ঢাকা
মানিকগঞ্জে গরুচোর সন্দেহে দুইজনকে পিটিয়ে হত্যা
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে গরুচোর সন্দেহে দুইজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের ইমাননগর গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে।
নিহতরা হলেন— উপজেলার দশআনি গ্রামের মজনু মিয়া (৩৫) এবং ছয়আনি গ্রামের দ্বীন ইসলাম (২৩)।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, রাত ২টার দিকে ইমামনগর গ্রামের শাকিলের বাড়িতে গরু চুরি করতে যান মজনু ও দ্বীন ইসলাম। এ সময় বাড়ির লোকজন ও গ্রামবাসী টের পেয়ে তাদের ধাওয়া করে ধরে ফেলেন। এরপর উত্তেজিত জনতা তাদের পিটুনি দেন। এতে গুরুতর আহত হন মজনু ও দ্বীন ইসলাম।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত দুজনকে উদ্ধার করে সিংগাইর উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করার পরামর্শ দেন। এরপর রাতেই তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়। তবে আজ (সোমবার) সকাল ৬টার দিকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয় বলে জানান ওসি।
তিনি আরও জানান, লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। নিহত মজনু ও দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে সিংগাইর থানায় একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৪৬ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে খালে ভাসছিল ড্রাম, খুলতেই মিলল মরদেহ
সিদ্ধিরগঞ্জে খালে ভাসতে থাকা একটি ড্রামের ভেতর থেকে এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে দক্ষিণ কদমতলীর নয়াপাড়া খাল থেকে উদ্ধার করা হয় বলে জানান সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক।
নিহতের নাম মো. আলী (৩২)। তিনি ভোলার চরফ্যাশনের সাহাবুদ্দিনের ছেলে। মরদেহের আঙুলের ছাপ নিয়ে প্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানান ওসি।
ঘটনাস্থলে যাওয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুর আলম সিদ্দিকী বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খালে ড্রামটি ভাসতে দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে ড্রামটি তীরে নিয়ে খুললে ভেতরে মরদেহ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে ওসি আব্দুল বারিক বলেন, নীল রঙের ড্রামটির ভেতর একটি রশি এবং নিহতের শরীরে আঘাতের বেশকিছু চিহ্নও পাওয়া গেছে। ওই ব্যক্তিকে হত্যার পর রাতের কোনো একসময় ড্রামের ভেতর লাশ ভরে খালে ফেলা হয়েছে বলে নিজের ধারণার কথা জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।
৪৬ দিন আগে
মিরপুরের বাসায় ঝুলছিল শিক্ষার্থীর মরদেহ
রাজধানীর মিরপুর এলাকার একটি বাসায় সানজানা ইসলাম মিম (১৯) নামে এক শিক্ষার্থীর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি মিরপুরের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল ও কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান তার স্বজনরা। সেখানে জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক মেয়েটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত মিম বরগুনার চাঁদখালি এলাকার সাখাওয়াত মৃধার মেয়ে। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি।
নিহতের ভাই জানান, ‘আমার বোন মেধাবী ছাত্রী ছিল। আমাদের সকলের অগোচরে একটি ছেলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়েছিল। পরে ওই ছেলের সঙ্গে অভিমান করে আজ সকালে নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে রাখে সে। বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেলে তার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে আমরা দরজা ভেঙে দেখি ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছে মিম। পরে দ্রুত অচেতন অবস্থায় তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানান, আমার বোন আর বেঁচে নেই।
পুলিশ কর্মকর্তা মো. ফারুক বলেন, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
৪৮ দিন আগে
কুমিল্লায় সমাহিত হলেন উত্তরায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৩ জন
রাজধানীর উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের তিনজনকে কুমিল্লায় তাদের নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া কাজী বাড়ি প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
এর আগে, গতকাল (শুক্রবার) রাতে কুমিল্লা নগরীর দারোগা বাড়ি মাজার প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে নানুয়াদিঘীর বাসভবনে মরদেহগুলো রাখা হয়।
আজ সকালে মরদেহগুলো তাদের নিজ গ্রামে নিয়ে গেলে এলাকায় শোকের আবহ সৃষ্টি হয়। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীসহ এলাকাবাসী নিহতদের এক নজর দেখার জন্য কাজী বাড়িতে ছুটে আসেন।
জানাজার নামাজে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ এলাকার শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
গতকাল রাজধানীর উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের একটি বহুতল ভবনে আগুন লেগে কাজী ফজলে রাব্বী (৩৭), তার স্ত্রী আফরোজা বেগম সুবর্ণা (৩০) এবং তাদের সন্তান কাজী ফায়াজ রিশান (৩) নিহত হন।
একমাত্র ছেলে রাব্বী, পুত্রবধূ ও আদরের নাতিকে হারিয়ে শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন কাজী খোরশেদল আলম ও ফেরদৌস আরা বেগম দম্পতি। রাব্বীর মা কুমিল্লার নবাব ফয়জুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
ঢাকায় জানাজা শেষে মরদেহ রাতেই কুমিল্লায় নানুয়ার দিঘীরপাড়ের বাসায় আনা হয়। এরপর পার্শ্ববর্তী দারোগা বাড়ি জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আজ (শনিবার) সকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া কাজী বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
৪৮ দিন আগে
উত্তরায় অগ্নিকাণ্ড: ময়মনসিংহে পাশাপাশি সমাহিত হলেন এক পরিবারের ৩ জন
রাজধানীর উত্তরায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬ জনের মধ্যে তিনজনের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে। একই পরিবারের ৩ সদস্যের মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ পড়েছে পুরো গ্রাম। অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাবা, ছেলে ও ভাতিজিকে পাশাপাশি তিনটি কবরে দাফন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে বাড়ির পাশে জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, ঈশ্বরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের হাফিজ উদ্দিনের ছেলে হারেছ উদ্দিন (৪৭) ও শহীদুল ইসলাম (৪২) কাজের সন্ধানে ১৯৯৪ সালে ঢাকায় যান। দুই ভাই পরিবার নিয়ে রাজধানীর উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের একটি বাসায় বসবাস করতেন। উত্তরা জমজম এলাকায় ফলের ব্যবসা করতেন তারা। গতকাল (শুক্রবার) সকালে ওই বাসায় অগ্নিকাণ্ডে হারেছ উদ্দিন, তার ছেলে রাহাব চৌধুরী (১৭) ও ভাই শহীদুল ইসলামের মেয়ে রোদেলা আক্তার (১৫) নিহত হয়। রাহাব উচ্চমাধ্যমিক ও রোদেলা অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ঈশ্বরগঞ্জের দড়িপাঁচাশি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, দড়িপাঁচাশি দারুর রহমান হাফিজিয়া মাদরাসা-সংলগ্ন মসজিদের পাশে পাশাপাশি তিনটি কবর খোঁড়া হয়েছে। মসজিদের সামনে বাঁশ কেটে রাখা হচ্ছে।
মসজিদের ইমাম ও খতিব আবদুল আজিজ বলেন, মাদরাসা ও মসজিদে নিয়মিত সহযোগিতা করতেন হারেছ উদ্দিন। এমন ভালো মানুষের মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না।
হারেছের দোকানে একসময় কাজ করতেন মনির হোসেন। তিনি বলেন, তিনি দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে এবং শহীদুল ইসলাম স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে বাসাটিতে থাকতেন। হারেছের তিন বছরের ছেলে আরহান চৌধুরীকে নিয়ে স্ত্রী মিরপুরে বেড়াতে গিয়েছিলেন। শহীদুলের স্ত্রী সকালে ছেলেকে নিয়ে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। তিনি দোকানে চলে গিয়েছিলেন। এ সময় অগ্নিকাণ্ডে পরিবারের অন্য তিনজন মারা যান।
হারেছের চাচা নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা বেলা ১১টার দিকে মৃত্যুর খবর পাই। অগ্নিকাণ্ডে ৩ জন মানুষ মারা গেল। এমন মৃত্যুতে আমরা সবাই শোকাহত।
এই অগ্নিদুর্ঘটনায় মোট ৬ জন নিহত হয়েছে। অন্য তিনজনের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায়। তাদেরও নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।
৪৮ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে ছুরিকাঘাতে গৃহবধু খুন, গণপিটুনিতে অভিযুক্ত যুবক নিহত
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মোবাইল চুরিকে কেন্দ্র করে আমেনা বেগম (৪৫) নামের এক গৃহবধূকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় মেহেদী ইসলাম (৩২) নামের এক যুবককে খুনের অভিযোগে আটক করে পিটুনি দিয়ে হত্যা করেছে এলাকাবাসী।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কেরাবো মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আমেনা বেগম কেরাবো এলাকার বাবুল দেওয়ানের স্ত্রী। এছাড়া গণপিটুনিতে নিহত মেহেদী ইসলাম বিরাবো খালপাড় এলাকার মোস্তফা মিয়ার ছেলে। মেহেদী পেশায় টাইলস মিস্ত্রি ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, কেরাবো এলাকার মুদি দোকানি বাবুল দেওয়ান নিজ বাড়িতে পাকা বাড়ি নির্মাণ করছিলেন। ওই বাড়িতে টাইলস বসানোর কাজ দেওয়া হয় মেহেদীকে। সেই থেকে আমেনাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন তিনি।
তারা জানান, গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যায় আমেনা বেগমের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় মেহেদীকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন আমেনা বেগম। এ সময় আমেনার কাছ থেকে ছুটে যেতে জোরাজুরি করতে থাকেন তিনি। একপর্যায়ে নিজের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে আমেনার গলায় আঘাত করেন মেহেদী। এরপর শরীরের বিভিন্ন স্থানেও অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন তিনি।
এ সময় আমেনা বেগম মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ছটফট করতে শুরু করেন। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এসে অভিযুক্ত মেহেদীকে আটক করে ফেলেন। পরে স্থানীয়রা পিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই মেহেদী নিহত হন।
অপরদিকে আমেনা বেগমকে মুমূর্ষ অবস্থায় স্থানীয় জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বলেন, মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুইটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
৪৮ দিন আগে
শরীয়তপুরে বোমা বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ৩, গ্রেপ্তার ১২
শরীয়তপুরের জাজিরায় ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ল। সর্বশেষ গুরুতর আহত নয়ন মোল্লা (২৫) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৯টার দিকে মারা যান। এ নিয়ে মোট ৩ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ৮ জানুয়ারি ভোরে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারীকান্দি গ্রামে বোমা তৈরির সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই সোহান বেপারী (৩২) নিহত হন। ওইদিন বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নবীন হোসেন সরদার (২২)।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, ভোরে বোমা তৈরির সময় একটি টিনের ঘরে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। ঘরের চালা উড়ে গিয়ে পাশের রসুনখেতে প্রায় আধা কিলোমিটার দূর থেকে সোহান বেপারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় নয়ন মোল্লা ও নবীন হোসেনকে প্রথমে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
ঘটনার পরদিন ৯ জানুয়ারি ভোরে জাজিরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় ৫৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামে আরও ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
‘এরপর শনিবার ও সোমবার ঘটনাস্থলে পুলিশ, সেনাবাহিনী, ডগ স্কোয়াড, অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের বোমা ডিসপোজাল টিম ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট যৌথ অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে গান পাউডার, স্প্রিন্টার, কাচের টুকরা, তারকাঁটা, স্কচটেপ, জর্দার কৌটা ও মার্বেল পাথরসহ বোমা তৈরির নানা আলামত উদ্ধার করা হয়।
পরে বিলাসপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে ৪৫টি বোমাসদৃশ বস্তু, ককটেল, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি, বড় হ্যামার, কুড়াল, মাছ ধরার কোচ, বিদেশি চাকু এবং একটি ড্রোন উদ্ধার করা হয়।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যেখানে বিস্ফোরণ ঘটে সেই টিনশেড ঘরটি দুই মাস আগে আবু সিদ্দিক বেপারীর ছেলে সাগর বেপারী নির্মাণ করেন। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক সহ-সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারী এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য আবদুল জলিল মাদবরের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে অতীতে সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে।
গত বছরের ৫ এপ্রিল ও ২ নভেম্বর একই ইউনিয়নে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পৃথক মামলা হয়। তখন কুদ্দুস বেপারী ও জলিল মাদবর গ্রেপ্তার হলেও পরে কুদ্দুস জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপনে চলে যান। জলিল মাদবর এখনও কারাগারে রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বোমা তৈরির সময় নিহত সোহান বেপারী কুদ্দুস বেপারীর অনুসারী ছিলেন এবং মামলার প্রধান আসামি নুরুল ইসলাম বেপারীর নির্দেশে কাজ করতেন। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় পুনরায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মদ বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৫০ দিন আগে
টঙ্গীতে আন্দোলন চলাকালে শতাধিক পোশাক শ্রমিক অসুস্থ
বেতন পরিশোধের দাবিতে গাজীপুরের টঙ্গীতে আন্দোলন চলাকালে ব্রাভো অ্যাপারেলস লিমিটেডের দুইটি কারখানার অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
বুধবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে হঠাৎ করে একের পর এক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়া হয় তাদের।
অসুস্থ শ্রমিকদের মধ্যে মা আওয়ার টাওয়ার ও আলম টাওয়ারে অবস্থিত কারখানার শ্রমিকরাই বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের দ্রুত টঙ্গী সরকারি হাসপাতালসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, আক্রান্ত শ্রমিকদের অধিকাংশই বমি, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা ও অস্বস্তিজনিত উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জরুরি বিভাগে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক রোগী আসায় কিছু সময়ের জন্য হাসপাতাল চত্বরে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও কারখানা সূত্র জানায়, নভেম্বর মাসের বেতন পরিশোধ না হওয়ায় শ্রমিকরা রবিবার (১১ জানুয়ারি) সারা দিন কর্মবিরতি ও আন্দোলন করেন। একই দাবিতে পরদিন সোমবার সকালে কাজে যোগ দিয়েও তারা পুনরায় আন্দোলন শুরু করেন। আন্দোলনের মধ্যেই হঠাৎ একে একে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করেন। তবে কী কারণে তারা অসুস্থ হয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাহিদ সুলতানা বলেন, আক্রান্ত শ্রমিকদের মধ্যে প্যানিক অ্যাটাক, বমি ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে অধিকাংশ শ্রমিকই আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, অসুস্থতার পরিপ্রেক্ষিতে গার্মেন্টস কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহ তদন্ত করছে।
৫১ দিন আগে
পদ্মায় কুমির, রাজবাড়ীর নদীপাড়ে আতঙ্ক
রাজবাড়ী সদর উপজেলার পদ্মা নদীতে মাঝারি আকারের একটি কুমিরের দেখা মিলেছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) উপজেলার উড়াকান্দা এলাকায় পদ্মা নদীতে দুপুরের পর মাঝেমধ্যে কুমিরটিকে ভেসে উঠতে দেখেন স্থানীয়রা। এর আগেও একাধিকবার কুমিরটিকে দেখা গেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বরাট ইউনিয়নের ২৮ নম্বর উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পদ্মা নদীতে গত দুই দিন ধরে মাঝেমধ্যে একটি কুমির ভেসে উঠতে দেখা যাচ্ছে। নদীর ওই জায়গায় স্থানীয়রা নিয়মিত গোসল করেন। ফলে তাদের মধ্যে বাড়তি আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
উড়াকান্দা এলাকার বাসিন্দা শামীম মোল্লা জানান, গত তিন দিন ধরে মাঝেমধ্যে কুমিরটি ভেসে উঠছে। সকালে এক গৃহবধূ নদীতে কাপড় ধোয়ার জন্য গেলে কুমিরটি দেখে ভয়ে চিৎকার করে পালিয়ে যান।
২৮ নম্বর উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদুল হাসান বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুরে স্থানীয় লোকজন কুমির দেখতে নদীর পাড়ে ভিড় করেন। হঠাৎ বিদ্যালয়ের সামনে নদীতে কুমির দেখতে পাওয়ায় আমরাও আতঙ্কের মধ্যে আছি। কারণ অনেক সময় স্থানীয়দের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও নদীতে গোসল করে থাকে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
আজ (বুধবার) সকালে রাজবাড়ী সামাজিক বনায়ন নার্সারি এবং প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সহকারী বন সংরক্ষক (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) সানজিদা সুলতানা বলেন, গতকাল বিকেলে আমরা পদ্মা নদীতে কুমির দেখা পাওয়ার খবর জানতে পেরেছি। এলাকাবাসীর সচেতনতার জন্য আজ এলাকায় মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করেছি।
তিনি বলেন, কুমিরের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য বন বিভাগ কয়েকদিন নদীপাড়জুড়ে পাহারা দেবে। এরপর কুমিরটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিরুপমা রায় বলেন, গতকাল রাত ৮টার পর আমি কুমিরের বিষয়টি জানতে পারি। এরপর উড়াকান্দা এলাকার পদ্মা নদীতে আপাতত কেউ যাতে না নামেন, সেজন্য আজই নদীপাড়ে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড স্থাপন এবং লাল কাপড় টানাতে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বলেছি।
পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন থেকেও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বাড়তি নজরদারি করতে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।
৫১ দিন আগে
ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার ও জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত নারী-পুরুষ মিলিয়ে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের সড়ইবাড়ি গ্রামে এ সংঘর্ষ হয়।
স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষের শুরুর দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তা নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হয় পুলিশ। ফলে প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ আসার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে সেখানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আরও সংঘর্ষ এড়াতে এলাকাজুড়ে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, গত দুই দিনে দুই দফায় তালুকদার গ্রুপের লোকজন অন্যায়ভাবে খান গ্রুপের লোকজনকে মারধর, বসতঘর ভাঙচুর ও হামলা চালায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ সকালে শুরু হয় পাল্টা হামলা।
তবে পুলিশের সঠিক তৎপরতা থাকলে ঘটনা এতদূর গড়াত না বলে দাবি তাদের। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েও পুলিশের নীরব ভূমিকার কারণে পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সংঘর্ষে এক পক্ষের নেতৃত্ব দেওয়া কবির মাতুব্বর জানান, গত পরশুদিন (রবিবার) তার পক্ষের লোকজনকে মারধর, বসতঘরে হামলা ও লুটপাট চালায় প্রতিপক্ষ তালুকদারের লোকজন। তার জের ধরে আজকে (মঙ্গলবার) এ সংঘর্ষ হয়।
প্রতিপক্ষের হাবিবুর রহমান তালুকদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে, তার পক্ষের শওকত হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দীর্ঘদিনের বিরোধ নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। আজও তার জেরেই সংঘর্ষ হয়েছে। এতে তাদের পক্ষের প্রায় ১২ জন আহত হয়েছেন।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম জানান, হাবিবুর রহমান তালুকদার ও কবির খান গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছে। গত ২ দিন আগে কবির খানের পক্ষের লোক শহীদ খানকে গ্রামের রাস্তার ওপরে বেদম মারধর করে। তারপর গত দুই দিনে এই নিয়ে দুই দফায় কবির খানের পক্ষের লোকজনের বসতঘর ভাঙচুর, লুটপাট চালানো হয়। সেসব ঘটনার জের ধরেই আজ (মঙ্গলবার) সকালে দেশীয় অস্ত্র, ঢাল-সড়কি নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান দুই পক্ষের লোকজন।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় আহতদের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি। তবে সকাল ১০টার পর থেকে সেখানকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
৫২ দিন আগে