মধ্যপ্রাচ্য
ট্রাম্পের ইরান হামলার নেপথ্যে
ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ অভিযানে ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যে, তারা একসঙ্গে দেশটির শীর্ষ নেতা এবং আলেমদের লক্ষ্য করতে পারবে।
দুইজন পরিচিত সূত্রের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানায়, ইসরায়েলিরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির চলাচল পর্যবেক্ষণ করছিল। এরই মধ্যে তারা দেখতে পায়, শীর্ষস্থানীয় আলেম ও কমান্ডারদের একত্রিত অবস্থায় হামলা চালানোর একটি সুযোগের জানালা খোলা রয়েছে।
ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) খামেনির প্রতি অত্যন্ত বিশ্বস্ত হলেও তাদের ধারণা ছিল যে, খামেনির মৃত্যুর পর কেউ তার উত্তরসূরীর প্রতি একইভাবে অনুগত থাকবে না।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে একজন মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে, তেহরানের একটি স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলায় খামেনি এবং ৫ থেকে ১০ জন শীর্ষ ইরানি নেতা নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প পরে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করেন যে, খামেনি নিহত হয়েছেন। পরবর্তীতে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনাও তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।
ওইদিন এক ভিডিওবার্তায় কয়েক দিনব্যাপী চলতে পারে—এমন এই অভিযানের ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্প কেন যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা শুরু করেছে, তার নির্দিষ্ট কোনো কারণ বলেননি। তবে খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু করার সুযোগটি হামলার সময়সীমাকে ত্বরান্বিত করেছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও আলোচনার প্রেক্ষাপট
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। ওমান দুই দেশের আলোচনায় মধ্যস্থতা করতে সহায়তা করছিল। এক্স পোস্টে তিনি বলেন, আমি হতাশ। সক্রিয় ও গুরত্বপূর্ণ আলোচনা পুনরায় ব্যর্থ হয়েছে। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বা বৈশ্বিক শান্তির জন্য ভালো নয়।
হামলাগুলো ঘটেছে দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, যখন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জেরাড কুশনার জেনেভায় ওমানের রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন। তারা বুঝতে চেষ্টা করছিলেন যে ইরান আলোচনায় বিলম্ব করছে কি না।
গত বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী চলা আলোচনায় উইটকফ এবং কুশনার ইরানকে তাদের তিনটি প্রধান পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র ফোরডো, ইসফাহান এবং নাতাঞ্জ ধ্বংস করতে চাপ দেন। এ কেন্দ্রগুলো গত বছর ট্রাম্পের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। এ ছাড়াও অবশিষ্ট মজুদ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান তারা।
তারা বলেছিলেন, যেকোনো চুক্তি হতে হবে স্থায়ী। ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের সময় করা চুক্তির মতো কোনো ‘সানসেট প্রোভিশন’ (যে ধারার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় পর বিধিনিষেধ উঠে যায়) রাখা যাবে না। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে সেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন।
কিন্তু দিনশেষে উইটকফ এবং কুশনার হতাশ হন। পরবর্তীতে ট্রাম্পকে তার সামরিক বিকল্পগুলো সম্পর্কে ব্রিফ করেন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার।
কুপার এই হামলার সাফল্যের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী ছিলেন।
হামলার পেছনের যুক্তি
শনিবার ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প অনেক কারণ বিবেচনা করে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তার মধ্যে প্রধান কারণ ছিল ইরানের প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রসমূহ।
ওই কর্মকর্তা বলেন, তারা প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছে। তারা এমনকি আমাদের সঙ্গে বা আমাদের আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গেও এ নিয়ে কথা বলতে চায়নি।
অন্য একজন কর্মকর্তা বলেন, পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ ‘শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে’—ইরানের এমন দাবি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সন্দেহ ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে চিরস্থায়ীভাবে বিনামূল্যে পারমাণবিক জ্বালানি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু ইরান তা প্রত্যাখ্যান করে।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল যে ইরান তাদের সেই পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো পুনর্নির্মাণ করছে যা গত বছর ট্রাম্পের ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এ ধ্বংস হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করত, ইরান আংশিক সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ করছে এবং শেষ পর্যন্ত তারা কোনো চুক্তি চায় না।
ওই কর্মকর্তা বলেন, সত্যি বলতে প্রেসিডেন্টের কাছে কোনো বিকল্প ছিল না। আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করতে পারি না, যেখানে এই লোকগুলোর কাছে কেবল ক্ষেপণাস্ত্রই নেই, বরং প্রতি মাসে ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতাও রয়েছে। আমরা তাদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকব না এবং আমাদের আগে তারা আমাদের আঘাত করুক, সেটি হতে দেব না।
৫ দিন আগে
ইরানে উত্তরসূরী নির্বাচন প্রক্রিয়া কেমন, কে হতে চলেছেন দেশের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা?
প্রায় চার দশক ক্ষমতায় থাকার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তিনি নিহত হওয়ার পরপরই দেশের উত্তরাধিকার প্রক্রিয়ার রূপরেখা স্পষ্ট হতে শুরু করেছে, যা জটিল এবং গভীর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
অস্থায়ী কাউন্সিলের দায়িত্বভার গ্রহণ
রবিবার (১ মার্চ) সংবিধানের রূপরেখা অনুযায়ী ইরান দেশ পরিচালনার জন্য একটি কাউন্সিল গঠন করেছে। এ কাউন্সিল ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন সদস্যকে নিয়ে গঠিত। গার্ডিয়ান কাউন্সিলের এই সদস্যকে বেছে নেয় ইরানের এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিল যা সর্বোচ্চ নেতাকে পরামর্শ দেয় এবং পার্লামেন্টের সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তি করে।
ইরানের সংস্কারপন্থি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং কট্টরপন্থি বিচার বিভাগীয় প্রধান গোলামহোসেইন মহসেনি এজেয়ি এ কাউন্সিলের সদস্য, যারা সাময়িকভাবে নেতৃত্বের সমস্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করবে আলেমদের প্যানেল
অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব কাউন্সিল দেশ শাসন করবে। তবে ইরানের আইন অনুযায়ী, ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ নামক ৮৮ সদস্যের একটি প্যানেল যত দ্রুত সম্ভব একজন নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করবে।
এ প্যানেলটি সম্পূর্ণভাবে শিয়া আলেমদের নিয়ে গঠিত, যারা প্রতি আট বছর অন্তর জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। তবে তাদের প্রার্থিতা অনুমোদিত হতে হয় ইরানের সাংবিধানিক নজরদারি সংস্থা গার্ডিয়ান কাউন্সিল দ্বারা। এই সংস্থাটি বিভিন্ন নির্বাচনে প্রার্থীদের অযোগ্য ঘোষণা করার জন্য পরিচিত। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে তারা সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিকে এ প্যানেলের নির্বাচনে লড়তে বাধা দিয়েছিল।
খামেনির ছেলে সম্ভাব্য প্রার্থী
উত্তরাধিকার নিয়ে আলেমদের মধ্যে আলোচনা ও কৌশলগুলো সাধারণত লোকচক্ষুর আড়ালে ঘটে থাকে। ফলে শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী কে হতে পারেন তা আগে থেকে বলা যায় না।
আগে ধারণা করা হতো, খামেনির শিষ্য কট্টরপন্থি প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি এই দায়িত্ব নিতে পারেন। তবে ২০২৪ সালের মে মাসে এক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হন। এর ফলে খামেনির ছেলে ৫৬ বছর বয়সী শিয়া আলেম মোজতবা খামেনি একজন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন। তবে এর আগে, তিনি কখনও সরকারি কোনো পদে ছিলেন না।
সর্বোচ্চ নেতার ক্ষেত্রে বাবার পর ছেলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর ইরানিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করতে পারে। অনেকে একে ইসলাম-বহির্ভূত এবং ১৯৭৯ সালে মার্কিন সমর্থিত শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির পতনের পর একটি নতুন ‘ধর্মীয় রাজবংশ’ তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখতে পারেন।
আগে একবারই ঘটেছে
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক বা সর্বোচ্চ নেতার পদে ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘটনা আগে মাত্র একবারই ঘটেছে।
১৯৮৯ সালে গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি ৮৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন ইরানে ইসলামী বিপ্লবের রূপকার। ইরাকের সঙ্গে আট বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এই নেতা।
বর্তমান এ ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে ২০২৫ সালের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে।
সর্বোচ্চ নেতার ক্ষমতা
ইরানের জটিল শিয়া ধর্মতন্ত্রের কেন্দ্রে থাকেন সর্বোচ্চ নেতা এবং রাষ্ট্রের সমস্ত বিষয়ে তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়।
তিনি দেশটির সামরিক বাহিনী এবং শক্তিশালী রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রধান কমান্ডার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। রেভল্যুশনারি গার্ড হলো একটি আধাসামরিক বাহিনী যেটিকে ২০১৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
খামেনি তার শাসনামলে এই বাহিনীকে ব্যাপক শক্তিশালী করেছিলেন। এ বাহিনীটি ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ নামে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিস্তৃত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী ও মিত্র নেটওয়ার্কের নেতৃত্ব দেয়। ইরানে তাদের বিশাল সম্পদ ও ব্যবসায়িক মালিকানা রয়েছে।
৫ দিন আগে
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সম্পর্কে যা জানা প্রয়োজন
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। প্রায় চার দশক ধরে ইসলামিক রিপাবলিক শাসন করা এ নেতার মৃত্যুতে দেশটিকে এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, কারণ বর্তমানে তার কোনো নির্ধারিত উত্তরসূরি নেই।
স্থানীয় সময় রবিবার (১ মার্চ) ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা ৮৬ বছর বয়সী এই নেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর ঘোষণা দিয়ে বলেন, এটি ইরানি জনগণের জন্য দেশ ‘পুনরুদ্ধারের সর্বোত্তম সুযোগ’। তিনি ইরানিদের এই শাসনতন্ত্রকে উৎখাত করারও আহ্বান জানান।
খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তেহরানের কিছু এলাকার বাসিন্দাদের ছাদের ওপর গিয়ে আনন্দ প্রকাশ করতেও দেখা গেছে।
তার মৃত্যু এমন এক সময়ে হলো যখন খামেনির নেতৃত্বের ওপর বছরের পর বছর ধরে চাপ বাড়ছিল। ক্ষমতার শেষ প্রদর্শন হিসেবে তিনি তার শাসনের সবচেয়ে ভয়াবহ দমন-পীড়নের তদারকি করেছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল দেশব্যাপী বিক্ষোভ দমন করা। সেই বিক্ষোভে আন্দোলনকারীরা সরাসরি ‘খামেনির মৃত্যু চাই’ বলে স্লোগান দিয়েছিলেন।
শনিবারের হামলার প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে তার কম্পাউন্ড ছিল বলে জানা গেছে। তবে এর আগেও খামেনি প্রচণ্ড চাপের মধ্যে ছিলেন। গত এক বছর ধরে ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন যে, তিনি চাইলে ইরানি নেতাকে হত্যা করতে পারেন।
সাম্প্রতিক সময়ে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চাপ দিতে এই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করছিল, তখন খামেনি হামলা ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন। তিনি সতর্ক করেছিলেন যে, যেকোনো মার্কিন হামলা আঞ্চলিক যুদ্ধ ডেকে আনবে। একইসঙ্গে তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনায় বসার অনুমতিও দিয়েছিলেন।
তবে বছরের পর বছর ধরে চলা নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতি আগে থেকেই ইরানের অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দিয়েছিল। এরপর সাম্প্রতিক বিক্ষোভে তার কঠোর দমন-পীড়ন জনরোষ আরও স্পষ্ট করে তোলে।
গত বছর ইসরায়েলি এবং মার্কিন হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলায় গাজার হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ে গঠিত ইরানের আঞ্চলিক মিত্র নেটওয়ার্কও দুর্বল হয়ে পড়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের প্রভাব কমিয়ে দিয়েছে।
ইসলামিক রিপাবলিকে রূপান্তর
১৯৮৯ সালে খামেনি যখন ক্ষমতায় বসেন, তখন তার কর্তৃত্ব নিয়ে অনেকের মনে সন্দেহ ছিল। সে সময় তিনি তুলনামূলকভাবে ছোটমানের আলেম ছিলেন এবং তার পূর্বসূরী আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মতো ধর্মীয় উচ্চতা তার ছিল না। তা সত্ত্বেও, খামেনি খোমেনির চেয়ে অনেক বেশি সময় শাসন করেছেন এবং দেশটির ওপর আরও গভীর প্রভাব রেখে গেছেন।
তিনি ধর্মীয় পরিষদের শাসনকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন এবং রাজনৈতিক পদমর্যাদার শীর্ষে শিয়া মুসলিম আলেমদের অবস্থান নিশ্চিত করেছিলেন।
কট্টরপন্থিদের কাছে খামেনি ছিলেন চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী, মর্যাদায় যার স্থান ছিল ঈশ্বরের পরেই। এছাড়া তিনি আধাসামরিক বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ডকে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। সামরিক এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতি উভয় ক্ষেত্রেই এই বাহিনীর আধিপত্য রয়েছে। এর বিনিময়ে তারা খামেনির সবচেয়ে বিশ্বস্ত রক্ষক হিসেবে কাজ করেছে।
অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জসমূহ
খামেনির ক্ষমতার ওপর প্রথম গুরুতর চ্যালেঞ্জ আসে সংস্কারবাদী আন্দোলনের সময়। তবে খামেনি আলেম সমাজকে সংগঠিত করেন এবং অনির্বাচিত সংস্থাগুলোর মাধ্যমে সংস্কার বাধাগ্রস্ত করেন।
২০০৯ সালের নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগে দেশব্যাপী বিশাল বিক্ষোভ শুরু হয়। নিষেধাজ্ঞার ভারে ২০১৭ এবং ২০১৯ সালে অর্থনৈতিক বিক্ষোভও ছড়িয়ে পড়ে। ২০২২ সালে মাহশা আমিনির মৃত্যুর পর আরও বিক্ষোভ দেখা দেয়।
প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিরাপত্তারক্ষীদের কঠোর দমন-পীড়নে শত শত মানুষ নিহত হয় এবং ব্যাপক গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে।
সাম্প্রতিক দমন-পীড়ন
সাম্প্রতিক বিক্ষোভ শুরু হয় গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে তেহরানের প্রধান বাজারে, যখন ইরানি মুদ্রা রিয়ালের মান মার্কিন ডলারের বিপরীতে রেকর্ড ১ কোটি ৪২ লাখে নেমে আসে।
খামেনি তখন ঘোষণা করেছিলেন, দাঙ্গাকারীদের তাদের উপযুক্ত শিক্ষা দিতে হবে। ৮ ও ৯ জানুয়ারির বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি গুলি চালায়।
আন্দোলনকারীদের মতে, গুলিতে নিহতের সংখ্যা ৭ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, যদিও সরকার ৩ হাজার জনের বেশি মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে।
পারমাণবিক আলোচনা
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় সম্মত হয়ে খামেনি মূলত মার্কিন হামলা ঠেকানোর জন্য সময়ক্ষেপণ করতে চেয়েছিলেন। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা এবং মজুত হস্তান্তর করার মতো ওয়াশিংটনের মূল দাবিগুলো তেহরান প্রত্যাখ্যান করেছিল।
ট্রাম্প প্রথমে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন এবং পরে সেই হুমকি ব্যবহার করেই ইরানকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন।
কোনো উত্তরসূরি নেই
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, শিয়া আলেমদের একটি কাউন্সিল পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করার দায়িত্বে রয়েছে। খামেনির ছেলেসহ বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় এলেও কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত হননি।
ইসরায়েলের নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের ইরান বিশেষজ্ঞ ড্যানি সিট্রিনোভিচ বলেন, খামেনি মৃত্যুর পরে ক্ষমতার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রয়োজন হলে ক্ষমতা সাময়িকভাবে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ছোট কমিটিতে স্থানান্তরিত হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খামেনি হয়তো রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কোনো উত্তরসূরির নাম নির্দেশ করে গেছেন।
তবে যুদ্ধের এই সংকটময় সময়ে উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ক্ষমতার লড়াই শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে অত্যন্ত শক্তিশালী রেভল্যুশনারি গার্ড সরাসরি ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করতে পারে, যা প্রায় সাড়ে ৮ কোটি মানুষের এই খনিজ তেলসমৃদ্ধ দেশে ভয়াবহ সংঘাতের সৃষ্টি করতে পারে।
৫ দিন আগে
ইসরায়েলসহ কয়েকটি দেশে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর ব্যাপক প্রতিশোধের অঙ্গীকার করেছিল তেহরান। এবার সেই জবাব দিতে শুরু করেছে তারা।
রবিবার (১ মার্চ) ইসরায়েল ও উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান।
এর ফলে চলমান যুদ্ধ-উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে তেহরানকে উত্তেজনা আরও না বাড়াতে হুঁশিয়ার দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার তেহরানে খামেনির কার্যালয়ে যৌথ ইসরায়েলি-মার্কিন বিমান হামলায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা। এই ঘটনায় ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
৮৬ বছর বয়সী খামেনির নিজ কার্যালয়ে নিহত হওয়াকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ব্যাখ্যা করেছে এভাবে, ‘এটি প্রমাণ করে যে, যাকে কর্মকর্তারা বৈশ্বিক ঔদ্ধত্য বলে অভিহিত করেন, তার মোকাবিলা করতে গিয়ে তিনি সবসময় জনগণের মাঝে এবং দায়িত্ব পালনে সামনের সারিতে অবস্থান করেছেন।’
ইরানের মন্ত্রিসভা ঘোষণা দিয়েছে, ‘এই মহা অপরাধের জবাব না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে না।’ আধাসামরিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তারা ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ‘সবচেয়ে তীব্র আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরু করবে।
রবিবার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের ক্বালিবাফ বলেন, ‘আপনারা আমাদের লাল রেখা (রেড লাইন) অতিক্রম করেছেন, এর মূল্য দিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন বিধ্বংসী আঘাত হানব যে আপনারাই করুণা প্রার্থনা করতে বাধ্য হবেন।’
ট্রাম্প পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় লেখেন, ‘ইরান বলেছে তারা আজ খুব কঠোরভাবে আঘাত হানবে, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠোরভাবে। তারা যেন তা না করে। কারণ যদি করে, আমরা এমন শক্তি প্রয়োগ করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’
ইরানের পাল্টা হামলা
প্রাথমিক হামলার পরপরই ইসরায়েল এবং বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে ইরান।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, ইরান বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার অনেকগুলো ভূপাতিত করা হয়েছে।
ইসরায়েলের ম্যাগেন ডেভিড আদম উদ্ধারসেবা সংস্থা জানায়, তেল আবিব এলাকায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত এক নারী নিহত হয়েছেন।
পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক রাজধানী দুবাইয়ে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলার শব্দ শোনা যায় এবং বিস্ফোরণের শব্দ রবিবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, আমিরাতের রাজধানীতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ধ্বংসাবশেষে একজন নিহত হয়েছেন। আকাশ প্রতিরোধের পর সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষে শহরের প্রধান বন্দর ও আইকনিক বুর্জ আল আরব হোটেলের সামনের অংশে আগুন লাগে।
সৌদি আরব জানায়, তাদের রাজধানী ও পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালালেও তা প্রতিহত করা হয়েছে। বাহরাইন জানায়, দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এছাড়া রাজধানী মানামা ও মুহাররাক শহরে ড্রোন হামলা ও ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে তিনটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একটি ড্রোন হামলা হয়েছে, এতে কয়েকজন কর্মচারী আহত হন।
দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে হামলার ধ্বংসাবশেষে তিন সেনা আহত হয়েছেন।
কাতারেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। জর্ডান জানায়, তারা ৪৯টি ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘মোকাবিলা’ করেছে।
ইরানে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের এক নতুন ও বিস্ময়কর অধ্যায় খুলে দিয়েছে। এতে প্রতিশোধমূলক সহিংসতা এবং বৃহত্তর যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন এক মার্কিন প্রেসিডেন্টের সময় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, যিনি ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে ক্ষমতায় এসে ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ থেকে দূরে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
৫ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলি হামলায় খামেনি নিহত, ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চিয়তায় ইরান
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। এতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বেড়েছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (১ মার্চ) ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’ ৮৬ বছর বয়সী এই নেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর ঘোষণা দিয়ে বলেন, এটি ইরানি জনগণের জন্য দেশ ‘পুনরুদ্ধারের সর্বোত্তম সুযোগ’।
ইরানের সামরিক ও সরকারি স্থাপনা লক্ষ্য করে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলার পর এই ঘোষণাগুলো আসে। ট্রাম্প বলেন, এ হামলা এক সপ্তাহ ধরে বা প্রয়োজন অনুযায়ী আরও দীর্ঘ সময় চলবে।
এই হামলা ইরানে মার্কিন হস্তক্ষেপের একটি বিস্ময়কর নতুন অধ্যায় শুরু করেছে। গত আট মাসের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলাকালীন দেশটিতে হামলা চালাল।
কয়েক দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা খামেনির মৃত্যুতে ইরানে একটি বড় নেতৃত্বশূন্যতা তৈরি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ এখন পর্যন্ত তার কোনো উত্তরসূরি নির্ধারিত নেই।
এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের আধাসামরিক বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ড ইসরায়েল এবং মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে তীব্র আক্রমণাত্মক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছে।
ইরান থেকে নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে চীন
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের একটি সংস্থা ইরানে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের পার্শ্ববর্তী দেশে সরিয়ে নেওয়ার জন্য নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করেছে। ইরানে ছড়িয়ে থাকা দুইশর বেশি চীনা নাগরিককে সরিয়ে নিতে দূতাবাসের নির্দেশে প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।
ইরানে অবস্থিত চীনা দূতাবাস জানায়, নাগরিকদের নিরাপদে ইরান থেকে সরে যেতে আজারবাইজান, আর্মেনিয়া ও তুরস্কের স্থলসীমান্ত খোলা রয়েছে।
আইআরজিসি প্রধানসহ শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টা নিহত
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলি হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর ও খামেনির শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলি শামখানি নিহত হয়েছেন।
খামেনির মৃত্যুর পর ইরান পরিচালনায় কাউন্সিল
খামেনির মৃত্যুর পর ইরান পরিচালনার জন্য একটি কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। এই কাউন্সিলে রয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মহসেনি এজেয়ি এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন সদস্য।
ইরানের আইন অনুযায়ী, তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন একজন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করতে হবে।
দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দরে আগুন
দুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি ড্রোন হামলা প্রতিহত করার পর তার ধ্বংসাবশেষ থেকে জেবেল আলি বন্দরে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এছাড়া বুর্জ আল আরব হোটেলের সামনের অংশেও এর ধ্বংসাবশেষের কারণে আগুনের খবর পাওয়া গেছে। এতে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৪ জন কর্মী আহত হয়েছেন।
আইআরজিসির হুমকি: ইতিহাসের সবচেয়ে তীব্র আক্রমণ শিগগিরই
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির আধাসামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তাদের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে তীব্র আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরু করার হুমকি দিয়েছে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে তীব্র আক্রমণাত্মক অভিযান মুহূর্তের মধ্যেই শুরু হবে, যা ইসরায়েল ও আমেরিকার সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হবে।’
বৈশ্বিক শিপিং সংস্থাগুলোর সতর্কতা
আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীতে চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে গ্লোবাল শিপিং ফার্ম সিএমএ ও সিজিএম পারস্য উপসাগরে থাকা তাদের জাহাজগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। সুয়েজ খাল দিয়ে চলাচল স্থগিত করে জাহাজগুলোকে ‘কেপ অব গুড হোপ’ হয়ে ঘুরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খামেনির মেয়ে ও জামাতা নিহত
ইরানের একটি আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থার মতে, হামলায় খামেনির মেয়ে ও জামাতা নিহত হয়েছেন। এছাড়া তার এক নাতি এবং পুত্রবধূও নিহত হয়েছেন বলে ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে।
ইরানের মন্ত্রিসভার সতর্কবার্তা
খামেনি নিহত হওয়ার পর রবিবার ভোরে ইরানের মন্ত্রিসভা সতর্ক করে বলেছে, এই মহা অপরাধের জবাব দেওয়া হবেই।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ৮৬ বছর বয়সী খামেনি তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত তার কম্পাউন্ড লক্ষ্য করে চালানো এক বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একজন সংবাদ উপস্থাপক সরাসরি সম্প্রচারের মাঝেই খামেনির মৃত্যুর ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, ‘মর্যাদাবান ও গর্বিত ইরানি জনগণকে গভীর শোক ও বেদনার সঙ্গে জানানো যাচ্ছে যে, আমেরিকার অপরাধী সরকার এবং দুষ্ট জায়োনিস্ট শাসনের বর্বর হামলার পর, ইমান, জিহাদ ও প্রতিরোধের প্রকৃত প্রতীক বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ খামেনি শহিদের মর্যাদা লাভ করেছেন।’
৪০ দিনের শোক ঘোষণা
খামেনির মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং ৭ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
ট্রাম্পের মন্তব্য
ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খামেনিকে ‘ইতিহাসের অন্যতম শয়তান ব্যক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, খামেনি আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা ও অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং সিস্টেম থেকে বাঁচতে পারেননি। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের অধিকাংশ ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব এখন নিশ্চিহ্ন।
ইসরায়েলের অবস্থান
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক ভাষণে বলেন, খামেনি যে আর বেঁচে নেই তার ক্রমবর্ধমান প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। জাতিসংঘে ইসরায়েলের দূত ড্যানি ড্যানন বলেন, তারা একটি অস্তিত্ব রক্ষার হুমকি রুখতে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং কূটনীতি যখন ব্যর্থ হয়, তখনই এটিই করা হয়।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ মার্কিন পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন।
এদিকে, আরব লীগ বলেছে, ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা এমন এক মুহূর্ত নির্দেশ করছে, যখন আরব-ইসরায়েল সংঘাত পূর্ণমাত্রার আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে।
২২ সদস্যবিশিষ্ট এই জোটের জাতিসংঘ পর্যবেক্ষক মাজেদ আবদেলআজিজ অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল ইরান যুদ্ধকে ব্যবহার করছে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে তাদের দখলদারত্বের অবসান এড়াতে এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ঠেকাতে।
একইসঙ্গে তিনি বলেন, সামরিক শক্তি ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
অপরদিকে, সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নিন্দা জানিয়েছে, যা নতুন সিরীয় সরকারের পরিবর্তিত পররাষ্ট্রনীতির ইঙ্গিত দেয়।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস অবিলম্বে সংঘাত বন্ধ করে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উভয় পক্ষের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দা করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে
পাল্টাপাল্টি মিসাইল হামলায় ইসরায়েলের তেল আবিবে এক নারী নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রদূত দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনে শত শত বেসামরিক লোক নিহত বা আহত হয়েছেন।
এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বসছেন এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ভিয়েনায় বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করেছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে বলে পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা।
৫ দিন আগে
ইরানে ‘বৃহৎ সামরিক অভিযান’ শুরুর ঘোষণা ট্রাম্পের
ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে দেশটির রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় হামলা চালায় তারা।
প্রথম দৃশ্যমান হামলাটি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কার্যালয়ের কাছাকাছি এলাকায় হয়েছে বলে জানা গেছে। দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে হামলার খবর দিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম। প্রকাশিত ভিডিওতে রাজধানী তেহরান থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।
এদিকে, ফ্লোরিডার পাম বিচে নিজের বাসভবন মার-আ-লাগো থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ইরানে ‘বৃহৎ সামরিক অভিযান’ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেছেন, এই অভিযানের লক্ষ্য হচ্ছে ‘ইরানি শাসনের আসন্ন হুমকি নির্মূল করে যুক্তরাষ্ট্রকে সুরক্ষা দেওয়া।’
ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, এই অভিযানে মার্কিনিদের হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। সাহসী মার্কিন সেনানায়কদের প্রাণ হারাতে হতে পারে, হতাহতও হতে পারে। যুদ্ধে এমনই ঘটে।
একইসঙ্গে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র, বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন সেনা এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডকেও হুমকিতে ফেলতে পারে।
শনিবারের হামলাকে তিনি ‘বৃহৎ ও চলমান অভিযান’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এর উদ্দেশ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও শিল্পভিত্তি ধ্বংস করা, নৌবাহিনীকে অকার্যকর করা এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পথ রুদ্ধ করা।
ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘অস্ত্র সমর্পণ করুন, নয়তো নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি হবেন।’ সেই সঙ্গে ইরানের জনগণকে সরকার পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
নতুন হামলার পটভূমি
হামলার আগের দিন শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনায় অগ্রগতির অভাব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
হোয়াইট হাউস ত্যাগের সময় তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের যা দরকার তা দিতে রাজি নয়। এতে আমি সন্তুষ্ট নই। তারা পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারে না।’
সে সময় সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেছিলেন তিনি, যদিও সম্ভাব্য হামলা নিয়ে সরাসরি কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান।
গত জুন মাসে ১২ দিনের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কিছু পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ইরান দাবি করেছে, এরপর থেকে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ রেখেছে। কিন্তু ওই সময় বোমাবর্ষণের শিকার স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়।
ইরান বর্তমানে স্ব-আরোপিত সীমাবদ্ধতায় তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত সীমিত রেখেছে। এরপরও মধ্যপ্রাচ্যের পুরো অঞ্চল এবং পূর্ব ইউরোপের কিছু অংশ ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় পড়ে।
আন্তর্মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের প্রকাশ্য প্রমাণ না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মহাকাশ কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করে আসছে।
ইরানের পাল্টা জবাব ও আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া
হামলার পর ইরানের আধা-সামরিক রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) জানায়, তারা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে প্রথম দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
এরই মধ্যে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। তবে তারপরও ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল থেকে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের হামলার পর শুধু ইসরায়েল নয়, জর্ডানেও সাইরেন বেজে ওঠে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের পক্ষ থেকে সৃষ্ট ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ দূর করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে হামলা চালানো হয়েছে। তার ভাষ্যে, ‘এই যৌথ অভিযান সাহসী ইরানি জনগণের নিজেদের ভাগ্য নিজেদের হাতে নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করবে।’
ইসরায়েলের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশটির আকাশসীমা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হয়েছে। অবতরণের পথে থাকা উড়োজাহাজগুলোকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং অপেক্ষমাণ যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে পাঠানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইরানের প্রতিবেশী ইরাকও তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, আকাশসীমা বন্ধের আগে সব বিমান চলাচল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, তারা আবারও ইসরায়েল ও সমুদ্রপথ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করবে।
এ বিষয়ে হুথির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, প্রথম হামলা আজ রাতেই হতে পারে।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে এক সমঝোতার অংশ হিসেবে লোহিত সাগরে হামলা স্থগিত করেছিলেন হুথি যোদ্ধারা।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি
হামলার আগে ট্রাম্প প্রশাসন কয়েক দশকের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ ঘটায়। জানুয়ারির শেষে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও তিনটি গাইডেড-মিসাইল ধ্বংসকারী রণতরী (ডেস্ট্রয়ার) ওই অঞ্চলে পৌঁছায়। পরে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ও চারটি ডেস্ট্রয়ার ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়ে বর্তমানে ভূমধ্যসাগরে অবস্থান করছে।
এসব সমরযানে যুক্ত হয়ে ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত ১০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন হয়েছে।
কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে হাজারো মার্কিন সেনাসদস্য অবস্থান করছেন। বড় আকারের হামলার উপযোগী শত শত যুদ্ধবিমান ও সহায়ক উড়োজাহাজও সেখানে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, সব কর্মীকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে নির্দেশ দিয়েছে কাতারে মার্কিন দূতাবাস। পাশাপাশি মার্কিন নাগরিকদেরও একই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তেহরানের বিভিন্ন এলাকা থেকেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মেহরাবাদ বিমানবন্দর এলাকায় দুটি ভারী বিস্ফোরণে জানালা কেঁপে ওঠার কথা জানান এক বাসিন্দা। ভানাক এলাকায় আরেকজন প্রায় একই সময়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা বলেন।
পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকায় হতাহতের পূর্ণাঙ্গ চিত্র তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে সামরিক, কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে চলেছে।
৬ দিন আগে
বাংলাদেশসহ ৪০ দেশ থেকে মুরগি ও ডিম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা সৌদির
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশসহ ৪০টি দেশ থেকে পোলট্রি মুরগি ও ডিম আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরবের খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি আরও ১৬টি দেশের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের ওপর আংশিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
গালফ নিউজের খবরে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞাভুক্ত দেশগুলোর তালিকা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ও মহামারি সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত পর্যালোচনা করবে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
খবরে বলা হয়েছে, এই ৪০ দেশের মধ্যে কিছু দেশের ক্ষেত্রে ২০০৪ সাল থেকে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এছাড়া ঝুঁকি মূল্যায়ন ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আরও কয়েকটি দেশকে নতুন করে এই তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রায় বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাবকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞাভুক্ত দেশগুলো
মুরগি ও ডিম আমদানি নিষিদ্ধের সৌদি তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া আফগানিস্তান, আজারবাইজান, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, বুলগেরিয়া, তাইওয়ান, জিবুতি, দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, ইরাক, ঘানা, ফিলিস্তিন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, কাজাখস্তান, ক্যামেরুন, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, লাওস, লিবিয়া, মিয়ানমার, যুক্তরাজ্য, মিসর, মেক্সিকো, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, নাইজার, নাইজেরিয়া, ভারত, হংকং, জাপান, বুরকিনা ফাসো, সুদান, সার্বিয়া, স্লোভেনিয়া, আইভরি কোস্ট ও মন্টেনিগ্রো থেকে মুরগি ও ডিম আমদানি করবে না সৌদি আরব।
আংশিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় যেসব দেশ
অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, বেলজিয়াম, ভুটান, পোল্যান্ড, টোগো, ডেনমার্ক, রোমানিয়া, জিম্বাবুয়ে, ফ্রান্স, ফিলিপাইন, কানাডা, মালয়েশিয়া, অস্ট্রিয়া ও কঙ্গোর নির্দিষ্ট কিছু রাজ্য বা শহরে আংশিক বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে।
তবে অনুমোদিত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে প্রক্রিয়াজাত করা মুরগির মাংস ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে এ ধরনের পণ্যের সঙ্গে অবশ্যই সরকারি সনদ থাকতে হবে, যাতে উল্লেখ থাকবে যে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বার্ড ফ্লু ও নিউক্যাসল রোগের ভাইরাস সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা হয়েছে। পাশাপাশি রপ্তানিকারক দেশের অনুমোদিত স্থাপনা থেকেই এসব পণ্য উৎপাদিত হতে হবে।
বছরে ১০ কোটি ডলারের ডিম আমদানি করে সৌদি আরব। ওমান, নেদারল্যান্ডস, জর্দান, তুরস্ক ও পাকিস্তান থেকে সবচেয়ে বেশি ডিম আমদানি করে থাকে দেশটি। আর মুরগির মাংসের চাহিদার ৭০ শতাংশ পূরণ হয় সৌদি আরবের নিজস্ব উৎপাদনব্যবস্থা থেকে। বাকিটা আমদানি হয় মূলত ব্রাজিল থেকে।
৯ দিন আগে
ইরান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন জাতিসংঘ
ইরানকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন সংস্থার মহাসচিবের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নিয়মিত ব্রিফিং চলাকালে সিনহুয়ার এক প্রশ্নের জবাবে দুজারিক বলেন, ‘জাতিসংঘ মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে ইরানের স্থায়ী মিশন যে চিঠি পাঠিয়েছে সে প্রসঙ্গে আমি আপনাদের বলতে পারি যে, এই অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা, যুদ্ধমহড়া অথবা কেবল সামরিক নৌ-উপস্থিতি বৃদ্ধির কারণে আমরা যে তীব্র ভাষায় বক্তৃতা দেখতে পাচ্ছি। এতে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান উভয়কেই মতপার্থক্য মেটাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার জন্য উৎসাহিত করছি।’
চিঠিতে জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি জানিয়েছেন, যেকোনো সামরিক আগ্রাসনের জবাবে দেশটি দৃঢ় ও সমানুপাতিক প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং জাতিসংঘ সনদের অধীনে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে। তিনি নিরাপত্তা পরিষদ ও জাতিসংঘ মহাসচিবকে খুব দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
দুজারিকের মতে, ইরানের স্থায়ী মিশনের অনুরোধ অনুযায়ী চিঠিটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও সাধারণ পরিষদ উভয়ের কাছেই পাঠানো হয়েছে।
১৩ দিন আগে
ইরানকে সীমিত হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা শেষে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একটি প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়া প্রস্তুত হতে পারে বলে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক জানালেও তেরানে সীমিত পরিসরে হামলার কথা বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প নিজেই হামলার বিষয়ে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বলতে পারেন, আমি বিষয়টি (হামলা) বিবেচনা করছি।’ কয়েক ঘণ্টা পর তিনি আরও বলেন, ইরানকে ‘একটি ন্যায্য চুক্তি’ নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে জানান, তার দেশ ‘আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে’ একটি খসড়া চুক্তি চূড়ান্ত করে ওয়াশিংটনে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।
আরাগচি এমএসএনবিসির ‘মর্নিং জো’-এর এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘এই চুক্তি করতে বেশি সময় লাগবে না। হয়তো এক সপ্তাহের মধ্যেই আমরা চুক্তির মূল বিষয় নিয়ে বাস্তব ও গুরুতর আলোচনা শুরু করতে পারব এবং একটি সিদ্ধান্তেও পৌঁছাতে পারব।’
এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে চলছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের কাছ থেকে চুক্তিসংক্রান্ত দাবি আদায়ে চাপ বাড়িয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি গড়ে তুলেছে। এখনো আরও যুদ্ধজাহাজ ও বিমান পাঠাচ্ছে দেশটি।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশিত জাহাজের ছবিতে দেখা গেছে, ট্রাম্পের নির্দেশে ক্যারিবীয় সাগর থেকে পাঠানো ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোল্ড নেতৃত্বাধীন যুদ্ধবিমানবাহী জাহাজ জিব্রাল্টার প্রণালি অতিক্রম করে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করেছে।
এমন বাস্তবতায় তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ভেস্তে গেলে তারা উভই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
আরাগচি বলেন, ‘আমরা যেমন কূটনীতির জন্য প্রস্তুত, তেমনি আলোচনার জন্য প্রস্তুত এবং ঠিক একইভাবে যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত রয়েছি।’
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আলি ভাইজ বলেন, ইরান যেকোনো সামরিক পদক্ষেপকে অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে দেখবে।
ভাইজের মতে, প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়ে ইরানের নেতারা দ্বিতীয়বার ভাববেন না এবং তারা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা হলেও তারা ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন।
যা নিয়ে চলছে আলোচনা
এসব ঘটনার এক দিন আগে ট্রাম্প বলেন, সাম্প্রতিক পরোক্ষ আলোচনার পর ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ১০ থেকে ১৫ দিনই ‘যথেষ্ট সময়’। জেনেভায় চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত আলোচনাসহ বিভিন্ন বৈঠকে দৃশ্যমান অগ্রগতি কম হলেও আলোচনা চলছে।
তবে ২০১৮ সালে ট্রাম্প বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে ইরানের ২০১৫ সালে যে পারমাণবিক হয়, তা থেকে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেয়। তারপর থেকেই এই আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে।
তারপর থেকে মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বৃহত্তর দাবিগুলো, যেমন: ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করাসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল ইরান।
যদিও প্রকাশ্যে মার্কিন কর্মকর্তারা ভিন্ন কথা বলেছেন, আব্বাস আরাগচি শুক্রবার বলেন, সর্বশেষ আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদল ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি করেননি। তিনি বলেন, ‘আমাদের বর্তমান আলোচ্য বিষয় হচ্ছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিসহ চিরকাল শান্তিপূর্ণ থাকবে এমন পরিস্থিতি নিশ্চিত করা। এর বিনিময়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ইরান আস্থা বৃদ্ধিমূলক কিছু পদক্ষেপও বাস্তবায়ন করবে।’
আরাগচির এই দাবির প্রতিক্রিয়ায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বা তা তৈরির সক্ষমতা রাখতে পারবে না এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণও করতে পারবে না।
তেহরান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, যেকোনো আলোচনা কেবল তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই হওয়া উচিত। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে না বলেও দাবি করেছে তেহরান।
সে সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়ে গেছে। তবে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশে তেহরান বাধা দেওয়ায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এখনও স্পষ্ট নয়।
ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘শান্তিপূর্ণ’ দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ মনে করে, এর লক্ষ্য শেষ পর্যন্ত অস্ত্র উন্নয়ন।
মার্কিন কংগ্রেস যা বলছে
ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে কংগ্রেসের কিছু আইনপ্রণেতা আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক হামলার আগে প্রেসিডেন্টের কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া উচিত।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কাইন শুক্রবার জানান, তিনি একটি ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজল্যুশন’ প্রণয়ন করেছেন, যাতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলার আগে কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হবে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের একক সামরিক সিদ্ধান্তের ক্ষমতা সীমিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে এই প্রস্তাব আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম, কারণ এটিতে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পেরই সই লাগবে। তবুও অতীতে ভেনেজুয়েলা-সংক্রান্ত সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে সিনেটে যেসব রেজল্যুশনের ওপর ভোট হয়েছিল, সেগুলোর মতোই এই উদ্যোগে উভয় দলের কিছু সমর্থন তৈরি হয়েছে। যদিও সেসব রেজল্যুশন পাস হয়নি, তবু তা ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ তুলে ধরে।
এক সংবাদ বিবৃতিতে কাইন বলেন, ‘যদি আমার কিছু সহকর্মী যুদ্ধকে সমর্থন করেন, তাহলে তাদের উচিত সেই যুদ্ধের পক্ষে ভোট দেওয়ার সাহস দেখানো এবং ভোটারদের কাছে জবাবদিহি করা—ডেস্কের নিচে লুকিয়ে থাকা নয়।’
১৩ দিন আগে
গাজা যুদ্ধের শুরুতে নিহত ছিল প্রকাশিত হিসাবের চেয়ে ২৫০০০ বেশি: ল্যানসেট
গাজায় দুই বছরব্যাপী যুদ্ধের প্রথম ১৬ মাসে ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যা সে সময় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘোষিত মৃত্যুসংখ্যার তুলনায় অন্তত ২৫ হাজার বেশি।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এক গবেষণার মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষের অনুপাত নিয়ে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে তথ্য দিয়েছিল, তা সঠিক ছিল।
গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলা এবং ইসরায়েলের গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৪২ হাজার ২০০ নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষ নিহত হয়েছেন। এই সংখ্যা গাজায় সহিংসতায় নিহতদের মোট সংখ্যার ৫৬ শতাংশ।
দ্যা গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, এই গবেষণায় অংশ নেওয়া গবেষকদের মধ্যে ছিলেন লেখক, অর্থনীতিবিদ, জনসংখ্যাবিদ, মহামারিবিদ ও জরিপ বিশেষজ্ঞ। তারা বলেছেন, ‘সমন্বিত প্রমাণ বলছে, ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত গাজা উপত্যকার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩ থেকে ৪ শতাংশ আগ্রাসনে নিহত হয়েছে এবং সংঘাতের কারণে পরোক্ষভাবে অ-সহিংস মৃত্যুর সংখ্যাও ছিল উল্লেখযোগ্যসংখ্যক।’
গাজায় প্রকৃত নিহতের সংখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। তবে গত মাসে এক প্রবীণ ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সংকলিত মৃত্যুর তথ্য মোটামুটি সঠিক।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় প্রায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাছাড়া এখন পর্যন্ত নিখোঁজদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, ইসরায়েলি হামলায় সরাসরি নিহতের সংখ্যা ৭১ হাজার ৬৬০ জন ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও ৫৭০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।
গত বছর ল্যানসেটে প্রকাশিত এক গবেষণায় গবেষকরা অনুমান করেছিলেন, যুদ্ধের প্রথম ৯ মাসে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে নিহতের সংখ্যা জানিয়েছিল, তা তাদের হিসাবের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম ছিল।
নতুন গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে, সরকারিভাবে ইসরায়েল প্রকাশিত নিহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম দেখানো হয়েছিল এবং হিসাবেও গরমিল করা হয়েছে।
গবেষণাটি গাজায় ২ হাজার পরিবারের ওপর পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে তৈরি, যেখানে জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হয়। জরিপটি পরিচালনা করেন মূলত অভিজ্ঞ ফিলিস্তিনি জরিপকারীরা, যারা ফিলিস্তিনসহ অন্যান্য স্থানে জরিপ কাজের জন্য পরিচিত।
বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ পর্যালোচিত গবেষণার অন্যতম লেখক এবং রয়্যাল হলোওয়ে, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অর্থনীতির অধ্যাপক মাইকেল স্পাগাট বলেন, ‘এটি ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি জরিপ এবং অংশগ্রহণকারীদের জন্য এটি মানসিকভাবে কষ্টকর ছিল। তাই জরিপের সময় প্রশ্নোত্তরকালে ওইসব মানুষের মানসিক অবস্থাসহ আরও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করতে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদেরই নিযুক্ত করা হয়।’
দুই দশকের বেশি সময় ধরে সংঘাতে হতাহতের হিসাব নিয়ে কাজ করা স্পাগাট জানান, নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত গাজায় প্রায় ৮ হাজার ২০০ মৃত্যুর পরোক্ষ কারণ অপুষ্টি ও চিকিৎসাহীনতা। তিনি ২০২৪ সালে ল্যানসেটে প্রকাশিত আরেক গবেষণার হিসাব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন, যেখানে প্রতি একটি সরাসরি মৃত্যুর বিপরীতে চারটি পরোক্ষ মৃত্যুর কথা বলা হয়েছিল।
স্পাগাট বলেন, ‘প্রতিটি সংঘাতের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে মৃত্যুর ধরনে বড় পার্থক্য দেখা যায়। যেমন: কসোভো সংঘাতের সব মৃত্যুই ছিল সহিংস, কিন্তু দারফুরের মতো জায়গায় আবার ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। গাজায় শুরুতে অন্তত প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও একটি চিকিৎসাব্যবস্থা ছিল। পাশাপাশি অঞ্চলটি ছোট হওয়ায় সহায়তা পৌঁছালে মানুষকে দ্রুত সাহায্য করা সম্ভব হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটিকে কম সংখ্যক মৃত্যু বলে ভাবার সঙ্গে আমি একমত নই। আমরা এই বিষয় নিয়ে মানুষের সংবেদনশীলতা কমানোর প্রয়োজন বোধ করছি । তবে হ্যাঁ, অনেকের ধারণার তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা কম হতে পারে।’
২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে হামাসের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ বেসামরিক মানুষ নিহত হন। সেই সঙ্গে ২৫০ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যায় হামাস। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েল পাল্টা অভিযান শুরু করে। ইসরায়েল বিমান হামলা, ট্যাংক গোলাবর্ষণ ও ভারী আর্টিলারি হামলায় গাজার বড় অংশ ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে।
গবেষণাটি ইসরায়েলের অভিযানের সবচেয়ে তীব্র ও প্রাণঘাতী সময়কালকে অন্তর্ভুক্ত করলেও, মানবিক সংকটের সবচেয়ে চরম সময়কে অন্তর্ভুক্ত করেনি। গত বছরের আগস্টে জাতিসংঘ-সমর্থিত বিশেষজ্ঞরা গাজায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করেছিলেন।
গাজায় নিহতদের মধ্যে যোদ্ধা ও বেসামরিক মানুষের অনুপাত নিয়েও তীব্র বিতর্ক রয়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তাদের হামলায় উভয় পক্ষের সংখ্যা প্রায় সমান। তবে নতুন গবেষণা সেই দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
নভেম্বরে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর ডেমোগ্রাফিক রিসার্চ-এর একদল গবেষক অনুমান করে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত গাজায় ৭৮ হাজার ৩১৮ জন নিহত হয়েছেন যা নতুন গবেষণার সময়সীমার সঙ্গে প্রায় একই। তবে ওই গবেষণায় পরোক্ষ মৃত্যুর সংখ্যা বেশি ধরা হয় এবং এতে ২০২৩ সালে গাজায় আয়ুষ্কাল ৪৪ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৪৭ শতাংশ কমে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
স্পাগাট বলেন, সংঘাতে মোট নিহতের একটি চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণ করতে দীর্ঘ সময় ও বিপুল সম্পদ প্রয়োজন হবে। সাম্প্রতিক গবেষণার সংখ্যাগুলোতেও উল্লেখযোগ্য ত্রুটির সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বাস্তবে কী ঘটেছিল তা পুনর্গঠনের জন্য বহু মিলিয়ন পাউন্ডের গবেষণা প্রকল্প হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। গাজায় নিহত সব মানুষের পূর্ণ হিসাব পেতে অনেক সময় লাগবে, অবশ্য যদি কখনও তা সম্ভব হয়।’
১৫ দিন আগে