বৈদেশিক-সম্পর্ক
রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বাংলাদেশের প্রশংসায় যুক্তরাষ্ট্র
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় প্রদান অব্যাহত রাখায় বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোর প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
রবিবার (২৪ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উপমুখপাত্র থমাস টমি পিগট এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় প্রদান অব্যাহত রাখায় আমরা বাংলাদেশ সরকারকে সাধুবাদ জানাই। এছাড়া বার্মা (মিয়ানমার) থেকে আসা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোকেও ধন্যবাদ জানাই।’
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুতির শিকার মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ও অন্যান্য নৃগোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করছে।
১৯৩ দিন আগে
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের রোডম্যাপ তৈরিতে প্রধান উপদেষ্টার ৭ দফা প্রস্তাব
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে কক্সবাজারে আয়োজিত ‘স্টেকহোল্ডারস’ ডায়ালগে যোগ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, স্বেচ্ছায় ও টেকসইভাবে রাখাইন রাজ্যে প্রত্যাবাসনের জন্য বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ তৈরিতে যৌথ প্রচেষ্টার লক্ষ্যে সাত দফা প্রস্তাব পেশ করেছেন তিনি।
সোমবার (২৫ আগস্ট) সকালে এই সংলাপে যোগ দিতে কক্সবাজার পৌঁছান প্রধান উপদেষ্টা। এদিন বেলা ১১টার দিকে তিন দিনের এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের বিশেষ অধিবেশন শুরু হয়। এতে মিয়ানমার ও আঞ্চলিক স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন এবং বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ প্রচেষ্টার আহ্বান জানানো হয়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা কেবল কথার জালে বন্দি থাকতে পারি না। এখনই সময় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের দায়িত্ব শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও। সংকটের সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে ভাবা এবং তা বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখা সবার যৌথ দায়িত্ব।
যতদিন পর্যন্ত রোহিঙ্গারা নিজেদের আবাসভূমিতে ফিরে যেতে না পারেন ততদিন পর্যন্ত তাদের বিষয়টি ও এর টেকসই সমাধানকে বৈশ্বিক এজেন্ডায় রাখার জন্য জোর দেন অধ্যাপক ইউনূস।
গত মার্চ মাসে পবিত্র রমজানে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এবং তিনি নিজে কক্সবাজারে এক লক্ষাধিক রোহিঙ্গার সঙ্গে ইফতারে যোগ দিয়েছিলেন বলে সেই স্মৃতিচারণও করেন তিনি।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে শুনেছি, রোহিঙ্গারা যত দ্রুত সম্ভব নিজ আবাসভূমিতে ফিরে যেতে চান। অনুষ্ঠানে ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস’ উপলক্ষে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংলাপে যোগ দিলেন প্রধান উপদেষ্টা
এ সময় রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে মিয়ানমারে তাদের নিজ আবাসভূমিতে প্রত্যাবাসনের জন্য দৃশ্যমান আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান রোহিঙ্গাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান।
তিনি বলেন, আমরা যা করছি, তা অব্যাহত রাখতে হবে।
এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম (বীর প্রতীক), পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, ইউএনএইচসিআরের সহকারী হাইকমিশনার রাউফ মাজুও বক্তব্য রাখেন।
প্রফেসর ইউনূসের সাত দফা প্রস্তাব
প্রথমত, রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি কার্যকর রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করতে হবে। কথার জালে আর বন্দি থাকা যাবে না।দ্বিতীয়ত, ২০২৫-২৬ সালের যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনার অর্থ ঘাটতি পূরণে আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠী ও মানবিক অংশীদারদের অব্যাহত সহায়তা জরুরি।
তৃতীয়ত, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সব ধরনের সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এজন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও আরাকান আর্মিকে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, জীবিকা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের ভেতরে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত নিজ ঘরে ফিরতে দিতে হবে।
চতুর্থত, মিয়ানমারের ভেতরে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা হ্রাস ও সংঘাত নিরসনে সংলাপ প্ল্যাটফর্ম জরুরি। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনায় বসতে হবে যাতে পুনর্মিলন, অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়।
পঞ্চমত, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় আসিয়ানসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা অপরিহার্য। মানবপাচার, মাদকপাচার, ছোট অস্ত্রের চোরাচালানসহ সীমান্তবর্তী অপরাধ মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
ষষ্ঠত, জাতিগত নিধনের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। মিয়ানমার, আরাকান আর্মি ও অন্যান্য সংঘাতপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সংকট নিরসনের স্বার্থে পদক্ষেপ নিতে হবে।
সপ্তমত, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে), আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় চলমান জবাবদিহি প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে হবে। আইসিজের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ কার্যকর করতে হবে এবং গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সূত্রপাত মিয়ানমারে, তাই সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত। দেরি না করে সব পক্ষকে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা ইস্যুতে কক্সবাজারে সংলাপে যোগ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা
গত বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রোহিঙ্গা ইস্যুতে তার তিন দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতেই এ বছর উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে তথ্য দেন তিনি। কক্সবাজারের এই সংলাপ নিউইয়র্কে সম্মেলনে একটি কার্যকর রোডম্যাপ তৈরিতে অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ টেকসই সমাধানের পক্ষে নিরলসভাবে কাজ করছে। ২০১৭ সালে মাত্র কয়েক সপ্তাহে প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করার বিষয়টি উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এখনও নতুন করে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে রোহিঙ্গারা। এই পরিস্থিতিতে ইতিহাসের সঠিক পাশে দাঁড়ানোই নৈতিক দায়িত্ব বলে মত দেন অধ্যাপক ইউনূস।
তিনি বলেন, সীমিত সম্পদ ও সামর্থ্য সত্ত্বেও মানবিক বিবেচনায় তাদের জীবন রক্ষার জন্য রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত উন্মুক্ত করে দিয়েছিল বাংলাদেশ।
নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, এটি প্রমাণ করে যে মানবজাতির সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটে আমরা তাদের প্রতি সহমর্মিতা ও সহানুভূতি দেখিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী সংকটের মুখে আর চুপ করে থাকা সম্ভব নয়। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা অনেক বেশি জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।এ সময় দাতা, অংশীদার, জাতিসংঘ সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংগঠন এবং বিশ্বব্যাপী বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর অব্যাহত সহায়তা, সহযোগিতা ও সংহতির প্রশংসা করেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে ১৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন যা কক্সবাজারকে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবিরে পরিণত করেছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে প্রতিবছর প্রায় ৩২ হাজার নবজাতক জন্ম নিচ্ছে।
অন্যদিকে, মিয়ানমারে এখনো পাঁচ লাখেরও কম রোহিঙ্গা রয়েছে। এই চিত্র স্পষ্ট করে যে অব্যাহত নিপীড়নের কারণে রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ছেড়ে যাচ্ছেন। গত আট বছরে বাংলাদেশের জনগণ, বিশেষ করে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠী বিশাল ত্যাগ স্বীকার করে আসছেন বলে মন্তব্য করেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি, সম্পদ, পরিবেশ ও প্রতিবেশ, সমাজ ও শাসনব্যবস্থার ওপর এর বিরাট প্রভাব পড়েছে।
এর আগে, রোববার (২৪ আগস্ট) কক্সবাজারে তিন দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘স্টেকহোল্ডারস ডায়ালগ: টেকঅ্যাওয়ে টু দ্য হাই-লেভেল কনফারেন্স অন দ্য রোহিঙ্গা সিচুয়েশন’ শুরু হয়। রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
১৯৩ দিন আগে
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংলাপে যোগ দিলেন প্রধান উপদেষ্টা
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে কক্সবাজারে আয়োজিত ‘স্টেকহোল্ডারস’ ডায়ালগে যোগ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
সোমবার (২৫ আগস্ট) সকালে এই সংলাপে যোগ দিতে কক্সবাজার পৌঁছান তিনি। এদিন ১১টার দিকে তিন দিনের এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের বিশেষ অধিবেশন শুরু হয়।
এতে মিয়ানমার ও আঞ্চলিক স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন এবং বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ প্রচেষ্টার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস’ উপলক্ষে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।
এ সময় রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে মিয়ানমারে তাদের নিজ আবাসভূমিতে প্রত্যাবাসনের জন্য দৃশ্যমান আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান রোহিঙ্গাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান।
তিনি বলেন, আমরা যা করছি, তা অব্যাহত রাখতে হবে।
রোববার (২৪ আগস্ট) কক্সবাজারে তিন দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘স্টেকহোল্ডারস ডায়ালগ: টেকঅ্যাওয়ে টু দ্য হাই-লেভেল কনফারেন্স অন দ্য রোহিঙ্গা সিচুয়েশন’ শুরু হয়। রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
প্রথম দিনের কর্মসূচিতে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিশেষ ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আস্থা গড়ে তোলার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এ সেশনে অংশ নেন। এতে আরও অংশ নেন কক্সবাজারের বিভিন্ন শিবির থেকে আসা রোহিঙ্গা প্রতিনিধি এবং রোহিঙ্গা প্রবাসীরা।
সেশনটি পরিচালনা করেন রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ লাকি করিম, মোহাম্মদ রফিক (খিন মৌং) ও ওমর সালমা। এ সময় বক্তব্য রাখেন সয়েদুল্লাহ, ফুরকান মির্জা, আবদুল্লাহ, হুজ্জাউত উল্লাহ, সহাত জিয়া হিরো, আবদুল আমিন, জাইতুন নারা, জিহিন নূর, আবদুল্লাহ ও রো মুজিফ খান। রোহিঙ্গা প্রবাসীর সদস্যরাও আলোচনায় অংশ নেন। সেশনটি রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের জন্য নির্ধারিত থাকায় অন্য অংশগ্রহণকারীরা কেবল পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা ইস্যুতে কক্সবাজারে সংলাপে যোগ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা
মিয়ানমারে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ দূত থমাস এইচ অ্যান্ড্রুজ সেশনে যোগ দেন। এ ছাড়া ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংগঠন, সংবাদমাধ্যম, বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সেশনে অংশ নেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক (ভারপ্রাপ্ত) রানা ফ্লাওয়ার্স, মিয়ানমারের জন্য স্বাধীন তদন্ত সংস্থার প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান এবং ইউএনএইচসিআরের সহকারী হাইকমিশনার রাউফ মাজুও।
বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণ অধিকার পরিষদসহ প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও এ সংলাপে অংশ নেন।
১৯৩ দিন আগে
রোহিঙ্গা ইস্যুতে কক্সবাজারে সংলাপে যোগ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা
কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘স্টেকহোল্ডারস’ ডায়ালগে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
সোমবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে তিন দিনের এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের বিশেষ অধিবেশন শুরু হবে। এতে প্রধান উপদেষ্টা যোগ দেবেন। সংলাপে যোগ দিতে ড. ইউনূস এরইমধ্যে কক্সবাজারে পৌঁছেছেন।
রোববার (২৪ আগস্ট) কক্সবাজারে তিন দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘স্টেকহোল্ডারস ডায়ালগ: টেকঅ্যাওয়ে টু দ্য হাই-লেভেল কনফারেন্স অন দ্য রোহিঙ্গা সিচুয়েশন’ শুরু হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
প্রথম দিনের কর্মসূচিতে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিশেষ ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আস্থা গড়ে তোলার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
রোহিঙ্গাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এ সেশনে অংশ নেন। এতে আরও অংশ নেন কক্সবাজারের বিভিন্ন শিবির থেকে আসা রোহিঙ্গা প্রতিনিধি এবং রোহিঙ্গা প্রবাসীরা।
সেশনটি পরিচালনা করেন রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ লাকি করিম, মোহাম্মদ রফিক (খিন মৌং) ও ওমর সালমা। এ সময় বক্তব্য রাখেন সয়েদুল্লাহ, ফুরকান মির্জা, আবদুল্লাহ, হুজ্জাউত উল্লাহ, সহাত জিয়া হিরো, আবদুল আমিন, জাইতুন নারা, জিহিন নূর, আবদুল্লাহ ও রো মুজিফ খান। রোহিঙ্গা প্রবাসীর সদস্যরাও আলোচনায় অংশ নেন। সেশনটি রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের জন্য নির্ধারিত থাকায় অন্য অংশগ্রহণকারীরা কেবল পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সুস্পষ্ট পথ দেখাবে জাতিসংঘ সম্মেলন, আশা অধ্যাপক ইউনূসের
মিয়ানমারে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ দূত থমাস এইচ অ্যান্ড্রুজ সেশনে যোগ দেন। এ ছাড়া ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংগঠন, সংবাদমাধ্যম, বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সেশনে অংশ নেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক (ভারপ্রাপ্ত) রানা ফ্লাওয়ার্স, মিয়ানমারের জন্য স্বাধীন তদন্ত সংস্থার প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান এবং ইউএনএইচসিআরের সহকারী হাইকমিশনার রাউফ মাজুও।
বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণ অধিকার পরিষদসহ প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও এ সংলাপে অংশ নেন।
১৯৩ দিন আগে
পাকিস্তান ও সার্কভুক্ত দেশের সঙ্গে সম্পর্ক সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে: ইসহাক দারকে অধ্যাপক ইউনূস
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার সকল সম্ভাব্য ক্ষেত্র পুনরুজ্জীবিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের অগ্রগতি ও জনগণ সঙ্গে জনগণের, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সংযোগের ভূমিকার উপর জোর দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি সার্ককে উৎসাহিত করি এবং আমি পাকিস্তান ও অন্যান্য সার্কের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসাবে দেখি।’
রবিবার (২৪ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিনেটর মোহাম্মদ ইসহাক দারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য বৃদ্ধি, তরুণ ও তরুণদের মধ্যে বিনিময়, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধি এবং সার্কের মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
উপপ্রধানমন্ত্রী দার প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরীফের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী আপনাকে তার শুভেচ্ছা পাঠাচ্ছেন,’ বলেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, অধ্যাপক ইউনূস প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সঙ্গে অতীতের মতবিনিময়ের কথা স্মরণ করে উষ্ণ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
‘প্রধানমন্ত্রী শরীফ ও আমি যখনই দেখা করেছি, আমরা সার্ক সম্পর্কে কথা বলেছি। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি অভিন্ন এবং সার্ক আমাদের উভয়ের জন্যই শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে রয়ে গেছে,’ উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
সহযোগিতার সুযোগ ও বাণিজ্য সম্পর্ক সম্প্রসারণের উপর জোর দিয়ে উপপ্রধানমন্ত্রী দার বলেন, ‘আমি মনে করি আমাদের দুটি অর্থনীতিই পরিপূরক। এমন অনেক ক্ষেত্র রয়েছে, যেখানে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি।’
তিনি দারিদ্র্য বিমোচন ও সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নে অধ্যাপক ইউনূসের অবদানের প্রশংসা করে বলেন, ‘বাংলাদেশ ভাগ্যবান যে, আপনার মতো একজন সরকারপ্রধান পেয়েছে। এমন একজন নেতা যিনি বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করেন।’
উপপ্রধানমন্ত্রী জ্বালানি ও বাণিজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাসহ বেশ কয়েকজন উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে পুরোনো সংযোগ পুনরুজ্জীবিত করা, তরুণদের শিক্ষা বিনিময় জোরদার, যোগাযোগ উন্নত করা এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি স্থান পেয়েছে।
বৈঠকের আলোচনায় এই অঞ্চলের সাম্প্রতিক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করা হয়।
পড়ুন: জামায়াত আমিরের সঙ্গে দেখা করলেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার
উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার প্রধান উপদেষ্টাকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা জানান।
তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে ঢাকায় তার ব্যস্ততা এবং তার সফরের প্রধান ফলাফলগুলো সম্পর্কে অবহিত করেন।
সফরকালে তার এবং তার প্রতিনিধিদলের জন্য চমৎকার ব্যবস্থা এবং উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য অধ্যাপক ইউনূসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইসহাক দার।
কিছু সংবেদনশীল বিষয় রয়েছে স্বীকার করে অধ্যাপক ইউনূস ঘন ঘন সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ সহযোগিতার বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রের উপর জোর দেন।
তিনি বলেন, ‘যখন পাকিস্তানি গায়করা বাংলাদেশে পরিবেশনা করেন, তখন সবাই তাদের প্রতিভার প্রশংসা করে। এই মনোভাব আমাদের গড়ে তুলতে হবে।’
১৩ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ সফরকারী প্রথম পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী দার জানান, জাহাজ চলাচল ও বিমান চলাচল শুরু করাসহ যোগাযোগ উন্নত করার প্রচেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি আগামী অক্টোবরের মধ্যে ফ্লাই জিন্নাহ আমাদের দুই দেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু করবে। বিমান সংস্থাটি বেসরকারিকরণের পর পিআইএ ঢাকায় সরাসরি ফ্লাইট চালু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
বাণিজ্য বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ায় অবদান রাখবে বলেও উভয় নেতা আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীও উপস্থিত ছিলেন।
১৯৪ দিন আগে
বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে এক চুক্তি, ৫ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে পাকিস্তানের সঙ্গে একটি চুক্তি ও পাঁচটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।
রোববার (২৪ আগস্ট) ঢাকার হোটেল সোনারগাঁওয়ে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
চুক্তিটি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের ভিসা অব্যাহতি সম্পর্কিত। বৈঠকে দুই পক্ষ বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, “বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ এক বিলিয়ন ডলারের নিচে।”
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (সাফটা) কাঠামোর আওতায় পাকিস্তানের বাজারে প্রবেশাধিকারের অনুরোধ জানিয়েছে। এর আওতায় তৈরি পোশাক, জ্বালানি, ওষুধ, কৃষিপণ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি রপ্তানির সুযোগ চায় বাংলাদেশ।
সরকারের আমন্ত্রণে ইসহাক দার শনিবার দুই দিনের সরকারি সফরে ঢাকায় আসেন। তিনি প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।
১৯৪ দিন আগে
রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির উপনির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কাউ
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিইএফপি) উপ-নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কার্ল স্কাউ। আগামী ২৭ আগস্ট তিনি এই পরিদর্শনে যাবেন।
রোহিঙ্গা আগমনের অষ্টম বার্ষিকী উপলক্ষে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা পরিস্থিতির নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের ২৫-২৬ আগস্ট আয়োজিত স্টেকহোল্ডারদের সংলাপের পর তিনি এই সফর করবেন।
এছাড়াও, স্কাউ ঢাকা সফর করবেন এবং ২৯ আগস্ট (শুক্রবার) গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
কার্ল স্কাউ সংস্থার সামগ্রিক সমন্বয়, কৌশলগত দিকনির্দেশনা, মানবিক কূটনীতি এবং মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমের জন্য সহায়তার নেতৃত্ব দেন।
তিনি ডব্লিউএফপির আন্তঃসংস্থা সহযোগিতা এবং অংশীদারত্ব সর্বাধিক করতে করপোরেট প্রচেষ্টাকেও সমর্থন করেন।
পড়ুন: বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষের কোনও শঙ্কা নেই: বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি
বিভিন্ন অঞ্চল এবং সংস্থায় কূটনীতি, মানবিক বিষয়, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং উন্নয়নে কার্ল স্কাউয়ের ২০ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে।
তিনি একজন স্বীকৃত এবং অভিজ্ঞ নেতা, যার দৃঢ় দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা, সম্পদ সংগ্রহ, আন্তর্জাতিক আলোচনা, কৌশলগত যোগাযোগ দক্ষতা রয়েছে। এছাড়াও ক্ষমতায়িত ও বৈচিত্র্যময় দলগুলোকে নেতৃত্ব ও অনুপ্রাণিত করার ক্ষেত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
১৯৫ দিন আগে
দুদিনের সফরে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায়
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ঢাকায় এসেছেন। দুই দিনের সফরে শনিবার (২৩ আগস্ট) দুপুর ২টার কিছু পরপরই বিশেষ ফ্লাইটে তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইউএনবিকে জানান, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম তাকে স্বাগত জানান।
প্রায় ১৩ বছর পর কোনো পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর এটি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে এই সফর হচ্ছে। পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এই সফর।
সফরকালে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন পকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এসব বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক ছাড়াও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: চার দিনের সফরে পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী ঢাকায়
১৯৭১ সালের বিষয়গুলো উল্লেখ করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন গত ৪ আগস্ট বলেছিলেন, পাকিস্তানি প্রতিনিধিদের সফরের সময় প্রতিটি বিষয়ই আলোচনায় থাকবে।
বাংলাদেশ পাকিস্তানের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা ও ক্ষতিপূরণের দাবি তুলবে কি না— এমন প্রশ্নে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ‘প্রতিটি বিষয় আলোচনায় থাকবে।’
‘পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করছে এবং ইসহাক দারের এ সফরে আলোচনার টেবিলে সবকিছুই থাকবে।’
চলতি বছরের ২৭-২৮ এপ্রিল পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরের কথা ছিল। তবে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের বাংলাদেশ সফর স্থগিত করা হয়।
পরে দুই দেশের পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে নতুন তারিখ ঠিক করা হয়।
আরও পড়ুন: চলতি বছরে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সরাসরি ফ্লাইট চালু হবে: পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী
গত জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে জাতিসংঘ আয়োজিত ‘দ্বিরাষ্ট্র সমাধান’ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে ইসহাক দার ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হোসেনের মধ্যে বৈঠক হয়।
এ সময় ফিলিস্তিনে চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসন ও মানবিক সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। তারা ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকার ও আন্দোলনের প্রতি অকুণ্ঠ সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সেটি ছিল গত অক্টোবর থেকে এই দুই নেতার চতুর্থ বৈঠক।
পাকিস্তান হাইকমিশন সে সময় জানিয়েছিল, বৈঠকে দুপক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পর্যালোচনা করে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। পাশাপাশি যোগাযোগ ও জনগণের মধ্যে বিনিময় বৃদ্ধির উপায় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
১৯৫ দিন আগে
চলতি বছরে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সরাসরি ফ্লাইট চালু হবে: পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী
পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়াতে চায় পাকিস্তান। এ বছরের শেষে বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে ও দুই দেশের বন্দরের মধ্যে কানেকটিভিটি বৃদ্ধি পেলে দেশ দুটির মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে পাকিস্তানের বানিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান ও বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীনের সঙ্গে চট্টগ্রামের বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীদের মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, চামড়া ও চিনি শিল্প, গার্মেন্টস শিল্প, কৃষি ও খাদ্যপণ্য, ফল আমদানি ও রপ্তানি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশ যৌথভাবে বা বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে ইন্টারমেডিয়েট পণ্য উৎপাদন করতে পারলে তা উভয় দেশের জন্য লাভজনক হবে।
পাকিস্তানের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাণিজ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে জানিয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা বশিরউদ্দীন বলেন, বাণিজ্যের বৈচিত্রকরণ ও ব্যবসার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য যতেগুলো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করা যায় সেই চেষ্টা করছে সরকার। বিক্রয়ের প্রবৃদ্ধি ও প্রতিযোগিতামূলক আমদানি সক্ষমতা বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ চলছে।
পড়ুন: খাদ্য উপদেষ্টার সঙ্গে পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রামসহ সারা দেশের ব্যবসায়ীদের যৌথ প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি আরো উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যেতে কাজ করছে সরকার। মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামে সফরকালে পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন এবং বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠান বিএসআরএম ও কেএসআরএম কারখানা পরিদর্শন করেন। এসময় চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের প্রশাসকসহ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৯৬ দিন আগে
পাকিস্তানের সঙ্গে ভিসা অব্যাহতি চুক্তি অনুমোদন
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক ও অফিশিয়াল পাসপোর্টধারীদের পারস্পরিক ভিসা অব্যাহতি চুক্তির খসড়া অনুমোদন করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
আরও পড়ুন: চার দিনের সফরে পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী ঢাকায়
খসড়া চুক্তি অনুযায়ী,বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অফিশিয়াল পাসপোর্টধারীরা বিনা ভিসায় পাকিস্তানে যেতে পারবেন। একইভাবে পাকিস্তানের একই ধরনের পাসপোর্টধারীরা বিনা ভিসায় বাংলাদেশে আসতে পারবেন।
শফিকুল আলম বলেন, চুক্তিটি হবে পাঁচ বছরের জন্য। এ ধরনের চুক্তি আরও ৩১টি দেশের সঙ্গে আছে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার উপ–প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ও সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ।
১৯৬ দিন আগে