সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী বাসকে দ্রুতগতির একটি স্লিপার কোচের ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।
রবিবার (৩১ মে) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার তাজপুর কদমতলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— যাতায়াত পরিবহনের চালক সোহেল (৩০) ও সহকারী ইমন (২০)। সোহেল নরসিংদী জেলার সাহেপ্রতাপ এলাকার মো. তাজুল ইসলামের ছেলে ছিলেন। তবে ইমনের বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সিলেটগামী যাতায়াত পরিবহনের ওই বাসে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে সেটি মহাসড়কের পাশে থামানো হয়। এ সময় বাসটির চালক ও সহকারী নিচে নেমে টুলবক্স খুলে মেরামত করছিলেন। একপর্যায়ে পেছন দিক থেকে আসা সিলেটগামী সেন্টমার্টিন স্লিপার কোচের একটি বাস দ্রুতগতিতে এসে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই যাতায়াত পরিবহনের চালক ও সহকারী নিহত হন।
দুর্ঘটনাকবলিত বাসে থাকা যাত্রী মো. মাসুম মিয়া (৪৫), ফাহিম (২০), আনাজ (২০) ও জহির (২৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। তারাসহ এ দুর্ঘটনায় উভয় বাসের অন্তত ১৫ থেকে ১৬ জন যাত্রী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ওসমানীনগর ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ এবং থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। একইসঙ্গে মহাসড়কে সৃষ্ট যানজট নিরসনে কাজ করে তারা। পরে হাইওয়ে পুলিশ নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং দুর্ঘটনাকবলিত দুটি বাস নিজেদের হেফাজতে নেয়।
শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান জানান, দুর্ঘটনার পর পরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। দুর্ঘটনায় হতাহতের বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম চলমান আছে।