ঢাকা
গাজীপুরে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার চালকসহ নিহত ২
গাজীপুরে বাসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত রিকশার চালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর পৌনে ১টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাসন সড়ক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের একজনের পরিচয় জানা গেছে। তিনি হলেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ থানার সুজন।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, দুপুরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা অনাবিল পরিবহনের একটি বাস বাসন এলাকায় সড়কে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করছিল। এ সময় বিনিময় পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িটিকে সাইড দিতে গেলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা ব্যাটারিচালিত রিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে রিকশাচালক ও আরোহী দুজনই ঘটনাস্থলে নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুন বলেন, দুজন নিহতের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত বাসের সামনের অংশ কেটে মরদেহ উদ্ধার করেন।
বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশীদ বলেন, নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৭ ঘণ্টা আগে
ফরিদপুরে ঈদের ছুটিতে হাম ও উপসর্গে আক্রান্ত ৪৩৭, প্রাণ গেছে ৬ জনের
ঈদের ছুটির পর থেকে ফরিদপুরে গত ২৬ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গে নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৪৩৭ জন শিশু। এ সময়ে হাম ও হামের লক্ষণ নিয়ে প্রাণহানি হয়েছে ৬ শিশুর, যা অন্য সময়ের তুলনায় বেশি।
বুধবার (৩ জুন) ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান হাম সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্যে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৫ মার্চ থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিশ্চিত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ২৩৮ জন।
গতকাল (সোমবার রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার চন্ডীপর্দি গ্রামের বরকতের সাত মাস বয়সী ছেলে আয়ান এবং ফরিদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকার রাফসানের দুই বছর বয়সী মেয়ে আদিবা।
ফরিদপুর সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটি (গত ২৬ মে থেকে ২ জুন) পর্যন্ত ফরিদপুরে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গে নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৪৩৭ জন শিশু। আর এই সময় প্রাণহানি হয়েছে ৬ শিশুর, যা অন্য সময়ের চেয়ে বেশি।
এ ছাড়াও, আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে ১৫৭ জন। যার অধিকাংশই শিশু।
ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেক মানুষ গ্রামের বাড়িতে আসায় হামের সংক্রমণ কিছুটা বেড়েছে। তবে আমরা আশাবাদী, আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং রোগীর সংখ্যা কমে আসবে।’
তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজন হলে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও জানান, হামের বিস্তার রোধে টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের সময়মতো হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ফরিদপুর ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. নিরঞ্জন ভৌমিক জানান, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত শিশুর জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের হাম প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে।
তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে যারা গ্রামে এসেছে সে সকল অভিভাবকের শিশুদের মেডিকেল চেকআপ প্রয়োজন।
ডা. নিরঞ্জন আরও বলেন, দ্রুত শনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসা এবং শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে হামের বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
১ দিন আগে
মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মাদক নিয়ন্ত্রণের পরিদর্শক প্রত্যাহার
সাভারে মাদককাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) ৪ কর্মকর্তা প্রত্যাহারের পরে এবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শককে একই অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশাসন ও অর্থ রাজিব মিনারের সই করা এক আদেশপত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
অভিযুক্ত পরিদর্শকের নাম মাসুদুর রহমান। দীর্ঘদিন ধরে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের এ পরিদর্শকসহ তার টিমের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এ টিমের উপপরিদর্শক জেরিন সুলতানা ও কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মাসুমকে আটকে মাদক সম্রাট শামীম মারধর করেন। পরে ক্ষমা চেয়ে তারা ছাড়া পান।
এছাড়া আশুলিয়ায় বুড়ীর বাজার সংলগ্ন সবচেয়ে বড় গাঁজার স্পটে মাসোহারা আনতে গিয়ে ‘গাঁজা ব্যবসায়ী’ পারভীন ও তার মেয়ে মুক্তির লোকজন ও গাঁজা সেবীদের হামলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হন।
সাভার পৌর এলাকার পালোয়ান পাড়ায় মাদক সম্রাট শামীমের স্পটে সম্প্রতি দুই টেলিভিশন সাংবাদিককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে মাদক ব্যবসায়ী ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনাটি বেশ আলোচিত হয়।
২ দিন আগে
কেরানীগঞ্জে পরিত্যক্ত প্রাইভেট কার উদ্ধার
কেরানীগঞ্জে মধ্যরাতে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা একটি পরিত্যক্ত প্রাইভেট কার উদ্ধার করেছে পুলিশ। গাড়িটির ভেতর থেকে একটি বিদেশি সুইচগিয়ার চাকু, একটি বিয়ারের ক্যান এবং নারীদের ব্যবহৃত একটি থ্রি-পিস উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার আগানগর এলাকা থেকে প্রাইভেট কারটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, সোমবার (১ জুন) দিবাগত রাত ২টার দিকে আগানগর তরীকুল্লাহ রোড এলাকায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ধূসর রঙের একটি প্রাইভেট কার স্থানীয় বাসিন্দা রমজান মিয়ার বাড়ির পাশে ফেলে রেখে যায়।
পরে গাড়িটির জন্য এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হলে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়িটির দরজা খুলে তল্লাশি চালায়। এ সময় গাড়ির ভেতর থেকে ওইসব জিনিস উদ্ধার করেন তারা।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন বলেন, গাড়িটির মালিকের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এছাড়া আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা পর্যালোচনার মাধ্যমে কারা গাড়িটি ফেলে গেছে তার উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
২ দিন আগে
ফরিদপুরে হামের উপসর্গে আরও ২ প্রাণহানি, বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা
আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ জনে। একইসঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার চণ্ডীপর্দী এলাকার বরকতের সাত মাস বয়সী ছেলে আয়ান গত ১ জুন হামের উপসর্গ নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। তবে আজ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
অপরদিকে, ফরিদপুর সদর উপজেলার লক্ষীপুর এলাকার রাফসানের দুই বছর বয়সী মেয়ে আদিবা হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ফরিদপুরের সরকারি হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ১৯০ শিশু।
ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেক মানুষ গ্রামের বাড়িতে আসায় হামের সংক্রমণ কিছুটা বেড়েছে। তবে আমরা আশাবাদী, আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং রোগীর সংখ্যা কমে আসবে।’
তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজন হলে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও জানান, হামের বিস্তার রোধে টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের সময়মতো হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
২ দিন আগে
ফরিদপুরে এক্সপ্রেসওয়েতে ট্রাকে প্রাইভেট কারের ধাক্কা, নিহত ৫
ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুই শিশু গুরুতর আহত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) ভোর ৪টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের মালিগ্রাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন: যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার উজ্জ্বলপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী নুরজাহান (৫০), তার ছেলে আরিফ ইসলাম (২৪), একই গ্রামের ইলিয়াস হোসেনের স্ত্রী আয়শা বেগম (২৮), রাকিব (১৮) এবং প্রাইভেট কারের অজ্ঞাতপরিচয় চালক (২৫)।
আহতরা হলেন: আশরাফুল হোসেন (৭) ও তাছফিয়া (৩)। তারা সবাই প্রাইভেট কারের যাত্রী ছিলেন।
শিবচর হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রাইভেট কারটি ঢাকা থেকে যশোরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথে মালিগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডারবোঝাই একটি ট্রাক রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় দ্রুতগতির প্রাইভেট কারটি ট্রাকটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাকিব নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়।
শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালান। নিহত চালকের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়েছে।
ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ম্যানেজার আবু জাফর বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। দুর্ঘটনার পর প্রাইভেট কারের চালক ট্রাকের পেছনে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েছিলেন। পরে গাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ কেটে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে।
২ দিন আগে
রাজধানীতে দোকানে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ৩
রাজধানীর বংশালের টেকেরহাট লেনের পাওয়ার টুল স্কেলের দোকানের ভেতরে আগুন লেগে দগ্ধ হয়েছেন ৩ জন।
সোমবার (১ জুন) বেলা ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে তাদের দগ্ধ অবস্থায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে।
দগ্ধরা হলেন— দোকান কর্মচারী মিরাজ (২৫), ইফাত (২০) ও রকি (২৬)।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, আজ (সোমবার) দুপুরের দিকে বংশাল এলাকা থেকে তিন যুবককে দগ্ধ অবস্থায় জরুরী বিভাগের নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের মধ্যে মিরাজের শরীরের ২ শতাংশ, ইফাতের শরীরের ২৫ শতাংশ ও রকি শরীরের ২৩ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় রকি ও ইফাতকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দগ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে আসা দোকানের ম্যানেজার রাফিন জানান, আমাদের পাওয়ার টুল স্কেল দোকানের ভিতরে বিদ্যুৎ সুইচ দিলে হঠাৎ আগুন ধরে ৩ জন বিক্রেতা (সেলসম্যান) দগ্ধ হন। পরে আমরা দ্রুত তাদের জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসি। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
৩ দিন আগে
ডেমরায় স্টিল মিলে ভাট্টি বিস্ফোরণে দগ্ধ ৩
রাজধানীর ডেমরার জহির স্টিল মিলে ভাট্টি বিস্ফোরণে তিন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন।
রবিবার (৩১মে) সকালে ডেমরার বাসেরপুল এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে তাদের দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে।
দগ্ধরা হলেন— সাব্বির হোসেন (২৪), তোফাজ্জল হোসেন (৪৮) ও মাজেদ হোসেন (৫২)।
দগ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে আসা সহকর্মী আলামিন জানান, আমরা ডেমরা এলাকার একটি স্টিল মিলের কর্মচারী। আজ (রবিবার) সকালে বিভিন্ন ভাঙারি লোহা গলানোর জন্য ভাট্টিতে মাল দেওয়ার সময় বিস্ফোরণের হয়। এতে আমাদের তিনজন শ্রমিক দগ্ধ হলে দ্রুত তাদের জাতীয় বার্ন ইনিস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. শাওন বিন রহমান জানান, আজ সকালে ডেমরা এলাকার একটি স্টিল মিল থেকে দগ্ধ অবস্থায় তিনজন শ্রমিককে আমাদের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে। এদের মধ্যে সাব্বির হোসেনের শরীরে ৩৫ শতাংশ দগ্ধ, তোফাজ্জল হোসেনের শরীরে ২৩ শতাংশ এবং মাজেদ হোসেনের শরীরে ১ শতাংশ দগ্ধ রয়েছে। আহতদের মধ্যে সাব্বির এবং তোফাজ্জলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের আমরা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করেছি। অপরদিকে, দগ্ধের পরিমাণ কম থাকায় জরুরি বিভাগে মাজেদ হোসেনের চিকিৎসা চলছে বলে জানিয়েছেন ডা. শাওন বিন রহমান।
৪ দিন আগে
মানিকগঞ্জে বড় ভাইয়ের পরিবারকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা, নিহত ২
মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ভাবি ও ভাতিজাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাই ইউসুফ আলীর (৩৫) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের বড় ভাই আব্দুস ছালামও (৪০) গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (৩০ মে) জেলার দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা ইউনিয়নের ফকিরপাড়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন— আব্দুস ছালামের স্ত্রী আমেনা বেগম (২৮) এবং তাদের দেড় বছর বয়সী শিশুপুত্র আসওয়াদ।
এ ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ইউসুফ আলী পালিয়ে যান। গুরুতর আহত আব্দুস ছালামকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। শনিবার (৩০ মে) রাত ১০টার দিকে মো. ইউসুফ মোল্লা (৩৫) তার বড় ভাই সালাম মোল্লা (৪০) ও তার স্ত্রী আমেনার সঙ্গে পারিবারিক বিষয়ে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। বিতণ্ডার একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ইউসুফ ধারালো অস্ত্র নিয়ে ভাইয়ের বাড়িতে ঢুকে ভাবি আমেনা ও ভাতিজা আসওয়াদকে কুপিয়ে জখম করেন। এ ঘটনায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। এতে বাধা দিতে গেলে বড় ভাই আব্দুস ছালামও হামলার শিকার হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ইউসুফ মোল্লাকে তাৎক্ষণিক আটক করা যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে একটি দা ও একটি হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার সরকার বলেন, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
৪ দিন আগে
গাজীপুরে ট্রান্সমিটারের তার ছিঁড়ে নিহত এক, দগ্ধ ৩
গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীতে ট্রান্সমিটারের বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজন নিহত হয়েছে। এতে আরও ৩ জন দগ্ধ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে ) সকালে কোনাবাড়ীর পারিজাত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রবিউল ইসলাম (১৭) রাজশাহী জেলার মো. সোহেল মিয়ার ছেলে ছিল। সে ওই বিদ্যালয়-সংলগ্ন সেলিম মিয়ার বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করত।
দগ্ধ তিনজন হলেন— কোনাবাড়ী থানাধীন পারিজাত এলাকার মো. সোহান এর ছেলে তালহা (১০) এবং পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ এলাকার মৃত নুরুল হকের ছেলে মো. হাবিবুর রহমান (৫৬)। তিনি বর্তমানে পারিজাত এলাকার গাউছুল আজম জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অপরজন কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল থানাধীন সড়কঘাটা গ্রামের জামরুল ইসলামের ছেলে মো, নিরব (১০)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঈদের নামাজ শেষে ওই বিদ্যালয়-সংলগ্ন কাকলি নিবাসের সামনে হঠাৎ বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটারে ত্রুটি দেখা দেয়। একপর্যায়ে ট্রান্সমিটারের তার ছিঁড়ে নিচে পড়ে যায়। এ সময় তারের সংস্পর্শে এসে রবিউল ইসলাম বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। ঘটনাস্থলেই তার শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায় এবং মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় আরও তিনজন ঝলসে গেছে। আহতদের প্রথমে গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহতদের মধ্যে দুইজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। অপর একজন বর্তমানে তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ দুর্ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে জানিয়ে কোনাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিশ্বজিৎ মজুমদার বলেন, খবর পেয়ে কোনাবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
৭ দিন আগে