অনুসন্ধান ফলাফল - বন্দুকধারী
মোট - 78
ইউক্রেনে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৬, পুলিশের পাল্টা গুলিতে আততায়ীর মৃত্যু
ইউক্রেনে এক বন্দুকধারী নিজস্ব অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে ৬ জনকে হত্যা করেছে। পরে পুলিশের ভয়ে জিম্মিদের নিয়ে একটি সুপারমার্কেটের ভেতর আত্মগোপন করেন তিনি। এরপর পুলিশ খোঁজ পেয়ে ওই স্থানে পৌঁছে তাকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১৪ জন আহত হয়েছেন এবং তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ এপ্রিল) দেশটির রাজধানী কিয়েভের হলোসিভস্কি জেলায় একটি শপিং সেন্টারের সামনে এই হামলা ঘটে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীর বয়স ৫৮ বছর। তবে তার নাম ও পরিচয় প্রাথমিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে কিয়েভে এমন গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেনি। এ হামলায় রাস্তায় মানুষের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা আতঙ্ক হয়ে পড়েন। প্রাণ বাঁচাতে তারা পালাতে থাকেন।
এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘হামলাকারীকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। তিনি কিছু মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিলেন। দুঃখের বিষয় এই যে, তাদের মধ্যে একজনকে তিনি হত্যা করেন। এ ছাড়াও রাস্তায় আরও ৪ জনকে তিনি হত্যা করেছেন। জিম্মিদের মধ্যে এক নারীকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান।’
তিনি আরও বলেন, একটা বিষয় নিশ্চিত যে, হামলাকারী রাস্তায় বের হওয়ার আগে একটি অ্যাপার্টমেন্টে আগুন লাগিয়েছিল। তার নামে আরও বেশ কিছু অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন এবং জন্মসূত্রে একজন রাশিয়ান।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহোর ক্লিমেঙ্কো জানান, ইউক্রেনের বিশেষ কৌশলগত পুলিশ ইউনিটগুলো আলোচনার মাধ্যমে তাকে আত্মসমর্পণে রাজি করানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হলে পুলিশ দোকানটিতে অভিযান চালায়। দু্ষ্কৃতিকারী যাদের জিম্মি করেছিল, তারা ছিল ওই সুপারমার্কেটের ক্রেতা ও কর্মচারী।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কারণ আমরা ভেবেছিলাম, দোকানের ভেতরে কেউ আহত অবস্থায় রয়েছে। এমনকি রক্তপাত বন্ধ করার জন্য টুর্নিকেট দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলাম, তবুও তিনি কোনো সাড়া দেননি। ফলে বাধ্য হয়ে তাকে নিষ্ক্রিয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়। হামলাকারীর বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউ এই হত্যাকাণ্ডকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আখ্যা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা হামলাকারীকে চিনতেন।
৭৫ বছর বয়সী হান্না কুলিক বলেন, ‘আমি তাকে চিনতাম। তিনি অত্যন্ত শিক্ষিত ও ভদ্র মানুষ বলে মনে হতো। আমি কখনও ভাবিনি যে তিনি কোনো অপরাধী হতে পারেন। লোকটি খুব বেশি মানুষের সঙ্গে মিশতেনও না। কারো সঙ্গে দেখা হলে শুধু শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি চলে যেতেন। একাই থাকতেন তিনি।
১ দিন আগে
নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত ২০
নাইজেরিয়ার উত্তর-মধ্যাঞ্চলের একটি জনপদে বন্দুকধারীদের গুলিতে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৯ মার্চ) রাতে নাইজেরিয়ার জোস নর্থ এলাকার গারি ইয়া ওয়ায়ে কমিউনিটিতে এই হামলাটি ঘটে বলে জানান প্লাটো রাজ্যের তথ্য কমিশনার জয়েস লোহিয়া রামনাপ। হতাহতের সংখ্যা না জানালেও তিনি বলেন, উদ্বেকজনক হারে প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
তিনি আরও জানান, হামলা প্রতিরোধ করতে রাজ্য সরকার ৪৮ ঘণ্টার কারফিউ জারি করেছে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, মোটরসাইকেলে থাকা কিছু বন্দুকধারী এলাকায় এসে হঠাৎ এলোপাথাড়ি গুলি চালান। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
ইবুকুন ফালোদুন নামক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এই আকস্মিক হামলায় কমপক্ষে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্লাটো রাজ্যের এই হামলাগুলো মূলত উত্তর-মধ্য নাইজেরিয়ার দীর্ঘদিনের সহিংসতা চক্রের একটি অংশ। প্রধানত মুসলিম ফুলানি পশুপালকদের সাথে খ্রিস্টান কৃষক সম্প্রদায়গুলোর জমি ও চারণভূমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এই সহিংসতা চলে আসছে।
২১ দিন আগে
হকি ম্যাচ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলা, বন্দুকধারীসহ হতাহত ৬
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলের রোড আইল্যান্ডের একটি যুব হকি ম্যাচ চলাকালে বন্দুক হামলায় হামলাকারীসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ফেব্রুয়ারি) রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
পটাকেটের পুলিশের প্রধান টিনা গনসালভেস সাংবাদিকদের জানান, সোমবার বিকেলে হকি খেলার মাঠে মূলত বন্দুক হামলাটি হয়। এ সময় মাঠে উপস্থিত এক ব্যক্তি হামলাকারীকে থামানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। হামলাকারীদের ভেতর একজন মূলত তার আত্মীয়ের খেলা দেখতে ওই মাঠে এসেছিলেন। পরে তিনি নিজের গুলিতেই নিজে নিহত হন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এটি উদ্দেশ্যমূলক হামলা। পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হামলা হয়ে থাকতে পারে।’
হামলাকারীর নাম রবের্ত দোরগান, এই লোকটি রবের্তা এসজোসিত নামেও পরিচিত ছিলেন। ১৯৬৯ সালে বলে তিনি জন্মগ্রহণ করেন বলে জানান পুলিশপ্রধান টিনা গনসালভেস।
হামলাকারী বা নিহতদের বিষয়ে খুব বেশি তথ্য দেননি পটাকেট পুলিশ। নিহত দুজনই প্রাপ্তবয়স্ক ধারণার কথা জানিয়েছে তারা।
টিনা আরও জানান, তদন্তদল ঘটনাস্থল ডেনিস এম লিঞ্চ আরেনায় পৌঁছে সেখানে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এমনকি সেখানকার ভিডিও ফুটেজগুলোও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশিকিছু ভিডিওতে দেখা যায়, গুলির শব্দ শোনার পর খেলোয়াড়রা মাটিতে লুটিয়ে পড়ছেন। দর্শকরা হুড়োহুড়ি করে আসন ছেড়ে পালাতে ব্যস্ত।
স্টেডিয়ামের বাইরের ভিডিওতে দেখা যায়, বাসে চড়ে স্বজনদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আগে আতঙ্কিত পরিবারগুলো খেলোয়াড়দের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
প্রায় দুই মাস আগে রোড আইল্যান্ডে আরেকটি বন্দুক হামলায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বন্দুকধারী সে সময় দুই শিক্ষার্থীকে হত্যা করেন। ওই ঘটনায় আরও ৯ জন আহত হন।
সেদিনের ঘটনায় পরবর্তী সময়ে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) এক অধ্যাপককেও গুলি করে হত্যা করেন হামলাকারী। এরপর নিউ হ্যাম্পশায়ারের একটি গুদামের পাশে ৪৮ বছর বয়সী ক্লাউদিও নেভেস ভালেন্তেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। নিজের গুলিতেই তিনি আত্নঘাতী হয়েছিলেন বলে ধারণা ছিল পুলিশের।
পটাকেটের মেয়র ডন গ্রেবিয়েন বলেন, ‘যদিও দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই, তবুও বিষয়টি মর্মান্তিক।’
পটাকেট শহরটি প্রভিডেন্সের ঠিক উত্তরে এবং ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্য সীমান্তের একদম নিচে অবস্থিত। ৮০ হাজারেরও কম জনসংখ্যার এই শহরটি খেলনা, বোর্ড গেম ও মিডিয়া বিনোদন নিয়ে কাজ করা বহুজাতিক কোম্পানি হাসব্রোর সদর দপ্তর হিসেবে পরিচিত।
৬২ দিন আগে
মেক্সিকোয় ফুটবল মাঠে বন্দুকধারীর গুলি, নিহত ১১
মেক্সিকোর একটি ফুটবল মাঠে দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১২ জন।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দেশটির রাজধানী মধ্য মেক্সিকোর একটি ফুটবল মাঠে এ হামলা হয় বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সালামাঙ্কার মেয়র সেজার প্রিয়েতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, ফুটবল ম্যাচের শেষে বন্দুকধারীরা সেখানে হামলা চালায়। হামলায় ঘটনাস্থলেই ১০ জন নিহত হন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়।
আহতদের মধ্যে একজন নারী এবং একটি শিশু রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এই হামলাকে শহরে চলমান ‘অপরাধের ঢেউয়ের’ অংশ আখ্যা দিয়েছেন মেয়র। সেই সঙ্গে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তিনি প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
গুয়ানহুয়াতো প্রদেশের প্রসিকিউটরের দপ্তর জানিয়েছে, তারা এ ঘটনা তারা তদন্ত করছে এবং ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নিচ্ছে।
গত বছর মেক্সিকোর গুয়ানহুয়াতোতে সর্বাধিক হত্যকাণ্ড ঘটেছে। সান্তা রোজা দে লিমা নামের স্থানীয় একটি অপরাধী দল সেখানকার শক্তিশালী জালিস্কোর নিউ জেনেরেশন কার্টেলের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত রয়েছে।
মেয়র বলেন, ‘দু্র্ভাগ্যজনকভাবে কিছু অপরাধী গোষ্ঠী কর্তৃপক্ষকে বশে আনতে চাচ্ছে। তবে তাদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে।’
মেক্সিকো সরকারের তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালে দেশটির প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে ১৭.৫ জনকে হত্যা করা হয়। এটি ২০১৬ সালের পর থেকে দেশটিতে সবচেয়ে কম হত্যাকাণ্ডের হার। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই তথ্য দেশটির সার্বিক অপরাধের চিত্র তুলে ধরতে পারেনি।
৮৪ দিন আগে
ভারতের কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর বন্দুকধারীদের হামলা, নিহত ২৬
ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) এই কাশ্মীরের পহেলগামে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। খবর ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির।
এমন এক সময়ে ভারতে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাষ্ট্রীয় সফরে সৌদি আরব গেছেন। পাশাপাশি ভারত সফরে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
হিমালয়ের কোলে অবস্থিত মনোরম শহর পেহেলগামকে ‘ভারতের সুইজারল্যান্ড’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। জনপ্রিয় এই পর্যটন নগরীর এই হামলা ২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলার পর কাশ্মীরে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। হামলার পর আহতদের উদ্ধারে সেখানে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। কারণ, এই এলাকায় কেবল হেঁটে বা ঘোড়ায় চড়ে পৌঁছানো সম্ভব।
আরও পড়ুন: নাইজেরিয়ায় সন্দেহভাজন রাখালদের হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭২
এনডিটিভি জানিয়েছে, পহেলগামের বৈসারণ উপত্যকার ওপরে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জঙ্গিরা জঙ্গল থেকে হঠাৎ বের হয়ে নির্বিচারে গুলি শুরু করে। নিহতদের মধ্যে নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা ও এক গোয়েন্দা কর্মকর্তাও রয়েছেন।
এ ঘটনায় কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্য করে যতগুলো হামলা হয়েছে, সেগুলোর তুলনায় এটা অনেক বড় হামলা।’
হামলার পর নরেন্দ্র মোদি সৌদি আরব সফর সংক্ষিপ্ত করে মঙ্গলবার রাতেই দেশে ফিরেছেন বলে এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে।
হামলায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন মোদি। গতকাল (মঙ্গলবার) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য আমাদের সংকল্প অটুট রয়েছে এবং এটা আরও শক্তিশালী হবে।’
হামলার পর কাশ্মীরে গেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কাশ্মীরের শ্রীনগরে গিয়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি।
ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দিল্লিতে অমিত শাহর বাসভবনে জরুরি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর প্রধান তপন দেকা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন, সিআরপিএফ প্রধান জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের মহাপরিচালক নলিন প্রভাতসহ সেনাবাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা। ওমর আবদুল্লাহ এবং কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহার সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।
হামলার পর ঘটনাস্থল পেহেলগাম এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা।
আরও পড়ুন: গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৪৫ ফিলিস্তিনি নিহত
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের এক খবরে বলা হয়, এই হামলার দায় স্বীকার করেছে ‘কাশ্মীর রেজিস্ট্যান্স’ নামের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা এই ঘোষণা দিয়েছে। তবে বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠীই হামলায় দায় স্বীকার করেনি।
এই হামলার তীব্র নিন্দা ও ভারতের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইউরোপীয় ইউনিয়েনের প্রধান উরসুলা ভন দার লিয়েনসহ অনেকে।
৩৬২ দিন আগে
হাইতিতে হাসপাতালে বন্দুকধারীদের হামলায় পুলিশ-সাংবাদিকসহ নিহত ৩
হাইতির সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতালে বন্দুকধারীর হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। নিহতদের মধ্যে সাংবাদিক, পুলিশ রয়েছেন।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) দেশটির সবচেয়ে বড় হাসপাতালটি পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সশস্ত্র ব্যক্তিরা গুলি চালালে সাংবাদিক, পুলিশ ও চিকিৎসাকর্মীদের অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন।
রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের জেনারেল হাসপাতালে মঙ্গলবারের ওই হামলায় আরও অনেকে আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কারে ট্রাকের ধাক্কায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, রাজস্থানে নিহত ৯
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এই ঘটনার এক প্রতিবেদনে বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায় ভবনের ভেতরে বেশ কয়েকজনকে আহত বা মৃত অবস্থায় পড়ে আছে।
শহরের বেশিরভাগ অংশ নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র গ্যাং দলের দখল ও ধ্বংস হওয়ার পরে জুলাইতে হাইতির সরকার অঞ্চলটি পুনরুদ্ধার করেছিল।
অস্ত্রধারীরা এমন সময় গুলি চালিয়েছিল যখন সাংবাদিকরা স্বাস্থ্যমন্ত্রী লর্থ ব্লেমার আগমনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
খবরে বলা হয়, দুই সাংবাদিক ও এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
সহিংসতার প্রত্যক্ষদর্শী ফটো সাংবাদিক দিউগো আন্দ্রে হাইতিয়ান টাইমসকে বলেন, ‘এটি একটি ভয়ানক সিনেমার মতো দৃশ্য ছিল এটি।’
তিনি বলেন, ‘বেশ কয়েকজন আহত সাংবাদিকের রক্ত আমার পোশাকে লেগে আছে।’
জানা গেছে, ভিভ আনসানাম গ্যাংয়ের সদস্যরাই এই হামলা চালিয়েছে।
এক ভিডিও বিবৃতিতে হাইতির প্রেসিডেন্সিয়াল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের প্রধান লেসলি ভলতেয়ার বলেন, 'আমরা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি, বিশেষ করে হাইতি ন্যাশনাল পুলিশ এবং সকল সাংবাদিক সংগঠনের প্রতি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের গ্যারান্টি দিচ্ছি যে এই কাজটির জন্য আমরা শাস্তির ব্যবস্থা না নিয়ে বসে থাকব না।’
এপ্রিলে একটি নতুন অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠা এবং ছয় মাস আগে কেনিয়ার পুলিশ কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন করা সত্ত্বেও হাইতির জনগণ অসহনীয় মাত্রার দলবদ্ধ অস্ত্রধারীদের দ্বার হামলার শিকার হচ্ছেন।
২০২১ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোয়েসকে হত্যার পর থেকে হাইতিতে গ্যাং সহিংসতা চলছে।
পোর্ট-অ-প্রিন্সের আনুমানিক ৮৫ শতাংশ এখনও গ্যাংদের নিয়ন্ত্রণে।
জাতিসংঘ বলছে, শুধু এ বছরই হাইতিতে সহিংসতায় প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং দেশটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
আরও পড়ুন: নাইজেরিয়ায় উৎসবে পদদলিত হয়ে নিহত বেড়ে ৩৫
৪৮১ দিন আগে
নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীরা ৫০ জনকে অপহরণ করেছে
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা রাজ্যে বন্দুকধারীরা নারী ও শিশুসহ অন্তত ৫০ জনকে অপহরণ করেছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) দেশটির পুলিশ ও বাসিন্দারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সর্বশেষ গণ অপহরণের ঘটনাটি এই অঞ্চলে চলমান নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টিকে তুলে ধরেছে। ওই এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সামান্য প্রতিরোধের মধ্যে এসব কাজ করছে।
কমিউনিটি নেতা হালিরু আত্তাহিরু জানান, দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এই অভিযান চালানো হয়। এসময় ‘বেশ কয়েকজন নারী ও ছোট শিশুকে অপহরণ করা হয়েছে।’
আত্তাহিরু বলেন, কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে এখনও পদক্ষেপ নেয়নি।
আরও পড়ুন: নাইজেরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১২
তাসিউ হামিদু নামে আরেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, বন্দুকধারীরা বিনা প্রতিরোধের মধ্যে একটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ২০ জনকে অপহরণ করেছে।
জামফারা পুলিশের মুখপাত্র ইয়াজিদ আবুবকর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত জানাননি। এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার না করলেও স্থানীয়রা সন্দেহ করছে যে, গণহারে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির সঙ্গে পরিচিত ডাকাত দলগুলো জড়িত। এই গোষ্ঠীগুলো, প্রায়শই বসতি স্থাপনকারী প্রাক্তন পশুপালক সম্প্রদায়ের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়াচ্ছে। এর ফলে সংঘাত-প্রবণ উত্তরাঞ্চলে একটি স্থায়ী হুমকি হয়ে উঠেছে তারা।
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে মুক্তিপণের জন্য অপহরণ বেড়ে গেছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দুর্বল নিরাপত্তার সুযোগ নিয়ে গ্রাম ও পর্যটকদের লক্ষ্যবস্তু করছে। বেশিরভাগ ভুক্তভোগীকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দেওয়ার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।
চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রতিবেশী কাদুনা রাজ্যে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বন্দি থাকার পর ১৩০ জনেরও বেশি স্কুলশিক্ষার্থীকে মুক্তি দেওয়া হয়।
নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা মোকাবিলায় সামরিক বাহিনী প্রচেষ্টা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেনাপ্রধান ওলুফেমি ওলুয়েদে সংকট মোকাবিলায় নতুন করে অভিযানের ওপর জোর দিয়েছেন। তবে, ২০১৪ সালের কুখ্যাত চিবোক স্কুলছাত্রী অপহরণসহ অপহরণের ধারাবাহিকতা এই চ্যালেঞ্জের মাত্রাকে তুলে ধরে। চিবোক থেকে অপহৃত ২৭৬ জন মেয়ের মধ্যে প্রায় ১০০ জন এক দশক পরেও বন্দী অবস্থায় রয়েছে।
তারপর থেকে দেড় হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে অপহরণ করা হয়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো অন্যান্য অপরাধের জন্য মুক্তিপণ ব্যবহার করে। দুর্বল নিরাপত্তার ব্যবস্থার কারণে নাইজেরিয়া সম্পদ-সমৃদ্ধ উত্তরাঞ্চলে তাদের প্রভাব বিস্তার করে।
আরও পড়ুন: নাইজেরিয়ায় নৌকাডুবিতে ২৭ জন নিহত, নিখোঁজ শতাধিক
৪৯৫ দিন আগে
মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৮
মেক্সিকোর উত্তর-মধ্যাঞ্চলে রাস্তার পাশে একটি খাবারের দোকানের সামনে বন্দুকধারীর গুলিতে আটজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও দুজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য জানায়।
কার্টেল (মাদকের সঙ্গে জড়িত অপরাধী) অধ্যুষিত গুয়ানাজুয়াতো রাজ্যের প্রসিকিউটররা জানান, শনিবার রাতে আপাসিও এল গ্রান্দে শহরে গুলি করে হত্যার এ ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: মেক্সিকোয় পরিত্যক্ত পিকআপ থেকে ১১ লাশ উদ্ধার
দোকানটির বাইরে আটজন মানুষ নিহত হন। সেখানে একটি ঐতিহ্যবাহী দুধের তৈরি ফাজ বিক্রি করা হচ্ছিল। আক্রমণে আরও একজন পুরুষ এবং একজন নারী আহত হয়েছেন। তবে তাদের অবস্থা সম্পর্কে তাত্ক্ষণিকভাবে কিছু যায়নি।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বন্দুকধারীর গুলিতে নিহতদের মধ্যে একজন প্যারামেডিকও রয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় অ্যাম্বুলেন্স ও প্যারামেডিক এজেন্সি জানায়, শনিবার রাতে একজন জরুরি মেডিকেল টেকনিশিয়ান মারা গেছেন। তবে তিনি হামলায় নিহতদের একজন কি না তা নিশ্চিত করতে পারেননি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে, স্টলের বাইরে পার্ক করা মোটরসাইকেল এবং মাথার ক্ষত নিয়ে কয়েকজনের দেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
আপাসিও এল গ্রান্দে শহর এবং এর সিস্টার কমিউনিটি আপাসিও এল আল্টোতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক গোলাগুলি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংঘাতপূর্ণ মাদক কার্টেলগুলোর সঙ্গে এসব ঘটনা সম্পর্কিত। অন্তত ২০১৮ সাল থেকে ওই এলাকার বার, ক্লাব ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক বন্দুক হামলা হয়েছে।
শিল্প ও কৃষি কেন্দ্র গুয়ানাজুয়াতোয় কয়েক বছর ধরে মেক্সিকোর ৩২টি রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। জালিসকো কার্টেল এবং স্থানীয় সান্তা রোসা ডি লিমা গ্যাং রাজ্যে কয়েক বছর ধরে লড়াই করছে।
আরও পড়ুন: মেক্সিকোতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৪, আহত ৫
৫০৪ দিন আগে
পাকিস্তানে যাত্রীবাহী গাড়িতে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত অন্তত ৩৮
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে শিয়া মুসল্লিদের বহনকারী একটি গাড়িতে বন্দুকধারীদের গুলিতে ছয় নারীসহ অন্তত ৩৮ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন।
প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর কয়েক সপ্তাহ ধরে বন্ধ থাকা অঞ্চলটির একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক পুনরায় খুলে দেওয়ার এক সপ্তাহ পর এ ঘটনা ঘটল।
প্রদেশের কুররাম জেলায় সম্প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠ সুন্নি মুসলিম ও সংখ্যালঘু শিয়াদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে অনেক প্রাণহানি হয়েছে।
সর্বশেষ এই হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা আজমত আলী জানান, একটি গাড়িবহরে করে পারাচিনার শহর থেকে খাইবার পাখতুনখোয়ার রাজধানী পেশোয়ারে যাওয়ার পথে বন্দুকধারীরা গুলি চালায়। এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে অন্তত ১০ যাত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় ১২ সেনাসদস্য নিহত
ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বলেছেন, হামলায় অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার পেছনে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
মীর হুসেইন (৩৫) নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, চারজন বন্দুকধারী একটি গাড়ি থেকে বের হয়ে এসে যাত্রীবাহী বাস ও গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালান।
তিনি বলেন, ‘প্রায় ৪০ মিনিট ধরে গোলাগুলি চলে। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আমি লুকিয়ে ছিলাম।’
এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় শিয়া নেতা বাকির হায়দারি বলেন, কুররামে সম্প্রতি শিয়াদের লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে জঙ্গিরা। অথচ, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরবরাহ করছে না।
হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছেন পারাচিনারের দোকান মালিকরা।
৫১৫ দিন আগে
পাকিস্তানে বন্দুকধারীর হামলায় ২০ খনিশ্রমিক নিহত
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বন্দুকধারীদের হামলায় ২০ জন খনিশ্রমিক নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন অন্তত আরও ৭ জন।
শুক্রবার (১১ অক্টোবর) দেশটির পুলিশ এসব হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
গোলযোগপূর্ণ বেলুচিস্তান প্রদেশে এটি সর্বশেষ হামলার ঘটনা। রাজধানীতে আয়োজিত একটি বড় নিরাপত্তা শীর্ষ সম্মেলনের কয়েকদিন আগে ভয়াবহ হামলার ঘটনাটি ঘটলো।
পুলিশ কর্মকর্তা হুমায়ুন খান নাসির বলেন, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বন্দুকধারীরা দুকি জেলার কয়লা খনির আবাসনে ঢুকে পড়ে। পরে তাদের ঘিরে ফেলে এবং গুলি চালায়।
নিহতদের অধিকাংশই বেলুচিস্তানের পশতুন ভাষী এলাকার। এছাড়া নিহতদের ৩ জন এবং আহতদের মধ্যে ৪ জন আফগান নাগরিক।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে কেউ এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।
প্রদেশটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর শক্ত ঘাঁটি যারা স্বাধীনতা চায়। তাদের অভিযোগ হলো- ইসলামাবাদের ফেডারেল সরকার স্থানীয়দের ক্ষতিগ্রস্ত করে তেল ও খনিজ সমৃদ্ধ বেলুচিস্তানকে অন্যায়ভাবে শোষণ করছে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে ৭ শ্রমিককে গুলি করে হত্যা
সোমবার বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) নামে একটি গোষ্ঠী জানায়, তারা পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দরের বাইরে চীনা নাগরিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। দেশটিতে হাজার হাজার চীনা নাগরিক কাজ করছে। যাদের বেশিরভাগই বেইজিংয়ের মাল্টিবিলিয়ন ডলারের প্রকল্প বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের সঙ্গে জড়িত।
বিএলএ বলেছে, এই বিস্ফোরণটি আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী ঘটিয়েছে। যার ফলে উচ্চ পদস্থব্যক্তিদের নিয়ে অনুষ্ঠান বা দেশি বিদেশিদের নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
আগামী সপ্তাহে পশ্চিমা জোটকে মোকাবিলায় চীন ও রাশিয়ার প্রতিষ্ঠিত জোট সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করছে ইসলামাবাদ।
আরও পড়ুন: বৈরুতে বিমান হামলায় নিহত ২২, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের ওপরও ইসরায়েলের গুলি
৫৫৬ দিন আগে