পুলিশ।
তুহিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এছাড়া পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সানন্দা এলাকার নির্জন বনে অপ্রতিমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে অপ্রতিম বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। এতে অপ্রতিমের মৃত্যু হয় বলে জানানো হয়েছে।
অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তুহিন তার মোবাইল ফোন নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলের সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলেও জানতে পেরেছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিলের কথা জানিয়েছেন তিনি।
২৫ দিন আগে
গ্রেপ্তাররা ‘অপরাধ স্বীকার করেছে’, দ্রুত বিচারের আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা অপরাধ স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজন চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগে তিনজন এবং আজকে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, ‘তারা অপরাধ স্বীকার করেছে। এখন বাকি আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান।’
গ্রেপ্তারদের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের কম হতে পারে। এনআইডি যাচাইয়ের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি বলেন, ‘তারা অনেকটা কিশোর অপরাধ চক্রের মতো। তাদের সঙ্গে এই ছেলের সম্পর্ক ছিল, ওঠাবসা ছিল, বন্ধুত্ব ছিল। প্রায় সময় আড্ডা দিত। খোঁজখবর এবং অন্যান্য তথ্য নিয়ে যা দেখা গিয়েছে, তারা এই ছেলের বয়সের ৫ থেকে ১০ বছর বড়।’
অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘সমস্ত আলামত পাওয়া গিয়েছে। তারা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রম, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া যায় কি না—এসব নিয়ে কাজ করছে।’
পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘তারা ১২ ঘণ্টার মধ্যে সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং আলামতসহ অন্যান্য বিষয় জব্দ করতে পেরেছে।’
পুলিশ ফরেনসিক বিশ্লেষণ করছে এবং নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপ্রতিমের দাফনও আজ রবিবার সম্পন্ন হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডটির বিচার দ্রুত শেষ করার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আশা করি, রামিসা হত্যার বিচারের মতো এই হত্যাকাণ্ডের বিচারটাও আমরা সংক্ষিপ্ত সময়ে সমাপ্ত করাতে পারব। বিচার করবে আদালত। আমরা আমাদের সমস্ত আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চার্জশিট দাখিলের মাধ্যমে সহযোগিতা করব।’
রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার যেভাবে দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন হয়েছে, একইভাবে এ মামলার বিচারেও বিচার বিভাগ গুরুত্ব দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
২৫ দিন আগে
কুমিল্লায় অপ্রতিমের দাফন সম্পন্ন
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষিকার ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইয়াশাত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার কোটবাড়ির গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে, আজ (রবিবার) সকাল ১০টার দিকে কুবি ক্যাম্পাসে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দোয়ার আগে বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
তিনি বলেন, ‘অপ্রতীম আপনাদের স্নেহ ও ভালোবাসায় বড় হয়েছে। সে যদি কখনও কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকে, তবে দয়া করে তাকে ক্ষমা করে দেবেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ক্যাম্পাসে সমবেত হয়ে অপ্রতিমের মরদেহ শেষবার দেখেন এবং তার মৃত্যুতে শোক জানান।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম এবং ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র ছেলে অপ্রতিমের মরদেহ গতকাল (শনিবার) বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়।
কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতিম বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য তার মায়ের আইফোন নিয়ে গেল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাসা থেকে বের হয়। তবে সে ঘরে ফিরে না আসায় পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয় এবং তার বাবা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এদিকে, এই মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামে তিনজনকে আটক করেছে।
২৫ দিন আগে