সিলেট
সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
মৃত শিশুটির বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলায়। সিলেটের ডা. শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ বয়সী ওই শিশুর মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৫৭ জন ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২৭৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।
তবে, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় সিলেটে বিভাগে নতুন করে কোনো রোগীর হাম শনাক্ত হয়নি।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিভাগে হাম ও উপসর্গে ৬২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া সম্প্রতি বিভাগে ২২ বছর বয়সী শিক্ষানবীশ নার্স জেরিন সুলতানার মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ১৬৫ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং বাকিরা হামের উপসর্গে মারা গেছে।
সিলেটের হাম চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিশুদের পাশাপাশি বয়স্ক রোগীরাও চিকিৎসা নিচ্ছেন। কেউ স্যালাইন নিচ্ছেন, কেউ স্বজনদের সঙ্গে কথা বলছেন। চিকিৎসক ও নার্সরা নিয়মিত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. এস এম সাজ্জাদুল হক জানান, বর্তমানে তিদিন ৫ থেকে ৭ জন, কখনো ১০ থেকে ১২ জন পর্যন্ত বয়স্ক রোগী ভর্তি হচ্ছেন। শুরুতে এত বেশি বয়স্ক রোগী আক্রান্ত হবেন বলে ধারণা করেননি তারা ।
তিনি বলেন, ‘হাম সাধারণত শিশুদের রোগ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু বর্তমানে ১৫ থেকে ২২ বছর বয়সী রোগীর সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। আমরা তাদের টিকা গ্রহণ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পর্কে জানানোর চেষ্টা করছি।’
১৫ ঘণ্টা আগে
সিলেটে হাজার শয্যার হাসপাতাল নির্মাণে বিনিয়োগ করবে চীন: শ্রমমন্ত্রী
শ্রম, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, সিলেটে ১ হাজার শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের জন্য স্থান নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রকল্পটিতে বিনিয়োগ করবে চীন। হাসপাতাল নির্মাণের প্রাথমিক পরিকল্পনা এবং স্থান নির্ধারণের বিষয়ে চীনা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বুধবার (৩ জুন) হাসপাতাল নির্মাণের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্বাচন ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য চীনের বিনিয়োগকারীদের নিয়ে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথর ও হইটেক পার্কসহ কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় আরিফুল হক চৌধুরী জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
চীনের প্রতিনিধিদলের হয়ে আসা বাই আপ ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান স্টোয়ার্ড চিয়ং জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে স্থান পরিদর্শন ও সম্ভাব্যতা মূল্যায়নে তারা আশাবাদী। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
পরিদর্শনকালে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে হাসপাতালের স্থান নির্বাচন নিয়ে চীনের বিনিয়োগকারীদের সাথে বৈঠক করেন শ্রমমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, সিলেটে ১ হাজার শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন চীনের বিনিয়োগকারীরা। এই হাসপাতালের জন্য স্থান নির্বাচন ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সিলেটে এসেছে চীনের বিনিয়োগকারীদের একটি প্রতিনিধিদল।
১ দিন আগে
সিলেটে ‘সুইচ গিয়ার’ চাকু নিষিদ্ধ ঘোষণা
সিলেট মহানগর এলাকায় ‘সুইচ গিয়ার’ চাকু ক্রয়-বিক্রয়, বহন, মজুত, সরবরাহ ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। পরে বিজ্ঞপ্তিটি সিলেট মহানগর পুলিশের দাপ্তরিক ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সিলেট মহানগর এলাকায় জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে সুইচ গিয়ার চাকু ক্রয়-বিক্রয়, বহন, মজুত, সরবরাহ ও ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হলো।
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে তা মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ আদেশ অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে বিজ্ঞপ্তিতে এই বিশেষ ধরনের চাকু নিষিদ্ধের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা বা সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
১ দিন আগে
সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আজ সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
মৃত শিশুটির বাড়ি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায়। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ বছর ৭ মাস বয়সী ওই শিশুর মৃত্যু হয়।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৭৮ জন ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২৫৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।
তবে, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় সিলেটে বিভাগে নতুন করে কোনো রোগীর হাম শনাক্ত হয়নি।
চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিভাগে হাম ও উপসর্গে ৬১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং বাকিরা হামের উপসর্গে মারা গেছে।
৩ দিন আগে
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে নার্সের মৃত্যু
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ বছর বয়সী এক নার্সের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত তরুণী সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভপুর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতিবিদ্যার (মিডওয়াইফারি) ইন্টার্ন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে তিনি হামের উপসর্গে অসুস্থ ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে প্রথমে তিনি সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে গতকাল (রবিবার) দুপুরে তাকে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় আজ (সোমবার) সকালে তার মৃত্যু হয়।
নার্সের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান।
তিনি জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকরা ওই তরুণীকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। তা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
৩ দিন আগে
সুনামগঞ্জে লেডি কান্তা চক্রের হোতাসহ গ্রেপ্তার ৩
সুনামগঞ্জ জেলা শহরে দীর্ঘদিন ধরে ছদ্মবেশে বাসাবাড়িতে প্রবেশ করে চুরি ও ডাকাতির অভিযোগে কান্তা বেগম ওরফে লেডি কান্তা এবং তার দুই নারী সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৩১ মে) দিবাগত গভীর রাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানকালে গ্রেপ্তারদের হেফাজত থেকে একটি রামদা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন—শহরের হোসেনপুর (টুকেরঘাট) এলাকার কান্তা বেগম (লেডি কান্তা), হাছননগর এলাকার সুবর্ণা আক্তার আঁখি এবং জামালগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের জান্নাত আক্তার।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কান্তা বেগমের নেতৃত্বে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে শহর ও আশপাশের এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।
পুলিশ জানায়, অভিনব কৌশলে চক্রের সদস্যরা ছদ্মবেশে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে সাহায্য চাওয়ার অজুহাতে কিংবা গৃহকর্মী হিসেবে প্রবেশের চেষ্টা করত। বাসাবাড়ির ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পেলে তারা আলমারি বা ড্রয়ার থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান মুঠোফোন চুরি করে পালিয়ে যেত।
তবে চুরির সময় গৃহকর্তা বা পরিবারের কারো কাছে ধরা পড়লে বা কেউ তাদের বাধা দিলে তারা চরম উগ্র রূপ ধারণ করত। তখন তারা নিজেদের সঙ্গে থাকা দেশীয় ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে মালামাল লুট করে পালিয়ে যেত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, চক্রটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। গতকাল (রবিবার) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল শহরের বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি অভিযান শুরু করে। অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল হোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেপ্তার করার পর পুলিশি হেফাজতে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে কান্তা বেগমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাদের লুকিয়ে রাখা ধারালো রামদাটি উদ্ধার করে।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কান্তা ওরফে লেডি কান্তা ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ছদ্মবেশে শহরের মানুষের ঘরে ঢুকে চুরি ও ডাকাতি করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমাদের বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছে। কান্তাসহ গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, জেলা শহরকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এ ধরনের বিশেষ ও কঠোর অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
৩ দিন আগে
সিলেটে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে অন্য বাসের ধাক্কা, নিহত ২
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী বাসকে দ্রুতগতির একটি স্লিপার কোচের ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।
রবিবার (৩১ মে) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার তাজপুর কদমতলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— যাতায়াত পরিবহনের চালক সোহেল (৩০) ও সহকারী ইমন (২০)। সোহেল নরসিংদী জেলার সাহেপ্রতাপ এলাকার মো. তাজুল ইসলামের ছেলে ছিলেন। তবে ইমনের বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সিলেটগামী যাতায়াত পরিবহনের ওই বাসে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে সেটি মহাসড়কের পাশে থামানো হয়। এ সময় বাসটির চালক ও সহকারী নিচে নেমে টুলবক্স খুলে মেরামত করছিলেন। একপর্যায়ে পেছন দিক থেকে আসা সিলেটগামী সেন্টমার্টিন স্লিপার কোচের একটি বাস দ্রুতগতিতে এসে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই যাতায়াত পরিবহনের চালক ও সহকারী নিহত হন।
দুর্ঘটনাকবলিত বাসে থাকা যাত্রী মো. মাসুম মিয়া (৪৫), ফাহিম (২০), আনাজ (২০) ও জহির (২৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। তারাসহ এ দুর্ঘটনায় উভয় বাসের অন্তত ১৫ থেকে ১৬ জন যাত্রী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ওসমানীনগর ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ এবং থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। একইসঙ্গে মহাসড়কে সৃষ্ট যানজট নিরসনে কাজ করে তারা। পরে হাইওয়ে পুলিশ নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং দুর্ঘটনাকবলিত দুটি বাস নিজেদের হেফাজতে নেয়।
শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান জানান, দুর্ঘটনার পর পরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। দুর্ঘটনায় হতাহতের বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম চলমান আছে।
৪ দিন আগে
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
সিলেটে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ জনে।
শনিবার (৩০ মে) সকালে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
মৃত ২ শিশুর মধ্যে হুমায়রার বাড়ি সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় (বয়স ৬ মাস। সে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। এবং অপর শিশু আব্দুল্লাহ আল মাহিনের বাড়ি জকিগঞ্জ উপজেলায় (বয়স ৮ মাস। সে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আজ (শনিবার) সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৪১ জন রোগী ভর্তি হয়েছে।
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২৩৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৩৯ জন, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১৫ জন, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ১১ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৮ জন এবং সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ২২ জন চিকিৎসা নিচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য উপজেলা ও বেসরকারি হাসপাতালেও আরও রোগী ভর্তি রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ১৬৫ জনের শরীরে নমুনা পরীক্ষায় হাম সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলায় সর্বোচ্চ ৮৬ জন, সিলেট জেলায় ৪২ জন, হবিগঞ্জে ২১ জন ও মৌলভীবাজারে ১৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
এ বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিভাগে নিশ্চিত হামে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং বাকিরা হামের উপসর্গে মারা গেছে।
৫ দিন আগে
সিলেটে কোরবানির পশু জবাই করতে গিয়ে আহত অর্ধশতাধিক
ঈদুল আজহায় সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশু জবাই করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২০ জন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ মে) সকাল থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আহতরা চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, আহতদের অধিকাংশই কোরবানির পশু জবাইয়ের সময় অসাবধানতাবশত দা ও ছুরির আঘাতে আহত হয়েছেন। এছাড়া গরুর লাথি ও শিংয়ের আঘাতেও কয়েকজন আহত হন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব দুর্ঘটনার পেছনে অদক্ষতা ও অভিজ্ঞতার অভাবই প্রধান কারণ। আহতদের বেশিরভাগই পেশাদার কসাই নন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার জামান বলেন, কোরবানির পশু জবাইয়ের কাজ করতে গিয়ে সিলেটের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৫০ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩০ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বাকি ২০ জন হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন।
৬ দিন আগে
সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে বিভাগে হাম উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮ জনে।
শুক্রবার (২৯ মে) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম।
মৃত শিশু আরিমের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায়। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ মাস বয়সী ওই শিশুর মৃত্যু হয়।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আজ (শুক্রবার) সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১৮ জন ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২০৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।
তবে, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় সিলেটে বিভাগে নতুন করে কোনো রোগীর হাম শনাক্ত হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ মে পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ১৬৫ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলায় ৮৬ জন, সিলেটে ৪২, হবিগঞ্জে ২১ ও মৌলভীবাজারের ১৬ জন রোগীর হাম শনাক্ত হয়েছে।
৬ দিন আগে