সিলেট
সিলেটে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
সিলেটে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী আইএলটিএস পরীক্ষার্থী তাহমিদুর সোহাগ (২০) নিহত হয়েছেন।
বুধবার (২০ আগস্ট) ভোরে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত সোহাগ জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের পশ্চিম ঠাকুরের মাটি এলাকার আফতাব উদ্দিনের ছেলে। তিন ভাই–বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। বড় ভাই যুক্তরাজ্যে থাকেন এবং ছোট বোন সিলেটে পড়াশোনা করছেন।
আরও পড়ুন: ১০ মোটরসাইকেল নিয়ে প্রতিযোগিতা, প্রাণ গেল দুই বন্ধুর
২০২৪ সালে এইচএসসি পাস করা সোহাগ আগামী ৩০ আগস্ট আইএলটিএস পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
প্রতিবেশী ও চাচা মো. নুরুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সোহাগ এক বন্ধুর সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে উমনপুর টার্নিং এলাকায় যাচ্ছিলেন। এ সময় সিলেটগামী একটি ট্রাক তাদের ধাক্কা দিলে তারা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সোহাগকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে বুধবার ভোরে তিনি মারা যান।
তার সঙ্গে থাকা বন্ধু সাফির হাত ভেঙে গেছে। বর্তমানে তিনি নগরীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তামাবিল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সোহাগের মৃত্যুর এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
১৯৮ দিন আগে
দুদকের মামলায় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ কর্মকর্তা কারাগারে
জনবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন তারা। তবে বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক রোকনুজ্জামান এই নির্দেশ দেন।
আত্মসমর্পণ করা ৬ কর্মকর্তা হলেন— বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. বিলাল আহমদ চৌধুরী, সেকশন অফিসার বেলাল উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ, মো. রেদোয়ান, আব্দুল মজিদ ও তানভীর আহমদ। তারা সবাই দুদকের চার্জশিটভুক্ত আসামি।
দুদকের আইনজীবী লুৎফুল কিবরিয়া শামীম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দুদকের চার্জশিটভুক্ত ৬ আসামি মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন: সিলেটে রায়হান হত্যা: জামিনে মুক্ত প্রধান আসামি এসআই আকবর
ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়মের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় ৫৮ জনের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ২০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক। পরে ২৪ এপ্রিল ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এ অভিযোগ আমলে নিয়ে ইউজিসি ২০২৩ সালে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে তৎকালীন উপাচার্য মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. নঈমুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির সত্যতা পাওয়া যায়। এরপর নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তৎকালীন উপাচার্য, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারসহ ৫৮ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল মামলা করে দুদকের সিলেটের সমন্বিত জেলা কার্যালয়।
মামলায় তৎকালীন উপাচার্য মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. নঈমুল হক চৌধুরী ছাড়া আরও ৫৬ জন কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়।
১৯৯ দিন আগে
কোম্পানীগঞ্জে আরও ৫০ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে আরও ৫০ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত উপজেলার পাড়ুয়া-ভাংতি এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সিলেটের ভোলাগঞ্জে সাদাপাথরে লুটের ঘটনায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিদিন চলছে উদ্ধার অভিযান। গতকাল (সোমবার) থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ ঘনফুট সাদা পাথর উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
আরও পড়ুন: সাদা পাথর লুট: সিলেটের ডিসি ও কোম্পানীগঞ্জের ইউএনওকে বদলি
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজায়ের আল মাহমুদ আদনান বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) সন্ধা থেকে রাত প্রায় ১১টা পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জে পাড়ুয়া-ভাংতি এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০ হাজার ঘনফুট সাদা পাথর উদ্ধার করা হয়। এ সময় কাউকে আটক করা যায়নি। এখন পর্যন্ত খনিজ সম্পদ ব্যুরোর মামলায় ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া সাদাপাথরে লুটপাটে জড়িতদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য পুলিশি অভিযান চলছে।’
এর আগে, সোমবার বিকেলে সিলেট সদর উপজেলার টিলাপাড়া, রঙ্গিটিলা, কান্দিপাড়া ও সালিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ধানখেত এবং কারো কারো বাড়ির উঠান, পথের ধারে ঘাস লতাপাতায় লুকানো অবস্থায় রাখা প্রায় ৫ হাজার ১০০ ঘনফুট পাথর উদ্ধার করে প্রশাসন।
এদিকে, সাদাপাথর লুটপাট নিয়ে দেশজুড়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই সোমবার ওএসএডি করা হয়েছে সিলেটের জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদকে। এ ছাড়া অন্য একটি আদেশে বদলি করা হয়েছে কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুন্নাহারকেও।
১৯৯ দিন আগে
সিলেটে মাইক্রোবাস চাপায় অটোরিকশাচালক নিহত
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় মাইক্রোবাসের চাপায় এহিয়া (৩০) নামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন।
সোমবার (১৮ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বাওনপুর নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত এহিয়া সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার হবিবপুর পশ্চিম পাড়া গ্রামের মৃত জাহিদ মিয়ার ছেলে।
পুশিল জানায়, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা অটোরিকশা ও বিশ্বনাথ থেকে ছেড়ে আসা মাইক্রোবাসটি সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের বাওনপুর এলাকায় পৌঁছালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় অটোরিকশা-মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে অটোচালকের মাথায় একটি বড় রড ঢুকে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি; আহত হন আরও তিন জন।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪
স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের পরিচয় জানা যায়নি। তবে তাদের মধ্যে দুইজন নারী ও একজন পুরুষ।
এই দুর্ঘটনায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। সেই সঙ্গে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের বাওনপুর নামক স্থানে সিএনজি অটোরিকশা ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে এক অটোরিকশাচালক নিহত হয়েছেন। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দুটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
১৯৯ দিন আগে
ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ২
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের আব্দুল মতিন (৫০) ও আকবর আলী নামে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা হেলাল-খসরু উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে আবদুল মতিন মুক্তিযুদ্ধের বীরাঙ্গনা কাকন বিবির মেয়ে সখিনা বেগমের স্বামী। অপরজন আকবর আলী লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের রূপনগর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় আব্দুল মতিন ও আকবর আলী আহত হন। স্থানীরা তাদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া পথে তারা মৃত্যুবরণ করেন।
আরও পড়ুন: মসজিদের পাশে যাত্রী ছাউনি নিয়ে সিলেটে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ
লক্ষ্মীপুর ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে বলেও জানান ওসি।
২০২ দিন আগে
মসজিদের পাশে যাত্রী ছাউনি নিয়ে সিলেটে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার এলাকায় মসজিদের পাশে যাত্রী ছাউনি থাকবে কি না, তা নিয়ে সৃষ্ট তর্কবিতর্ককে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ চলাকালে একটি রেস্তোরাঁ ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, লালাবাজার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান চৌধুরী সিফাত এবং স্থানীয় ‘পাপড়ি রেস্টুরেন্ট’ নামের একটি রেস্তোরাঁর মালিক ও বিএনপি নেতা জুবায়ের আহমদ লিটনের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। গতকাল (শুক্রবার) রাত ৯টার দিকে লালাবাজারের মসজিদের যাত্রী ছাউনি নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপক্ষ যাত্রী ছাউনিটি সেখান থেকে সরিয়ে ফেলতে এবং আরেক পক্ষ সেখানেই রাখার বিষয়ে মত দেয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়, একপর্যায়ে যা রূপ নেয় সংঘর্ষে।
আরও পড়ুন: বরিশালে স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১০
তারা আরও জানান, ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের যান চলাচল। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
দক্ষিণ সুরমা থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল বাতেন খান বলেন, ‘সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ২০ থেকে ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে শুনেছি। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং যান চলাচলও স্বাভাবিক হয়েছে।’
২০২ দিন আগে
সিলেটে পাথর লুটের ঘটনায় মামলা: ২ হাজার আসামির সবাই অজ্ঞাত
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জে পাথর কোয়ারি থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন ও লুটের ঘটনায় মামলা করেছে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি)।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বিএমডি মহাপরিচালক আনোয়ারুল হাবিব বাদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় এই মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত ১৫০০ থেকে ২০০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজায়ের আল মাহমুদ আদনান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অজ্ঞাতনামা কিছু দুষ্কৃতিকারীর মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময় থেকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার গেজেভুক্ত পাথর কোয়ারি থেকে অবৈধ বা অননুমোদিতভাবে সম্প্রতি কোটি কোটি টাকার পাথর লুট করা হয়েছে মর্মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, পাথর লুটপাটে অজ্ঞাত ১৫০০ থেকে ২০০০ ব্যক্তি জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে, যাদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়নি। সরকারের গেজেটভুক্ত কোয়ারি থেকে লুট বা চুরি এ ধরনের কর্মকাণ্ড খনি ও খনিজ সম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন, ১৯৯২-এর ধারা ৪(২) (ঞ) এবং খনি ও খনিজ সম্পদ বিধিমালা ২০১২-এর বিধি ৯৩ (১)-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় মৌখিক নির্দেশনায় খনি ও খনিজ সম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন, ১৯৯২ এর ৫ ধারা অপরাধে ও দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩৭৯ নম্বর ধারা ও ৪৩১ ধারায় অভিযোগ দায়ের করা প্রয়োজন। এ অবস্থায় সরকারি স্বার্থে ভোলাগঞ্জ কোয়ারি থেকে পাথর লুট ও চুরির ঘটনায় দায়ী অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সাদাপাথর-জাফলংয়ে লুট: দুই দিনে ১ লাখ ৮ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার
সম্প্রতি সিলেটের দুই পর্যটনকেন্দ্র কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথর ও গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং থেকে পাথর লুটের ঘটনা ঘটে। সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করা এ ঘটনায় হাইকোর্ট পাথর উদ্ধার করে যথাস্থানে প্রতিস্থাপন এবং লুটেরাদের তালিকা আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেন।
এরপর সিলেটসহ সারা দেশে সাঁড়াশি অভিযানে নামে র্যাব, পুলিশসহ যৌথবাহিনী। গত তিন দিনে জাফলং ও সাদাপাথর থেকে লুট হওয়া পাথরের মধ্যে মোট ১ লাখ ৯ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এর মধ্যে অবশ্য নারায়ণগঞ্জ থেকে গত বৃহস্পতিবার রাতে উদ্ধার হওয়া ৪০ হাজার টন পাথরও রয়েছে।
সর্বশেষ সিলেট জেলার জৈন্তাপুর থানাধীন আসাম পাড়া এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ পাথর উদ্ধার করেছে র্যাব। র্যাব-৯-এর টহল দল, সাদা পোশাকধারী সদস্য এবং সিলেট জেলা প্রশাসনের সহায়তায় একটি যৌথ আভিযানিক দল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আসাম পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ৭ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
২০২ দিন আগে
সাদাপাথর-জাফলংয়ে লুট: দুই দিনে ১ লাখ ৮ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার
সিলেটের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথর থেকে লুট হওয়া আরও ৪৫ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করেছে প্রশাসন। গতকাল শুক্রবার দিনভর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এসব পাথর জব্দ করা হয়।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) রাতেই জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল এ তথ্য নিশ্চিত করে। এতে জানানো হয়, গত দুই দিনে মোট প্রায় ১ লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধারকৃত পাথরের অর্ধেক ইতিমধ্যে সাদাপাথরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাকিগুলো প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (গোপনীয় শাখা, মিডিয়া সেল) মো. মাসুদ রানা বলেন, শুক্রবার দিনভর কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪৫ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়েছে। গত বুধবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত মোট প্রায় ১ লাখ ঘনফুট পাথর জব্দ হয়েছে। উদ্ধারকৃত পাথর পর্যায়ক্রমে সাদাপাথরে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
পাথর ব্যবসায়ীরা অভিনব কৌশলে এসব লুট হওয়া পাথর লুকিয়ে রাখছেন বলে জানা গেছে। শুক্রবার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসন কোম্পানীগঞ্জের কলাবাড়ি এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মাটিচাপা অবস্থায় বিপুল পরিমাণ পাথর উদ্ধার হয়।
এর মধ্যে সাত ট্রাক পাথর ইতোমধ্যে সাদাপাথর এলাকায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরও আনুমানিক পাঁচ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়েছে, যা আজ শনিবার ফেরত পাঠানোর হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার (রাজস্ব শাখা, জেলা ব্র্যান্ডিং ও পর্যটন সেল) মাহমুদ আশিক কবির।
আরও পড়ুন: এক রাতের অভিযানে ১২ হাজার ঘনফুট পাথর ফিরল সাদাপাথরে
এদিকে, গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং পর্যটন স্পট জিরো পয়েন্ট থেকে চুরি হওয়া পাথর উদ্ধারে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে অভিযান শুরু করেছে।
পিয়াইন নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন স্থান থেকে বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৮ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা পাথর পূনরায় নদীতে প্রতিস্থাপনের লক্ষে জাফলং জিরো পয়েন্টে নৌকা দিয়ে ফেলা হয়েছে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, ‘জাফলংয়ের জিরো পয়েন্ট থেকে কিছু দুষ্কৃতকারী রাতের আধারে বৃষ্টির মধ্যে কিছু পাথর সরিয়ে ফেলছিল। আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত পদক্ষেপ নিই। এরপর থেকে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ ও বিজিবির টহল অব্যাহত আছে। এরই ধারাবাহিকতায় সেখান থেকে যে পাথরগুলো সরানো হয়েছে আমরা সেই পাথরগুলো খুঁজে বের করে সাড়ে ৮ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করেছি।’
তবে পাথর লুটপাটের সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের এই অভিযান আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।’
২০৩ দিন আগে
সিলেটে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ৩৫ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার
সিলেটে জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর অভিযানে ৩৫ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা পাথরগুলো সাদাপাথর ও জাফলং এলাকার নদীতে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
বুধবার (১৩ আগস্ট) রাতে ও বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দিনভর সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান চালানো হয়। এতে সেনাবাহিনীও অংশ নেয়।
বৃহস্পতিবারের অভিযানে প্রায় ১৩০টি গাড়ি তল্লাশি করা হয়। এর মধ্যে ৭০টি ট্রাকে থাকা প্রায় ৩৫ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়।
এর আগে, বুধবার সাদাপাথর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১২ হাজার ফুট পাথর জব্দ করা হয়। এগুলো রাতে সাদাপাথরে পুনঃস্থাপন করা হয় বলে জানান কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুন্নাহার।
জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার উদ্ধার হওয়া পাথরের বড় অংশ ধলাই নদীতে ফেরত পাঠানোর কাজ চলছে যাতে নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ ও পরিবেশ পুনরুদ্ধার করা যায়। একই সঙ্গে রাতের মধ্যেই পাথর লুটের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: সাদা পাথর লুটকারীদের তালিকা দাখিলের নির্দেশ
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আক্তার মিতা বলেন, ‘প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা ও পরিবেশ বাঁচাতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন, মজুদ বা পাচারে জড়িতদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
তিনি আরও জানান, চেকপোস্টে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১৩০টি গাড়ি তল্লাশি করা হয়েছে। এ সময় ৭০টি গাড়িতে সাদাপাথর এলাকার পাথর শনাক্ত হলে সেগুলো জব্দ করে পুনরায় প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে ব্যাপক লুটপাটের পর গত মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) তিন সদস্যের তদন্ত একটি কমিটি গঠন করে সিলেট জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদ্মাসন সিংহকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিকে ১৭ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০৩ দিন আগে
সিলেটে বাসচাপায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত, বাসে আগুন
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসচাপায় দুই মোটরসাইকেল-আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ঘাতক বাসটিতে অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ইলাশপুর বটেরতল নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের বড় ইশবপুর গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে মোটরসাইকেলচালক নাজমুল ইসলাম (৩২ ও একই গ্রামের আব্দুল গণির ছেলে আরশ আলী (৩১)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে গোয়ালাবাজার থেকে মোটরসাইকেলযোগে সিলেট যাচ্ছিলেন নাজমুল ও আরশ আলী। সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ইলাশপুর বটেরতল নামক স্থানে পৌঁছালে পেছন থেকে আসা ঢাকা এক্সপ্রেস নামের দ্রুতগামী একটি বাস সজোরে তাদের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে তারা দুজনই সড়কে ছিটকে পড়েন। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নাজমুল ইসলাম নিহত হন এবং ওসমানী হাসপাতালে নেওয়ার পর সন্ধ্যায় মারা যান আরশ আলী। খবর পেয়ে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নাজমুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করে।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪
এদিকে, দুর্ঘটনার পর সন্ধ্যায় উপজেলার তাজপুর বাজারে ঘাতক বাসটি আটক করে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে বাসটি জব্দ করেন।
শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছি। বাস রেখে চালক পালিয়ে যাওয়ায় বিক্ষুদ্ধ জনতা বাসে অগ্নিসংযোগ করে। পরে ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভানোর পর আমরা বাসটি জব্দ করে থানায় নিয়ে এসেছি।’
২০৪ দিন আগে