অনুসন্ধান ফলাফল - অগ্নিকাণ্ড
মোট - 483
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ল ৯৫ দোকান
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা সদরের প্রধান বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯৫টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে ঘটে যাওয়া এই অগ্নিকাণ্ডে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ঈদুল আজহার মাত্র কয়েক দিন পরে এমন বিপর্যয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে নেমে এসেছে হতাশা ও অনিশ্চয়তা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ভূরুঙ্গামারী বাজারের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ীদের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। বাজারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে দাহ্য সামগ্রীর কারণে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী নাগেশ্বরী উপজেলা থেকে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অধিকাংশই কাপড় ব্যবসায়ী। আগুনে ৮০টি কাপড়ের দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এছাড়া পাশের জাকের পার্টির কার্যালয়সহ আরও ১৫টি ফল, জুতা, কসমেটিকস ও বইয়ের দোকান ভস্মীভূত হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যেখানে কয়েক ঘণ্টা আগেও ব্যবসার কোলাহল ছিল, সেখানে এখন শুধু পোড়া টিন, ছাই আর ধ্বংসস্তূপ। অনেক ব্যবসায়ী নিজেদের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কেউ কেউ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে অবশিষ্ট মালামাল খুঁজে ফেরেন।
ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি টুটুল মিয়া বলেন, ‘এখানকার অধিকাংশ ব্যবসায়ী ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন। ঈদকে সামনে রেখে অনেকেই নতুন করে মালামাল তুলেছিলেন। আগুনে সব শেষ হয়ে গেছে। আমরা এখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।’
নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার খলিলুর রহমান বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।’
ঘটনার পরপরই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক তথ্যমতে ৯৫টি দোকান পুড়ে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের জন্য বিকেল ৩টায় একটি সভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পুনর্বাসনের বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।
ঈদের মাত্র কয়েকদিন পরে এমন অগ্নিকাণ্ডে শুধু ব্যবসায়ীরাই নয়, তাদের ওপর নির্ভরশীল অসংখ্য পরিবারের জীবিকাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।
৬ ঘণ্টা আগে
শ্রীলঙ্কায় বৃদ্ধাশ্রমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অন্তত ১২ জন নিহত
শ্রীলঙ্কার পশ্চিমাঞ্চলে একটি বৃদ্ধাশ্রমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৮ জন।
স্থানীয় সময় বুধবার (৩ মে) ভোরে শ্রীলঙ্কার পশ্চিমাঞ্চলে আঙ্গুরুওয়াতোটা শহরে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে বলে শহরটির পুলিশ আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে।
পুলিশের মুখপাত্র ফ্রেডরিক উটলার জানান, ওই আশ্রমে মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও থাকতেন। ঘটনার পর ৫১ জন বাসিন্দাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে, অবহেলার কারণে দুর্ঘটনা সন্দেহে বৃদ্ধাশ্রমটির পরিচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে ইতোমধ্যেই একটি তদন্ত শুরু হয়েছে।
ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, আগুনে ভবনটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে এবং ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম ছাই হয়ে গেছে। ভবনের কাছাকাছি মৃতদেহগুলো পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘হিরু’ প্রচারিত দৃশ্যে দেখা গেছে, ফায়ার সার্ভিস কর্মী, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা একযোগে দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন। উদ্ধারকৃতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য পুলিশ ও সেনাসদস্যরা বাসে উঠতে সাহায্য করছিলেন।
১ দিন আগে
দিল্লির অগ্নিকাণ্ডে ৮ বাংলাদেশি আহত, চারজনের অবস্থা গুরুতর: হাইকমিশন
নয়াদিল্লির মালভিয়া নগরে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৮ বাংলাদেশি আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর উল্লেখ করে আহতদের চিকিৎসা ও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে নয়া দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এক বিবৃতিতে হাইকমিশন এক বিবৃতি দিয়ে এ কথা জানিয়েছে।
বিবৃতিতে হাইকমিশন বলেছে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আটজন বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
মালভিয়া নগরের এই অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি নাগরিকসহ সকল ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন।
বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্ঘটনার পরপরই হাইকমিশন ভারতীয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ও সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করে। বর্তমানে সেই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
হাইকমিশন জানায়, এ অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নাগরিকও হতাহত হয়েছেন। ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে নয়জন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। এছাড়া মোজাম্বিকের দুজন, লাইবেরিয়ার একজন, নাইজেরিয়ার চারজন এবং উজবেকিস্তানের একজন নাগরিক নিহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের আটজন নাগরিক ছাড়াও নেপাল, ক্যামেরুন, কেনিয়া ও কিরগিজস্তানের দুজন করে, লাইবেরিয়ার তিনজন, নাইজেরিয়ার একজন এবং কাজাখস্তানের তিনজন নাগরিক।
সব মিলিয়ে এ ঘটনায় ২১ জন নিহত এবং ২৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হাইকমিশন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আহত বাংলাদেশিদের দিল্লির বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। বাংলাদেশ হাইকমিশনও সার্বক্ষণিকভাবে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নাগরিকদের শারীরিক অবস্থার তদারকি করছে।
আহতদের দ্রুত সুস্থতার স্বার্থে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের আত্মীয়-স্বজন ও দর্শনার্থীদের সরাসরি শারীরিক সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। সংক্রমণ প্রতিরোধ ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে হাইকমিশন।
একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডে আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের দ্রুত আরোগ্যের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই সংকটময় সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের পাশে থাকতে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
১ দিন আগে
দিল্লির হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, বিদেশি নাগরিকসহ নিহত ২১
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির মালভিয়া নগর এলাকায় একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। সেই সঙ্গে ৪০ জনের বেশি মানুষকে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) সকাল পৌনে ৯টার দিকে একটি পাঁচতলা ভবনের বেজমেন্টে অবস্থিত ‘ফ্লাওয়ারিশ স্টে’ হোটেলের রেস্তোরাঁ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন পাশের ‘মিকাসা ইন’ হোটেলেও ছড়িয়ে পড়ে।
এক কর্মকর্তা জানান, খবর পেয়ে দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে আগুন লাগার কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত মালভিয়ায় শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীদের বসবাস বেশি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় টেলিভিশনের ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রাণ বাঁচাতে কয়েকজন ভবন থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ছেন। ক্ষতি কমাতে নিচে গদি বিছিয়ে রাখা হয়েছে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি চার থেকে ছয়জনকে কাঁচ ভেঙে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়তে দেখেছি। তাদের মধ্যে একজনের পা ভেঙে গেছে বলে মনে হয়েছে।’
হাউজ রানি এলাকার সরু গলিতে অবস্থিত হোটেলটিতে প্রায় ২৫টি কক্ষ ছিল। আগুন লাগার সময় সেখানে ৪০ জনের বেশি অতিথি অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে চিকিৎসার জন্য দিল্লিতে আসা বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিকও ছিলেন।
খবরে বলা হয়েছে, আগুন লাগার সময় অধিকাংশ অতিথিই ঘুমিয়ে ছিলেন, ফলে তাদের উদ্ধার কার্যক্রম কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
নিরাপত্তা ত্রুটি ছিল কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে
একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, দিল্লি সরকারের কাছ থেকে ফ্লাওয়ারিশ স্টে ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট (বি অ্যান্ড বি)’ পরিষেবা আইনের অধীনে লাইসেন্স পেয়েছিল। ওই অনুমোদনের আওতায় সর্বোচ্চ ছয়টি কক্ষ পরিচালনার সুযোগ ছিল। কিন্তু হোটেলটি বেজমেন্টসহ প্রায় ২৫টি কক্ষ পরিচালনা করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া হোটেলটির অগ্নি নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি)’ ছিল কি না, তাও যাচাই করছে কর্তৃপক্ষ।
ভবনটিতে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য মাত্র একটি পথ ছিল বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
নিহতদের পরিবারকে সহায়তার ঘোষণা
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক’ উল্লেখ করে নিহতদের পরিবারের জন্য দুই লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন।
এক্সে দেওয়া এক বার্তায় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, ‘যারা তাদের স্বজন হারিয়েছেন, তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। ক্ষতিগ্রস্তদের সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ারও ঘোষণা দেন।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাও প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন।
এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘এই প্রাণহানির ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। নিহতদের পরিবারের প্রতি জানাই আন্তরিক সমবেদনা। আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে শক্তি ও সাহস দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করছি।’
তিনি জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে দিল্লি ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, অ্যাম্বুলেন্স এবং অন্যান্য জরুরি সেবা সংস্থা মোতায়েন করা হয় এবং তারা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করে।
তিনি বলেন, ‘তাদের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে বহু মানুষকে উদ্ধার ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।’
দিল্লি সরকার পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসাসেবা ও সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এই শোকের মুহূর্তে দিল্লি সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
২ দিন আগে
খাগড়াছড়িতে অগ্নিকাণ্ডে দুই দোকান পুড়ে ছাই: ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির দাবি
খাগড়াছড়ির একটি বাজারে অগ্নিকাণ্ডে একটি খাবার হোটেল ও তেলের দোকান পুড়ে ছাই হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও একটি ঔষধের দোকানসহ বসতবাড়ি।
বুধবার (৩ জুন) রাত পৌনে ৪ টার দিকে গুইমারা উপজেলার জালিয়াপাড়া বাজারে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
এই ঘটনায় আনোয়ার হোসেন নামক এক দোকানির তেলের দোকান ও নাঈম নামক এক ব্যবসায়ীর খাবার হোটেল সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে অন্তত ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
আগুনের খবর পেয়ে মাটিরাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস আধাঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় আগুন নেভানোর কাজে সহযোগিতা করেন সিন্দুকছড়ি জোনের সেনাবাহিনীর সদস্যরা।
বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে জানান ফায়ার সার্ভিস।
২ দিন আগে
রাজধানীতে দোকানে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ৩
রাজধানীর বংশালের টেকেরহাট লেনের পাওয়ার টুল স্কেলের দোকানের ভেতরে আগুন লেগে দগ্ধ হয়েছেন ৩ জন।
সোমবার (১ জুন) বেলা ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে তাদের দগ্ধ অবস্থায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে।
দগ্ধরা হলেন— দোকান কর্মচারী মিরাজ (২৫), ইফাত (২০) ও রকি (২৬)।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, আজ (সোমবার) দুপুরের দিকে বংশাল এলাকা থেকে তিন যুবককে দগ্ধ অবস্থায় জরুরী বিভাগের নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের মধ্যে মিরাজের শরীরের ২ শতাংশ, ইফাতের শরীরের ২৫ শতাংশ ও রকি শরীরের ২৩ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় রকি ও ইফাতকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দগ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে আসা দোকানের ম্যানেজার রাফিন জানান, আমাদের পাওয়ার টুল স্কেল দোকানের ভিতরে বিদ্যুৎ সুইচ দিলে হঠাৎ আগুন ধরে ৩ জন বিক্রেতা (সেলসম্যান) দগ্ধ হন। পরে আমরা দ্রুত তাদের জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসি। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
৪ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে আবাসিক ভবনে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ নিহত ৩
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে গ্যাস বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডে এক শিশুসহ অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৫ জন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৮ মে) টেক্সাসের ডালাস শহরের কেন্দ্রস্থলের দক্ষিণে ওক ক্লিফ এলাকার একটি দোতলা আবাসিক ভবনে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
গ্যাস লিকের খবর পেয়ে দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই বিস্ফোরণটি ঘটে বলে জানিয়েছে ডালাস অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কর্তৃপক্ষ।
ডালাস অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার বিভাগের মুখপাত্র জেসন ইভানস জানান, এ ঘটনায় আহত হয়ে আরও অন্তত পাঁচজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ওই ভবনে কতজন বাসিন্দা ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ভবনটিতে আগুন লাগার পর অনেক দূর থেকেও বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।
ইভানস জানান, ভবনটির ধ্বংসস্তূপে দমকলকর্মীরা এখনও তল্লাশি চালাচ্ছেন। সেখানে আরও হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলের অর্ধেকেরও কম অংশে অনুসন্ধান চালাতে পেরেছেন। এই ভবনের কিছু অংশ সরাতে উদ্ধারকর্মীরা খননযন্ত্রও ব্যবহার করবেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ভবনটিতে ভয়াবহ মাত্রায় আগুন লেগেছিল।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অসংখ্য দমকলকর্মী কাজ করছেন। ধোঁয়া ওঠা ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি পুড়ে যাওয়া ভবনের ধ্বংসাবশেষে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।
ডালাস অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার বিভাগের সহকারী প্রধান জেমস রাস বলেন, ‘ভবনে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে আমাদের সদস্যরা এখনও ঘটনাস্থলে প্রাথমিক অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।’
এ ঘটনায় প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস এনার্জি এক বিবৃতিতে জানায়, দমকল বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের জানিয়েছেন যে কোম্পানির সঙ্গে সম্পর্কহীন একটি নির্মাণকর্মী দল ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কোম্পানির কর্মকর্তারা তদন্তকারীদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে কাজ করছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
ভবনটির বাসিন্দা ক্যাসি প্রোক্টর বলেন, বিস্ফোরণের এক দিন আগে তার মা ঘরের ভেতরে গ্যাসের গন্ধ পেয়েছিলেন। তবে তখন বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
তিনি জানান, বিস্ফোরণের সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তবে তার পোষা বিড়াল শার্ল ভবনের ভেতরে আটকে পড়েছে।
প্রোক্টর বলেন, ‘আমি কয়েক ঘণ্টা ধরে এখানে বসে কাঁদছি। কী করব বুঝতে পারছি না। এই মুহূর্তে আমার কাছে গায়ে থাকা এই কাপড় ছাড়া আর কিছু নেই।’
অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কর্তৃপক্ষ কাছের একটি হাইস্কুলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করেছে।
৭ দিন আগে
কেনিয়ায় গার্লস স্কুলের হোস্টেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ১৬ শিক্ষার্থী নিহত
কেনিয়ায় মেয়েদের একটি আবাসিক স্কুলের ডরমিটরিতে (হোস্টেল) রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এতে আরও ৭৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও জানা যায়নি। এ ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাতে কেনিয়ার গিলগিল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দেশটির শিক্ষা মন্ত্রী জুলিয়াস ওগামবা জানান, গিলগিল এলাকার উতুমিশি নামের মেয়েদের স্কুলটিতে আগুন লাগার ঘটনায় ৭৯ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। স্কুলটিতে ৮ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে।
তিনি বলেন, এ অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও নির্ণয় করা যায়নি। স্কুলটির অগ্নি নিরাপত্তা নির্দেশিকা যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কিনা তা তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে দেশটির পুলিশ জানিযেছে, তারা স্কুলটিতে উদ্ধার অভিযান এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। উতুমিশি স্কুলটি রাজধানী নাইরোবি থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
কেনিয়ার সরকারি এই মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি কেনিয়া পুলিশের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হয়। এখানে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা অনেকে পুলিশ কর্মকর্তাদের সন্তান। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
ঘটনাস্থলে থাকা এক ব্যক্তি ওয়ামবুই নদেরিতু বলেন, সে সময় ডরমিটরির তত্ত্বাবধায়ক দুটি দরজার মধ্যে একটি দরজা খুলে দিয়েছিলেন। তবে তখন তিনি শিশুদের বের হয়ে যাওয়ার জন্য আগে থেকে কোনো সতর্ক সংকেত দেননি।
তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় দরজাটি বন্ধই ছিল। আমার চাচাতো বোন সেখান থেকে পায়ে আঘাত পেয়ে জীবন নিয়ে কোনোভাবে বের হতে পেরেছে। পরে আমাদের জানানো হয়েছে, সেখানে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে এবং অনেক শিশু আহত হয়েছে।’
কেনিয়া রেড ক্রস জানায়, স্কুলটির আহত শিক্ষার্থীদেরউদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সংস্থাটি জানিযেছে, এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারকে সহায়তা দিতে তারা মানসিক সহায়তা দল নিয়োজিত করেছে।
কেনিয়ায় স্কুল অগ্নিকাণ্ডের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে ২০০১ সালে। তখন মাচাকোস কাউন্টির একটি ডরমিটরি অগ্নিকাণ্ডে ৬৭ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।
২০২৪ সালে মধ্য কেনিয়ার একটি স্কুলে অগ্নিকাণ্ডে ২১ জন শিক্ষার্থী পুড়ে মারা যায়। পরে প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন।
এর আগে, ২০১৭ সালে নাইরোবির একটি স্কুলে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়। ওই ঘটনায় একজন শিক্ষার্থীকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।
৮ দিন আগে
বাড্ডায় চিপস কারখানায় অগ্নিকাণ্ড: দুই শ্রমিকের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর বাড্ডা থানার পূর্ব বাড্ডা কবরস্থান রোড এলাকার একটি চিপস ফ্যাক্টরি থেকে দগ্ধ অবস্থায় দুই শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৫ মে) ভোরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতরা হলেন: মো. মোস্তফা (২১) ও মাহমুদুল হাসান (২৩)। মোস্তফা রংপুর জেলার তারাগঞ্জ থানার বড় কুমারপাড়া গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে। মাহমুদুল হাসান ওই থানার কাজীপাড়া গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের ছেলে। তারা ওই কারখানায় থাকতেন বলে জানা গেছে।
বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশিদ বলেন, খবর পেয়ে আমরা ভোর ৪টার দিকে পূর্ব বাড্ডা কবরস্থান রোডে আমির হোসেনের চিপস কারখানায় পৌঁছাই। এরপর কারখানার ভেতর থেকে দগ্ধ অবস্থায় দুই শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করি।
তিনি আরও বলেন, আশপাশের লোকজনের কাছে জানতে পারি, নিহত দুই যুবক ওই কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। আগুনে দগ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
১১ দিন আগে
গাইবান্ধায় অগ্নিকাণ্ডে ৮ দোকান ভস্মীভূত
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডে ৮টি দোকানঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে দোকানগুলোর মালামাল, আসবাবপত্র ও ব্যবসায়িক সরঞ্জাম পুড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে।
বুধবার (২০ মে) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ফুলছড়ি হাটে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে হাটের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই দাউ দাউ করে আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আগুনের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। পরে খবর পেয়ে ফুলছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে সাঘাটার দুইটি ও গাইবান্ধার একটি ইউনিট মিলে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, আগুনে ওষুধ, মুদি পণ্য, কাপড়, কসমেটিকস ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল পুড়ে গেছে। এতে অনেক ব্যবসায়ী পথে বসার উপক্রম হয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসেবে, অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ৩৮ লাখ ১০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে আরও প্রায় ৭৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী জেহাদ আলী বলেন, ‘ভোরে হঠাৎ খবর পাই, হাটে আগুন লেগেছে। ছুটে এসে দেখি, আমার দোকানসহ কয়েকটি দোকান আগুনে ছাই হয়ে গেছে। দোকানের সব মালামাল পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। অনেক কষ্ট করে ব্যবসাটা দাঁড় করিয়েছিলাম, এখন কীভাবে আবার শুরু করব বুঝতে পারছি না।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য জিহাদুর রহমান মওলা বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনে ব্যবসায়ীদের অনেক বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ফুলছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের পরিদর্শক নুর মোহাম্মদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় আরও ইউনিট যুক্ত করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় পাঁচটি ইউনিটের সমন্বিত অভিযানে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আশপাশের আরও বেশ কয়েকটি দোকান রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
১৬ দিন আগে