ক্রিকেট
ভারতীয় বোলিং তোপে কাঁপছে দক্ষিণ আফ্রিকা
১৭৭ রানের বড় লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই ভারতীয় পেসারদের তোপের মুখে পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা। তিন ওভার শেষ হতে না হতেই দুই উইকেট হারিয়ে বসেছে তারা।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে প্রথম বলেই আউট হয়ে যাচ্ছিলেন কুইন্টন ডি কক। আর্শদীপের আউটসাইড অফ স্ট্যাম্পের ডেলিভারিতে ব্যাট ছুঁইয়েই বিপদে পড়েছিলেন তিনি। তবে উইকেটরক্ষক পর্যন্ত না পৌঁছানোয় বেঁচে যান ডি কক।
তবে পরের ওভারে বুমরাহর প্রতাপ থেকে বাঁচতে পারেননি অপর প্রান্তের রিজা হেন্ড্রিক্স। ওভারের তৃতীয় বলেই দুর্দান্ত এক ইয়র্কার স্ট্যাম্প গুঁড়িয়ে দিয়ে চলে যায়। ফলে দলীয় ৭ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
এর পরের ওভারে আর্শদীপের শিকার হন প্রোটিয়া অধিনায়ক আইডেন মার্করাম। উইকেটের পেছনে ঋষভকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ফলে প্রথম দুই ব্যাটারই পাঁচ বল মোকাবিলা করে একটি করে চার মেরে ফিরে যান। এতে মাত্র ১২ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে ভারতের মতোই শুরুতে চাপে পড়ে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
ওই ওভারের পঞ্চম বলে আরও একটি কট বিহাইন্ডের সম্ভাবনা জাগে। তবে রিভিউ নিয়ে ব্যর্থ হয় ভারত।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৪ ওভার শেষে দুই উইকেট হারিয়ে ২২ রানে সংগ্রহ করেছে প্রোটিয়ারা।
কুইন্টন ডি কক ১০ বলে ১০ এবং ট্রিস্টান স্টাবস ৪ বলে ২ রান করে অপরাজিত রয়েছেন।
আরও পড়ুন: ফাইনালে হাসল কোহলির ব্যাট, প্রোটিয়াদের সামনে বড় লক্ষ্য
৬১৫ দিন আগে
ফাইনালে হাসল কোহলির ব্যাট, প্রোটিয়াদের সামনে বড় লক্ষ্য
পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে রানখরা গেলেও ফাইনালে ঠিকই জ্বলে উঠল বিরাট কোহলির ব্যাট। তার ব্যাটের হাসিতে শুরুতে উইকেট হারিয়েও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ালো ভারত, আর প্রোটিয়াদের দিল চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য।
বার্বাডোসের ব্রিজটাউনের কেনসিংটন ওভাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৭৬ রান করেছে ভারত।
এদিন দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৬ রান করেন কোহলি। ৫৯ বলে এই রান করতে গিয়ে তিনি দুটি ছক্কা ও ছয়টি চার মারেন। এছাড়া অক্ষর প্যাটেল ৩১ বলে ৪৭ এবং শেষের দিকে শিবম দুবে ১৬ বলে ২৭ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন কেশব মহারাজ। এছাড়া কাগিসো রাবাদা ও মার্কো ইয়ানসেনের ঝুলিতে গেছে একটি করে উইকেট।
প্রথম ওভারে তিনটি চার মেরে দলকে দারুণ শুরু এনে দেন বিরাট কোহলি। পরের ওভারে তা অব্যহত রাখেন রোহিতও। কিন্তু ওই ওভারেই জোড়া উইকেট শিকার করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে অসাধারণভাবে ম্যাচে ফেরান কেশব মহারাজ।
দ্বিতীয় ওভারের প্রথম দুই বলে দুটি চার মারেন রোহিত, কিন্তু চতুর্থ বলেই মহারাজের শর্ট লেঙ্থ ডেলিভারিটি সুইপ করতে গিয়ে ক্লাসেনের দারুণ এক ক্যাচের শিকার হয়ে ফিরতে হয় তাকে।
রোহিত সুইপ করলে বলটি প্রায় মাটি ছুঁয়েই যাচ্ছিল, কিন্তু মাটিতে পড়ার আগে বাঁ দিকে খানিকটা ঝাঁপিয়ে বলটি তালুবন্দি করেন শর্ট ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগ অঞ্চলে ফিল্ডিং করা ক্লাসেন।
এরপর, ক্রিজে এসে পঞ্চম ডেলিভারিটি দেখেশুনে খেলে পরের বলেই মহারাজের ঘুর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে টপ এজ হয়ে যান ঋষভ পান্ত। উইকেটের পেছন থেকে ডি কক সহজ ক্যাচ নিলে খাতা খোলার আগেই ফিরতে হয় ভারতীয় উইকেটরক্ষককে।
এর ফলে ২৩ রানে দুই উইকেট হারায় ভারত। আর শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়ে খানিকটা ব্যাকফুটে চলে যায় তারা। এসময় সূর্যকুমার যাদবকে নিয়ে উইকেটে থিতু হওয়ার চেষ্টা করেন কোহলি।
তৃতীয় ওভারে রাবাদার শেষ ডেলিভারিতে ফের একটি ক্যাচ উঠেছিল, তবে ফাঁকায় পড়ায় সে যাত্রায় বেঁচে যান কোহলি।
এদিন এক-দুই রান বাঁচাতে ফিল্ডিংয়ের মনোমুগ্ধকর পারফরম্যান্স দেখায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
আরও পড়ুন: ফাইনালে টস জিতে ব্যাটিংয়ে ভারত
এরপর দলীয় পঞ্চম ও নিজের দ্বিতীয় ওভারে সূর্যকুমারকে ফেরান কাগিসো রাবাদা। ওভারের তৃতীয় ডেলিভারিতে সেই ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগ অঞ্চল দিয়ে বলটি উড়িয়ে সীমানাছাড়া করার চেষ্টা করেন সূর্যকুমার। কিন্তু মারে জোর না থাকায় ক্লাসেনের হাতে ধরা পড়ে ফিরতে হয় তাকে।
তিনি ৪ বলে ৩ রান করে ফিরে গেলে ৩৪ রানের মাথায় তিন উইকেট হারিয়ে আরও চাপে পড়ে যায় ভারত। এরপর তুরুপের তাস হিসেবে বোলিং অলরাউন্ডার অক্ষর প্যাটেলকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে দেন রোহিত।
অক্ষর-কোহলি জুটি অক্ষত রেখে পাওয়ার প্লেতে তিন উইকেট হারিয়ে ৪৫ রান তোলে ভারত। এরপরই হাত খুলে খেলা শুরু করেন অক্ষর। নিয়মিত বিরতিতে চার-ছক্কা বের করতে থাকেন তিনি। এই দুই ব্যাটারের দৃঢ়তায় প্রথম দশ ওভারে ৭৫ রান সংগ্রহ করে ভারত। এরপর ১৩.১ ওভারে রাবাদাকে ছক্কা হাঁকিয়ে দলীয় শতরান পার করেন অক্ষর।
তবে এর দুই বল পরই দুঃখজনকভাবে রান আউট হয়ে ফিরতে হয় তাকে। ফেরার আগে অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিয়ে ৩১ বলে ৪৭ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে যান তিনি। এই রান সংগ্রহ করতে তিনে মারেন চারটি ছক্কা ও একটি চারের মার।
আরও পড়ুন: ফাইনালের খুঁটিনাটি: আবহাওয়া, পিচ, দলের খবর
পরবর্তী ব্যাটার হিসেবে ক্রিজে এসে কোহলিকে তাল দিতে থাকেন শিবম দুবে। এর মাঝে ৪৮ বলে চলতি টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বিরাট।
১৯তম ওভারের পঞ্চম বলে ৫৯ বলে ৭৬ রান করে ফেরেন কোহলি। এরপর ইনিংসের দুই বল বাকি থাকতে ফিরে যান শিবমও (২৭), আর নর্টকিয়ার শেষ বলে দারুণ এক ক্যাচ নিয়ে জাদেজাকে থামান মহারাজ। ফলে আট উইকেট হারিয়ে ১৭৬ রানে থামে ভারতের ইনিংস।
প্রথমবার ফাইনালে উঠেই শিরোপা ছুঁতে হলে এই লক্ষ্য পাড়ি দিতে হবে প্রোটিয়া ব্যাটারদের।
৬১৫ দিন আগে
ফাইনালে টস জিতে ব্যাটিংয়ে ভারত
প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরতে মাঠে নেমেছে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এদিন টস জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রোহিত শর্মা।
১৮ বছর আগে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণের বিশ্বসেরার প্রতিযোগিতা শুরু হলেও এখন পর্যন্ত শিরোপা অধরাই রয়ে গেছে ভারতের। এর আগে দুবার ফাইনালে উঠেও শিরোপার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে তাদের।
অন্যদিকে, ক্রিকেটের সব সংস্করণ মিলিয়ে বিশ্ব আসরে বারবার সেমিফাইনাল খেললেও এই প্রথমবার কোনো ফাইনালে উঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তাই ‘চোকার’ থেকে ‘উইনার’ হতে সব রকম চেষ্টাই করবে আইডেন মার্করামের দল।
আরও পড়ুন: ফাইনালের খুঁটিনাটি: আবহাওয়া, পিচ, দলের খবর
টস জিতে রোহিত বলেন, ‘আগে ব্যাট করতে চাই। এখানে আগে একটি ম্যাচ খেলেছি। পিচ ভালোই। সেদিন রানও পেয়েছিলাম।
‘ফাইনালের চাপ বুঝতে পারছি। তবে আমরা মাথা ঠান্ডা রাখতে চাই। একটি সাধারণ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মতো করেই আজকের ম্যাচটিকে দেখতে চাই।’
‘দক্ষিণ আফ্রিকা (টুর্নামেন্টজুড়ে) অসাধারণ ক্রিকেট খেলেছে। আমাদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তাই। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন খেলোয়াড় (দলের) হাল ধরেছে। আজকেও সেরকম কিছু প্রত্যাশা করছি।’
সেমিফাইনালের অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই ভারত মাঠে নামছে বলে জানান তিনি।
অপরদিকে, মার্করাম বলেন, ‘(টস জিতলে) আমরাও আগে ব্যাট করতাম। তবে যাইহোক, শুরুতে বোলিং করছি, নতুন উইকেটের সুবিধা কাজে লাগানোর চেষ্টা করব।
‘কিছু কিছু সময় আমরা ভালো খেলিনি, তারপরও ম্যাচ বের করেছি। সেই আত্মবিশ্বাস ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করব। পারফেক্ট হওয়া তো সম্ভব নয়, তবে আমাদের তার যতটা কাছাকাছি পারা যায়, যাওয়ার চেষ্টা থাকবে।’
‘ফাইনালের উত্তেজনা অনুভব করলেও চাপ একেবারেই নিচ্ছি না। এটাই (বিশ্বকাপে) আমাদের প্রথম ফাইনাল। তাই খেলা উপভোগ করব।’
দক্ষিণ আফ্রিকাও অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নামছে বলে জানান তিনি।
ভারত একাদশ: রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), বিরাট কোহলি, ঋষভ পান্ত (উইকেটরক্ষক), সূর্যকুমার যাদব, শিবম দুবে, হার্দিক পান্ডিয়া, অক্ষর প্যাটেল, রবীন্দ্র জাদেজা, আর্শদীপ সিং, জসপ্রিত বুমরাহ ও কুলদীপ যাদব।
দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশ: কুইন্টন ডি কক (উইকেটরক্ষক), রিজা হেন্ড্রিক্স, আইডেন মার্করাম (অধিনায়ক), ডেভিড মিলার, হাইনরিখ ক্লাসেন, ট্রিস্টান স্টাবস, মার্কো ইয়ানসেন, কেশব মহারাজ, কাগিসো রাবাদা, আনরিখ নর্টকিয়া ও তাবরাইজ শামসি।
৬১৫ দিন আগে
ফাইনালের খুঁটিনাটি: আবহাওয়া, পিচ, দলের খবর
প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপা উঁচিয়ে ধরতে আজ রাতে মাঠে নামছে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা। দুই দলের জন্যই এই শিরোপাটি আরাধ্য বস্তু।
১৮ বছর আগে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণের বিশ্বসেরার প্রতিযোগিতা শুরু হলেও এখন পর্যন্ত শিরোপা অধরাই রয়ে গেছে ভারতের। এর আগে দুবার ফাইনালে উঠেও শিরোপার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে তাদের।
২০০৭ সালে বিশ্বকাপের প্রথম আসরেই ফাইনালে ওঠে ভারত। তবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের কাছে মাত্র ৫ রানে হেরে প্রথমবার আশাহত হয় তারা। এরপর ২০১৪ সালে তাদের ৬ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জেতে শ্রীলঙ্কা।
দশ বছর পার ফের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে ভারত। শক্তিমত্তার বিচারে একেবারে তুঙ্গে রয়েছে রোহিত শর্মার দল। তাই বিশ্বকাপ জয়ে এবার বড় আশা দেখছে ভারতের ক্রিকেটভক্তরা।
অন্যদিকে, ক্রিকেটের সব সংস্করণ মিলিয়ে বিশ্ব আসরে বারবার সেমিফাইনাল খেললেও এই প্রথমবার ফাইনালে উঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তাই ‘চোকার’ থেকে ‘উইনার’ হতে সব রকম চেষ্টাই করবে আইডেন মার্করামের দল।
চলুন জেনে নেই, ধ্রুব এই ফাইনাল ম্যাচের খুঁটিনাটি।
কখন শুরু হবে
বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হবে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি। এর আধঘণ্টা আগে হবে টস।
কোথায় হচ্ছে ফাইনাল
বার্বাডোজের ব্রিজটাউনের কেনসিংটন ওভাল স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। একসঙ্গে ২৮ হাজার দর্শক এই স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখতে পারেন।
পিচের অবস্থা
ব্যাটারদের স্বর্গ না হলেও কেনসিংটন ওভালে চলমান টুর্নামেন্টের কয়েকটি ম্যাচেই ভালো স্কোর গড়তে দেখা গেছে।
এ মাঠে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীদের তালিকায় পেসাররাই এগিয়ে রয়েছেন। ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা- দুই দলেই অসাধরণ কয়েকজন পেসার থাকায় দুপাশেই আজ জমাট লড়াই দেখার আশা করছেন বিশ্লেষকরা।
আবহাওয়া কী বলছে
চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আবহাওয়ার মেজাজ একেবারেই ভালো দেখা যায়নি। বেশ কয়েকটি ম্যাচ ভেসে গেছে বৃষ্টিতে। এছাড়া বৃষ্টির কারণে কয়েকটি ম্যাচ দেরিতেও শুরু হয়েছে।
বার্বাডোজের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার ব্রিজটাউনের আবহাওয়ার খবর খুব বেশি স্বস্তিদায়ক নয়। রবিবার একটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় দ্বীপটির দিকে অগ্রসর হবে। ফলে ওই অঞ্চলে গুরুতর আবহাওয়া সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস।
তবে দর্শক আশা করছে, পূর্ণ ২০ ওভারের দুটি ইনিংসই দেখতে পাবে তারা।
বৃষ্টি হলে কী হবে
ম্যাচের আগে বৃষ্টি হলে বা বৃষ্টিতে বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটিতে বিঘ্ন ঘটলে সর্বোচ্চ ১৯০ মিনিট বা তিন ঘণ্টা ১০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে। এর মধ্যে খেলা শুরু করা গেলে পূর্ণ ২০ ওভারের ইনিংসই খেলানো হবে। তা সম্ভব না হলে কমপক্ষে ১০ ওভার করে খেলানো হবে।
তবে শনিবার ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেলে পরের দিন (রবিবার) রিজার্ভ ডে রাখা হয়েছে।
এরপরও ম্যাচটি খেলা সম্ভব না হলে দুই দলকেই যৌথ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হবে।
ফাইনাল ম্যাচ টাই হলে কী হবে
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি টাই হলে সুপার ওভারে ম্যাচের নিষ্পত্তি করা হবে। প্রথম সুপার ওভারও যদি টাই হয় তবে ফের আরও একটি করে সুপার ওভার খেলানো হবে। এভাবে ম্যাচের ফলাফল না আসা পর্যন্ত সুপার ওভার চলতে থাকবে।
টসভাগ্য কী বলছে
এই মাঠে এখন পর্যন্ত খেলা ৮ ম্যাচের পাঁচটিতে টস জিতে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অধিনায়করা। তবে কিছুটা মিশ্র ফলাফল দেখা গেছে এখানে।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই মাঠে টস জিতে রোহিত শর্মা আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। ম্যাচটিতে ৪৭ রানের জয় পায় ভারত।
তবে ভারতের এই মাঠে আগে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য চলমান টুর্নামেন্টে এটিই প্রথম ম্যাচ হতে চলেছে।
হেড টু হেড
দুই দলের দেখায় এখন পর্যন্ত ভারতই কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। টি-টোয়েন্টিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৪ ম্যাচ জিতেছে ভারত। অন্যদিকে, ভারতের বিপক্ষে প্রোটিয়াদের জয় ১১টি ম্যাচে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আসরে এর আগে পাঁচবারের দেখায় চার ম্যাচই জিতেছে ভারত।
সবশেষ গত ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায় তিন ম্যাচের একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে ভারত। ১-১ সমতায় সিরিজ শেষ করে দুই দল। বাকি ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়।
তবে চলমান বিশ্বকাপ আসরে দুই দলই রয়েছে দারুণ ছন্দে। এখন পর্যন্ত সব ধরনের প্রতিকূলতা কাটিয়ে টুর্নামেন্টে অপরাজিত দুই দলই। ফলে এক দুর্দান্ত ফাইনালের অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা।
দলের খবর
ভারত
তিন পেসার ও দুই স্পিনার নিয়ে সাজানো বোলিং আক্রমণ নিয়ে এখন পর্যন্ত দারুণ সফল ভারত। দলটির বোলারদের সবাই রয়েছে দারুণ ফর্মে। বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে সব প্রতিপক্ষকেই নাকানি-চুবানি খাইয়েছে তারা।
আবার ফর্মের চূড়ায় রয়েছেন ব্যাটাররাও। ফলে আফগানিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, যুক্তরাষ্ট্র ও সবশেষ ইংল্যান্ডকে হারানো একাদশই অপরিবর্তিত রাখতে পারেন ভারতের নির্বাচকরা।
সম্ভাব্য একাদশ: রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), বিরাট কোহলি, ঋষভ পান্ত (উইকেটরক্ষক), সূর্যকুমার যাদব, শিবম দুবে, হার্দিক পান্ডিয়া, অক্ষর প্যাটেল, রবীন্দ্র জাদেজা, আর্শদীপ সিং, জসপ্রিত বুমরাহ ও কুলদীপ যাদব।
দক্ষিণ আফ্রিকা
ভারতের মতোই দক্ষিণ আফ্রিকার দুই স্পিনার ও তিন পেসার টুর্নামেন্টজুড়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন বারবার। এছাড়া মাঝেমধ্যে হাত ঘুরিয়ে থাকেন দলটির অধিনায়ক মার্করামও। ফলে বোলিং নিয়ে কিছুটা নির্ভারই থাকবেন মার্করাম।
তবে ব্যাটাররা একেবারেই ধারাবাহিক নেই বিশ্বকাপের এই আসরে। অবশ্য, বিভিন্ন ম্যাচে কোনো এক বা দুজন ব্যর্থ হলেও অন্যরা ব্যাট হাতে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। সর্বোপরি, টিম পারফরম্যান্সের কারণেই সবগুলো ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠেছে প্রোটিয়ারা। তাই শেষ ম্যাচেও দলের টিম ওয়ার্কই দেখতে চাইবে সমর্থকরা।
সেমিফাইনালে আফগানিস্তানকে ধসিয়ে দেওয়া একাদশ অপরিবর্তিত রাখতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা।
সম্ভাব্য একাদশ: কুইন্টন ডি কক (উইকেটরক্ষক), রিজা হেন্ড্রিক্স, আইডেন মার্করাম (অধিনায়ক), ডেভিড মিলার, হাইনরিখ ক্লাসেন, ট্রিস্টান স্টাবস, মার্কো ইয়ানসেন, কেশব মহারাজ, কাগিসো রাবাদা, আনরিখ নর্টকিয়া ও তাবরাইজ শামসি।
৬১৬ দিন আগে
বোলিংয়ের দিকটি ছিল ইতিবাচক, বললেন তাসকিন
যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্স শেষে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আসার পর দলের বোলিং পারফরম্যান্সকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরেন পেসার তাসকিন আহমেদ।
প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর বিপক্ষে দুটিসহ সাত ম্যাচে তিন জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। তাসকিনের সঙ্গে রিশাদ হোসেন, তানজিম হাসান সাকিব ও মুস্তাফিজুর রহমান প্রশংসনীয় বোলিং পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন।
পারফরম্যান্সে নজিরবিহীন খারাপ করার কথা উল্লেখ করে ব্যাটিং চেষ্টাকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে স্বীকার করেছেন তাসকিন।
ঢাকায় ফিরে তিনি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রে পরিস্থিতি ব্যাটসম্যানদের অনুকূলে ছিল না।’ তিনি বলেন, ‘পরিসংখ্যান বলছে, শীর্ষ দলগুলোও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বোলারদের একটি স্বতন্ত্র সুবিধা ছিল।’
তিনি বোলিং ইউনিটের সাফল্যের জন্য সময়ের সঙ্গে ধারাবাহিক প্রচেষ্টাকে তুলে ধরেছেন।
আরও পড়ুন: দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বৃষ্টির হানা, পণ্ড হলেই ফাইনালে ভারত
বাংলাদেশের জন্য সর্বনিম্ন পয়েন্টটি সুপার এইটে এসেছিল। যেখানে তারা আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রয়োজনীয় মোট রান তুলতে ব্যর্থ হন। এর ফলে ঐতিহাসিক সেমিফাইনালে যাওয়া নিশ্চিত করার সুযোগ হাতছাড়া করে ফেলেন। ৭৩ বলে মাত্র ১১৬ রান সংগ্রহা করার প্রয়োজন থাকলেও হোঁচট খায় বাংলাদেশ।
লিটন দাস, তানজিদ হাসান তামিম, সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মতো ব্যাটসম্যানরা পুরো ইভেন্টে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পারফরম্যান্স দেখাতে ব্যর্থ হন। এটি বিরল ছিল- সব ব্যাটসম্যান একইভাবে তাদের ফর্ম হারায়। ফলে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে দলের পারফরম্যান্স ভুলে যেতে পারে।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত শুরুতেই উইকেট হারানোর পর দলের কৌশলগত পরিবর্তনের ব্যাখ্যা দিয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
তারা সেমিফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার আশা ছেড়ে দেওয়ায় ম্যাচ জেতার লক্ষ্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।
আরও পড়ুন: সেমির দৌড়ে ১১৬ রানের লক্ষ্যে সমীকরণ মেলাতে হচ্ছে টাইগারদের
৬১৬ দিন আগে
টস হেরে ব্যাটিংয়ে ভারত
বৃষ্টির কারণে ভেজা মাঠ শুকাতে বেশ কিছুটা সময় লাগলেও দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মাঠে নামছে ইংল্যান্ড ও ভারত। এদিন টসভাগ্য গেছে ইংলিশ অধিনায়ক জস বাটলারের দিকে।
গায়নার প্রোভিডেন্স স্টেডিয়ামে টস জিতে শুরুতে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাটলার।
বৃষ্টির আগে পিচ রিপোর্টে হার্শা ভোগলে ও মাইকেল আথারটন বলেছিলেন, এই পিচে বল বেশি ওপর উঠবে না। ফলে স্পিনাররা সুবিধা পাবেন।
শুরুতে ব্যাট করে এই মাঠে সংগ্রহের গড় ১৬৭ রান।
আরও পড়ুন: দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বৃষ্টির হানা, পণ্ড হলেই ফাইনালে ভারত
শুরুতে বোলিং করার ইচ্ছাই ছিল জানিয়ে বাটলার বলেন, ‘ভালো সারফেস মনে হচ্ছে। বৃষ্টি হয়ে যাওয়ার পর বল একটু কমই উঠবে। তাই আগে বোলিং করলে সুবিধা পাওয়া যাবে বলেই মনে হচ্ছে। গত ম্যাচের একাদশ অপরিবর্তিতই থাকছে।’
রোহিত বলেন, ‘টস জিতলেও আগে ব্যাটিং করতাম। আমরা শুরুতেই (স্কোর) বোর্ডে রান রাখতে চাই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পিচ স্লো হয়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে। ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি ভাবছি না। এই মুহূর্তে কী করা দরকার, সেটিই আমাদের কাছে মুখ্য। আমরাও অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে নামছি।’
পরিসংখ্যান বলছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে একটি ম্যাচে আগে ব্যাট করে হারে ইংল্যান্ড। তবে তিন ম্যাচে লক্ষ্য তাড়ায় নেমে তিনটিতেই সফল তারা।
অন্যদিকে, ২০২১ সালের পর থেকে সব ধরনের ক্রিকেট মিলিয়ে আইসিসি বিশ্বকাপে মোট পাঁচবার হেরেছে ভারত। ওই পাঁচটি ম্যাচের সবগুলোতেই শুরুতে ব্যাটিং করেছিল তারা।
ইংল্যান্ড একাদশ: ফিলিপ সল্ট, জস বাটলার (অধিনায়ক), জনি বেয়ারস্টো, হ্যারি ব্রুক, মইন আলী, লিয়াম লিভিংস্টোন, স্যাম কারান, ক্রিস জর্ডান, জোফরা আর্চার, আদিল রশিদ ও রিস টপলি।
ভারত একাদশ: রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), বিরাট কোহলি, ঋষভ পান্ত, সূর্যকুমার যাদব, শিবম দুবে, হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, অক্ষর প্যাটেল, কুলদীপ যাদব, আর্শদীপ সিং ও জাসপ্রিত বুমরাহ।
আরও পড়ুন:আফগানদের বিধ্বস্ত করে ‘চোকার’ তকমা ঘোচাল দক্ষিণ আফ্রিকা
রেকর্ড বইয়ে ১৩ পরিবর্তন আনল প্রোটিয়া-আফগান ম্যাচটি
৬১৭ দিন আগে
দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বৃষ্টির হানা, পণ্ড হলেই ফাইনালে ভারত
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মাঠে নামার অপেক্ষা করছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড ও ভারত। বৃষ্টির কারণে টস হতে দেরি হচ্ছে। তবে বৃষ্টি হলেও ম্যাচটি নিয়ে নির্ভার থাকবে ভারতীয় শিবির। কারণ ম্যাচটি পণ্ড হয়ে গেলে ফাইনালে উঠে যাবে রোহিত শর্মা অ্যান্ড কোং।
চলমান বিশ্বকাপ আসরের জন্য আইসিসির খেলার শর্তে প্রথম সেমিফাইনালের জন্য রিজার্ভ ডে থাকলেও দ্বিতীয় সেমিফাইনালের জন্য তা নেই। আবার সেমিফাইনালে উঠলে ভারতের আবদার মেটাতে তাদের দ্বিতীয় সেমিফাইনালেই রাখতে হয়েছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির।
এ দুটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক চলছে।
ভারতের স্থানীয় সময়সূচিকে প্রাধান্য দিয়ে দলটিকে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে রাখে আইসিসি। কারণ হিসেবে জানা গেছে, প্রথম সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হয় ভারতের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ছয়টায়। এ সময়ে দেশটির বিপুলসংখ্যক ক্রিকেটভক্তের জন্য খেলা দেখা বেশ কঠিন। তাই রাত ৮টায় শুরু হওয়া দ্বিতীয় সেমিতেই দলটিকে রাখা হয়েছে।
আইসিসিতে ভারতের প্রভাব এবং ১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে আইসিসির আয়- সবকিছু মিলিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
আরও পড়ুন: আফগানদের বিধ্বস্ত করে ‘চোকার’ তকমা ঘোচাল দক্ষিণ আফ্রিকা
দ্বিতীয় কারণটি নিয়েও সমালোচনা কম হচ্ছে না। প্রথম সেমিফাইনালে রিজার্ভ ডে থাকলেও দ্বিতীয় ম্যাচে কেন সেই সুবিধা রাখা হলো না, তা নিয়ে আইসিসিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন অনেকে।
তবে এ বিষয়ে আইসিসির সাফাই, ফাইনাল ম্যাচের আগে পর্যাপ্ত সময় না থাকার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে তারা। সময় না থাকার পেছনে ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচিকে দায়ী করেছে সংস্থাটি।
২৯ জুন বার্বাডোজের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল হওয়ার কথা। অর্থাৎ দ্বিতীয় সেমিফাইনালের পর মধ্যে মাত্র একটি দিন সময় রাখা হয়েছে। তাই রিজার্ভ ডে রাখার সুযোগ নেই বলে আইসিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
তবে দ্বিতীয় সেমিফাইনালের জন্য অন্যভাবে ব্যবস্থা নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। বৃষ্টি বাগড়া দিলেও এই ম্যাচের জন্য ২৫০ মিনিট বাড়তি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, নির্ধারিত সময়ের ৪ ঘণ্টা ১০ মিনিট পর্যন্ত সময় নষ্ট হলেও তার জন্য ওভার কমানো হবে না, সম্পূর্ণ ম্যাচ খেলানো হবে।
এরপরও যদি খেলা শুরু করা না যায়, তবেই ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমানোর সিদ্ধান্তে যাবে আইসিসি। তবে এক্ষেত্রে দুদলকেই কমপক্ষে ১০ ওভার করে খেলানো হবে, গ্রুপ পর্বে যা ছিল মাত্র ৫ ওভার। এরপরও খেলা সম্ভব না হলে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হবে।
ম্যাচ পরিত্যক্ত হলেই কপাল পুড়বে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। কারণ, সুপার এইট পর্বে ইংল্যান্ডের চেয়ে (৪) ভারতের পয়েন্টই (৬) বেশি ছিল। আর টুর্নামেন্টের নিয়ম এটা।
আরও পড়ুন: রেকর্ড বইয়ে ১৩ পরিবর্তন আনল প্রোটিয়া-আফগান ম্যাচটি
৬১৭ দিন আগে
রেকর্ড বইয়ে ১৩ পরিবর্তন আনল প্রোটিয়া-আফগান ম্যাচটি
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠলেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় চরম বিপর্যস্ত হয়েছে আফগানিস্তান। প্রোটিয়া বোলিংয়ের সামনে মাত্র ৫৬ রানেই আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে আফগান ব্যাটারদের।
এমন এক ইনিংসে বেশকিছু রেকর্ড হয়েছে, আবার কিছু রেকর্ড ভেঙে গড়া হয়েছে, যার বেশিরভাগ দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য গৌরবের হলেও আফগানিস্তানের জন্য লজ্জার।
দ্বিতীয় সর্বনিম্ন
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৬ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২৮ রান সংগ্রহ করেছে আফগানিস্তান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৬ উইকেটে কোনো দলের এটি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন সংগ্রহ।
প্রোটিয়াদের বিপক্ষে প্রথম রেকর্ডটিও তাদের। ২০১০ বিশ্বকাপে মাত্র ১৪ রান সংগ্রহ করতে গিয়ে ছয় উইকেট হারায় তারা।
পাওয়ার প্লেতে পাঁচ
বৃহস্পতিবারের প্রথম সেমিফাইনালে পাওয়ার প্লেতে পাঁচ উইকেট হারায় আফগানিস্তান। এটি চলতি বিশ্বকাপে পঞ্চমবার ৫ উইকেট হারানোর ঘটনা।
মজার বিষয় হচ্ছে, এর আগের চারটি ইনিংসের দুটি ছিল এই আফগানদের বিপক্ষে অন্য দলের। তবে এবার আফগানিস্তানই এই লজ্জার রেকর্ডে নাম ওঠাল।
গ্রুপপর্বে উগান্ডা ও পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে প্রথম ৬ ওভারে ৫টি করে উইকেট নেন রশিদ-নবীরা।
এছাড়া গ্রুপপর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজও উগান্ডার পাঁচ উইকেট নেয়। আরেকটি ইনিংস আয়ারল্যান্ডের, পাকিস্তানের বিপক্ষে নাকানি-চুবানি খেয়েছিলেন পল স্টার্লিংরা।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সর্বনিম্ন
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড গড়েছে আফগানিস্তান। এর মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপের শুরুতে গড়া রেকর্ডটি (৭৭) পেছনে ফেলে লঙ্কানদের স্বস্তি দিয়েছে তারা।
এর আগের রেকর্ডটিও ছিল আফগানদের (৮০)। ২০১০ সালে ব্রিজটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে ৮০ রানে গুটিয়ে যায় তারা। সেবারও ২০০৯ সালে স্কটল্যান্ডের গড়া রেকর্ড (৮১) ভেঙে দেয় তারা।
নিজেদের সর্বনিম্ন
এদিন টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রান সংগ্রহ করেছে রশিদ খানের দল। এর আগে ২০১৪ সালে মিরপুরে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৭২ রানে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস।
এছাড়া এই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেই ২০১০ সালে এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১২ সালে ৮০ রানে ইনিংস শেষ করার রেকর্ড আছে আফগানদের।
বিশ্বকাপে দ্বিতীয়
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে পূর্ণ একাদশ নিয়ে খেলে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রান সংগ্রহ করেছে আফগানিস্তান। তবে ৫৫ রান নিয়ে তালিকার তলানিতে রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। দুবাইয়ে ২০২১ আসরে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে এই লজ্জার রেকর্ড গড়ে ইংলিশরা।
এছাড়া ২০১৪ আসরে চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড (৬০) এবং ২০১৬ আসরে কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে কিউইদের বিপক্ষে বাংলাদেশের (৭০) নামও রয়েছে এই তালিকায়।
সেমিতে সর্বনিম্ন আফগানিস্তান
৫৬ রানে অলআউট হয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের ইতিহাসে প্রথম এত কম রানে গুটিয়ে গেল কোনো দল।
এর আগে প্রোটিয়াদের বিপক্ষেই ১০১ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এছাড়া ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ১৩১ রানে গুটিয়ে যাওয়ার রেকর্ড আছে অস্ট্রেলিয়ার।
ফারুকির অর্জন
অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশের মতো টেস্ট খেলুড়ে দলের বিপক্ষে জিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা আফগানিস্তানের সাফল্যের নেপথ্যে ছিল ফজলহক ফারুকির অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্য।
৮ ম্যাচে ১৭ উইকেট নিয়ে এখন পর্যন্ত চলতি আসরের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী তিনিই। শুধু তাই নয়, এটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহের রেকর্ড।
এ তালিকার পরের তিনটি রেকর্ডই শ্রীলঙ্কার, একটি ভারতের। ২০২১ বিশ্বকাপে ১৬ উইকেট নেওয়ার পরের আসরে (২০২২) ১৫ উইকেট নিয়ে পরপর দুই আসরে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী ছিলেন ওয়ানিন্দু হাসরাঙ্গা।
এছাড়া ১৫টি উইকেট আছে ২০১৫ বিশ্বকাপে ত্রাস ছড়ানো অজন্তা মেন্ডিসের নামের পাশেও।
তবে চলতি আসরে ভারতের আর্শদীপ সিংয়ের ঝুলিতেও ১৫টি উইকেট রয়েছে। আজ রাতে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে ভারত। এই ম্যাচেও তাকে দেখা যেতে পারে। আবার ম্যাচটি জিতলে ফাইনালেও খেলার সুযোগ থাকবে এই তরুণ পেসারের। ফলে ফারুকির রেকর্ডটি নিজের করে নেওয়ার সুযোগ থাকছে তার সামনে।
৬১৮ দিন আগে
আফগানদের বিধ্বস্ত করে ‘চোকার’ তকমা ঘোচাল দক্ষিণ আফ্রিকা
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হারতে হারতে ‘চোকার’ তকমা পেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সব মিলিয়ে সাতবার বিশ্বকাপের সেরা চারে উঠেও ফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতা হয়নি দলটির। সবশেষ গত নভেম্বরে ভারত বিশ্বকাপেও সেমিফাইনালে তাদের স্বপ্নভঙ্গ হয়। অবশেষে তাদের সেই দুর্দশা ঘুচল।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে আফগানদের ৯ উইকেটে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোনো সংস্করণে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেছে আইডেন মার্করামের দল।
টস জিতে শুরুতে ব্যাটিং করে মাত্র ৫৬ রানেই গুটিয়ে যায় আফগানদের ইনিংস। লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ৮.৫ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
ইনিংস শুরু করতে নেমে দলীয় পাঁচ রানের মাথায় কুইন্টন ডি ককের (৫) উইকেটটি হারালেও রিজা হেন্ড্রিকস (২৯) ও মার্করামের (২৩) ব্যাটিং দৃঢ়তায় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে প্রোটিয়ারা।
অসাধারণ বোলিং পারফরম্যান্সের কারণে ম্যাচসেরা হয়েছেন মার্কো ইয়ানসেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
আফগানিস্তান: ৫৬/১০ (১১.৫)- (আজমতউল্লাহ ১০, গুলবাদিন ৯; শামসি ৩/৬, ইয়ানসেন ৩/১৬, নর্টিকিয়া ২/৭, রাবাদা ২/১৪)।
দক্ষিণ আফ্রিকা: ৬০/১ (৮.৫)- (হেন্ড্রিকস ২৯, মার্করাম ২৩; ফারুকি ১/১১)
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মার্কো ইয়ানসেন।
আরও পড়ুন: প্রোটিয়া বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারল না আফগানিস্তান
৬১৮ দিন আগে
প্রোটিয়া বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারল না আফগানিস্তান
বাংলাদেশকে হারিয়ে স্বপ্নের সেমিফাইনালে ওঠা আফগানিস্তানের সেমির যাত্রা শুরু হয়েছে দুঃস্বপ্নের মতো। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আগুনে পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে আফগান ব্যাটিং লাইন-আপ।
ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে টস জিতে শুরুতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন আফগান অধিনায়ক রশিদ খান। তবে প্রোটিয়া বোলিং তোপে মাত্র ৫৬ রানেই গুটিয়ে গেছে তাদের ইনিংস।
দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১০ রান করেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। ব্যটারদের আর কেউই দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি।
দক্ষিণ আফ্রিকার পেসারদের ঝুলিতেই গেছে আফগানদের ৭টি উইকেট। এর মধ্যে ৩ ওভারে ১৬ রান দিয়ে মার্কো ইয়ানসেন নিয়েছেন সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট। এছাড়া কাগিসো রাবাদা ও আনরিখ নর্টকিয়ার ঝুলিতে গেছে দুটি করে উইকেট। স্পিনার তাবরাইজ শামসি নিয়েছে বাকি তিনটি উইকেট।
ফলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবার ফাইনালে উঠতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন ৫৭ রান।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ে সেমিফাইনালে আফগানিস্তান
ম্যাচ শুরুর আগে এই মাঠের রেকর্ড বলছিল, টস জিতলে ব্যাটিং নেওয়ার মতো উইকেট এটি। ১৪০-১৫০ রান করতে পারলেই তা এই পিচের ভালো স্কোর হবে। বিশ্বকাপে এখানে ৫১ উইকেটের মধ্যে ৩৮টিই গেছে পেসারদের ঝুলিতে।
উইকেটের কথা অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেলেও সম্ভব্য রানের বিষয়টি নতুন করে লিখল দক্ষিণ আফ্রিকা।
ইনিংস শুরু করতে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেটের দেখা পান মার্কো ইয়ানসেন। ওভারের শেষ বলে চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করা (৭৬, ৮০, ৬০ ও ৪৩) রহমানউল্লাহ গুরবাজ ফিরে যান রানের খাতা না খুলেই। আর চার রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় আফগানিস্তান।
পরের ওভারে কেশব মহারাজ কায়দা করতে না পারলেও তৃতীয় ওভারে ফের উইকেটের দেখা পান ইয়ানসেন। এবার তার শিকার হন তৃতীয় ব্যটার গুলবাদিন নাইব।
চতুর্থ ওভারে বোলিংয়ে এসেই মেইডেন ওভারে জোড়া উইকেট তুলে নেন কাগিসো রাবাদা। প্রথম বলেই আফগানদের অপর ওপেনার ইব্রাহিম জাদরানকে বোল্ড করে সাজঘরে পাঠান তিনি। চতুর্থ বলে নতুন নামা মোহাম্মদ নবীকেও বোল্ড করেন রাবাদা। বেচারা নবী তার তিন বল মোকাবিলা করে রানের খাতাই খুলতে পারেননি।
এর ফলে চার ওভার শেষে ২০ রানে ৪ উইকেট হারায় আফগানিস্তান। তবে তাদের এই ধারা বহাল থাকে পরের ওভারেও। ইয়ানসেন নিজের তৃতীয় ওভার বোলিং করতে এসে ফের উইকেটের দেখা পান। পঞ্চম ওভারের শেষ বলে উইকেটের পেছনে নানগেলিয়া খারোতের ক্যাচ নেন ডি কক।
আরও পড়ুন: টি-টোয়েন্টিতে কামিন্সের বিরল কীর্তি
মাঝে ষষ্ঠ ওভারটি বিরাম দিয়ে পরের ওভারে ফের উইকেট হারায় আফগানিস্তান। এবার নর্টকিয়ার প্রথম ওভারেই ক্যাচ হয়ে ফেরেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। দুটি চারের সাহায্যে ১২ বলে ১০ রান করেন তিনি। এর ফলে ৭ ওভার শেষে ২৯ রানে ৬ উইকেট হারায় আফগানিস্তান।
এরপর উইকেটে রক্তক্ষরণ বন্ধের চেষ্টা করেন করিম জানাত ও রশিদ খান। দুটি ওভার ধরে খেলে সে ইঙ্গিতও দেন তারা।
তবে দশম ওভারে শামসির হাতে বল তুলে দেন আইডেন মার্করাম, আর অধিনায়কের আস্থার প্রতিদানও দেন তিনি। ওভারের তৃতীয় বলে জানাতকে এবং পঞ্চম বলে নতুন নামা নুর আহমাদকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে জোড়া উইকেট নেন তিনি।
পরের ওভারে নর্টকিয়া রশিদ খানকে বোল্ড করেন। আর দ্বাদশ ওভারে শামসি ফেরান নাভিন-উল-হককে। ফলে ১১.৫ ওভারে মাত্র ৫৬ রানে গুটিয়ে যায় প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলা আফগানিস্তান।
৬১৮ দিন আগে