খুলনা
বাগেরহাট কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন ২৩ ভারতীয় জেলে
বাগেরহাট জেলা কারাগারে বন্দি থাকা ভারতীয় ২৩ জন জেলে মুক্তি পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে আদালতের নির্দেশে কারা কর্তৃপক্ষ কোস্টগার্ডের কাছে তাদের হস্তান্তর করেন। এ সময় ভারতীয় দুতাবাসের কর্মকর্তা, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন। পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা নিরপত্তা দিয়ে ভারতীয় ওইসব জেলেদের মোংলায় নিয়ে যান।
আগামী পরশু (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমার মধ্যবর্তী স্থানে ভারতীয় কোস্টগার্ড সদস্যদের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হবে বলে জানায় কারা কর্তৃপক্ষ।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলাদেশ জলসীমায় অনুপ্রবেশ করে মাছ ধরার অপরাধে নৌবাহিনীর সদস্যরা গত অক্টোবর মাসে দুই দফায় ওই ২৩ জন জেলেকে আটক করেন। এর মধ্যে একটি ট্রলারসহ ১৪ জনকে এবং অপর একটি ট্রলারসহ ৯ জনকে আটক করা হয়েছিল। পরে বাগেরহাটের মোংলা থানায় হস্তান্তর করে তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বাংলাদেশ জলসীমায় প্রবেশ এবং মাছ ধরার অপরাধে সমুদ্র মৎস্য আইনে মামলা করা হয়।
পরে পুলিশ তাদের বাগেরহাট জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠালে বিচারক জেলা কারাগারে পাঠান।
বাগেরহাট জেলা কারাগারের সুপার মো. মোস্তফা কামাল জানান, বাংলাদেশ জলসীমা থেকে আটক ভারতীয় ১৪ জেলে ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর এবং ৯ জেলে ২৪ অক্টোবর আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে আসেন। চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি বাগেরহাটের আদালত থেকে ভারতীয় ওই ২৩ জেলেকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর ২৫ জানুয়ারি স্বারাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আদেশ আসে। আদেশ মোতাবেক তাদের কারগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানান মোস্তফা কামাল।
কোস্টগার্ড মোংলা পশ্চিম জোনের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সেলিম বিশ্বাস জানান, বাগেরহাট জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ আজ (মঙ্গলবার) ভারতীয় ২৩ জেলেকে তাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। আগামীকাল (বুধবার) সকালে মোংলা থেকে কোস্টগার্ড সদস্যরা ওই জেলেদের নিয়ে সমুদ্র পথে রওনা হবেন। এরপর বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমার মধ্যবর্তী স্থানে ভারতীয় কোস্টগার্ডের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত ৭ ডিসেম্বর বাগেরহাট জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে আরও ৪৭ জন ভারতীয় জেলে দেশে ফিরে গেছেন।
৩৮ দিন আগে
যশোরে নেশার টাকা না পেয়ে বাবা-মাকে কুপিয়ে পালিয়েছে ছেলে
নেশার টাকা না পেয়ে নিজের বাবা-মাকে বটি দিয়ে কুপিয়ে এবং লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে এক যুবক। এরপর থেকে পলাতক রয়েছেন তিনি।
রবিবার (২৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সাতমাইল হৈবতপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— ওই গ্রামের আছির উদ্দিন (৭০) ও তার স্ত্রী রোকেয়া (৬০)। আহত দম্পতি বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও আহতদের কাছ থেকে জানা যায়, গতকাল (রবিবার) গভীর রাতে আছির উদ্দিনের ছোট ছেলে সাদ্দাম তার বাবা-মায়ের কাছে নেশার জন্য টাকা দাবি করেন। তবে তারা টাকা দিতে অস্বীকার করায় ক্ষিপ্ত হয়ে সাদ্দাম প্রথমে তার বাবা-মাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। পরে বটি দিয়ে দুজনেরই বাঁ হাতে আঘাত করেন। এতে তারা আহত ও রক্তাক্ত হন। আহতদের আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এলে সাদ্দাম পালিয়ে যান। এরপর প্রতিবেশীরা আহত আছির উদ্দিন ও তার স্ত্রীকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. বিচিত্র মল্লিক জানান, আহতদের মাথা ও শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া উভয়ের হাতে ধারালো অস্ত্রের ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।
এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে সাদ্দামকে আটক করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
হাসপাতালে কর্তব্যরত যশোর কোতয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, আহতদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে পলাতক সাদ্দামকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
৩৯ দিন আগে
প্যারোলে মুক্তির আবেদনই করেনি কারাবন্দি সাদ্দামের পরিবার!
স্ত্রী ও ৯ মাসের শিশু সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির ব্যাপারে কোনো আবেদন করা হয়নি। বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের ওই সভাপতির প্যারোলে মুক্তির আবেদনসংক্রান্ত সংবাদে ভিন্নমত প্রকাশ করে এ কথা জানিয়েছে যশোর জেলা প্রশাসন।
যশোর জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মিডিয়া সেলের সহকারী কমিশনার আশীষ কুমার দাসের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির আবেদনের বিষয়ে ব্যাখা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বন্দি সাদ্দামকে বাগেরহাট কারাগার থেকে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়েছিল। তার স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে যশোর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ বরাবর প্যারোলে মুক্তির কোনো ধরনের আবেদন করা হয়নি। বরং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তার পরিবারের বক্তব্য থেকে জানা যায়, সময় স্বল্পতার কারণে তাদের পারিবারিক সিদ্ধান্তে প্যারোলে মুক্তির আবেদন না করে কারা ফটকে লাশ দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে কারাবন্দি সাদ্দাম স্ত্রীকে চিঠি লিখতেন। কারাগারে বন্দি অবস্থায় যে ছবি দেখা যাচ্ছে, তা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। এছাড়া আবেদনের পরও প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি—এ ধরনের তথ্য মিথ্যা, কারণ যশোরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর প্যারোলে মুক্তিসংক্রান্ত কোনো আবেদনই করা হয়নি। বরং পরিবারের মৌখিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কারাগার কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে মানবিক দিক বিবেচনায় কারা ফটকে মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করে।
সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পর গতকাল (শনিবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাদের মরদেহ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। এ ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ কেউ দাবি করেছিলেন, সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তি না মেলায় মরদেহ কারাগারে এনে দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বাগেরহাটে ৯ মাসের শিশুকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে গৃহবধূ কানিজ সুর্বনা স্বর্ণালীর বিরুদ্ধে।
৪০ দিন আগে
ভারত থেকে ১২৫ টন বিস্ফোরক আমদানি, বেনাপোল বন্দরে বিশেষ সতর্কতা
বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ১২৫ টন বিস্ফোরক দ্রব্য আমদানি করা হয়েছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে ৮টি ভারতীয় ট্রাকে করে বিস্ফোরক দ্রব্যের ওই চালানটি বেনাপোল বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে প্রবেশ করে। আমদানিকৃত পণ্য চালানটি অত্যন্ত বিপজ্জনক শ্রেণিভুক্ত হওয়ায় বন্দর এলাকায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং প্রকল্পের খনন কাজ পরিচালনার জন্য এই বিস্ফোরকগুলো আমদানি করা হয়েছে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড’ এবং রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারতের ‘সুপার শিভ শক্তি কেমিক্যাল প্রাইভেট লিমিটেড’।
বিপজ্জনক পণ্য হওয়ায় জনবহুল বন্দর এলাকায় এই বিস্ফোরক রাখা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন জানান, বিস্ফোরকের চালানটি বন্দরে প্রবেশের পর থেকেই কাস্টমস, বন্দর নিরাপত্তা বিভাগ, পুলিশ, বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে নিয়মিত তদারকি ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
৪০ দিন আগে
যশোরে বরযাত্রীবাহী বাস খাদে, ১২ জন আহত
যশোরের চৌগাছায় বরযাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার টেঙ্গরপুর মোড় এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা বলেন, ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানাধীন বাথানগাছী গ্রাম থেকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বরযাত্রীবাহী বাসটি অভয়নগরের উদ্দেশে ফিরছিল। পথের মাঝে উপজেলার টেঙ্গরপুর মোড় পার হওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলকে সাইড দিতে গিয়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং রাস্তার পাশে গভীর খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় ১২জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন— অভয়নগরের শংকরপাশা গ্রামের আপন বিশ্বাস, নিমাই রায় (৮০), বিকাশ (৩৮), নয়ন (২৬), সাধন কুমার (৫০), গৌর বিশ্বাস (৪৫), চন্দ্রা (২২), শ্রাবণী (১৮), পারুল হাজরা (৪৮) ও প্রীতি (১৭)। এছাড়া আহত হয়েছেন সদর উপজেলার হামিদপুর গ্রামের সুদীপ্ত সরকার (১৭) এবং মাগুরা সদরের কয়ারী গ্রামের হৃদয় অধিকারী (১৮)।
দুর্ঘটনার পর বাসের অন্য যাত্রী ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, আহতরা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
৪১ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় ট্রাকচাপায় ইসলামী আন্দোলনের নেতা নিহত
কুষ্টিয়ায় আলুবাহী মিনিট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এক নেতা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়াও এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তার এক কর্মী।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে কুমারখালীর সদকী ইউনিয়নের ফুলতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুর রাজ্জাক বাদশা (৪৮)। তিনি উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া গ্রামের হাচেন আলীর ছেলে। তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জগন্নাথপুর ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়াও কুমারখালী বাসস্টান্ডের গোলচত্বর এলাকার আল-মদিনা মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মালিক ছিলেন তিনি। আর আহত ব্যক্তির নাম মুফতি খাইরুল বাশার।
পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানায়, কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কে মোটরসাইকেল চালিয়ে একজন আরোহীসহ বাদশা কুষ্টিয়া-৪ আসনের ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার খাঁনের বাড়ি খোকসাতে যাচ্ছিলেন। আর একটি আলুবোঝাই মিনিট্রাকও খোকসার দিকে যাচ্ছিল। পথের মাঝে ফুলতলা এলাকায় বাদশা ট্রাকটিকে ওভার টেক করতে গিয়ে সড়কে ছিটকে পড়েন। তখন ট্রাকটি তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তার সহযোগী বাশার। তবে তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দা কাজী সাইফুল বলেন, হাতপাখা মার্কার প্রার্থীর সঙ্গে খোকসায় দেখা করতে যাচ্ছিলেন বাদশা ও তার কর্মী। রাস্তায় আলুবোঝাই ট্রাকটিকে অতিক্রম করার সময় সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে যান তারা। তখন ট্রাকটি তাদের চাপা দেয়।
কুষ্টিয়া-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আনোয়ার খাঁন বলেন, ‘দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে আমার সঙ্গে বাদশার কথা হয়েছিল। তিনি দেখা করে কিছু বলতে চেয়েছিলেন। পরে শুনতে পাই বাদশা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।’
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, মরদেহ হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে হাইওয়ে পুলিশ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
৪১ দিন আগে
বাগেরহাটে শিশুকে হত্যার পর মায়ের ‘আত্মহত্যা’
বাগেরহাটে ৯ মাসের শিশুকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে জেলার সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রাম থেকে পুলিশ নিহত মা ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে।
নিহত গৃহবধূ কানিজ সুর্বনা স্বর্ণালী (২২) বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী এবং জেলা জাতীয় পার্টি নেতা রুহুল আমিন হাওলাদারের মেয়ে। হত্যার শিকার শিশু নাজিম হোসেন স্বর্ণালী ও সাদ্দাম দম্পতির একমাত্র সন্তান ছিল।
স্বর্ণালীর পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রায় ৫ বছর আগে সাদ্দামের সাথে স্বর্ণালীর বিয়ে হয়। সাদ্দাম বিভিন্ন মামলায় বর্তমানে যশোর কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
স্বর্ণালীর ভাই শুভ জানান, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গোপালগঞ্জ থেকে সাদ্দাম গ্রেপ্তার হন। স্বর্ণালী তার স্বামীকে কারাগার থেকে মুক্ত করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। তাকে মুক্ত করতে না পারায় তিনি মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন।
শুভ আরও জানান, স্বর্ণালী হতাশা থেকেই প্রথমে তাদের একমাত্র শিশু সন্তানকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যা করে। পরে নিজে গলায় দড়ি পেচিয়ে আত্মহত্যা করে।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শামীম হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিশু নাজিম এবং স্বর্ণালীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর হত্যার সঠিক কারণ জানা যাবে বলে তিনি জানান।
শামীম হোসেন জানান, শিশুটিকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যা এবং স্বর্ণালীর আত্মহত্যার বিষয় উদঘাটন করতে পুলিশ তদন্ত করছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা এবং একটি অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
৪১ দিন আগে
যশোরে জমির বিরোধে একজনকে কুপিয়ে হত্যা, সংঘবদ্ধ পিটুনিতে নিহত খুনি
যশোরে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম (৪৫) নামের একজনকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এবং আব্দুল আলিম পলাশ (৩৫) নামের অন্যজন সংঘবদ্ধ পিটুনিতে নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চৌগাছা উপজেলার সলুয়া কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) আবুল বাশার।
নিহত রফিকুল যশোর সদরের চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের জগহাটি গ্রামের তবজেল মল্লিকের ছেলে এবং পলাশ একই গ্রামের হজরত আলীর ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, রফিকুল ও পলাশের মধ্যে জমিজমা নিয়ে গত দুই বছর ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সলুয়া কলেজের সামনে রফিকুল ইসলামকে একা পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন পলাশ। এ ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে হামলাকারী পলাশকে ঘিরে ফেলে। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতার বেধড়ক পিটুনিতে পলাশও গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে নেয়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পলাশকে মৃত ঘোষণা করেন, আর উন্নত চিকিৎসার জন্য রফিকুলকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথে রফিকুলেরও মৃত্যু হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার বলেন, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
৪৪ দিন আগে
ঝিনাইদহে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ
ঝিনাইদহের শৈলকূপায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার বিষ্ণুদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সামাজিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জেলা যুবদলের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জাহিদ চৌধুরী ও শৈলকূপা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আবুল বাশার সাদাতের সমর্থকদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। দুই দিন আগে বিষ্ণুদিয়া গ্রামে মসজিদের জমির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে দুই নেতার ওই গ্রামের সমর্থকদের বাগবিতণ্ডা হয়। এর একপর্যায়ে গতকাল (সোমবার) সকালে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে অন্তত উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হন।
শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্ল্যা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে ৫ জনকে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সবাইকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
৪৫ দিন আগে
মুরগির দাম বেড়েছে, গিলা-কলিজায় সাধ মেটাচ্ছেন খুলনার নিম্ন আয়ের মানুষেরা
খুলনার বাজারগুলোতে শাকসবজির দাম কমলেও সব ধরনের মুরগির দাম বেড়েছে। দাম বাড়ায় নিম্ন আয়ের অনেকে ঝুঁকছেন মুরগির গলা, গিলা, কলিজা ও পা কেনার দিকে।
খুলনার কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সপ্তাহখানেক ধরেই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রোটিনের সস্তা উৎস ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়তি। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি এখন ১৭০ টাকা, সাদা লেয়ার মুরগি ২৫০ টাকা এবং সোনালী ২৪০ টাকা দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ২০ টাকা। অন্যদিকে দেশি মুরগি ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাঝেমধ্যেই দাম বাড়ার কারণে নগরীর কয়েকটি বাজারে গত দুই-তিন বছরে জনপ্রিয়তা বেড়েছে মুরগির গলা, গিলা, কলিজা ও পায়ের। দামে তুলনামূলক সস্তা হওয়ায় নগরীর নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের নজর এখন এগুলোর দিকে।
মিস্ত্রীপাড়া বাজারে কথা হয় শিউলী বেগম নামের এক নারীর সঙ্গে। তিনি জানান, তার স্বামী একজন দিনমজুর। প্রতিদিন আয় করেন ৪০০ টাকা। ঘরভাড়া ও অনুসঙ্গিক খরচের কারণে সঞ্চয় বলতে কিছুই থাকে না। তাছাড়া অনেকদিন ভালোমন্দও খাওয়া হয় না তাদের। এদিন তিনি বাজার-সদাই শেষে যান মুরগির গিলা, গলা, কলিজা ও পা (সেট) কেনার জন্য।
তিনি বলেন, ‘প্রতি কেজি সেটের দাম একমাস আগেও ১০০ টাকা ছিল। বর্তমানে এর দামও বেড়ে গিয়ে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আজকে দোকানদারের সাথে ঝগড়া করে ১১০ টাকায় কিনেছি।’
শিউলী বেগম বলেন, ‘এক বছরের বেশি হয়ে গেল, গরুর মাংস তো দূরের কথা, মুরগিই কিনতে পারি না। গরুর মাংসের দাম বর্তমানে ৭৫০ টাকা। আমাদের মতো গরীব মানুষের পক্ষে কিনে খাওয়া সম্ভব না।’
রিকশাচালক হামিদ আলী বলেন, ‘আগে কখনো গিলা-কলিজা কিনতাম না। মুরগির দাম বেড়ে যাওয়ায় মুরগির স্বাদ এখন গিলা-কলিজা দিয়ে পূরণ করছি।’
ওই বাজারের গিলা-কলিজা ব্যবসায়ী ইয়াসিন হাওলাদার বলেন, গত কয়েক বছর ধরে তিনি এ ব্যাবসা করেন। করোনা মহামারীর পর থেকে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে মুরগির সেটের প্রতি চাহিদা বেড়েছে। প্রতিদিন ‘একশ থেকে দেড়শ’ মুরগির সেট বিক্রি করেন তিনি।
সাধারণ ক্রেতারা বলেন, বর্তমানে শাকসবজির দাম নিম্নমুখি হলেও মাছ, মাংসসহ অন্যান্য পণ্য ঊর্ধ্বমুখী। এতে এক ধরনের অর্থনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। বাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভোক্তা অধিকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খুব একটা তদারকিমূলক অভিযান নেই বলে জানান সাধারণ ক্রেতারা।
৪৭ দিন আগে