ঈদের ছুটির পর থেকে ফরিদপুরে গত ২৬ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গে নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৪৩৭ জন শিশু। এ সময়ে হাম ও হামের লক্ষণ নিয়ে প্রাণহানি হয়েছে ৬ শিশুর, যা অন্য সময়ের তুলনায় বেশি।
বুধবার (৩ জুন) ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান হাম সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্যে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৫ মার্চ থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিশ্চিত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ২৩৮ জন।
গতকাল (সোমবার রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার চন্ডীপর্দি গ্রামের বরকতের সাত মাস বয়সী ছেলে আয়ান এবং ফরিদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকার রাফসানের দুই বছর বয়সী মেয়ে আদিবা।
ফরিদপুর সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটি (গত ২৬ মে থেকে ২ জুন) পর্যন্ত ফরিদপুরে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গে নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৪৩৭ জন শিশু। আর এই সময় প্রাণহানি হয়েছে ৬ শিশুর, যা অন্য সময়ের চেয়ে বেশি।
এ ছাড়াও, আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে ১৫৭ জন। যার অধিকাংশই শিশু।
ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেক মানুষ গ্রামের বাড়িতে আসায় হামের সংক্রমণ কিছুটা বেড়েছে। তবে আমরা আশাবাদী, আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং রোগীর সংখ্যা কমে আসবে।’
তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজন হলে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও জানান, হামের বিস্তার রোধে টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের সময়মতো হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ফরিদপুর ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. নিরঞ্জন ভৌমিক জানান, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত শিশুর জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের হাম প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে।
তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে যারা গ্রামে এসেছে সে সকল অভিভাবকের শিশুদের মেডিকেল চেকআপ প্রয়োজন।
ডা. নিরঞ্জন আরও বলেন, দ্রুত শনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসা এবং শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে হামের বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।