ইউরোপ
যুক্তরাজ্যের সাবেক সামরিক ঘাঁটিতে আগুনে নিহত ৩
যুক্তরাজ্যের একটি সাবেক সামরিক ঘাঁটিতে আগুনে তিনজন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২ জন অগ্নিনির্বাপক কর্মী ও একজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ মে) অক্সফোর্ডের কাছে বাইসেস্টারে প্রাক্তন রয়েল এয়ার ফোর্স ঘাঁটির একটি বড় গুদামে এই অগ্নিকাণ্ড হয় বলে জানিয়েছে দেশটির কর্মকর্তারা।
শুক্রবার (১৬ মে) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমান ও মোটর স্পোর্টসের ইতিহাস স্মরণে ব্যবহৃত একটি প্রাক্তন ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে অগ্নিকাণ্ডে দুইজন দমকল কর্মী ও একজন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জে আগুনে শতাধিক দোকান ভস্মীভূত
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী কয়েক মাইল দূর থেকে দেখা গেছে। বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার এক্সে এক পোস্টে বলেন, ‘আমাদের অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের সাহসিকতা আশ্চর্যজনক। আশা করি যারা হাসপাতালে আছেন তারা সম্পূর্ণ ওদ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।’
অক্সফোর্ডশায়ার কাউন্টি কাউন্সিল জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর আহত আরও দুইজন অগ্নিনির্বাপক কর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অক্সফোর্ডশায়ার কাউন্টি কাউন্সিল জানিয়েছে, আরও দুইজন অগ্নিনির্বাপক কর্মী গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
শুক্রবার সকালে কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
৩৮৪ দিন আগে
যুদ্ধবিরতি আলোচনার জন্য তুরস্কে জেলেনস্কি, যাননি পুতিন
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের সঙ্গে বৈঠক করতে তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে গেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সরাসরি শান্তি আলোচনা থেকে সরে যাওয়ার পর—তা পুনরায় শুরুর উদ্যোগের অংশ হিসেবে জেলেনস্কি এই সফর করছেন।
জেলেনস্কি বলেন, তিনি ইস্তাম্বুলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি শান্তি আলোচনায় যোগ দিতে প্রস্তুত।
বুধবার(১৪ মে) জেলেনস্কি বলেন, ‘শান্তি আলোচনার জন্য রাশিয়া থেকে কে আসবেন—তা দেখার জন্য আমি অপেক্ষা করছি। এরপর আমি সিদ্ধান্ত নেব—ইউক্রেনের কি পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ। এখন পর্যন্ত গণমাধ্যমের বরাতে তাদের কাছ থেকে পাওয়া ইঙ্গিতগুলো বিশ্বসযোগ্য নয়।’
তবে ক্রেমলিন ঘোষণা করেছে, বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুলের শান্তি আলোচনায় রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যোগ দেবেন না। তবে, রাশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির প্রেসিডেন্টের সহকারী ভ্লাদিমির মেডিনস্কি।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনে ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা রাশিয়ার
আনাতোলিয়ায় ন্যাটোর অনানুষ্ঠানিক একটি বৈঠকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, ‘ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত আলোচনা আশা করি আমাদের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।’
এরআগে ২০২২ সালের মার্চে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হয়েছিল। ওই বৈঠকে উভয়পক্ষ যুদ্ধ বন্ধে একমত হতে পারেননি।
এবারের শান্তি আলোচনায় পুতিনের যোগ না দেওয়াতে পশ্চিমারা তার ব্যাপক সমালোচনা করছেন। ক্রেমলিন সত্যিই ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান প্রচেষ্টায় আগ্রহী নয় বলেও প্রশ্ন তুলছেন তারা।
৩৮৫ দিন আগে
আজই শোনা যেতে পারে নতুন পোপের নাম: গিওভান্নি বাতিস্তা
আজ সন্ধ্যায় নতুন পোপ নির্বাচিত হতে পারেন বলে জানিয়েছেন কলেজ অব কার্ডিনালের ডিন গিওভান্নি বাতিস্তা রে।
বৃহস্পতিবার (৮ মে) ইতালীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করছি, আজ সন্ধ্যায় যখন আমি রোমে ফিরব, ততক্ষণে সিস্টিন চ্যাপেলের চিমনি দিয়ে সাদা ধোঁয়া বের হওয়া শুরু হবে।’
সকালে একবার কার্ডিনালরা ভোট দিয়েছেন। কিন্তু তাতে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। দুপুরের আগে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে চিমনি দিয়ে।আরও পড়ুন: পোপ ফ্রান্সিসের উত্তরসূরি নির্বাচন করা হবে যেভাবে
গিওভান্নি বাতিস্তা রের বয়স এখন ৯১ বছর। পোপ হওয়ার জন্য আশি বছরের কম বয়স হতে হবে। যে কারণে তিনি কার্ডিনালের কনক্লেভে অংশ নিতে পারেননি। পোপ হওয়ার যোগ্য ১৩৩ কার্ডিনালকে নিয়ে গঠিত কলেজ অব কার্ডিনালস।
কোনো ধরনের মনোযোগ নষ্ট হওয়া ছাড়াই যাতে প্রার্থনা ও ধ্যান করতে পারেন, পাশাপাশি পোপ নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন, সে কারণে ভ্যাটিকানের ভেতরে কার্ডিনালদের আলাদা করে রাখা হয়েছে।
নতুন পোপ নির্বাচিত হওয়ার জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগবে। পোপ নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সকাল ও বিকালে নিয়মিত ভোট হবে।
ভোট হওয়ার পর একটি বিশেষ স্টোভে ব্যালট পুড়িয়ে দেওয়া হয়। কালো ধোঁয়া বের হওয়ার অর্থ হচ্ছে এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত আসেনি, অর্থা পোপ নির্বাচিত হননি। আর সাদা ধোঁয়া বের হলে বুঝতে হবে নতুন পোপ নির্বাচিত হয়েছেন।
পোপ নির্বাচনের ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রার্থী নেই। তবে বেশ কয়েকজন কার্ডিনাল আছেন, যারা পোপ হওয়ার যোগ্যতা রাখেন।
তাদের মধ্যে আছেন, কনক্লেভের দেখভাল করা কার্ডিনাল পিয়াত্রিও প্যারোলিন, এশিয়ান ফ্রান্সিসখ্যাত কার্ডিনাল লুইস তাগলা, কঙ্গোর রক্ষণশীল কার্ডিনাল ফ্রিডোলিন এমবোঙ্গো বেসুঙ্গু ও ইতালীয় পিয়ারবাতিস্তা পিজ্জাবালা।
এদিকে নতুন পোপের নাম শোনার জন্য অধীর হয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে অনেককেই। রোমের বাসিন্দা প্রিসিলা পার্লান্তি বলেন, ‘এই অপেক্ষা অসাধারণ।’
৩৯২ দিন আগে
মার্কিন বিজ্ঞানীদের টানতে প্রণোদনা ঘোষণা করতে যাচ্ছে ইউরোপ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নানা বিতর্কিত পদক্ষেপে ক্ষতিগ্রস্ত বিজ্ঞানীদের ইউরোপে নিয়ে যেতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে ফ্রান্স ও ইউরোপীয় কমিশন (ইইউ)। তাদের ইউরোপে থিতু করতে প্রণোদনা ঘোষণা করতে যাচ্ছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাঁখো ও ইইউ প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন দার লিয়েন।
স্থানীয় সময় সোমবার (৫ মে) সকালে প্যারিসের সোরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃবৃন্দ ও গবেষকদের সঙ্গে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই প্রণোদনার ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর তহবিল কাঁটছাটসহ মার্কিন প্রশাসনের আরোপিত বেশ কিছু নীতির ফলে নিজেদের কাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত দেশটির অনেক গবেষক। সেসব মার্কিন গবেষকদেরই ইউরোপে আমন্ত্রণ জানাতেই ইউরোপীয় কমিশনার ও একাডেমিকদের মিলিত উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, একাডেমিক স্বাধীনতা হুমকির মুখে থাকায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইউরোপকে একটি আকর্ষণীয় মহাদেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এই বিবৃতিতে।
দেশটির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ইউরোপ এমন একটি জায়গা, যেখানে গবেষণার স্বাধীনতা রয়েছে, কোনো বিষয়ই এখানে নিষিদ্ধ নয়।’
ফ্রান্স ও ইউরোপের এই উদ্যোগ গবেষণার স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেবে বলে মনে করেন তিনি। সোমবারে আয়োজিত ‘চুজ ইউরোপ ফর সায়েন্স’ শীর্ষক অনুষ্ঠানটিতে স্বাস্থ্য (সংক্রামক রোগ), জলবায়ু গবেষণা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক বিজ্ঞানীদের আকৃষ্ট করতে ফ্রান্স বিশেষভাবে আগ্রহী বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: গবেষণায় ট্রাম্পের তহবিল বন্ধের প্রতিবাদে বিজ্ঞানীদের বিক্ষোভ এর আগে, এ বিষয়ে ইউরোপীয় কমিশনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেয় ১৩টি ইউরোপীয় দেশ। পরে এপ্রিল মাসে ফ্রান্স নিজস্ব উদ্যোগে চুজ ফ্রান্স ফর সায়েন্স চালু করা হয়। এই উদ্যোগের আওতায় আন্তর্জাতিক গবেষকদের জন্য আবেদন প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়।
ফরাসি গবেষণা মন্ত্রণালয় জানায়, কিছু বিদেশি গবেষক ইতোমধ্যেই ফ্রান্সে এসে দেশটির অবকাঠামোর সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন এবং তারা তহবিল ও প্ল্যাটফর্মের অপেক্ষায় আছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে হুমকির মুখে রয়েছেন এমন ও বিদেশে ফরাসি গবেষকদের আকৃষ্ট করতে নতুন একটি কর্মসূচি চালু করেছে ফ্রান্সের শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস)।
সিএনআরএসের প্রেসিডেন্ট আঁতোয়ান পেতি বলেন, ‘ট্রাম্পের আমেরিকায় যেসব গবেষকরা নিজেদের সন্তানদের বড় করতে চান না, তাদের ফিরিয়ে আনতে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।’
এদিকে, মার্চে চালু হওয়া এক্স-মার্সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেইফ প্লেস ফর সায়েন্স’ কর্মসূচির অধীনে জুন মাসে প্রথম বিদেশি গবেষকরা সেখানে যোগ দেবেন।
মার্চ মাসে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে লেখা এক চিঠিতে ফ্রান্সের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণামন্ত্রী ফিলিপ বাতিস্তে বলেন, ‘অনেক নামকরা গবেষক এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আমরা স্বাভাবিকভাবেই তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যককে স্বাগত জানাতে চাই।’
তবে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে যুক্তরাষ্ট্রে গবেষণায় বিনিয়োগ বহু বছর ধরেই ইউরোপের চেয়ে বেশি। দশকের পর দশক ধরে ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা কেন্দ্রগুলো বিনিয়োগের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পেছনে রয়েছে।
তাছাড়া তুলনামূলকভাবে কম বেতন ও অনিরাপদ চুক্তির মতো সমস্যাগুলো নিয়ে প্রায়শই অভিযোগ জানিয়ে আসছে ফরাসি গবেষকরা। গড় হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকদের চেয়ে কম বেতন পান ফরাসি গবেষকরা।
আরও পড়ুন: চাঁদের দূরবর্তী অংশের অজানা তথ্য দিলেন বিজ্ঞানীরা
গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ভালো চুক্তি, উন্নত বেতন কাঠামো ও সার্বিকভাবে আরও বেশি অর্থায়নের দাবি জানিয়ে আসছে ফ্রান্সের বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন।
জার্মানির আসন্ন চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎসে গত মাসে বলেন, ‘আমেরিকান সরকার বর্তমানে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর বলপ্রয়োগ করছে, যার ফলে এখন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা ইউরোপের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এটি আমাদের জন্য একটি বিশাল সুযোগ।’
৩৯৫ দিন আগে
ইউরোপে টিকে থাকার লড়াইয়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, সংকটে বহুত্ববাদ
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বেশিরভাগ দেশের সরকার মুক্তগণমাধ্যম চর্চায় বাধা সৃষ্টি করছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে দুর্বল করে তুলছে। এতে ইউরোপে গণমাধ্যমের বহুত্ববাদ ও স্বাধীনতা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেতে শুরু করেছে। এমনকি কিছুক্ষেত্রে গণমাধ্যমের অস্তিত্বই সংকটে পড়েছে। সম্প্রতি ইউরোপের মানবাধিকার সংস্থা সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (লিবার্টিজ) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
লিবার্টিজের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমগুলোর মালিকানা পুঞ্জিভূত হয়ে অল্পসংখ্যক মানুষের হাতে চলে যাওয়ার কারণে এ সংকট শুরু হয়েছে। এতে ইউরোপের বেশিরভাগ দেশে—এমনকি যেসব দেশের গণমাধ্যম বাক-স্বাধীনতার চর্চার জন্য ঐতিহাসিকভাবে পরিচিত ছিল, সেখানেও গণমাধ্যমের কণ্ঠস্বর ক্ষীণ হয়ে আসতে শুরু করেছে।
সম্প্রতি ২১টি দেশ থেকে ৪৩টি মানবাধিকার সংস্থার সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে ইইউয়ের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সম্পর্কিত এই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কারোপে ইইউ প্রধানের নিন্দা
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, মালিকানায় স্বচ্ছতার অভাব, সরকারের সৃষ্ট চাপ ও সাংবাদিকের প্রতি নানারকম হুমকির কারণে প্রতিনিয়তই গণমাধ্যমগুলো স্বাধীনতা হারাচ্ছে। এসব কারণে ইইউয়ের দেশগুলোর গণমাধ্যমের বহুত্ববাদ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিবেদনটির প্রধান সম্পাদক জনাথান ডে বলেছেন,‘গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মধ্যে দিয়ে সরকার দেশে আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার প্রক্রিয়া শুরু করে থাকে। তাই এ পরিস্থিতি মোটেই বিস্ময়কর নয়।’
ইউরোপের গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সুরক্ষার জন্য প্রণীত ‘ইউরোপীয়ান গণমাধ্যম স্বাধীনতা আইন (ইএমএফএ)’ কার্যকর হওয়ার আগেই মুখ থুবড়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন জনাথান। তিনি বলেন, ‘এই আইনের সফল বাস্তবায়নের ওপর অনেক দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষায় সফলতা বা ব্যর্থতা নির্ভর করবে।’
গণমাধ্যম বহুত্ববাদ আসলে কি?
গণমাধ্যম বহুত্ববাদ বলতে আসলে এই ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য থাকা বোঝায়। ইউনেস্কোর তথ্যমতে, কোনো দেশে গণমাধ্যম বহুত্ববাদ আছে বলতে বুঝতে হবে, সেখানকার জনগণের কাছে অনেকগুলো বিকল্প মাধ্যম আছে।
আরও পড়ুন: জুলাই অভ্যুত্থানে আক্রান্তদের সহায়তায় ২০ লাখ ইউরো দেবে ইইউ
সংস্থাটির ভাষ্যে, গণমাধ্যম বহুত্ববাদ বলতে এমন একটি অবস্থা বোঝায় যেখানে সরকারি, বেসরকারি কিংবা ব্যক্তিগত মালিকানার গণমাধ্যম থাকবে, পাশাপাশি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মাধ্যম থাকবে, রেডিও থাকবে, ইন্টারনেটভিত্তিক মাধ্যমসহ অনেক ধরনের বিকল্প থাকবে। সেখানে ভিন্ন ভিন্ন কণ্ঠস্বর তৈরি হবে। সবমিলিয়ে একটি বৈচিত্রপূর্ণ গণমাধ্যম ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকবে।
এদিকে, ইউরোপের বেশকিছু দেশের গণমাধ্যমগুলোর মালিকানা অল্পসংখ্যক ধনীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশেষত ক্রোয়েশিয়া, ফ্রান্স, হাঙ্গেরি, নেদারল্যান্ড, স্লোভেনিয়া, স্পেন ও সুইডেনের গণমাধ্যমগুলোর মালিকানা গুটিকয়েক ধনকুবেরের হাতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
দেশেগুলোর গণমাধ্যমের মালিকানা নিয়ে স্বচ্ছতা না থাকায় এই সমস্যা আরও তীব্র হয়েছে বলে মনে করেন জনাথান। যেকারণে চলতি বছরের আগস্টের আগেই ইএমএফএর অধীনে জনসাধারণের উদ্দেশ্যে প্রকাশযোগ্য তথ্যসমূহ প্রকাশ করতে বলা হলেও বেশিরভাগ দেশই তা করতে পারেনি।
সাংবাদিক ও সংবাদ উৎসের নিরাপত্তা, গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর স্বাধীনতা ও মালিকানার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাধ্যতামূলক ইএমএফএ আইন প্রণয়ণ করা হয়েছে। তবে এই আইনটির পুরোপুরি বাস্তবায়নে বেশিরভাগ দেশ অনিচ্ছুক না হলে বলতে হবে তারা অপ্রস্তুত— মন্তব্য করেন জনাথান ডে।
কোন দেশের কি অবস্থা?
ফ্রান্সের ধনকুবের ভিনসেন্ট বোলোরের হাশেত গ্রুপসহ বেশকিছু প্রকাশনা সংস্থাকে অধিগ্রহণের ঘটনা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে গণমাধ্যমের বহুত্ববাদ উল্লেখযোগ্যভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
ইতালিতেও অনেকটা একইরকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দেখা গেছে। দেশটির কট্টর ডানপন্থি লেগা পার্টির এমপি অ্যান্তোনিও আঙ্গেলুচির ‘আঙ্গেলুচি গ্রুপ’ সম্প্রতি দেশটির প্রথমসারির সংবাদসংস্থা এজিআইকে অধিগ্রহণের পরিকল্পনা করছে। যদিও ইতোমধ্যে ৩টি ইতালিয়ান পত্রিকার মালিকানা রয়েছে তার।
এদিকে সুইডেনের গণমাধ্যমগুলোর ৪৩ শতাংশের মালিকানা রয়েছে বোনিয়ার ব্যবসায়ী গ্রুপের অধীনে। এছাড়া নেদারল্যান্ডের আরটিএল নেদারল্যান্ড ও টালফা নেটওয়াকের হাতেই দেশটির ৭৫ শতাংশের বেশি টেলিভিশন নেটওয়ার্কের মালিকানা কুক্ষিগত রয়েছে।
জার্মানিতেও গণমাধ্যমের বহুত্ববাদ হুমকির মুখে পড়েছে। দেশটিতে বেশিরভাগ সংবাদমাধ্যমের ডিজিটালাইজেশন করা হয়েছে। দেশটিতে পত্রিকার কাটতি ব্যাপকভাবে কমে গেছে। অনেক সংবাদপত্র বন্ধ হয়ে গেছে।
হাঙ্গেরিতে গণমাধ্যমের মালিকানা পুঞ্জিভূতকরণ ও রাষ্ট্রীয় মাধ্যমগুলার আধিপত্য বিস্তার সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবানের ঘনিষ্ঠ সেন্ট্রাল ইউরোপীয়ান প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া ফাউন্ডেশনের (কেসমা) মালিকানায় কয়েকশত গণমাধ্যম রয়েছে।
দেশটিতে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ট অলিগার্করা ২০১০ সাল থেকে বিভিন্ন মাধ্যমগুলো ক্রয় করে কেসমাতে দান করা শুরু করে। ফলে ২০১৮ সালের মধ্যেই দেশটির মিডিয়া ব্যবস্থা সরকার নিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে।
হাঙ্গেরির ছাড়াও বুলগেরিয়া, গ্রিস, ক্রোয়েশিয়া ও ইতালির সরকারও বিভিন্নভাবে গণমাধ্যমের ওপর প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করে থাকে। রাষ্ট্র সমর্থিত মাধ্যমগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা করে, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে যাওয়া বিজ্ঞাপনের বরাদ্দের বণ্টনে বৈষম্যসহ নানাভাবে দেশগুলোর সরকার গণমাধ্যম স্বাধীনতা হরণের চেষ্টা চালায় বলে লিবার্টিজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন সংস্কারে সমর্থন ইইউ'র
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাঙ্গেরির গণমাধ্যম পুরোপুরিভাবে সরকাররে মুখপাত্র হয়ে উঠেছে। একই পথে এগোচ্ছে স্লোভাকিয়ায়ও। দেশটির নতুন আইনে সম্পাদকীয় স্বাধীনতার সুরক্ষা বাতিল করা হয়েছে।
এ ছাড়াও গত বছরে ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি এবং স্পেনে সাংবাদিকরা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, শারীরিক হামলাসহ পুলিশি সহিংসতার শিকার হয়েছেন। কিছু দেশে নারী সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে সমস্যায় ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে।
পাশাপাশি স্ট্র্যাটেজিক লিটিগেশন অ্যাগেইনস্ট পাবলিক পার্টিসিপেশন আইনটির অপব্যবহার করে ইউরোপের কমপক্ষে এক ডজন দেশে সাংবাদিকদের জন্য অস্তিত্বহীনতার ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনের অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে।
বুলগেরিয়া, জার্মানি, গ্রিস, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস এবং স্পেনসহ বেশ কয়েকটি দেশে সরকারি কর্মকর্তারা তথ্যপ্রাপ্তি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান বা বাধা দিয়ে সাংবাদিকদের কাজে বাধা দিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে জানা গেছে।
৪০১ দিন আগে
ইউক্রেনে ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা রাশিয়ার
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয় দিবস উপলক্ষে ইউক্রেনে ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে রাশিয়া। সোমবার (২৮ এপ্রিল) এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মধ্য দিয়ে তিন বছরের চলমান সংঘাতের অবসানের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলো।
দেশ দুটির মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মধ্যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই ঘোষণা দিয়েছেন। পুতিন মূলত এক তরফা ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন। তবে কিয়েভ তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির উপর জোর দিয়ে আসছে।
এদিকে ক্রেমলিন বলেছে, মানবিক কারণে এই যুদ্ধবিরতি আগামী ৮ মে থেকে শুরু হয়ে ১০ মে পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। ১৯৪৫ সালে নাৎসি জার্মানিকে পরাজিত করে মস্কো যে বিজয় অর্জন করেছিল—তা উদযাপন করতেই মূলত এই সময়টিতে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। এই সময়টি রাশিয়ার সবচেয়ে বড় ছুটির দিন।
গ্রিনিচ মান অনুযায়ী ৭ মে বিকাল ৫টা থেকে শুরু হয়ে ১০ মে বিকাল ৫টা পর্যন্ত স্থায়ী হবে।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপ: ম্যাঁখো
এর আগে ইউক্রেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৩০ দিনের পূর্ণ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে রাজি হয়—যেটিকে বিভ্রান্তিকর বলে উড়িয়ে দিয়েছিল পুতিন।
মন্ত্রণালয়ের মতে, ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেছেন, ‘রাশিয়া যদি সত্যিকার অর্থে শান্তি চায়, তাহলে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি করতে হবে।’ তিনি বলেছেন, কিয়েভ ‘স্থায়ী, নির্ভরযোগ্য ও অন্তত ৩০ দিনের স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য প্রস্তুত।’
মস্কোর যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে ইউক্রেন প্রস্তুত কিনা তা স্পষ্ট না করে তিনি বলেন, ‘কেন ৮ মে’র জন্য অপেক্ষা করতে হবে? আমরা যদি যুদ্ধবিরতি চাই, তাহলে তা যেকোন তারিখ থেকে ৩০ দিনের জন্য করতে পারি—যাতে এটি বাস্তব হয় এবং তা কেবল প্রদর্শনের জন্য নয়।’
৪০২ দিন আগে
দাসদের মাথার খুলির পাত্রে পানীয় খেতেন অক্সফোর্ডের শিক্ষকরা!
ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায় হলো দাসপ্রথা। কালো চামড়ার লাখ লাখ মানুষকে আফ্রিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলগুলো থেকে জোরপূর্বক আমেরিকা ও ইউরোপে বিক্রি করা হতো। দাসপ্রথার ভয়াবহতা সম্পর্কে কমবেশি সব মানুষই কখনো না-কখনো শুনেছেন।
নানা অনুসন্ধান বা গবেষণায় দাসদের প্রতিনিয়তই অত্যাচার-নিপীড়নের নতুন কোনো তথ্য উঠে আসছে। এমনকি মারা যাওয়ার পর তাদের দেহাবশেষও মুক্তি পায়নি অত্যাচার থেকে। মাথার খুলি দিয়ে তৈরি হয়েছে পাত্র!
মানুষের মাথার খুলি দিয়ে বানানো সেই পাত্রে কয়েক দশক ধরে পানীয় খেতেন অক্সফোর্ডের ওরচেস্টার কলেজের শিক্ষকরা! শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও ঔপনিবেশিক যুগে লুট করা মানব দেহাবশেষ নিয়ে অনুসন্ধানে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে এমন বলা হয়েছে।
মানুষের খুলিকে পলিশ করে, রূপা দিয়ে হাতল ও চারপাশে নকশা করে অত্যন্ত সুন্দর করে এই পাত্রটি তৈরি করা হয়েছিল। মাত্র দশ বছর আগেও প্রতিনিয়ত এই পাত্র থেকে ওয়াইন খেতেন; পরে ওয়াইন চুইয়ে পড়া শুরু করলে তাতে চকোলেট খেতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
সম্প্রতি ওরচেস্টার কলেজের পিট রিভারস জাদুঘরের প্রত্নতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড্যান হিকসের আসতে চলা নতুন বই ‘এভরি মনুমেন্ট উইল ফল’ বইয়ে এসব লজ্জাজনক তথ্য উঠে এসেছে।
হিকস জানান, কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী ও অতিথিদের মধ্যে মানুষের খুলি দিয়ে বানানো পাত্রে পানীয় খেতে অস্বস্তি বাড়ার কারণে ২০১৯ সালের দিকে এই পাত্রের ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় এই পাত্রটি কোথা থেকে আর কী করে কলেজের খাবারের টেবিলে জায়গা পেল; তা জানতে হিকসকে অনুসন্ধান করার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: দাবানল কী ও কেন হয়? পৃথিবীর ইতিহাসে ভয়ানক কয়েকটি দাবানল
হিকস বলেন, ঔপনিবেশিক ইতিহাস নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। তবে সেসব বিতর্ক সাধারণত এই ঔপনিবেশিক শাসন থেকে যারা লাভবান হয়েছে তাদের কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। যেমন সিসলি রোডস কিংবা এডওয়ার্ড কলস্টন— যাদের নামে অনেক স্ট্যাচু কিংবা প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়েছে।
তবে হিকস চেয়েছিলেন এসব লাভবান নয় বরং ঔপনিবেশিক শাসনের যারা শিকার, যাদের নাম ইতিহাস থেকে মুছে গিয়েছে, তাদের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসতে। তিনি বলেন, ব্রিটিশ সংস্কৃতি ও শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদ নিয়ে থাকা বর্ণবাদের কারণে এসব মানুষকে একদমই গুরুত্ব দেওয়া হতো না। এ ধরণের অমানবিকতা ও পরিচয় ধ্বংস করাও সহিংসতার অংশ বলে মনে করেন তিনি।
পাত্রটির খুলির মালিক কে, তার একদম সঠিক কোনো তথ্য পাননি হিকস। তবে কার্বন ডেটিংয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যমতে, খুলিটি আনুমানিক ২২৫ বছর আগের। খুলির আকার ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে হিকস জেনেছেন, খুলিটি একজন দাস নারীর এবং তাকে ক্যারিবিয়ান অঞ্চল থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল।
খুলিটি কার সেটির কোনো তথ্য লিপিবদ্ধ না থাকলেও খুলি দিয়ে তৈরি পাত্রটির মালিকের নাম কিন্তু রূপা দিয়ে খোদাই করা ছিল। ১৯৪৬ সালে কলেজে এই পাত্রটি উপহার দেন সাবেক শিক্ষার্থী জর্জ পিট রিভারস।
যিনি একজন ইউজেনিসিস্ট ছিলেন। একটি বিশেষ জাতিকে সন্তান উৎপাদনের অনুমতি দেওয়ার মাধ্যমে মানুষের উন্নতি করার ধারণাকে ইউজেনিকস বলা হয়। এই ধারণার সাথে বর্ণবাদ ও নাৎসি তত্ত্বের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যে কারণে পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষই এই নীতিকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন না। নাৎসি শাসক ওসওয়াল্ড মোসলিকে সমর্থন করার জন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকার তাকে কারাবন্দিও করেছিল।
যাইহোক, খুলিটি জর্জ পিট পেয়েছিলেন তার দাদা হেনরি লেন ফক্স পিট রিভার্সের থেকে। তিনিই পিট রিভার্স মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি ১৮৮৪ সালে একটি নিলামে এই পাত্রটি কিনেছিলেন। সে সময় পাত্রটিতে একটি কাঠের হাতল ছিল। সেটির নিচে রানী ভিক্টোরিয়ার নাম খোদিত ছিল এবং তার অভিষেকের বছরেই অর্থাৎ ১৮৩৮ সালে তৈরি করা হয়েছিল পাত্রটি। নিলামে পাত্রটি বিক্রি করেছিরেন বার্নাড স্মিথ নামে এক ব্যক্তি। হিকসের ধারণা এটি তিনি তার বাবার থেকে উপহার পেয়েছিলেন। স্মিথের বাবা ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ভিক্টোরিয়ান যুগে রয়েল আর্মিতে কর্মরত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ব্রিটেনে গর্ভপাতের পর ‘শোক ছুটি’ পাবেন মা-বাবা
আফ্রিকান ক্ষতিপূরণ সম্পর্কিত ব্রিটেনের ‘অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের’ সদস্য ও লেবার পার্টির এমপি বেল রিবেরিও অ্যাডি বলেন, ‘ঔপনিবেশিক সহিংসতা ও শোষণের মাধ্যমে গড়া সমৃদ্ধ এই প্রাচীরে দাঁড়িয়ে অক্সফোর্ডের ডনরা মানুষের মাথার খুলি দিয়ে বানানো পাত্রে পানীয় খাচ্ছেন— দৃশ্যটি ভাবলেই কেমন যেন গা গুলিয়ে বমি আসে! হতে পারে খুলিটি একজন দাসের, যাকে এতটাই তুচ্ছ করা হয়েছে যে তার মাথার খুলিকে একটি পাত্রে তৈরি করা হয়েছে!’
এ বিষয়ে ওরচেস্টার কলেজের এক মুখপাত্র বলেন, বিংশ শতাব্দীর দিকে মাঝে মাঝে এই পাত্রটি প্রদর্শন করা হতো, আবার অনেক সময় ব্যবহারও করা হতো। তবে কতবার ব্যবহার করা হয়েছে তার কোনো সঠিক তথ্য নেই। তবে ২০১১ সাল থেকে এর ব্যবহার সীমিত করা হয়। আর ২০১৫ সালে পুরোপুরি ব্যবহার করা বন্ধ হয়ে যায়।
গবেষকদের ও আইনি পরামর্শ মেনে কলেজ কর্তৃপক্ষ পাত্রটিকে সম্মানের সঙ্গে সংগ্রহশালায় রাখার ও এর ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।
এই খুলিটির বিষয় ছাড়াও ঔপনিবেশিক আমলে লুট হওয়া আরও কিছুর খুলির তথ্য হিকসের বইয়ে আছে। এরমধ্যে ফিল্ড মার্শাল লর্ড গ্রেনফিল্ডের একজন জুলু কমান্ডারের খুলি লুটের তথ্য আছে।
৪০৮ দিন আগে
সিরিয়াকে অস্থিতিশীল করে তুলছে ইসরায়েল: এরদোগান
সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতনের পর ইসরায়েল দেশটিকে আবারও অস্থিতিশীল করে তুলছে বলে অভিযোগ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। স্থানীয় সময় রবিবার (১২ এপ্রিল) তুরস্কে চলমান আন্টালিয়া কূটনীতি ফোরামে (এডিএফ) অংশগ্রহণ করে এই মন্তব্য করেন তিনি।
ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মাত্র দুদিন পরেই এমন বক্তব্য বিস্মিত করেছে অনেক কূটনৈতিক বিশ্লেষককে। ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান এমন খবর দিয়েছে।
মূলত, এই দুটি দেশেরই সামরিক বাহিনী সিরিয়াতে সক্রিয় রয়েছে। ফলে সেখানে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে গত বুধবার (৯ এপ্রিল) আজারবাইজানে বৈঠক করেন তুরস্ক ও ইসরায়েলের কর্মকর্তারা।
তবে বৈঠকের পরও সিরিয়ায় শান্তি নষ্ট করায় ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রমের সমালোচনা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।
আরও পড়ুন: তুরস্কে ধরপাকড় উপেক্ষা করে এরদোগানবিরোধী বিক্ষোভ চলছে
আন্টালিয়া সম্মেলনে বিশ্ব নেতা ও কূটনীতিকদের উদ্দেশ্যে এরদোগান জানান, ‘সিরিয়ায় নতুন করে কোনো সংঘাত তারা চান না। যে বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বাসার-আল-আসাদ সরকারের পতন হয়েছে, তা ইসরায়েলের কারণে ব্যর্থ হচ্ছে।’
আসাদের পতনের পর সিরিয়ার গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক এরদোগান।
সিরিয়ার ভৌগলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। সিরিয়ার ওপর চলমান বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে আঙ্কারার চেষ্টার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান আহমেদ আল সারা। সিরিয়ায় নতুন করে কাউকে সংঘাত সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না বলে সারাকে আশ্বস্ত করেন এরদোগান। সম্মেলনের ফাঁকে একটি বৈঠকও করেন তারা।
গত ৮ ডিসেম্বর আল সারার নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আলশামস (এইচটিএস) দামেস্ক দখল মাধ্যমে আসাদ সরকারের পতন ঘটায়। এরপর সিরিয়ায় অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলেই দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে তুরস্ক।
আরও পড়ুন: বিক্ষোভের তৃতীয় দিনে তুরস্কে গ্রেপ্তার ৩৪৩ জন
দামেস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা বিষয়ে একটি চুক্তিও করতে চাইছে আঙ্কারা, এর মাধ্যমে সিরিয়াতে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনসহ দেশটির আকাশসীমা ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে তুরস্কের।
অন্যদিকে আাসদের পতনের পরই সিরিয়ায় সামরিক তৎপরতা জোরদার করেছে ইসরায়েল। এ কারণে তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। এ মাসের শুরুর দিকে সিরিয়ায় তিনটি সামরিক ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
আবার হামা প্রদেশের প্রধান বিমানবন্দর ও হোমসের টি-৪ ও পালমিরা বন্দর পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের সেনা কর্মকর্তারা। যেখানে তারা দামেস্কের সঙ্গে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হিসেবে নিজেদের সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে পারে। এ নিয়ে তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যকারে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
নিউইয়র্ক ভিত্তিক থিংকট্যাঙ্ক সেঞ্চুরি ইন্টারন্যাশনালের আরন লুন্ড বলেছেন, ‘সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের দ্বিতীয়ার্ধে আসাদের অন্যতম রক্ষাকর্তা ছিল রাশিয়া। এখন আসাদের পতনের পর যদি সিরিয়ার আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারে তুরস্ক, তাহলে এই অঞ্চলটিতে ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রম অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়বে।‘
তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের সামরিক অভিযানই শুধু আঙ্কারার জন্য সমস্যা নয়, সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে তেল আবিবের নানা বাধা নিয়েও চিন্তিত তারা। যেমন, দেশটির দক্ষিণে আল সারার সরকার কোনো সেনা মোতায়ন করতে পারবে না বলে জানিয়েছে তেল আবিব।’
আরও পড়ুন: তুরস্কের ইস্তানবুলের মেয়র গ্রেপ্তার
এরইমধ্যে সিরিয়ার দক্ষিণের দারাহ শহরে অনুপ্রবেশ শুরু করেছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। চলমান উত্তেজনার মধ্যে দেশ দুটির মধ্যকার বৈঠককে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন আরন।
তিনি বলেন, সিরিয়ায় এই দুটি দেশই নিজেদের সামরিক তৎপরতা বহাল রাখবে। তবে তাদের মধ্যে যদি একটি যোগাযোগ চ্যানেল স্থাপিত হয় সেটি সব পক্ষের জন্য ভালো হবে বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক।
বুধবারের বৈঠকের পর তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, ইসরাইলের সাথে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। দুই আঞ্চলিক শক্তির মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি রোধ করার জন্য এবং সংঘাত বন্ধ করতে আলোচনা অত্যন্ত প্রয়োজন।
এদিকে বৈঠকের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য সংলাপ চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে তুরস্ক ও ইসরায়েল।
৪১৭ দিন আগে
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের সমাপ্তি চায় ইউক্রেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
রাশিয়ার সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং ইউক্রেন চলতি বছরেই পুরোপুরি যুদ্ধের সমাপ্তি চায় বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা।
শনিবার (১২ এপ্রিল) তুরস্কে আন্তালিয়া কূটনীতি ফোরামে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা এ বছরই এই যুদ্ধের সমাপ্তি চাই। কিন্তু, এতে যেন কোনো ধরনের কারসাজি না করা হয়।’
আরও পড়ুন: ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপ: ম্যাঁখো
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংঘাতের একটি শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করাই আমাদের লক্ষ্য। কারণ, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের ফলাফলই ইউরোপের ভবিষ্যতের নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলবে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা আন্তর্জাতিক এজেন্ডায় উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থায় ইউক্রেনের সম্ভাব্য সদস্যপদ রাখার উপরও জোর দেন। তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনের ১১০টি যুদ্ধ করার মতো ব্রিগেড প্রস্তুত রয়েছে, যা ট্রান্সআটলান্টিকের নিরাপত্তায় অবদান রাখতে পারে।’
৪১৭ দিন আগে
ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কারোপে ইইউ প্রধানের নিন্দা
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ শতাংশ শুল্কারোপের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশন প্রধান উরসুলা ভন দের লিয়েন।
এর আগে, স্থানীয় সময় বুধবার (২ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর বহুল আলোচিত পাল্টা শুল্কারোপ ঘোষণা করেন ট্রাম্প। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যে ২০ শতাংশ শুল্কারোপ করেন তিনি।
ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন প্রশাসনের জন্য শত শত বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আনতে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে ন্যায্যতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। ৫০ বছর ধরে করদাতাদের ছাড় দেওয়া হলেও তা এবার বন্ধ হতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এই উদ্যোগের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি ও কারখানাগুলো ফিরে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৭ শতাংশ শুল্কারোপ
তবে তার এই পদক্ষেপকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে অভিহিত করেছেন ইউরোপীয় কমিশন প্রধান। লাখ লাখ মানুষের ওপর এই শুল্কারোপের ভয়াবহ প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
উরসুলা বলেন, ‘এই অতিরিক্ত শুল্কের কারণে নিত্যপণ্য, পরিবহন ও ঔষধের দাম বেড়ে যাবে। এতে নিম্ন আয়ের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’
তবে বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় গুরুতর ত্রুটি রয়েছে বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। শুল্কারোপের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ইইউ প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে প্রয়োজনে পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুতি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন ইউরোপীয় কমিশন প্রধান।
বুধবার হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে আরোপিত মার্কিন শুল্ক নিয়ে নিন্দা জানিয়েছেন আরও অনেকে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতির বিদ্যমান ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়ে বাণিজ্যযুদ্ধের সূত্রপাত করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
৪২৭ দিন আগে