বাগেরহাটে ৯ মাসের শিশুকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে জেলার সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রাম থেকে পুলিশ নিহত মা ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে।
নিহত গৃহবধূ কানিজ সুর্বনা স্বর্ণালী (২২) বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী এবং জেলা জাতীয় পার্টি নেতা রুহু আমিন হাওলাদারের মেয়ে। হত্যার শিকার শিশু নাজিম হোসেন স্বর্ণালী ও সাদ্দাম দম্পতির একমাত্র সন্তান ছিল।
স্বর্ণালীর পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রায় ৫ বছর আগে সাদ্দামের সাথে স্বর্ণালীর বিয়ে হয়। সাদ্দাম বিভিন্ন মামলায় বর্তমানে যশোর কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
স্বর্ণালীর ভাই শুভ জানান, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গোপালগঞ্জ থেকে সাদ্দাম গ্রেপ্তার হন। স্বর্ণালী তার স্বামীকে কারাগার থেকে মুক্ত করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। তাকে মুক্ত করতে না পারায় তিনি মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন।
শুভ আরও জানান, স্বর্ণালী হতাশা থেকেই প্রথমে তাদের একমাত্র শিশু সন্তানকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যা করে। পরে নিজে গলায় দড়ি পেচিয়ে আত্মহত্যা করে।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শামীম হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিশু নাজিম এবং স্বর্ণালীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর হত্যার সঠিক কারণ জানা যাবে বলে তিনি জানান।
শামীম হোসেন জানান, শিশুটিকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যা এবং স্বর্ণালীর আত্মহত্যার বিষয় উদঘাটন করতে পুলিশ তদন্ত করছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা এবং একটি অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।