বিদ্যুৎ
লোডশেডিংয়ে নওগাঁর কারখানাগুলোতে কমছে উৎপাদন, ব্যাহত হচ্ছে সেচ
চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) আওতাধীন এলাকায় তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। এতে নওগাঁর কারখানাগুলোতে আগের তুলনায় কমছে উৎপাদন। এছাড়া, শহরের বাইরের এলাকায় দিনে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে কৃষিজমিতে সেচ কার্যক্রম।
লোডশেডিংয়ের কারণে প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। এর ফলে কারাখানার উৎপাদন কমছে, কৃষিজমিতে সেচ কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। আবার ঘাটতি মোকাবিলায় অনেক প্রতিষ্ঠান ডিজেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখায় উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে।
ধান-চাল উৎপাদনে প্রসিদ্ধ নওগাঁ জেলায় বর্তমানে ৭০০-এর বেশি চালকল রয়েছে। এছাড়া জেলায় খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্য, কৃষি যন্ত্রাংশ, প্লাস্টিক, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ ছোট-বড় অসংখ্য কারখানা রয়েছে।
নেসকোর আওতাধীন নওগাঁ পৌরসভার সুলতানপুর এলাকায় অবস্থিত ঘোষ অটোমেটিক রাইস মিল। কারখানাটিতে গতকাল (বুধবার) দুপুর ১২টা থেকে আজ (বৃহষ্পতিবার) বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রায় ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। ফলে ডিজেল ব্যবহার করে মেশিন চালু রাখায় বেড়ে গেছে উৎপাদন খরচ। এতে লোকসানের মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
চালকল কারখানাটির মালিক দ্বীজেন ঘোষ বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ থেকে ৬ বার লোডশেডিং হয়েছে। একবার বিদ্যুৎ গেলে প্রায় ১ ঘণ্টা পর আসে।
তিনি বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে ডিজেল দিয়ে মেশিন চালানোর ফলে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। বাধ্য হয়ে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ডিজেল খরচ কমানোর জন্য কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এভাবে লোডশেডিং চলতে থাকলে কারখানা চালু রাখা সম্ভব হবে না।
নওগাঁ বিসিক (বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্প করপোরেশন) পল্লীতে অবস্থিত নাসিম ব্রাদার্স অটোমেটিক রাইস মিল। কারখানাটির ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে ১ থেকে দেড় ঘণ্টা লোডশেডিং থাকছে। এতে তাদের কারখানায় উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা থাকলেও ডিজেলের খরচ কমাতে সবসময় জেনারেটর চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
৫ দিন আগে
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ও দক্ষ ব্যবহারে গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ও দক্ষ ব্যবহার, প্রকল্প পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত জ্বালানি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
রবিবার (৯ আগস্ট) কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মাতারবাড়ী আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনকালে তিনি এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, বেলা পৌনে ১১টায় প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন। পরে তিনি প্রকল্পের প্রশাসনিক ভবনে যান।
সকাল ১১টা থেকে দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং গ্রহণ করেন। এ সময় প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান অবস্থা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিচালন কার্যক্রম, উৎপাদন সক্ষমতা, জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা, প্ল্যান্টের পরিচালন দক্ষতা, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সম্পর্কে অবহিত করেন। একই সঙ্গে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তার সামনে তুলে ধরা হয়।
ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী জানতে পারেন, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রটি শতভাগ দেশীয় প্রকৌশলী ও জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এতে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দেশীয় প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দক্ষতা ও সক্ষমতার প্রশংসা করে তাদের উৎসাহ দেন। এ সময় প্রকল্প এলাকায় প্রধানমন্ত্রী একটি নিমের চারা রোপণ করেন।
মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দুটি ৬০০ মেগাওয়াট ইউনিটের সমন্বয়ে মোট ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন। বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে আধুনিক আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি কয়লা পরিবহনের জন্য বন্দর সুবিধা, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, অ্যাকসেস রোড এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অবকাঠামো রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ঋণ সহায়তা দিয়েছে।
ব্রিফিং শেষে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনে বের হন।
দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে তিনি প্রস্তাবিত ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং ১২টা ২৯ মিনিটে সেখানে পৌঁছান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সময় তাকে প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে জানান।
একই এলাকায় প্রধানমন্ত্রীকে প্রস্তাবিত এলএনজি-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্প এবং নতুন রিফাইনারির জন্য নির্ধারিত স্থানও দেখানো হয়।
১০ দিন আগে
ভারী বর্ষণে কাপ্তাই হ্রদে পানি বৃদ্ধি, চলতি বছরের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন
বিগত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ভারী বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি হু হু করে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। গতকাল রবিবার পর্যন্ত হ্রদের পানি সমুদ্রস্তরের ১০০ ফুট নীচে থাকলেও আজ সোমবার সকাল থেকে হ্রদের পানি সেই স্তর অতিক্রম করেছে। সেইসঙ্গে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রের ৫টি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১০টায় কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে পানির লেভেল ছিল ১০০ দশমিক ৬০ ফুট মিন সি লেভেল, যেখানে গতকাল রাত পর্যন্ত পানির লেভেল ছিল ৯৯ দশমিক ১৫ ফুট মিন সি লেভেল।
প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ২০৬ মেগাওয়াট, যা চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন। এর আগে, গত বছরের নভেম্বর মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেলেও হ্রদে পানি স্বল্পতায় গত বছরের ডিসেম্বর থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০০ মেগাওয়াট এর নিচে চলে আসে।
এদিকে, কাপ্তাই কর্ণফুলি পানি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বরত প্রকৌশলীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত কেন্দ্রের ১, ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিটের প্রতিটিতে ৪০ মেগাওয়াট করে মোট ১৬০ মেগাওয়াট এবং ২ নম্বর ইউনিট থেকে ৪৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
৫টি ইউনিটের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৪০ মেগাওয়াট বলে জানান কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বরত প্রকৌশলীরা।
৩৬ দিন আগে
বিদ্যুৎ-জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি বাজারে বেশি প্রভাব ফেলবে না: উপদেষ্টা জাহেদ
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি বাজারে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
শনিবার (৬ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। এ সময়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন উপস্থিত ছিলেন।
বাজেটের পর এমনিতেই জিনিসপত্রের দাম বাড়ে। কিছুদিন পর বাজেট ঘোষণা। এই সময়ে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কতটা যৌক্তিকতা?— এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছিলেন।
জবাবে উপদেষ্টা বলেন, এ ধরনের সমন্বয় কোনো না কোনো সময় করতেই হয়। বাজেট এলেই বা বাজেট হওয়ার পর মূল্য বৃদ্ধির একটি প্রবণতা দেখা যায়। তবে বর্তমানে কাঁচাবাজার ও সবজির দাম আগের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মূল্যস্ফীতির যে প্রবণতা ছিল, সেখানে ইতোমধ্যে পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
ভর্তুকি সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা যখন ভর্তুকিতে এত বেশি খরচ করে ফেলি, সরকারের কিন্তু আরও অনেক উন্নয়ন প্রকল্প আছে এবং সামাজিক নিরাপত্তার প্রকল্প আছে। আমরা স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বড় ব্যয় করতে চাই, শিক্ষায় চাই এবং সামাজিক নিরাপত্তায়। আপনারা কৃষক কার্ডের কথা জানেন, ফ্যামিলি কার্ডের কথা জানেন, ওগুলোর ব্যয় সংস্থান তো আসলে আমাদের করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, যদি কোনো কারণে বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়, তবে সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে সতর্ক থাকবে। তবে নিম্নআয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর যাতে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, সে বিষয়ে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা বিদ্যুতের দাম তাদের জন্য বাড়াইনি, আমরা তাদের জন্য জ্বালানির দাম বাড়াইনি এবং তারা আবার সরকারের কাছ থেকে অনেকেই ভাতা পেতে শুরু করবেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, এই বাজেটে একটা বড় অংশের মানুষ ফ্যামিলি কার্ড পেয়ে যাবেন। সুতরাং তাদের ওই চাপ একই সঙ্গে অন্যান্য যেসব নিরাপত্তার বিষয় আছে, যেমন: টিসিবির যেসব প্রকল্প ছিল বা অন্যান্য যেসব সেফটি নেটের প্রকল্প ছিল, সেগুলো বলবৎ থাকছে। সুতরাং বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর খুব বেশি পড়বে না বলে আশা করছি।
উপদেষ্টা আরও বলেন, তার মানে এই না যে বাজারে যে অন্যায়ভাবে মূল্য বৃদ্ধি হয়, সেটা নিয়ে সরকার কাজ করবে না। সরকার নিশ্চয়ই কাজ করবে বলে জানান তিনি।
৭৪ দিন আগে
ঝড়ে চাঁদপুরের শতাধিক গ্রামে দুই দিন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, গাছচাপায় আহত ১০
ঝড়ের প্রভাবে চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর, হানাচর, চান্দ্রা ও বালিয়া ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামে গাছ ভেঙে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় দুই দিন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। এই দুর্যোগে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
গত বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পর্যন্ত এসব গ্রামের পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন। এতে ঈদ উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে আসা মানুষজন চরম দুর্ভোগে পড়েন।
ঈদের পরদিন শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে এ খবর জানা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক স্থানে ঝড়ে বড় বড় গাছ ভেঙে রাস্তায় এবং বসতঘরের ওপর পড়ে আছে।
সদরের লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের দেলোয়ার শেখ বলেন, মঙ্গলবার রাতে ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ চলে যায়। দুই দিন পরে বৃহস্পতিবার ঈদের দিবাগত রাত ২টার দিকে বিদ্যুৎ আসে, আবার শুক্রবার সকালে চলে যায়। গ্রামের প্রতিটি ঘরে এখন ফ্রিজ আছে। অনেকেই কোরবানির মাংস নিজের এবং স্বজনদের জন্য ফ্রিজে সংরক্ষণ করে। সে কারণে অনেকেই সমস্যায় পড়েছেন।
বাগাদী ইউনিয়নের নানুপুর গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন গাজী, আনিসুর রহমান, মোরশেদ ও জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঝড়ে বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় সরবরাহ বন্ধ ছিল। পরে খবর দিলে পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা এসে গাছ কেটে লাইন স্বাভাবিক করেন।
চান্দ্রা ইউনিয়নের বাখরপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেন খান, ইউসুফ খান ও নাজমুল হোসেন বলেন, ঝড়ে ঘর, সড়ক ও বিদ্যুতের লাইনের ওপর বহু গাছ ভেঙে পড়ে। এতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। নিজ গ্রামে ঈদ উৎসব করতে এসে অনেকে এবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে জানান তারা।
একই গ্রামের বাসিন্দা মাইনুল ইসলাম ও সোহেল আহম্মেদ বলেন, আমাদের ইউনিয়নের মদনা, দক্ষিণ বালিয়া, হরিপুর, বাখরপুর ও জব্বর ঢালী এলাকায় বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ পড়ে লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মদিনা মার্কেট এলাকায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে আঞ্চলিক সড়কে পড়ে ছিল।
তারা জানান, গত বুধবার সকালের আকস্মিক ঝড়ে পশ্চিম বালিয়া ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আজিজ তালুকদারের ঘরের ওপর দুটি গাছ ভেঙে পড়ে। এতে তার পরিবারের তিন সদস্য আহত হন।
আহতরা হলেন— আজিজ তালুকদারের ছেলে মো. আরাফাত (১৮), মেয়ে আবিদা সুলতানা (১২) ও স্ত্রী নাছিমা আজিজ (৪২)।
প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন আমরা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আইনজীবী মো. শাহজাহান খান। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মহাব্যবস্থাপক মো. আতিকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ঝড়ের পর আমাদের লোকজন কাজ করেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা পর্যন্ত কাজ করে বিদ্যুৎ লাইন আবার চালু করা হয়েছে। এরপরও যদি কোনো গ্রামে বিদ্যুৎ না থাকে, আমাদের জানালে সেখানে আমাদের লোকজন কাজ করবেন।
৮০ দিন আগে
খুলনায় ১০ টির মধ্যে ৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ায় খুলনা অঞ্চলের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা লেগেছে। জ্বালানির সংকটে ১০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে ৬টি বন্ধ থাকায় উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে। ফলে খুলনাঞ্চলের শহর ও গ্রামে শুরু হয়েছে তীব্র লোডশেডিং।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা অঞ্চলে ছোটবড় মিলিয়ে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট। তবে জ্বালানি সংকটের কারণে খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট, ফরিদপুর ৫০ মেগাওয়াট, নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার কোম্পানি ২২৫ মেগাওয়াট, মধুমতি ১০০ মেগাওয়াট এবং রূপসা ১০৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রসহ মোট ৬টি কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।
খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর মাহফুজুর রহমান বলেন, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এই কেন্দ্র চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা এনএলডিসি থেকে বিদ্যুতের চাহিদা পাচ্ছি না। আমাদের হাতে কোনো জ্বালানি নেই। জ্বালানি পাওয়া সাপেক্ষে আমরা কেন্দ্রটি চালাতে প্রস্তুত আছি।
এদিকে, বিদেশি ঋণ সহায়তায় নির্মিত কয়লাভিত্তিক রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালিয়ে গেলেও তা পুরো অঞ্চলের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়।
গ্রীষ্ম মৌসুমে খুলনা অঞ্চলে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। সরবরাহ ঘাটতির কারণে অনেক এলাকায় প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলো অপচয় রোধে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
চলমান সংকটকে বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিরতার সঙ্গে যুক্ত করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ইরান- ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার প্রভাবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের মতো একটি আমদানিনির্ভর দেশে।
প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম (ফেড) এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, দেশের এলএনজি আমদানির ৬৮-৭৫ শতাংশ এবং অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮০ শতাংশ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। এই রুটে সরবরাহ ব্যাহত হলে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা বড় ঝুঁকিতে পড়ে।
ব্যয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফার্নেস অয়েলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ ১৮ টাকার বেশি হলেও সৌরবিদ্যুতে তা প্রায় ৯ টাকা। এ বাস্তবতায় বিশেষজ্ঞরা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন।
প্রতিবেশ ও পরিবেশ সুরক্ষা কমিটির সদস্য জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দী বলেন, বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। টেকসই ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থায় দ্রুত রূপান্তর না ঘটালে ভবিষ্যতে সংকট আরও তীব্র হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের ৪ কোটির বেশি পরিবারের ছাদের একটি বড় অংশ ব্যবহার করে ১৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। পাশাপাশি কৃষিখাতে সৌর সেচ ব্যবস্থা চালু করা গেলে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে।
সংকট মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞদের সুপারিশের মধ্যে রয়েছে সৌর সরঞ্জামে শুল্ক-ভ্যাট প্রত্যাহার, বাড়িভিত্তিক সৌর প্যানেলে ভর্তুকি, দ্রুত সৌর পার্ক অনুমোদন এবং বিদ্যুৎ খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকেন্দ্রীকরণের মতো পদক্ষেপ।
গৌরাঙ্গ নন্দী বলেছেন, সময়মতো নীতিগত পরিবর্তন না আনলে জ্বালানি নির্ভরতা আরও বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে তা অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, সারা পৃথিবীতে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সৌর শক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। তাই তেলের জালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌর শক্তি নিয়ে পরিকল্পনা সাজানোর দাবি জানান তিনি।
১২৩ দিন আগে
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কবলে সিলেট, ভোগান্তিতে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা
হঠাৎ করেই ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে সিলেট। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদামতো বিদ্যুৎ না পাওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শিগগিরই এর উন্নতির সম্ভাবনা নেই বলেও জানান সিলেটের বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্টরা। এদিকে, আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা। এই সময়ে লোডশেডিং বৃদ্ধি শিক্ষার্থীদের জন্য মরার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো।
লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীদের। তারা বলছেন, এমনিতেই সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দোকানপাট। এর মধ্যে দিনভর ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনমনে নাভিশ্বাস উঠছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বিপাকে। ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাবের মধ্যে দিনব্যাপী ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ের কারণে লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বালানি ঘাটতির কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। ফলে গ্রীষ্মের শুরুতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে লোডশেডিং।
উৎপাদন-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারে আশ্বস্ত করা হচ্ছে। তবে এর কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সিলেট জেলায় পিডিবির ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলেছে ১৩০ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি ছিল ৪০ মেগাওয়াট। লোডশেডিং হয়েছে ২৫ শতাংশ।
যদিও পিডিবির এই হিসাবের সঙ্গে বাস্তবতার তেমন মিল পাওয়া যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে ৭ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ মেলেনি। সেই হিসাবে লোডশেডিং হয়েছে কম হলেও ৫০ শতাংশ। কিন্তু পিডিবির হিসাব বলছে ২৫ শতাংশ লোডশেডিংয়ের কথা।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেট বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন জানান, হঠাৎ চাহিদা বেড়েছে, সেই তুলনায় উৎপাদন বাড়েনি। ফলে সরবরাহ কম থাকায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। আপাতত এই অবস্থার উন্নতির সম্ভাবনা নেই। কারণ জাতীয়ভাবে উৎপাদন না বাড়লে লোডশেডিং কমার সম্ভাবনা নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং শুরু হয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে লোডশেডিং। নগরীতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক রাখা হলেও গ্রাম অঞ্চলে সারা দিনে গড়ে ৬-৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে না।
এদিকে, পরিস্থিতি সামাল দিতে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধসহ বেশ কিছু কৃচ্ছ্রসাধনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচিতে আনা হয় পরিবর্তন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আংশিকভাবে অনলাইনে পরিচালনার কথাও বিবেচনায় আছে। এতকিছুর পরেও লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিলছে না।
জানা গেছে, গত কয়েকদিন থেকে সিলেটে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় গরমে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। লোডশেডিংয়ের মাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছায় ঘরে বাইরে কোথাও একটু স্বস্তি মিলছে না। দিনের বেলায় ১ ঘণ্টা পরপর থাকছে না বিদ্যুৎ। এমনকি রাতেও একাধিকবার লোডশেডিং হচ্ছে। গরমের তীব্রতা ও লোডশেডিংয়ে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থরা পড়েছেন বিপাকে। তীব্র গরমে অতিরিক্ত ঘেমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকেই। অফিস-আদালতে কাজে নেমে এসেছে স্থবিরতা। ব্যবসা-বাণিজ্যে দেখা দিয়েছে মন্দাভাব।
এই অবস্থা থেকে উত্তরণের তেমন আশার বাণী শুনাতে পারেনি বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎ বিভাগ বলেছে গরমে চাহিদা বেড়েছে, কিন্তু সেই আলোকে উৎপাদন বাড়েনি। তাই সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। শহরে লোডশেডিং ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ হলেও উপজেলা পর্যায়ে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। গ্রামীণ এলাকায় দিনে গড়ে ৬-৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে না।
সিলেটের ব্যবসায়ী মতিউর রহমান জানান, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। উৎপাদন সচল রাখতে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। কিন্তু ডিজেলও কিনতে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে উল্লেখযোগ্যভাবে খরচ বৃদ্ধি পেলেও বাড়ছেনা উৎপাদন।
সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লোডশেডিংয়ে জনজীবন এখন বিপর্যস্ত। উপজেলা পর্যায়ে প্রতিদিন কমপক্ষে সাত থেকে আট ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর লোডশেডিং বেশি হয়। শহর থেকে গ্রাম, সবখানে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে রাত-দিন সমানতালে চলে লোডশেডিং।
এদিকে, নগরীর বিভিন্ন এলাকাগুলো পিডিবির অধীনে থাকায় অনেকটা রুটিন করে লোডশেডিং করা হয়। তবে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে থাকা গ্রামীণ জনপদের মানুষকে কঠিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গ্রামে ২৪ ঘণ্টার বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎহীন থাকে বলে অভিযোগ করেন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দারা। গত রবিবার (১২ এপ্রিল) থেকে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বেড়ে গেছে বলেও জানিয়েছেন গ্রামীণ জনপদের লোকজন।
এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা জাকারিয়া তালুকদার বলেন, এক সপ্তাহেরও কম সময় পর অর্থাৎ ২১ এপ্রিল থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু। এখন যেভাবে বিদ্যুৎ যন্ত্রণা আছে, এক ঘণ্টা পাওয়া গেলে দুই ঘণ্টা অন্ধকারে থাকতে হয়। এভাবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে।
সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারস্থ একটি বিপণি বিতানের স্বত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেন বলেন, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধ করতে হচ্ছে। সকালে খুলতে খুলতে ১১টা বেজে যায়। এর মধ্যে সারা দিনের অর্ধেক সময়ও বিদ্যুৎ থাকে না। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।
১২৩ দিন আগে
খুলনায় অব্যাহত লোডশেডিংয়ে নাকাল জনজীবন
খুলনায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন কার্যত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তীব্র গরমের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নগরবাসী ও আশপাশের এলাকার মানুষ। দিনের বেলায় তাপমাত্রা বাড়ার পাশাপাশি রাতেও মিলছে না স্বস্তি। এর মাঝে শুরু হচ্ছে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুমাতে পারছেন না অনেকেই। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন একাধিকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
খুলনার বাসিন্দারা জানান, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটছে। এর প্রভাব পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও।
শেখপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. সোলায়মান বলেন, ‘দিন-রাত সমানতালে লোডশেডিং চলছে। এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। গরমে শিশুরা খুব কষ্টে আছে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কম থাকায় সাময়িকভাবে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের বরাত দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রোকনউজ্জামান জানান, ১৬ এপ্রিল সকাল ১০টায় খুলনায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৬৫৩ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ৫৫০ মেগাওয়াট। এতে লোডশেডিং হয় ১০৩ মেগাওয়াট।
এর আগে, ১৫ এপ্রিল দুপুর ১টায় চাহিদা ছিল ৭৫০ মেগাওয়াট, সরবরাহ ছিল ৫৭২ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং হয় ১৭৮ মেগাওয়াট। একই দিন রাত ৯টায় চাহিদা ছিল ৬৮৬ মেগাওয়াট, সরবরাহ ৫৪২ মেগাওয়াট। এতে লোডশেডিং হয় ১৪৪ মেগাওয়াট।
এ পরিস্থিতিতে দ্রুত স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তীব্র গরমের এই সময়ে লোডশেডিং কমাতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
১২৪ দিন আগে
বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সচিবালয়ে নিজের কক্ষের অর্ধেক বাতি ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে সবাইকে মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, সকালে কার্যালয়ে পৌঁছানোর পরপরই প্রধানমন্ত্রী এ উদ্যোগ নেন।
তিনি বলেন, ‘সকাল ৯টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে নিজের কার্যালয়ে আসেন। তিনি অফিসে এসে নিজের কক্ষের ৫০ শতাংশ লাইটের সুইচ বন্ধ করে দেন এবং এসির মাত্রা ২৫ দশমিক ১-এ নামিয়ে আনেন। এই মাত্রা নিলে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়।’
রুমন আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী যখন মন্ত্রিসভার বৈঠক কক্ষে প্রবেশ করেন, তখনও তিনি কর্মকর্তাদের অর্ধেক বাতি নিভিয়ে দিতে এবং এসির মাত্রা কমিয়ে রাখতে নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগের পর তার কার্যালয়ের অন্যান্য কক্ষগুলোতেও তাৎক্ষণিকভাবে বাতি কমিয়ে দেওয়া হয় এবং এসির সেটিংস পরিবর্তন করা হয়।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের সকল মন্ত্রণালয়, সরকারি দপ্তর, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শপিং মল এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দক্ষতার সঙ্গে ও সাশ্রয়ীভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া দিনের বেলা কৃত্রিম আলোর ব্যবহার কমিয়ে পর্দা ও জানালা খুলে দিয়ে সূর্যের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রীকে বিদ্যুতের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এবং এ বিষয়ে আরও কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় সে সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মাঝেই প্রধানমন্ত্রী এই উদ্যোগ নিলেন। উল্লেখ্য, এই সংঘাত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অনেকাংশেই উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। দেশের প্রয়োজনীয় পেট্রোলিয়াম জ্বালানি, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং এলপিজি (এলপিজি)-এর সিংহভাগই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই অঞ্চল থেকে আমদানি করা হয়।
১৬৭ দিন আগে
শনিবার সিলেটের যেসব এলাকায় থাকবে না বিদ্যুৎ
বৈদ্যুতিক লাইন ও ট্রান্সফরমারের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কাজের জন্য শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সিলেট মহানগরের কয়েকটি এলাকায় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরাফাত।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না: নগরের শেখঘাট এলাকার বিএডিসি অফিস , ইত্যাদি পয়েন্ট, শুভেচ্ছা আ/এ, সূর্যের হাসি ক্লিনিক, জিতু মিয়ার পয়েন্ট, পার্ক ভিউ হসপিটাল, হিলটাউন হোটেল, তেলি হাওড়, গরু বাজার, তালতলা পয়েন্ট, বাংলাদেশ ব্যাংক, কোর্ট পয়েন্ট, সুরমা মার্কেট, রামের দিঘীরপাড়, নির্ভানা ইন হোটেল, মির্জাজাঙ্গাল পয়েন্ট, কাজীর বাজার, তোপখানা এলাকা, কোতোয়ালী থানা, আলী আমজাদ ঘড়ি, সার্কিট হাউজ, ডিসি অফিস, পুলিশ সুপার অফিস, পোষ্ট অফিস, ডহর আ/এ, কলাপাড়া মসজিদ, কুষ্ট হাসপাতাল, সাউদার্ন সিএনজি এলাকা, শেখঘাট মসজিদ ও কাজিরবাজার এলাকা।
নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরাফাত।
২১৪ দিন আগে