অনুসন্ধান ফলাফল - অগ্নিকাণ্ড
মোট - 460
কুমিল্লায় সমাহিত হলেন উত্তরায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৩ জন
রাজধানীর উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের তিনজনকে কুমিল্লায় তাদের নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া কাজী বাড়ি প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
এর আগে, গতকাল (শুক্রবার) রাতে কুমিল্লা নগরীর দারোগা বাড়ি মাজার প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে নানুয়াদিঘীর বাসভবনে মরদেহগুলো রাখা হয়।
আজ সকালে মরদেহগুলো তাদের নিজ গ্রামে নিয়ে গেলে এলাকায় শোকের আবহ সৃষ্টি হয়। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীসহ এলাকাবাসী নিহতদের এক নজর দেখার জন্য কাজী বাড়িতে ছুটে আসেন।
জানাজার নামাজে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ এলাকার শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
গতকাল রাজধানীর উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের একটি বহুতল ভবনে আগুন লেগে কাজী ফজলে রাব্বী (৩৭), তার স্ত্রী আফরোজা বেগম সুবর্ণা (৩০) এবং তাদের সন্তান কাজী ফায়াজ রিশান (৩) নিহত হন।
একমাত্র ছেলে রাব্বী, পুত্রবধূ ও আদরের নাতিকে হারিয়ে শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন কাজী খোরশেদল আলম ও ফেরদৌস আরা বেগম দম্পতি। রাব্বীর মা কুমিল্লার নবাব ফয়জুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
ঢাকায় জানাজা শেষে মরদেহ রাতেই কুমিল্লায় নানুয়ার দিঘীরপাড়ের বাসায় আনা হয়। এরপর পার্শ্ববর্তী দারোগা বাড়ি জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আজ (শনিবার) সকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া কাজী বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
২ দিন আগে
উত্তরায় অগ্নিকাণ্ড: ময়মনসিংহে পাশাপাশি সমাহিত হলেন এক পরিবারের ৩ জন
রাজধানীর উত্তরায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬ জনের মধ্যে তিনজনের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে। একই পরিবারের ৩ সদস্যের মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ পড়েছে পুরো গ্রাম। অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাবা, ছেলে ও ভাতিজিকে পাশাপাশি তিনটি কবরে দাফন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে বাড়ির পাশে জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, ঈশ্বরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের হাফিজ উদ্দিনের ছেলে হারেছ উদ্দিন (৪৭) ও শহীদুল ইসলাম (৪২) কাজের সন্ধানে ১৯৯৪ সালে ঢাকায় যান। দুই ভাই পরিবার নিয়ে রাজধানীর উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের একটি বাসায় বসবাস করতেন। উত্তরা জমজম এলাকায় ফলের ব্যবসা করতেন তারা। গতকাল (শুক্রবার) সকালে ওই বাসায় অগ্নিকাণ্ডে হারেছ উদ্দিন, তার ছেলে রাহাব চৌধুরী (১৭) ও ভাই শহীদুল ইসলামের মেয়ে রোদেলা আক্তার (১৫) নিহত হয়। রাহাব উচ্চমাধ্যমিক ও রোদেলা অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ঈশ্বরগঞ্জের দড়িপাঁচাশি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, দড়িপাঁচাশি দারুর রহমান হাফিজিয়া মাদরাসা-সংলগ্ন মসজিদের পাশে পাশাপাশি তিনটি কবর খোঁড়া হয়েছে। মসজিদের সামনে বাঁশ কেটে রাখা হচ্ছে।
মসজিদের ইমাম ও খতিব আবদুল আজিজ বলেন, মাদরাসা ও মসজিদে নিয়মিত সহযোগিতা করতেন হারেছ উদ্দিন। এমন ভালো মানুষের মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না।
হারেছের দোকানে একসময় কাজ করতেন মনির হোসেন। তিনি বলেন, তিনি দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে এবং শহীদুল ইসলাম স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে বাসাটিতে থাকতেন। হারেছের তিন বছরের ছেলে আরহান চৌধুরীকে নিয়ে স্ত্রী মিরপুরে বেড়াতে গিয়েছিলেন। শহীদুলের স্ত্রী সকালে ছেলেকে নিয়ে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। তিনি দোকানে চলে গিয়েছিলেন। এ সময় অগ্নিকাণ্ডে পরিবারের অন্য তিনজন মারা যান।
হারেছের চাচা নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা বেলা ১১টার দিকে মৃত্যুর খবর পাই। অগ্নিকাণ্ডে ৩ জন মানুষ মারা গেল। এমন মৃত্যুতে আমরা সবাই শোকাহত।
এই অগ্নিদুর্ঘটনায় মোট ৬ জন নিহত হয়েছে। অন্য তিনজনের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায়। তাদেরও নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।
২ দিন আগে
সুইজারল্যান্ডে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের প্রতি প্রধান উপদেষ্টার শোক
সুইজারল্যান্ডের ক্রঁ-মঁতানায় একটি স্কি রিসোর্টে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে বহু প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।
এ বিষয়ে সুইস প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে পাঠানো এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, দুর্ঘটনায় প্রাণহানির খবরে আমি গভীরভাবে শোকাহত। শোকাবহ এই সময়ে সুইস কনফেডারেশনের প্রেসিডেন্টের প্রতি এবং তার মাধ্যমে নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডের জনগণের প্রতি আমি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহানুভূতি জানাচ্ছি।
বার্তায় আরও বলা হয়, এই চরম শোকের সময়ে নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের তাদের পাশে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আমরা প্রার্থনাও করছি। সর্বশক্তিমান যেন নিহতদের আত্মার মাগফিরাত দান করেন এবং তাদের পরিবারবর্গকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দান করেন।
আমরা দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত সুস্থতাও কামনা করছি।
শোকবার্তার শেষে সুইস প্রেসিডেন্টের প্রতি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও সৌজন্য জ্ঞাপন করা হয়।
১৬ দিন আগে
মুন্সীগঞ্জে স মিলে অগ্নিকাণ্ড
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার এলাকায় একটি স মিলে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। আগুনে মিলের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও কাঠসহ অন্যান্য মালামাল পুড়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটের দিকে পঞ্চসার এলাকার জিসান স মিলে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে মুন্সীগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আগুন লাগার সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানা যাবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা।
২১ দিন আগে
ভারতের গোয়ায় নাইটক্লাবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত অন্তত ২৫
রান্নাঘরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে ভারতের গোয়া রাজ্যের একটি জনপ্রিয় নাইটক্লাবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এ ঘটনায় পর্যটকসহ অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) মধ্যরাতের পরপর উত্তর গোয়ার আরপোরা এলাকায় অবস্থিত ওই নাইটক্লাবে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত আজ (রবিবার) জানিয়েছেন, নিহতদের অধিকাংশই ক্লাবটির রান্নাঘরের কর্মী। এ ছাড়া তিন থেকে চারজন পর্যটকও রয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডে আরও অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। তবে তারা আশঙ্কামুক্ত আছেন বলে তিনি জানান।
স্থানীয় পুলিশের বরাতে ভারতীয় বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই) জানিয়েছে, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন লাগার সময় ক্লাবটির নাচের ফ্লোরে অন্তত ১০০ জন উপস্থিত ছিলেন। আতঙ্কের কারণে অনেকেই নিচতলার রান্নাঘরের দিকে ছুটে গেলে কর্মীদের সঙ্গে তারাও আটকা পড়েন।
আগুন ইতোমধ্যে নির্বাপণ করা হয়েছে এবং সব মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থাটির খবরে আরও বলা হয়েছে, আরপোরা নদীর তীরে অবস্থিত ক্লাবটির প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ ছিল অত্যন্ত সরু। এর ফলে ফায়ার সার্ভিসের টিমকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে পানি সরবরাহকারী ট্যাংকার রাখতে হয়। ঘটনাস্থলে যাতায়াতের পথ খুব বেশি প্রশস্ত না হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লেগে যায়।
স্থানীয় গ্রাম পরিষদের কর্মকর্তা রোশন রেডকার পিটিআইকে বলেন, ক্লাবটি নির্মাণের অনুমোদন না থাকায় বেশ আগেই এটি ভেঙে ফেলার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পরে সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেয়।
আগুন লাগার সঠিক কারণ এবং ভবনটি নির্মাণে অগ্নিনিরাপত্তা ও নির্মাণবিধি সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা জানতে রাজ্য সরকার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী সাওয়ান্ত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা এক পোস্টে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন। সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সাওয়ান্তের সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মোদি বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের রাজ্য সরকার ‘সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা’ করছে।
৪৩ দিন আগে
হংকংয়ে ভবনের অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ১২৮, গ্রেপ্তার আরও ৮
হংকংয়ের বহুতল ভবন কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতটি ভবন পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় শুক্রবার বাসায় বাসায় তল্লাশি চালিয়ে আরও বেশ কয়েকটি মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। এর ফলে অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৮ জনে।
এ ঘটনায় আরও ৭৯ জন আহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও প্রায় ২০০ জন। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ভবন সংস্কারকাজে যুক্ত আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে এই আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ভয়াবহ এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এক দিনেরও বেশি সময় লাগে এবং পুরোপুরি নেভাতে সময় প্রায় ৪০ ঘণ্টা লেগে যায়। অগ্নিকাণ্ড শুরুর দুই দিন পরেও দগ্ধ ভবনগুলো থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।
হংকং ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক অ্যান্ডি ইয়ুং বলেন, কমপ্লেক্সের কিছু অগ্নি-সতর্কীকরণ অ্যালার্ম পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সেগুলো অকেজো ছিল। তবে ঠিক কতগুলো অ্যালার্ম অকেজো ছিল বা বাকিগুলোও কার্যকর ছিল কিনা, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
ইয়ুং বলেন, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে তা এক ভবন থেকে আরেকটিতে ছড়িয়ে পড়ে। কারণ, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত স্টাইরোফোমের প্যানেল ও জালে ঢাকা বাঁশের মাচায় (স্ক্যাফোল্ডিং) আগুন লেগে তা দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, শুক্রবার ৪০ থেকে ৬৩ বছরের মধ্যে সাত জন পুরুষ ও এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হংকংয়ের দুর্নীতি দমন সংস্থা-ইন্ডিপেনডেন্ট কমিশন অ্যাগেইনস্ট করাপশন (আইসিএসি)। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন স্ক্যাফোল্ডিংয়ের সাব-কন্ট্রাক্টর, একটি ইঞ্জিনিয়ারিং পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এবং সংস্কার কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রকল্প ব্যবস্থাপকেরা।
৫১ দিন আগে
কড়াইল অগ্নিকাণ্ডের সূত্র অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি
রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে গতকাল মঙ্গলবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) মামুনুর রশিদের নেতৃত্বে গঠিত এ কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন— ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স জোন ২-এর উপপরিচালক অতীশ চাকমা, তেজগাঁও ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা নাজিমউদ্দিন সরকার, ঢাকা-২৩ অঞ্চলের গুদাম পরিদর্শক সোহরাব হোসেন ও ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নাজমুজ্জামান।
গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে এই অগ্নিকাণ্ডের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিস সদরদপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। প্রথমে সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ শুরু করে। পরে বাকি চার ইউনিটও তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। এরপর একে একে ২০টি ইউনিট পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করে।
পরে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিটের চেষ্টায় ৫ ঘণ্টা পর রাত ১০টা ৩৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী।
সে সময় ঘটনাস্থল থেকে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘কড়াইল বস্তির আগুন নেভানোর সীমাবদ্ধতা প্রচুর। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সবগুলো আগুনের কাছাকাছি আসতে পারছে না। এই বিশাল এলাকায় পানির লাইন জোড়া দিয়ে আগুনের কাছে পৌঁছাতে হচ্ছে।’
পানির সংকট রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘পানির কোনো সমস্যা নেই। চারপাশে অনেক পানি আছে। কিন্ত প্রক্রিয়া করণ করে সেই পানির ব্যবস্থা করতে সময় লাগছে। নানাবিধ সমস্যার কারণে এখানে ফায়ার সার্ভিসের আসতে ৩৫ মিনিট দেরি হয়েছে।’
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সেইসঙ্গে আগুনে কতগুলো ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আগুন লাগার কারণ সম্পর্কেও তাৎক্ষণিকভাবে কিছু নিশ্চিত করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।
৫৪ দিন আগে
শাহজালালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ জানার চেষ্টায় রপ্তানিকারক সংগঠনগুলো
রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো বিভাগে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ জানার চেষ্টা করছে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সংগঠনগুলো। এরই মধ্যে তারা সদস্য কোম্পানিগুলোকে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের বিস্তারিত তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছে।
সংগঠনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের মোট পরিমাণ এবং আর্থিক ক্ষতির পরিসর সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
রবিবার (১৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) একটি প্রতিনিধি দল কার্গো ভিলেজ পরিদর্শন করে ক্ষতি নিরূপণ করবে বলে জানানো হয়েছে।
বিজিএমইএ জনসংযোগ কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদ করিম ইউএনবিকে বলেন, বিজিএমইএ-এর একটি দল আজ দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবে।
আরও পড়ুন: শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন, একাধিক ফ্লাইট নামল চট্টগ্রাম ও কলকাতায়
এদিকে, কার্গো ভিলেজে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়া সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন রপ্তানিকারকরা।
বাণিজ্য নেতারা বলেছেন, বিমানবন্দর কার্যক্রম দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে তা শুধু যাত্রী পরিবহনে নয়, দেশের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাতেও মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশ থেকে বিমান পথে গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক (আরএমজি), সবজি, ফল ও পানপাতাসহ পচনশীল পণ্য।এ ছাড়া রয়েছে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর মাধ্যমে রপ্তানি হওয়া পণ্য এবং বিভিন্ন নথিপত্র। সে ক্ষেত্রে এ ধরনের ব্যবসায়ীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
বিজিএমইএ-এর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘কী পরিমাণ পণ্যের ক্ষতি হয়েছে, এই মুহূর্তে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।’
আরও পড়ুন: শাহজালাল বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ
তিনি আরও বলেন, ‘বিমানবন্দর বন্ধ থাকলেও ক্ষতির মুখে পড়বেন রপ্তানিকারকরা। যদি তা দ্রুতই খুলে দেওয়া হয় তবে কম ক্ষতি হবে, যদি বেশি দিন বন্ধ থাকে তবে বেশি ক্ষতি হবে।’
সবজি ও এ জাতীয় পণ্য রপ্তানিকারক সমিতির (বিএফভিএপিইএ) সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমাদের প্রতিদিনই অনেক পণ্য থাকে, এমনটা নয়। বিমানের স্থান ফাঁকা থাকার ওপর নির্ভর করে আমাদের বিভিন্ন ডেস্টিনেশনে পণ্য পাঠানো। তাই যেদিন স্থান বেশি পাই সেদিন পণ্যও বেশি দিতে পারি।’
তাদের সদস্যদের কী পরিমাণ পণ্য মজুত ছিল তা খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এর আগে, শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ এলাকায় আকস্মিকভাবে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এরপর সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যৌথভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৩৭টি ইউনিটের সাত ঘণ্টারও বেশি সময়ের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
৯২ দিন আগে
শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো ভিলেজের একটি অংশে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ এলাকায় আকস্মিকভাবে আগুন লাগে। কার্গো ভিলেজের এ অংশে আমদানি করা পণ্য মজুদ রাখা হয়।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম ইপিজেডে কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৯ ইউনিট
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বাংলাদেশ সিভিল এ্যাভিয়েশন, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দুটি ফায়ার ইউনিট।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের (মিডিয়া সেল) কর্মকর্তা তালহা বিন জাশিম জানান, ফায়ার সার্ভিসের ২০ টি ইউনিট কাজ করছে, ১২ টি ইউনিট পথে রয়েছে।
৯৩ দিন আগে
মিরপুরের অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬
রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়ি এলাকায় একটি ভবনে থাকা গার্মেন্টস কারখানা ও রাসায়নিকের গুদামে অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম এ তথ্য জানিয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, সব মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মরদেহগুলো গার্মেন্টস ভবন থেকে পাওয়া গিয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। কেমিক্যাল গোডাউনের আগুন নির্বাপনের কাজ চলছে।
এছাড়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামুন (৩৫), সোহেল (৩২) ও সুরুজ (৩০) নামের তিনজনকে দগ্ধ অবস্থায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, বিকেল পৌনে ৩টার দিকে তাদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসাপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়।
দগ্ধ মামুনের স্বজন জোসনা জানান, মামুন ওই কারখানায় কাটিং মাস্টার হিসেবে এবং সোহেল ফিনিশিং সেকশনে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া সুরুজ অর্ডারকৃত পণ্যের গুণমান যাচাই করতে সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
এর আগে, মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে শিয়ালবাড়িও ওই পোশাক কারখানা এবং একটি রাসায়নিকের গুদামে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
বিকেলে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘তল্লাশি অভিযান এখনো চলমান। পাশের যে কেমিক্যাল গোডাউন রয়েছে, সেখানে এখনো আগুন জ্বলছে। এটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ওখানে কাউকে যেতে দিচ্ছি না। আমরা সর্বোচ্চ প্রযুক্তি দিয়ে, ড্রোন দিয়ে এসব কার্যক্রম করছি।’
আগুনের সূত্রপাতের বিষয়ে তিনি বলেন, এখনো জানা যায়নি। যারা শুরুতে আগুন নেভাতে এসেছেন, তারা রাসায়নিকের গুদাম ও গার্মেন্টস দুই দিকেই আগুন দেখেছেন।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, তিনতলা পোশাক কারখানার নিচতলায় ‘ওয়াশ ইউনিট’ রয়েছে। সেখানে প্রথম আগুন লাগে। সেই আগুন পাশের রাসায়নিকের গুদামে ছড়িয়ে পড়লে সেখানে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর আগুন তিনতলা পোশাক কারখানার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
৯৭ দিন আগে