বিদ্যুৎ
খুলনায় ১০ টির মধ্যে ৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ায় খুলনা অঞ্চলের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা লেগেছে। জ্বালানির সংকটে ১০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে ৬টি বন্ধ থাকায় উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে। ফলে খুলনাঞ্চলের শহর ও গ্রামে শুরু হয়েছে তীব্র লোডশেডিং।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা অঞ্চলে ছোটবড় মিলিয়ে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট। তবে জ্বালানি সংকটের কারণে খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট, ফরিদপুর ৫০ মেগাওয়াট, নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার কোম্পানি ২২৫ মেগাওয়াট, মধুমতি ১০০ মেগাওয়াট এবং রূপসা ১০৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রসহ মোট ৬টি কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।
খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর মাহফুজুর রহমান বলেন, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এই কেন্দ্র চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা এনএলডিসি থেকে বিদ্যুতের চাহিদা পাচ্ছি না। আমাদের হাতে কোনো জ্বালানি নেই। জ্বালানি পাওয়া সাপেক্ষে আমরা কেন্দ্রটি চালাতে প্রস্তুত আছি।
এদিকে, বিদেশি ঋণ সহায়তায় নির্মিত কয়লাভিত্তিক রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালিয়ে গেলেও তা পুরো অঞ্চলের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়।
গ্রীষ্ম মৌসুমে খুলনা অঞ্চলে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। সরবরাহ ঘাটতির কারণে অনেক এলাকায় প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলো অপচয় রোধে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
চলমান সংকটকে বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিরতার সঙ্গে যুক্ত করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ইরান- ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার প্রভাবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের মতো একটি আমদানিনির্ভর দেশে।
প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম (ফেড) এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, দেশের এলএনজি আমদানির ৬৮-৭৫ শতাংশ এবং অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮০ শতাংশ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। এই রুটে সরবরাহ ব্যাহত হলে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা বড় ঝুঁকিতে পড়ে।
ব্যয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফার্নেস অয়েলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ ১৮ টাকার বেশি হলেও সৌরবিদ্যুতে তা প্রায় ৯ টাকা। এ বাস্তবতায় বিশেষজ্ঞরা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন।
প্রতিবেশ ও পরিবেশ সুরক্ষা কমিটির সদস্য জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দী বলেন, বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। টেকসই ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থায় দ্রুত রূপান্তর না ঘটালে ভবিষ্যতে সংকট আরও তীব্র হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের ৪ কোটির বেশি পরিবারের ছাদের একটি বড় অংশ ব্যবহার করে ১৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। পাশাপাশি কৃষিখাতে সৌর সেচ ব্যবস্থা চালু করা গেলে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে।
সংকট মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞদের সুপারিশের মধ্যে রয়েছে সৌর সরঞ্জামে শুল্ক-ভ্যাট প্রত্যাহার, বাড়িভিত্তিক সৌর প্যানেলে ভর্তুকি, দ্রুত সৌর পার্ক অনুমোদন এবং বিদ্যুৎ খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকেন্দ্রীকরণের মতো পদক্ষেপ।
গৌরাঙ্গ নন্দী বলেছেন, সময়মতো নীতিগত পরিবর্তন না আনলে জ্বালানি নির্ভরতা আরও বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে তা অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, সারা পৃথিবীতে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সৌর শক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। তাই তেলের জালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌর শক্তি নিয়ে পরিকল্পনা সাজানোর দাবি জানান তিনি।
১ দিন আগে
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কবলে সিলেট, ভোগান্তিতে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা
হঠাৎ করেই ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে সিলেট। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদামতো বিদ্যুৎ না পাওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শিগগিরই এর উন্নতির সম্ভাবনা নেই বলেও জানান সিলেটের বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্টরা। এদিকে, আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা। এই সময়ে লোডশেডিং বৃদ্ধি শিক্ষার্থীদের জন্য মরার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো।
লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীদের। তারা বলছেন, এমনিতেই সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দোকানপাট। এর মধ্যে দিনভর ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনমনে নাভিশ্বাস উঠছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বিপাকে। ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাবের মধ্যে দিনব্যাপী ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ের কারণে লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বালানি ঘাটতির কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। ফলে গ্রীষ্মের শুরুতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে লোডশেডিং।
উৎপাদন-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারে আশ্বস্ত করা হচ্ছে। তবে এর কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সিলেট জেলায় পিডিবির ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলেছে ১৩০ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি ছিল ৪০ মেগাওয়াট। লোডশেডিং হয়েছে ২৫ শতাংশ।
যদিও পিডিবির এই হিসাবের সঙ্গে বাস্তবতার তেমন মিল পাওয়া যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে ৭ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ মেলেনি। সেই হিসাবে লোডশেডিং হয়েছে কম হলেও ৫০ শতাংশ। কিন্তু পিডিবির হিসাব বলছে ২৫ শতাংশ লোডশেডিংয়ের কথা।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেট বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন জানান, হঠাৎ চাহিদা বেড়েছে, সেই তুলনায় উৎপাদন বাড়েনি। ফলে সরবরাহ কম থাকায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। আপাতত এই অবস্থার উন্নতির সম্ভাবনা নেই। কারণ জাতীয়ভাবে উৎপাদন না বাড়লে লোডশেডিং কমার সম্ভাবনা নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং শুরু হয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে লোডশেডিং। নগরীতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক রাখা হলেও গ্রাম অঞ্চলে সারা দিনে গড়ে ৬-৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে না।
এদিকে, পরিস্থিতি সামাল দিতে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধসহ বেশ কিছু কৃচ্ছ্রসাধনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচিতে আনা হয় পরিবর্তন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আংশিকভাবে অনলাইনে পরিচালনার কথাও বিবেচনায় আছে। এতকিছুর পরেও লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিলছে না।
জানা গেছে, গত কয়েকদিন থেকে সিলেটে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় গরমে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। লোডশেডিংয়ের মাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছায় ঘরে বাইরে কোথাও একটু স্বস্তি মিলছে না। দিনের বেলায় ১ ঘণ্টা পরপর থাকছে না বিদ্যুৎ। এমনকি রাতেও একাধিকবার লোডশেডিং হচ্ছে। গরমের তীব্রতা ও লোডশেডিংয়ে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থরা পড়েছেন বিপাকে। তীব্র গরমে অতিরিক্ত ঘেমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকেই। অফিস-আদালতে কাজে নেমে এসেছে স্থবিরতা। ব্যবসা-বাণিজ্যে দেখা দিয়েছে মন্দাভাব।
এই অবস্থা থেকে উত্তরণের তেমন আশার বাণী শুনাতে পারেনি বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎ বিভাগ বলেছে গরমে চাহিদা বেড়েছে, কিন্তু সেই আলোকে উৎপাদন বাড়েনি। তাই সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। শহরে লোডশেডিং ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ হলেও উপজেলা পর্যায়ে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। গ্রামীণ এলাকায় দিনে গড়ে ৬-৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে না।
সিলেটের ব্যবসায়ী মতিউর রহমান জানান, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। উৎপাদন সচল রাখতে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। কিন্তু ডিজেলও কিনতে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে উল্লেখযোগ্যভাবে খরচ বৃদ্ধি পেলেও বাড়ছেনা উৎপাদন।
সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লোডশেডিংয়ে জনজীবন এখন বিপর্যস্ত। উপজেলা পর্যায়ে প্রতিদিন কমপক্ষে সাত থেকে আট ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর লোডশেডিং বেশি হয়। শহর থেকে গ্রাম, সবখানে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে রাত-দিন সমানতালে চলে লোডশেডিং।
এদিকে, নগরীর বিভিন্ন এলাকাগুলো পিডিবির অধীনে থাকায় অনেকটা রুটিন করে লোডশেডিং করা হয়। তবে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে থাকা গ্রামীণ জনপদের মানুষকে কঠিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গ্রামে ২৪ ঘণ্টার বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎহীন থাকে বলে অভিযোগ করেন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দারা। গত রবিবার (১২ এপ্রিল) থেকে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বেড়ে গেছে বলেও জানিয়েছেন গ্রামীণ জনপদের লোকজন।
এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা জাকারিয়া তালুকদার বলেন, এক সপ্তাহেরও কম সময় পর অর্থাৎ ২১ এপ্রিল থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু। এখন যেভাবে বিদ্যুৎ যন্ত্রণা আছে, এক ঘণ্টা পাওয়া গেলে দুই ঘণ্টা অন্ধকারে থাকতে হয়। এভাবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে।
সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারস্থ একটি বিপণি বিতানের স্বত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেন বলেন, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধ করতে হচ্ছে। সকালে খুলতে খুলতে ১১টা বেজে যায়। এর মধ্যে সারা দিনের অর্ধেক সময়ও বিদ্যুৎ থাকে না। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।
১ দিন আগে
খুলনায় অব্যাহত লোডশেডিংয়ে নাকাল জনজীবন
খুলনায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন কার্যত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তীব্র গরমের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নগরবাসী ও আশপাশের এলাকার মানুষ। দিনের বেলায় তাপমাত্রা বাড়ার পাশাপাশি রাতেও মিলছে না স্বস্তি। এর মাঝে শুরু হচ্ছে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুমাতে পারছেন না অনেকেই। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন একাধিকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
খুলনার বাসিন্দারা জানান, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটছে। এর প্রভাব পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও।
শেখপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. সোলায়মান বলেন, ‘দিন-রাত সমানতালে লোডশেডিং চলছে। এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। গরমে শিশুরা খুব কষ্টে আছে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কম থাকায় সাময়িকভাবে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের বরাত দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রোকনউজ্জামান জানান, ১৬ এপ্রিল সকাল ১০টায় খুলনায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৬৫৩ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ৫৫০ মেগাওয়াট। এতে লোডশেডিং হয় ১০৩ মেগাওয়াট।
এর আগে, ১৫ এপ্রিল দুপুর ১টায় চাহিদা ছিল ৭৫০ মেগাওয়াট, সরবরাহ ছিল ৫৭২ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং হয় ১৭৮ মেগাওয়াট। একই দিন রাত ৯টায় চাহিদা ছিল ৬৮৬ মেগাওয়াট, সরবরাহ ৫৪২ মেগাওয়াট। এতে লোডশেডিং হয় ১৪৪ মেগাওয়াট।
এ পরিস্থিতিতে দ্রুত স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তীব্র গরমের এই সময়ে লোডশেডিং কমাতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
৩ দিন আগে
বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সচিবালয়ে নিজের কক্ষের অর্ধেক বাতি ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে সবাইকে মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, সকালে কার্যালয়ে পৌঁছানোর পরপরই প্রধানমন্ত্রী এ উদ্যোগ নেন।
তিনি বলেন, ‘সকাল ৯টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে নিজের কার্যালয়ে আসেন। তিনি অফিসে এসে নিজের কক্ষের ৫০ শতাংশ লাইটের সুইচ বন্ধ করে দেন এবং এসির মাত্রা ২৫ দশমিক ১-এ নামিয়ে আনেন। এই মাত্রা নিলে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়।’
রুমন আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী যখন মন্ত্রিসভার বৈঠক কক্ষে প্রবেশ করেন, তখনও তিনি কর্মকর্তাদের অর্ধেক বাতি নিভিয়ে দিতে এবং এসির মাত্রা কমিয়ে রাখতে নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগের পর তার কার্যালয়ের অন্যান্য কক্ষগুলোতেও তাৎক্ষণিকভাবে বাতি কমিয়ে দেওয়া হয় এবং এসির সেটিংস পরিবর্তন করা হয়।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের সকল মন্ত্রণালয়, সরকারি দপ্তর, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শপিং মল এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দক্ষতার সঙ্গে ও সাশ্রয়ীভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া দিনের বেলা কৃত্রিম আলোর ব্যবহার কমিয়ে পর্দা ও জানালা খুলে দিয়ে সূর্যের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রীকে বিদ্যুতের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এবং এ বিষয়ে আরও কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় সে সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মাঝেই প্রধানমন্ত্রী এই উদ্যোগ নিলেন। উল্লেখ্য, এই সংঘাত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অনেকাংশেই উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। দেশের প্রয়োজনীয় পেট্রোলিয়াম জ্বালানি, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং এলপিজি (এলপিজি)-এর সিংহভাগই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই অঞ্চল থেকে আমদানি করা হয়।
৪৫ দিন আগে
শনিবার সিলেটের যেসব এলাকায় থাকবে না বিদ্যুৎ
বৈদ্যুতিক লাইন ও ট্রান্সফরমারের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কাজের জন্য শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সিলেট মহানগরের কয়েকটি এলাকায় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরাফাত।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না: নগরের শেখঘাট এলাকার বিএডিসি অফিস , ইত্যাদি পয়েন্ট, শুভেচ্ছা আ/এ, সূর্যের হাসি ক্লিনিক, জিতু মিয়ার পয়েন্ট, পার্ক ভিউ হসপিটাল, হিলটাউন হোটেল, তেলি হাওড়, গরু বাজার, তালতলা পয়েন্ট, বাংলাদেশ ব্যাংক, কোর্ট পয়েন্ট, সুরমা মার্কেট, রামের দিঘীরপাড়, নির্ভানা ইন হোটেল, মির্জাজাঙ্গাল পয়েন্ট, কাজীর বাজার, তোপখানা এলাকা, কোতোয়ালী থানা, আলী আমজাদ ঘড়ি, সার্কিট হাউজ, ডিসি অফিস, পুলিশ সুপার অফিস, পোষ্ট অফিস, ডহর আ/এ, কলাপাড়া মসজিদ, কুষ্ট হাসপাতাল, সাউদার্ন সিএনজি এলাকা, শেখঘাট মসজিদ ও কাজিরবাজার এলাকা।
নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরাফাত।
৯৩ দিন আগে
বুধবার সিলেট নগরীর যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না
বৈদ্যুতিক লাইন ও ট্রান্সফরমারের জরুরি মেরামত ও সংরক্ষণ কাজের কারণে বুধবার (৭ জানুয়ারি) সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এতে সাময়িক ভোগান্তিতে পড়তে পারেন সেসব এলাকার গ্রাহকরা।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) পৃথক দুটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সিলেট বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ।
বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মু. তানভীর হায়দাদের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৩৩/১১ কেভি আম্বরখানা ফিডার ও লাক্কাতুড়া ফিডারের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
আম্বরখানা ফিডারের আওতায় রয়েছে: আম্বরখানা মসজিদ, দত্তপাড়া, আম্বরখানা সরকারি কলোনি, মজুমদারী, কমলা বাগান, পূর্ব পীরমহল্লা ও হাউজিং এস্টেট ফরিদাবাদ আবাসিক এলাকা।
এছাড়া লাক্কাতুড়া ফিডারের আওতায় বাদাম বাগিচা, বড়বাজার, চৌকিদেখী, আনার মিয়ার গলি, সৈয়দ মূগনী, ইলাশকান্দি, উদয়ন, পাহাড়িকা, বড়বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দারুস সালাম মাদ্রাসা, দবির মিয়ার গলি, শেভরন এলাকা, লাক্কাতুড়া চা বাগান, বনশ্রী আবাসিক এলাকা ও আশপাশের এলাকায়ও বিদ্যুৎ থাকবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুর রাজ্জাকের সই করা পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১১ কেভি রায়নগর ফিডারের আওতাধীন সেনারপাড়া, মজুমদারপাড়া, দর্জিপাড়া, পূর্ব মিরাবাজার, খারপাড়া ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
সেইসঙ্গে সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ১১ কেভি নাইওরপুল ফিডারের আওতাধীন কাজী জালাল উদ্দিন স্কুল এলাকা, নাইওরপুল পয়েন্ট, ওসমানী জাদুঘর, ধোপাদিঘীর উত্তরপাড়, অনাবিল, হোটেল অনুরাগ, ঝরণারপাড়, কুমারপাড়া পয়েন্ট, শাহী ঈদগাহসহ আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না।
নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হলে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)।
১০৩ দিন আগে
বিদ্যুৎ লাইনের ‘সুরক্ষা’র বলি ৭৫০ তালগাছ
নওগাঁ বাইপাস সড়কের দুই পাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি প্রায় ৭৫০টি তালগাছের ডালপালা কেটে ন্যাড়া করে দেওয়া হয়েছে। গাছগুলোর উপর দিয়ে থাকা বিদ্যুতের সরবরাহ লাইনের সুরক্ষা দিতে গাছগুলো ন্যাড়া করে দিয়েছে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (নেসকো) কর্মীরা। বিদ্যুৎ বিভাগের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা।
পরিবেশকর্মীরা বলছেন, সরকার যখন পরিবেশ রক্ষায় ও বজ্রপাতের হাত থেকে রক্ষা পেতে তালগাছ রোপণের উদ্যোগ নিচ্ছে, সেখানে গাছগুলো এভাবে ডালপালা কেটে ন্যাড়া করা ঠিক হয়নি। এতে পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়বে। বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব ছিল। এতে গাছ বাঁচত, পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা পেত।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কের দুইপাশে বেড়ে ওঠা এসব তালগাছের বয়স ২০-৩০ বছর। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্ন এলাকা থেকে তালের বীজ সংগ্রহ করে সড়কের দুইপাশে রোপণ করেন। এখন গাছগুলোর কারণে সড়কটির সৌন্দর্য বেড়েছে।
তাদের দাবি, ডালপালা ছেঁটে ফেলার কারণে গাছগুলো মরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর আগেও ডাল কেটে ফেলার কারণে কিছু গাছ মরে গেছে। সড়ক সংস্কারের নামে বারবার নির্বিচারে গাছ হলেও গাছ বাঁচাতে কারো কোনো উদ্যোগ নেই।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নওগাঁ বাইপাস সড়কের রামভদ্রপুর থেকে বটতলী বোয়ালিয়া পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার অংশজুড়ে রয়েছে কয়েক হাজার তালগাছ। এসব গাছের উচ্চতা ১০ থেকে ১২ ফুট। তালগাছের সামান্য দূরত্ব দিয়ে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপিত হয়েছে একের পর এক। এর মধ্যে দুপাশে থাকা অংসখ্য তালগাছ ন্যাড়া মাথায় দাঁড়িয়ে আছে। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি এসব গাছের আর আগের সৌন্দর্য নেই। সেই সঙ্গে সড়কটিও সৌন্দর্য হারিয়েছে।
১১৭ দিন আগে
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য প্রশিক্ষণ, বডি ওর্ন ক্যামেরা ক্রয়, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুতের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণসহ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ১৭তম সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, যেকোনো প্রস্তুতি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য প্রশিক্ষণ অনস্বীকার্য। প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। তাই আমরা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, নিরাপদ, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য প্রশিক্ষণ চলমান রেখেছি, যা আগামী জানুয়ারিতে সম্পূর্ণ শেষ হবে।
তিনি বলেন, এ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে, যা সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে। তাই এবার সূর্যের আলো চলে গেলেও ভোট গণনা করতে হবে। সেজন্য সকল ভোটকেন্দ্রে যেন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকে সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, জুলাই জাদুঘর জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার আগে আমরা এর নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলাপ করেছি, যাতে দর্শনার্থীরা নিরাপদে জাদুঘরে আসা-যাওয়া করতে পারেন।
রংপুরে এক মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্ত্রীকে হত্যার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।
নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে চাই।
এ সময় ‘জাতীয় পার্টিকে মাঠে নামতে দেওয়া হচ্ছে না’ এমন অভিযোগ সঠিক নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। জাতীয় পার্টির কার্যালয় নিয়ে তাদের নিজেদের মধ্যেই ঝামেলা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা।
তার ভাষ্যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাকে মাঠে নামতে দিচ্ছে না? পুরো মাঠ তো তারাই (রাজনৈতিক নেতারা) দখল করে রেখেছে। কে কী বলল, তা তো নয়। অনেক আছেন, ঘর থেকে বের হতে চান না। বলেন—ভাই, আমি ঘর থেকে বের হতে পারছি না। তার শরীরের অবস্থা এমন যে, বাইরে বের হলে তার ঠান্ডা লাগবে, সে এজন্য বের হতে পারে না। সে ঘরে কম্পিউটারের মধ্যে থাকে। সে ভাবে, বাইরে গেলেই তো আবার ঠান্ডা লাগবে, সর্দি-কাশি হতে পারে। তাকে তো আমরা বের হতে না করছি না।
ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি, আইজিপি বাহারুল আলম, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১৩২ দিন আগে
শনিবার সিলেটের যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না
জরুরি মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও গাছের ডালপালা কাটার জন্য শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সিলেট নগরীর বেশ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বিদ্যুৎ বিভাগের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ–১-এর প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরাফাত ও বিভাগ-২–এর প্রকৌশলী আবদুর রাজ্জাক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তারা জানিয়েছেন, আগামী শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৩৩/১১ কেভি আম্বরখানা উপকেন্দ্রের বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
এই উপকেন্দ্রের অধীন এলাকাগুলো হলো: ইলেকট্রিক সাপ্লাই রোড, আম্বরখানা পয়েন্ট, রায়হুসেন গলি, মজুমদারী, সৈয়দমুগনী, লেচুবাগান, পীর মহল্লা (পূর্ব–পশ্চিম), হাউজিং এস্টেট, জালালাবাদ আবাসিক এলাকা, দরগাহ গেট, চন্দনটুলা, ঘূর্ণি আবাসিক এলাকা, দরগাহ মহল্লা, গৌরগোবিন্দ টিলা, চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, পুরান লেন, লালবাজার, জল্লারপাড়, স্টেডিয়াম মার্কেট, মিয়া ফাজিলচিস্ত, পিটিআই, সুবিদবাজার, বনকলপাড়া, কলবাখানী, চাষনীপীর মাজার রোড, গোয়াইপাড়া, শাহী ঈদগাহ, হাজারীবাগ, টিবি গেট, উঁচা সড়ক, কাহের মিয়ার গলি, মক্তব গলি, কাজীটুলা, মীরবক্সটুলা, তাঁতীপাড়া ও আশপাশের এলাকা।
এ ছাড়াও সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বালুচর, সেনপাড়া ও শিবগঞ্জ ফিডার এলাকার অধীন শান্তিবাগ আবাসিক এলাকা, সোনার বাংলা আবাসিক এলাকা, নতুন বাজার, আল-ইসলাহ, আরামবাগ, বালুচর ছড়ারপাড়, ফোকাস, জোনাকী, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, আলুরতল, সেনপাড়া, শিবগঞ্জ, ভাটাটিকর, সাদিপুর, টিলাগড়, গোপালটিলা, এমসি কলেজ এলাকা, সবুজবাগ, বোরহানবাগ, হাতিমবাগ, লামাপাড়া, রাজপাড়া ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
তারা আরও জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের আগে কাজ শেষ হলে সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হবে। সাময়িক ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে গ্রাহকদের সহযোগিতা কামনা করেছেন এই প্রকৌশলীরা।
১৩৬ দিন আগে
আদানি পাওয়ারের সব পাওনা মিটিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ
ভারতের আদানি পাওয়ারের সরবরাহকৃত বিদ্যুতের বিপরীতে ৪৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার বকেয়া পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি)। এর মাধ্যমে কোম্পানিটির সব বকেয়া পাওনা মিটিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত যে বকেয়া ছিল, তা ‘সম্পূর্ণভাবে পরিশোধ’ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইউএনবিকে নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত আদানি পাওয়ারের বকেয়ার সবচেয়ে বড় কিস্তিটি পরিশোধটি করা হয়েছে জুনে। এর আগে সাধারণত প্রতি মাসে কোম্পানিটি বাংলাদেশ থেকে গড়ে ৯ থেকে ১০ কোটি ডলার করে পেত।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বকেয়া বিল, সুদের টাকা ও অন্যান্য চার্জ পরিশোধের মাধ্যমে আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিটি আর্থিক ও আইনি দিক থেকে এখন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ যে কয়েকটি বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল, তাও মিটে গেছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: আদানির সময়সীমা নিয়ে আমরা খুবই মর্মাহত: প্রেস সচিব
ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করছে আদানি পাওয়ার। সূত্র জানিয়েছে, সব পাওনা পরিশোধ হওয়ায় এখন ঢাকা কর্তৃপক্ষ আদানিকে নির্দেশ দিয়েছে, ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিটই (মোট ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট) যেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চাহিদা অনুযায়ী চালু রাখা হয়।
সূত্র আরও জানায়, আদানি ও বাংলাদেশের মধ্যে হওয়া এক সমঝোতা অনুযায়ী, গত অর্থবছরের বকেয়া জুনের মধ্যে পরিশোধ করা হলে বিলম্ব সুদ মওকুফ করার কথা। বাংলাদেশ সে শর্ত পূরণ করেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সময়মতো বিল পরিশোধ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ দুই মাসের সমপরিমাণ বিল (প্রায় ১৮ কোটি ডলার) সমমূল্যের একটি এলসি এবং সব বকেয়ার জন্য সার্বভৌম গ্যারান্টিও দিয়েছে।
চলতি বছরের মে মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, আদানি পাওয়ারের কাছে বাংলাদেশের বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৯০ কোটি ডলার।
কোম্পানিটির চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার দিলীপ ঝা সে সময় জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের মোট বিল ২০০ কোটি ডলার, যার মধ্যে ২০২৪–২৫ অর্থবছরের শেষ নাগাদ আদায় হয়েছে ১২০ কোটি ডলার। তবে দেরিতে পরিশোধের জন্য আরও ১৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার বিল করা হয়েছে।
২৯১ দিন আগে