ক্রিকেট
দ্বিতীয় টেস্ট স্কোয়াডে শক্তি বাড়াল পাকিস্তান
দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে ১০ উইকেটের ব্যবধানে হেরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তাই দ্বিতীয় টেস্টের আগে স্কোয়াড শক্তিশালী করছে তারা।
রাওয়ালপিন্ডিতেই দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে শুক্রবার (৩০ আগস্ট)। তার আগেই এই ম্যাচের জন্য দলে ডাক পেয়েছেন লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ, পেস অলরাউন্ডার আমির জামাল ও ব্যাটার কামরান গুলাম। এছাড়া ছুটিতে যাওয়া শাহিন শাহ আফ্রিদিকেও স্কোয়াডে ফেরানো হয়েছে।
বুধবার (২৮ আগস্ট) দ্বিতীয় টেস্টের জন্য পাকিস্তানের স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। এতে এই পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। তবে এই তিন খেলোয়াড়কে যুক্ত করা হলেও প্রথম টেস্টের স্কোয়াড থেকে কাউকে বাদ দেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের মাটিতে ঐতিহাসিক জয় টাইগারদের
শুরু থেকেই পাকিস্তান স্কোয়াডে ছিলেন আবরার ও কামরান। তবে প্রথম টেস্টের আগে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য তাদের ছেড়ে দেয় পিসিবি। আর আমির জামাল বাদ পড়েন ইনজুরির কারণে। তাবে ফেরানো হলেও দ্বিতীয় টেস্টে তার খেলা নির্ভর করছে ফিটনেসের ওপর।
এছাড়া, প্রথম টেস্ট চলাকালে বাবা হন শাহিন আফ্রিদি। গুঞ্জন ছিল দ্বিতীয় টেস্টে তিনি না-ও খেলতে পারেন। তবে দশ উইকেটে হারের পর বদলে গেছে পরিস্থিতি। তাই প্রথম টেস্ট শেষে ছুটিতে গেলেও মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় তিনি আবার দলে ফিরে এসেছেন।
প্রথম টেস্ট একাদশে কোনো স্পিনার না রেখেই সর্বাত্মক পেস আক্রমণ নিয়ে মাঠে নামে পাকিস্তান। তবে এই সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হয়েছে তাদের। অন্যদিকে, বাংলাদেশ তিন পেসার নিয়ে খেললেও দ্বিতীয় ইনিংসে চমক দেখায় স্পিনাররা। তাই দ্বিতীয় টেস্টের জন্য আবরারকে ফিরিয়েছে পাকিস্তান।
রাওয়ালপিন্ডিতে এই লেগ স্পিনারের রেকর্ডও দারুণ। ঘরোয়া ক্রিকেটে এই মাঠে পাঁচটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে ১৭ দশমিক ২৫ গড়ে মোট ৪০টি উইকেট শিকার করেছেন তিনি।
পাকিস্তান স্কোয়াড: শান মাসুদ (অধিনায়ক), সৌদ শাকিল (সহ-অধিনায়ক), আমির জামাল (ফিটনেস সাপেক্ষে), আবরার আহমেদ, আব্দুল্লাহ শফিক, বাবর আজম, কামরান গুলাম, খুররাম শাহজাদ, মির হামজা, মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ হুরাইরা, মোহাম্মদ রিজওয়ান, নাসিম শাহ, সাইম আইয়ুব, সালমান আলী আগা, সরফরাজ আহমেদ, শাহিন শাহ আফ্রিদি।
আরও পড়ুন: ক্রিকেট ইতিহাসের সফলতম বাঁহাতি স্পিনার এখন সাকিব
৫৫৫ দিন আগে
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরে মালান
৩৬ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন ইংলিশ ব্যাটার ডাওইড মালান।
বুধবার (২৮ আগস্ট) অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট ও ঘরোয়া ক্রিকেটে তাকে দেখা যাবে।
অবসরের ঘোষণা দিয়ে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘২০১৭ সাল থেকে শুরু হওয়া একটি অসাধারণ যাত্রা শেষ হলো। ইংল্যান্ডের হয়ে ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই খেলতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ।’
‘ইংল্যান্ডের বিভিন্ন দলের কোচ ও কর্মীরা, যারা আমাকে সহযোগিতা ও সমর্থন করেছেন এবং এই সাত বছরে পাওয়া আমার সব ইংল্যান্ড সতীর্থ- সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’
আরও পড়ুন: সব ধরনের ক্রিকেট থেকে শিখর ধাওয়ানের বিদায়
ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই সেঞ্চুরি করা মাত্র দুই ইংলিশ ব্যাটারদের মধ্যে মালান একজন। তিনি ছাড়া এই কীর্তি আছে কেবল জস বাটলারের। এছাড়া টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম হাজার রানের রেকর্ডও তার। মাত্র ২৪ ম্যাচে এক হাজার রান সংগ্রহ করেন তিনি।
ইংল্যান্ডের হয়ে তিনি ২২টি টেস্ট ৩০টি ওয়ানডে ও ৬২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। এর মধ্যে ২২ টেস্টের ৩৯ ইনিংস খেলে ১ সেঞ্চুরি ও ৯ ফিফটিতে তার সংগ্রহ ১ হাজার ৭৪ রান। ওয়ানডে ক্রিকেটে ৩০ ইনিংসে ৬ সেঞ্চুরি ও ৭ ফিফটিতে ৫৫.৭৬ গড়ে তিনি করেন ১ হাজার ৪৫০ রান। আর টি-টোয়েন্টির ৬০ ইনিংসে ১ সেঞ্চুরি ও ১৬ ফিফটিতে মালানের সংগ্রহ ১ হাজার ৮৯২ রান।
২০২০ সালে তিনি টি-টোয়েন্টির ব্যাটার র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান দখল করেন। এরপর ২০২২ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতেন মালান।
৫৫৫ দিন আগে
প্রাইজমানি বন্যার্তদের দিলেন মুশফিক-লিটন
পাকিস্তানের মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়ে এর প্রাইজমানি বাংলাদেশের বন্যার্তদের সহায়তায় দান করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। এছাড়া নিজের পুরস্কারের অর্থ বন্যার্ত মানুষের সহায়তায় দিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন লিটন দাসও।
১৩ ম্যাচ পর অবশেষে টেস্টে পাকিস্তানকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ১৯১ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলে এই ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়ে দেন মুশফিক। ফলে ম্যাচসেরা হন বাংলাদেশের লিটল মাস্টার।
ম্যাচসেরার পুরস্কার হিসেবে সুদৃশ্য একটি ট্রফির পাশাপাশি ৩ লাখ পাকিস্তানি রুপি পেয়েছেন মুশফিক। পরে সেই অর্থ মানুষের সহায়তায় দান করার ঘোষণা দেন ৩৭ বছর বয়সী এই ব্যাটার।
আরও পড়ুন: আন্দোলনে নিহতদের জয় উৎসর্গ করলেন শান্ত
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ম্যাচে তার অবদানের পেছনে থাকা মানুষগুলো ও দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন মুশফিক। এরপর সঞ্চালক বাজিদ খানকে তিনি বলেন, ‘বাজিদ ভাই, আমার দলের পক্ষ থেকে আমি একটি অনুরোধ করতে চাই; কিছু বলতে চাই। আপনি জানেন, আমাদের দেশে অনেক মানুষ এখন বন্যাক্রান্ত। আমি এই প্রাইজমানি তাদের জন্য দিতে চাই। পাশাপাশি দেশে ও বাইরের সবাইকে অনুরোধ করব, যাদের সামর্থ্য আছে সবাই যাতে এগিয়ে আসে।’
অন্যদিকে, প্রথম ইনিংসে আগ্রাসী ফিফটি করে ‘এনার্জেটিক ব্যাটার অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার পান উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন কুমার দাস। পুরস্কারস্বরূপ ১ লাখ পাকিস্তানি রুপি পেয়েছেন তিনি।
পরবর্তীতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে তিনি ওই অর্থ বন্যার্তদের সহায়তায় দান করার ঘোষণা দেন।
আরও পড়ুন: ক্রিকেট ইতিহাসের সফলতম বাঁহাতি স্পিনার এখন সাকিব
লিটন লিখেছেন, ‘পাকিস্তানকে প্রথমবার টেস্ট ম্যাচে হারিয়েছি, সেখানে অবদান রাখতে পেরে আনন্দিত ও গর্বিত। দেশে বন্যা পরিস্থিতির কারণে এই জয়টাও ঠিকমতো উপভোগ করতে পারছি না, মনটা পড়ে আছে দেশে। আমি এই ম্যাচে এনার্জেটিক প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার হিসেবে প্রাপ্ত অর্থ বন্যার্তদের জন্য দেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছি।’
‘যারা দেশে আছেন, তারা সবাই সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসুন। যত বিপদ, তত ঐক্য। বাংলাদেশ হারবে না।’
৫৫৮ দিন আগে
আন্দোলনে নিহতদের জয় উৎসর্গ করলেন শান্ত
দেশের রাজনৈতিক সংকটের মাঝে বাংলাদেশের এই টেস্ট সফর নিয়ে তেমন কারও মাথাব্যথা ছিল না। তার ওপর মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেশের মানুষের ওপর চেপেছে ভয়াবহ বন্যা। এরই মাঝে পাকিস্তানের মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জিতে এক চিলতে হাসির উপলক্ষ্য এনে দিয়েছে টাইগাররা।
এমন ঐতিহাসিক মুহূর্তে সম্প্রতি সরকার পতন আন্দোলনে নিহতদের কথা ভুললেন না টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
ম্যাচের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সঞ্চালক বাজিদ খানের আহ্বানে এগিয়ে এলেন শান্ত। মাইক্রোফোন হাতে এগিয়ে এসে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘আমি কি কিছু বলতে পারি?’ এরপর সঞ্চালকের সম্মতি নিয়ে তিনি বাংলায় বলে উঠলেন-
‘সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, আমাদের এই জয়টা তাদের উৎসর্গ করছি। তাদের জন্য অনেক অনেক দোয়া।’
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের মাটিতে ঐতিহাসিক জয় টাইগারদের
শান্তর ২৬তম জন্মদিন আজ। নিজের জন্মদিনে এমন স্মরণীয় জয় পেলেও শান্তর কাছে যে তা বিশেষ কিছু নয়, তা নিজেই জানালেন তিনি। গতকাল রাতেই নাকি তার স্ত্রী ফোন করে বলেছিলেন, ‘কাল যদি তোমরা জিততে পার, দারুণ ব্যাপার হবে তোমার জন্য।’
জয়টি তিনি আন্দোলনে প্রাণ হারানোদের প্রতি উৎসর্গ করে বললেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, এই জয়টা বিশাল আমাদের জন্য।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৪টি টেস্ট খেলে এই প্রথম জিতল বাংলাদেশ। এর আগের ১৩ টেস্টের মাত্র একটিতে ড্র করতে পেরেছিল তারা, বাকিগুলোতে হার। অবশেষে টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ প্রথম জয়টি পেল স্বাগিতকদের মাটিতেই।
ঐতিহাসিক এই জয়ের সবচেয়ে বড় নায়ক নিঃসন্দেহে মুশফিকুর রহিম। ব্যাট হাতে তার ১৯১ রানের ইনিংসটিই ম্যাচের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে। দুর্দান্ত পারফর্ম করে তিনি হয়েছেন ম্যাচসেরাও। এসময় মুশফিকের জন্য প্রশংসাও ঝরল শান্তর কণ্ঠে।
‘মুশি ভাই অসাধারণ। যেভাবে তিনি ১৫-১৭ বছর ধরে খেলে যাচ্ছেন, প্রতিদিন নিজেকে তৈরি করছেন, এটা অবিশ্বাস্য। এই কন্ডিশনে ব্যাটিংয়ের জন্য যেভাবে তিনি নিজেকে তৈরি করেছেন, আমি খুব খুশি।’
আরও পড়ুন: প্রথম ইনিংসেই মুশফিকের একগাদা রেকর্ড
তবে শুধু মুশফিক নয়, দলের সবাই যে এই জয় পেতে ভূমিকা রেখেছেন, সে কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
‘তবে আমি শুধু মুশি ভাইকে সব কৃতিত্ব দেব না। এই জয় দলের ১৫ জনের কঠোর পরিশ্রমের ফল। এই কৃতিত্ব সবারই পাওনা।’
আরও পড়ুন: ক্রিকেট ইতিহাসের সফলতম বাঁহাতি স্পিনার এখন সাকিব
৫৫৮ দিন আগে
ক্রিকেট ইতিহাসের সফলতম বাঁহাতি স্পিনার এখন সাকিব
বল হাতে বেশ কিছুদিন ধরে নিষ্প্রভ ছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের শেষ দিনে জ্বলে উঠলেন তিনি। আর তাতেই উঠে গেলেন অনন্য উচ্চতায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন সংস্করণ মিলিয়ে ইতিহাসের সেরা বাঁহাতি স্পিনার এখন এই অলরাউন্ডার।
এতদিন এই রেকর্ডটি ছিল নিউজিল্যান্ডের সাবেক স্পিনার ড্যানিয়েল ভেটোরির। তবে তার চেয়ে মাত্র দুই উইকেট পেছনে থেকে পিন্ডি টেস্ট খেলতে নামেন সাকিব। প্রথম ইনিংসে মাত্র একটি উইকেট পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ভেটোরিকে ছাড়িয়ে যান তিনি।
৪৪২ ম্যাচের ৪৯৮ ইনিংসে বোলিং করে ৭০৫ উইকেট ছিল ভেটোরির, ৪৪৪ ম্যাচের ৪৮২ ইনিংসেই তাকে ছাড়িয়ে গিয়েছেন সাকিব। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিবের উইকেটের সংখ্যা এখন ৭০৭। এর মধ্যে টেস্টে ২৪১, ওয়ানডেতে ৩১৭ ও টি-টোয়েন্টিতে ১৪৯ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের মাটিতে ঐতিহাসিক জয় টাইগারদের
পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন সাকিব। মোট ২৭ ওভার বোলিং করে ১০০ রানের বিনিময়ে তার প্রাপ্তি ছিল কেবল আগা সালমানের উইকেটটি। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে চেনা রূপে ফেরেন তিনি। পাকিস্তানকে মাত্র ১৪৬ রানে গুঁটিয়ে দেওয়ার পথে ১৭ ওভারে ৪৪ রান খরচায় ৩ উইকেট তুলে নেন ৩৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
দ্বিতীয় ইনিংসে সম্প্রতি পাকিস্তানের রান মেশিন হয়ে ওঠা সৌদ শাকিলকে শূন্য রানে ফিরিয়ে ভেটোরিকে স্পর্শ করেন সাকিব। এরপর আব্দুল্লাহ শাফিকের উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সফলতম বাঁহাতি স্পিনার বনে যান তিনি। পরে নাসিম শাহকে আউট করে নিজেকে তোলেন আরেকটু উচ্চতায়।
তিন সংস্করণ মিলিয়ে বাঁহাতি স্পিনারদের মধ্যে সাকিব ও ভেটোরি ছাড়া ৭০০ উইকেট তো দূরের কথা, ৬০০ উইকেটও নেই আর কারও। ৫৬৮ উইকেট নিয়ে তিনে রয়েছেন ভারতের রবীন্দ্র জাদেজা এবং ৫২৫ উইকেট নিয়ে চারে শ্রীলঙ্কার রঙ্গনা হেরাথ। পাঁচে থাকা আরেক লঙ্কান সনৎ জয়সুরিয়ার নামের পাশে রয়েছে ৪৪০ উইকেট।
আরও পড়ুন: প্রথম ইনিংসেই মুশফিকের একগাদা রেকর্ড
তবে পেসার-স্পিনার মিলিয়ে বাঁহাতি বোলারদের মধ্যে সাকিবের অবস্থান তৃতীয়। ৪৬০ ম্যাচের ৫৩২ ইনিংসে ৯১৬ উইকেট নিয়ে অনেকটা ধরাছোঁয়ার বাইরে পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরাম। ৪৩৯ ম্যাচের ৫২০ ইনিংসে ৭৬১ উইকেট নিয়ে দুইয়ে রয়েছেন শ্রীলঙ্কার চামিন্দা ভাস।
৫৫৮ দিন আগে
পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট জয়ে বাংলাদেশ দলকে প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন
পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
এছাড়াও ভবিষ্যৎ প্রচেষ্টার জন্য বাংলাদেশ দলকে শুভকামনা জানান তিনি।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের মাটিতে ঐতিহাসিক জয় টাইগারদের
রবিবার (২৫ আগস্ট) রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে পাকিস্তানকে ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ক্রিকেট ইতিহাসে ঐতিহাসিক মুহূর্ত সৃষ্টি করলো বাংলাদেশ।
এটি পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয় এবং সব মিলিয়ে ২০তম জয়।
এর আগে ২০০৩ সালে বাংলাদেশ জয় থেকে মাত্র এক উইকেটের দূরত্বে থেকে শেষ পর্যন্ত ইনজামাম-উল-হকের দুর্দান্ত ইনিংসে জয় থেকে বঞ্চিত হয়।
২১ বছর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট জিতল বাংলাদেশ।
এর আগে বাংলাদেশ পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৩টি টেস্ট খেলে ১২টি হেরেছে আর একটি ড্র হয়েছে।
আরও পড়ুন: ম্যাচের লাগাম হাতে রেখেই দিন শেষ টাইগারদের
৫৫৮ দিন আগে
পাকিস্তানের মাটিতে ঐতিহাসিক জয় টাইগারদের
চতুর্থ দিনের খেলা যখন শেষ হলো, বাংলাদেশের হার এড়ানোর সম্ভাবনার কথা উঠলেও তখন কে ভেবেছিল যে, এই দলটিই শেষ দিনে ম্যাচের মোড় পুরোপুরি নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করবে? অথচ রাওয়ালপিন্ডিতে সেটিই করে দেখালেন শান্ত অ্যান্ড কোং।
পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে ১০ উইকেটের স্মরণীয় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম জয়।
এর আগে ক্রিকেটের তিন সংস্করণ মিলিয়ে ২০ ম্যাচ খেলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় অধরা ছিল টাইগারদের। শেষ পর্যন্ত তা এলো, তাও ক্রিকেটের সবচেয়ে কুলীন সংস্করণে, আবার স্বাগতিকদের মাটিতেই।
পাকিস্তানের বিপক্ষে, তাদের মাটিতে বাংলাদেশের এটি প্রথম টেস্ট জয় হলেও বিদেশের মাটিতে এটি সপ্তম জয়।
শনিবার দ্বিতীয় ইনিংসে ১ উইকেটে ২৩ রান করে ৯৪ রানে পিছিয়ে থেকে চতুর্থ দিন শেষ করে পাকিস্তান। এরপর পঞ্চম দিনে বাংলাদেশি স্পিনারদের তাণ্ডবে ১৪৬ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ফলে জয়ের জন্য ৩০ রানের লক্ষ্য পায় বাংলাদেশ। আর সেই কাজটা অনায়াসেই সেরেছেন দুই টাইগার ওপেনার।
আরও পড়ুন: ম্যাচের লাগাম হাতে রেখেই দিন শেষ টাইগারদের
চতুর্থ দিন পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতে সিয়াম আইয়ুবের উইকেট তুলে নিলেও দিনের বাকি অংশটুকু সচ্ছন্দেই খেলে গেছেন অধিনায়ক শান মাসুদ (৯) ও আব্দুল্লাহ শফিক (১২)। তবে পঞ্চম দিনের দ্বিতীয় ওভারেই শান মাসুদকে সাজঘরে পাঠানোর মাধ্যমে সেই যে শুরু, তারপর থেকে নিয়মিত বিরতিতে উদযাপন করে গেছে বাংলাদেশ।
এদিন জীবন পেলেও বাংলাদেশকে ভোগাতে পারেননি বাবর আজম। মোহাম্মদ রিজওয়ান অবশ্য চেষ্টা করেছিলেন, তবে অন্যপ্রান্ত থেকে তাকে যোগ্য সমর্থন জোগাতে পারেননি তেমন কেউ। অবশেষে তিনি ৫১ রান করে ফিরে গেলে আর বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারেননি বাকি দুই ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ১৪৬ রানে স্বাগিতকদের দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে গেলে ৩০ রানের লক্ষ্য পায় টাইগাররা।
এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে আর কাউকে ক্রিজে আসতে দেননি জাকির হাসান (১৫) ও সাদমান ইসলাম (৯)। ফলে ১০ উইকেটের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
টেস্টে এটিই বাংলাদেশের প্রথম ১০ উইকেটের জয়।
দেশের রাজনৈতিক সংকটের মাঝে বাংলাদেশের এই টেস্ট সফর নিয়ে তেমন কারও মাথাব্যথা ছিল না। তার ওপর মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেশের মানুষের ওপর চেপেছে ভয়াবহ বন্যা। এরই মাঝে এক চিলতে হাসির উপলক্ষ্য এনে দিল টাইগাররা।
৫৫৯ দিন আগে
ম্যাচের লাগাম হাতে রেখেই দিন শেষ টাইগারদের
প্রথম ইনিংসে বড় পুঁজি গড়েই ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তান। তবে যোগ্য জবাব দিয়েছে বাংলাদেশও। ১১৭ রানের লিড নিয়ে প্রথম ইনিংস শেষ করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের প্রথম উইকেট ভেঙে দিন শেষ করেছে টাইগাররা। ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ খানিকটা বাংলাদেশের পক্ষেই রয়েছে।
শনিবার (২৪ আগস্ট) রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে ৯৪ রানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে এক উইকেট হারিয়ে ২৩ রান তুলে দিন শেষ করেছে পাকিস্তান।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ হওয়ার পর অন্তত ২০ ওভার বাকি থাকলেও দিনের শেষভাগে আলোকস্বল্পতার কারণে ১০ ওভার পরই দিন শেষ করা হয়।
অবশ্য আগেভাগে শেষ হওয়ায় সুবিধা পেয়েছে বাংলাদেশই। শুরুতে উইকেট পড়লেও ক্রিজে নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে রানের চাকা সচল করেছিলেন পাকিস্তানের দুই ব্যাটার শান মাসুদ (৯) ও আব্দুল্লাহ শফিক (১২)।
দ্বিতীয় ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই সফলতা পায় বাংলাদেশ। ২.২ ওভারে শরিফুলের বলে লিটন দাসের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন সিয়াম আইয়ুব (১)।
এর আগে, ম্যাচের দ্বিতীয় দিন মোহাম্মদ রিজওয়ানের অপরাজিত ১৭১ এবং সৌদ শাকিলের ১৪১ রানে ভর করে ৬ উইকেটে ৪৪৮ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তান। জবাবে খেলতে নেমে প্রথম ইনিংসে ৫৬৫ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন: রেকর্ড জুটির পর ১১৭ রানের লিড নিয়ে থামল বাংলাদেশ
টাইগারদের বিশাল এই সংগ্রহে মুশফিক ছাড়াও অবদান আছে আরও চার ব্যাটারের। এদের মধ্যে ওপেনার সাদমান ইসলাম করেন ৯৩ রান। এছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ ৭৭, লিটন দাস ৫৬ ও মুমিনুল হক ৫০ রান করেন।
৫ উইকেট হারিয়ে ৯২ রানে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করলেও শনিবার চতুর্থ দিনে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে থাকেন মুশফিকুর রহিম। এরপর দলীয় ৩৩২ রানে নাসিম শাহ লিটনকে ফেরালে ১১৪ রানের জুটি ভাঙে বাংলাদেশের।
এরপর সপ্তম উইকেটে মিরাজকে নিয়ে উইকেটের সামনে দেওয়াল তোলেন মুশফিক। এই জুটি থেকে স্কোরবোর্ডে টাইগারদের সপ্তম উইকেটের রেকর্ড ১৯৬ রান যোগ করেন মুশফিক ও মিরাজ। এর মাঝে অর্ধশতক পূরণ করেন মিরাজ আর দেড়শ পেরিয়ে ডবল সেঞ্চুরির দিকে এগাতে থাকেন মুশফিক।
তবে দলীয় ৫২৮ রানে মোহাম্মদ আলীর বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে মুশফিক ফিরে গেলে পরে ইনিংস আর বেশি বড় করতে পারেননি পরবর্তী ব্যাটাররা। ফেরার আগে ১৯১ রানের ইনিংস খেলেন মুশফিক, যেটি ২২টি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো ছিল।
আরও পড়ুন: প্রথম ইনিংসেই মুশফিকের একগাদা রেকর্ড
তিনি প্যাভিলিয়নে ফেরার পর শূন্য রানে ফেরেন হাসান মাহমুদ। এরপর ব্যক্তিগত ৭৭ রানে মিরাজ ফিরে গেলে লিড আরেকটু বড় করার চেষ্টা করেন শরিফুল ইসলাম। তবে ১৪ বলে দুটি করে চার ও ছক্কায় ২২ রান করে শরিফুল আউট হলে ৫৬৫ রানে শেষ হয় বাংলোদেশের প্রথম ইনিংস।
প্রথম ইনিংস থেকে পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নিয়েছেন নাসিম শাহ। এছাড়া দুটি করে উইকেট গিয়েছে শাহীন আফ্রিদি, খুররাম শাহজাদ ও মোহাম্মদ আলীর ঝুলিতে। বাকি উইকেটটি নিয়েছেন সিয়াম আইয়ুব।
৫৫৯ দিন আগে
সব ধরনের ক্রিকেট থেকে শিখর ধাওয়ানের বিদায়
দুই বছর ধরে থেমে ছিল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। ঘরোয়া ক্রিকেট, এমনকি আইপিএলেও হাসছিল না ব্যাট, আর সঙ্গে চোটের ছোবল তো ছিলই। সব মিলিয়ে এবার সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে দিলেন ভারতীয় ব্যাটার শিখর ধাওয়ান।
শনিবার (২৪ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় বিদায়ের কথা জানান ধাওয়ান।
এসময় আবেগ জড়ানো কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার সবসময়ই একটিই লক্ষ্য ছিল, ভারতের হয়ে খেলা; সেটি হয়েছেও। এজন্য অনেকের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। প্রথমত আমার পরিবার ও বাল্যকালের কোচ, যাদের কাছ থেকে ক্রিকেট শিখেছি; তারপর ধন্যবাদ জানাই বিসিসিআই ও ডিডিসিএকে (দিল্লি অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন) যারা আমাকে খেলার সুযোগ করে দিয়েছিল। এছাড়া আমার সব সতীর্থদের, যাদের সঙ্গে আমি অনেক বছর খেলেছি।’
হাসিমাখা মুখে এই ক্রিকেটার বলেন, ‘ক্যারিয়ারে আমি সবার ভালোবাসা আর সমর্থন পেয়েছি। গল্পের বই পড়তে পড়তে যেভাবে পাতা ওল্টাতে হয়, আমিও সেটাই করছি। আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছি।’
‘নিজেকে আমি বুঝিয়েছি যে, ভারতের হয়ে আর খেলতে পারব না বলে দুঃখ পাওয়া যাবে না। বরং দেশের হয়ে খেলেছি, এটা ভেবেই সুখী হতে হবে।’
আরও পড়ুন: প্রথম ইনিংসেই মুশফিকের একগাদা রেকর্ড
প্রায় ১৪ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মোট ৩৪টি টেস্ট, ১৬৭টি ওয়ানডে এবং ৬৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন ধাওয়ান। সব সংস্করণ মিলিয়ে তিনি করেছেন ১০ হাজার ৮৬৭ রান, সেঞ্চুরি করেছেন মোট ২৪টি।
২০১০ সালে বিশাখাপাটনামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় ধাওয়ানের। জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচটিও খেলেছেন এই সংস্করণেই। ২০২২ সালে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা ম্যাচটিই ক্যারিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়ে থাকল তার।
তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে তার পথচলা শুরু হয় ২০০৪ সালে। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ৫০৫ রান করে ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট হয়ে সবার নজরে আসেন তিনি। এরপর রঞ্জি ট্রফিতে দিল্লির হয়ে অভিষেক হয় এই ব্যাটারের।
২০১৯ বিশ্বকাপে পাওয়া চোটই তার ক্যারিয়ারে বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে দেয়। সেবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওভালে ১০৯ বলে ১১৭ রানের ইনিংসের পর চোট পান তিনি। এরপর মাঠে ফিরলেও সেভাবে আর ধারাবাহিক হতে পারেননি ৩৮ বছর বয়সী এই ওপেনার। তাছাড়া অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওই সেঞ্চুরিটিই ওয়ানডে ক্রিকেটে তার শেষ সেঞ্চুরি। পরে আরও ৩৫টি ম্যাচ খেলেছেন, এর মধ্যে তিনটি ইনিংসে ৯৬, ৯৭ ও ৯৮ রানে আউট হলেও মাইলফলক স্পর্শ করা হয়নি আর।
সবশেষ ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সফরে তিন ওয়ানডেতে ৭, ৮ ও ৩ রানে আউট হওয়ার পর আর সুযোগ পাননি দলে।
আরও পড়ুন: সাকিবকে ক্রিকেট থেকে সরাতে আইনি নোটিশ
অবশ্য জাতীয় দলে অনিয়িমিত হলেও আইপিএলে নিয়মিত মুখ ছিলেন তিনি। তবে আইপিএলের গত আসরে মাত্র পাঁচটি ম্যাচ খেলে ফের চোটের কারণে ছিটকে যান। এরপর সবকিছুর সমাপ্তি।
দারুণ খেলোয়াড় ছাড়াও ব্যক্তি হিসেবে অসাধারণ ছিলেন শিখর ধাওয়ান। সেঞ্চুরির পর তার রাজস্থানি গোঁফে মোচড় দেওয়া কিংবা ক্যাচ ধরে পালোয়ানের ভঙ্গিমায় এক হাত শূন্যে তুলে অপর হাতে উরুতে থাপ্পড় দেওয়া উদযাপন ক্রিকেটভক্তদের হৃদয়ে গেঁথে থাকবে।
৫৫৯ দিন আগে
রেকর্ড জুটির পর ১১৭ রানের লিড নিয়ে থামল বাংলাদেশ
চতুর্থ ডবল সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে আউট হলেও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে ভর করেই পাকিস্তানের বড় সংগ্রহ পেরিয়ে ১১৭ রানের লিড নিয়ে প্রথম ইনিংস শেষ করেছে বাংলাদেশ।
ম্যাচের দ্বিতীয় দিন মোহাম্মদ রিজওয়ানের অপরাজিত ১৭১ এবং সৌদ শাকিলের ১৪১ রানে ভর করে ৬ উইকেটে ৪৪৮ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তান। জবাবে খেলতে নেমে প্রথম ইনিংসে ৫৬৫ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ।
বিশাল এই সংগ্রহে মুশফিক ছাড়াও অবদান আছে আরও চার ব্যাটারের। এদের মধ্যে ওপেনার সাদমান ইসলাম করেন ৯৩ রান। এছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ ৭৭, লিটন দাস ৫৬ ও মুমিনুল হক ৫০ রান করেন।
এর আগে, ৫ উইকেট হারিয়ে ৯২ রানে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করলেও চতুর্থ দিনে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে থাকেন মুশফিকুর রহিম। এরপর দলীয় ৩৩২ রানে নাসিম শাহ লিটনকে ফেরালে ১১৪ রানের জুটি ভাঙে বাংলাদেশের।
এরপর সপ্তম উইকেটে মিরাজকে নিয়ে উইকেটের সামনে দেওয়াল তোলেন মুশফিক। এই জুটি থেকে স্কোরবোর্ডে টাইগারদের সপ্তম উইকেটের রেকর্ড ১৯৬ রান যোগ করেন মুশফিক ও মিরাজ। এর মাঝে অর্ধশতক পূরণ করেন মিরাজ আর দেড়শ পেরিয়ে ডবল সেঞ্চুরির দিকে এগাতে থাকেন মুশফিক।
তবে দলীয় ৫২৮ রানে মোহাম্মদ আলীর বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে মুশফিক ফিরে গেলে পরে ইনিংস আর বেশি বড় করতে পারেননি পরবর্তী ব্যাটাররা। ফেরার আগে ১৯১ রানের ইনিংস খেলেন মুশফিক, যেটি ২২টি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো ছিল।
আরও পড়ুন: প্রথম ইনিংসেই মুশফিকের একগাদা রেকর্ড
তিনি প্যাভিলিয়নে ফেরার পর শূন্য রানে ফেরেন হাসান মাহমুদ। এরপর ব্যক্তিগত ৭৭ রানে মিরাজ ফিরে গেলে লিড আরেকটু বড় করার চেষ্টা করেন শরিফুল ইসলাম। তবে ১৪ বলে দুটি করে চার ও ছক্কায় ২২ রান করে শরিফুল আউট হলে ৫৬৫ রানে শেষ হয় বাংলোদেশের প্রথম ইনিংস।
প্রথম ইনিংস থেকে পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নিয়েছেন নাসিম শাহ। এছাড়া দুটি করে উইকেট গিয়েছে শাহীন আফ্রিদি, খুররাম শাহজাদ ও মোহাম্মদ আলীর ঝুলিতে। বাকি উইকেটটি নিয়েছেন সিয়াম আইয়ুব।
টাইগারদের প্রথম ইনিংস শেষ হওয়ার পর চতুর্থ দিনের আরও প্রায় ২০ ওভারের খেলা বাকি ছিল। ইতোমধ্যে দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং শুরু করেছে পাকিস্তান।
৬ ওভার শেষে ১০ রানে এক উইকেট হারিয়েছে তারা। ২.২ ওভারে শরিফুলের বলে লিটন দাসের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ১ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন সিয়াম আইয়ুব।
৫ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ক্রিজে থিতু হওয়ার চেষ্টা করছেন আব্দুল্লাহ শফিক (৫) ও শান মাসুদ (২)।
আরও পড়ুন: সাকিবকে ক্রিকেট থেকে সরাতে আইনি নোটিশ
৫৫৯ দিন আগে