খুলনা
ঈদের দিনে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় চুয়াডাঙ্গায় যুবক নিহত
ঈদের দিনে ঘুরতে বের হয়ে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সুরুজ (১৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হৃদয় নামে আরও এক আরোহী আহত হয়েছেন।
শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কের ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সুরুজ চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ইসলামপাড়ার বাসিন্দা স্বপনের ছেলে। আহত হৃদয় একই পৌর এলাকার শ্মশানপাড়ার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন ঘুরতে বের হয়ে দুই যুবক মোটরসাইকেলে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটির কাছাকাছি এলাকায় পৌঁছালে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই তারা গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুরুজকে মৃত ঘোষণা করেন এবং আহত হৃদয়কে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ওয়াহেদ মাহমুদ রবিন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই সুরুজের মৃত্যু হয়েছে। আহত অপর ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। বিস্তারিত জানার জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে।
৭৫ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে মিলল নবজাতকের মরদেহ
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পুকুর থেকে এক নবজাতকের ( মেয়ে শিশু) বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের খাগড়বাড়িয়া গ্রামের আজিজুর রহমানের পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য সেটি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মাছ ধরতে গিয়ে স্থানীয় ছেলেরা পুকুরে একটি বস্তা পান। পরে তা উপরে তুলে দেখা যায় একটি নবজাতক শিশুর মরদেহ। শিশুটির ওজন প্রায় দুই কেজি হলেও তার বাবা-মায়ের পরিচয় জানা যায়নি। এতে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে একনজর মরদেহটি দেখতে ছুটে আসেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে পান্টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ আলী বাদল জানান, সড়কের ধারেই আজিজুরের বড় পুকুর রয়েছে। সেখানে কয়েকজন হাত দিয়ে মাছ ধরছিল। এ সময় এক ছেলের হাতে একটি বস্তা উঠে আসে। তখন তারা ভেবেছিল বস্তায় মাছ আছে। কিন্তু বস্তার মুখ খুলে দেখা যায় একটি মেয়ে নবজাতকের মরদেহ। এ খবর মুহূর্তেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা ভিড় করেন।
বাদলের ভাষ্য, কেউ হয়তো শিশুটিকে বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে গেছেন। শিশুটির ওজন প্রায় দুই কেজি। তবে বাবা-মায়ের পরিচয় জানা যায়নি।
ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, স্থানীয়রা মাছ ধরতে গিয়ে পুকুর থেকে এক মেয়ে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি মর্গে পাঠানো হয়েছে।
৭৭ দিন আগে
কয়েক সেকেন্ডের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড আলমডাঙ্গার দুই গ্রাম, নিহত ১
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় কয়েক সেকেন্ডের ঝড়ে দুইটি গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এ সময় দেওয়াল চাপা পড়ে আকমান আলী (৭০) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন, তবে আহতদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানা যায়নি।
বুধবার (১৯ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার হারদি ইউনিয়নের হারদি ও উদয়পুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে অন্তত ২০টি বাড়িঘর আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। এতে কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন।
কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টির কারণে গৃহহীন হয়ে পড়া অন্তত অর্ধশতাধিক পরিবার দুর্ভোগে পড়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল এবং হারদি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশিকুজ্জামান ওল্টু।
আলমডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। সড়কের ওপর পড়ে থাকা গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরে নিরূপণ করা হবে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
৭৭ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় মা-চাচির ঝগড়ার বলি আড়াই বছরের নুজাইফা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মা-চাচির ঝগড়ার জেরে প্রাণ দিতে হলো আড়াই বছরের শিশু নুজাইফা আক্তারকে। অভিযোগ উঠেছে, নিজের ছোট চাচি কল্পনা আক্তার (১৫) শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তার মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে উপজেলার দক্ষিণ দাড়ের পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নুজাইফা ওই গ্রামের আব্দুর রহমানের মেয়ে বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।
তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কল্পনা আক্তার স্বীকার করেছেন যে, শিশু নুজাইফার মা প্রিয়া খাতুনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। সেই ক্ষোভ থেকে তিনি নুজাইফাকে বাড়ির পাশের একটি মেহগনি বাগানে নিয়ে যান। সেখানে নিজের ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে শিশুটিকে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে শিশুটির মরদেহ গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যান।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার বিকেল ৪টার দিকে বাগানে শিশুটিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় গ্রামবাসী। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্থানীয়রা অভিযুক্ত কল্পনা ও তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে কল্পনা তার অপরাধ স্বীকার করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল।
ওসি আরিফুর রহমান জানান, শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
৭৭ দিন আগে
বাবার হাতেই অপহরণের শিকার ৮ বছরের শিশু, উদ্ধার করল পুলিশ
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় এক ব্যক্তি তারই সন্তানকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করেছেন। তবে পুলিশি অভিযানে সিয়াম (৮) নামের ওই শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত ১১টার দিকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সিয়ামের বাবা তার এক সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে তাকে অপহরণ করেন। পরে তাকে একটি নির্জন বাগানে বেঁধে গলায় ধারালো হাসুয়া ধরে তার মায়ের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দাবি করা অর্থ না দিলে শিশুটিকে হত্যা করে মরদেহ গুম করারও হুমকি দেন তারা।
ঘটনার খবর পেয়ে জীবননগর থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের টিম মাঠে নামে। অভিযানের একপর্যায়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে জীবননগর থানার পাকা দাসপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীর বাবা মো. আজিজুল (২৮) এবং তার সহযোগী মো. আক্তারকে (২৬) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় অপহরণের শিকার হওয়া সিয়ামকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
অভিযানকালে ভুক্তভোগীর জীবন রক্ষার্থে বিকাশের মাধ্যমে দেওয়া ১০ হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে ৭ হাজার টাকা এবং অপহরণে ব্যবহৃত একটি ধারালো হাসুয়া জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, শিশুটির মা বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সিয়ামকে অপহরণ করেন তার বাবা। শিশুটিকে জিম্মি করে গলায় ধারালো অস্ত্র ধরে ছবি তুলে তার মায়ের মুঠোফোনে ছবি পাঠান তারা। ওই নারীর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যেই এ নৃশংস ঘটনা ঘটানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় মামলা হয়েছে।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে শিশুটিক উদ্ধার করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে তারা সর্বদা কঠোর অবস্থানে নিয়েছেন। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
৭৮ দিন আগে
যশোরের চরমপন্থি নেতা গোফরান ও তার সহযোগী গ্রেপ্তার
যশোরের অভয়নগরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের আরেক নাম হয়ে ওঠা চরমপন্থি নেতা নাসির শেখ গোফরান ও তার সহযোগী সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
শনিবার (১৪ মার্চ) খুলনার রূপসা উপজেলা থেকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার মো. নাসির শেখ গোফরান (৪০) বাগেরহাটের রামপাল থানার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। মো. সোহেল রানা (২৮) বাগেরহাটের রূপসা থানার আলাইপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানিয়েছে, গোফরান ‘বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি’র নেতা পরিচয়ে একটি সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলে যশোর, খুলনা ও নড়াইলজুড়ে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলবাজির রাজত্ব চালিয়ে আসছিল। তার বিরুদ্ধে রয়েছে অস্ত্র, হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ ২০টিরও বেশি মামলা রয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে যশোর জেলা পুলিশের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) আবুল বাশার জানান, গত ১ মার্চ গভীর রাতে অভয়নগরের গোপিনাথপুর গ্রামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে গোফরান বাহিনী। সে সময় তারা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গোফরান বাহিনী নগদ ২০ হাজার টাকা, মোটরসাইকেল, ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।
এই ঘটনার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে চক্রটি। তাদের ধরতে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়। ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযান চালিয়ে গত শনিবার খুলনার রূপসা উপজেলার জাবুসা গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করেন।
৮০ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় ডিবি পরিচয়ে ছিনতাইয়ের চেষ্টা, গণপিটুনি
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ডিবি পুলিশের পোশাক পরে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে দুই প্রতারককে আটক করেছেন স্থানীয়রা। পরে তাদের গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের পীচমোড় চিংড়িখালী সেতু এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক দুজন হলেন— ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার বাজারপাড়া এলাকার রিজভী সালমান রহমান (২৯) ও একই উপজেলার গাবতলাপাড়া গ্রামের আহাদ আলী (৩৫)।
স্থানীয়রা জানান, আজ (সোমবার) দুপুর ১২টার দিকে ডিবি পুলিশের পোশাক পরে কয়েকজন ব্যক্তি চিংড়িখালী সেতু এলাকায় এক নারীর কাছ থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয় লোকজন তাদের ধাওয়া করলে দুজন ধরা পড়েন। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাদের গণপিটুনি দেন এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করেন। তবে তাদের সঙ্গে থাকা আরও চারজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে। আটক দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৮০ দিন আগে
খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবদল নেতা নিহত
খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে রাশিকুল আনাম রাশু নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে নগরীর দৌলতপুর থানার কেডিএ কল্পতরু মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবক দৌলতপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি দৌলতপুর থানাধীন দেয়ানা এলাকার বাসিন্দা শরীফুল আনামের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, রাশু রাজনীতির পাশাপাশি কেডিএ কল্পতরু মার্কেটের পাশে ইট বালুর ব্যবসা করতেন। সোমবার সকালে তিনি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ছিলেন। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে একটি গুলি মাথায় বিদ্ধ হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দৌলতপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
৮০ দিন আগে
ডাকাতি করতে না পেরে দুই লাখ টাকা ‘চাঁদা দাবি’
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় এক শিক্ষকের বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে পরে চাঁদা দাবির ঘটনা ঘটেছে। ওই বাড়িতে ডাকাত দল ঢোকার ৫ মিনিটের মধ্যেই রুখে দাঁড়ায় গ্রামবাসী। এরপর ফিরে যাওয়ার সময় দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে গেছে দুর্বৃত্তরা।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার জানিপুর ইউনিয়নের ঈশ্বরদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জীমুত বিশ্বাস স্থানীয় কলিমহর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বাড়ির অসুস্থ কর্তা জীমুত বাহন নিজের ঘরে রাতের খাবার খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় মুখ বাঁধা ৮ জন ডাকাতের একটি দল তার ঘরে ঢুকে পড়ে। তাদের কারো হাতে আগ্নেয়াস্ত্র, আবার কারো হাতে দেশীয় ধারালো অস্ত্র ছিল। এই দৃশ্য দেখে জীমুতের স্ত্রী সূচিত্রা বিশ্বাস আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করে উঠলে ডাকাতরা তৎক্ষণাৎ তাকে কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে গ্রামবাসী এগিয়ে এলে ডাকাতরা বাড়ির পেছনের মাঠ দিয়ে পালিয়ে যায়। তবে যাবার আগে তারা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ঘটনার পরপরই গৃহকর্তার ফোন পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
জীমুত বিশ্বাস জানান, ৮ জন ডাকাত তার ঘরে ঢুকেছিল। তাদের প্রত্যেকের মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। কয়েকজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তারা পরিবারের লোকদের এক ঘরে জিম্মি করার চেষ্টা করে। তবে তাদের চিৎকারে পাশের কালীমন্দির এলাকার দোকানে বসা কয়েকজন এগিয়ে এলে ৫ মিনিটের মধ্যেই ডাকাতরা পালিয়ে যায়। তবে যাওয়ার আগে তারা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে যায়। কোথায় টাকা পাঠাতে হবে, তা ফোনে জানাবে বলে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ঈশ্বরদীসহ আশপাশের গ্রামগুলো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। আগে এসব গ্রামে সন্ত্রাসীদের উপদ্রব ছিল না। হঠাৎ করে তার বাড়িতে এমন একটি ঘটনা ঘটায় তিনি আতঙ্কিত হয়েছেন। অপরাধীদের চিহ্নিত করার জন্য তিনি থানায় অভিযোগ করবেন। এ সময় দোষীদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তির দাবি করেন তিনি।
জানিপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, তাদের এলাকায় ডাকাত বা সন্ত্রাসীদের উপদ্রব ছিল না। হঠাৎ করে এরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এদের প্রতিহত করা খুবই জরুরি।
খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোশারফ হোসেন বলেন, তেমন কিছু হয়নি। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার সময় কিছু লোক ওই বাড়িতে ঢুকে দুই লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছে বলে বাড়ির মালিক দাবি করছেন। কিন্তু ওই বাড়ির পাশে কিছু লোক তাস খেলছিল। তারাও জানে না ডাকাতির এই ঘটনা। তবে ওই বাড়িওয়ালারা যা বলছে, বিষয়টি ওরকম নাও হতে পারে।
৮১ দিন আগে
ঝিনাইদহে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে কৃষকদল নেতা নিহত, মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষে নিহত কৃষকদল নেতা তরু মুন্সীর মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা।
শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে ঝিনাইদহ মর্গ থেকে ময়নাতদন্তের পর মরদেহ নিয়ে ঝিনাইদহ শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে দলের হাজারো নেতা-কর্মী।
মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে হামদহ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, আব্দুল মজিদ বিশ্বাস ও নিহতের ছেলে ছাত্রদল নেতা শিপন মুন্সীসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।
অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ তার বক্তব্যে বলেন, জামায়াত ও শিবিরের নেতা-কর্মীরা কৃষকদল নেতা তরু মুন্সীকে বাঁশ দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহন হন। আঘাতজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। বিএনপি এই ন্যক্কারজনক হত্যার বিচার চায়।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসুচি দিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাবে।
জামায়াত ও শিবিরের উদ্দেশে তিনি বলেন, এক সঙ্গে আমরা হাসিনার মতো ফ্যাসিস্ট হটিয়েছি। এখন দেশ গড়ার সময়। তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে আপনারা মানুষের জীবন নিয়ে খেলবেন না।
পুলিশ জানায়, মরদেহ নিয়ে মিছিল ও সমাবেশ শেষে সেটি তার গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে পৌছায়। সেখানে দুপুর আড়াইটার দিকে জানাজা শেষে মাধবপুর কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
জানাজায় জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদসহ জেলা, উপজেলা, ইউনিয়নের স্থানীয় শত শত নেতা-কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
অপরদিকে, জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তরু মুন্সীর স্ট্রোকজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে। আজ (শনিবার) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আমির ড. মো. হাবিবুর রহমান এ দাবি করেন।
তিনি বলেন, মাধবপুর গ্রামে মহিলা জামায়াতের ইফতার মাহফিল ছিল। সেখানে বিএনপির লোকজন গিয়ে নারীদের মারধর ও শ্লীলতাহানি করেন। এ কারণে স্থানীয় জামায়াত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এতে দুপক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। তরু মুন্সী শারিরীকভাবে অসুস্থ ছিলেন। মারামারির কারণে তিনি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে স্ট্রোক করেন। এ মৃত্যু নিয়ে অপরাজনীতি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গতকাল (শুক্রবার) দুপুরে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে জামায়াতের মহিলা শাখার ইফতার ও তালিম নিয়ে বিরোধের জের ধরে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তরু মুন্সীর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। নিহত তরু ইউনিয়ন কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
৮২ দিন আগে